| বার্ষিক সাধারণ সভায় | আগামী ২০১৩ সালের মধ্যে কড়ইকান্দি থেকে টেইট্টা পর্যন্ত মেঘনা নদীর ওপর ব্রিজ করতে |
| মাননীয় সংসদ সদস্য ও | পারবে না বা করবে না | এখন পর্যন্ত বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মানুষের যোগাযোগের |
| মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক | মাধ্যম বাস-সার্ভিস হয়নি | তবে আমার জানা মতে ১৯৮৫ ও ১৯৮৬ সাল থেকে ঢাকা হতে |
| প্রতিমন্ত্রী ক্যাপটেন | হোমনা ও নবীনগরে বাস-সার্ভিস চালু হয় | তিনি আরো বলেছেন যে, আগামী দুই |
| (অব.) এ. বি. তাজুল | বছরের মধ্যে মানে ২০১২ সালের মধ্যে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার প্রত্যেক গ্রামে বিদ্যুৎ ও |
| ইসলাম প্রধান অতিথির | গ্যাস সরবরাহ করবে | আমার কথা হলো যে, এ অঙ্গীকারও তিনি পালন করতে পারবে |
| ভাষণে বলেন যে: | না-মানে সবাইকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ দিতে পারবে না | যদিও তিনি বাঞ্ছারামপুর উপজেলার |
| সব গ্রামে গ্যাস ও বিদ্যুত লাইন সরবরাহ করেও থাকে তা'হলেও সকল গ্রামের সবাইকে |
| বিদ্যুত দিতে পারবে না | ২০১৫ সালে এখনও বাংলাদেশের ৭০% গ্রামের সবাই বিদ্যুৎ পায় |
| না | বাংলাদশের ৬৭% ভাগ লোক বিদ্যুৎ সুবিধা পেয়ে থাকে তাও আবার নিয়মিত না |
| বাংলাদেশের মধ্যে নিয়মিত শতকরা বড়জোর ৪৫% লোক নিয়মিত বিদ্যুৎ সুবিধা পায় |
| ২০১২ সালের ২০ জানুয়ারি, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা | বাঞ্ছারামপুরের জনগণের জন্য কড়ইকান্দি থেকে টেইট্টা পর্যন্ত |
| কল্যাণ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় মাননীয় সংসদ | মেঘনা নদীর ওপর ব্রিজ করা সমীচীন হবে না | দু'বছর পর |
| সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপটেন (অব.) | মন্ত্রী সাহেবের অনুভব হয় যে, বর্তমান সময়ে ব্রীজ করা |
| এ. বি. তাজুল ইসলাম প্রধান অতিথির ভাষণে বলেন | সম্ভব হবে না | তাই দেরীতে হলেও সত্য কথা বলেছে | ২০১৫ |
| যে: | সালে এসে এখন বলছেন যে চায়না-বাংলাদেশ ৯ম ফ্রেন্ডশীফ |
| বাঞ্ছারামপুর উপজেলার | মোঃ জাকির হুসেন ওরফে আলমগীর, ডেপুটি রেজিস্ট্রার(অবসর), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় |
| কারো নিকট কোন নতুন | গ্রাম-ভেলানগর (বড়বাড়ি), পোঃ-রূপসদী, উপজেলা-বাঞ্ছারামপুর, |
| তথ্য জানা থাকলে- | জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বিভাগ-চট্টগ্রাম, দেশ-বাংলাদেশ | মোবাঃ-০১৭১৬৬৫৪৮৪৪ | এ |
| টেলিফোন নাম্বারে আমাকে জানানোর জন্য আপনাদেরকে বিনীত অনুরোধ করছি |
।বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ১২৪টি গ্রামের নামের তালিকাসমূহ:।
| ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নে মোট | ভেলানগর, বালুয়াকান্দি, ছয়ফুল্লাকান্দি, দরিভেলানগর, ফতেপুর, শরীফপুর, |
| ১২টি গ্রাম আছে | পাড়াতুলি, মধ্যনগর, ডোমরাকান্দি, মঙ্গলকান্দী, কাঞ্চনপুর ও মাসিমনগর |
| দরিকান্দি ইউনিয়নে মোট ৯টি | খাল্লা, কৃষ্ণনগর, বাহাদুরপুর, দরিকান্দি, দরিগাঁও, গোকুলনগর, |
| গ্রাম আছে | গোপালনগর, ইমামনগর ও জীবনগঞ্জ |
| রূপসদী ইউনিয়নে মোট ৪টি | রূপসদী, আশ্রফপুর, হোগলাকান্দি ও খাউরপুর |
| ফরদাবাদ ইউনিয়নে মোট ৭টি | নিজকান্দি, গাওরাটুলি, তিলককান্দি, পূর্বহাটি, |
| গ্রাম আছে | কলাকান্দি, চরলহনিয়া ও ফরদাবাদ |
| তেজখালি ইউনিয়নে মোট ৯টি | জয়নগর, ইমামনগর, আকানগর, গোটকান্দি, |
| গ্রাম আছে | হরিনগর, বিষ্ণরামপুর, বাহেরচর(বারাইলচর), |
| পাহাড়িয়াকান্দি ইউনিয়নে মোট | জয়কালিপুর, নবীপুর, ডোমরাকান্দি, উলুকান্দি, |
| ৯টি গ্রাম আছে | বড়কান্দি, কলাকান্দি, হিজলাকান্দি, পাহাড়িয়াকান্দি |
| দরিয়াদৌলত ইউনিয়নে মোট ৯টি | মরিচাকান্দি, বাখরনগর, নতুন কদমতলি, |
| গ্রাম আছে | শুঁটকীকান্দি, তাতুয়াকান্দি, কদমতলি, দরিয়াদৌলত, |
| সোনারামপুর ইউনিয়নে মোট | চরমরিচকান্দি, কানাইনগর, শান্তিপুর, ইছাপুর, |
| ৮টি গ্রাম আছে | দুলারামপুর, ফেরাইজ্জাকান্দি, সোনারামপুর ও চর |
| বাঞ্ছারামপুর উত্তর ইউনিয়নে মোট | দশদোনা, জগন্নাথপুর, বাঞ্ছারামপুর, দরি- |
| ১৫টি গ্রাম আছে | বাঞ্চারামপুর, ভিটিঝগড়ারচর, দুর্গারামপুর, |
| সফিরকান্দি, দুর্গাপুর, আলীপুর, মনাইখালী, পঞ্চমপুর, |
| ধারিয়ারচর, খোশকান্দি, তেলিকান্দি ও ভবনাথপুর |
| বাঞ্ছারামপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে | বাঁশগাড়ি, দশআনী, আইয়ুবপুর, চর ছয়আনী, |
| মোট ১০টি গ্রাম আছে | ইসলামপুর, নগরিরচর, কানাইনগর, খাশনগর, |
| সলিমাবাদ ইউনিয়নে মোট ১৬টি | সলিমাবাদ, সাহেবনগর, নিলখি, পাইকারচর, |
| গ্রাম আছে | সাতবিলা, কমলপুর, মিরপুর, আশ্রাফবাদ, |
| হোসেনপুর, হায়দরনগর, তাতুয়াকান্দি, ভুরভুরিয়া, |
| গঙ্গানগর, ঝুনারচর, খাগকান্দা ও পাঠামারা |
| উজানচর পূর্ব ইউনিয়নে মোট | নতুনহাটি, সরিষারচর, সেখেরকান্দি, উজানচর, |
| ৮টি | কৃষ্ণনগর, বুধাইকান্দি, রাধানগর ও কালিকাপুর |
| উজানচর পশ্চিম ইউনিয়নে মোট | কল্যাণপুর, মানিকপুর, চারআনী, উলুকান্দি, |
| ৮টি | কাপাসকান্দি, দো-আনী, মায়ারামপুর ও বাহেরচর |
২০১৬ সালের ২৫ নভেম্বর, প্রথম আলো: ওয়াল্ড ওয়েলথ রিপোর্ট: বাংলাদেশের মানুষের সম্পদ বেড়েছে-প্রতিবেদনে বলা হয়েছে-২০০০ সাল থেকে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সম্পদের বিবরণ দেয়া হয়েছে। ২০০০ সালে বাংলাদেশের মানুষের হাতে ছিল ৭৮ বিলিয়ন বা ৭ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে সমপরিমাণ সম্পদ। যেমন ২০০০ সালে বাংলাদেশে একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের মাথাপিছু সম্পদ ছিল ১ হাজার ৬৯ ডলার বা ৮৪ হাজার ৪৫১ টাকা। আর এখন মানে ২০১৬ সালে বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৩৪৭ ডলার(১ লাখ ৮৫ হাজার ৪১৩ টাকা)। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেনা গড়ে ৬৮ ডলার এবং ২০১৫ সালে গড়ে দেনা ছিল ৬৪ ডলার। ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের হাতে থাকা সম্পদের পরিমাণ ২৫৮ বিলিয়ন ডলার বা ২৫ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। টাকার পরিমাণে ২০ লাখ ৩৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা। আর ঠিক এক বছর আগে বাংলাদেশের মানুষের মোট সম্পদ ছিল ২৩৭ বিলিয়ন ডলার বা ২০ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। টাকার হিসাবে-১৮ লাখ ৭২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। মানুষের সম্পদ বাড়লেও বৈশ্বিক প্রেক্ষাবটে বা দরিদ্র দেশ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। ২০০০ সালে বিশ্বের মোট প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশিদের হার ছিল ২ শতাংশ, কিন্তু তাদের হাতে থাকা সম্পদের পরিমাণ ছিল বৈশ্বিক সম্পদের শূন্য দশমিক ১ শতাংশেরও কম। ১৬ বছর পর মানে ২০১৬ সালেও তা-ই আছে। যদিও প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২ দশমিক ৩ শতাংশ।
২০১৬ সালের ৩ ডিসেম্বর, প্রথম আলো: সবচেয়ে বেশি ধনী যুক্তরাষ্ট্রে, গরিব ভারতে। বিশ্বের ধনী মানুষের দেশগুলোর তালিকায় শীর্ষস্থান যুক্তরাষ্ট্রের। আর সবচেয়ে বেশি গরিব থাকে ভারতে। বাংলাদেশে ধনী মানুষের দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। ক্রেডিট সুইচ গেস্নাবাল ওয়েলথ রির্পোট-২০১৬-এ এই চিত্র উঠে এসেছে।
বিশ্বের মোট দরিদ্রের ২০ শতাংশই থাকে ছয়টি দেশে। দেশগুলোর শীর্ষে আছে ভারত। অন্য দেশগুলো হলো চীন, নাইজেরিয়া, বাংল াদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের ২৫.৪ শতাংশের বেশি মানুষ ভারতীয়। আর বিশ্বের ৩ দশমিক ৪ শতাংশ গরিব মানুষ বাস করে বাংলাদেশে। গরিবদের সাড়ে ৭.৫% শতাংশ মানুষ বাস করে চীনে। ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বাস করে নাইজেরিয়ায় ও ইন্দোনেশিয়ায় বাস করে ৩.১% গরিব মানুষ।
ক্রেডিট সুইচের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে-১ শতাংশ ধনী মানুষের কাছে বিশ্বের ৫১ শতাংশ সম্পদ রয়েছে। এ ধরনের মানুষকে বনেদি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। যে ১ শতাংশ বনেদি ধনী বিশ্বের অর্ধেেকর বেশি সম্পদের মালিক. তাঁদের অর্ধেকই তিনটি দেশের নাগরিক। দেশগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জাপান। বনেদি ধনীদের প্রতি তিনজনের একজনই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। প্রায় ৩৮ শতাংশ বনেদি ধনী যুক্তরষ্ট্রের। বনেদি ধনীদের মধ্যে জাপানে আছে ৯ দশমিক ৭ শতাংশ। সবচেয়ে গরিবদের দেশ ভারতেও বনেদি ধনী আছেন। বিশ্বের প্রতি ২০০ জন বনেদি ধনীর মধ্যে ১ জন ভারতীয়। বিশ্বের এক তৃতীয়াশ সম্পদের মালিক যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরা। অথচ বিশ্বের ৫ দশমিক ১ শতাংশ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী আছে যুক্তরাষ্ট্রে। অন্যদিকে ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী ভারতে থাকার পরও দেশটি বিশ্বের মাত্র ১ দশমিক ২ শতাংশ সম্পদের মালিক।