১৮৪০ সালে কলকাতা থেকে ডেভিডসন ঢাকায় বেড়াতে এসেছিলেন। লিখেছেন 'খুব সবুজ এবং সুন্দর রেজিমেন্টের সব অফিসারের মধ্যে একজন বা দু'জন থাকেন সেনানিবাসের ভেতরে। বাকীরা জ্বরে ভুগে বা জ্বরের ভয়ে থাকেন শহরে। সেনানিবাসের পাশে আছে বেশ বড় এক জলাভূমি যা মারাত্মক ম্যালেরিয়ার উৎস।' পল্টনে আরও বেশ কটি বড় পুকুর ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। ১৮৪০ সালের দিকে জনস্বার্থে সেনানিবাস পুরানা ও নয়াপল্টন থেকে (পর্যায়ক্রমে রমনা থেকে লালবাগ ও মিরপুরে সেনানিবাসটি স্থানান্তর করা হয়েছিল বলে ঐতিহাসিককেরা উল্লেখ করেছেন) সরিয়ে নেওয়া হলেও এর নাম পল্টন থেকে যায়। ১৮৬০ সালে ঢাকা এসে জর্জ গ্রাহাম নামের এক সিভিলিয়ান পল্টনকে দেখেছেন একটা 'ম্যালেরিয়া পরিত্যক্ত সেনানিবাস' হিসেবে। এরপর এলাকাটি ঢাকা পৌরসভার অধীনে চলে আসে। মুনতাসীর মামুনের বিবরণ থেকে জানা গেছে, ১৮৭৪ সালে ঢাকায় নবাব খাজা আহসান উল্লাহ ৮০ বিঘা জমি পত্তন নিয়ে বাগান করেন, যা দিলকুশা হিসেবে নতুন নামকরণ হয়। কোম্পানি বাগিচা থেকে সেগুনবাগিচা বলে, তার আদি পরিচয় ছিল 'কোম্পানি বাগিচা' নামে। এই খালি মাঠটি দীর্ঘিদন পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। একসময় ফুটবল খেলা জনপ্রিয় হয়ে উঠলে মাঠটিতে খেলাধুলা শুরু হয়। পাকিস্তান আমলে সেখানে একটি স্টেডিয়াম গড়ে তোলে সরকার। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে এবং ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় মওলানা ভাসানীর বিখ্যাত জনসভাগুলোর স্থান হিসেবে পল্টন ময়দান বাঙালির রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে পল্টন ময়দান গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে আছে। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম এলাকা ভরাট করে তিনি বিরাট মাঠ নির্মাণ করেন। কোম্পানি বাগান থেকে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম। সবুজ পল্টন এখন দূর অতীতের স্মৃতিমাত্র। ১৮৪১ সালের ২০ নভেম্বর, ঢাকা কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৫০ সালের আগে এলাকাবাসীর পানির সমস্যা সমাধানের জন্য বংশালের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও জমিদার হাজি বদরুদ্দীন ভুট্টো নিজ জমিতে পুকুর খনন করেন ৬-বিঘা জমির ওপর। এ কারণে পুকুরটি ভুট্টো হাজির পুকুর হিসেবেও পরিচিত। এখনো পুকুরটি টিকে আছে। ১৮৫৬ সালের ১৮ এপ্রিল, সাপ্তাহিক 'ঢাকা নিউজ'-এর প্রকাশনা শুরু। ১৮৫৭ সালের ২২ নভেম্বর, ঢাকার লালবাগ দূর্গে বিপস্নবী সিপাহী ও ইংরেজদের মধ্যে যুদ্ধ। ১৮৫৭-এর স্মরণে'' ১৯৪৭ সালের পর সেই সব শহীদদের স্মরণে ওখানে নির্মিত হয় শহীদ স্মৃতিসৌধ। আজকের বাহাদুর শাহ পার্কের ঐ স্থানটি ছিলো আন্টাঘর ময়দান। ইংরেজ প্রশাসন পরে ভিক্টোরিয়া পার্ক নামকরণ করে।

১৮৫৮ সালের ১ মে, পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গার পারে মিডফোর্ড হাসপাতাল পূর্ববঙ্গের প্রথম আধুনিক চিকিৎসানির্ভর হাসপাতাল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৮৫৪ সালের শুকনো মৌসুমে হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু হয়। মাত্র ১৮,৫৩৬ টাকায় ১৮৫৮ সালের মধ্যে ঠিকাদার কোম্পানি একটি প্রধান হাসপাতাল তৈরী করেন। ১৮৭২ সালে কলকাতা মেডিকেল কলেজ, হাওড়া হাসপাতাল এবং মিটফোর্ড হাসপাতালে যত 'মেজর' অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল তার মধ্যে অস্ত্রোপচার-পরবর্তী মৃতের হার মিটফোর্ড হাসপাতালেই সবচেয়ে