১৮৫৯ সালের ঢাকা শহরের মানচিত্র রয়েছে জাতীয় আরকাইভসের প্রদর্শনী কক্ষে।

১৮৬০ সালে ঢাকায় প্রথম ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়।

১৮৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথমে ''কস্যচিৎ পথিকস্য'' ছদ্মনামে প্রকাশিত হয় ''নীলদর্পণ''।

১৮৬১ সালের দিকে থিয়েটার ঢাকার প্রথম থিয়েটার সম্ভত পূর্ববঙ্গ রঙ্গভূমি। প্রতিষ্ঠাকাল নিয়ে মতভেদ থাকলেও ধারণা করা হয় ১৮৬১ সাল। যাত্রাপালা সম্ভবত 'সীতার বনবাস' যাত্রাপালাটি ঢাকায় প্রদর্শিত প্রথম যাত্রা।

১৮৬১ সালের ৭ মার্চ, ঢাকা শহরের প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র 'ঢাকা প্রকাশ'-এর প্রকাশনা শুরু।

১৮৬৪ সালের ১ আগষ্ট, ঢাকা শহরকে পৌরসভা করা হয়।

১৮৬৪ সালে বুড়িগঙ্গার উত্তর পাশ দিয়ে একটি বাঁধ নির্মােণর উদ্যোগ নিয়েছিলেন ঢাকার কমিশনার সিটি বাকল্যান্ড।

১৮৬৯ সালের ২২ আগস্ট, বাংলাদেশ ব্রাহ্মসমাজের প্রতিষ্ঠাকালে পাটুয়াটুলীতে 'রামমোহন রায় পাঠাগার প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৭১ সালে পাঠাগার নতুন ভবনে স্থানান্তরিত হয়।

১৮৭১ সালে সাধারণ ঢাকাবাসীর চাঁদায় শহরে সর্বপ্রথম ১০০টি লাম্পপোস্ট আর তেলের বাতি চালু করা হয়।

১৮৭২ সালের ১৩ নভেম্বর, সাপ্তাহিক 'সমাজ দর্পন' প্রকাশিত হয়।

১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর ''নীলদর্পণ'' নাটক প্রযোজনা হয়।

১৮৭২ সালে ঢাকার নবাব বাড়ির ''আহসান মঞ্জিল'' তৈরী করা হয়।

১৮৭৩ সালে ব্রাহ্মসমাজের উদ্যেগে ফরাশগঞ্জের একটি বাইড়তে মাত্র দুজন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে ঢাকার প্রথম বালিকা বিদ্যালয়।

১৮৭৪ সালের দিকে বংশাল বড় মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন ঢাকার ধনাঢ্য চামড়া ব্যবসায়ী ও ওহাবি আন্দোলনের নেতা হাজি বদরুদ্দীন। তিনি স্থানীয়ভাবে ভুট্টো হাজি নামে পরিচিতি ছিলেন।

১৮৭৫ সালে মিটফোর্ড হাসপাতালে মেডিকেল স্কুল স্থাপিত।

১৮৭৬ সালে ঢাকায় প্রথম সার্ভে স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৭৭৮ সালে ঢাকার প্রথম নিযুক্ত হন মি. ডানকানসান।

১৮০৩ সালে ঢাকার প্রথম হাসপাতাল কলকাতার দেশীয় হাসপাতালের শাখা হিসেবে ১৮০৩ সালে প্রথম হাসপাতাল স্থাপিত হয়।

১৮৬০ সালে আজিমপুর কবরস্থানে প্রথম কবর দেয়া হয়। আজীমপুর কবরস্থানের জমির পরিমাণ ৩৬ একর বা ১২০ বিঘা। একটা কবর ১৮৮৯ সালে, বাংলা-১২৯৬ সালে।

