২০১২ সালের ৩০ জানুয়ারি, দৈনিক জনকন্ঠ: ২৯-০১-২০১২ তারিখের প্রথম কার্যিদবসে ডিএসই সাধারণ সূচকের অবস্থান ছিল ৫৩৫১ পয়েন্টে। এরপর এ মাসের ২০টি কার্যিদবসের ১৪ দিনই বাজারে দরপতন হয়েছে। এতে ডিএসই সাধারণ সূচক ১১৬৮ পয়েন্ট কমে রবিবার ৪১৮৩.০৭ পয়েন্টে ঠেকেছে। সূচকের এই অবস্থান ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বরের পর সর্বিনম্ন মূল্য আয় অনুপাত নেমেছে ২০০৫ সালের নিচে।

২০১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো: ০১-০২-২০১২ তারিখের কার্যিদবসে ডিএসই সাধারণ সূচকের অবস্থান ছিল ৪০০০ হাজার পয়েন্টের নিচে।

২০১৬ সালের ২৫ জানুয়ারি, প্রথম আলো: আস্থা নেই শেয়ারবাজারে। লেনদেন-২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর ডিএসইতে লেনদেন উঠেছিল ৩,২৫০ কোটি টাকা। ৩০ এপ্রিল, ২০১৩ ও ২৪ জানুয়ারি-২০১৬ তারিখ-২০১৫ সাল শেষে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন নেমে আসে ৪২২ কোটিতে। এ দুই আমলই ছিল আওয়ামী লীগের আমল।

১৯৬৯ সালে পাকশীতে নর্থেবঙ্গল পেপার মিল স্থাপিত হয়।

১৯৬৯ সাল থেকে খেদার সাহায্যে হাতি ধরা নিষেধ হয়ে গেছে।

১৯৬৯ সালে শ্রমিক সম্পর্ক অধ্যাদেশ প্রণীত হয়।

১৯৭০ সালের ১ জানুয়ারি, পাকিস্তানে রাজনৈতিক কার্যকলাপ যখন শুরু হলো তখন মওলানা ভাসানীর সাথে কমিউনিষ্টদের মিলিত কাজের সুযোগ তেমন ছিলো না।

১৯৭০ সালের ২৮ মার্চ, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান 'এক ব্যক্তি, এক ভোট' নীতির ভিত্তিতে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন।

১৯৭০ সাল পর্যন্ত আমরা ১২১টি বিশেষ গ্রন্থাগার দেখতে পাই।

১৯৭০ সালের ৩০ মার্চ, নির্বাচনের ভিত্তি এবং নির্বািচত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পাকিস্তানের সংবিধান রচনার জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া আইনগত কাঠামো আদেশ জারি করেন।

১৯৭০ সালের ১ অক্টোবর, জয়দেবপুর বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট স্থাপিত হয়।

১৯৭০ সালের ৮ নভেম্বর, ইনস্টিটিউশন অব ডিপেস্নামা ইঞ্জিনীয়ার্স, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে প্রবাল ঘুর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসে দশ থেকে পনের লাখ মানুষ প্রাণ হারায়।

১৯৭০ সালের ১৩ নভেম্বর, ঘুর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে পূর্ব পকিস্তানে পাঁচ লাখ লোকের প্রাণহানি ঘটে।

১৯৭০ সালের ২৫ নভেম্বর, মওলানা ভাসানী প্রথম 'স্বাধীন পূর্ব-পাকিস্তান' ঘোষণা করেছিলেন।

১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর, পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের এবং ১৭ ডিসেম্বর, প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের ঘোষণানুযায়ী। এ নির্বাচনে ৩১৩টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ কয়টি আসন পায় ১৬৭টি। সামুদ্রিক ঝড় ও জলোচছাসের কারণে ১৯৭১ সালের ১৭ জানুয়ারি, প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৭১ সালের ৯ জানুয়ারি, মওলানা ভাসানীর আহবানে স্বাধীনতা সংগ্রামের পন্থা ও কর্মসূচী নির্ধারণের জন্য টাঙ্গাইলের সন্তোষে সর্বদলীয় সম্মেলন এবং লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৫-দফা কর্মসূচী ঘোষণা।

