১৭৫৭ সালের ২৩ জুন, বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার শেষ নবাব সিরাজ উদ-দৌলাকে পরাস্ত করে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী ক্ষমতা দখল করেন। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন থেকে ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী ভারতবর্ষ ১০১(একশত এক) বছর শাসন করে এবং ১৮৫৮ সালের ১ নভেম্বর, বৃটিশ রাজতন্ত্র ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর কাছ থেকে ভারতের শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং ১৮৫৮ সালের ১ নভেম্বর থেকে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট পর্যন্ত বৃটিশ রাজতন্ত্র ভারতবর্ষ শাসন করে। ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী ও বৃটিশ রাজতন্ত্র ভারতবর্ষ শাসন করে মোট ১৯০(একশত নব্বই) বছর।

মানুষই শ্রমের বিনিময়ে বিশ্বের সবকিছু সৃষ্টি করেছে। ব্রিটিশরা ১৯৪৭ সালের ১৫ আগষ্ট, ভারতবর্ষ থেকে চলে যেতে বাধ্য হলে ভারতবর্ষ বিভক্ত হয়ে স্বাধীন ভারত ও পাকিস্তান নামে ২টি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। পাকিস্তানের জন্ম হয়েছিল বলে (তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের আয়ুকাল ছিল বা পাকিস্তানের শাসন-শোষণ ছিল ২৪ বছর ৪ মাস ৩ দিন) পরবর্তী পর্যােয় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় নয় মাস মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্ম হয়।

২০১৩ সালের ১৭ এপ্রিল, বাংলাদেশে বিভাগ-৭টি, জিলা-৬৪টি, থানা-১৪৪টির মধ্যে (রাজধানী ঢাকায় থানার সংখ্যা-৪৮টি এরমধ্যে ঢাকার উত্তরে-২৭টি এবং দক্ষিণে-২১টি থানা) এবং উপজেলা-৪৮৭টি। থানা-১৪৩টি ও উপজেলা-৪৮৭টি মোট ৬৩০টি। ৬৩০টির মধ্যে বাঞ্ছারামপুরও একটি উপজেলা। এ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও ১২৪টি গ্রামের মধ্যে ভেলানগরও একটি গ্রাম। এ গ্রামেরও একটি ইতিহাস রয়েছে। মির্যা ভেলার নামে ভেলানগর গ্রামের নামকরণ করা হয়। মির্যা ভেলা তুর্কি মুসলমান ও বলদাখাল পরগনার জমিদার ছিলেন (বলদাখাল বা বরদাখাত পরগনার পরিচয় কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলা, দেবিদ্বার উপজেলার আংশিক এবং বি-বাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলা ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলা)। আকা বাকের (জ্যোষ্ঠ)-এর আনুমানিক জন্ম-১৬১৫ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-জানা নেই। আকা বাকের তুর্কি মুসলমান ছিলেন, ঢাকার বিখ্যাত বাখরখানি রুটির প্রবর্তক ছিলেন তিনি নিজেই। আকা বাকেরের পুত্রের নাম পাওয়া যায়নি-আকা বাকেরের নাতি আহসান উল্লাহ খানের আনুমানিক জন্ম-১৬৭১ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-জানা নেই। আহসান উল্লাহ খান মুর্শিদকুলিখানের সময়ে হুগলীর ফৌজদার ছিলেন। আহসান উল্লাহ খানের পুত্র আকা সাদেকের আনুমানিক জন্ম-১৭০০ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-জানা নেই। (৩৮৬ বর্গমাইল এলাকা) বলদাখাল বা বরদাখাত পরগনার জমিদার ছিলেন। আকা সাদেকের পুত্র মির্যা ইব্রাহিম বেগ ওরফে মির্যা ভেলার আনুমানিক জন্ম-১৭২৯ খ্রি., মৃত্যু-জানা নাই। তিনিও ৩৮৬ বর্গমাইল এলাকার জমিদার ছিলেন। মির্যা ইব্রাহিম বেগ ওরফে মির্যা ভেলার তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের পরিচয় আযি-উন-নিসা খানমের জন্ম-১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-জানা নেই। পতি মীর আশরাফ আলী খানের বাড়ি-ইরানের সিরাজনগর, জন্ম-১৭৫৫ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৮২৯ খ্রিষ্টাব্দে। মীর আশরাফ আলী খানের ঢাকার বাদামতলিতে বিরাট অট্টালিকা ছিল। তিনিও বলদাখাল বা বরদাখাত পরগনার জমিদার ছিলেন। আযি-উন-নিসা খানমের দুই ছেলের মধ্যে এক ছেলের পরিচয় খান বাহাদুর সৈয়দ আলী মেহেদি খান (বড়ে খান)-জন্ম-১৭৮১ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-জানা নেই। বড়ে খান সাহেবের এক ছেলে সৈয়দ আসাদ-উদ-দীন হায়দর ওরফে আসাদ উল্লাহ খান (জন্ম-১৮০৬ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দে। আসাদ উল্লাহ খান সাহেবের তিন ছেলের মধ্যে ছোট ছেলের পরিচয় নবাব সৈয়দ মোহাম্মদ খান (নান্না সৈয়দ)-এর জন্ম-১৮৩৫ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যু-১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে। নান্না সৈয়দের পাঁচ ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে এক ছেলে ও দুই মেয়ের পরিচয় (১) ১ম কন্যা-পতি-শের-এ-বাংলা এ. কে. ফজলুল হক। তাঁর জন্ম-২৬-১০-১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যুঃ ২৭-০৪-১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে (২) দ্বিতীয় কন্যা-পতি-স্যার হাসান সোহরাওয়ার্দি (জাতীয় নেতা স্যার হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর জ্যেষ্ঠ ভাই) এবং (৩) বিখ্যাত সাংবাদিক ড. সৈয়দ হোসেনের জন্ম-১৮৮৮ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৯৪৯ না ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে(কায়রোতে)। সৈয়দ হোসেনের পত্নী-বিজয় লক্ষী পন্ডিত হলো ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী পন্ডিত জওহরলাল নেহেরুর ছোট বোন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধীর একমাত্র ফুফু। গ্রাম এবং শহর মিলে ভেলানগরে ১,৫৭৩টি পরিবার আছে। ভেলানগর গ্রামে বাস করে ১,১৮০টি আর বিদেশ ও শহরে বাস করে ৩৯৪টি পরিবার। আর বংশ, ছোট-বড় মিলে প্রায় ২৯টি।

