২০০৩ সালের ২৫ জুনের ইত্তেফাক পত্রিকার রিপোর্টঃ ১০(দশ) কোটি টাকার ঊদ্র্ধের ঋণ খেলাপীর সংখ্যা ৩২৫ জন। তাদের কাছে মোট পাওনা ১০,১২৬(দশ হাজার একশত ছাব্বিশ) কোটি টাকা।
২০০২ সালের ১১ নভেম্বর, ব্যাংকারদের বৈঠক: ব্যাংক কর্মকর্তােদর জন্য ৩৮-দফা আচরণবিধি। মদ, জুয়া ও রেশ খেলতে পারবে না। মন্ত্রীসভার বৈঠক: সংশোধনী উত্থাপন করা হবে-ছয় বিভাগীয় সদরে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন। ক্ষমতা ছাড়ার পর জামানতবিহীন ঋণ প্রথা চালুর জন্য জেহাদ ঘোষণা করব: এম. সাইফুর রহমান-আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়ন হোমিওপ্যাথির বদলে এ্যালোপ্যাথিক এতে কাজ হচ্ছে।
২৮-০২-২০০৩ তারিখের ইত্তেফাক পত্রিকার রিপোর্ট অনুসারে: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসমূহ ৩৬৮টি শাখা লোকসানী। এরমধ্যে সোনালী ব্যাংকের-১০৪টি, জনতা ব্যাংকের-১১০টি, অগ্রণী ব্যাংকের ৯৫টি এবং রুপালী ব্যাংকের ৫৯টি শাখা লোকসানী।
২০০৩ সালের ২৫ জুলাই, ইত্তেফাক পত্রিকার সংবাদঃ হাজার হাজার কোটি টাকার ধনী ঋণখেলাপীদের দিকে নজর নেইঃ ১০(দশ) হাজার টাকার কৃষি ঋণ আদায়ে মামলা। তবে বড় বড় ঋণখেলাপীদের বিরুদ্ধে কোন মামলা হয়নি আজ পর্যন্ত। তাঁদের নিকট পাওনা ২৫(পঁচিশ) হাজার কোটি টাকা।
২০০৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর, ইত্তেফাক পত্রিকার সংবাদ: ১৬-১২-১৯৭১ থেকে ১৯-০৯-২০০৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশকে দাতাদেশ ও সংস্থাগুলো মোট ৫,২০৭ কোটি ১০ লক্ষ ডলার ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যবহার করতে পেরেছে ৪,০৪৬ কোটি ৪০ লক্ষ ডলার। বাংলাদেশ বিদেশী সাহায্যের ১,১৬০ কোটি ডলার ব্যবহার করতে পারেনি। কারণ হিসেবে বলেছে যে, সাহায্য ব্যবহার করতে না পারার অন্যতম কারণ হচ্ছে খরচের দক্ষতা কম থাকা। দাতাদের বিভিন্ন শর্ত পূরণ করতে না পারার কারণেও অনেক অনুদান ও ঋণ চলে গেছে। অনুদানের প্রতিশ্রুতি পায়-২,০৯৯ কোটি ৯০ লক্ষ ডলারের বেশী, হাতে পাওয়া গেছে-১,৮৪৫ কোটি ৮০ লক্ষ ডলার। ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছিল-২,৫৯৪ কোটি ৩০ লক্ষ ডলার এরমধ্যে পাওয়া গেছে-২,০৬৯ কোটি ৪০ লক্ষ ডলার।
২০০৪ সালের ৪ জানুয়ারি, গত ১(এক) বছরে বেসরকারী ব্যাংকগুলোর মুনাফা বেড়েছে ২২.৪০ শতাংশ। ২০০৩ সালে ৩০(ত্রিশ) ব্যাংকের ১,৭৪০ কোটি টাকা লাভ।
২০০৪ সালের ১৭ জানুয়ারি, ২(দুই) লক্ষ কোটি টাকার বিদেশী সাহায্যের অধিকাংশ কালো টাকায় পরিণতঃ রাজস্ব সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন। একই সাথে ব্যাংকিং খাতের ৩০ হাজার কোটি টাকার খেলাপী ঋণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশও কালো টাকার প্রবাহে মিশে গেছে।
২০০৪ সালের ২২ মার্চ, বাসস: জাপান সরকার বাংলাদেশের ৮ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা ঋণ মওকুফ করবে। এ ব্যাপারে (রবিবার) উভয় পক্ষের মধ্যে একটি নোট স্বাক্ষরিত হয়।
২০০৪ সালের ২৩ মার্চ, ইনকিলাব পত্রিকার রিপোর্ট অনুসারে: খেলাপী ঋণ পরিস্থিতির তাৎপর্যপূর্ণ উন্নতি: নীট শ্রেণীকৃত ঋণ ১৮.০৭ শতাংশ *কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি বৃদ্ধি।
২০০৪ সালের ১৮ মে, ইনকিলাব পত্রিকার রিপোর্ট: অর্থৈনতিক রিপোর্টারঃ বাংলাদেশ ব্যাংকের তাগিদ সত্ত্বেও ঋণের সুদের হার বরং কমছে না-২৪ শতাংশ পর্যন্ত সুদ নিচ্ছে কোন কোন ব্যাংক।
