১৮৯৫ সালের ২৭ নভেম্বর, বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেল তার সকল সম্পত্তি উইলের মাধ্যমে 'নোবেলম্ব' পুরস্কারের জন্য দান করে যান। ১৯০১ সালের ১০ ডিসেম্বর, আলফ্রেড নোবেলের অন্তিম ইচ্ছে অনুযায়ী নোবেল পুরস্কার প্রদান শুরু হয়। ১৮৯৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর, ফ্রান্সের দুইভাই সিনেমা আবিস্কার করে। ১৮৯৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর, প্যারিসে বিশ্বের প্রথম চলচ্চিত্র জনসম্মুখে প্রদর্শিত হয়। ১৯০৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর, বিশ্বের প্রথম পূর্ণৈদঘ্র্য ছায়াছবি 'দি স্টোরি অব দি কেলিং গ্যাং' সর্বপ্রথম অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে প্রদর্শিত হয়। ১৮৯৬ সালে গ্রীসে প্রথম বিশ্ব অলিম্িপক শুরু হয়। ১ম অলিম্পিক: ১৮৯৬ (এথেন্স, ৬ এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত)। ১৮৯৬ সালে ১৩টি দেশের ৩০০ অ্যাথলিট অংশ নিয়েছিলেন ৯টি ইভেন্টে। ২০০৪ সালের ১৩ আগষ্ট, আবার ১০৮ বছর পর এথেন্সে ২৮তম অলিম্পিকের আসর শুরু হচ্ছে। এখন দেশের সংখ্যা বেড়ে ২০২টি, ৩৭টি ইভেন্টে-এ ৩০১টি স্বর্ণ পদকের জন্য লড়াইয়ের সংখ্যা ১২(বার) হাজারেরও বেশি অ্যাথলেট। ম্যারাথন দৌঁড়ের অর্থ ৪২.১৯৫ কিলোমিটার দূরত্বকে বুঝায়। ৪২.১৯৫ কিলোমিটার সমান ২৬.৩৭ মাইল। ১৮৯৭ সালের ৮ জুলাই, আঙ্গুলের ছাপের সাহায্যে প্রথমবারের মতো অপরাধী শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১৮৯৭ সালের ২২ মে, টেমস নদীর তলদেশে ব্ল্যাকওয়াল টানেল আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেয়া হয়। ১৮৯৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর, পিয়েরে কুরি ও মেরি কুরি রেডিয়াম আবিস্কার করেন। বিশ্বের প্রথম তেজস্ক্রিয় পদার্থ বা প্রথম তেজস্ক্রিয় মৌল পোলোনিয়ামের আবিস্কারক মেরি কুরি (১৮৬৭-১৯৩৪)। তাঁর দেশ পোল্যান্ডের নাম অনুসারেই এ মৌলটির নামকরণ করা হয়েছে। তিনি এবং তাঁর ফরাসি স্বামী পিয়েরে কুরি ১৮৯৮ সালে প্যারিসে খনিজ পিচবেস্নন্ড থেকে পোলোনিয়াম নিস্কাশন করেন। পরে, একই বছর, তিনি রেডিয়াম নামের আরেকটি তেজস্ক্রিয় মৌল আবিস্কার করেন। ১৮৯৯ সালের ৯ অক্টোবর, লন্ডনে প্রথম পেট্রোলচালিত মোটর যান চলাচল শুরু।

১৯০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লিভারমুরে একটি ফায়ার হাউসে (দমকলবাহিনীর কার্যালয়) গেলে এ বাল্বের দেখা মিলবে। ওই ফায়ার হাউসের ইঞ্জিনঘরে প্রায় ১৮ ফুট উঁচুতে ১৯০১ সাল থেকে জ্বলছে এ বাল্ব। শতবর্ষী মানুষ. শতবর্ষী গাছ, শতবর্ষী ভবনের কথা শোনা যায়। কিন্তু শতবর্ষী বৈদ্যুতিক বাল্ব আছে কি, যা দিনের পর দিন জ্বলছে? আছে। শতবর্ষী এক বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বলছে তো জ্বলছেই। এ বাল্বটি ১৯৭৬ সালে মাত্র ১০ মিনিটের জন্য বন্ধ করা হয়েছিল। ২২-০৬-২০১১ তারিখও বাল্বটি জ্বলছে। ১৯০২ সালে বিশ্বের প্রথম ফ্যাক্স জার্মািনর আর্থার কর্ন এক ধরনের ফটোটাইপ পদ্ধতির আবিস্কার করেন এবং দুই বছরের চেষ্টার পর ১৯০৪ সালে মিউনিখ থেকে নুরেমবার্গে ছবি পাঠাতে সফল হন। এর মাধ্যমে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তের গ্রাহক যন্ত্রে বর্ণ কিংবা ছবি পাঠানো যেত। আন্তর্জািতকভাবে সর্বপ্রথম ফ্যাক্স ব্যবহার করে লন্ডনের দৈনিক মিরর পত্রিকা। পত্রিকাটি প্যারিস থেকে ফ্যাক্সযোগে প্রাপ্ত ছবি ছাপে ১৯০৭ সালে। ১৯০৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর, রাইট ভ্রাতৃদ্বয় তাঁদের নির্মিত উড়োজাহাজের সফল উড্ডয়ন ঘটান। এরা দুই-ভাই বিমান উৎপাদন ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। ১৯০৪ সালের ২২ জুন, আন্তর্জািতক ফুটবল ফেডারেশনের (ফিফা) জন্ম। ১৯০৭ সালের আগষ্ট মাসে, স্কাউট আন্দোলন প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৭ সালের আগষ্ট মাসে স্কাউটের শতবর্ষ পূর্তি পালিত হয়। ১৯০৯ সালের ১১ আগষ্ট, বেতারে বিপদ বার্তা এসওএস-এর ব্যবহার শুরু। ১৯১১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি, ফরাসী বৈমানিকের পরিচালনায় বিশ্বে প্রথম বিমানে ডাক পরিবহন শুরু। ১৯১১ সালে রোয়াল্ড আমাগুসেন র্কতৃক দক্ষিণ মেরু আবিস্কার। ১৯১২ সালের ২৯ মার্চ, সুমেরু অভিযাত্রী রবার্ট স্কটের মৃত্যু।

১৯১২ সালের ১০ এপ্রিল, সাউদাম্পটন থেকে নিউইয়র্কে যাওয়ার সময় সবচেয়ে বড় 'টাইটানিক' জাহাজটি ১৫ এপ্রিল, মধ্যরাতে ২,২০০ জন যাত্রী নিয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে একটি হিমশৈলে ধাক্কা লাগার পর 'টাইটানিক' ডুবে যায়। সে সময় বিলাশবহুল এ ব্রিটিশ জাহাজটির ২২শ' যাত্রীর মধ্যে ৭শ' ১১ জনের প্রাণরক্ষা পায়। ১৫০ জন যাত্রীকে স্কয়াড্রন সমুদ্র সৈকতে সমাধী করা হয়। নির্মাতা বিখ্যাত স্টার লাইন কোম্পানী দাম্ভিকতার সাথে বলেছিল-এ জাহাজ কোনদিন ডুববে না এবং এর কোন পরীক্ষামূলক কাজ সম্পন্ন করারও প্রয়োজন নেই। চলে গেলেন টাইটানিকের শেষ সাক্ষী মিলভিনা ডিন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর। ৩১-০৫-২০০৯ তারিখ মিলভিনা ডিন ইংল্যান্ডের হ্যাম্পশায়ারে একটি বৃদ্ধাশ্রমে ঘুমের মধ্যে তিনি মারা গেছেন। ১৯১২ সালের ১৫ এপ্রিল, মিলভিনা ডিনের বয়স ছিল ৬৩ দিন। নাবিকদের ভুলেই টাইটানিক ডুবেছে। ১৯১৪ সালের ২৮ জুলাই, সার্বিয়ার বিরুদ্ধে অস্ট্রিয়া ও হাঙ্গেরীর যুদ্ধ ঘোষণা। ১৯১৪ সালের ৩০ জুলাই, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু, শেষ হয় ১৯১৮ সালের ১১ নভেম্বর। ১৯১৪ সালে প্রথমবারের মত পাসপোর্টে ছবির ব্যবহার শুরু হয়। ১৯১৪ সালে স্বাধীন দেশের সংখ্যা ছিল ৫২টি; ১৯৪৬ সালে এ সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৭৪টি; ২০১১ সালে ১৯৩টি। পৃথিবীর দেশের সংখ্যা ২৩৩টি। আর জাতির সংখ্যা হলো ২০০টি। ১৯১৪ সালের ২৭ নভেম্বর, বৃটেনে প্রথম বারের মতো মহিলা পুলিশ নিয়োগ।