১৮৬৪ সালের আগস্ট মাসে, ঢাকায় প্রথম পৌরসভা প্রতিষ্ঠি হয়।

১৮৮০ সালের পূর্বে ঢাকা শহরে ঘোড়ারগাড়ী ছিলা না।

১৮৮১ সালের জানুয়ারি, ঢাকার প্রথম বিজ্ঞান পত্রিকা ভিষক প্রকাশিত হয়।

১৮৮২ সালে ঢাকার পুরনো নাখাসে মিউনিসিপিলিটির তত্ত্বাবধানে প্রথম কবরস্থান স্থাপন করা হয়। আদি ঢাকায় যত্রতত্র কবর দেওয়ার রেওয়াজ ছিল।

১৮৮৩ সালে ঢাকায় মুসলমান সুহৃদয় সমিতি গঠিত হয়।-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন ঢাকা কলেজের আবদুল মজিদ। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হতো বাংলা উর্দুেত। লেখক জানিয়েছেন, প্রথমে শহর ঢাকা, কলকাতা, বরিশাল, নোয়াখালী, ময়মনসিংহ থেকে ৩২ জন পরীক্ষা দিয়েছিলেন। ১৯০৫ সালে মোহামেডান প্রভিন্সিয়াল ইউনিয়ন গঠিত হলে সুহৃদয় সম্মিলনীয় বিলুপ্তি ঘটে। ১৯২৯ সালে ঢাকায় নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র 'দি লাস্ট কিস'-এর নির্মাণ, এর নায়ক চিত্রগ্রাহক খাজা আজমল ও নায়িকা লোলিটা ওরপে বাদামতলীর বুড়িকে নিয়ে আলোচনা চলচ্চিত্রমোদীদের কৌতূহল মেটাবে। ১৮৮৫-১৯২৩ সাল পর্যন্ত ঢাকার প্রথম মুসলমান মহিলা শিল্পী নবাব আহসানউল্লাহর কন্যা মেহেরবানু খানমের নাম আজকজন মনে রেখেছে? তাঁর আঁকা একটি ছবি ১৯২০ সালে মোসলেম ভারত পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল।

১৮৮৫ সালে ঢাকা কোর্টের জন্ম।

১৮৮৯ সালে একটা কবর আছে ইংরেজী এবং বাংলা সন লেখা আছে-১২৯৬ সাল। আজিমপুর কবরস্থানের জন্ম সাল কবে কেউ বলে বিট্রিশ আমলে আবার কেউ বলে পাকিস্তানের আমলে আবার রেকর্ডপত্রে দেখা যায় ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ''আজিমপুর কবরস্থান''।

১৮৯০ সালে তৎকালীন বৃটিশ সরকার প্রথম ঢাকা নগরীর আধুনিক অভিজাত আবাসিক এলাকা ওয়ারীকে গঠন করে।

১৮৯২ সালের ১৬ মার্চ, ঢাকায় তথা বাংলাদেশে যিনি প্রথম আকাশ জয় করেছিলেন, তিনি একজন আমেরিকান নারী, যাঁর নাম জিনেট ভানতাসেল। বিষয়টি আমরা জানতে পারি সিলেটের বিখ্যাত হাসন রাজার ছেলে গনিউর রাজার ডায়েরি থেকে। তিনি সে সময় ঢাকায় ছিলেন ও ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছিলেন। ১৯৮৯ সালে ঘটনাক্রমে একটি পুরোনো আলোকচিত্র পাওয়ার কারণে ঢাকায় যে এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল, সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। জিনেট ভানতাসেল ও তাঁর স্বামী পি.এ. ভানতাসেলকে কলকাতা থেকে ঢাকায় এসে বেলুনে চড়ার জন্য নবাব আহসানউল্লাহ চুক্তিবদ্ধ করেন। ১৮৯২ সালের ১০ মার্চ তাঁরা ঢাকায় আসেন এবং ১৬ মার্চ জিনেট বেলুনে করে বিকেলে বুড়িগঙ্গার ওপার থেকে আকাশে উড়েন এবং কথা ছিল বেলুন ছয় হাজার ফুটের ওপরে ওঠারপর প্যারাসুট নিয়ে ঝাঁপ দেবেন নবাববাড়ির ছাদে নামার উদ্দেশে। কিন্তু বাতাসের তীব্র বেগের কারণে বেলুন ভাসতে ভাসতে শাহবাগে নবাবের বাগানবাড়ির একটি ঝাউগাছে আটকে যায় এবং জিনেট ১৫ থেকে ২০ ফুট ওপরে প্যারাসুটের সঙ্গে ঝুলতে থাকেন। এ সময় ঢাকার এক ইংরেজ পুলিশ কর্মকর্তা তিনটি বাঁশ বেঁধে তার সাহায্যে জিনেটের নেমে আসার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু নিচে নেমে আসার সময় বাঁশের বাঁধন আলগা হয়ে গেলে জিনেট নিচে পড়ে আঘাত পান। প্রায় অচেতন জিনেট এরপর প্রচন্ড জ্বরে ভুগে ১৮ মার্চ দুপুর একটায় মৃত্যুবরণ করেন। বিকেল চারটায় জিনেটকে ঢাকার নারিন্দায় খ্রিষ্টান গোরস্থানে সমাহিত করা হয়। ঢাকার আকাশে বেলুনে উড্ডয়নের দু-একদিন আগে থেকেই ঢোল পিটিয়ে ঢাকাবাসীকে এ বিষয়ে ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। ঢাকার প্রথম আকাশচারী।

