১৭৬৩ সালে ইংরেজ শাসকদের বিরুদ্ধে এদেশে যে ফকির আন্দোলন বা সন্ন্যাস আন্দোলন শুরু হয়েছিল সেই আন্দোলনের নেতা ছিল ফকির মজনু শাহ। ফকির মজনু শাহ ছাড়া আর কে ছিল-ভবানী পাঠক। ১৭৬৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর, বৃটিশ বাহিনী রাজমহলের কাছাকাছি উদয়নালায় মীর কাশিমকে পরাজিত করে। ১৭৬৩ সালে বরিশালে ফকিররা প্রথম ইংরেজদের ওপর হামলা করে। ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর, মীর কাসিম এবং ইংরেজদের মধ্যে 'বক্সার' নামক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর, ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর শাসন শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলা ও বিহারে নবাবী আমলের অবসান। ১৭৬৪ সালের ২৩ অক্টোবর, বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজ সেনাবাহিনীর কাছে মীর কাসিমের পরাজয়। ১৭৬৫ সালের ১২ আগস্ট, মোগল সম্রাট বৃটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর হাতে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানী তুলে দেন। ১৭৬৫ সালে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের সঙ্গে কোম্পানির এলাহাবাদ-চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ১৭৬৫ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস ফকির-সন্ন্যাসীকে দমন করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ১৭৬৫ সালে রবার্ট ক্লাইভ সমগ্র বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানী সনদ লাভ করে দক্ষিণ এশিয়ার বৃটিশ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করেন। ১৭৬৫ সালে বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা প্রথম ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনাধীনে আসে। ১৭৬৭ সালের জানুয়ারি, ক্লাইভ স্বদেশে প্রত্যার্তন করলে তার ব্যবস্থায় ফাটল ধরে। ১৭৬৭ সাল থেকে ১৭৬৯ সালের মধ্যে ইংরেজদের সঙ্গে ফকিরদের সংঘর্ষে সেনাপতি মার্টল ও লেফটেন্যান্ট কিথ নিহত হন। ১৭৬৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি, কর্ণেল স্পিথ হায়দরাবাদের নিজামের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটিশ আধিপত্য বিস্তার করেন। ১৭৬৮ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস গর্ভনর জেনারেল হয়ে ভারতে আসেন। ১৭৬৯ সালের ১৭ মার্চ, তাঁত ও মসলিন শিল্প ধ্বংসের উদ্দেশ্যে বৃটিশ সরকারের নির্দেেশ বাংলার তাঁতিদের বৃদ্ধাঙ্গুলি কেটে দেয়া শুরু হয়। ১৭৬৯-৭০ সালে ভারতবর্ষের বাঙলা আর বিহার জুড়ে দুর্ভিেক্ষর কথা বলছি। এ দুর্ভিেক্ষ এদের মোট প্রজার এক-তৃতীয়াংশ মারা গেল। (বাংলা ১১৭৬ সালে বাংলায় যে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল তাকে বলা হয় ছিয়াত্তরের মন্বন্তর)। ১৭৭০ সালের ২৫ জুন, মুর্শিদাবাদ হ'তে কোম্পানীর আবাসিক প্রতিনিধি রিচার্ড বেচারের রিপোর্টঃ "এ এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য। ইহার বর্ণনা অসম্ভব। দেশের কয়েক অংশে যে জীবিত মানুষ মৃত মানুষকে ভক্ষণ করিতেছে তাহা গুজব নয়, অতি সত্য''। ১৭৭০-৭১ সালে ভারতবর্ষের বঙ্গদেশে রেশম উৎপাদন হ্রাস পায় শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ। ১৭৭১ সালে দুর্ভিেক্ষর পর (সেখানে