‹ আমার দেখা ঢাকা অংশ ২৫ / ৫২

১৯০৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি, ভারতবর্ষের গভর্নর জেনারেল লর্ড কার্জন ঢাকায় 'কার্জন হলের' ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জেনর নামে কার্জন হল তৈরী করা হয়। ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর, বঙ্গ-ভঙ্গ করা হয় এবং এ সময় ঢাকাকে 'আসাম ও পূর্ববাংলার' রাজধানী করা হয়। ১৯০৫ সালে ঢাকায় প্রভিন্সিয়াল মোহামেডান এসোসিয়েশন গঠিত হয়। ১৯০৯ সালে ঢাকায় টিচার্স ট্রেনিং কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯০৯ সালে ঢাকায় সলিমুল্লাহ এতিমখানা প্রতিষ্ঠিত করা হয়। ১৯১১ সালের ১৮ আগষ্ট, ঢাকা ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর, বঙ্গ-ভঙ্গ রথ করা হয় এবং ঢাকা থেকে রাজধানী বাতিল করা হয়। ১৯১৩ সালে ঢাকা যাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯১৬ সালে ঢাকার সদরঘাটের নিকট প্রতিষ্ঠিত হয় ইস্ট বেঙ্গল ইনস্টিটিউট। ১৯১৮ সালে মুনশি লাল মিয়া প্রতিষ্ঠা করেন গাবতলী গবাদিপশুর হাট। ১৯৩১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মুনশি লাল মিয়া ওয়াকফ এস্টেট। এ এস্টেটের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল গবাদিপশুর হাট। ১৯৭৩ সালে হাটটি সরকার জাতীয়করণ করে। তখন থেকে প্রতিদিন হাট বসতে শুরু করে। ১৯৭৩ সালে এ হাট পরিচালনার ভার পায় মিরপুর ইউনিয়ন। ১৯৭৬ সালে মিরপুরকে পৌরসভা ঘোষণা করা হয়। ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত মিরপুর পৌরসভার আওতায় পরিচালিত হয় হাটটি। ১৯৮৬ সালে ডিসিসির উদ্যোগে বর্তমান জায়গায় গবাদিপশুর হাটের কার্যক্রম শুরু হয়। এ হাট ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে। প্রতিদিন গবাদিপশু বিক্রি হয়, এমন হাট দেশে আরেকটা আছে চট্টগ্রামে। তবে গাবতলী হাট দেশের গবাদিপশুর সবচেয়ে বড় হাট। ১৯২১ সালের সি. এস. রেকর্ড অনুযায়ী ২০০৬-এর রাজধানী শহরের যেসব খালের ৩৫টি উল্লেখ রয়েছে তা খুঁজে বের করতে হলে এখন সেটা দস্তুরমতো গবেষণা করেই দেখতে হবে। ১৯২৫ সালে ঢাকা ন্যাশনাল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়। লায়ন থিয়েটার হলে ১৯২৭ সালে নির্বাক সিনেমা প্রর্দশন করা হতো। ১৯৩০ সালে ঢাকায় ঘোড়ার গাড়ী ছিল; রিক্সা ছিল না। গলির শেষ মাথায় লাগানো ছিল কেরোসিন বাতির ল্যাম্প পোষ্ট। ১৯৩৩ সাল থেকে সবাক চলচ্চিত্র প্রর্দশন শুরু হয়। ১৯৩৩ সালে প্রথম ঢাকায় সিনেমা হল তৈরী করা হয়। ১৯৩৫ সালে প্রথম মুড়াপাড়ার জমিদার ঢাকায় মটরগাড়ী আনে। ১৯৩৯ সালে কলকাতা থেকে ঢাকা শহরে প্রথম রিক্সা আনা হয়। ১৯৩৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর "ঢাকা বেতার কেন্দ্র" প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৩৯ সালে ঢাকা-আরিচা সড়ক প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এ প্রবেশদ্বারের যাত্রা শুরু হয়। ওই সময় তুরাগ নদীর ওপর তৈরি হয় লোহার ব্রিজ। যানবাহন চলাচল সহজ করার জন্য ১৩৮১ বঙ্গাব্দের ১ বৈশাখ চালু হয় বর্তমান পাকা সেতুটি, যা মিরপুর ব্রিজ নামে পরিচিতি। বিট্রিশ আমলেই যানবাহন রাখার কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয় গাবতলী এলাকা। পরে তা ডিসিসির আওতাভূক্ত হয়। ১৯৮৫ সালে ৫ একর যায়গা নিয়ে মিরপুর আন্তজেলা ও নগর বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়। ১৯৪৬ সালের ১০ জুলাই, ঢাকা ম্যাডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৪৬ সালে ঢাকায় ইডেন মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৪৭ সালের পূর্ব পর্যন্ত ঢাকা ছিল একটি জেলা শহরই মাত্র।

১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট, পূর্ব-পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় স্থাপিত হয়। ১৯৪৭ সালে ঢাকা শহরে ৩'শত টেলিফোন ছিল। ১৯৪৭ সালে ঢাকা শহরে যন্ত্রচালিত গাড়ির সংখ্যা ছিল-২৮৪টি। (৩১-০৮-২০০৯ তারিখ) ঢাকায় নিবন্ধিত গাড়ির সংখ্যা ৬ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। ১৯৪৭ সালে পূর্ব পাকিস্তানে ২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ছিল। ১৯৫৯ সালে ওয়াপদা গঠিত হয় এবং ১৯৬০ সালে পূর্ব পাকিস্তানে ৮৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছিল। ১৯৬৫ সালে ২০১ মেগাওয়াট; ১৯৭১ সালে ৭০০ মেগাওয়াট; ২০০৯ সালের হিসেব অনুসারে সারা দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ৪০০০ হাজার মেগাওয়াট এরমধ্যে ঢাকায় বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ২৪০০ মেগাওয়াট। ১৯৪৭ সালে ঢাকায় লোকসংখ্যা ছিল ২ লাখ ৯৫ হাজার। ১৯৪৮ সালে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবীতে প্রথম হরতাল। হরতাল গুজরাতী শব্দ। ১৯৪৮ সালে প্রথম মুড়ির টিনমার্কা বাস চলাচল করে সদরঘাট থেকে চকবাজার হয়ে ফুলবাড়িয়া পর্যন্ত। ১৯৪৮ সালে ঢাকায় প্রথম ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থা করা হয়। ১৯৪৯ সালের মার্চে, ঢাকার পল্টন ময়দানে পূর্ব-পাকিস্তান রেলওয়ে এমপ্লয়িজ লীগের এক অধিবেশন বসে। ১৯৪৯ সালের জুলাই, ঢাকা বারলাইব্রেরীতে এক ঘরোয়া সভায় ইত্তেফাক নামে সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশের কথা ঘোষণা দেন এবং ওই সভাতে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে চারশত টাকার একটি তহবিল গঠন করেন। তা দিয়ে ১৫ আগষ্ট, ইত্তেফাক পত্রিকার প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়। প্রথম অফিস ছিল ৭৭, মালিটোলায় এবং পরে ৯৪, নবাবপুর রোডের আওয়ামী মুসলিম লীগ কার্যালয়ে। ১৯৫০ সালে ঢাকা শহরের জনসংখ্যা ছিল তিন লাখ ১৭ হাজার। তখন জনসংখ্যায় বিশ্বের শহরগুলোর মধ্যে ঢাকা শহরের অবস্থান ছিল ২৪০তম। ২০০০ সালে ঢাকা শহরের জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৫ লাখ ১৯ হাজার এবং ঢাকা বিশ্বের নবম বৃহত্তম শহরের স্থান দখল করে। অর্থাৎ ৫০ বছরের ব্যবধানে ঢাকা জনসংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে ২৩১টি শহরকে অতিক্রম করেছে। বলা হচ্ছে বর্তমানে (২০১১ সালে) ঢাকার জনসংখ্যা ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২০২০ সালে জনসংখ্যা হবে ২ কোটি ৫০ লাখ। ১৯৫০ সালে ঢাকায় প্রথম সরকারীভাবে সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আজিমপুরে 