১৯৭১ সালের ১ মার্চ, স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।

১৯৭১ সালের ১ মার্চ, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ৩ মার্চ অনুষ্ঠেয় পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন।

১৯৭১ সালের ১ মার্চ, বডি বিল্ডার খসরু ভাই পাকিস্তানের পতাকাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগ থেকে নিয়ে সহিদ মিনারে পতাকাটি পুড়ানো হয়।

১৯৭১ সালের ২ মার্চ, ১৯৭১ সালের এ দিনে ১৯৬২ সালে স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াসের প্রতিষ্ঠাতা, স্বাধীনতার রূপকার সিরাজুল আলম খানের অনুপ্রেরণায় তৎকালীন ডাকসুর সহ-সভাপতি আ. স. ম. আব্দুর রব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলন করেন।

১৯৭১ সালের ২ মার্চ, তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের দৃশ্যপট বদলে যায়।

১৯৭১ সালের ৩ মার্চ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে অসহযোগ আন্দোলন শুরু।

১৯৭১ সালের ৪ মার্চ, সারা বাংলায় সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়।

১৯৭১ সালের ৫ মার্চ, গণপ্রতিরোধের মুখে সেনাবাহিনীকে রাজপথ থেকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া হয়।

১৯৭১ সালের ৬ মার্চ, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহবান করেন। অপর এক ঘোষণায় তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের গভর্ণর হিসেবে জেনারেল টিক্কা খানকে নিয়োগের কথা জানান। কেন্দ্রীয় কারাগার ভেঙ্গে বেরিয়ে আসে ৩০০ জন বন্দি। কারা বিদ্রোহ ঠেকাতে পুলিশ গুলি ছুড়লে ৭ জন বন্দি নিহত হয়।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ, ''রেসকোর্স ময়দানে'' বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণটি দেন।

১৯৭১ সালের ৮ মার্চ, দেশব্যাপী আইন অমান্য আন্দোলন শুরু হয়। বাংলার গভর্ণর হিসেবে কুখ্যাত টিক্কা খাঁন তার কাজ শুরু করেন।

১৯৭১ সালের ৯ মার্চ, জেনারেল টিক্কা খানকে পূর্ব-পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করাতে প্রাদেশিক প্রধান বিচারপতির অস্বীকৃতি।

১৯৭১ সালের ১০ মার্চ, লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান পূর্ব-পাকিস্তানের গভর্ণর হিসেবে দ্বিতীয় বারের মতো শপথ নিতে ব্যর্থ হন।

১৯৭১ সালের ১৩ মার্চ, শিল্পচার্য জয়নুল আবেদিনের নেতৃত্বে স্বাধীনতা পস্ন্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষুদ্ধ শিল্পী সমাজের প্রথম মিছিল।

১৯৭১ সালের ১৩ মার্চ, এক সামরিক আইন আদেশ বলে পূর্ব-পাকিস্তানের সকল সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে নিজ নিজ কাজে যোগদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

১৯৭১ সালের ১৪ মার্চ, করাচীর বিশাল সমাবেশে জুলফিকার আলী ভুট্টো পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানকে দু'টি পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবী উত্থাপন করেন।

১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ, জয়দেবপুরের ঘটনাই ছিল প্রথম বিদ্রোহ। ১৮৫৭ সালের পর ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চের মতো ঘটনার নজির বিরল। এটাই ছিল প্রথম বিদ্রোহ। সেনার বিরুদ্ধে জনতার এ বিদ্রোহ একটি বড় ঘটনা। কিন্তু এ নিয়ে খুব প্রচার নেই।

