২০১০ সালের ৮ নভেম্বর, প্রথম আলো: ঢাকায় বিএনপির চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া-জনসভায় ট্রানজিট ও ভারতের সঙ্গে করা ঋণচুক্তির সমালোচনা। দেশের বুকের ওপর দিয়ে বিদেশি গাড়ি চলবে না।

২০১০ সালের ১৪ নভেম্বর, প্রথম আলো: ৬ মঈনুল রোডের বাড়িটি ছাড়তে হলো খালেদাকে। হাইকোর্টের রায়ের পর ১৩ নভেম্বর, সামরিক ভূসম্পত্তি কর্তৃপক্ষ বাড়িটির দখল বুঝে নিয়েছে। শ্বাসরুদ্ধকর এক দিন। বিএনপির নেতা-কর্মীেদর বিক্ষোভ, ১৬ গাড়িতে আগুন, ৩০ গাড়ি ভাঙচুর, পুলিশের লাঠিপেটা, ২১ জন আটক, হরতালের ডাক, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ-উৎকন্ঠা।

২০১০ সালের ১৪ নভেম্বর, প্রথম আলো: গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে কেঁদে ফেলেন খালেদা জিয়া। ছবি: প্রথম আলো। সংবাদ ব্রিফিং: 'আমি অপমানিত, লাঞ্ছিত ও লজ্জিত বোধ করছি।

২০১০ সালের ১৫ নভেম্বর, প্রথম আলো: হরতালে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ। ভাঙচুর ও আগুন ৩০ গাড়ি। সারা দেশে আটক ২৮৬ জন। সারা দেশে আহত ১৮০ জন। হরতাল সফল বিএনপি। হরতাল প্রত্যাখ্যাত আওয়ামী লীগ।

২০১১ সালের ২০ অক্টোবর, প্রথম আলো: এরপর রোডমার্চ গ্রাম থেকে ঢাকায় আসবে: বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া।

২০১১ সালের ২০ অক্টোবর, দৈনিক জনকন্ঠ: পাটগ্রাম আর চাঁপাই থেকে-চাঁপাইয়ে বিশাল সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া-আরেকটি যুদ্ধ চাই।

২০১১ সালের ২৭ নভেম্বর, প্রথম আলো: তানবীর সোহাগ ও তৌহিদী হাসান, কুষ্টিয়া থেকে খুলনা অভিমুখে রোডমার্চ-দেশপ্রেমিক আওয়ামী লীগ নেতাদের দল ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন এবং বলেছেন আওয়ামী লীগ ছেড়ে আসুন, যোগ্য পদ দেব বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া।

২০১১ সালের ১২ ডিসেম্বর, আমাদের সময়: গুম হত্যার সঙ্গে সরকারই সরাসরি জড়িতঃ বিএনপি। গত ৩ বছরে গুপ্ত হত্যা হয়েছে ৪০টি।

২০১১ সালের ৯ ডিসেম্বর, প্রথম আলো: আন্তর্জািতক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। লিখিত বক্তব্যে ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ বিএনপির। যুদ্ধপরাধীদের বিচার করা যাবে না, এটা বলা হয়নি।

২০১১ সালের ১২ ডিসেম্বর, দৈনিক জনকন্ঠ: সরকার সবই তলে তলে ভারতের হাতে তুলে দিচ্ছে-বিবিসির সঙ্গে সাক্ষাতকারে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া।

২০১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর, দৈনিক জনকন্ঠ: সরকার সবকিছু ভিন দেশের হাতে তুলে দিচ্ছে।। বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। বিএনপি'র সংবর্ধনায় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি তাদের ট্রেনিং কাজে লাগানোর আহবান।

২০১১ সালের ২০ ডিসেম্বর, প্রথম আলো: রাজধানীতে গত রোববার চোরাগোপ্তা হামলা, ককটেলের বিস্ফোরণ, গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ১১টি মামলা করেছে পুলিশ সাত হাজারের বেশি আসামি। আসামিদের মধ্যে ১৩০ জনের সুনির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই বিএনপির নেতা-কর্মী। বাকি আসামিরা অজ্ঞাতনামা। আর মতিঝিলে ককটেল বিস্ফোরণে নিহত যুবকের বাবা একটি হত্যা মামলা করেছেন।