'আজিমপুর সরকারী কোয়ার্টার' নির্মাণ করা হয়। ১৯৫১ সালে ঢাকার আয়তন ছিল ২৮ বর্গমাইল যা ১৯৮৯ সালে ৫ গুন বৃদ্ধি পেয়ে হয় ১৫৫ বর্গমাইল। ১৯৯১ সালে ঢাকার আয়তন বৃদ্ধি পেয়ে ৫২২ বর্গমাইল দাঁড়িয়েছে। ১৯৫২ সালের ২৮ জানুয়ারি, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন। ১৯৫২ সালের ৩০ জানুয়ারি, খাজা নাজিমউদ্দিন পূর্ব-পাকিস্তানের মূখ্যমন্ত্রী থেকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ঢাকার এক জনসভায় বলেন-"উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা''। ১৯৫২ সালের ৩০ জানুয়ারি, পূর্ব-বাংলায় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ গঠন করা হয়। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি, বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষারদাবীতে আন্দোলণরত জনতার উপর পুলিশের গুলিতে কয়েকজন শহীদ হয়। এদের মধ্যে ৫(পাঁচ) জনের নাম জানা আছেঃ বরকত, সালাম, জব্বার, রফিক ও অহিউল্লাহ। বরকত ছিলেন ছাত্র, সালাম ছিলেন সচিবালয়ের পিয়ন, জব্বার ছিলেন ছোট চাকুরে, রফিক ছিলেন প্রেসের কর্মচারী আর অহিউল্লাহ ছিলেন কিশোর বালক। পাঁচ জনের মধ্যে চার জনই ছিলেন সাধারণ মানুষ, দরিদ্র কর্মচারী বা ছোট ব্যবসায়ী। বাংলা ভাষার জন্য তাঁরা প্রাণ দিলেন, তাঁদের রক্তের ওপর দিয়ে দেশ স্বাধীন হল; কত লোকের ভাগ্য খুলে গেল, কিন্তু বাংলা ভাষার মধ্যে পরিবর্তন এলনা। বাংলা ভাষায় বড়লোক-ছোটলোকের তারতম্য রয়ে গেল। ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী, ঢাকায় ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত শোক মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষণ। ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি, ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয়। ১৯৫২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি, ভাষা আন্দোলনকারী জনতার উপর গুলীর প্রতিবাদে ''দৈনিক আজাদ' সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিনের প্রাদেশিক পরিষদ থেকে পদত্যাগ। ১৯৫২ সালের ২৯ মার্চ, ঢাকা বার এসাসিয়েশনে সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৫৪ সালের ২৮ জুন, ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৫৪ সালে ঢাকায় প্রথম নিউমার্কেট তৈরী করা হয়। ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর, বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৫৮ সালে ঢাকায় প্রথম চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৫৮ সালের ৮ মার্চ, ঢাকা মুসলিম চেম্বার এবং ইউনাইটেড চেম্বার একত্রকরণের মাধ্যমে ''ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির'' আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ১৯৬০ সালের ২৭ জানুয়ারি, তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান বায়তুল মোকাররম মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ জাতীয় মসজিদটি ২৫ লাখ টাকা দিয়ে ৮.৩০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮৩ সালের দিকে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ বায়তুল মোকাররম মসজিদকে জাতীয় মসজিদ হিসেবে ঘোষণা দেন। ১৯৬১ সালের ৮ মার্চ, মতিঝিল বাস ডিপো হতে মাত্র ৪টি বাস নিয়ে তৎকালীন ইপিআরটিসি যাত্রা শুরু করে। ১৯৬২ সালে ঢাকা শহরে প্রথম ফুটপাত তৈরী হয়।