দুর্ভিেক্ষ এক তৃতীয়াংশ লোক মারা যাওয়ার পরও) তাদের রাজস্ব আদায় হল ১৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা। ১৭৭১ সালের ২৫ ডিসেম্বর, দ্বিতীয় শাহ আলম মোঘল সম্রাট হিসেবে দিল্লীর সিংহাসনে বসেন। ১৭৭২ সালের ১৫ আগষ্ট, ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী জেলা পর্যােয় ফৌজদারী ও দেওয়ানি আদালত পৃথক করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৭৭২ সালে দ্বৈত শাসনের অবসান করা হয় এবং ১৭৭২ সালেই কোম্পানি বাংলার দেওয়ানি শাসন সরাসরি নিজেদের হাতে তুলে নেন। ১৭৭২ সালে সর্বপ্রথম ফরাসী বণিক জঁলিয়ে লুই বোনার্দ হুগলী জেলার তালডাঙ্গায় নীলের বাগান করেন। তা দেখে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী অনুপ্রাণিত হয় এবং ১৭৮৮ সালে বাংলায় নীল চাষ শুরু করে।
১৭৮১ সালের ২ জুলাই, মহিশূরের বীর হায়দার আলী বৃটিশ বাহিনীর হাতে পরাজিত হন। ১৭৮১ সালের ১২ নভেম্বর, ব্রিটিশ বাহিনী দক্ষিণ ভারতের নাগাপট্টম দখল করে। ১৭৮২ সালের ৭ ডিসেম্বর, মহীশুরের বীর যোদ্ধা হায়দর আলীর মৃত্যুর পর টিপু সুলতান মহিসুরের সিংহাসনে আরোহণ করেন। ১৭৮৩ সালের জানুয়ারি মাসে "রংপুর বিদ্রোহ'' জোতদার ও রায়তেরা বিদ্রোহ ঘোষণা করে। ১৭৮৪ সালের ১১ মার্চ, মহিশুরের টিপু সুলতানের সাথে ইংরেজদের শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর। ১৭৮৫ সাল পর্যন্ত ফকির মজনু শাহ'্র বাহিনী কোম্পানী সৈন্যের সঙ্গে বহুবার সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ১৭৮৭ সালে ফকির মজনু শাহ্'র মৃত্যু হয়। ১৭৮৭ সালে মজনু শাহের মৃত্যুর পরে ফকির বাহিনী ততটা সুবিধা করে উঠতে পারেনি। ১৭৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর, ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর আমলে ভারতে প্রাচীন সৈন্যবাহিনীর রেজিমেন্টের জন্ম। ১৭৯১ সালের ২১ মার্চ, বৃটিশ সৈন্যরা টিপু সুলতানের কাছ থেকে বাঙ্গালোর দখল করে নেয়। ১৭৯১ সালের ডিসেম্বর, বৃটিশ শেষ ইজারাদারদের অত্যাচার হ'তে কৃষকদের রক্ষা করার জন্য বলাকী শাহ্ তাঁর ৫(পাঁচ) হাজার সশস্ত্র শিষ্য নিয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। ১৭৯১-৯২ সালকে বলা হয় বলাকী শাহ্'র বিদ্রোহ। ১৭৯২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি, টিপু সুলতান র্কতৃক বৃটিশ শাসিত হায়দরাবাদের নিজামের নিকট মহীশূরের অর্ধেক হস্তান্তর। ১৭৯৯ সালের ৪ মে, ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধযুদ্ধে মহিশূরের টিপু সুলতান নিহত হন। ১৭৯৯ সালের ১৪ জুলাই, মাহাজেরা ৫(পাঁচ) হাজার সশস্ত্র অনুসারী নিয়ে সিলেট আক্রমণ করেন এবং ত্রিপুরা রাজ্যে পলায়নের পথে মৃত্যুবরণ করেন। ১৮৫৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি, অযোধ্যার নবাব ওয়াজিদ আলী ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। ১৮৫৬ সালের ৪ জুলাই, মৌলভী আহমদ উল্লাহ ও লাখনৌর বেগম হযরত মহলের সাথে যুদ্ধে ইংরেজদের পরাজয়। ১৮৫৭ সালের ২৬ জানুয়ারি, ব্যারাকপুরের সিপাহিরা প্রথম বিদ্রোহ করে। ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ, ভারতের ব্যারাকপুর সেনা ব্যারাকে মঙ্গলপান্ডের গুলী ছোঁড়ার মধ্য দিয়ে সিপাহী বিদ্রোহের সূচনা হয়। ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বভারতীয় প্রথম সংগ্রাম কোনটি ''সিপাহী বিদ্রোহ''। ভারতীয় সৈনিকদ্বারা ইউরোপীয় অফিসারদের ব্যারাকপুরে আক্রমণ করা হয়। ১৮৫৭ সালের ৩ এপ্রিল, রাণী ভিক্টোরিয়াকে 'ভারত সম্রাজ্ঞী' ঘোষণা করা হয়। ১৮৫৭ সালের ৮ এপ্রিল, সিপাহী বিদ্রোহের অগ্রণী সৈনিক মঙ্গল পান্ডের ফাঁসি হয়। ১৮৫৭ সালের ১০ মে, ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাটে সিপাহী বিদ্রোহের সূচনা হয়। ১৮৫৭ সালের ১১ মে, দিল্লীতে প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের ঐতিহাসিক সিপাহী বিদ্রোহ শুরু। ১৮৫৭ সালের ১৭ মে, সিপাহী বিপস্নবের নেত্রী ঝাঁসির রাণী লক্ষীবাই-এর মৃত্যু। ১৮৫৭ সালের ৩০ মে, বিদ্রোহের দাবানল জ্বলে ওঠে লক্ষ্নৌতে, সমগ্র আওয়াধ অঞ্চলে। ১৮৫৭ সালের ৫ জুন, নানা সাহেব ইংরেজদের বিরুদ্ধে অস্র-ধারণ করল এবং দেড় মাস যেতে না যেতেই ১৮ জুলাই, ইংরেজদের কাছে তাকে পরাজয় স্বীকার করতে হল। ১৮৫৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর, সিপাহী বিপস্নবের বীর যোদ্ধা নানা সাহেব নেপালে নির্বাসনকালে মারা যান।
এ অঞ্চলে কলকাতা শহরে ১৭৩৪ বা ১৭৪৭ সালে প্রথম স্থাপিত হয় ফ্রি স্কুল ৪র্থ শ্রেণী পর্যন্ত। তারপর কলকাতা শহরে ১৭৮৭ সালে একটি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৭৮৯ সালে এ স্কুল থেকে প্রথম এন্ট্রান্স পরীক্ষা দেয়া হয়। বাংলাদেশে প্রথম ১৭৮০ সালে ঢাকায় আলীয়া-ই-মাদ্রাসা এবং তারপর বিক্রমপুরে ১৮০৫ সালে একটি প্রাইমারী স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়, ১৮২৮ সালে রাজশাহী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ভারতবর্ষের প্রথম কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয় কলকাতায় ১৮০০ সালের ৩ মে, ''ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ''। বাংলাদেশের প্রথম কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৪১ সালের ২০ নভেম্বর, ''ঢাকা কলেজ''। ১৮৫২ সালের ৩০ জানুয়ারি, ইস্ট-ইন্ডিয়া রেলওয়ে উদ্বোধন। ১৮৫৩ সালের পর হ'তে ভারতবর্ষে ইংরেজী শিক্ষা দ্রুত বিস্তার লাভ করতে থাকে। ১৮৫৩ সালের ১৬ এপ্রিল, বোম্বাইয়ে প্রথম ট্রেন চলাচলের মধ্য দিয়ে ভারতবর্ষে রেল যোগাযোগের সূচনা হয় এবং ১৮৫৪ সালে ভারতের বোম্বে হতে কলকাতা শহরে প্রথম রেল চলাচল করে। দর্শনা হতে কুষ্টিয়ার জগতি পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ করা হয় ১৮৬২ সালে। ১৮৬৭ সালে কুষ্টিয়া হতে গোয়ালন্দ রেলপথ নির্মাণ করা হয়। ১৮৮৫ সালের ৪ জানুয়ারি, ঢাকা-নারায়নগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ করা হয়। ঢাকা-নারায়নগঞ্জ রেলপথটি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭ জুলাই, ১৯৯৭ সালে ছেড়ে দেয়।
ভারতবর্ষে একই বছর তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় ১৮৫৭ সালের ২৪ জানুয়ারি, কলকাতা, মুম্বাই ও মাদ্রাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু। ভারতবর্ষের প্রথম দু'জন র্গযাজুয়েটের নাম হলো বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও যদুনাথ বসু। ১৮৫৮ সালে সিন্ডিকেটের সভায় গৃহীত এক প্রস্তাবে-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম র্গযাজুয়েট ও সঙ্গী র্গযাজুয়েট যদুনাথ বসু। উভয়েই পরীক্ষায় ফেল করেছিল এবং দু'জনকেই ''এজ এ স্পেশাল এক্ট অব গ্রেস" দিয়ে পাশ করানো হয়েছিল। তাঁরাই ভারতবর্ষের প্রথম গ্রাজুয়েট। ১৮৬২ সালের ২১ জুন, অবিভক্ত ভারতের প্রথম ব্যারিস্টার জ্ঞানেন্দ্রমোহন ঠাকুর। ১৮৭৭ সালে ১২(বার) জন ভারতীয় এম. এ. পাশ করেন। ১৮৮২ সালে ভারতবর্ষে মেয়েরা প্রথম স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন এবং এদেরই একজন চন্দ্রমুখী বসু ১৮৮৪ সালে বাঙ্গালী মহিলাদের মধ্যে প্রথম মাষ্টার ডিগ্রী লাভের কৃতিত্ব অর্জন করেন। ১৮৫৭ সাল থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাত্র ১৯৮ জন বাঙালি মুসলমান স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। উনিশ শতকে সীমিত পরিসরে সমাজে নারীশিক্ষার প্রয়াস চালানো হয়। উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে মুসলিম নারীসমাজের শিক্ষাবিস্তার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় যে ক'জন মহিলা উদ্যোগ নেন তাঁদের মধ্যে বিবি তাহেরা নেসা, ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী (১৮৩৪-১৯০৩), করিমুন্নেসা খানম (১৮৫৫-১৯২৬) এবং রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন (১৮৮০-১৯৩২) তাহেরা নেসা প্রথম বাঙালি মুসলিম মহিলা লেখক। তিনি ১৮৬৫ সালে বামাবোধিনী পত্রিকায় 'শিক্ষা ও সামাজিকতায় নারীর অধিকার' সম্পর্কে একটি রচনা প্রকাশ করেন। ১৮৭৩ সালে নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। ১৯১৫-১৬ সাল পর্যন্ত কোনো মুসলমান মেয়ে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় পাস করেননি; ১৯১৮-১৯ সালে মাত্র একজন মেয়ে এ পরীক্ষায় পাস করেন। তবে ১৯২১-২২ সালে ১০২ জন মুসলিম ছাত্রী ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় পাশ করেন। বাংলার মুসলিম সমাজে আধুনিক শিক্ষার অগ্রগতি (১৮৮৫-১৯২১)।
১৮৮৫ সালে মুম্বাই শহরে জাতীয় কংগ্রেস পার্টির জন্ম। ১৮৮৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর, বোম্বে শহরে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। ১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম সভাপতি হয়েছিলেন ডবিস্নউ. সি. ই. (ইংরেজ)। বাঙ্গালী ব্যারিস্ট্রার উমেশ চন্দ্র ব্যাণার্জি ভারতীয় কংগ্রেসের প্রথম নির্বািচত সভাপতি। বাঙ্গালী ব্যারিস্ট্রার উমেশ চন্দ্র ব্যাণার্জির বাড়ি ছিল ফরিদপুর জেলায়। জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন-''অ্যালান অক্টোভিয়ান ইিউম''। ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর, ঢাকার নবাব স্যার সলিমূল্লাহ'র প্রাসাদে মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনে ''নিখিল ভারত মুসলিম লীগ'' প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯২০ সালে এম. এন. রায় ও কমরেড মুজাফ্ফর আহমেদের নেতৃত্বে রাশিয়ার তাসখন্দে বসে ''ভারতীয় কমিউনিষ্ট পার্টি'' প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৪১ সালের ২৬ আগষ্ট, লাহোরে ৭৫ জন লোক নিয়ে 'জামায়াতে ইসলামী' নামে একটি আদর্শবাদী দল গঠন। ১৯৪৪ সালে কলকাতা শহরে ''নেজামে ইসলামী পার্টি'' প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। ১৯৪৮ সালে বি. জে. পি. প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন, ঢাকার ''রোজ গার্ডেেন'' মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে আওয়ামী মুসলিম লীগ'' প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫৫ সালে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে ''আওয়ামী লীগ'' নাম করণ করা হয়। মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ১৯৫৭ সালের ২৫ জুলাই, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি(ন্যাপ) গঠিত হয়। ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭২ সালের ৩১ অক্টোবর, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রচলিত সকল রাজনৈতিক দল বাতিল ও বেআইনী ঘোষণা করে 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' (বাকশাল) নামে একটি জাতীয় দল গঠন করেন। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টি (বিএনপি) প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি, 'বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি' প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এছাড়াও আরো অনেক পার্টি ও গ্রুপ আছে।
৬৩৮ খৃষ্টপূর্ব গ্রিক কবি সোলোনের জন্ম, মৃত্যু-খৃষ্টপূর্ব ৫৫৯। ৬২০ খ্রিষ্টপূর্ব রোমান নাট্যকার ঈসপের জন্ম, মৃত্যু-খ্রিষ্টপূর্ব ৫৬০। ৫৮০ খৃষ্টপূর্ব দার্শিনক পিথাগোরাসের জন্ম, খৃষ্টপূর্ব ৫০০ মৃত্যুবরন করেন। ৫৫১ খ্রিষ্টপূর্ব ২৭ আগষ্ট, চীনা দার্শিনক কনফুসিয়াসের জন্ম এবং খৃষ্টপূর্ব ৪৭৯ মৃত্যুবরন। ৪৮৪ খৃষ্টপূর্ব গ্রিক নাট্যকার ইউরিপিডিসের জন্ম, মৃত্যু-খৃষ্টপূর্ব ৪০৬। ৪৬৯ খৃষ্টপূর্ব গ্রিক দার্শিনক সক্রেটিসের জন্ম, মৃত্যু-খৃষ্টপূর্ব ৩৯৯। ৪৬০ খৃষ্টপূর্ব হিপোক্রেটসের জন্ম এবং মৃত্যু-৩৭০ খৃষ্টপূর্ব। ৪২৭ খৃষ্টপূর্ব প্লেটো জন্মগ্রহন করেন এবং ৩৪৭ খৃষ্টপূর্ব মৃত্যুবরন করেন। ৩৮৪ খ্রিষ্টপূর্ব গ্রিক দার্শিনক অ্যারিস্টটল জন্মগ্রহন এবং মৃত্যুবরন করেন ৩২২ খ্রিষ্টপূর্ব। ৩৫৬ আলেকজান্ডার দি গ্রেট খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫৬ জন্ম, মৃত্যু-১৩ জুন, ৩২৩ খ্রিষ্টপূর্ব। ৩০০ খৃষ্টপূর্ব অশোকের জন্ম, খৃষ্টপূর্ব ২৩২ মৃত্যু। ২৮৭ খ্রিস্টপূর্ব আর্কিিমডিসের জন্ম এবং মৃত্যু খ্রিষ্টপূর্ব ২১২। ১০৬ খৃষ্টপূর্ব গ্রিক দার্শিনক, কবি ও নাট্যকার সিসেরোর জন্ম, মৃত্যু-খ্রিষ্টপূর্ব ৪৩। খ্রিষ্টপূর্ব ৫ রোমান দার্শিনক সেনেকার জন্ম, মৃত্যু-৬৫ সালে। ৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ ডিসেম্বর, রোম সম্রাট নিরোর জন্ম, মৃত্যু-৬৮ খ্রিষ্টাব্দ। রোমান সম্রাট নিরো ৬৭ খ্রিষ্টাব্দে অনুষ্ঠিত অলিম্পিক খেলায় অ্যাথলেট হিসেবে অংশগ্রহণ করেন এবং সব ইভেন্টে তিনি জয়ী হয়েছেন অন্য সবাইকে ঠকিয়ে। ১০০ সালে রোমের রাষ্ট্রপ্রধান ও সমরনায়ক জুলিয়াস সিজারের জন্ম, মৃত্যু-১৫-০৩-১৪৪ তারিখ।
৫৭০ সালের ২৯ আগষ্ট মোতাবেক ১২ রবিউল আউয়াল রোজ সোমবার প্রত্যুষে আরবের মক্কা নগরীতে সভ্রান্ত কুরাইশ বংশে মাতা আমেনার গর্ভে হযরত মুহাম্মদ(স.) জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২ রবিউল আউয়াল, ১১শ হিজরী মোতাবেক ৭ জুন, ৬৩২ সালে প্রায় ৬৩-বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। বিশ্ব নবীর গোটা জীবনকাল প্রায় ২২,৩৩০(বাইশ হাজার তিনশত ত্রিশ) দিন ৬(ছয়) ঘন্টা সময়। মহানবী(স.) মক্কা নগরীতে অবস্থান করেণ ১২ বছর ৫ মাস ২১ দিন। মহানবী(স.) মদীনায় অবস্থান করেণ ১০ বছর ৬ মাস ৯ দিন। বিশ্বনবী(সা.) জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ বদরের এবং ওহুদের যুদ্ধ। মহানবী(দ.)