এ পৃথিবীর আমার

চেনা-জানা মানুষ

রচনা, সংগ্রহ ও সম্পাদনা:

মোঃ জাকির হুসেন ওরফে আলমগীর

সহযোগিতায়: আবির হোসেন জিয়ান।

জিয়ান বড়বাড়ি প্রকাশনী, ঢাকা।

এ পৃথিবীর আমার

চেনা-জানা মানুষ

রচনা, সংগ্রহ ও সম্পাদনা:

মোঃ জাকির হুসেন ওরফে আলমগীর

সহযোগিতায়: আবির হোসেন জিয়ান।

প্রকাশক: মোঃ জাকির হুসেন ওরফে আলমগীর।

স্বত্ত্ব: লেখক র্কতৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত।

কমপিউটার কম্পোজ: মোঃ জাকির হুসেন ওরফে আলমগীর।

প্রচ্ছদ: মোঃ জাকির হুসেন ওরফে আলমগীর

মুদ্রণে: জিয়ান বড়বাড়ি প্রকাশনী।

মূল্য: ১,০০০.০০(এক হাজার) টাকা মাত্র।

সূলভ মূল্য: ৭৫০(সাতশত পঁঞ্চাশ) টাকা মাত্র।

ঊৎসর্গ করছি-

জনমুক্তি পার্টির সাবেক সভাপতি নাজমুল আলম ভূঁইয়া ওরফে মাহফুজ ভাই-

এর স্মরণে

মোজাহু,

৩১-১২-২০১৬ তারিখ,

মোঃ জাকির হুসেন ওরফে আলমগীর

ডেপুটি রেজিস্ট্রার(অবসর)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। গ্রাম-ভেলানগর(বড়বাড়ি)।

ক্রমিকবিষয়সূচীপৃষ্ঠা
ভূমিকা:০৫-০৬
বিশ্ব ও ভারতীয় উপমহাদেশের কিছু স্মরণীয় ঘটনা এবং বিশ্বের কিছু মহান ব্যক্তিদের০৭-১২৫
জন্ম-মৃত্যুর কথা:
আমার কিছু কথা:১২৬-১৩৮
প্রথমে মা, বাবা, ভাই-বোন, জেঠা-জেঠী ও জেঠাতো-ভাইবোন, আমার বংশের লোকজন১৩৯-১৯৯
ও জন্ম-মৃত্যুঃ
আমার নানাবাড়ির লোকজন, চেনা-আত্ত্বীয়-স্বজনদের নাম ও জন্ম-মৃত্যুঃ২০০-২০৯
আমার স্কুল সহপাঠী, প্রাইমারী ও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, স্কুল জীবনে সিনিয়র ও২১০-২২৮
জুনিয়র ভাইদের নাম এবং জন্ম-মৃত্যু:
আমার গ্রামের চেনা-জানা লোকজনের নাম ও জন্ম-মৃত্যুঃ২২৯-২৯৫
আমার পাশের গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলার চেনা মানুষগুলোর নাম ও জন্ম-মৃত্যু:২৯৬-৩৩১
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা কল্যাণ সমিতির মাধ্যমে যাঁদের সাথে পরিচয় ও আমার অফিসে৩৩২-৩৫১
বাঞ্ছারামপুরবাসী যাঁরা এসেছেন তাদের নাম ও জন্ম-মৃত্যু :
জেলা, বিভাগ ও বাংলাদেশের লোকজনদের নাম ও জন্ম-মৃত্যুঃ৩৫২-৩৫৪
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাঁরা চাকরি করেছে, আমার চাকরিজীবনে যাঁদের সাথে পরিচয় হয়৩৫৫-৪৪৭
তাদের নাম ও জন্ম-মৃত্যু:
ঢাকা শহরে যাঁদের সাথে চেনা-জানা হয়েছে তাদের নাম ও জন্ম-মৃত্যু:৪৫১-৪৮৬
এশিয়া মহাদেশের কিছু চেনা-জানা মানুষের নাম জন্ম-মৃত্যুঃ৪৮৭-৪৯১
ভারতের কিছু চেনা-জানা মানুষের নাম জন্ম-মৃত্যুঃ৪৯২-৫২৫
পাকিস্তানের কিছু চেনা-জানা মানুষের নাম ও জন্ম-মৃত্যুঃ৫২৬-৫৩০
বাংলাদেশের কিছু চেনা-জানা মানুষের নাম জন্ম-মৃত্যুঃ৫৩১-৬২৩
আফিকা মহাদেশের কিছু চেনা-জানা মানুষের নাম জন্ম-মৃত্যুঃ৬২৪-৬২৫
ইউরোপ মহাদেশের কিছু চেনা-জানা মানুষের নাম জন্ম-মৃত্যুঃ৬২৬-৬৩৯
ওসেনিয়া মহাদেশের কিছু চেনা-জানা মানুষের নাম জন্ম-মৃত্যুঃ৬৪০-৬৪০
উত্তর আমেরিকা মহাদেশের কিছু চেনা-জানা মানুষের নাম জন্ম-মৃত্যুঃ৬৪১-৬৫৭
দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের কিছু চেনা-জানা মানুষের নাম জন্ম-মৃত্যুঃ৬৫৮-৬৫৯
আমার চাওয়া পাওয়া:৬৬০-৬৬২