১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ, ঢাকায় জয়দেবপুরে সেনাবিদ্রোহ।

১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ, তৎকালীন 'পূর্ব-পাকিস্তান' অঘোষিতভাবে স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশে পরিণত হয়েছিল। পাকিস্তানের প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে পালিত ২৩ মার্চেক প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করার ডাক দিয়েছিল স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। ২৩ মার্চ ছিল পাকিস্তান দিবস হিসেবে পালন করার দিন। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ, সেই ইতিহাস বদলে গেল। ঘরে ঘরে উড়ছে বাংলাদেশের পতাকা। ঢাকার পল্টন ময়দানে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে মার্চ পাস্ট।

১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ, যশোর ইপিআর সদর দফতরে জোয়ানদের বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন।

১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষায় উন্মুখ ছাত্র-জনতার আন্দোলন চুড়ান্ত পর্যােয় উন্নীত হয়েছিল। আগের দিন দেশের সর্বত্র স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানোর খবর প্রকাশিত হয়েছিল সবক'টি দৈনিকে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আগে কোন বৃহৎ রাজনৈতিক দল স্বাধীনতার কথা চিন্তা করেছে বলে আমার জানা নেই। একমাত্র সিরাজ শিকদার তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন করার পক্ষে তত্ত্ব উপস্থাপন করে ছিলেন এবং সশস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছিলেন-আনোয়ার জাহিদ।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ, পূর্ব-পাকিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে তৎকালিন প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান। তিনি ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের হত্যাযজ্ঞকে 'সিলেকটিভ জেনোসাইড'বলে বর্ণনা করেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ, ''পুলিশের প্রথম প্রতিরোধ দিবস পালন''-৩৬ জনকে সংবর্ধনা।

।ঢাকা শহরের কিছু জানা তথ্য: আয়তন-৫০০ বর্গিকলোমিটার বা ৩১২.৫ বর্গমাইল-২০১৩ সালে বলেছিল: দ্বিগুণ হচ্ছে।

।দুই সিটি করপোরেশনের আয়তন-ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন-বর্তমান আয়তনঃ ছিল-৮২.৬৩৮ বর্গ কিলোমিটার এবং।

।হবে-১৬০.৭৬৮ বর্গ কিলোমিটার(প্রস্তাবিত নতুন এলাকা-(১) বেরাইদ (২) বাড্ডা (৩) ভাটারা (৪) সাতারকুল (৫)।

হরিরামপুর (৬) উত্তরখান (৭) দক্ষিণখান (৮) ডুমনি ও (৯) খিলক্ষেতঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন-বর্তমান আয়তন:

।ছিল-৪৫ বর্গ কিলোমিটার হবে-১০৯.১৯ বর্গ কিলোমিটার (প্রস্তাবিত নতুন এলাকা-(১) শ্যামপুর (২) দনিয়া (৩)।

মাতুয়াইল (৪) সারুলিয়া (৫) ডেমরা (৬) মান্ডা (৭) দক্ষিণগাঁও ও (৮) নাসিরাবাদ(০৯-০৫-২০১৬ তারিখ প্রথম

।আলো)২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, নতুন নয়টি ইউনিয়ন উত্তর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যুক্ত হলে মোট।

জনসংখ্যা হবে-১ কোটি ৬ লাখ ২৬ হাজার ১৭ জনঅন্যদিকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে ৮টি ইউনিয়ন যুক্ত হওয়ার
পর জনসংখ্যা হবে-৭৫ লাখ ৫৮ হাজার ২৫ জন