২০১২ সালের ৪ জানুয়ারি, প্রথম আলো: ভৈরব সেতু নির্মাণ-খালেদার বিরুদ্ধে দুর্নীিতর প্রমাণ পায়নি দুদক।

২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি, দৈনিক জনকন্ঠ: তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া নির্বাচন মানি না। খালেদা জিয়া। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম রোড মার্চে পথে পথে বড় বড় সমাবেশ।। মধ্যরাতে চট্টগ্রাম উপস্থিত।

২০১২ সালের ১০ জানুয়ারি, দৈনিক জনকন্ঠ: হাসিনার বিচার চাই-চট্টগ্রামের মহাসমাবেশে খালেদা জিয়ার ঘোষণা-অতীতের ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা চাই।

২০১২ সালের ৩ মার্চ, দৈনিক জনকন্ঠ পত্রিকার সংবাদ-খালেদা জিয়া ১২ মার্চ, সিরিজ কর্মসূচী ঘোষণা দেবেন-যদিও কর্মসূচী চুড়ান্ত হয়নি এখনও, চলছে মহাসমাবেশের ব্যাপক প্রস্ত্ততি।

২০১২ সালের ১৩ মে, দৈনিক জনকন্ঠ: আওয়ামী লীগ ৪২ বছরে আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না-কাপাসিয়ার জনসভায় খালেদা জিয়া।

২০১২ সালের ২১ মে, প্রথম আলো: হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দুর্নীিততে জড়িত বিচার হবে: বিরোদীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া।

২০১২ সালের ৬ আগস্ট, দৈনিক জনকন্ঠ: সাংবাদিকদের ইফতার পার্টি। প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব ক্ষমতায় থাকার ষড়যন্ত্র: খালেদা জিয়া।

২০১২ সালের ২৯ নভেম্বর, বাংলাদেশ প্রতিদিন: সরকার ইমার্জেিন্স দিলে কাল হবে-পল্টনের জনসভায় বেগম খালেদা জিয়া।

২০১৩ সালের ১৪ মার্চ, প্রথম আলোঃ নয়পল্টনের সমাবেশে খালেদা জিয়া-'গণহত্যার জন্য প্রধানমন্ত্রী দায়ী, বিচার হবে ট্রাইব্যুনালে।

২০১৩ সালের ১৭ মার্চ, প্রথম আলো: আন্দোলন করলে আরও কিছু প্রাণহানি হবে-মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে বিএনপির জনসভায় বেগম খালেদা জিয়া। খুনি সরকারের সঙ্গে কথা বলে কোনো লাভ হবে না। এই সরকারের পতন ছাড়া কোনো সমস্যার সমাধান হবে না।

২০১৪ সালের ২৪ অক্টোবর, প্রখম আলো : সেবার ঢাকা পারেনি এবার পারবে-নীলফামারীর জনসভায় খালেদা জিয়া।

২০১৫ সালের ২৫ জুন, প্রথম আলো : ইফতার অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া-যাঁরা ক্ষমতায় আছেন, সুইস ব্যাংকের টাকা তাঁদের।

২০১৫ সালের ৯ অক্টোবর, প্রথম আলো : ২১ হাজার মামলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় বিএনপি। খালেদা জিয়াসহ কেন্দ্রীয় ১৫৮ জন নেতার বিরুদ্ধে থাকা ৪ হাজার ৩৩১ মামলা। ২রা আগষ্ট, ২০১৫ তারিখ পর্যন্ত কেন্দ্রীয়সহ সারা দেশে দলের নেতা-কর্মীেদর বিরুদ্ধে ২১ হাজার ৬৮০টি মামলা হয়েছে। এতে আসামির সংখ্যা-৪ লাখ ৩ হাজার ৮৭৮ জন।