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব মন্দার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত আছে। আবার জাপানের সম্পদ বেড়েই চলেছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যাওয়ার পক্ষে ভোট দেওয়ার পর যুক্তরাজ্য দেড় ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ লোকসান করেছে। বিশ্বের মোট সমস্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৫৫ লাখ ৭০ হাজার ৮০০ কোটি ডলার বা ২৫৫ ট্রিলিয়ন ৭০ হাজার ৮০০শত কোটি ডলার। অঞ্চলভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে সম্পদশালী হলো উত্তর আমেরিকা। সবচেয়ে দরিদ্র আফ্রিকা। বিশ্বের অন্যতম বড় অর্থনীতির দেশ চীনের সম্পদের পরিমাণ ২৩ লাখ ৩৯ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। বিশ্ব অর্থনীতিতে আরেক প্রভাবশালী দেশ ভারতের ৩ লাখ ৯ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের সম্পদ আছে। তবে ২০১৫ সালের তুলনায় চলতি বছরে এ দুটি দেশের সম্পদের পরিমাণ কমেছে। একজন ভারতীয় গড়ে ৩ হাজার ৮৩৫ ডলারের সম্পদের মালিক। আর চীনের একজন মানুষের গড়ে ২২ হাজার ৮৬৪ ডলারের সম্পদ আছে। বাংলাদেশের মোট সম্পদের পরিমাণ-২৫,৮০০ কোটি ডলার। একজনের গড়ে সম্পদের মালিক-১,৫২০/-এক হাজার পাঁচশত বিশ ডলারের মালিক।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ উত্তর আমেরিকার একজন নাগরিকের গড়ে ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮ ডলারের সম্পদের মালিক। ইউরোপের একজন নাগরিক গড়ে ১ লাখ ২৫ হাজার ডলারের সম্পদের মালিক। একমাত্র উত্তর আমেরিকার ছাড়া আগের বছরের তুলনায় এ বছর বিশ্বের সব অঞ্চলের নাগরিকের গড় সম্পদের পরিমাণ কমেছে।
অন্যদিকে নিচের দিকে থাকা ৫০ শতাংশ মানুষের সম্পদের পরিমাণ দিন দিন কমছে। এ বিশাল জনগোষ্ঠীর মোট সম্পদের পরিমাণ বিশ্ব সম্পদের মাত্র দশমিক ২ শতাংশ। ২০১০ সালেও এর পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ৬ শতাংশ।
আমার চাওয়া পাওয়া-
আমি যা ভাবি তা' করতে পারি না, যা করি তা' ভাবি না। প্রতিদিন বিবেকের সাথে লড়াই করতে করতে হেরে যাই। প্রতিদিন এভাবে বিবেকের সাথে হারতে থাকলে আমার কি কোন সত্ত্বা থাকে? আমার কাছে একটা জিনিষ স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, একটা সমাজব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে মানুষের চিন্তা-চেতনা বা চরিত্র গড়ে উঠে। আর যারা চাকুরী করে তাঁদের অধিকাংশেরই বিবেক বলতে কিছুই থাকে না। তার উপরওয়ালা যা বলে তা করতে হয় প্রতি মুহূর্তে-এর বাইরে কিছু করতে চাইলে তার চাকুরী থাকে না বা প্রমোশন হবে না। তার ওপরের বস যদি তাকে ভাল বলে তাহলে সে ভাল নতুবা ভাল না। এ সমাজে কাজের বিচার হয় না, বিচার হয় তার বসের কতটুকো মন রক্ষা করতে পারলো। বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষ কেউ কাকে বিশ্বাস করে না। পুঁজিবাদী সমাজে বিশ্বাস বলতে কিছু নেই। কাজ দিয়ে বিচার করতে হয়। একবার একটা লোক যদি বিশ্বাস ভঙ্গ করে ফেলে, তাকে আর বিশ্বাস করা যায় না। অনেকে বাধ্য হয় বিশ্বাস ভঙ্গ করতে। তা'প্রমাণ করতে পারলে তাকে ক্ষমা করা যায়, একবার কি দু'বার, তিনবারের মাথায় নয়। আমি যা করতে চাই তা'করতে পারলে আমার স্বাধীনতা আছে বা আমি স্বাধীন মানুষ। কিন্তু আমার কাজ এমন হবে না যা অপরের জন্য ক্ষতিকর হয়। আমি পৃথিবীতে দ্বিতীয়বার আর আসবো না।
