ছবি:
মোঃ জাকির হুসেন(আলমগীর)-এর জন্ম ১ নভেম্বর, ১৯৪৮ সালে নানাবাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার আহমদপুর চৌধুরীবাড়িতে। শৈশব কেটেছে দাদাবাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ভেলানগর বড়বাড়িতে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। এস.এস.সি. পাশের পর কুমিলা ভিক্টোরিয়া কলেজে-এ ভর্তি হয়ে পড়া-লেখা করা হয়নি। ঢাকায় আসেন ১৯৬৬-তে।
১৯৬৯ সালের গণ-আন্দোলন-এ অংশগ্রহণ করেন। প্রায় প্রতিদিন মিটিং-মিছিলে অংশগ্রহণ ও ভাসানী ন্যাপের রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হওয়া এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করেন। তারপর ১৯৭৯ সাল থেকে জনমুক্তি পার্টির বক্তব্যের সাথে একমত। ২০০২ সালে জীবনে প্রথম রূপসদী বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী সমিতি'র বার্ষিক স্মরণিকাতে ২টি লেখা ছাপা হয় তারপর ২০০৩ সালে বড়বাড়ি প্রকাশনীর মাধ্যমে ''ভেলানগর বড়বাড়ির বংশ পরিচিতি ও দেশ-বিদেশের তথ্য'' এবং ২০০৫ সালে রূপসদী বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯০-বছর পূর্তির স্মরণিকাতে দুটি লেখা ছাপা হয়। ২০০৬ সালের ১ জানুয়ারিতে জাকির হুসেন (আলমগীর) আর্থ-সামাজিক গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা। এ গবেষণা কেন্দ্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা-পর্যােলাচনা ও গবেষণা করা হয়। পৃথিবীর ২৩৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থা বা পৃথিবীর ২০০ জাতির মধ্যে বাংলাদেশের স্থান কোন যায়গায়। পৃথিবীর লোকসংখ্যার ৪৪ ভাগের ১ ভাগ লোক বাংলাদেশে বাস করে। পৃথিবীতে লোকসংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থা ৭ম স্থানে এবং অর্থনীতির আকারে ৫৬তম স্থানে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কিভাবে উজ্জ্বল করা যায়। এ ধরনের গবেষণা করা হয়। (১) ১৭৮০-২০০৩ সাল পর্যন্ত ভেলানগর বড়বাড়ির বংশ পরিচিতি ও দেশ-বিদেশের তথ্য (২) ১৮০৬-২০০৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর, জিয়ান বড়বাড়ি প্রকাশনীর মাধ্যমে ''আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির বংশ পরিচিতি ও চৌধুরী শামসুন নাহার বেগমের আত্মীয়-স্বজন'' (৩) ১৭৪০-২০০৭ সালের জুলাই মাসে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার তথ্যাবলী (৪) ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জিয়ান বড়বাড়ি প্রকাশনীর মাধ্যমে ''আমার দেখা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬৮-২০০৮)-এ বইটিও প্রকাশিত (৫) ২০১০ সালের ৩০ এপ্রিল, ''ভেলানগর বড়বাড়ির বংশ পরিচিতি(১৭৮০-২০১০)''-এর দ্বিতীয় সংস্করণটিও (৬) ''দেশ-বিদেশের স্মরণীয় কিছ লোকের নাম জন্ম ও মৃত্যু'' (৭) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯২১-২০১৩ ও আমার দেখা ১৯৬৮ থেকে (৮) 'বিশ্ব ও দেশ-বিদেশের তথ্য' (৯) 'ভেলানগর গ্রামের ইতিহাস' (১৭৪০-২০১৩) (১০) বাংাদেশের কিছু কিছু ঘটনা ও তথ্য (১১) ১৭৫৭-১৯৭১ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে এ দেশে কয়টি মাদ্রাসা, উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে-নাম, সন তারিখ দিয়ে একটি বই রচনা করা হয়েছে এবং এ বইটি আমার ১১ নম্বর বই। (১২) খেয়া পত্রিকার কিছু লেখা দিয়ে একটি বই রচনার কাজ চলছে। ও (১৩) বিশ্ব ও দেশ-বিদেশের তথ্য: (পার্ট-২) এ বইটিরও কাজ চলছে। (১৪) এ পৃথিবীর চেনা-জানা মানুষের নাম-এ বইটিরও কাজ চলছে (১৫) আমার দেখা ঢাকা-এ বইটিরও কাজ চলছে (১৬) মোঃ জাকির হুসেন আলমগীরের আত্মজীবনী-এ বইটিরও কাজ চলছে। তাঁর স্বপ্ন বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা এবং এ দেশের শ্রমজীবী মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার গ্যারান্টি দেয়া।