১৮৯৮ সালে প্রথম বায়োস্কোপ-নবাব আহসানউল্লাহ কলকাতা থেকে বায়োস্কোপ এনে পরিবার ও ঢাকাবাসীকে দেখানোর ব্যবস্থা করে।

১৯০১ সালের ৭ ডিসেম্বর, আহসান মঞ্জিলে জেনারেটর দ্বারা বিদ্যুতের বাতি জ্বালানো হয়।

১৯০২ সালে ইংরেজরা ঢাকায় প্রথম জগন্নাথ কলেজে সিনেমা দেখায়।

১৯০২ সালের ১০ এপ্রিল, সাপ্তাহিক বার্তাবহ পত্রিকায় প্রকাশিত এডুকেশন গেজেট রয়েছে জাতীয় আরকাইভসের প্রদর্শনী কক্ষে।

১৯০৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি, ভারতবর্ষের গভর্নর জেনারেল লর্ড কার্জন ঢাকায় 'কার্জন হলের' ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

১৯০৫ সালে লর্ড কার্জেনর নামে কার্জন হল তৈরী করা হয়।

১৯০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত গভর্নেমন্ট হাউস আজকের বঙ্গভবনে রুপান্তরিত হয়েছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সালে 'বঙ্গভবনের শতবর্ষ' গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে। ব্রিটিশরাজের অধীনে সদ্য সৃষ্ট পূর্ববাংলা ও আসাম প্রদেশের প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর স্যার ব্যামফিল্ড ফুলার নতুন প্রদেশের প্রথম শাসক হিসেবে তার দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করতে ঠিক এ হলে (বঙ্গভবন-দরবার হল) প্রবেশ করেন।

১৯০৫ সালে প্রথম বঙ্গ-ভঙ্গের সময় ঢাকাকে 'আসাম ও পূর্ববাংলার' রাজধানী করা হয়।

১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময় ঢাকার মধ্যবর্তী অঞ্চলে একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা পরবর্তী সময়ে নয়াবাজার হিসেবে পরিচিতি পায়।

১৯০৫ সালে ঢাকায় প্রভিন্সিয়াল মোহামেডান এসোসিয়েশন গঠিত হয়।

১৯০৫ সালে ঢাকায় প্রথম মোটরগাড়ি চালু করেন নবাব সলিমুল্লাহ।

১৯০৬ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় উর্দু সংবাদপত্র আল শাশরিক।

১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর, ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ'র প্রাসাদে মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনে "নিখিল ভারত মুসলিম লীগ'' প্রতিষ্ঠা করা হয়।

১৯০৬ সালে লায়ন থিয়েটার প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯২৭ সালের দিকে মির্জা আবদুল কাদের সরদার (জন্ম-০১-১১-১৮৮১ এবং মৃত্যু-২৭-০৮-১৯৬৩) লায়ন থিয়েটারের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় লায়ন সিনেমা হল। ১৯২৭ সালের শুরুতে এ হলে নির্বাক সিনেমা প্রর্দশন করা হতো। ১৯৩৩ সালে সবাক চলচ্চিত্র প্রর্দশন শুরু হয়। বর্তমান মালিক মির্জা আবদুল খালেক। লায়ন সিনেমা হল ভেঙ্গে এখন সুপার মার্কেট নির্মাণ করা হবে।