১৯১৬ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে প্রথম ট্যাংক এবং বিমানও ব্যবহার করা হয়। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় কোনো ক্যামেরা না থাকায় সেনারা নিজ হাতেই যুদ্ধক্ষেত্রের ছবি আঁকত-কীভাবে কোন পথে তারা সেখানে জড়ো হবে সেটা ঠিক করার জন্য। ১৯১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি, লীগ অব নেশনসের প্রথম অধিবেশন শুরু। ১৯১৯ সালের মার্চ মাসে ফরাসি উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফারমান বিশ্বের প্রথম বিমান যাত্রীসেবা উড়োজাহাজে করে সর্বপ্রথম আকাশ পথে যাত্রী পরিবহণ করে। কিন্তু এর আগে আকাশপথে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো পরিবহণ ব্যবস্থা ছিল না। কিন্তু জীবিকার তাগিদে ভ্রমণ কিংবা বাণিজ্যের প্রয়োজনে মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই এক দেশ থেকে অন্য দেশে পাড়ি দিয়েছেন। ১৯১৯ সালের ২২ মার্চ, প্যারিস ও ব্রাসেলসে সাপ্তাহিক বিমান সার্ভিস উদ্ধোধনের মধ্য দিয়ে বিশ্বে প্রথম আন্তজার্তিক বিমান সার্ভিস চালু হয়। ১৯১৯ সালের ৬ জুলাই, বিশ্বের প্রথম বিমান-ব্রিটিশ আর-৩৪ এর আটলান্টিক অতিক্রম। ১৯১৯ সালে জন এলকক ও আর্থার ব্রাউন প্রথম বিরতিহীন বিমান চালিয়ে আটলান্টিক অতিক্রম করেন। এতে তাঁদের সময় লেগেছিল প্রায় সাড়ে ১৬ ঘন্টা। ১৯১৯ সালের ২৫ আগষ্ট, লন্ডন ও প্যারির মধ্যে প্রথম বিমান চলাচল শুরু হয়। ১৯১৯ সালের ১৯ এপ্রিল, আন্তর্জািতক শ্রম সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯১৯ সালের ২৮ এপ্রিল, লীগ অফ নেশনস প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯১৯ সালের ২৮ জুন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে মিত্রশক্তি ও অক্ষশক্তির মধ্যে ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

১৯২০ সালে পিটার্সবার্গ শহরে পৃথিবীর প্রথম নিয়মিত বেতার কেন্দ্র চালু হয়। ১৯২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, ইংল্যান্ডে মার্কিনর নিয়মিত বেতার সম্প্রচার শুরু। ১৯২৬ সালে বিশ্বের প্রথম হৃদযন্ত্রের পেসমেকার স্থাপন করা হয়েছিল। এর আবিস্কারক ছিলেন ক্রাউন স্ট্রিট ওমেনস হসপিটালের এক নাম না জানা ডাক্তার। মূলত এর প্রশ্নবিদ্ধ নৈতিকতা ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার ভয়ে নাম প্রকাশ করেননি। আজও আমরা তাঁর আবিস্কারের সুফল