২০০৪ সালের ৬ জুলাই (ইনকিলাব) অর্থৈনতিক রিপোর্টার: অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান বড় বড় ঋণ খেলাপির বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ। এই কথার অর্থ ফাকা কথা।
২০০৫ সালের ১৫ মার্চ, সরকার ব্যাংক থেকে ৫,৮১৩ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে-সংসদে অর্থমন্ত্রী। ২০০০-২০০১ থেকে ২০০৫ সালের ২ মার্চ পর্যন্ত।
২০০৫ সালের ১৮ মে, সংসদ রিপোর্টার: সংসদে প্রশ্নোত্তরকালে অর্থমন্ত্রী মোঃ সাইফুর রহমান বলেন-কিছু এনজিও দরিদ্রদের শোষণ করছে এবং দেশে খেলাপী ঋণের পরিমাণ-৩০(ত্রিশ হাজার) কোটি টাকা। ২০০৩-২০০৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৩ হাজার ৩০৪ কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করেছে। এরমধ্যে আসলের পরিমাণ ২ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা এবং সুদের পরিমাণ ৯৬০ কোটি টাকা।
২০০৫ সালের ৩১ মে, প্রথম আলোর সংবাদ-বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. সালেউদ্দিন আহমেদ মতবিনিময় সভায় বলেন, ২০০৪ সালের মার্চ শেষে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের নেওয়া ঋণ ছিল-২৬,৬৮১ কোটি ১০ লাখ টাকা। কিন্তু ২০০৫ সালের মার্চ, শেষে তা এসে দাড়িয়েছে-৩০,৬৩৫ কোটি টাকা। সরকারের ঋণ ও মূল্যস্ফীতি বাড়ছে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নর।
২০০৫ সালের ৩১ মে, প্রথম আলোর সংবাদ-বেসরকারী ৩০ ব্যাংকের মধ্যে ২৮ ব্যাংকের উদ্বৃত্ত মূলধন রয়েছে।
২০০৫ সালের ৩০ জুন, পর্যন্ত তথ্য প্রকাশ-২৮টি বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালনা মুনাফা-১,২৬৭(বারশত সাষট্রি) কোটি টাকা, প্রবৃদ্ধির হার ৩৫.৪০ শতাংশ।
২০০৫ সালের ৬ আগষ্ট, ইনকিলাব পত্রিকার জাকারিয়া কাজল: মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ ভাটার আশংকা। ঋণনির্ভর হয়ে পড়ছে সরকার। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে এ পর্যন্ত ঋণ নিয়েছে ২৫ হাজার ৪শ' কোটি টাকা। এ প্রবণতায় মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি ও বেসরকারী বিনিয়োগ ভাটা-দুই আশংকাই প্রবল হচ্ছে।
২০০৫ সালের ১৪ আগষ্ট, সরকারের ব্যাংক ঋণ ৪৫-হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
২০০৫ সালের ৮ ডিসেম্বর, জাকারিয়া কাজল: অর্ধশত আবেদন: রাজনৈতিক চাপ। নয়া ব্যাংকের অনুমোদন হলে অর্থনীতির জন্য আত্মঘাতী। এরশাদ সরকারের আমলে ৭টি, বিএনপি সরকারের আমলে ৭টি এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১২টি নতুন ব্যাংকের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। তবে এবার বাস্তবতা বিবেচনায় নতুন ব্যাংকের অনুমতি না দেয়ার পক্ষে সংশিস্নষ্ট কর্তৃপক্ষ।
২০০৬ সালের ৩০ জানুয়ারি, সংসদ রিপোর্টার: কৃষি ও শিল্প খাতে অনাদায়ী ঋণ প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। সংসদে প্রশ্নোত্তরে অর্থ প্রতিমন্ত্রী।
২০০৬ সালের ২০ মার্চ, সাজ্জাদ আলম খান: নগদ সহায়তার অর্থ লোপাট: ৪৩টি ব্যাংকে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়। ১৩টি ব্যাংক এনবিআরের কাছে তথ্য পাঠিয়েছে। তথ্য দিতে ৩০ ব্যাংকের গড়িমসিতে ক্ষুব্ধ এনবিআর।
২০০৬ সালের ২৩ এপ্রিল, মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম: দেশে ১৮ হাজার ৭২৬ কোটি টাকার খেলাপী ঋণ। অচিরেই মাস্টার সার্কুলার জারি হচ্ছে।
২০০৬ সালের ২২ আগষ্ট, প্রেস বিজ্ঞপ্তি: বাংলাদেশ ব্যাংক মুনাফা করেছে ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরের ২০ আগষ্ট পর্যন্ত-২,২৯০.৭২ কোটি টাকা।
২০০৬ সালের ২৫ আগষ্ট, অর্থৈনতিক রিপোর্টার: বিএফটিআইর গোলটেবিলে বাণিজ্য বিশেষজ্ঞগণ। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে দরিদ্র দেশে পরিণত করেছে। বিশ্বব্যাংকের কারণে গত ৩০ বছরে বিশ্বে দরিদ্র দেশের (এলডিসি) সংখ্যা ২৬টি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৫০টিতে উন্নীত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে বিশ্বব্যাংকের প্রভাব ও কর্তৃত্ব এভাবে চলতে থাকলে আগামী ৫০ বছরে দরিদ্র দেশের সংখ্যা হবে ১০০টি।
২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, দারির্দয বৃদ্ধির জন্য দায়ী বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-এর ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আসন্ন সিঙ্গাপুর সম্মেলনকে সামনে রেখে গত ০৪-০৯-২০০৬ তারিখ এক সেমিনারে বক্তারা দারির্দয বিমোচনে এ দু'টি আন্তর্জািতক অর্থৈনতিক সংস্থার ভূমিকা ও কর্মকান্ডের কঠোর সমালোচনা করেন।
২০০৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর, স্টাফ রিপোর্টার: সেমিনারে অভিমত-বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ ধনীদের স্বার্থ রক্ষা করে। স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অসম চুক্তি স্বাক্ষরে চাপ দিচ্ছে।
২০০৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর, বাংলাদেশে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১৩,৫০০/- টাকা।
২০০৬ সালের ২৩ আগষ্ট, অর্থৈনতিক রিপোর্টারঃ এফবিসিসিআই-স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড এসএমই পুরস্কার ঘোষণা। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে এনজিওরা নিচ্ছে ৩৫% সুদ বাণিজ্যিক ব্যাংক ১৬% সুদ নিচ্ছে।
২০০৬ সালের ১২ ডিসেম্বর, শেখ আবদুল্লাহ: খেলাপী ঋণ আদায়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দিকনির্দেশনা। সারাদেশে ১,২৮০ জন শীর্ষ ঋণ খেলাপীকে চিহ্নিত করা হবে।
২০০৭ সালের ২০ এপ্রিল, ইনকিলাব-শেখ আবদল্লাহ: বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, ৪৮টি ব্যাংকের সর্বেশষ ঘোষিত সুদ হার পর্যােলাচনা করে দেখা গেছে- ব্যাংকগুলোতে আমানতের সুদের হার কমছে: বাড়ছে ঋণের সুদ।
২০০৭ সালের ২১ নভেম্বর, মনজুর আহমদ: গত নয় মাসে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ তিন হাজার কোটি টাকা বেড়ে, ঋণ খেলাপির পরিমাণ ২৩,২৫৪ কোটি টাকা, শতকরা ১৪.০৪ ভাগ।
২০০৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি, বিশেষ প্রতিনিধি: ২০০৬ সাল শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২০ হাজার ৯৮ কোটি ১১ লাখ টাকা। যা সেই সময় পর্যন্ত বিতরণ করা এক লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকার ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশ ছিল। গত এক বছরে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা। মোট পরিমাণ ২২,৬২৪ কোটি টাকা, শতকরা হারে ১৩.