।ভূমিকাঃ।

মানুষই শ্রমের বিনিময়ে বিশ্বের সবকিছু সৃষ্টি করেছে। ব্রিটিশরা ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট, ভারতবর্ষ থেকে চলে যেতে বাধ্য হলে ভারতবর্ষ বিভক্ত হয়ে স্বাধীন ভারত ও পাকিস্তান নামে ২টি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। পাকিস্তানের জন্ম হয়েছিল বলে(তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের আয়ুকাল ছিল ২৪ বছর ৪ মাস ৩ দিন) পরবর্তী পর্যােয় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় নয় মাস মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্ম হয়। ২০১৫ সালের ৩১ ডিমেম্বর, বাংলাদেশের মানুষ শহরে বাস করে ৩৫ ভাগ আর গ্রামে বাস করে ৬৫ ভাগ মানুষ।

আমার অনেকদিনের চিন্তা-ভাবনা ছিল যে-এ পৃথিবীর চেনা-জানা মানুষের নাম দিয়ে একটি বই রচনা করা। আমি কতদূর পারছি, এ কাজ করতে-আর কতদূর পারি নাই-এর বিচার জনগণের ওপর ছেড়ে দিলাম। আমি এ পৃথিবীতে বেঁচে থাকা পর্যন্ত চেনা-জানা মানুষের পরিধি বাড়তে থাকবে। অতি পরিচিত চেনা-জানা অনেক মানুষের নাম বাদ পড়তে পারে। আবার এমণও হতে পারে যে অনেক মানুষকে ভাল করে চেনা-জানা হয়নি তাঁর নাম এ বইয়ে এসেছে। এ কাজটা করার জন্য আমার জীবন সব সময় টানে। মানুষের জীবনটা একটা গবেষণাগার। গবেষণার বাহিরে কিছু নেই। মানুষ গবেষণা করতে করতে তার লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। জীবন আছে বলেই তাঁর মরণ আছে। জীবন-মরণ নিয়েই প্রাণীর বাস।

আমি কেন এ পৃথিবীর চেনা-জানা মানুষের নাম দিয়ে বই লিখতে গেলাম। এর কারণ হলো আমি এ পৃথিবীর কতজন মানুষকে চিনতে পেরেছি বা জানতে পেরেছি তা জানার জন্য। এর বাহিরেও অনেক মানুষ আছে আমার চেনা-জানা তাঁদের নাম এ মুহুর্তে মনে করতে পারছি না বলে আমার এ বইয়ে তাঁদের স্থান হয়নি। যখন আমি তাঁদের চিনতে বা জানতে পারব তখনই আমার বইয়ে তাঁদের স্থান হবে। আমার মৃত্যুর পূর্ব মহুর্ত পর্যন্ত অনেক মানুষকে চিনতে-জানতে পারব। চেনা-জানার কাজটি আমি শেষ করব না। এ কাজ আমি করে যাব। আমার স্মৃতিশক্তি কেমন তা প্রমাণ পাওয়ার জন্য আমি এ কাজ করে যাব। এ বইয়ে লিপিবদ্ধ করেছি যাঁদের তাদের কথা মনে আছে। যাঁদের কথা মনে নেই তাঁদের নাম বাদ পড়েছে আমার বইয়ে। কিন্তু আমি চেষ্টা করছি তাঁদের নাম কিভাবে মনে করতে পারি। যখনই তাঁদের নাম মনে হবে তখনই আমার বইয়ে তাঁদের নাম লিখে ফেলব। আবার কারো কারোর নাম দু'বার এসেছে। আবার কারো কারোর নাম একবারও আসেনি, এমণও হতে পারে বা হয়েছেও তাই। এ পৃথিবীর আমার চেনা-জানা বইয়ে প্রায় ১৫(পনের) হাজার মানুষের নাম লিখার চেষ্টা করছি।