প্রকাশকের কথা
আগা বাকের ছিলেন বুজর্গ উমোদপুর ও সালিমাবাদ পরগনার জমিদার। বাংলাপিডিয়ার তাথ্যনুসারে নবাব মির্জা আগা বাকের পারস্যের অভিজাত বংশোদ্র্ভূত। দ্বিতীয় মুর্শিদ কুলী খাঁ-রস্তম জংয়ের জামাতা ছিলেন তিনি। উড়িষ্যার অধিকার নিয়ে রুস্তম জং ও আলীবর্দী খাঁর মধ্যে যুদ্ধে আগা বাকের সেনাপতি হিসেবে দুঃসাহসী ভূমিকা পালন করেছিলেন। তবে ১৭৪২ সালের দিকে কোনো এক সময়ে তিনি আলীবর্দী খাঁর কাছে বশ্যতা স্বীকার করেছিলেন। তারপর তাঁকে বুজর্গ উমোদপুর ও সলিমাবাদ পরগনার জায়গির দান করা হয়। মুঘল আমলে বরিশালের অন্তভুক্র্ত ছিল এ দুই পরগনা। নিজের নামে নামকরণ করেছিলেন 'বাকেরগঞ্জ'। ১৭৫৪ সালে এক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তিনি আততায়ীর হাতে নিহত হন। আগা সাদেক ময়দানের উত্তর পাশে সমাহিত আছেন সির্জা আগা বাকের।
ভেলানগর-রূপসদী গ্রামের বংশ পরিচিতি:
মরহুম মনিরউদ্দিন মোল্লার দুই ছেলে: প্রথম পুরুষ
১. মরহুম মোসলেমউদ্দিন ও ২. মরহুম ফসিউদ্দিন: দ্বিতীয় পুরুষ
মরহুম মোসলেমউদ্দিন মিঞার পাঁচ ছেলে: দ্বিতীয় পুরুষ
১. মরহুম আলাউদ্দিন, ২. মরহুম আতাউদ্দিন, ৩. মরহুম কলিমউদ্দিন, ৪. মরহুম রহিমউদ্দিন ও ৫. মরহুম আসাবউদ্দিন
মরহুম আলাউদ্দিন মিঞার দুই ছেলে: তৃতীয় পুরুষ
১. মরহুম হাফিজউদ্দিন ও ২. মরহুম সামাদ মাষ্টার
মরহুম হাফিজউদ্দিন মিঞার তিন ছেলে: চতুর্থ পুরুষ
১. মরহুম আবদুল আউয়াল, ২. মরহুম মোঃ জীবন মিঞা ও ৩. মরহুম মোঃ ফজলু মিঞা
মরহুম আবদুল আউয়াল মিঞার এক ছেলে: ৫ম পুরুষ
১. মোঃ ফরিদ মিঞা
মোঃ ফরিদ মিঞার এক ছেলে দুই মেয়ে: ৬ষ্ঠ পুরুষ
১. ছেলে ২. মেয়ে ও ৩. মেয়ে। ৭ম পুরুষ।
মরহুম মনিরউদ্দিন মোল্লার দুই ছেলে: প্রথম পুরুষ
মরহু ফসিউদ্দিন মিঞার তিন ছেলে: দ্বিতীয় পুরুষ
১. মরহুম ঈসমাইল, ২. মরহুম মুরাদ আলী ও ৩. মরহুম ইসাক আলী
মরহুম ঈসমাইল মিঞার এক ছেলে: তৃতীয় পুরুষ
মরহুম সুবধ আলী
মরহুম সুবধ আলীর পাঁচ ছেলে: ৪র্থ পুরুষ
১. আবদুল বাতেন মিঞা, ২. মরহুম আবদুল মান্নান মিঞা, ৩. আবদুল হান্নান, ৪. আবদুল করিম ও ৫. মোঃ রহিম।
আবদুল বাতেন মিঞার তিন ছেলে: ৫ম পুরুষ
১. ছেলে ২. ছেলে ও ৩. ছেলে
বড় ছেলের এক ছেলে দুই মেয়ে: ৬ষ্ঠ পুরুষ
১. এক ছেলে ২. মেয়ে ও ৩. মেয়ে। ৭ম পুরুষ।
রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১০ সালের এস.এস.সি. পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৮৫ জন। পাস করেছেন-১৫২ জন। গোলডেন পেয়েছে-৫ জন, জিপিও পেয়েছেন-১০ জন এবং এ পেয়েছেন-৪২ জন আর পাস করেছেন ৯৫ জন। সর্বেমাট-১৫২ জন।
১৮৬৩ সালে ফেনী জেলার শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক খান বাহাদুর আবদুল আজীজের জন্ম, মৃত্যু-১৯২৬ সালে। তাঁর পিতা আমজাদ আলী ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের ব্যক্তিগত সহকারী। আবদুল আজীজ ঢাকা কলেজ থেকে ১৮৮৬ সালে বি.এ. পাস করে। বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার প্রথম র্গযাজুয়েট ছিলেন। পরিচয় হলোঃ কবি হাবিবুলাহ বাহার ও কবি শামসুন নাহারের নানা।
১৯৩৩ সালের ২৪ জানুয়ারি, বি-বাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার মায়ারামপুর গ্রামে মোঃ আফতাব উদ্দীনের জন্ম।
