১৯৪০ সালের আইন এখনো ওষুধ প্রশাসনে বহাল রয়েছে। এ আইনে শাস্তি ও জরিমানা খুবই সীমিত। পরে ১৯৮২ সালে আইনটি সংশোধন করা হয়। তবে জাতীয় সংসদে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার অইনটি পাস হয়।

১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ, মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনের সিদ্ধান্তে (রেজুলেশন) ভারতবিভক্তির কথা ছিল না। এই রেজুলেশনে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিমপ্রধান এলাকা নিয়ে মুসলমানদের স্বাধীন বাসভূমি অখন্ড ভারতের মাঝে হওয়ার কথা বলা হয়েছে।' যার মুখ্য রচয়িতা মুহম্মদ আলী জিন্নাহ হলেও মুসলিম লীগের সভায় উত্তাপক ছিলেন শেরেবাংলা এ.কে. ফজলুল হক। সে প্রস্তাবের মুল দাবি ছিল-ভারতের উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্বাঞ্চলে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলে স্বতন্ত্র স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। ১৯৪০ প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলেছিলেন, 'টাইম অ্যান্ড টাইড' পত্রিকায় ১৯ জানুয়ারি, ১৯৪৬ সালে এই সাক্ষাৎকারটি ছাপে। কনফেডারেশন নিয়ে পুরনো কাসুন্দি : পাক-বাংলা-ভারত উপমহাদেশের 'কনফেডারেশন' বিষয়টি এমন একটি ঢেঁকুর। অবশ্য এ আলোচনা গত ৬৮ বছর ধরেই চলছে। শ্রী কুলকার্নি প্রশ্ন করেছেন, 'কেন ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান হলো? পরবর্তীকালে বাংলাদেশ কেন পাকিস্তান ছাড়ল? এমন বহু প্রশ্ন আর এর জবাব ও দিয়েছেন তিনি।

একটি সত্য তিনি বলেছেন, 'ভারতবিভক্তির জন্য শুধু কায়েদে আযম দায়ী নন; বরং দায়ী জওহরলাল নেহরু ও বল্লভভাই প্যাটেল। আর মহাত্মা গান্ধী তাদের সমর্থন করেছেন।' কেন জিন্নাহ শেষের দিকে পাকিস্তান সৃষ্টির জন্য অনড় হলেন তার দ্বিজাতিতত্ত্বের মাঝ দিয়ে? 'অথচ তিনি সারা জীবন অখন্ড ভারতের পক্ষে ছিলেন। তিনিই একমাত্র রাজনীতিবিদ, যিনি মুসলিম লীগ ও ভারতীয় কংগ্রেসের সভাপতি একসাথে ছিলেন এবং হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের দূতহিসেবে পরিগণিত হতেন।' সরোজিনি নাইডু এ উপাধি তাকে দিয়েছিলেন।

কুলকার্নি কেন মনে করলেন, জিন্নাহ অখন্ড ভারত এবং কনফেডারেশনের পক্ষে ছিলেন? নিজের বক্তব্যে এর জবাব তিনি উল্লেখ করেছেন-১৯৪০ সালের মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনের সিদ্ধান্তে(রেজুলেশন) ভারতবিভক্তির কথা ছিল না। এই রেজুলেশনে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিমপ্রধান এলাকা নিয়ে মুসলমানদের স্বাধীন বাসভূমি অখন্ড ভারতের মাঝে হওয়ার কথা বলা হয়েছে।' কুলকার্নি দাবি করেছেন, জিন্নাহ এই রেজুলেশন পাসের দুই মাস আগেও হিন্দু-মুসলমানের সাধারণ(কমন) মাতৃভূমি বলে লন্ডনের 'টাইম অ্যান্ড টাইড' পত্রিকায় ১৯ জানুয়ারি, ১৯৪০ প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলেছিলেন।