১৯৬৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর, সাবেক পূর্ব-পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় টেলিভিশন দেখা শুরু। ১৯৬৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সমিতি গড়ে ওঠে ঢাকার পঞ্চায়েত সরদার আব্দুল মাজেদের প্রচেষ্টায়। ঢাকা সমিতির স্মরণিকা থেকে জানা যায়, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ঢাকায় পঞ্চায়েত প্রথা বিলুপ্ত হয়ে গেল। সমিতির প্রথম আহবায়ক হন মাজেদ সরদার। মাজেদ সরদার ১৯৬৫ সালে ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে ঢাকার নাগরিক কমিটির ব্যানারে এক সভা আহবান করেন। ১৯১২ সালে প্রণীত সিএস (ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে) অনুযায়ী যারা ঢাকার বাসিন্দা, শুধু তারাই ঢাকা সমিতির সদস্য হতে পারে। সে অনুযায়ী আদি ঢাকাইয়াদের সংগঠন হলো এ সমিতি। সবাই একত্র হওয়া, ঢাকাইয়াদের সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখা, সামাজিক ও কর্মেক্ষত্রে অবদান রাখার জন্যই-এ সমিতি গড়ে ওঠে। ১৯৬৬ সালে প্রথম ঢাকায় ফাইভ স্টার "শেরাটন হোটেল" প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ, পল্টন ময়দানের এক বিশাল জনসভায় বিভিন্ন নেতা অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। সারা দেশে অর্ধিদবস হরতাল পালিত হয়। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ, রমনা রেস কোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক ঐতিহাসিক ভাসন দেন। ১৯৭১ সালের ১৫ মার্চ, শেষবারের মতো ঢাকা সফরে এসেছিলেন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান। ১৯৭১ সালের ১৬ মার্চ, পাকিস্তানের সামরিক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে জাতীয় পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমানের আলোচনা বৈঠক শুরু হয়েছিল। ১৯৭১ সালের ১৭ মার্চ, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ও বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ, পাকিস্তানের সামরিক প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমানের আলোচনা। ১৯৭১ সালের ২০ মার্চ, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ও বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমানের মধ্যে প্রায় সোয়া দু'ঘন্টাব্যাপী আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৭১ সালের ২২ মার্চ, ছিল এক বিভ্রান্তিপূর্ণ দিন। প্রেসিডেন্ট হাউজে ভুট্টোর সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সাক্ষাৎকার ছিল ২২ মার্চের এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ, পূর্ব-পাকিস্তানে গণহত্যর নির্দেশ দিয়ে আকস্মিকভাবে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান করাচির পথে ঢাকা ত্যাগ করেন। পাক-বাহিনী রাতে ঢাকায় শুরু করে ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বেরাচিত