পরিশেষে এ কথা বলতে চাই যে, প্রায় ১৫(পনের) হাজার এ পৃথিবীর চেনা-জানা মানুষের নাম ও জন্ম-মৃত্যু এ বইয়ে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছি। কারো কারোর নাম দু'বার হয়েছে বা অনেকের নাম আসার কথা ছিল কিন্তু একবারও আসেনি। তাঁদের নামগুলো মনে করতে পারিনি। অনেকের চেহারা মনে করতে পারি-কিন্তু তাঁদের নামগুলো মনে করতে পারিনি বলে এ বইয়ে নামগুলো দিতে পারিনি। ক্ষেত্র বিশেষে জন্ম ও মৃত্যু তারিখের গড়মিল সমস্যা সম্বলিত কিছু ভুল-ত্রুটি হতে পারে। এজন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।

প্রথমে ৩১-১২-২০১৫ তারিখ পর্যন্ত এ পৃথিবীর আমার চেনা-জানা মানুষের সংখ্যা কতজন হতে পারে-তার তালিকা করা হয়েছিল। পরে পুনরায়ঃ সময় বাড়িয়ে ৩১-১২-২০১৬ তারিখ পর্যন্ত। পরে চিন্তা করে দেখেছি যে, এ কাজ আমার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চলতে থাকবে। এ বই সাধু-চলতি ভাষার সংমিশ্রনে লেখা। ভাষা জ্ঞান আমার একেবারে নেই বললেই চলে।

মো: জাকির হুসেন ওরফে আলমগীর, ডেপুটি রেজিস্ট্রার(অবসর), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। গ্রাম-ভেলানগর(বড়বাড়ি), পোঃ-রূপসদী, উপজেলা-বাঞ্ছারামপুর, জিলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

বিশ্ব ও ভারতীয় উপমহাদেশের কিছু স্মরণীয় ঘটনা এবং বিশ্বের কিছু মহান ব্যক্তিদের জন্ম-মৃত্যুর কথা:

৪০(চল্লিশ) লক্ষ বছর আগের মানুষ। বিবিসি: জীবাশ্ম বিজ্ঞানীরা ইথিওপিয়ার মনুষ্য প্রজাতির একটি অংশের কিছু হাড়ের যে অংশ আবিস্কার করেছেন তা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ বছরের পুরানো বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর আগে ১৯৭৪ সালে যে মানুষের জীবাশ্ম আবিস্কৃত হয়েছিল এতদিন পর্যন্ত সেটিকেই প্রাচীনতম বলে মনে করা হচ্ছিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, তাদের অনুমান সদ্য আবিস্কৃত এ প্রজাতির মানুষ দু'পায়ে সোজা হাঁটতে সক্ষম ছিল। ৩০(ত্রিশ) লক্ষ বছর আগে মানুষ আসছে পৃথিবীতে এবং আজকের মানুষ প্রায় ৭৫(পঁচাত্তর) হাজার বছর আগে। কেমব্রিজের অ্যাংলিয়া রাসকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিও জেনেটিকসের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ড. পিটার ফরস্টার বলেন, পূর্ব আফ্রিকায় এক লাখ ৯৫ হাজার বছর আগে হোমোস্যাপিয়েন্স বা আধুনিক মানবের উদ্ভব ঘটে। আর জায়গাটি ছিল সম্ভবত বর্তমান ইথিওপিয়ার ওমো নদীর তীরবর্তী কোনো অঞ্চল। ৩১,৭০০ বছর আগে পৃথিবীতে কুকুর ছিল ২০০৮ সালের ২৮ অক্টোবর, আন্তর্জািতক বিজ্ঞানীদের একটি দল দাবি করেছে। এরা তখন ঘোড়া, হরিণ খেয়ে বেঁচে থাকত। ১০,০০০ হাজার খৃষ্টপূর্বে পৃথিবীতে কৃষি-কাজের প্রচলন শুরু হয়। পৃথিবীর কৃষি নিভর্রর আদিম জীবনের যুগ অতিবাহিত হয় ১০(দশ) হাজার বছর ধরে। ১০,০০০(দশ হাজার) বছর পূর্বে সোমালিয়া, বেবীলন-ইরাক সভ্যতা আরম্ভ।