কম। ১৮৭৫ সালের ১৫ জুন, মিটফোর্ড হাসপাতালের বলয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের প্রথম মেডিকেল স্কুল, যা পর্যায়ক্রমে আজকের স্যার সলিমূল্লাহ মেডিকেল কলেজ। ১৯২০ সালের ১ এপ্রিল, সরকারি হাসপাতালে পরিণত হয় মিটফোর্ড হাসপাতাল। বর্তমানে ৬০০ শয্যায় উন্নীত হয় মিটফোর্ড হাসপাতালটি। রবার্ট মিটফোর্ড ছিলেন ঢাকা জেলার প্রাদেশিক আপিল ও সার্কিট আদালতের দ্বিতীয় বিচারক। লন্ডনে পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে ১৭৯৮ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির 'রাইটারের' চাকরি নিয়ে ভারতবর্ষে আসেন রবার্ট। ১৮১৬ সালের সেপ্টেম্বরে কালেক্টর হিসেবে ঢাকায় আসেন মিটফোর্ড। রাজনৈতিক ক্ষমতা, ব্যবসা-বাণিজ্য হারিয়ে ঢাকা তখন এক গুরুত্বহীন শহর। এ শহরেই ১২টি বছর কাটিয়ে দেন রবার্ট মিটফোর্ড। ঢাকার চাকরি থেকে অবসর নিয়ে ১৮২৮ সালে ইংল্যান্ডে ফিরে যান। সেখানে আট বছরের মত বেঁচে ছিলেন রবার্ট মিটফোর্ড। ১৮৩৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্যারিসে বেড়াতে যান মিটফোর্ড, সেখানেই মারা যান। জীবনের শেষ সময়ে স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। ১৮৫৯ সালের ঢাকা শহরের মানচিত্র রয়েছে জাতীয় আরকাইভসের প্রদর্শনী কক্ষে। ১৮৬০ সালে ঢাকায় প্রথম ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৮৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথমে ''কস্যচিৎ পথিকস্য'' ছদ্মনামে প্রকাশিত হয় ''নীলদর্পণ''। ১৮৬১ সালের ৭ মার্চ, ঢাকা শহরের প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র 'ঢাকা প্রকাশ'-এর প্রকাশনা শুরু।

১৮৪০ সালে ঢাকা মিউনিসিপাল কমিটি। ১৮৬৪ সালের ১ আগষ্ট, ঢাকা শহরকে পৌরসভা করা হয়। ১৮৬৪ সালের ১ আগষ্টের পর প্রথম চেয়ারম্যান হন এডওয়ার্ড ড্রামন। 'ড্রামনের' হাত ধরে আজ আমরা উপনীত হয়েছি সিটি কপোের্রশনের মেয়র। ১৮৭১ সালে ঢাকার পাটুয়াটুলিতে গণ-লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর ''নীলদর্পণ'' নাটক প্রযোজনা হয়। ফরাসীরা ১৮৭২ সালে ঢাকার নব্বা বাড়ির ''আহসান মঞ্জিল''টি তৈরী করেন। ১৮৭৫ সালে ঢাকা মেডিকেল স্কুল প্রতিষ্ঠা হয়। ১৮৭৬ সালে ঢাকাতে সার্ভে স্কুল, ১৯০৮ সালে আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়, ১৯৪৭ সালের মে মাসে আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং ১৯৬২ সালের ১ জুন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করা হয়। ১৮৮০ সালের পূর্বে ঢাকা শহরে ঘোড়ারগাড়ী ছিলা না। ১৮৮৩ সালে ঢাকার সদরঘাট এলাকায় সরকারী জগন্নাথ কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৮৮৩ সালে ঢাকায় মুসলমান সুহৃদয় সমিতি গঠিত হয়। ১৮৮৫ সালে ঢাকা কোর্টের জন্ম। ১৮৯০ সালে তৎকালীন বৃটিশ সরকার প্রথম ঢাকা নগরীর আধুনিক অভিজাত আবাসিক এলাকা ওয়ারীকে গঠন করে।

১৮৯২ সালের ১৬ মার্চ, ঢাকায় তথা বাংলাদেশে যিনি প্রথম আকাশ জয় করেছিলেন, তিনি একজন আমেরিকান নারী, যাঁর নাম জিনেট ভানতাসেল। বিষয়টি আমরা জানতে পারি সিলেটের বিখ্যাত হাসন রাজার ছেলে গনিউর রাজার ডায়েরি থেকে। তিনি সে সময় ঢাকায় ছিলেন ও ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছিলেন। ১৯৮৯ সালে ঘটনাক্রমে একটি পুরোনো আলোকচিত্র পাওয়ার কারণে ঢাকায় যে এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল, সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। জিনেট ভানতাসেল ও তাঁর স্বামী পি. এ. ভানতাসেলকে কলকাতা থেকে