২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি, প্রথম আলো: রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সমন। ৩ মার্চ আদালতে হাজির হওয়ার আদেশ। গত পাঁচ বছরে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়েছে ৩৬টি। এর ১০টিই বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে।

অনেক জানার খবর ও জমি পুনঃউদ্ধার:

১৯৮২ সালের জাতীয় ওষধনীতি প্রণয়ন করা হয়। তখন দেশে কোনো স্বাস্থ্যনীতি ছিল না। ২০০৫ সালে দ্বিতীয় ওষধনীতি প্রণয়নের সময় এমন কোনো আদর্শিক অবস্থান ছিল না।

২০০০ সালের ১০ মে, ওষুধ-প্রশাসনের অনিয়ম সংক্রান্ত তদন্ত রিপোর্ট পেশ: ১৩৯টি বিদেশী ওষুধের মধ্যে ১৩৮টি বিধিবহির্ভুত।

২০০৪ সালের ১৫ জুলাই, নূরুল আলম শাহীন: ঢাকা মেডিকেলে বছরে ৩৫ লাখ রোগীর চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। ১৯৪৬ সালের ১০ জুলাই প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৭(সাত) হাজারেরও বেশী অভিজ্ঞ চিকিৎসক তৈরী করেছেন। হাসপাতাল বেডের সংখ্যা-১,৭০০।

২০০৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি, উমর ফারুক আলহাদী: অর্ধশতাধিক কারখানা ভেজাল নিম্নমানের ওষুধ তৈরী করছে। ৫৫ হাজারের বেশী ফার্মেসীর লাইসেন্স নেই।

২০০৬ সালের ৫ অক্টোবর, বাসস: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, দেশে চাহিদার ৯৬ শতাংশ ওষুধ দেশেই উৎপাদন হয়।

২০০৭ সালের ৭ ডিসেম্বর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধনকৃত চিকিৎসক ৪৫,৭২৩ ও নার্সের সংখ্যা ১৪,৯৭১ জন। ৩,০১২ জনে ১ জন চিকিৎসক এবং ৬,৩৪২ জনের জন্য ১ জন নার্স। এ সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

২০০৮ সালের ১৩ জুন, হেলথ ওয়াচের গবেষণা তথ্য প্রকাশ। দেশের ৮০ শতাংশ রোগীর চিকিৎসা দেয় হাতুড়েরা।

২০০৯ সালের ৪ নভেম্বর, প্রথম আলো: দেশের বাজারে ২২ হাজার ওষুধ। গুণ-মান দেখার পরীক্ষাগার মাদ্র দুটি, সঙ্গে তীব্র জনবল-সংকট। প্রতিষ্ঠান দুটিতে কাজ করছেন ৫৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। ওষুধ প্রশাসন সূত্র জানায়, সারা দেশে অ্যালোপ্যাথি ওষুধ কোম্পানি রয়েছে ২৪৬টি, ইউনানি ২৬১টি, আয়ুর্বেিদক ১৬১টি ও হোমিওপ্যাথি ওষুধ কোম্পানি ৭৭টি।

২০১০ সালের ২১ জুন, প্রথম আলো: সরকারি হাসপাতালগুলোয় ৬,৮৬১ চিকিৎসকের পদ শূন্য। নার্সের শূন্যপদের সংখ্যা তিন হাজার ৫৫১।

২০১০ সালের ১ সেপ্টেম্বর, প্রথম আলো: উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণায় পাওয়া তথ্য। উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসক অনুপস্থিতির হার ৮৩ শতাংশ।

২০১১ সালের ২৬ আগষ্ট, প্রথম আলো: ৮৫ ভাগ ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নিয়ম মানছে না।

২০১১ সালের ১৮ অক্টোবর, প্রথম আলো: ভেষজ ওষুধের নামে প্রতারণা-আয়ুর্বেদ-ইউনানি ও হারবাল ওষুধ উৎপাদনকারী অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান ৪৫০টির মতো। অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান আছে কয়েক হাজার।