১৮১০ সালে বাঞ্ছারামপুর থানার মায়ারামপুর গ্রামে আওয়ালী হাজীর জন্ম, মৃত্যু-১৮৮০ সালে। উনি ১৮৬০ সালে হজ পালন করেন এবং বাঞ্ছারামপুর থানার প্রথম হাজী। আওয়ালী হাজীর পরিচয় হলো মায়ারামপুর গ্রামের আফতাবউদ্দিন ভাইয়ের দাদার দাদা।
১৮৭০ সালে বি-বাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার দরিকান্দি গ্রামে কাজী লাল মিঞা মাষ্টারের জন্ম, মৃত্যু-১৯২৭ সালে।
১৮৭১ সালে বি-বাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার দূর্গারামপুর গ্রামে দলিল লেখক মুনশি মোঃ আমিনুদ্দিনের জন্ম, মৃত্যু-১৯...।
১৮৮৫ সালে বি-বাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার উজানচর গ্রামে মোঃ কামালউদ্দিন খাঁর জন্ম, মৃত্যু-১৯৫০ সালে। ১৯১৫ সালে উজানচর বাজারে দোকান দেন। বাঞ্ছারামপুর থানার উজানচর বাজারের প্রথম মুসলমান দোকানদার।
১৮৮৮ সালের ২ মে, বি-বাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার দরিকান্দির (ইমামনগর) বড়বাড়িতে মাজুজেল ইসলাম ব্যাপারী (মাজু ব্যাপারীর) জন্ম, মৃত্যু-১২-০৮-১৯৭১ তারিখ।
১৮৯৭ সালে বি-বাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার উজানচর গ্রামের নোয়াব আলী কবিরাজের জন্ম, মৃত্যু-১৯৮০ সালে। উনি বাঞ্ছারামপুর উপজেলার প্রথম কবিরাজ।
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকালে স্বাধীন জাতিসত্তার বিকাশের লক্ষ্যে বিশ শতকের দ্বিতীয় দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১৯১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি, ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ। এর মাত্র তিন দিন পূর্বে ভাইসরয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আবেদন জানিয়েছিলেন ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, ধনবাড়ির নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। ২৭ মে, ১৯১২ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রস্তাব করেন ব্যারিস্টার আর. নাথানের নেতৃত্বে ডি. আর. কুচলার, ড. রাসবিহারী ঘোষ, নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, নবাব সিরাজুল ইসলাম, ঢাকার প্রভাবশালী নাগরিক আনন্দচন্দ্র রায়, ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ ডব্লিউ. এ. টি. আর্চিবল্ড, জগন্নাথ কলেজের অধ্যক্ষ ললিতমোহন চট্টোপাধ্যায়, ঢাকা মাদ্রাসার (বর্তমান কবি নজরুল সরকারি কলেজ) তত্ত্বাবধায়ক শামসুল উলামা আবু নসর মুহাম্মদ ওয়াহেদ, মোহাম্মদ আলী (আলীগড়), প্রেসিডেন্সি কলেজের (কলকাতা) অধ্যক্ষ এইচ. এইচ. আর জেমস., প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যাপক সি. ডব্লিউ পিক এবং সংস্কৃত কলেজের (কলকাতা) অধ্যক্ষ সতীশচন্দ্র আচার্য। ১৯১৩ সালে প্রকাশিত হয় নাথান কমিটির ইতিবাচক রিপোর্ট এবং সে বছরই ডিসেম্বর মাসে সেটি অনুমোদিত হয়। ১৯১৭ সালে গঠিত স্যাডলার কমিশনও ইতিবাচক প্রস্তাব দিলে ১৯২০ সালের ১৩ মার্চ, ভারতীয় আইন সভা পাশ করে ''দি ঢাকা ইউনিভাসির্টি অ্যাক্ট (অ্যাক্ট নং-১৩) ১৯২০'।
ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বার উন্মুক্ত হয় ১৯২১ সালের ১ জুলাই। ঢাকার সবচেয়ে অভিজাত ও সৌন্দর্যমন্ডিত রমনা এলাকায় প্রায় ৬০০ একর জমির ওপর পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ সরকারের পরিত্যক্ত ভবনাদি এবং ঢাকা কলেজের (বর্তমান কার্জন হল) ভবনসমূহের সমন্বয়ে মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ৩(তিন)টি অনুষদ, ১২(বার)টি বিভাগ, ৩(তিন)টি হল এবং ৫(পাঁচ) লক্ষ টাকার বাজেট নিয়ে একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে-এর যাত্রা শুরু হয়। কলা, বিজ্ঞান ও আইন অনুষদ। এ তিনটি অনুষদের অন্তর্ভূুক্ত ছিল সংস্কৃত ও বাংলা, ইংরেজী, শিক্ষা, ইতিহাস, আরবী ও ইসলামিক স্টাডিজ, ফার্সী ও উর্দু, দর্শন, অর্থনীতি ও রাজনীতি, পদার্থিবদ্যা, রসায়ন, গণিত এবং আইন বিভাগ। প্রথম শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন বিভাগে মোট ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ছিল ৮৭৭ জন এবং শিক্ষক সংখ্যা ছিল মাত্র ৬০ জন। যে সব প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নে শিক্ষকতার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন তাঁরা হলেন: হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, এফ. সি. টার্নার, মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, জি. এইচ. ল্যাংলি, হরিদাস ভট্টাচার্য, ডব্লিউ. এ. জেনকিন্স, রমেশচন্দ্র মজুমদার, এ. এফ. রহমান, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত, জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ প্রমুখ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন অস্থিরতা ও ভারতবিভক্তি আন্দোলনের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা কিছুটা ব্যাহত হয়। ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান নামক দু'টি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন পূর্ববঙ্গের বা পরবর্তী সময়ের পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত প্রদেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে এ দেশের মানুষের আশা-আকাঙক্ষা উজ্জীবিত হয়। নতুন উদ্যামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকান্ড শুরু হয়। তৎকালীন পূর্ববাংলার ৫৫টি কলেজ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়। ১৯৪৭-১৯৭১ সন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ৫টি নতুন অনুষদ, ১৬টি নতুন বিভাগ ও ৪টি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও ছাত্রদের কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে ১৯৬১ সালে আইয়ূব সরকার প্রবর্তিত অর্ডিন্যান্স বাতিলের জন্য ষাটের দশক থেকে শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্বাধীনতার পর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ উক্ত অর্ঢিন্যান্স বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডার-১৯৭৩ জারি করে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাপ্রাপ্ত হয় এবং পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক রীতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম অফিসার ছিলেন প্রথম উপাচার্য স্যার ফিলিপ যোসেফ হার্টগ, সি. আই. ই., এম. এ., বি. এস-সি.। মি. হার্টগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হওয়ার পূর্বে ছিলেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক রেজিস্ট্রার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম রেজিস্ট্রার ছিলেন জনাব খান বাহাদুর নাজিরউদ্দিন আহমেদ। নাজিরউদ্দিন আহমেদের ছেলে জনাব নূরউদ্দিন আহমেদ ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ রেজিস্ট্রার। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমদিকের কয়েকজন প্রফেসরের নাম: (১) অধ্যাপক জি. এইচ. ল্যাংলি, দর্শন বিভাগ (২) অধ্যাপক ড. এস. জি. পেনানদিকর, অর্থনীতি ও রাজনীতি বিভাগ (৩) অধ্যাপক ড. ডব্লিউ. এ. জেনকিন্স, পদার্থিবদ্যা বিভাগ (৪) অধ্যাপক বি. এম. সেন, গণিত বিভাগ ও (৫) অধ্যাপক (জে. সি. ঘোষ) জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ, রসায়ন বিভাগ। অধ্যাপক জি. এইচ. ল্যাংলি ছিলেন দ্বিতীয় উপাচার্য এবং অধ্যাপক ড. ডব্লিউ. এ. জেনকিন্স ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সপ্তম উপাচার্য।