খোশাল দিওয়ান মির্যা ভেলার নামে ১৮০০ থেকে ১৮১০ সালের মধ্যে 'ভেলানগর' গ্রামের নামকরণ করেন। তারপর ১৮৩০ থেকে ১৮৪০ সালের মধ্যে 'ভেলানগর বড়বাড়ি' নামকরণ হয়েছে। যখন বড়বাড়ি নামকরণ করা হয় তখন গ্রামের লোকসংখ্যা ছিল প্রায় ২৩৫(দুইশত পঁয়ত্রিশ) থেকে ২৫০(দুইশত পঁঞ্চাশ) জনের মতো। এ গ্রামের প্রথম ব্যাপারী ''মরহুম মোহাম্মদ জহির-উদ-দীন ব্যাপারী'' এ জহির-উদ-দীন ব্যাপারীর আমলে 'বড়বাড়ি' নামকরণ করা হয়েছে। ভেলানগর বড়বাড়ির বংশের তৃতীয় পুরুষ মরহুম মোহাম্মদ জহির-উদ-দীন ব্যাপারীর আপন তিন ভাই ও চাঁচাত দুইজন ভাইসহ তাঁদের পাঁচজনের নামগুলো দেয়া হলো: (১) মরহুম মোহাম্মদ জহির-উদ-দীন ব্যাপারী (২) মরহুম মোহাম্মদ রিয়াজ-উদ-দীন (৩) মরহুম মোহাম্মদ নাসির-উদ-দীন (৪) মরহুম মোহাম্মদ কালাগাযী ও (৫) মরহুম মোহাম্মদ মালাগাযী। বড়বাড়ির জমি-জমা ছিল বালুয়াকান্দি-রূপসদী গ্রামের সাথে। যেমন ভেলানগর গ্রামের পূর্বের মাঠের বা চকের বেশির ভাগ জমি-জমা, পশ্চিম মাঠের বা চকের প্রায় জমি-জমাগুলো ছিল বড়বাড়ির, গুনির মাঠের বা চকের বেশিরভাগ জমি-জমা ছিল বড়বাড়ির, মান্দালিয়ার বিলের, মাঠের বা চকের বেশির ভাগ জমি-জমা ছিল বড়বাড়ির, জাগুরিয়া মাঠের বা চকের বিশেরভাগ জমি-জমা ছিল বড়বাড়ির, বালুয়াকান্দি বাজারের বেশির ভাগ জমি-জমা ও রূপসদী বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের বেশির ভাগ জমি-জমাগুলো ছিল ভেলানগর বড়বাড়ির। সবচেয়ে বড় কথা হল যে-ভেলানগর বড়বাড়ির জমি-জমার ওপর ছাড়া গ্রামের অন্যান্য বংশের মানুষেরা তাঁদের জমি-জমা চাষ করতে যেতে পারত না। আর বড়বাড়ির লোকেরা তাঁদের জমা-জমিতে চাষ-বাস করতে অন্যের জমির ওপর পা রাখতে হতো না। আপনারা আরো জানার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা, গবেষণা ও অনুসন্ধান করতে পারেন-কেন ''বড়বাড়ি'' নামকরণ করা হয়েছে। গ্রামের লোকসংখ্যার তুলনায় বড়বাড়ির লোকসংখ্যা ছিল প্রায় ৯৫/৯৯ জন এবং গ্রামের বাড়িঘরের তুলনায় বড়বাড়ির ঘরবাড়ি ছিল অনেক বেশি যেমন জমি-জমা, ধন-সম্পদ ও বড় বড় ঘরবাড়ি ছিল। মানুষের তুলনায় জমি-জমা ও ধন-সম্পদ ছিল বেশি। তখন গ্রামের মধ্যে সব দিক দিয়ে মান-সম্মান ও প্রতিপত্ত্বি ছিল অনেক অনেক বেশি। বড়বাড়ির লোকদের আথিতেয়তা এ অঞ্চলের অনেক মানুষ ভুলতে পারে না।