ঢাকায় এসে বেলুনে চড়ার জন্য নবাব আহসানউল্লাহ চুক্তিবদ্ধ করেন। ১৮৯২ সালের ১০ মার্চ, তাঁরা ঢাকায় আসেন এবং ১৬ মার্চ জিনেট বেলুনে করে বিকেলে বুড়িগঙ্গার ওপার থেকে আকাশে উড়েন এবং কথা ছিল বেলুন ছয় হাজার ফুটের ওপরে ওঠারপর প্যারাসুট নিয়ে ঝাঁপ দেবেন নবাববাড়ির ছাদে নামার উদ্দেশে। কিন্তু বাতাসের তীব্র বেগের কারণে বেলুন ভাসতে ভাসতে শাহবাগে নবাবের বাগানবাড়ির একটি ঝাউগাছে আটকে যায় এবং জিনেট ১৫ থেকে ২০ ফুট ওপরে প্যারাসুটের সঙ্গে ঝুলতে থাকেন। এ সময় ঢাকার এক ইংরেজ পুলিশ কর্মকর্তা তিনটি বাঁশ বেঁধে তার সাহায্যে জিনেটের নেমে আসার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু নিচে নেমে আসার সময় বাঁশের বাঁধন আলগা হয়ে গেলে জিনেট নিচে পড়ে আঘাত পান। প্রায় অচেতন জিনেট এরপর প্রচন্ড জ্বরে ভুগে ১৮ মার্চ দুপুর একটায় মৃত্যুবরণ করেন। বিকেল চারটায় জিনেটকে ঢাকার নারিন্দায় খ্রিষ্টান গোরস্থানে সমাহিত করা হয়। ঢাকার আকাশে বেলুনে উড্ডয়নের দু-একদিন আগে থেকেই ঢোল পিটিয়ে ঢাকাবাসীকে এ বিষয়ে ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। ঢাকার প্রথম আকাশচারী।

১৯০১ সালে আহসান মঞ্জিলে জেনারেটর দ্বারা প্রথম বিদ্যুতের বাতি জ্বালানো হয়। ১৯০২ সালে ইংরেজরা ঢাকায় প্রথম জগন্নাথ কলেজে সিনেমা দেখায়। ১৯০৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি, ভারতবর্ষের গভর্নর জেনারেল লর্ড কার্জন ঢাকায় 'কার্জন হলের' ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জেনর নামে কার্জন হল তৈরী করা হয়। ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর, প্রথম বঙ্গ-ভঙ্গের সময় ঢাকাকে 'আসাম ও পূর্ববাংলার' রাজধানী করা হয়। ১৯০৫ সালে ঢাকায় প্রভিন্সিয়াল মোহামেডান এসোসিয়েশন গঠিত হয়। ১৯০৯ সালে ঢাকায় টিচার্স ট্রেনিং কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯০৯ সালে ঢাকায় সলিমুল্লাহ এতিমখানা প্রতিষ্ঠিত করা হয়। ১৯১১ সালের ১৮ আগষ্ট, ঢাকা ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর, বঙ্গ-ভঙ্গ রথ করা হয় এবং ঢাকা থেকে রাজধানী বাতিল করা হয়। ১৯১৩ সালে ঢাকা যাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯১৬ সালে ঢাকার সদরঘাটের নিকট প্রতিষ্ঠিত হয় ইস্ট বেঙ্গল ইনস্টিটিউট। ১৯২১ সালের সি. এস. রেকর্ড অনুযায়ী ২০০৬-এর রাজধানী শহরের যেসব খালের ৩৫টি উল্লেখ রয়েছে তা খুঁজে বের করতে হলে এখন সেটা দস্তুরমতো গবেষণা করেই দেখতে হবে। ১৯২৫ সালে ঢাকা ন্যাশনাল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়। লায়ন থিয়েটার হলে ১৯২৭ সালে নির্বাক সিনেমা প্রর্দশন করা হতো। ১৯৩০ সালে ঢাকায় ঘোড়ার গাড়ী ছিল; রিক্সা ছিল না। গলির শেষ মাথায় লাগানো ছিল কেরোসিন বাতির ল্যাম্প পোষ্ট। ১৯৩৩ সাল থেকে সবাক চলচ্চিত্র প্রর্দশন শুরু হয়। ১৯৩৩ সালে প্রথম ঢাকায় সিনেমা হল তৈরী করা হয়। ১৯৩৫ সালে প্রথম মুড়াপাড়ার জমিদার ঢাকায় মটরগাড়ী আনে। ১৯৩৯ সালে কলকাতা থেকে ঢাকা শহরে প্রথম রিক্সা আনা হয়। ১৯৩৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর "ঢাকা বেতার কেন্দ্র" প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৪৬ সালের ১০ জুলাই, ঢাকা ম্যাডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৪৬ সালে ঢাকায় ইডেন মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৪৭ সালের পূর্ব পর্যন্ত ঢাকা ছিল একটি জেলা শহরই মাত্র।