হত্যাকান্ড 'অপারেশন সার্চলাইট' নিরস্ত্র জনগণের উপর অমানসিক নির্যাতন শুরু। ১৯৭১ সলের ১৭ এপ্রিল, কুষ্টিয়া জেলার মুজিবনগরের বৈদ্যনাথতলা আম্রকাননে প্রথম বিপ্লবী সরকারের মন্ত্রিপরিষদ শপথ গ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর, শহীদ হন এ দেশের বুদ্ধিজীবীরা। তাই এদিনটিকে প্রতি বছর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ১৯৭১ সালে ঢাকা শহরে লোকসংখ্যা ছিল প্রায় ১৫(পনের) লক্ষ।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর, ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাক-বাহিনী আত্মসমর্পণ করেন। ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি, পাকিস্তানের কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি এবং স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় প্রত্যাবর্তন ১০ জানুয়ারি। তিনি ১২ জানুয়ারি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠান। ২০১২ সালে ঢাকা শহরে লোকসংখ্যা হলো প্রায় ১.৫০(এক কোটি পঁঞ্চাশ লক্ষ)।

১২০৩ সালে বখতিয়ার খিলজী র্কতৃক বঙ্গ বিজয় ও মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার পূর্বেই তৎকালীন বাংলায় অনেকগুলি মুসলিম জনপদ গড়ে ওঠে এবং এ অঞ্চলে ফার্সী ভাষা চর্চার এক নতুন অধ্যায় সূচিত হয়। দীর্ঘ সাড়ে ছয়শত বছর (১২০৩ থেকে ১৭৫৭ সাল পর্যন্ত মুসলিম শাসনামলে মুসলিম জনসংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায়। ১২০৩ সাল থেকে ১৮৩৮ সাল পর্যন্ত ফার্সী ভাষা এতদঞ্চলের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিল)। বঙ্গদেশে প্রথম মুসলমান হন দিনাজপুর অঞ্চলের বাসিন্দা জাতিতে মঙ্গোলিয়ান কোচ নামে পরিচিতি। বখতিয়ার খিলজী র্কতৃক বঙ্গ বিজয় ও মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার পূর্বেই কোচ নেতাকে ইসলাম ধর্মে রুপান্তরিত করে নাম রাখা হয় মোহাম্মদ আলী কোচ। সে-ই বঙ্গদেশের প্রথম মুসলমান বলে প্রমাণিত হয়। ১২০৬ সালের ৯ জুন, কুতুবউদ্দিন আইবেক দিল্লীর স্বাধীন সুলতান পদে আসীন হন। ১২৩৫ সালের ১ মে, দিল্লীর সুলতান শামসউদ্দীন আলতামাসের ইন্তেকাল। ১২৬০ সালের দিকে ভারতবর্ষের প্রথম বই ফার্সী ভাষায় লেখা তবকাত-ই-নাসিরী। এর পূর্বে ভারতবর্ষে আর কোন ভাষায় বই লেখা হয়নি। ১২৬৬ সালের ১৬ জুলাই, ভারতবর্ষের সাধক সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদের ইন্তেকাল। ১১'শ শতকে শুরু হয় ভারতে মুসলিম ধর্ম প্রচারের সময় এবং ১২'শ শতকে কেরলাতে ভারতের প্রথম মসজিদ তৈরী হয়। ১২৯৬ সালের ২১ অক্টোবর, আলাউদ্দিন খিলজী দিল্লীর সিংহাসনে আরোহণ করেন। ১৩০৩ সালের ২৬ আগষ্ট, আলাউদ্দিন খিলজী 'চিতোর গড়' দখল করেন। ১৩০৭ সালের ২৪ মার্চ, আলাউদ্দিন খিলজির সেনাপতি মালিক কাফুর দেবগিরি দূর্গ দখল করেন। ১৩২৬ সালের ৫ জানুয়ারি, দিল্লীর সুলতান আলাউদ্দিন খিলজীর ইন্তেকাল। ১৩৩৮ সালে ফখরউদ্দিন মুবারক শাহ বাংলায় স্বাধীন সুলতানি আমলের সূচনা করেন। ১৩৩৮ সাল থেকে ১৫৩৮ সাল পর্যন্ত বাংলায় স্বাধীন সুলতানি আমল অব্যাহত ছিল। ২০০ বছর পর্যন্ত সুলতানি আমল অব্যাহত ছিল। ১৩৫১ সালের ২৩ মার্চ, ফিরোজ শাহ তুঘলক দিল্লীর সিংহাসনে আরোহণ করেন। ১৩৮৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর, দিল্লীর সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলকের ইন্তেকাল। ১৩৮৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি, সুলতান গিয়াস উদ্দিন তুঘলক (দ্বিতীয়) দিল্লীতে নিহত হন। ১৩৯৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর, পানিপথের যুদ্ধে তৈমুর লং দিল্লীর এক লক্ষ লোক হত্যা করেন এবং দিল্লীর সুলতান মুহম্মদ তুঘলকের কাছ থেকে দিল্লী দখল করে নেন। ১৩৯৯ সালের ১ জানুয়ারি, তৈমুর লং দিল্লী দখল করে নিজেকে ভারত সম্রাট ঘোষণা করেন। ১৪০০ খ্রিষ্টাব্দের শেষার্ধে, অর্থাৎ মুসলমান শাসনামলে। অনেকেই এটিকে পূর্ণাঙ্গ বাংলা অক্ষরে রচিত সর্বপুরাতন' গ্রন্থ বলে দাবী করেন। বলা বাহুল্য, 'চর্যাচর্য বিনিশ্চয়' সার্বজনীনভাবে বাংলা ভাষার আদিতম পান্ডুলিপি বলে স্বীকৃত হয়। বাংলা ভাষার জন্ম মুসলিম শাসনামলে। ১৪০১ সালের ২৪ মার্চ, তৈমুর লং দামেস্ক অধিকার করেন। ১৫৫০ সালে বাঙলার ভূমি ও নদনদীর নক্‌শা প্রথম তৈরী করে জাও দ্য ব্যারোস-কৃত। ১৬৬০ সালে বাঙলার ভূমি ও নদনদীর নক্‌শা দ্বিতীয় বলে খ্যাত তৈরী করেন ফন্‌ ডেন ব্রোক-একজন ডাচ বনিক। ১৭৬৪-৮১ সালে বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে প্রস্ত্তত মেজর রেনেলের বাঙলার মানচিত্র।

১৫১০ সালে পর্তুগীজরা গোয়ায় এসে পৌঁছায়। ১৫১১ সালে পৌঁছল মালয় উপদ্বীপের মালাক্কাতে। ১৫১৬ সালে পর্তুগীজরা প্রথম বাংলাদেশে আগমণ করে। ১৫২৫ সালের ১৭ নভেম্বর, পঞ্চম দফা অভিযানের মধ্য দিয়ে মোঘল সম্রাট বাবরের ভারত বিজয়। ১৫২৬ সালের ২০ এপ্রিল, পানিপথের যুদ্ধে মোগলরা আফগানদের পরাজিত করে। ১৫২৬ সালের ২১ এপ্রিল, পানিপথের যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে সম্রাট বাবর ভারতে মোঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। ১৫২৬ সালের ২৭ এপ্রিল, বাবর দিল্লীর সম্রাট হন এবং মোঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। ১৫২৬ সালের ১০ মে, পানিপথের যুদ্ধে বিজীয় হয়ে মোগল সম্রাট বাবর আগ্রায় প্রবেশ করেন। ১৫২৭ সালের ১৬ মার্চ, মেবারের রানা সংগ্রাম সিং(প্রথম)-কে পরাজিত করে মোগল সম্রাট বাবর চিতোর জয় করে। ১৫২৮ সালের ২৯ জানুয়ারি, মোগল সম্রাট বাবর চান্দেরী দুর্গ দখল করেন। ১৫২৯ সালের ২৫ জুন, বঙ্গ বিজয়ের পর মোঘল সম্রাট বাবর আগ্রা প্রত্যাবর্তন করেন এবং তিনি রাজধানী স্থাপন করেন আগ্রায়। ১৫৩৩-১৫৩৮ সাল পর্যন্ত মাহমুদ শাহ বাংলার সুলতান ছিলেন। ১৫৩৮ সালে মুঘল সম্রাট হুমায়ূন প্রথম বাংলা জয় করেন। ১৫৩৮ সালে বাংলা অধিকার করেন শের খান। ১৫৩৮ সালে গৌড় দখল করার পর সম্রাট হুমায়ূন জাহিদ বেগ নামক তাঁর এক আমীরকে বাংলার শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন। ১৫৩৯ সালের ২৬ জুন, বক্সারের কাছে চৌসারের যুদ্ধে শের শাহের কাছে মোগল সম্রাট হুমায়ূনের পরাজয়। ১৫৪০ সালের ১৭ মে, শেরশাহ কনৌজের যুদ্ধে মুঘল সম্রাট হুমায়ূনকে পরাজিত করেন। ষোড়শ শতকে শেরশাহ তাঁর প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে এবং ঘোড়ার ডাকের প্রচলনের সুবাদে দিল্লী (পাঞ্জাবের অধীনে ছিল) থেকে সোনারগাঁও পর্যন্ত