২০১১ সালের ৩ নভেম্বর, প্রথম আলো: ডাক্তার নার্সসহ স্বাস্থ্য সেক্টরে এখনও ৪২ হাজার পদশূন্য-ব্যাহত হচ্ছে জনস্বাস্থ্য সেবা ও চিকিৎসা।

১৯৮৯ সালের ১৬ জুনের রিপোর্ট অনুসারে: বাংলাদেশে ৩.৫৩(তিন কোটি তিপ্পান্ন লক্ষ) একর জমি আছে। এরমধ্যে ৩.২০(তিন কোটি বিশ লক্ষ) একর জমি চাষযোগ্য।

১৯৯৯ সালের ৯ জানুয়ারির তথ্য-বাংলাদেশে বছরে ২,৫০০(দুই হাজার পাঁচশত) কোটি টাকার কৃষি পণ্য বিনষ্ট হচ্ছে।

২০০০ সালের ১০ মে-বাংলাদেশে প্রতিবছর ইদুর, পাখী ও বানর ১৫(পনের) লক্ষ টন খাদ্যশস্য খায় ও নষ্ট করে।

২০০২ সালের হিসেবমতে: ঢাকা শহরের মিউনিসিপ্যালিটি এরিয়ায় প্রতি বর্গমাইলে জনবাসের সংখ্যা ২.৫(দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার); বস্তির সংখ্যা ৩,৫০০(তিন হাজার পাঁচশত); বস্তির প্রতি বর্গমাইলে বসবাস করে ৮ লক্ষ মানুষ। উচ্চ বিত্তের তুলনায় বস্তিবাসীর ঘরভাড়া বেশি।

২০০৪ সালের ৭ মে, সকল চাপ উপেক্ষা করে আগামীতে কৃষিতে ১(এক) হাজার কোটি টাকা ভর্তুিক দেয়া হচ্ছে। দাতাদের পরামর্শে কৃষির প্রাণ যায় যায়-ইধারএফ-এর আলোচনা সভায় কৃষিমন্ত্রী এম. কে. আনোয়ার।

২০০৪ সালের ১৯ জুলাই, মোঃ শামসুল আলম খান: বাংলাদেশে প্রতিবছর সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার ফল, শাকসবজি, শস্যদানাসহ কৃষিজাতপণ্য উত্তোলন, যত্ন ও সুষ্ঠ সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড টেকনোলজী ও গ্রামীণ শিল্প বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ নজরুল ইসলাম দৈনিক ইনকিলাবের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে এ অভিমত ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশে বর্তমানে ফলের ঘাটতির পরিমাণ ৩০ লক্ষ টন। পুষ্টিমান অনুযায়ী জনপ্রতি ফলের দৈনিক চাহিদা ৬৫ গ্রাম। ফল খুবই পচনশীল দ্রব্য। আমাদের দেশে কমপক্ষে ২৫ ভাগ ফল নষ্ট হয়ে যায়।

২০০৪ সালের ২ নভেম্বর, বাসস: বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচীর রিপোর্ট-তীব্র খাদ্য সংকটের মুখোমুখি বাংলাদেশ।

২০০৪ সালের ৩ নভেম্বর, জাকারিয়া কাজল: সামনে চরম খাদ্য সঙ্কট: বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী। দেশে খাদ্য সঙ্কটের কোন কারণ নেই: খাদ্যমন্ত্রী।

২০০৪ সালের ২১ ডিসেম্বর, আখতার হামিদ খান: ২০৮৮ সালের মধ্যে দেশ কৃষি ভূমিশূন্য হয়ে পড়বে। প্রতিদিন গড়ে ৫২৮-একর কৃষি জমি অকৃষিখাতে চলে যাচ্ছে। ভূমি ব্যবহার নীতিমালা বাংলাদেশ গেজেট যা ২১ জুন, ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয় তা থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী একটি বেসরকারী মানবাধিকার সংস্থার (এইচ.আর.ডি.সি'র) সমন্বয়কারী ও গবেষক হানিফ মাহমুদের বিশেস্নষণ থেকে দেখা যায় যে, কৃষি জমি হ্রাস পাওয়া ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির দ্বৈত ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ৮৫-বছর পর বা ২০৮৮ সালের পর বাংলাদেশে আর কোন কৃষি জমি থাকবে না।