১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট, পূর্ব-পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় স্থাপিত হয়। ১৯৪৭ সালে ঢাকা শহরে ৩'শত টেলিফোন ছিল। ১৯৪৭ সালে ঢাকায় লোকসংখ্যা ছিল ২ লাখ ৯৫ হাজার। ১৯৪৮ সালে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবীতে প্রথম হরতাল। হরতাল গুজরাতী শব্দ। ১৯৪৮ সালে প্রথম মুড়ির টিনমার্কা বাস চলাচল করে সদরঘাট থেকে চকবাজার হয়ে ফুলবাড়িয়া পর্যন্ত। ১৯৪৮ সালে ঢাকায় প্রথম ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থা করা হয়। ১৯৪৯ সালের মার্চে, ঢাকার পল্টন ময়দানে পূর্ব-পাকিস্তান রেলওয়ে এমপস্নয়িজ লীগের এক অধিবেশন বসে। ১৯৪৯ সালের জুলাই, ঢাকা বারলাইব্রেরীতে এক ঘরোয়া সভায় ইত্তেফাক নামে সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশের কথা ঘোষণা দেন এবং ওই সভাতে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে চারশত টাকার একটি তহবিল গঠন করেন। তা দিয়ে ১৫ আগষ্ট, ইত্তেফাকের প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়। প্রথম অফিস ছিল ৭৭, মালিটোলায় এবং পরে ৯৪, নবাবপুর রোডের আওয়ামী মুসলিম লীগ কার্যালয়ে। ১৯৫০ সালে ঢাকায় প্রথম সরকারীভাবে সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আজিমপুরে 'আজিমপুর সরকারী কোয়ার্টার' নির্মাণ করা হয়। ১৯৫২ সালের ২৮ জানুয়ারি, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন। ১৯৫২ সালের ৩০ জানুয়ারি, খাজা নাজিমউদ্দিন পূর্ব-পাকিস্তানের মূখ্যমন্ত্রী থেকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ঢাকার এক জনসভায় বলেন-"উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা''। ১৯৫২ সালের ৩০ জানুয়ারি, পূর্ব-বাংলায় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ গঠন করা হয়। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি, বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষারদাবীতে আন্দোলণরত জনতার উপর পুলিশের গুলিতে কয়েকজন শহীদ হয়। এদের মধ্যে ৫(পাঁচ) জনের নাম জানা আছেঃ বরকত, সালাম, জব্বার, রফিক ও অহিউল্লাহ। বরকত ছিলেন ছাত্র, সালাম ছিলেন সচিবালয়ের পিয়ন, জব্বার ছিলেন ছোট চাকুরে, রফিক ছিলেন প্রেসের কর্মচারী আর অহিউল্লাহ ছিলেন কিশোর বালক। পাঁচ জনের মধ্যে চার জনই ছিলেন সাধারণ মানুষ, দরিদ্র কর্মচারী বা ছোট ব্যবসায়ী। বাংলা ভাষার জন্য তাঁরা প্রাণ দিলেন, তাঁদের রক্তের ওপর দিয়ে দেশ স্বাধীন হল; কত লোকের ভাগ্য খুলে গেল, কিন্তু বাংলা ভাষার মধ্যে পরিবর্তন এলনা। বাংলা ভাষায় বড়লোক-ছোটলোকের তারতম্য রয়ে গেল। ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি, ঢাকায় ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত শোক মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষণ। ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি, ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয়। ১৯৫২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি, ভাষা আন্দোলনকারী জনতার উপর গুলীর প্রতিবাদে ''দৈনিক আজাদ' সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিনের প্রাদেশিক পরিষদ থেকে পদত্যাগ। ১৯৫২ সালের ২৯ মার্চ, ঢাকা বার এসোসিয়েশনে সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৫৪ সালের ২৮ জুন, ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৫৪ সালে ঢাকায় প্রথম নিউমার্কেট তৈরী করা হয়। ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর, বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৫৮ সালে ঢাকায় প্রথম চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৫৮ সালের ৮ মার্চ, ঢাকা মুসলিম চেম্বার এবং ইউনাইটেড চেম্বার একত্রকরণের মাধ্যমে ''ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির'' আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ১৯৬১ সালের ৮ মার্চ, মতিঝিল বাস ডিপো হতে মাত্র ৪টি বাস নিয়ে তৎকালীন ইপিআরটিসি যাত্রা শুরু করে। ১৯৬২ সালে ঢাকা শহরে প্রথম ফুটপাত তৈরী হয়।