ভোগ করছি। কিন্তু মূল আবিস্কারক তাঁর নাম প্রকাশ না করায় তিনি যন্ত্রটি আবিস্কারের স্বীকৃতিও পাননি। ১৯২৬ সালে বিশ্বের প্রথম টেলিভিশন আবিস্কার করেন স্কটিশ বিজ্ঞানী জন লুগি বেয়ার্ড ও তার দল সর্বপ্রথম লন্ডনে জনসমক্ষে টেলিভিশন সম্প্রচারে সফল হন। তখনকার ছবি ছিল সাদাকালো। তবে একই বছর তারা রঙিন ফিল্টার ব্যবহার করে টেলিভিশন রঙ্গিন ছবি সম্প্রচারেও সক্ষম হন। রাশিয়া, পশ্চিম ইউরোপ, ব্রিটেন ও আমেরিকার বেশ কিছু বিজ্ঞানী একই সময় টেলিভিশন তৈরীর জন্য কাজ করছিলেন। তবে সর্বপ্রথম স্কটিশ উদ্ভাবক জন লুগি বেয়ার্ড ও তাঁর দল ১৯২৬ সালে টেলিভিশন আবিস্কার করেন। ১৯২৯ সালে বিবিসি'র প্রথম পরীক্ষামূলক টেলিভিশন সম্প্রচার শুরু। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্ব কাপ ফুটবল খেলা শুরু হয়। ১৯৩৫ সালের ৩০ জুলাই, বিশ্বখ্যাত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান 'পেঙ্গুইন' প্রথম বইয়ের প্রকাশনা উৎসব পালন করে। ১৯৩৬ সালের ২৫ মে, নিগ্রো ক্রীড়াবিদ জেসি ওয়েনস বার্লিন অলিম্পিকের ৫টি বিশ্ব রেকর্ড ভঙ্গ করেন। ১৯৩৬ সালে বার্লিেন টেলিভিশনে একটি ফুটবল ম্যাচ প্রথমবারের মত দেখায়।

১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আরম্ব হয় জার্মানীর পোলান্ড আক্রমণের মধ্য দিয়ে; শেষ হয়-১৯৪৫ সালের ৯ মে, জার্মানীর বিরুদ্ধে বিজয় অর্জেনর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের অবসানে বিশ্বব্যাপী বিজয় উৎসব পালিত হয় এবং ১৯৪৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর, জাপানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পেনর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর ৭০তম বার্ষিকীতে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল জার্মান টেলিভিশনে বলেন, 'জার্মািন পোলান্ডে হামলা চালিয়েছে, জার্মািন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা করেছে। আমরা বিশ্বের অন্তহীন দুভোের্গর কারণ ছিলাম। যার ফলাফল ছিল ছয় কোটি মানুষের মৃত্যু।' বিবিসি ও এএফপি। ১৯৩৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু, শেষ হয় ০৯-০৮-১৯৪৫ তারিখ। ১৯৪১ সালের ১ জুলাই, সর্বপ্রথম টেলিভিশনে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন প্রচারিত হয় ২০ সেকেন্ডে নয় ডলার দরে। ১৯৪৪ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে বিশেষত যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউরোপের পুনর্গঠনকে সামনে রেখেই জাতিসংঘের প্রস্তাবে বিশ্বব্যাংক বা ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংক ফর রিকনস্ট্রাকশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথমে এশিয়া এবং আফ্রিকান দেশগুলো বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন সহায়তা না পেলেও ১৯৬০-এর দশক থেকে এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতি বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন ঋণ সহায়তা সম্প্রসারিত হয় এবং আশির দশক থেকে বিশ্বব্যাংক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নের কথা বলে সুনির্দিষ্ট প্রকল্পসমূহে অর্থৈনতিক ঋণ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। ১৯৪৪ সাল থেকে বিবিসির খবর সারা পৃথিবীব্যাপী প্রচার করা হয়।

১৯৪৫ সালের ৬ আগষ্ট, জাপানের হিরোশিমা নগরীতে ''লিটল বয়'' নামে ২০ হাজার টনের পারমাণবিক বোমার আঘাত হেনেছিল আমেরিকা। ৬ আগষ্ট, হিরোশিমা দিবস। হিরোশিমা-আক্রমণের আগে লোকসংখ্যা-দুই লাখ ৫৫ হাজার। আহত-৬৯ হাজার-তাৎক্ষণিক মৃত্যু-৬৬ হাজার-পরবর্তী সময়ে মৃতের সংখ্যা (১৯৪৫ সালের শেষ পর্যন্ত) ৭৪ হাজার। মোট মৃত্যু (১৯৫০ পর্যন্ত) প্রায় দুই লাখ। ১৯৪৫ সালের ৯ আগষ্ট, জাপানের নাগাসাকিতে ''ফ্যাট ম্যান'' আমেরিকার দ্বিতীয় আণবিক বোমা বর্ষণ। নাগাসাকি-আক্রমণের আগে লোকসংখ্যা-এক লাখ ৯৫ হাজার। আহত-২৫ হাজার। তাৎক্ষণিক মৃত্যু-৩৯ হাজার-পরবর্তী সময়ে মৃতের সংখ্যা (১৯৪৫ সালের শেষ পর্যন্ত) ৪১ হাজার। মোট মৃত্যু (১৯৫০ পর্যন্ত) প্রায় ৮০ হাজার। ১৯৪৫ সালে জাতিসঙ্গ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৫ সালের ৩ অক্টোবর, বিশ্ব ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৬ সালের ৪ নভেম্বর, জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেস্কো প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৬ সালের ১১ ডিসেম্বর, ইউনিসেফ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর, আন্তর্জািতক শ্রম সংস্থা 'আই.এল.ও.' প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫২ সাল থেকে বিশ্বে প্রথম বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ১৯৫৩ সালের ২৯ মে, নেপালের শেরপা তেনজিং নোরগেকে নিয়ে ও নিউজিল্যান্ডের পর্বতারোহী স্যার এডমন্ড হিলারি সর্বপ্রথম পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেষ্ট জয় করেন। শুক্রবার (১১-০১-২০০৮ তারিখ) এভারেষ্ট প্রথম বিজয়ী স্যার এডমন্ড হিলারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অকল্যান্ডের একটি হাসপাতালে মারা গেছেন।