১৯০৯ সালে ঢাকায় সলিমুল্লাহ এতিমখানা প্রতিষ্ঠিত করা হয়।

১৯০৯ সালে ঢাকার ওয়ারীতে বলধা গার্ডেন প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯১০ সালে স্থাপিত হয় মুক্তাঙ্গনের উত্তর পাশে বিদেশিদের একটি সংগঠন ফ্রি ম্যাসন্স ক্লাব। স্থানীয়ভাবে তা ইহুদিদের ক্লাব হিসেবে পরিচিত।

১৯১০ সালে মালেকা খাতুন নবাবের বাগমিরপুর এলাকায় সুন্দর একটি মসজিদ নির্মাণ করেন।

১৯১০ সালে ১৬ নম্বর নবাবপুর রোডে আর সি দাস অ্যান্ড সন্স নামে ঢাকায় প্রথম ফটোগ্রাফিক স্টুডিও প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯১১ সালের ১৯ আগষ্ট, ঢাকা ক্লাব প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর, বঙ্গ-ভঙ্গ রদ করা হয়। ঢাকা থেকে রাজধানী বাতিল করা হয়।

১৯১৩ সালে ঢাকা যাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়।

১৯১৩ সালে ঢাকায় প্রথম পাবলিক মার্কেট স্থাপন করেন।

১৯১৪ সালে সিনেমা হল ঢাকার পিকচার হাউস নাট্যমঞ্চটি (শাবিস্তান হল) সিনেমা হলে রূপান্তরিত হয়।

১৯১৬ সালে ঢাকায় সর্বপ্রথম নওয়াব ইউসুফ-এর প্রচেষ্টায় পাবলিক মার্কেট নির্মাণ করা হয়। নওয়াব ইফসুফ ছিলেন ঢাকা পৌরসভার চেয়ারম্যান। নয়াবাজারে নওয়াব ইউসুফ রোড নামে একটি সড়ক রয়েছে।

১৯১৮ সালে মুনশি লাল মিয়া প্রতিষ্ঠা করেন গাবতলী গবাদিপশুর হাট। ১৯৩১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মুনশি লাল মিয়া ওয়াকফ এস্টেট। এ এস্টেটের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল গবাদিপশুর হাট। ১৯৭৩ সালে হাটটি সরকার জাতীয়করণ করে। তখন থেকে প্রতিদিন হাট বসতে শুরু করে। ১৯৭৩ সালে এ হাট পরিচালনার ভার পায় মিরপুর ইউনিয়ন। ১৯৭৬ সালে মিরপুরকে পৌরসভা ঘোষণা করা হয়। ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত মিরপুর পৌরসভার আওতায় পরিচালিত হয় হাটটি। ১৯৮৬ সালে ডিসিসির উদ্যোগে বর্তমান জায়গায় গবাদিপশুর হাটের কার্যক্রম শুরু হয়। এ হাট ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে। প্রতিদিন গবাদিপশু বিক্রি হয়, এমন হাট দেশে আরেকটা আছে চট্টগ্রামে। তবে গাবতলী হাট দেশের গবাদিপশুর সবচেয়ে বড় হাট।

১৯১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর, নির্বাচনে ঢাকায় প্রথম ব্যালট পেপার ব্যবহৃত হয়।

১৯২০ সালের ডিসেম্বর মাসে, আহসান মঞ্জিলে নবাব সলিমুল্লাহর জ্যেষ্ঠ খাজা হাবিবুল্লাহর উদ্যোগে ঢাকা খেলাফত কমিটির প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

১৯২১ সালের ১ জুলাই, ৩টি অনুষদ, ১২টি বিভাগ, ৬০ জন শিক্ষক, ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী এবং ৩টি আবাসিক হল নিয়ে "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়" প্রতিষ্ঠা করা হয়।