১৯৬৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর, সাবেক পূর্ব-পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় টেলিভিশন দেখা শুরু। ১৯৬৬ সালে প্রথম ঢাকায় ফাইভ স্টার "শেরাটন হোটেল" প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ, পল্টন ময়দানের এক বিশাল জনসভায় বিভিন্ন নেতা অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। সারা দেশে অর্ধিদবস হরতাল পালিত হয়। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ, রমনা রেস কোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক ঐতিহাসিক ভাসন দেন। ১৯৭১ সালের ১৫ মার্চ, শেষবারের মতো ঢাকা সফরে এসেছিলেন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান। ১৯৭১ সালের ১৬ মার্চ, পাকিস্তানের সামরিক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে জাতীয় পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের আলোচনা বৈঠক শুরু হয়েছিল। ১৯৭১ সালের ১৭ মার্চ, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ, পাকিস্তানের সামরিক প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আলোচনা। ১৯৭১ সালের ২০ মার্চ, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ও শেখ মুজিবুর রহমানের মধ্যে প্রায় সোয়া দু'ঘন্টাব্যাপী আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৭১ সালের ২২ মার্চ, ছিল এক বিভ্রান্তিপূর্ণ দিন। প্রেসিডেন্ট হাউজে ভুট্টোর সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সাক্ষাৎকার ছিল ২২ মার্চের এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ, পূর্ব-পাকিস্তানে গণহত্যর নির্দেশ দিয়ে আকস্মিকভাবে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান করাচির পথে ঢাকা ত্যাগ করেন। পাক-বাহিনী রাতে ঢাকায় শুরু করে ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বেরাচিত হত্যাকান্ড 'অপারেশন সার্চলাইট' নিরস্ত্র জনগণের উপর অমানসিক নির্যাতন শুরু।

১৯৭১ সলের ১৭ এপ্রিল, কুষ্টিয়া জেলার মুজিবনগরের বৈদ্যনাথতলা আম্রকাননে প্রথম বিপস্নবী সরকারের মন্ত্রিপরিষদ শপথ গ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর, শহীদ হন এ দেশের বুদ্ধিজীবীরা। তাই এদিনটিকে প্রতি বছর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ১৯৭১ সালে ঢাকা শহরে লোকসংখ্যা ছিল প্রায় ১৪(চৌদ্ধ) লক্ষ। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর, ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাক-বাহিনী আত্মসমর্পণ করেন। ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি, পাকিস্তানের কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি এবং স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় প্রত্যাবর্তন ১০ জানুয়ারি। তিনি ১২ জানুয়ারি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠান। ২০১৬ সালে ঢাকা শহরে লোকসংখ্যা হলো প্রায় ১.৭০(এক কোটি সত্তর লক্ষের বেশি)।