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। শহর হিসেবে এর বয়স ৪০০ হলেও সেই সপ্তম শতাব্দী মানে ১৩০০ বছর আগেও কিন্তু এই জনপদটির অস্থিত্ব ছিল। তখন এ অঞ্চলটি ছিল কামরূপ নামের বৌদ্ধ রাজ্যের অধীনে। এ রাজ্যটি সেই সময় বিস্তৃত ছিল আসাম, উত্তরবঙ্গ, ঢাকা ও ময়মনসিংহ নিয়ে। পরবর্তীেত এখানে আসে পাল রাজবংশ। নবম শতাব্দীতে ঢাকা চলে যায় হিন্দু সেন রাজবংশের অধীনে। এ রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা হেমন্ত সেন পাল রাজবংশেরই অংশ ছিলেন। পাল রাজাদের দুর্বলতার সুযোগে তিনি ধীরে ধীরে ক্ষমতা দখল করেন। রাজা বল্লাল সেন ঢাকায় ১২০০ শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠা করেন ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী মন্দির, যা বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় মন্দির হিসেবে সুপরিচিত।

৯ম শতকের পূর্বে ঢাকাতে মানুষের বসবাস গড়ে উঠেনি।

ইতিহাসবিদদের চোখে-সেদিনের 'ডবাক'ই আজকের ঢাকা। বাসস: সাড়ে পাঁচশ' বছরের প্রাচীন জনপদ 'ঢাকা' আজ এক বিশাল নগরী। ধলেশ্বরী ও বুড়িগঙ্গা নদীর সঙ্গমস্থল থেকে ১৩-কিলোমিটার উত্তরে বুড়িগঙ্গার তীরে অবস্থিত এ মহানগরীর উত্থানের পেছনেও রয়েছে বিস্তৃত ইতিহাস।

১২২০ সালের মধ্যে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী মন্দির। প্রায় ৮০০ বছর আগে রাজা বল্লাল সেন এ মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত করেন। এর বেশ কয়েক শ বছর পর রাজা মানসিংহ যখন ঢাকায় এসে ঘাঁটি স্থাপন করেন, তখন তিনি মন্দিরটি পুননির্মাণ ও অষ্টধাতুর দশভুজা বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত করেন। একই সঙ্গে এখানে চারটি শিবমন্দিরও প্রতিষ্ঠিত করেন। কালের আবর্তে মূল মন্দিরের স্থাপনা বিনষ্ট হয়। বর্তমান মন্দির নির্মিত হয় প্রায় ২৫০ বছর আগে, ব্রিটিশ শাসনামলে। পরবর্তীকালে ভাওয়ালের রাজপরিবার ঢাকেশ্বরী মন্দির আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ১৯০৮ সালে ২০ বিঘা জমি দেবোত্তর হিসেবে দান করে। ঢাকেশ্বরী মন্দির শুধু ঐতিহ্যবাহী মন্দিরই নয়, ধর্ম, সমাজ সচেতনতা, শিল্প ও সংস্কৃতিচর্চার কেন্দ্র হিসেবেও এটি কালের সীমানা অতিক্রম করেছে। এতক্ষণ গল্পোচ্ছলে এসব কথা জানালেন তপন ভট্টাচার্য।

১৪৩৩ সালে প্রথম ঢাকা মান্দা এলাকায় গণেসের ছেলে জালালউদ্দিন মোহাম্মদ শাহ-এর কর্মচারী শিকদার এ মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। এ মসজিদটি ঢাকার প্রথম মসজিদ।

১৪৫৬ সালে ঢাকায় দ্বিতীয় মসজিদ প্রতিষ্ঠা হয় 'নারিন্দায় বিনাত বিবি মসজিদ''। তাঁর নাম মুসাম্মৎ বখত বিন। ১৪৫৬ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকার নারিন্দায় এ মসজিদটি মরহামত কন্যা নির্মাণ করেন। বিনাত বিবির মসজিদের আগে ঢাকায় কোন মসজিদ নির্মাণ করা হয়নি।