বিশ্বের প্রথম ধান কবে কখন কোথায় মানুষ সর্বপ্রথম ধান বা চালের ব্যবহার শুরু করে তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া দায়। ধারণা করা হয়, সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই চালের ব্যবহার শুরু হয়। আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব সাত হাজার বছর আগে উত্তর থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ চীন উপকূলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে প্রথম ধান চাষ হয়-বিভিন্ন গবেষণায় এ রকম তথ্যই পাওয়া যায়। বিশ্বের প্রথম ফুটবল কোথায় সর্বপ্রথম ফুটবল খেলা হয় তা নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। তবে বলা হয়ে থাকে, ফুটবলের সূতিকাগার হলো প্রাচীন চীন। প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে ফুটবল খেলার প্রবর্তন হয়। প্রাচীনকালে মূলত দুই দল লোক একে অন্যকে আক্রমণের মহড়া হিসেবে ফুটবল খেলত। প্রাচীন ফুটবলে কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন ছিল না। খ্রিষ্টপূর্ব তিন শতাব্দীর কিছু আগে বিনোদন হিসেবে বর্তমান ধারার ফুটবল খেলার সূত্রপাত হয়। ৭(সাত) হাজার বছরের ইতিহাস জানি মাত্র আমরা, যখন থেকে মানুষ তার ইতিহাস লেখে। গাছের বয়স ৭(সাত) হাজার বছর।

খৃষ্টপূর্ব ৫০০০ সালে ইউরোপ মহাদেশের গ্রীসে প্রথম রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাফেরা শুরু করে। ৫(পাঁচ) হাজার বছর পূর্বে পৃথিবীর সভ্যতা আরম্ভ। ৪৬০০-৪৮০০ খৃষ্টপূর্ব প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন লাভ। (সাড়ে ৬ হাজার বছরের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন লাভ।) জানাগেছে জার্মানী, অস্ট্রিয়া ও শেস্নাভাকিয়ার ভিন্ন ভিন্ন স্থানে নিদর্শনগুলো আবিস্কৃত হয়েছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর নিদর্শেনর মধ্যে রয়েছে ১৫০টির বেশি বিশালায়তনের উপাসনালয়। ধর্মীয় প্রয়োজন থেকে কোন জনগোষ্ঠী উপাসনালয়গুলো নির্মাণ করে থাকবেন, যাদের পেশা ছিল পশুপালন। উপাসনালয়সমূহের দৈর্ঘয ১৫০ মিটার। পূর্ব জার্মানীর লেইপনিং এলাকার আইথরা গ্রামে আবিস্কৃত উপাসনালয়ের চাঁরপাশে অন্ততঃ ২০টি ভবন পাওয়া গেছে। এসব ভবনে ৩শ' লোক বাস করতো বলে ধারণা করা হয়। সদ্য আবিস্কৃত এ জনপদের এখনও কোন নামকরণ করা হয়নি। টানা ৩-বছর খননকার্য চালিয়ে সম্প্রতি প্রাচীন-এ সভ্যতার নিদর্শন খুঁজে পাওয়া যায়। বিশ্বের প্রথম দাবা বর্তমান পাকিস্তানের ইন্দাস উপত্যকায় প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগে দাবা খেলার সূত্রপাত হয়। সেকালে দাবাডূরা আজকের মতোই ৬৪ বর্গের ছক কাটা সিরামিক বোর্ডে দাবা খেলতেন। তাতে থাকত হাতি, রাজা, নৌকা ও ঘোড়া। হরপ্পার কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক ক্ষেত্রে এসবের নমুনা পাওয়া গেছে।