২০০৫ সালের ১৭ মার্চ, চট্টগ্রাম চেম্বারের সেমিনারে কৃষিমন্ত্রীর তথ্যপ্রকাশ-১ কোটি ১৬ লাখ কৃষি পরিবার প্রশিক্ষণ পেলে খাদ্য উৎপাদন ৩০ লাখ টন বাড়বে। প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা করুন।

২০০৫ সালের ২৮ জুন, সংসদ রিপোর্টার: দেশে বর্তমানে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ৮৪ দশমিক ৮৫ লাখ হেক্টর। এরমধ্যে সেচযোগ্য জমি ৭৫ দশমিক ৬০ লাখ হেক্টর এবং সেচের আওতাধীন জমি ৪০ দশমিক ১৮ হেক্টর। সেচযোগ্য জমির ৫৩-দশমিক ১৫ শতাংশ জমি সেচের আওতায় রয়েছে। গতকাল জাতীয় সংসদে মেজর (অব.) মনজুর কাদেরের প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী এম. কে. আনোয়ার এ কথা জানান।

২০০৫ সালের ৪ জুলাই, ইনকিলাব পত্রিকায় অর্থৈনতিক রিপোর্টার: বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংস্পূর্ণ: বিশ্বব্যাংক। এ কথার অর্থ মিথ্যা বলা।

২০০৫ সালের ১৮ আগষ্ট, অর্থৈনতিক রিপোর্টার: এদেশে কৃষি উৎপাদন বেশী করলে কৃষকের ক্ষতি হয়: কৃষিমন্ত্রী এম. কে. আনোয়ার। যে কাজ করলে কৃষকের ক্ষতি হয় না সে কাজ করা হোক।

২০০৬ সালের ২০ জানুয়ারি, অর্থৈনতিক রিপোর্টার: ধানের কাছে হেরে যাচ্ছে মাছ। জাতীয় মৎস্য সম্মেলনে সমন্বিত গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ।

২০০৬ সালের ১০ এপ্রিল, অর্থৈনতিক রিপোর্টার: ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধিতে কৃষিতে বিপর্যয় ঘটতে পারে। বিএডিসির সেমিনারে কৃষি ও পানি বিশেষজ্ঞগণ। নব্বইয়ের দশকের শুরুতেও বাংলাদেশের কৃষিতে যেখানে সর্বেমাট ২-লাখ গভীর ও অসভীর নলকুপ ব্যবহার হতো সেখানে ২০০৬ সালে কেবল অসভীর বা শ্যালো টিউবঅয়েল ব্যবহারের সংখ্যাই দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ। এতে প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে ভূগর্ভস্থ পানির উত্তোলন অনেক বেড়ে গেছে।

২০০৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর, ইনকিলাব রিপোর্ট: বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিউটের সাফল্য। ২৬০টি উন্নতজাতসহ ৩ শতাধিক প্রযুক্তির উদ্ভাবন-এখন আর মানুষ না খেয়ে মারা যাচ্ছে না। এ কথার সাথে আমি মোঃ জাকির হুসেন(আলমগীর) একমত নই এবং এখনও মানুষ ক্রয় ক্ষমতার অভাবে না খেয়ে মারা যাইতেছে(০৪-০১-২০১৬ তারিখ)।

২০০৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর, সালাহউদ্দীন বাবলু: ধানচাষ বৃদ্ধি দেশে অপুষ্টি ও দারির্দয বাড়াচ্ছে। খাদ্য নিরাপত্তায় অনিশ্চয়তা সৃষ্টি: কৃষি বৈচির্তয কমছে। বাংলাদেশে ধান চাষ যতই বৃদ্ধি পাচ্ছে ততই বাড়ছে পুষ্টিহীনতা ও দারির্দয। ধানের আবাদ বাড়াতে গিয়ে বর্তমানে ডাল, তেল, সবজি, ফলমূল, গম, আখ, পাট ও মসল্লা জাতীয় ফসল এবং মাছ, মাংস ও দুধের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় অনেক কমে গেছে। অথচ এসব ফসলের বেশীরভাগই হচ্ছে জনগণের পুষ্টি ও দরিদ্র কৃষকের নগদ অর্থের অন্যতম প্রধান উৎস।