১৯২১ সালের সি.এস. রেকর্ড অনুযায়ী ২০০৬-এর রাজধানী শহরের ৩৫টি খালের উল্লেখ রয়েছে তা খুঁজে বের করতে হলে এখন সেটা দস্তুরমতো গবেষণা করেই দেখতে হবে।

১৯২৩ সালের ২৩ মার্চ, ঢাকায় প্রথম ডিপার্টেমন্টাল স্টোর খোলেন। ঢাকার নবাব পরিবারের খাজা নাজিমউদ্দিন ও খাজা শাহাবউদ্দিন।

১৯২৫ সালে ঢাকা ন্যাশনাল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়।

১৯২৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা আসেন।

১৯২৭ সালে কাজী নজরুল ইসলাম ঢাকা আসেন।

১৯২৮ সালে ঢাকা শহরের প্রথম আজাদ সিনেমা হলটি প্রতিষ্ঠা করেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার মুড়াপাড়ার বিখ্যাত জমিদার মুকুলচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। ঢাকা পিকচার্স প্যালেস নামেও তাঁর একটি চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠান ছিল। এ হলটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে।

১৯৩০ সালে ঢাকায় ঘোড়ার গাড়ী ছিল; রিক্সা ছিল না। গলির শেষ মাথায় লাগানো ছিল কেরোসিন বাতির ল্যাম্প পোষ্ট।

১৯৩১ সালে নির্মিত ঢাকার প্রথম পূণাঙ্গ নির্বাক চলচ্চিত্র দি লাস্ট কিস।

১৯৩৩ সালে প্রথম ঢাকায় সিনেমা হল তৈরী করা হয়।

১৯৩৫ সালে প্রথম মুড়াপাড়ার জমিদার ঢাকায় মটরগাড়ী আনে।

১৯৩৬ সালে 'নিখিল ভারত প্রগতি লেখক সঙ্গ' প্রতিষ্ঠার তিন বছর পর, ১৯৩৯ সালের ৭ ডিসেম্বর, ঢাকায় স্থাপিত হয় প্রগতি লেখক সঙ্গের শাখা।

১৯৩৬-৩৭ সালে ঢাকার মৌলভীবাজারের দুই ব্যক্তি ব্যবসায়িক উদ্দেশে কলকাতার চন্দননগর থেকে ১৮০/- টাকায় দুটি সাইকেল রিকশা আমদানি করেন।

১৯৩৮ সালে নুরবানু ঢাকার নিউইস্কাটন এলাকায় 'নিউইস্কাটন ছোট মসজিদ' নির্মাণ করেন।

১৯৩৮ সালে রাহেলা খাতুন দক্ষিণ শাহাজাহানপুর মসজিদ নির্মাণ করেন।

১৯৩৯ সালে(লেখা আছে ১৮৩৯ সাল পত্রিকায়) ঢাকা-আরিচা সড়ক প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এ প্রবেশদ্বারের যাত্রা শুরু হয়। ওই সময় তুরাগ নদীর ওপর তৈরি হয় লোহার ব্রিজ। যানবাহন চলাচল সহজ করার জন্য ১৩৮১ বঙ্গাব্দের ১ বৈশাখ চালু হয় বর্তমান পাকা সেতুটি, যা মিরপুর ব্রিজ নামে পরিচিতি। বিট্রিশ আমলেই যানবাহন রাখার কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয় গাবতলী এলাকা। ১৯৭৬ সালে মিরপুরকে পৌরসভা ঘোষণা করা হয়। পরে তা ডিসিসির আওতাভূক্ত হয়। ১৯৮৫ সালে ৫ একর যায়গা নিয়ে মিরপুর আন্তজেলা ও নগর বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়।

১৯৩৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর নাজিমউদ্দিন রোডে খান বাহাদুর নাজির উদ্দিন সাহেবের ভাড়া বাড়িতে দুটি স্টুডিও নিয়ে অল ইন্ডিয়া রেডিও "ঢাকা বেতার কেন্দ্র" প্রতিষ্ঠা করা হয়।