জিন্নাহ ভারতবিভক্তি চাননি, জিন্নাহ মনে করেন, স্বাধীন পাকিস্তান ভারতের কনফেডারেশনের অংশ হবে।' এবং এ বক্তব্যকে 'ক্যারিকেচার করে হিন্দু সংবাদমাধ্যম লীগের দাবিকে ভারত বিভাগ বলে প্রচার করত।

কুলকার্নি বলেন, 'জিন্নাহকে তার দাবি(দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে মুসলমানদের স্বতন্ত্র স্বাধীন এলাকা) থেকে সরে আসার জন্য গান্ধী ১৯৪৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর, ও ২৭ সেপ্টেম্বরের মাঝে ১৪ বার দেখা করেন এবং ২৪টি পত্র দেন। সেখানে ভারত বিভক্ত আন্দোলন না করে প্রথমে বিদেশী শক্তিকে তাড়ানোর ওপর জোর দেন।' কুলকার্নি গান্ধীর অনেক চিঠির কিছু অংশের উদ্ধৃতি দিলেও জিন্নাহর জবাবের মাত্র একটি উদ্ধাতাংশ দেন। সেখানে জিন্নাহ বলেছেন, 'বিদেশী তাড়ানোর আন্দোলনের আগে হিন্দু-মুসলমান সামস্যার সমাধান করতে হবে, যদি স্বাধীনতার ফল ভোগ করতে হয়। কুলকার্নি গান্ধীর সাথে সুর মিলিয়ে লেখেন, 'এটা একটা অ্যাবসার্ড দাবি। দ্বিজাতিতত্ত্বের নিন্দা করে গান্ধীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, 'জিন্নাহ যদি মনে করেন হিন্দু ও মুসলমানেরা দু'টি জাতি, তাহলে স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্রে হিন্দু জাতির কী হবে?'' তিনি ভারতে মুসলমানদের কী অবস্থা হবে তা নিয়ে কোনো কথা বলেননি।

জিন্নাহ কেন পাকিস্তান চাইলেন? টাইম ম্যাগাজিনের এক প্রশ্নের জবাবে এর বিশেস্নষণ তিনি দেন। টাইম ১৯৪৬ সালে এই সাক্ষাৎকারটি ছাপে। টাইম ম্যাগাজিন জিজ্ঞেস করে-আপনি(জিন্নাহ) খাঁটি মুসলমান নন(কেননা তিনি মদ খেতেন, দাড়ি রাখেননি), তবে কেন মুসলমানের জন্য পৃথক বাসভূমি চাইছেন? জিন্নাহ জবাবে গান্ধী-নেহরু-প্যাটেলের সাথেএক ভোজন অনুষ্ঠানের ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, 'আমি তাদের (গান্ধী-নেহরু-প্যাটেল) জিজ্ঞেস করলাম, মুসলমানদের শাসনব্যবস্থায় কেমন অংশীদারিত্ব থাকবে। ইংরেজরা মুসলমানদের কাছ থেকেই এ দেশের শাসনব্যবস্থা কেড়ে নেয়। এ ছাড়া মুসলমানেরা দ্বিতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যা-তারা এর জবাবে নিশ্চুপ থাকলেন। একই প্রশ্ন তিনবার পূনরাবৃত্তি করলেও তারা নিশ্চুপ রইলেন। তখনই বুঝতে পারলাম, তারা মুসলমানদের ক্ষমতার কোনো অংশ দিতে রাজি নয়। মুসলমানেরা সংখ্যালঘিষ্ঠ হওয়ার কারণে কোনো দিনইএই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ক্ষমতার অংশ পাবে না। আমি তখনই পাকিস্তান দাবির সাথে একাত্মতা অনুভব করলাম।' পাকিস্তান দাবির আসল জনক কবি ইকবাল। জিন্নাহর পাকিস্তান দাবিতে অনড় হওয়ার জন্য এটি একটি চমৎকার বিশেস্নষণ। বিশেষ করে বিভিন্ন আলোচনায় জিন্নাহ ছাড় দিলেও নেহরু তাঁর নীতিতে ছিলেন অটল।