ভেলানগরে আমাদের পূর্ব-পুরুষরা আসছে-১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে, নবীনগর থানার ইব্রাহিমপুর গ্রাম থেকে বর্তমানে মরহুম সিরাজ মৌলভী সাহেবের বাড়িটি যেখানে আছে সেইখানে আমাদের পূর্বপুরুষরা এসে প্রথম বসতি স্থাপন করেন। তারপর তৃতীয় পুরুষের সময় বর্তমানে বড়বাড়ির বংশের লোকেরা যেখানে আছি, সেখানকার স্থানে বাড়িঘর করে চলে আসেন। নবীনগর থানার ইব্রাহিমপুর গ্রামে আমাদের পূর্ব-পুরুষরা আসছে কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার জঙ্গলবাড়ি (ঈসা খা'র দ্বিতীয় রাজধানী হিসেবে পরিচিতি ছিল করিমগঞ্জ উপজেলার জঙ্গলবাড়ি) থেকে। কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার জঙ্গলবাড়িতে আমাদের পূর্ব-পুরুষরা আসছে ভারতের উত্তর-প্রদেশ থেকে। ভারতের উত্তর-প্রদেশে আসছে আমাদের পূর্ব-পুরুষরা মঙ্গোলিয়া ও আফগানিস্তান থেকে। আমাদের পূর্ব-পুরুষরা মঙ্গোলিয়া ও আফগানিস্তান থেকে ভারতের উত্তর-প্রদেশে এসে মিলিত হয়েছে। এর বেশি কিছু আর জানার চেষ্টা করিনি। ভেলানগর বড়বাড়িতে আমাদের বংশ ১০ম পুরুষের বাসস্থান। নবীনগর-ইব্রাহিমপুর থেকে ১২ মাইল পশ্চিমে ভেলানগরে আসে ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে।

খোশাল দিওয়ানের ছোট ভাই মুন্সেফ হোসাইন উদ-দীন মুনশির পরিবারটিও ৭ম পুরুষ শিক্ষিত। যেমন-(১) মুন্সেফ হোসাইন উদ-দীন মুনশি, জন্ম-১৭৯০ সালে, মৃত্যু জানা নেই। তাঁর ছেলে (২) ইউসুফ আলী, তাঁর জন্ম-১৮২৫ সালে, মৃত্যু-জানা নেই। তাঁর ছেলে (৩) মখলুক আহাদ-এর জন্ম-১৮৬০ সালে, মৃত্যু-জানা নেই। তাঁর ছেলে-(৪) লাল মিয়া দিওয়ান-এর জন্ম-১৮৯৩ সালে, মৃত্যু-১৯৫৫ সালে। তাঁর ছেলে-(৫) পেসকার-এর জন্ম-১৯৩০ সালে, মৃত্যু-২০০০ সালে। তাঁর ছেলে-(৬) সমির-এর জন্ম-১৯৬৪ সালে। তাঁর মেয়ে (৭) লিজা, এম. এ. পড়ে তার জন্ম-১৯৯০ সালে।