১৯৪৩ সালে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।

১৯৪৭ সালের পূর্ব পর্যন্ত ঢাকা ছিল একটি জেলা শহরই মাত্র।

১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট, পূর্ব-পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় স্থাপিত হয়।

১৯৪৭ সালে ঢাকা শহরে ৩০০শত টেলিফোন ছিল।

১৯৪৭ সালের পর সেই সব শহীদদের স্মরণে ওখানে নির্মিত হয় শহীদ স্মৃতিসৌধ ১৮৫৭-এর স্মরণে''। আজকের বাহাদুর শাহ পার্কের ঐ স্থানটি ছিলো আন্টাঘর ময়দান। ইংরেজ প্রশাসন পরে ভিক্টোরিয়া পার্ক নামকরণ করে।

১৯৪৭ সালে ঢাকায় লোকসংখ্যা ছিল ২ লাখ ৯৫ হাজার।

১৯৪৮ সালে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবীতে প্রথম হরতাল। হরতাল গুজরাতী শব্দ।

১৯৪৮ সালের ১ জুলাই, বেগম বদরুনন্নেসা সরকারী মহিলা মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৪৮ সালে প্রথম মুড়ির টিনমার্কা বাস চলাচল করে সদরঘাট থেকে চকবাজার হয়ে ফুলবাড়িয়া পর্যন্ত।

১৯৪৮ সালে ঢাকায় প্রথম ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থা করা হয়।

১৯৪৮ সালে ঢাকা ফ্লাইং ক্লাব (বেসামরিক পাইলট তৈরির) প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৪৯ সালের মার্চে, ঢাকার পল্টন ময়দানে পূর্ব-পাকিস্তান রেলওয়ে এমপ্লয়িজ লীগের এক অধিবেশন বসে।

১৯৪৮ সালের ৭ মে, 'ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, পাকিস্তান' নামে প্রতিষ্ঠানটির সৃষ্টি হয়।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন, ঢাকায় "রোজ গার্ডেেন" মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৪৯ সালের জুলাই, ঢাকা বারলাইব্রেরীতে এক ঘরোয়া সভায় ইত্তেফাক নামে সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশের কথা ঘোষণা দেন এবং ওই সভাতে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে চারশত টাকার একটি তহবিল গঠন করেন। তা দিয়ে ১৫ আগষ্ট, ইত্তেফাক-এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়। প্রথম অফিস ছিল ৭৭, মালিটোলায় এবং পরে ৯৪, নবাবপুর রোডের আওয়ামী মুসলিম লীগ কার্যালয়ে।

১৯৪৯ সালের ৩ নভেম্বর, ঢাকা 'নটর ডেম কলেজ' প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৫০ সালের ২ জুন, ঢাকায় 'দৈনিক সংবাদ'-এর প্রতিষ্ঠা।

১৯৫০ সালে ঢাকায় প্রথম সরকারীভাবে সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আজিমপুরে 'আজিমপুর সরকারী কোয়ার্টার' নির্মাণ করা হয়।

১৯৫০ সালে ঢাকা শহরের জনসংখ্যা ছিল তিন লাখ ১৭ হাজার। তখন জনসংখ্যায় বিশ্বের শহরগুলোর মধ্যে ঢাকা শহরের অবস্থান ছিল ২৪০তম। ২০১০ সালে ঢাকা শহরের জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ২৫ লাখ ১৯ হাজার এবং ঢাকা বিশ্বের নবম বৃহত্তম শহরের স্থান দখল করে। অর্থাৎ ৫০ বছরের ব্যবধানে ঢাকা জনসংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে ২৩১টি শহরকে অতিক্রম করেছে। বলা হচ্ছে বর্তমানে (২০১৪ সালে) ঢাকার জনসংখ্যা ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ২০২০ সালে জনসংখ্যা হবে ২ কোটি ৪০ লাখ।

১৯৫১ সালে ঢাকায় লোকসংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৯শ' ২৮ জন। (১৯৫১ সালে আয়তন ছিল-৬০ বর্গিকলোমিটার বা ৩৭.৫০ বর্গমাইল)।

১৯৫২ সালের ৩ জানুয়ারি, ঢাকায় এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয়।