১৯২১ সালের ১ জুলাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। এরপর ১৯২৩ সালে এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম যারা পোষ্ট-র্গযাজুয়েট ডিগ্রী লাভ করেন এবং তাঁদের প্রত্যেককে ৩২/-টাকা করে বৃটিশ-ইন্ডিয়া সরকার বৃত্তি দেন। নিম্নে তাঁদের ১১ জনের নামগুলো দেয়া হলো:
| শ্রী দিনেশ চন্দ্র দত্ত | জগন্নাথ হল |
| শ্রী যতীরময় সেন | জগন্নাথ হল |
| শ্রী অশ্বনী কুমার গুহ | জগন্নাথ হল |
| শ্রী চন্দ্র কুমার ধর | জগন্নাথ হল |
| শ্রী প্রশান্ত কুমার দাস | জগন্নাথ হল |
| শ্রী বসন্ত কুমার বন্দোপ্যাধায় | ঢাকা হল |
| শ্রী মনিন্দ্র নাথ মিত্র | ঢাকা হল |
| জনাব আবদুল হাকিম | মুসলিম হল |
| জনাব মিজানুর রহমান | মুসলিম হল |
| জনাব মমতাজউদ্দিন | মুসলিম হল |
| জনাব জাকের হোসেন | মুসলিম হল |
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ পর্যন্ত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে গৌরবময় ভূমিকা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের রাত্রি ১১টা থেকে ২৭ মার্চের সকাল ১০টার মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাক-বাহিনীর হাতে ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী শহীদ হয়েছেন-১৫২ জন। এরমধ্যে ছাত্র-১০৪ জন, শিক্ষক-১৯ জন, কর্মকর্তা-০১ জন এবং কর্মচারী-২৮ জন। এছাড়া আরো কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে ঐসময়ই তাঁদের হিসেব এখানে নেই, তারা হলেন রোকেয়া হলের দু'জন কর্মচারীর স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে।
অধ্যাপক মোঃ সফিউল্লাহ ১৯৩৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমার্স বিভাগে লেকচারার হিসাবে যোগদান করেন, ১৯৬৬ সালে ব্যবসা প্রশাসন ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হন, ৩০-০৬-১৯৭৫ তারিখ এল.পি.আর. যান এবং ৩০-০৬-১৯৭৬ তারিখ শেষ করেন তারপর পরিচালক হিসেবে আরো দু'বছর সার্ভিস বদ্র্ধিত করা হয়েছিল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ হিসাবে ০১-১০-১৯৭৭ তারিখ থেকে ৩১-০৭-১৯৮২ তারিখ পর্যন্ত সার্ভিস শেষ করেন। ১৯৯৫ সালের মধ্যে যে সব শিক্ষক অবসরে গেছেন তাঁদের মাঝে আর কেউ দীর্ঘ ৪৫ বছর সার্ভিস করেননি।
শ্রী নারায়ণ চন্দ্র দে, সর্বপ্রথম চাকুরীতে বেয়ারার হিসেবে যোগদান করেন বিজ্ঞান অনুষদের ডীন অফিসে ০৩-০৬-১৯৪২ তারিখ। তিনি প্রমোশন পেয়ে ফিটার পদে বিজ্ঞান কারখানায় যোগদান করেন ২৫-০৪-১৯৪৭ তারিখ। তারপর তিনি প্রমোশন পেয়ে সিনিয়র ফিটার গ্রেড-২ হিসাবে যোগদান করেন ০৬-০৫-১৯৮৪ তারিখ। আবার তিনি প্রমোশন পেয়ে সিনিয়র ফিটার গ্রেড-১ হিসাবে যোগদান করেন ১৭-০৬-১৯৯৩ তারিখ। বিজ্ঞান কারখানা থেকে সিনিয়র ফিটার গ্রেড-১ হিসাবে ৩০-০৬-১৯৯৩ তারিখ এল.পি.আর.-এ যান এবং ৩০-০৬-১৯৯৪ তারিখ অবসর গ্রহণ করেন। তাঁর মোট চাকুরী হয়েছে ৫২ বছর ২৮ দিন। এ তথ্যটি জনাব মোঃ মোক্তারুজ্জামান খান, নির্বাহী প্রকৌশলী(বিদ্যুৎ)-এর নিকট থেকে পেয়েছি। নিবন্ধকার মোঃ জাকির হুসেনের জানামতে এত দীর্ঘ সময় আর কারো চাকুরী হয়েছে বলে জানা নেই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টির পর শ্রী নারায়ণ চন্দ্র দে-ই প্রথম ব্যক্তি।