২৩ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরী সর্বেশষ খেলাপি ঋণ ও নিরাপত্তা সঞ্চিত সংরক্ষণসংক্রান্ত ডিসেম্বর-২০০৭ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ রয়েছে ২২,৬২৪ কোটি ৯ লাখ টাকা। যা ওই সময় পর্যন্ত বিতরণ করা এক লাখ ৭১ হাজার ৪৪ কোটি ৯০ লাখ টাকার ১৩ দশমিক ২৩ শতাংশ। তবে অবলোপন করা ঋণের স্থিতি যোগ করলে ব্যাংকিং খাতে প্রকৃত খেলাপি ঋণ হতো ৩৫ হাজার ৪১ কোটি ৬২ লাখ টাকা, যা গত ডিসেম্বর(২০০৭) পর্যন্ত বিতরণ করা এক লাখ ৭১ হাজার ৪৪ কোটি ৯০ লাখ টাকার ২০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মইনুল আরও বলেন, বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকা হবে। হিসাব কষে তিনি দেখান, অবলোপন করা ১২ হাজার কোটি টাকার ওপর সুদ আয়কে হিসাবে নেওয়া হচ্ছে না। এ সুদ আয়কে ধরলে মোট খেলাপি ঋণ ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের বাংলার অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক আশির দশকের শেষভাগে এসে লিখেছিলেন, 'ধনিকগোষ্ঠির লুটপাটের কাহিনী'। এ বইয়ে আরও অনেক তথ্য-উপাত্তের সঙ্গে কিছু তারকা খেলাপিদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এদের অনেকেই আবার আশির দশকে এসে বেসরকারি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েই তখন অনেকে ব্যাংক স্থাপন করেছেন বলে ধনিকগোষ্ঠির লুটপাটের কাহিনীতে বলা হয়। সে সময়কার খেলাপিদের অনেকে এখনো খেলাপি। অবলোপনের সুযোগ দেওয়ার আগ পর্যন্ত দেশে খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩০ শতাংশের বেশি। এর মধ্যে ২০০২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ৪৪৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা। সে সময় ঋণ বিতরণ ছিল ৭৯ হাজার ৭৬৪ কোটি ৭০ লাখ টাকার মধ্যে ৩১ দশমিক ৯০ শতাংশ ঋণই ছিল খেলাপি। তবে শতকরা হার বিবেচনায় দেশের ব্যাংক খাতে সর্বোচ্চ খেলাপি হয় ১৯৯৯ সালের ৩০ জুন। এ সময় ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার দাড়ায় ৪৩ দশমিক ৭ শতাংশ। আর পরিমাণে তা ছিল ১৯ হাজার ৭৩৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এ সময় বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ৫৫ হাজার ৫১ কোটি ৬ লাখ টাকা। তবে বিশ্বব্যাপী হিসাববিজ্ঞানে অবলোপনকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আর তার জন্য গ্রাহক নিস্কৃতি পান না বা মুক্ত হন না। বাংলাদেশেও খেলাপি ঋণ অবলোপন গ্রাহক মুক্তি পান না। কিন্তু উন্নত দেশগুলোতে খেলাপি ঋণের জন্য গ্রাহককে দেউলিয়া করা হয়। তবে সম্পদ নিলামে তোলা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এমন ঘটনা বিরল। ১৯৯৭ সালে দেশে দেউলিয়া আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু তার অগ্রগতি তেমন হয়নি।
২০০৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো-মনজুর আহমদঃ বছরের পর বছর শীর্ষ ঋণখেলাপির তালিকায় তারা। বেক্সিমকোর তিন কোম্পানির খেলাপি ঋণই ৩২১ কোটি টাকা। সালমান এফ রহমান এখন কারাগারে আটক এবং সোহেল এফ রহমান বিদেশে পলাতক। তাঁদের বেক্সিমকো গ্রুপ গোটা বিশেক কোম্পানি ব্যাংকিং খাত থেকে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংকে বেক্সিমকোর আরও একাধিক প্রতিষ্ঠান খেলাপি হয়ে আছে। এ নিয়ে বেক্সিমকোর কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কোম্পানির অন্যতম পরিচালক ও কে চৌধুরীও দেশে নেই। বেক্সিমকোর গণযোগাযোগের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলেও মতামত পাওয়া যায়নি। ২০০৭ সালের বাংলাদেশ ব্যাংকের মার্চিভত্তিক এক প্রতিবেদনে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
২০০৮ সালের ২২ মে, ব্যাংক খাতে তিন মাসে খেলাপি ঋণ ১,২০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। মোট ঋণের পরিমাণ ২৩,৮৩৮ কোটি টাকা, শতকরা হারে বৃদ্ধি পেয়েছে ১৩.১৫। সূত্রঃ বাংলাদেশ ব্যাংক।