১৪৫৬ সালে নারিন্দায় বিনত বিবির মসজিদ নির্মােণর পূর্ব থেকেই মুসলমানরা ঢাকা নগরীতে বসতি স্থাপন করেন। যতীন্দ্রমোহন রায়ের লেখা 'ঢাকার ইতিহাস' বৃহত্তর ঢাকা জেলা গেজেটিয়ার থেকে জানা যায়, ঢাকা নগরীতে অন্তত ১৪৫৬ খ্রিষ্র্টােব্দর আগে থেকেই মুসলমানগণ বসতি স্থাপন করেছেন। ২০০৬ সালে ঢাকা সাড়ে ৫০০শ' বছরে পা দিয়েছে। মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময় ১৬০৫-২৭ ষষ্ঠ শিখগুরু হরগোবিন্দ সিং প্রেরিত শিখ পুরোহিত আলমাস্তের প্রচেষ্টায় এ উপাসনালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় বলে কথিত আছে। গুরু নানক প্রবর্তিত ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে ১৬৬৫ সালে ঢাকায় আসেন। তার আগে ১৪৯৯ সালে গুরু নানক নিজ ধর্মমত প্রচারের জন্য ফরিদপুর হয়ে ঢাকায় আসেন। ১৯১৫ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত শ্রীচন্দ্র জ্যোতি নামে এক শিখসাধু দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৭ সালের পর থেকে ষাট দশক পর্যন্ত উপাসনালয়টি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর সংস্কার করে এর বর্তমান রূপ দেয়া হয়। বর্তমানে ভাই পিয়ারা সিং প্রধান গ্রন্থির দায়িত্ব পালন করছেন। গুরুদুয়ারায় কারও প্রবেশে বাধা নেই, জাতি-ধর্ম-নির্বিেশষে সব বয়সী নারী ও পুরুষ এখানে প্রবেশ, প্রার্থনায় অংশগ্রহন এবং প্রসাদ পেতে পারেন।

১৬০৮ সালে ইসলাম খান চিশতী বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হন।

১৬১০ সালের ১৬ জুলাই, ইসলাম খাঁ র্কতৃক সোনারগাঁ থেকে রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তরিত। ১৬১০ সালে মুঘল সুবাদার ইসলাম খান চিশতী র্কতৃক ঢাকায় বাংলার রাজধানী স্থাপন এবং 'জাহাঙ্গীরনগর' নামকরণ। ঢাকা মোঘল রাজধানী ও বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে যাত্রা শুরু।

মোগল আমলে ঢাকাকে রাজধানীর মর্যাদা দেওয়ার কৃতিত্ব মোগলদের। সম্রাট জাহাঙ্গীরের সেনাপতি সুবাদার ইসলাম খান দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এখানে এসে রাজধানীর পত্তন করেছিলেন ১৬১০ সালে।

ওলন্দাজরা-ইউপোরে তখন ভারতের মসলা সোনার চেয়েও দামি। সেই মসলার জন্যই পর্তুিগজদের দেখানো জলরেখা ধরে ভারতে যে দ্বিতীয় ইউরোপীয়দের আগমন, তারা হলান্ডবাসী। ঢাকায় তাদের আগমনের তারিখও অজানা। তারা কুঠি স্থাপন করেছিল মিটফোর্ড হাসপাতালের কাছে, ১৬৬৩ সালে। তেঁজগাওয়ে তাদের একটি বাগানবাড়িও ছিল। ওলন্দাজরা ব্যবসা-বাণিজ্যে সফল হতে পারেনি। টেলর উল্লেখ করেন ১৭৮৩ সালে ঢাকায় ৩২টি ওলন্দাজ পরিবার ছিল। ইংরেজদের কাছে তারা সহায়-সম্পত্তি তুলে দিয়ে ঢাকার পাঠ চুকিয়ে ফেলেন। নারিন্দায় খ্রিষ্টান কবরস্থানে ১৭৭৫ সালের কুঠিপ্রধান ডি ল্যাংহিটের কবরটিই এখন ঢাকায় একমাত্র স্মৃতিচিহৃ হিসেবে টিকে আছে।