২০০৭ সালের ১৪ মে, চুয়াডাঙ্গা থেকে কামাল উদ্দিন জোয়ার্দার: দেশে একরে ১২৩ মণ ধান উৎপাদনের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

২০০৭ সালের ২৮ নভেম্বর, নিজস্ব প্রতিবেদক: দাতা প্রতিনিধিদের সঙ্গে পররাষ্ট্র ও খাদ্য উপদেষ্টার বৈঠক। পাঁচ লাখ টন খাদ্য সাহায্য চেয়েছে বাংলাদেশ। গত ৭ বছরে খাদ্যের উৎপাদন বাড়েনি। মানুষ বাড়ছে দেড় কোটি।

২০০৭ সালের ২ ডিসেম্বর, নিজস্ব প্রতিবেদক: সংবাদ সম্মেলনে সি.এস.করিম-চলতি বছর চাল ঘাটতি ৩১ লাখ টন। বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতি ১৪ লাখ টন। সরকারি এবং বেসরকারিভাবে চাল আমদানি করা হয়েছে ১২ লাখ টন। ঘাটতি মেটাতে আরও ১৯ লাখ টন চাল আমদানি করতে হবে আগামী ৩০-০৬-২০০৮ সালের মধ্যে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ৫ লাখ টন চাল আনতে পারবে বাংলাদেশ-ভারত থেকে। ঝটিকা সফরে এসে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা: ঘুর্ণিঝড় ও সিডরে আক্তান্ত ১০টি সর্বািধক ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামের পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিতে চায় ভারত।

২০০৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশের মোট আবাদযোগ্য জমির শতকরা ২৫ ভাগ জমি বর্গাদারি বা ভাগচাষ প্রথায় চাষাবাদ করা হয়। জাতীয় আয়ের ১৫ ভাগ শিল্পখাতের। ৬৩টি বস্ত্র ও সুতাকল আছে, ১৭টি চিনির কল আছে, বিশ্বের ১০৭টি দেশে পণ্য রপ্তানি করে।

২০০৮ সালের ২৩ নভেম্বর, প্রথম আলো ডেস্ক-খরাপ্রবণ অঞ্চলে ধানের ফলন দ্বিগুণ হবে। যুক্তরাষ্ট্রের আলবার্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক ব্যাপক নিরীক্ষা চালিয়ে জিনগুলো শনাক্ত করেন। পরীক্ষামূলকভাবে এসব জিনের বৈশিষ্ট্য কাজে লাগিয়ে উদ্ভাবিত জাতের ধানে দ্বিগুণ ফলন পাওয়া গেছে।

২০০৯ সালের ১৬ মে, প্রথম আলো: আইসল্যান্ডে গড়ে প্রতি হাজার হেক্টর আবাদি জমির জন্য ট্রাক্টরের সংখ্যা এক হাজার ২৮৮টি। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানটি স্স্নোভেনিয়ার, গড়ে প্রতি হাজার হেক্টর আবাদি জমির জন্য ট্রাক্টরের সংখ্যা ৫৫৯টি। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ১২০তম, গড়ে প্রতি হাজার হেক্টর আবাদি জমির জন্য ট্রাক্টরের সংখ্যা .০৭টি/দশমিক শূন্য সাতটি।

২০০৯ সালের ১৬ আগষ্ট, ইত্তেফাক পত্রিকার রিপোর্ট: ২০ বছরে কৃষি জমি কমেছে প্রায় ৫০ লাখ একর। ল্যান্ড জোনিং কর্মসূচীর অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক নয়। প্রতিদিন ২২০ হেক্টর কৃষি জমি চলে যাচ্ছে শিল্প-কারখানা স্থাপন, নগরায়ণ, বসতবাড়ি তৈরি ও রাস্তাঘাট নির্মােণর কাজে।