চাকুরী করা চাকর খাটার সমান। কেউ বড় চাকর, কেউ ছোট চাকর। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ যা বলে তা করে না, আর যা করে তা'বলে না। আমিও আমার জীবনের সাথে আপস করে করে এ পর্যন্ত এসেছি। এভাবে চলতে থাকলে আমার দ্বারা এ পৃথিবীতে কিছু হবে বলে মনে হয় না। আর কিছু করতে হলে প্রথমে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। যার শত্রু নেই তার কোন মিত্রও নেই। যার শত্রু আছে তার মিত্রও আছে। সমাজে সৎ এবং অসতের লড়াই চলে। আর জোর যার মুল্লুক তার। সরকার নির্ধািরত বেতন কাঠামোর সুযোগ-সুবিধার মধ্যে সৎভাবে চাকুরী করলে সম্পদের মালিক হওয়া যায় না। আমাদের দেশে সৎভাবে সম্পদের মালিক হওয়া কঠিন কাজ। সমাজের কিছু মানুষের লক্ষ্য একই, কিভাবে সম্পদের মালিক হওয়া যায়। কিভাবে ভবিষ্যৎ সুন্দর করা যায়। সমাজে অবৈধভাবে সম্পদের মালিক হওয়ার জন্য জোর প্রতিযোগিতা চলছে। সম্পদের মালিক হতে হলে ক্ষমতার অধিকারী হতে হবে। রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী হলে সহজে সম্পদের মালিক হওয়া যায়। আমাদের দেশের শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষ গরীব ও শোষিত। তাদের কিছু করার ক্ষমতা নেই। আমাদের দেশের কিছু লোকের নিকট সম্পদ জমা হচ্ছে। আর সমগ্র দেশের মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার গ্যারান্টি নেই। যে সম্পদ মানুষের উন্নয়নের কাজে লাগানো হয়না-সে সম্পদ দেশে অপচয় বাড়ায় এবং সাধারণ মানুষের জীবন-মানের অবনতি ঘটায়। এদেশে কিছু মানুষের ভোগবিলাসের সীমাপরিসীমা নেই। আর অন্যদিকে শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষ চরম দুঃখ দারিদ্রের মধ্যে বসবাস করছে। তাদের ভবিষ্যত বলতে কিছু নেই। এক মানুষ আরেক মানুষের উন্নতিতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সমাজে বৈধভাবে সম্পদের মালিক হওয়া যায় না। শ্রমজীবী মানুষ নিজেকে চালাক মনে করে। আসলে আমাদের সমাজের বেশীর ভাগ মানুষই বোকা। কিন্তু দেশের বেশীরভাগ মানুষকে সব সময়ের জন্য বোকা রাখা যাবে না। আমার বিশ্বাস এক সময় দেশের ৯৫ ভাগ মানুষ জেগে উঠবে।
আমার ছোট সময়ের স্মৃতিগুলি মনে হয় বারবার। মরতে চাইনা তবু মরতে হবে। চিরন্তন বলে কোন কিছু নেই, সবকিছুই রূপান্তর। সমাজের নিয়ম হলো উৎপাদন ও পুনঃউৎপাদন। নিরপেক্ষ বলতে কোন বস্তু নেই এ পৃথিবীতে এবং ৫০(পঞ্চাশ), ৫০(পঞ্চাশ) বলতে কোন বস্তু নেই, ১৯৪৯ সালে মাও সেতুং তা প্রমাণ করেছে। আমি কিছু একটা করতে চাই। কিন্তু কী করব তা স্পষ্ট করে বলতে পারি না। রাজনীতি করা মহান কাজ। যদি সাম্যের রাজনীতি হয়। সকল শ্রমজীবী মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে রাজনীতি করা মহান কাজ। মানুষের মাঝে সাম্য আনা শ্রেষ্ঠ কাজ। আমার মাঝে এ দেশের আসল চিত্রগুলি বারবার ভেসে উঠে। গ্রাম এবং শহরের গরীব মানুষের মুখের দিকে লক্ষ্য করলে বুঝতে পারি তাদের চাহিদা কি। তাদের চাহিদা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা-এর বেশী কিছু নয়। আমাদের দেশে যে