আমার বড় চাঁচার পরিবারটি ৬ষ্ঠ পুরুষ শিক্ষিত যেমন-(নিবন্ধকার মোঃ জাকির হুসেন (আলমগীর)-এর দাদার দাদা)-(১) জনাব মুহাম্মদ জহির-উদ-দীন-জন্ম-১৭৯৭ সালে, মৃত্যু-১৮৭৮ সালে। খোশাল দেওয়ানের বাড়িতে পারিবারিক স্কুলে লেখাপড়া করেছে আরবী ও ফারসী ভাষায়। (২) মুনশি মোহাম্মদ ইউসুফ আলীর জন্ম-১৮২৯ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে, ইউসুফ আলী আরবী-ফারসী ও বাংলা ভাষায় লেখাপড়া জানতেন। ইউসুফ আলীর ছেলে-(৩) মুনশি মুহাম্মদ হায়দর আলীর জন্ম-১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ ডিসেম্বর, মৃত্যু-১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে (হায়দর আলী আমার দাদা), হায়দর আলী ঢাকার নবাববাড়িতে থেকে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। মুনশি মুহাম্মদ হায়দর আলী বাঞ্ছারামপুর থানারবাসীর মধ্যে প্রথম নায়েব। তাঁর ছেলে-(৪) মুনশি মোহাম্মদ জিন্নত আলী (কান্দু মিঞার) জন্ম-১৮৮৮ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ ডিসেম্বর, মৃত্যু-৩০-১২-১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে (কান্দু মিঞা)-উনি নবীনগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় ফেল করেন। কান্দু মিঞাও নায়েব ছিলেন। তাঁর ছেলে-(৫) মোঃ আজহারুল হক (নসু মিঞার)-জন্ম-১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে, মৃত্যু-১৩-০৭-১৯৭১ তারিখ। প্রথম জীবনে চাকুরী করতেন এবং পরবর্তী জীবনে ছয়ফুল্লাকান্দি ইউিনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর ছেলে-(৬) মোঃ জিয়াউদ্দিন আহমদ (বায়েস)-এর জন্ম-২৫-১২-১৯৫১ তারিখ, মৃত্যু-১০-০৭-২০১২ তারিখ, তার মৃত্যু বড়বাড়ির ৬৪৪তম মৃত্যু। তার ছেলে-(৭) রাকীব আহম্মদ (রাকু)'র জন্ম-২৩-১০-১৯৭৭ তারিখ। আমার বড় জেঠার পরিবারটি ৭ম পুরুষ শিক্ষিত ও খালেক আমীন সাবের পরিবারটিও ৭ম পুরুষ শিক্ষিত।

সরকারবাড়ি যাঁর নামে নামকরণ করা হয়েছেঃ তিনি হলেন সরকার আমির-উদ-দীন। উনার পরিবারটি ৬ষ্ঠ পুরুষ শিক্ষিত। (১) আমির-উদ-দীন সরকার, জন্ম-১৮২৯ সালে, মৃত্যু-১৯১৮ সালে। তাঁর ছেলে (১) সাবির-উদ-দীন মুনশি, জন্ম-১৮৬১ সালে, মৃত্যু-১৯২৬ সালে। তাঁর ছেলে (৩) লাল মিয়া মৌলভী, জন্ম-১৮৮৯ সালে, মৃত্যু-১৯৫৭ সালে। তাঁর ছেলে (৪) মোঃ ফিরোজ দারোগা, জন্ম-১৯১৫ সালে, মৃত্যু-১৯৯৩ সালে। তাঁর ছেলে (৫) অধ্যাপক মোঃ ফরিদ উদ্দীন আহমেদ, জন্ম-১৯৪৫ সালে, মৃত্যু-জানা নেই। তাঁর ছেলে (৬) ড. সেফকাত রহমান, জন্ম-১৯৭৩ সালে।

১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর, পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের এবং ১৭ ডিসেম্বর, প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের ঘোষণানুযায়ী। এ নির্বাচনে ৩১৩টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ কয়টি আসন পায় ১৬৭টি। সামুদ্রিক ঝড় ও জলোচছাসের কারণে ১৭ ডিসেম্বর, প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১৭ জানুয়ারি।

১৯৭১ সালের ৯ জানুয়ারি, মওলানা ভাসানীর আহবানে স্বাধীনতা সংগ্রামের পন্থা ও কর্মসূচী নির্ধারণের জন্য টাঙ্গাইলের সন্তোষে সর্বদলীয় সম্মেলন এবং লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৫-দফা কর্মসূচী ঘোষণা।

১৯৭১ সালের ১ মার্চ, স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।

১৯৭১ সালের ১ মার্চ, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ৩ মার্চ অনুষ্ঠেয় পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন।