২০০৮ সালের ১৮ নভেম্বর, দেশের ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৪ কোটি ৯০ লাখ টাকার ঋণের মধ্যে ১৩.২৩ শতাংশ খেলাপি ঋণ। আবার আরও বেড়েছে খেলাপি ঋণ।
২০০৮ সালের ২৪ নভেম্বর, বিদেশি সাহায্য বা ঋণ বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত পেয়েছে সাড়ে চার হাজার কোটি ডলার। তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮০ সালে বাংলাদেশের মোট ঋণ ছিল ৩৪০ কোটি ডলার। ১৯৯০ সালে সেটি হয় ১০৬ কোটি ডলার, ১৯৯৭ সালে ১৫০ কোটি ডলার এবং ২০০৬ সালে দাঁড়িয়েছে ১৮৯ কোটি ডলার।
২০০৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো: রাষ্ট্রের মালিকানাধীন ব্যাংকে খেলাপি ঋণ পরিস্থিতির খানিকটা উন্নতি। মোট পরিমাণে ২২,৪৮১ কোটি টাকা, শতকরা হারে ১০.৭৯%।
২০০৯ সালের ৩০ মার্চ, প্রথম আলো: ৩১-১২-২০০৮ সালে সব ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ ছিল ২,২৯,০০০ কোটি টাকা। সেখান থেকে ব্যাংক ৮২ শতাংশ হারে ঋণ দিতে পারত ১,৮৮,০০০ কোটি টাকা। সেখানে ঋণ দাঁড়িয়েছে আমানতের ৯১ শতাংশ, যা ২,০৮,০০০ কোটি টাকা। স্বধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ অবলোপন করা হয়েছে। এ অবলোপনের ফলে খেলাপি ঋণের হার কমলেও তা প্রকৃত অর্থে কোনো সাফল্য বয়ে আনে না।
২০০৯ সালের ৮ এপ্রিল, প্রথম আলো: কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণের সুদ সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশে নির্ধারণ করে দিল। ব্যাংকার্স বৈঠক। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতেও ২১ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে। ২৪-০৪-২০০৯ তারিখ প্রথম আলো: আমানতের সুদের হার কমল, সর্বোচ্চ ১০ শতাংশে র্নিধারণ।
২০০৯ সালের ১৭ জুন, প্রথম আলো: ২০১২ সালের মধ্যে বিদেশি ঋণ জিডিপির সাড়ে ২১ শতাংশে নামানোর পরিকল্পনা। বর্তমানে ২৪.৭০ শতাংশ।
২০০৯ সালের ৬ জুলাই, প্রথম আলো: ঋণখেলাপির সংখ্যা দুই হাজার ১৯৬ জন, ব্যাংকের পাওনা ১৫ হাজার ৪৫১ কোটি দুই লাখ টাকা। এ টাকার মধ্যে আসল টাকা হলো ৫ হাজার কোটি টাকা। সংসদে তালিকা: শীর্ষ ১০ খেলাপি। (১) বেক্সিমকো টেক্সটাইলস লি. (২) পদ্মা টেক্সটাইল মিলস লি. (৩) বিজেএমসি (৪) বিটিএমসি (৫) এসডিএস ইন্টারন্যাশনাল লি. (৬) সাইনপুকুর হোল্ডিংস লি. (৭) মাগুরা পেপার মিলস লি. (৮) আদমজী জুট মিলস লি. (৯) ফেয়ার এক্সপো ওয়েভিং মিলস ও (১০) বেক্সিমকো নিটিং লি.। বেক্সিমকোর খেলাপি ঋণ প্রায় হাজার কোটি টাকা। এছাড়া মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ হলো ৩৮ হাজার কোটি টাকা।
২০০৯ সালের ১৪ জুলাই, প্রথম আলো: ১০ মাসে দেশে মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ। ২০০৮ সালের জুন শেষে মুদ্রা সরবরাহের মোট স্থিতি ছিল ২,৪৮,৭৯৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায় যে ২০০৯ সালের এপ্রিল শেষে মুদ্রা সরবরাহের মোট স্থিতি দাঁড়িয়েছে ২,৮১,৯০১ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
২০০৯ সালের ৩০ অক্টোবর, প্রথম আলো: আট বছরে ৩,৬৪৪ কোটি টাকার সুদ মওকুফ। বিএনপি-আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরাও এ সুবিধা নিয়েছেন।
২০০৯ সালের ২২ নভেম্বর, প্রথম আলো: তিন মাসে দেশের বেসরকারি ব্যাংগুলোতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৪১৬ কোটি টাকা। মোট ২,৪২,৫১৭.২৪ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৩,৪০৯ কোটি টাকা, শতকরা হার ১০.৩৬।