ফরাসিরা-ঢাকায় ফরাসিদের স্মৃতি বহন করছে পুরান ঢাকার ফরাসগঞ্জ এলাকাটি। ঢাকার নায়েম নাজিম নওয়াজিশ খান ১৭২৬ সালে ফরাসিদের গঞ্জ বসানোর অনুমতি দিলে তারা একটি আবাসন গড়ে তোলে ফ্রেঞ্চগঞ্জ নামে। পরে লোকমুখে এর নাম ফরাসগঞ্জ। তবে এর আগেই ফরাসিদের ঢাকায় আবির্ভাব। প্রধানত মসলিন বস্ত্রের ব্যবসা করত তারা। তবে তারা ইংরেজদের সঙ্গে পেরে ওঠেনি। পলাশীর যুদ্ধের পর এখান থেকে তল্পিতল্পা গুটিয়ে চলে যায়।

পর্তুিগজরা-ইউরোপীয়দের মধ্যে ঢাকায় প্রথম এসেছিল পর্তুিগজরা। ভারতে আসার জলপথ আবিস্কারের কৃতিত্ব তাদেরই। ভাস্কো-দা-গামা কালিকট বন্দরে তাঁর জাহাজ ভিড়িয়েছিলেন ১৪৯৮ সালে। উদ্দেশ্য, ভারতের মসলা হাসিল করা। সেই পথ ধরে পরে ইউরোপের আরও অনেকের আগমন। ১৮৩২ সালে ঢাকায় পর্তুিগজদের বাড়ি ছিল ৪১টি। ইসলামপুর, শরাফতগঞ্জ ও নবাবপুরে ছিল তাদের বসবাস ছিল।

ব্রিটিশরা ভারতে এসেছিল ১৬০০ সালে। ইংরেজ আমলে-ঢাকায় উপস্থিতি সম্ভবত ১৬৫৮ সালের দিকে বলেই ঐতিহাসিকরা মনে করেন। তাঁদের বাণিজ্যকুঠি স্থাপিত হয় শহরতলিতে, বর্তমানের তেজগাঁওয়ের খামারবাড়ি এলাকায়। টেলর উল্লেখ করেছেন, ঢাকায় প্রথম ১৬৬৬ সালে ইংরেজদের ফ্যাক্টরি স্থাপিত হয়েছিল। ব্রিটিশরা চেষ্টা করে সুবাদারের কাছাকাছি থাকতে। কয়েক বছরের মধ্যেই তারা বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে কুঠি স্থানান্তর করে এবং ১৬৭৮ সালে তাঁরা নবাবকে নানা উপঢৌকন দেয়ার মাধ্যমে বিনা শুল্কে বাণিজ্য করার অনুমতি লাভে সমর্থ হয়। এর পরের ইতিহাস তো সবারই জানা।

গ্রিকরা-লবণ ও পাটের কারবার করে বেশ টাকাকড়ি করেছিল গ্রিকরা। ঐতিহাসিকদের মতে, ইউরোপীয়দের মধ্যে তারাই ঢাকায় এসেছিল সবার পরে। জেমস টেলর উল্লেখ করেছেন, কলকাতার গ্রিক সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা আরগিরি ঢাকায় বসবাস করতেন এবং ১৭৭৭ সালে তিনি পরলোকগমন করেন। তাঁর পরে অনেকেই আসে। তবে ১৮৩২ সালে ঢাকায় ২১টি পরিবার ছিল। রেসকোর্সের পাশ্র্বে ছিল তাদের কবরস্থান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে একটি গ্রিক কবর তাদের স্মৃতিবাহী। ঢাকা ছাড়া নারায়নগঞ্জেও গ্রিকদের বস বাস ছিল। সেখানে ১৯৫৬ সালে র্যালি ব্রাদার্স নামের একটি পাটকল চালূ করেছিল র্যালি ভাইয়েরা।