১৯৭১ সালের ১ মার্চ, বডি বিল্ডার খসরু পাকিস্তানের পতাকাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগ থেকে সহিদ মিনারে পতাকাটি নিয়ে পুড়ানো হয়।

১৯৭১ সালের ২ মার্চ, ১৯৭১ সালের এ দিনে ১৯৬২ সালে স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াসের প্রতিষ্ঠাতা, স্বাধীনতার রূপকার সিরাজুল আলম খানের অনুপ্রেরণায় তৎকালীন ডাকসুর সহ-সভাপতি আ. স. ম. আব্দুর রব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলন করেন।

১৯৭১ সালের ২ মার্চ, তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের দৃশ্যপট বদলে যায়।

১৯৭১ সালের ৩ মার্চ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে অসহযোগ আন্দোলন শুরু।

১৯৭১ সালের ৪ মার্চ, সারা বাংলায় সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়।

১৯৭১ সালের ৫ মার্চ, গণপ্রতিরোধের মুখে সেনাবাহিনীকে রাজপথ থেকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া হয়।

১৯৭১ সালের ৬ মার্চ, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহবান করেন। অপর এক ঘোষণায় তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের গভর্ণর হিসেবে জেনারেল টিক্কা খানকে নিয়োগের কথা জানান। কেন্দ্রীয় কারাগার ভেঙ্গে বেরিয়ে আসে ৩০০ জন বন্দি। কারা বিদ্রোহ ঠেকাতে পুলিশ গুলি ছুড়লে ৭ জন বন্দি নিহত হয়।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ, ''রেসকোর্স ময়দানে'' বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণটি দেন।

১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ, জয়দেবপুরের ঘটনাই ছিল প্রথম বিদ্রোহ। ১৮৫৭ সালের পর ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চের মতো ঘটনার নজির বিরল। এটাই ছিল প্রথম বিদ্রোহ। সেনার বিরুদ্ধে জনতার এ বিদ্রোহ একটি বড় ঘটনা। কিন্তু এ নিয়ে খুব প্রচার নেই।

১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ, ঢাকায় জয়দেবপুরে সেনাবিদ্রোহ।

১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ, তৎকালীন 'পূর্ব-পাকিস্তান' অঘোষিতভাবে স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশে পরিণত হয়েছিল। পাকিস্তানের প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে পালিত ২৩ মার্চেক প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করার ডাক দিয়েছিল স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। ২৩ মার্চ ছিল পাকিস্তান দিবস হিসেবে পালন করার দিন। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ, সেই ইতিহাস বদলে গেল। ঘরে ঘরে উড়ছে বাংলাদেশের পতাকা। ঢাকার পল্টন ময়দানে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে মার্চ পাস্ট।

১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ, যশোর ইপিআর সদর দফতরে জোয়ানদের বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন।

১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষায় উন্মুখ ছাত্র-জনতার আন্দোলন চুড়ান্ত পর্যােয় উন্নীত হয়েছিল। আগের দিন দেশের সর্বত্র স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানোর খবর প্রকাশিত হয়েছিল সবক'টি দৈনিকে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ, পূর্ব-পাকিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে তৎকালিন প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান। তিনি ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের হত্যাযজ্ঞকে 'সিলেকটিভ জেনোসাইড'বলে বর্ণনা করেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ, ''পুলিশের প্রথম প্রতিরোধ দিবস পালন''-৩৬ জনকে সংবর্ধনা।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস।

১৯৭১ সালের ৮ এপ্রিল, প্রবাসে প্রথম বাঙালি বিদ্রোহী দল (১) আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী (২) বদিউল আলম (৩) আহসানউল্লাহ (৪) আবদুল রকিব মিয়া (৫) আবিদুর রহমান (৬) মোঃ রহমতউল্লাহ (৭) সৈয়দ মোশাররফ হোসেন ও (৮) আমিনউল্লাহ শেখ। এ আটজন ফরাসি থেকে পাকিস্তানি ডিজেল ইলেকট্রিক চালিত সাবমেরিন ১৯৭১। এ আটজনের বিদ্রোহী দলটি ফরাসি থেকে পালিয়ে বোম্বে আসার বিমানটিতে উঠে বোম্বে বিমানবন্দরের মাটিতে পা রাখে। তাঁদের মধ্যে আবদুল রকিব মিয়া শত্রুর জাহাজে মাইন লাগাতে যেয়ে মারা যান অক্টোবরে। পরবর্তীেত গড়ে উঠেছিল মুক্তিযুদ্ধের নৌকমান্ডোর দল।