১৯৫৫ সাল থেকে প্রতিবছর বার্ষিকী হিসেবে সারা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সংবাদ সংকলণ করে যে বই সেটিই ''গিনেস বুক অব ওয়াল্র্ড রেকর্ডস'' নামে পরিচিতি। বিশ্ব রেকর্ড করেছে এমন রেকর্ড এ বইয়ে স্থান পায়। বিশ্বের ৩১টি ভাষায় গিনেস বুক অণুদিত হয়। গিনেস বুকের হেড অফিস লন্ডনে। ১৯৫৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-এর প্রতিষ্ঠা। ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, দারির্দয বৃদ্ধির জন্য দায়ী বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-এর ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আসন্ন সিঙ্গাপুর সম্মেলনকে সামনে রেখে ০৪-০৯-২০০৬ তারিখ এক সেমিনারে বক্তারা দারির্দয বিমোচনে এ দু'টি আন্তর্জািতক অর্থৈনতিক সংস্থার ভূমিকা ও কর্মকান্ডের কঠোর সমালোচনা করেন। ১৯৬০ সালে বিশ্বের প্রথম মোবাইল ফোন সার্ভিস (প্রথমদিককার মোবাইল ফোনগুলো প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ানদের কাজের একটা বিশেষ সহায়ক যন্ত্র হিসেবেই ব্যবহৃত হতো) বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সর্বসাধারণের জন্য সর্বপ্রথম-এর প্রচলন হয়। সেবারই প্রথম ফ্রান্সের সরকারি রেল পরিবহন সংস্থা তাদের এক্সপ্রেস ট্রেনগুলোয় সম্ভান্ত যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য মোবাইল ফোন সরবরাহ শুরু করে। ১৯৬০ সালের ২০ জুলাই, সিংহলের মিসেস শ্রীমাভো বন্দরনায়েকে বিশ্বের সর্বপ্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বািচত হয়েছেন। ১৯৬৩ সালের ১০ জানুয়ারি, লন্ডনে বিশ্বের প্রথম পাতাল রেল চালু হয়।

১৯৬৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর, ইউনিভার্সিিট অব ক্যালিফোর্নিয়া ও স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিিটর গবেষকরা ছোট ল্যাবে দুটো কমপিউটারের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন। ১৯৭০ সালে এর নাম দেয়া হয় ইন্টারনেট। ১৯৭২ সাল নাগাদ তা দাঁড়ায় ৩২টিতে। পরবর্তীেত ন্যাশনাল ফিজিক্যাল ল্যাবরেটরিতে নেটওয়ার্কিট পুর্ণাঙ্গ রুপ লাভ করে। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ব জুড়ে। ১৯৭১ সালের ১৩ জুন, অস্ট্রেলিয়ার জেরাতিন ব্রডরিক একসঙ্গে ৯টি শিশু জন্ম দিয়ে বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টি করেন। এর মধ্যে ৫টি পুত্র ও ৪টি মেয়ে। ১৯৭৫ সালে বিশ্ব কাপ ক্রিকেট খেলা শুরু হয়। ১৯৭৬ সালের ২০ জুলাই, মার্কিন নভোযান ভাইকিং মঙ্গলগ্রহে অবতরণ করেন। ১৯৭৬ সালের আগষ্ট মাসে-মন্ট্রিল অলিম্পিকের আগ পর্যন্ত জিমনেস্টিকসে কোনো পুরুষ কিংবা মহিলা প্রতিযোগীই পূর্ণ দশ বা পারফেক্ট টেন স্কোর করতে পারেননি। তার পরই এল চার ফুট ১১ ইঞ্চি দৈর্ঘয আর ৮৬ পাউন্ড ওজনের এক বালিকা-নাদিয়া কোমানিচি। ১৪ বছরের এ রোমানিয়ান প্রতিযোগী বিচারকদের এতটাই আচ্ছন্ন করে ফেললেন যে তাঁরা বাধ্য হলেন, অলিম্পিক ইতিহাসের প্রথম প্রতিযোগী হিসেবে নাদিয়াকে পারফেক্ট টেন বা দশে দশ দিতে। এ আসরেই আরও ছয়বার পারফেক্ট টেন স্কোর করলেন এ বিস্ময় বালিকা। ১৯৭৮ সালের ২৫ জুলাই, মাতৃগর্ভের