প্রায় ১,৭০০(এক হাজার সাতশত) মাইল দীর্ঘ একটি রাজপথ নির্মাণ করেছিলেন। ইতিহাসখ্যাত এ পথের নাম গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড। সোনারগাঁওয়ের আমিনপুর থেকে শুরু হয়ে মেঘনা পাড় হয়ে রাজপথ কামরুপ হয়ে দিল্লী পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। সোনারগাঁওয়ের আমিনপুর হয়ে মোগড়াপাড়ার সামনে দিয়ে উদ্ধবগঞ্জ বাজার থেকে বৈদ্যের বাজার পর্যন্ত কেবল এ রাস্তাটির অস্তিত্ব টিকে আছে। ক্রমাগত নদী ভাঙ্গন এবং ভূমির বিবর্তেনর ফলে গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোডের অস্তিত্ব এখন খুঁজে পাওয়া দুস্কর। কলকাতা থেকে দিল্লী (তখন পাঞ্জাব প্রদেশের অধীনে দিল্লী ছিল) পর্যন্ত এখনও গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড চালু আছে। ১৫৫৪ সালের ২২ মে, দিল্লীর সম্রাট শেরশাহ নিহত হন। ১৫৫৫ সালের ২২ জুন, মোগল সম্রাট হুমায়ূন সিরহিন্দ যুদ্ধে জয়লাভের পর আকবরকে তার উত্তরাধিকারী ঘোষণা করেন। ১৫৫৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, কিশোর জালালুউদ্দিন আকবর ১৪ বছর বয়সে মোগল সম্রাট হিসেবে সিংহাসনে আরোহণ করেন। পিতা হুমায়ূনের স্থলাভিষিক্ত হন। ১৫৫৬ সালের ১৪ এপ্রিল, সম্রাট আকবরের শাসনামল থেকে পহেলা বৈশাখকে বাংলা সালের প্রথম দিন ধরে আনুষ্ঠানিক বাংলা বর্ষ গণনা শুরু হয়। ১৫৫৬ সালের ৫ নভেম্বর, পানিপথের ২য় যুদ্ধে মোগল সম্রাট আকবরের বাহিনীর হাতে হিমু'র পরাজয়। ১৫৬১ সালের ৩১ জানুয়ারি, মোগল সম্রাট আকবরের প্রধানমন্ত্রী বৈরাম খান নিহত হন। ১৫৬২ সালে ভারতে বাবরী মসজিদ তৈরী হয় এবং ১৯৯২ সালের ৫ ডিসেম্বর (কংগ্রেস সরকারের আমলে) উগ্রবাদী হিন্দুরা বাবরী মসজিদ ভেঙ্গে ফেলে। ১৫৬৫ সালের ৭ জুন, দাক্ষিণাত্যের রাজা হুসাইন নিজাম শাহের ইন্তেকাল। ১৫৬৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি, মোগল সম্রাট আকবরের কাছে চিতোরের রানা উদয় সিং-আত্মসমর্পণ করে। ১৫৭০ থেকে ১৫৮৬ সাল পর্যন্ত মোঘল সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল আগ্রা শহর থেকে ৪০ কি. মি. পশ্চিম দিকে অবস্থিত ফতেহপুর সিক্রি। সেই সময় সম্রাট আকবরের কোন ছেলে ছিল না। ১৫৭৬ সালের ১৮ জুন, মহারাজা প্রতাপ সিংহ ও মোগল সম্রাট আকবরের মধ্যে হলদিঘাটে যুদ্ধ শুরু। ১৫৭৬ সালের ১২ জুলাই, দাউদ খান কররানীর পরাজয় ও মৃত্যু। ১৫৭৭ সালের ২৪ অক্টোবর, শিখ সম্প্রদায়ের উদ্যোগে ভারতের অমৃতসর নগরী'র পত্তন হয়। ১৫৮০ সালে পর্তুগীজ র্কতৃক হুগলী শহর প্রতিষ্ঠার ফলে নিকটবতী বিখ্যাত সাতগাঁও বন্দরের পতন। ১৫৮৫ সালের ১০ মার্চ, মোঘল সম্রাট আকবর প্রচলিত বাংলা সন (বঙ্গাব্দ) চালুর ফরমান জারি করেন। ১৫৮৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি, সম্রাট আকবরের সভাকবি বীরবল নিহত হন। ১৫৮৬ সালে কাসিম খান কুচবিহার হ'তে হুগলি যাওয়ার পথে গৌড় অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যান। ১৫৮৬ সালে ইংরেজ পর্যটক র্যালফ ফিচ বাংলা ভ্রমণ করেন। ১৫৮৮ সালের ১৯ এপ্রিল, জাহান্দর শাহ দিল্লীর সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। ১৫৮৯ সালের ৬ মে, সংগীত জগতের প্রবাদ পুরুষ মিঞা মুহাম্মদ তানসেনের মৃত্যু।