নেহরু ছিলেন কেন্দ্রে সব ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পক্ষে। কিন্তু জিন্নাহ ফেডারেল ব্যবস্থায় বিশ্বাসী ছিলেন। কেন্দ্রীয় ক্ষমতার বলয়ে মুসলমানেরা তথাকথিত গণতান্ত্রিক পন্থায় কোনো দিনই ঢুকতে পারত না। কারণ, তারা সংখ্যালঘিষ্ঠ। 'ভারত বিভক্তির জন্য ভারতীয় নেতা ও পত্রপত্রিকা জিন্নাহকে পুরোপুরি দোষারোপ করলেও-এটা সত্য নয়।' দি সার্চ ফর দি ভিলেন অব পার্টিশন ডিভাইডস ইন্ডিয়া' প্রবন্ধে(লন্ডনের গার্ডিয়ানে ১৮ আগষ্ট, ২০০৯ প্রকাশিত) অ্যান্ডু বানকমবে এ কথা বলেন। তিনি বলেছেন, এর দায়িত্ব প্রধানত নেহরু ও প্যাটেলের। তারা যদি ক্যাবিনেট মিশনের প্রথম ফর্মুলা মেনে নিতেন, তাহলে ভারত বিভক্তির প্রয়োজন হতো না। ১৯৪৬ সালের ১৬ মে, ক্যাবিনেট মিশন অষন্ড ভারতে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশ ঠিক করার একটি ফর্মুলা দেয়। এতে লুজ কনফেডারেশনের ইঈিত থাকে। জিন্নাহ এই প্রস্তাব মানলেও, নেহরু তা প্রত্যাখান করেন। এরপর ১৬ জুন ক্যাবিনেট মিশন ভারত বিভক্তির প্রস্তাব দেয়। জিন্নাহ দু'টি প্রস্তাব মেনে নেন এ জন্য যে, এতে মুসলমানদের স্বার্থরক্ষার বিষয় ছিল। কংগ্রেস প্রথম প্রস্তাবের প্রদেশগুলোর স্বায়ত্তশাসন অধিকার বাদ দিয়ে কেন্দ্রশাসিত ভারতের দাবি তোলে এবং ''কুইট ইন্ডিয়া'' নামে হিংসাত্মক আন্দোলনের সূত্রপাত করে।

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ যশোবন্ত সিং তার ''জিন্নাহ :ইন্ডিয়া-পার্টিশন-ইন্ডিপেন্ডেন্স'' বইতে বলেছেন 'নেহরু-প্যাটেল যদি ক্যাবিনেট মিশনের প্রথমপ্রস্তাব মেনে নিতেন তাহলে ভারত বিভক্ত হতো না। কিন্তু তাঁরা ছিলেন অনমনীয়।'

'ইন্ডিয়া উইনস ফ্রিডম' বইতে মওলানা আবুল কালাম আজাদও (ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী) একই মন্তব্য করেছেন। তিনি নেহরু প্যাটেলকে দেশ বিভাজনের জন্য দায়ী করেন।

ভারত-পাকিস্তান স্বাধীনতার প্রাক্কালে (১৯৪৭) যে দাঙ্গা ও রক্তবন্যা বইয়ে দেয়া হয়, তা-ও ছিল নেহরু-প্যাটেলের অনমনীয় দাবির ফসল। এই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা মূলত কেন্দ্রীভ্থত ছিল পাঞ্জাব ও বাংলায়। জিন্নাহর পাকিস্তান দাবীতে এ দুটি প্রদেশ বিভক্ত করারা বিরোধিতা করা হয়। যদি এ বিভক্তি না হতো, তাহলে যে দাঙ্গার সূত্রপাত হয়, সামান্য ঘটনাগুলো থেকে তা হতো না এবং অন্তত ১০ লাল মানুষের জীবন বেঁচে যেত। দেড় কোটি লোক গৃহহীন হতো না। নেহরু-মাউন্টব্যাটেন এ দুটি প্রদেশকে ভাঙার কাজটি করেন। এর ফলে ইতিহাসের সর্ববৃহত দেশান্তর ঘটে এবং সাথে সাথে ঘটে রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা।