খ্রিষ্টপূর্ব ৪২০০ অব্দে প্রায় যতদূর জানা যায়, বিশ্বের প্রথম নগর পারস্য উপকুলে ইরিডু নামক একটি নগর গড়ে ওঠে। সুমেরিয়ান ভাষায় রচিত ইতিহাসে-এর প্রমাণ পাওয়া যায়। যদিও এর আগে কিছু ছোট শহরের অস্তিত্ব পাওয়া যায়; কিন্তু ইরিডুই সর্বপ্রথম একটি পূর্ণাঙ্গ নগরের মর্যাদা পায়, যেখান থেকে রাষ্ট্রের অর্থনীতি ও শাসননীতি পরিচালিত হতো। খৃষ্টপূর্ব ৪০০০ হাজার সালে বিশ্বের প্রথম উন্মুক্ত খনন ভূগর্ভস্থ মূল্যবান পাথর অনুসন্ধানের জন্য প্রাচীন মিসর ও মেসোপটেমিয়ায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে খনন করা হতো। বেঁচে থাকার জন্য প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ প্রকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, প্রকৃতির বিশাল ভান্ডার থেকে খুঁজে নিয়েছে তার প্রয়োজনের জিনিসটি। ৪০০০-৩০০০ খৃষ্টপূর্ব মিশরের সভ্যতার উম্মেষ। মানুষ কিসের জোরে টিকল হাতিয়ারের জোরে পশুকে বশ করল এবং পরে আগুন আবিস্কার করে মানুষ নিজে এ জোর আবিস্কার করেছে। সভ্যতার দিকে এগিয়ে গেল মানুষ। কাঠের চাকা আবিস্কারের ৬২০০ বছর পরে স্টীম ইঞ্জিন ও সংযুক্তিযানের যুগ শুরু হয়। বিশ্বের প্রথম চাকা গুহাবাসী মানুষ চাকা তৈরীর পদ্ধতি জানত না। স্বাভাবিক ধারণার চেয়ে অনেক পরে আবিস্কৃত হয়েছে চাকা। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় সর্বপ্রথম এর অস্তিত্ব পাওয়া যায় মেসোপটেমিয়ায় (আজকের ইরাক)। তার মানে যানবাহনে চাকার ব্যবহার শুরু হয় খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ সহস্রাব্দের মাঝামাঝি। আজও আমরা এর কোনো বিকল্প খুঁজে পাইনি।

৩৫০০ খৃষ্টপূর্বে ইতিহাস ঘাটিলে দেখা যায়, মেসোপটেমিয়ায় লাইব্রেরীর প্রচলন ছিল। ৩৫০০ খৃষ্টপূর্বের কাছাকাছি সময়ে এসে পালতোলা নৌকার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়। ৩০০০ হাজার খৃষ্টপূর্বের অনেক আগেই গাধাকে পোষ মানানো হয়েছিল। খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ হাজার বছরের কাছাকাছি সময়ের যে সুমেরীয় যুদ্ধরথের ছবি পাওয়া যায় তা দেখে মনে হতে পারে যুদ্ধরথটি টানছে ঘোড়া-কিন্তু এ বিষয়ে যাঁরা বিশেষজ্ঞ তাঁদের ধারণা-ঘোড়া নয় গাধা। বিশ্বের প্রথম নীতিগল্প খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ হাজার সালে সুমেরীয় সাহিত্যে ছোটগল্প খুবই জনপ্রিয় ছিল। নৈতিকথার শিক্ষাদানের লক্ষ্যেই প্রধানত ওই সব গল্প লেখা হতো। ঈশপের গল্পে এ ধরনের নীতিকথার সন্ধান মেলে। কুকুর, শেয়াল, বাঁদর, গরু, হাতি, শূকর প্রভৃতি প্রাণী সেসব গল্পের চরিত্র হিসেবে উঠে আসত। বিশ্বের প্রথম কালি মানবসভ্যতার প্রথমদিককার দিনগুলোয় শক্ত তলে দাগ কেটে কিংবা কাদামাটিকে নানা আকার দিয়ে লেখা হতো। মিসরীয়রা প্যাপিরাস কাগজ আবিস্কারের আগেই ৩০০০ খ্রিষ্টপূর্বােব্দ কালি তৈরী করে। পরবর্তী কালে প্যাপিরাস উদ্ভাবনের পর কালিই হয়ে ওঠে লেখার জন্য আদর্শ মাধ্যম। তখনকার দিনে মূলত মৃত মানুষ ও পশুপাখির হাড় শুকিয়ে-পুড়িয়ে তরল কালি তৈরী করা হতো। বিশ্বের প্রথম পস্নাইউড প্রাচীন মিসরে সর্বপ্রথম পস্নাইউড আবিস্কৃত হয়। সঠিক দিনক্ষণ জানা না গেলেও প্রাপ্ত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ধারণা করা হয়, খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ সময়ে পালাইউডের প্রচলন ছিল। তখনকার পস্নাইউড অবশ্য বর্তমান সময়ের পস্নাইউডের মতো মসৃণ ও সুন্দর ছিল না। ভিন্ন ভিন্ন ছয় ধরনের কাঠের সংমিশ্রণে ওই পস্নাইউড তৈরী করা হতো।

খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ হাজার বছর আগে মিসর সরকার বিশেষ ধরনের পুলিশ বাহিনী নিয়োগ দেয়। প্রাচীন মিসরে বিশ্বের প্রথম পুলিশ বাহিনীর প্রচলন ছিল-এমন তথ্য জানা গেছে। সমগ্র মিসরের বিভিন্ন অঞ্চল ছিল তাদের কর্মেক্ষত্র। প্রত্যেক জেলা প্রশাসনে একজন করে পুলিশ কমিশনার নিয়োগপ্রাপ্ত হতেন। বেসামরিক আমলাতন্ত্র এবং কিছু আইনগত দিকও ওই পুলিশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল। ৩০০০ হাজার খৃষ্টপূর্বের অনেক আগেই প্রত্নবিদদের মতে সিরিয়ার বা মেসোপটেমিয়ার রোদে শুকিয়ে নেওয়া মাটির ইটের প্রচলন হয়েছিল। খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ সালে এসে নিশ্চিতভাবে বলা চলে, ভূমধ্যসাগর বা আরবসাগরের ওপর দিয়ে পালতোলা নৌকার রীতিমত যাতায়াত শুরু হয়েছে। ৩০০০ হাজার খৃষ্টপূর্ব প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায় কাদা দিয়ে তৈরি আয়তাকার ব্লকে মানচিত্র আঁকা হতো। খ্রিষ্টের জন্মের তিন হাজার বছর আগেকার এমনই একটি মানচিত্র পাওয়া গেছে ইরাকের কিরকুক শহরে। তাতে ১২৭টি আলাদা ভূখন্ড, কিছু পাহাড় এবং একটি নদীর ছবি আছে। এর চারকোণায় আছে কম্পাসের দিকনির্দেশনা, তবে ওপরের দিকে ধরা হয়েছে পূর্ব। কাছাকাছি সময়ের আরেকটি মানচিত্রে নয়টি গ্রাম ও তার মধ্য দিয়ে বয়ে চলা নদী ও রাস্তার ছবি খুব স্পষ্টভাবেই ধরা পড়ে।

খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০(তিন হাজার) শতকে মানুষ দৈনন্দিন প্রক্ষালন-কর্মে ফ্লাশের ব্যবহার করেছে তা ভাবতেও অবাক লাগে। কী ভাবে এল ফ্লাশ টয়লেট: আজ ফ্লাশের ব্যবস্থা ছাড়া আমরা টয়লেট কল্পনাও করতে পারি না। কিন্তু জানেন কি, পৃথিবীতে প্রথম ফ্লাশ টয়লেট ব্যবহৃত হয়েছিল কবে? সিন্ধু সভ্যতা পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীনতম সভ্যতা। পাকিস্তানের সিন্ধু নদের তীরে গড়ে ওঠা এই সভ্যতা কিন্তু নিজেদের তুলে নিয়েছিল অন্য এক উচ্চতায়। সেই সিন্ধু সভ্যতার নগরী হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোর অধিবাসীরা নিজেদের বাড়িতে ব্যবস্থা করেছিল এই ফ্লাশ টয়লেট।