বাইরে প্রথম নবজাতক ভ্রণ শিশুর জন্ম। ১৯৭৮ সালে বিশ্বের প্রথম সিডি জাপানের সনি করপোরেশন ও হল্যান্ডের ফিলিপস কোম্পানি যৌথ প্রচেষ্টায় সর্বপ্রথম কমপ্যাক্ট ডিস্ক বা সিডি উদ্ভাবিত হয়। সিডি তৈরির প্রযুক্তি উন্নয়ন ১৯৭৮ সালে সম্পন্ন হলেও ১৯৮২ সালে জাপানের খোলাবাজারে এটি বাণিজ্যিকভাবে বিপণন শুরু হয়। সিডিতে ধারণকৃত গান শোনার যন্ত্রও বাজারে ছাড়া হয় একই সময়ে। সিডি অল্প সময়ের মধ্যে গ্রামোফোন রেকর্ডের জায়গা দখল করে নেয়।

১৯৮১ সালে পৃথিবীতে প্রথম এইড্‌স বা এইচ. আই. ভি'র জীবানু ধরা পড়ে। ১৯৮২ সালে গিনেস রেকর্ড অনুযায়ী পৃথিবীর দীর্ঘজীবী প্রাণী ছিল ২২০ বছর বয়সী একটি ঝিনুক। অবশ্য বেসরকারিভাবে আইসল্যান্ডের জাদুঘরে আরও একটি ঝিনুকের সন্ধান পাওয়া যায়, যার বয়স ছিল ৩৭৪ বছর। তবে বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে বয়সী প্রাণী হচ্ছে মিং, যার বয়স আনুমানিক ৪০৫ থেকে ৪১০ বছর। ছোট্ট টেপ রেকর্ডার আকৃতির এ সামুদ্রিক ঝিনুকটির খোঁজ পাওয়া গেছে আইসল্যান্ডের সমুদ্র উপকুলে। ধারনা করা হয়, চীনে যখন রাজতন্ত্র, তখন এর জন্ম। রানি প্রথম এলিজাবেথের শাসন এবং শেক্সপিয়ারকে নাটক ওথেলো ও হ্যামলেট লিখতে দেখতে দেখতে কেটেছে তার শৈশব। তবে মিং'ই সবচেয়ে বেশি দিন বেঁচে থাকার রেকর্ড অর্জন করেছে-এ পৃথিবীতে। ১৯৮৫ সালের ১৯ জুলাই, ইংল্যান্ডে একটি ঘোড়া ৩০-জন মানুষকে টেনেছিল। ১৯৮৫ সালের ৩০ জুলাই, ইত্তেফাক পত্রিকার রিপোর্ট-জাতিসংঘ তথ্য স্বীকৃতি, বিশ্বের যে পরিমাণ খাদ্যশস্য উৎপাদন হয় উহার অর্ধেক নারীর পরিশ্রমের ফসল। ১৯৮৭ সালের ৩ ডিসেম্বরের রিপোর্ট-পৃথিবীতে ১৬ লক্ষ ৩৪ হাজার প্রজাতির পাখি এবং ২ কোটি ৫০ হাজার প্রজাতির বৃক্ষের জন্ম হয়েছে। তারমধ্যে ৮,৫৮০ প্রজাতির পাখি এবং ১০,০০০ প্রজাতির বৃক্ষ বেঁচে আছে। ১৯৮৮ সালের ৫ জুনের রিপোট-বিশ্বে পুরুষ-স্ত্রীলোকের অনুপাত ৪৮: ৫২। ১৯৮৮ সালের ৫ আগষ্টের সংবাদ: মহিলারা পৃথিবীতে ৬৭% কাজ করে এবং পুরুষরা বাকি ৩৩% কাজ করে। তবু পুরুষ বলে যে, মহিলারা কোন কাজই করে না। ১৯৯৮ সালের ২৭ জুনের তথ্য: পারমাণবিক বোমার চেয়েও মারাত্মক বোমা দারিদ্র। ১৯৯৮ সালের ২২ অক্টোবরের তথ্য-বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সন্তান জন্ম দেয়, ৬৯(উনসত্তর) সন্তানের জননী মস্কোর বাসিন্দা। ২০০৩ সালের ৬ মে, হ্যালো ইন্ডিয়াতে দেখানো হয় যে, ভারতের মনিকা শর্মা ১১ মাসে ৮২ কেজি ওজন কমান। বিশ্বে গিনেজ বুক অব ওয়াল্র্ড রেকর্ডস আছে যে, ১১ মাসে ৫০ কেজি ওজন কমানোর রেকর্ড। সে বর্তমানে রোজ ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার রাস্তা হাটাহাটি করে। ২০০৬ সালের ১ আগষ্ট, ভারতের উত্তর প্রদেশের নীলাসর গ্রামের বিরমা রাম ৮৮ বছর বয়সে পুত্র সন্তান জন্ম দিলেন।