আসলে সত্য কথা কেউ বলতে পারছে না। যেমন সামান্য সত্য বলার জন্য যশোবন্ত সিংকে বিজেপি থেকে বের করে দেয়া হয়। আবার ভিজিটর বইতে এল কে আদভানি 'জিন্নাহ হিন্দু-মুসলিম' মিলনের দূত' বলার জন্য পার্টিও পদ হারান। ভারত বিভাগ ও নেহরুর অনেক ইচ্ছার রূপায়ণে যে নারীর সবচেয়ে বেশি অবদান, তিনি হলেনতৎকালীন ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেনের স্ত্রী এডউইনা। নিশিদ হাজারি তার বইতেও এর রেফারেন্স দিয়েছেন। অবশ্য মাউন্টব্যাটেনের কন্যা পামেলা পরবর্তীকালে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তার মায়ের সাথে নেহরুর গভীর সখ্য ছিল, তবে তা ছিল নিস্কাম ভালোবাসা। অবশ্য অনেক গবেষক এ বক্তব্য মানতে চাননি। মাউন্টব্যাটেন-এডউইনার স্কুলবন্ধু ছিলেন নেহরু। ফলে তাদের রাজনৈতিক মূল্যায়নেও এর প্রভাব পড়ে। যখন কাশ্মির পাকিস্তান প্রায় দখল করে নিচ্ছিল, তখন নেহরুর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাউন্টব্যাটেন তাকে জাতিসংঘে যাওয়ার পরামর্শ দেন। আর পাকিস্তানকে সৈন্য পাঠানো থেকে বিরত রাখেন, যদিও নেহরু সেখানে সৈন্য পাঠিয়েছিলেন। এ ধারণাটি দিয়েছিলেন এডউইনা। অথচ তখন দেয়া গণভোটের প্রস্তাব জাতিসংঘের দপ্তরে ৬৭ বছর পর এখনো ঝুলে আছে।

হাজারি এবং বহু লেখক প্রায়ই একই কথা বলেছেন, কনফেডরেশন হলে লাভবান হবে ভারত। তাহলে কেন বিভক্তির জন্য তারা সাড়া দিয়েছিল? একটি একটি জবাব হলো, তৎকালীন প্রাদেশিক নির্বাচনগুলোতে (যা ছিল সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ) মুসলমানদের স্বতন্ত বাসভূমির প্রতি যে ইচ্ছা তার সম্যক প্রকাশ ঘটে। আর অন্য পক্ষের উসকানিতে রক্তক্ষয় হওয়ার কারণে তাদের স্বার্থের জন্য কী করণীয় তা স্পষ্টত প্রকাশ পায়। যেমন হিন্দু মহাসভার নেতা শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি (যার সাথে ফজলুল হক মন্ত্রিসভাও গঠন করেছিলেন) পাকিস্তানের তীব্র নিন্দা করে হুমকি দিয়েছিলেন-হিন্দুরা শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে এর বিরোদিতা করবে। এরপরই দাঙ্গা শুরু হয়।

সম্প্রতি পাকিস্তান ও ভারতের কয়েকটি টিভি টকশোতে এই কনফেডারেশন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। স্বভাবতই দুই দেশের বক্তব্য দুই রকম হয়েছে। ভারতীয় টকশোর মূল বক্তব্য হলো, 'এটা (কনফেডারেশন) হলে জঙ্গিবাদ নির্মূল হবে।' পাকিস্তানের টকশোতে ভারতের বিরামহীন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার হিসাব তুলে ধরা হয় (প্রতিদিন অন্তত একটি) এবং মুসলমানেরা (২৫% হওয়া সত্ত্বেও) কোনো অংশদারিত্বে নেই, বরং কৌশলে সব সুবিধা নিয়ে নিচ্ছে বলে দাবি করা হয়। এর মাঝে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ভারত অন্তত চারটি পথ দিয়ে পূর্বাঞ্চলে যাওয়ার অনুমতি পেলেও বাংলাদেশ তেমন কোনো সুবিধা পায়নি। টকশোতে বলা হয়, জিন্নাহ একটি করিডোর দাবি করেছিলেন, কিন্তু নেহরু তা নাচক করে দেন।