সম্পদ আছে তাদিয়ে বাংলাদেশের ১৭(সতের) কোটি মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা-এ সব মৌলিক চাহিদার গ্যারান্টি দেয়া যায়। তখনই আমাদের দেশের প্রত্যেক মানুষ প্রকৃত অর্থে স্বাধীন হবে। নতুবা মুক্তিযুদ্ধের অর্থ বা এ স্বাধীনতার অর্থ ফাঁকাবুলি ছাড়া আর কিছু নয়। প্রত্যেকটা মানুষের উন্নয়ন মানে দেশের উন্নয়ন। কোন বিষয়ই বিচ্ছিন্ন নয়। আমাদের গ্রামের উন্নয়ন হতে হলে আমাদের ইউনিয়নের উন্নয়ন হতে হবে, আমাদের ইউনিয়নের উন্নয়ন হতে হলে আমাদের উপজেলার উন্নয়ন হতে হবে, আমাদের উপজেলার উন্নয়ন হতে হলে আমাদের জেলার উন্নয়ন হতে হবে, আমাদের জেলার উন্নয়ন হতে হলে আমাদের বিভাগের উন্নয়ন হতে হবে, আমাদের বিভাগের উন্নয়ন হতে হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন হতে হবে নতুবা কিছুই সম্ভব নয়। বাংলাদেশ পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। তবু বাংলাদেশের একটি আলাদা বর্ডার বা সীমানা আছে। এ সীমানা বাংলাদেশকে পৃথিবী থেকে আলাদা রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। রাষ্ট্র হওয়ার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি অন্য রাষ্ট্র থেকে আলাদা। আর যতদিন পৃথিবীতে শোষণ টিকে থাকবে, ততদিন রাষ্ট্রের অবসান হবে না। আমরা মায়ের পেট থেকে কেউ সম্পদ নিয়ে আসিনি। শ্রমজীবী মানুষের উৎপাদিত সম্পদ শোষণ আর অসম বিনিময়ের মাধ্যমে বুর্জোয়ারা তার মালিক হয়েছে। যে জায়গায় মানুষ আছে-সে জায়গায় খাদ্য আছে। যে জায়গায় খাদ্য আছে-সে জায়গায় মানুষ আছে। বেশীরভাগ মানুষ বলে খাদ্যের অভাবে মানুষগুলো মারা যাচ্ছে, আসলেই কি কথাটা তাই? যদি খাদ্যের অভাবে মানুষগুলো মারা যেত-তা'হলে সবগুলো মানুষই মারা যেত। আসলে কথাটা হবে ক্রয়-ক্ষমতার অভাবে মানুষগুলো মারা যাচ্ছে। ক্রয়-ক্ষমতা নাই কেন? কিছু মানুষ দ্বারা ব্যাপক মানুষ নিয়ন্ত্রিত হয় বলে। ধনীরা ইচ্ছাকৃতভাবে সৃষ্টি করে দুর্ভিক্ষ। সম্পদের সুষম বন্টন করা হলে-কেউ না খেয়ে মারা যেতো না। বর্তমান সমাজব্যবস্থায় যা কিছু হয়-সবকিছুর জন্য দায়ী ধনীরা। ধনীদের অপচয় বন্ধ করতে পারলে এ দেশে কেউ অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা এবং শিক্ষার অভাবে মৃত্যুবরণ করতো না বা কাজের আশায় কাউকে আজ বিদেশে যেতে হতো না বা কেউ এদেশে বেকার থাকত না। ধনীরা ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেদের ভোগবিলাসের জন্য গরীবদের শাসন-শোষণ করছে। এ অন্যায় বৈষম্য যারা সৃষ্টি করেছে তারা অপরাধী। স্বার্থপর শাসক ও বিলাসী ধনীদের সৃষ্টি এ বৈষম্য মেনে নেওয়াও এক ধরনের অপরাধ। এ অন্যায় বৈষম্য দূর করাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। বেশীরভাগ মানুষ বলে যে, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসলে দেশ শান্তির পথে চলবে কিন্তু আমি বলি যে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসার পূর্বশর্ত হল মানুষের অর্থৈনতিক মুক্তি। মানুষের অর্থৈনতিক মুক্তি না আসলে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও আসবে না।