-এর উপর সর্বপ্রথম ওহী নাজিল হয় ৬১০ সালের ৬ আগষ্ট মোতাবেক ২৭ রমজান। বিশ্বনবী(সা.) ১২ রবিউল আউয়াল ১১শ হিজরী মোতাবেক ৭ জুন ৬৩২ সালের রোজ সোমবার দিন ইন্তেকাল করেন। ৯৪১ সালে মহাকবি ফেরদৌসী জন্মগ্রহন করেন এবং ১০২০ সালে মৃত্যুবরন করেন। ৯৭৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর, ঐতিহাসিক, দার্শিনক ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী আলবেরুনীর জন্ম এবং ১২ ডিসেম্বর, ১০৪৮ সালে মৃত্যুবরন করেন। ৯৮২ সালে বৌদ্ধ ধর্মের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পুরুষ শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপংকর মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলার বজ্রযোগিনী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন, ১০৫৪ সালের ১৮ নভেম্বর, দেহত্যাগ করেন চীনদেশে। ১৯৭৮ সালের ২৩ জুন, অতীশ দীপংকরের দেহভস্ম চীন থেকে ঢাকায় আনা হয়। ১০৯৬ সালে আনুমানিক রাজা বিজয় সেন জন্মগ্রহন করেন এবং মৃত্যুবরণ-১১৫৯ সালে। ১০৯৯ বা ১১০০ সালে ভূগোলবিদ ও মানচিত্রকার আল ইদ্রিসী স্পেনের সিউটাতে জন্মগ্রহণ করেন এবং মৃত্যুবরণ করেন ১১৬৬ সালে বা কারো কারো মতে তার মৃত্যু-১১৮০ সালে। ১১১৪ সালে দক্ষিণ ভারতে ভাস্করাচার্যের জন্ম, মৃত্যু-১১৮৫ সালে। ১১৪২ সালে খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী (রহ.)'র জন্ম, মৃত্যু-১২৩৬ সালে। ১১৬২ সালে ইতিহাসে বিতর্কিত পুরুষ বহু দেশ বিজেতা ও মঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খাঁনের জন্ম এবং মৃত্যু-১৮-০৮-১২২৭ তারিখ। 'চীনা ভূখন্ডেই চেঙ্গিস খানের সমাধি রয়েছে'। চীনে চেঙ্গিস খানকে শ্রদ্ধা করা হয় এবং চীনের কমিউনিষ্ট পার্টি তাকে মহান 'চীনা' রাজবংশের অগ্রদুত হিসেবে মনে করে থাকে। ১২০৭ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর, মৌলানা জালালুদ্দিন রুমী(রহ.)'র জন্ম, মৃত্যু-১৬-১২-১২৭৩ তারিখ। ১২০৮ সালে মিশরে ইবনুন নাফিসের পুরো নাম আলাউদ্দিন আবুল হাসান আলী ইবনে আবুল হাজমের (একজন মুসলিম চিকিৎসা বিজ্ঞানী) জন্ম, কায়রোতে শুক্রবার দিন সকালে ইন্তেকাল করেন-১৮-১২-১২৮৮ তারিখ। ১২৫৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর, ইতালীর ভেনিস শহরে বিশ্ববিখ্যাত পর্যটক মার্কো পোলোর জন্ম, মৃত্যু-০৮-০১-১৩২৪ তারিখ। ১২৭১ খ্রিষ্টাব্দে, ইয়েমেনীতে হযরত শাহ জালালের (রহ.) জন্ম, মৃত্যু-১৩৩৩ খ্রিষ্টাব্দে। কিন্তু মৃত্যু দেখানো হয়েছে ১৩৪৭ খ্রিষ্টাব্দে। ৬২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। প্রতি বছর ২২ ডিসেম্বর থেকে ওরসের কাজ শুরু হয়। ১৩০৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর, হযরত শাহ জালাল(রা.) ছিলেন (ইয়েমেনী) সিলেট আগমনের সাতশ' বছর পূর্তি হয় ১৮-১২-২০০৩ তারিখ হযরত শাহ জালাল(রা.) সুরমা নদীর যে ঘাট দিয়ে সিলেট শহরে প্রবেশ করেছিলেন সেই ঐতিহ্যবাহী স্থান শেখঘাট মসজিদ থেকে দরগাহ পর্যন্ত শোভাযাত্রা হয়েছিল। শাহ জালাল (রহ.) মাত্র ৩২ বছর বয়সে ৩৬০(তিনশত ষাট) জন সঙ্গী নিয়ে সিলেটে আগমন করেন।