১৯৪১ সালে ভারতবর্ষের আদমশুমারি অনুযায়ী পাঞ্জাব আর বাংলার মুসলিম গরিষ্ঠ জেলাসমূহ: মৌলানা আবুল কালাম আজাদ-ভারত স্বাধীন হল: এ বইয়ে ১৮৬ পৃষ্ঠায় দেখা যেতে পারে: ১. পাঞ্জাব: লাহোর বিভাগ-গুজরানওয়ালা, গুরুদাসপুর, লাহোর, শেখপুরা ও শিয়ালকোট।

রাওয়ালপিন্ডি বিভাগ: আটক, গুজরাট, ঝিলাম, মিয়াঁওয়ালী, রাওয়ালপিন্ডি, শালপুর।

মুলতান বিভাগ: ডেরা গাজী খাঁ, ঝং, লায়ালপুর, মন্টগোমারি, মুলতান, মুজফফর গড়।

(২) বাংলা: চট্টগ্রাম বিভাগ-চট্টগ্রাম, নোয়াখালি, ত্রিপুরা।

ঢাকা বিভাগ-বাখরগঞ্জ, ঢাকা, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ।

প্রেসিডেন্সি বিভাগ-যশোর, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া।

রাজশাহী বিভাগ-বগুড়া, দিনাজপুর, মালদহ, পাবনা, রাজশাহী, রংপুর।

১৯৪১ সালে প্রথম ইজতেমা দিল্লির নিজামউদ্দীন মসজিদের ছোট এলাকা মেওয়াতের নুহ মাদ্রাসায় আয়োজন করা হয়। এতে প্রায় ২৫ হাজার তাবলিগ দ্বীনদার মুসলমান অংশ নেন। এভাবে অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিসরে মেওয়াতের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার কিছু মানুষের কাছে দ্বীনের কথা প্রচারের মধ্য দিয়ে তাবলিগ জামাতের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৪৬ সালে ঢাকার পার্কসংলগ্ন কাকরাইল মসজিদে তাবলিগ জামাতের বার্ষিক সম্মেলন বা ইজতেমা প্রথম অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রামে, ১৯৫৮ সালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্দিরগঞ্জে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৬৬ সালে ইজতেমা টঙ্গীর পাগার গ্রামের খোলা মাঠে আয়োজন করা হয়। ১৯৬৭ সাল থেকে বর্তমান অবধি (২০১১ সাল থেকে দুই পর্বে) 'বিশ্ব ইজতেমা' টঙ্গীর শহর দরিয়াখ্যাত তুরাগ নদের উত্তর-পূর্ব তীরসংলগ্ন ডোবা-নালা, উঁচু-নিচু মিলিয়ে রাজউকের হুকুমদখলকৃত ১৬০ একর জায়গার বিশাল খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৯৯৬ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার রাজউকের ১৬০-একর ভূমি বিশ্ব ইজতেমার জন্য অস্থায়ীভাবে বরাদ্দ করলে এটি স্থায়ী ইজতেমার মাঠে রূপ নেয়। বিশ্বের ৫০ থেকে ৫৫টি দেশের লোক আসে। প্রতিবছর এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৭০০ জামাত বিশ্ব ইজতেমা থেকে দেশে-বিদেশে এক চিল্লা-৪০ দিন, তিন চিল্লা-চার মাস, ছয় মাস ও এক বছরের জন্য আল্লাহর দ্বীনের তাবলিগ ও দাওয়াতের জন্য বের হয়। (১৮৮৫ সালে বিংশ শতাব্দীর প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও সাধক হজরত মাওলানা ইলিয়াস আখতার কান্ধলভির জন্ম, মৃত্যু-১৯৪৪ সালে। দাওয়াতে তাবলিগ জামাতের পুনর্জাগরণ করেন। তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী দিল্লির দক্ষিণ পাশে অবস্থিত এক জনবিরল নীরব অঞ্চল 'মেওয়াত'। চারিত্রিক বিপর্যস্ত ধর্মকর্মহীন, অশিক্ষিত ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন নামেমাত্র মুসলমান 'মেও' জনগোষ্ঠীকে ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস, ধর্মেও পূণাঙ্গ অনুশীলন ও কালেমার দাওয়াতি মর্ম শিক্ষাদান এবং বিভ্রান্তির কবল থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে হজরত মাওলানা ইলিয়াস(রা.) তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম শুরু করেন।)

১৯৪১ সালের ১১ অক্টোবর, সপ্তাহে ১৫ মিনিটের বাংলা অনুষ্ঠান প্রচারের মধ্য দিয়ে বিবিসি বাংলা বিভাগের অভিযাত্রা শুরু হয়। বিবিসি বর্তমানে ১১ অক্টোবর, ২০১১ সালে এক কোটি ৩০ লাখ নিয়মিত শ্রোতা সকালে প্রভাতি ও প্রত্যুষা এবং সন্ধ্যায় প্রবাহ ও রাতে পরিক্রমা-বিবিসি বাংলার এই চারটি অধিবেশনে।

১৯৪২ সালের ১০ জুলাই, দুরারোগ্য ব্যাধিতে কাজী নজরুল ইসলাম বাকরুদ্ধ হন।

১৯৪২ সালে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে আসামের বাঙ্গালিরা লাইন প্রথা ভঙ্গ করে।

১৯৪২ সালে কিশোরগঞ্জ শহরে জামে মসজিদের সম্মুখে হিন্দুদের পুজা উৎসবে গানবাজনাকে কেন্দ্র করে যে দাঙ্গা হয় তাতে পুলিশের গুলিবর্ষেণ কয়েকজনের মৃত্যু হয়।

১৯৪৩ সনের দুর্ভিেক্ষ সোনার বাংলার ত্রিশ/চল্লিশ লাখ লোক নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিলো। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এর আগে ১১৭৬ সনের (বাংলা ক্যালেন্ডার) দুর্ভিেক্ষ বাংলার অর্ধেক কৃষক মারা যায়। মানুষের ভয়ে মানুষ বনে জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। তবু পাকিস্তান আমলে এদেশের ব্যাপক মানুষের এই বিশ্বাস ছিলো যে পাকিস্তানে সম্পদ পাচার হতো বলেই বৈষম্য ও সম্পদ পাচার মিথ্যা ছিলোনা। বৈষম্য বিরোধী ৬-দফা আন্দোলন আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সূচনা। অতঃপর ১৯৭১ সনের ১৬ ডিসেম্বর, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর পরাজয় ও আত্মসমর্পেণর মধ্যদিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়। এখন ফলে অতীতের বৈষম্য প্রচন্ড প্রতাপে বাংলাদেশে ফিরে এসেছে। বৈষম্য সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ও কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেছেন 'দেশের জনসংখ্যার পাঁচ শতাংশ মানুষ পঁচানব্বই ভাগ সম্পদের মালিক আর পঁচানব্বই শতাংশ মানুষ মাত্র পাঁচ ভাগ সম্পদের মালিক। এই বৈষম্যের এক প্রান্তের পঁচানব্বই শতাংশ হলেন শ্রমিক-মজুর-কৃষকসহ শ্রমজীবী কর্মজীবী জনসাধারণ।

১৯৪৭ সালের ২৭ এপ্রিল, সোহরাওয়ার্দী অখন্ড স্বাধীন বাংলা রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা পেশ করেন।

১৯৪৭ সালে যখন ব্রিটিশ পার্লােমন্ট ভারতীয় স্বাধীনতা আইন পাস করে, তখন জাতিসংঘের মোট সদস্য রাষ্ট্র ছিল ৫১টি।