২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর, বাংলাদেশের শতকরা ৩৫ ভাগ লোক শহরে বসবাস করে, আগামী ২০৫০ সালে বালাদেশের শতকরা প্রায় ৫৫ ভাগ লোক শহরে বসবাস করবে। ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর, ভেলানগর বড়বাড়ির জনসংখ্যা বিদেশসহ শহরে বাস করে ৪৮ ভাগ তা' থেকে বেড়ে ২০৫০ সালে হবে প্রায় ৬৫ ভাগ। ২০১৩ সালের ৩১ মার্চ, ভেলানগর গ্রামের জনসংখ্যা বিদেশসহ শহরে বাস করে ৩৫ ভাগ তা' থেকে বেড়ে ২০৫০ সালে হবে প্রায় ৫৫ ভাগ। ১৯০১ সালের দিকে বিশ্বে শহরবাসীর সংখ্যা ছিল শতকরা ৫ ভাগ, আর ১৯৯৯ সালে বিশ্বে শহরবাসীর সংখ্যা শতকরা ৫০ ভাগ। ২০০৮ সালে বিশ্বের ৬৭৫ কোটি লোকের মধ্যে ৪১০ কোটি লোক বা শতকরা ৬১ ভাগ লোক শহরে বাস করে। ২০২৫ সালে (বিশ্বের লোকসংখ্যা হবে-৮০০ কোটি) শহুরে বাসিন্দার সংখ্যা ৫৫০ কোটিতে গিয়ে দাড়াবে বা শতকরা ৬৯ ভাগ লোক শহরে বাস করবে। আগামী ২০৫০ সালের দিকে বিশ্বের লোকসংখ্যার শতকরা ৮০ ভাগ শহরবাসী হবে। তখন আমি মোঃ জাকির হুসেন (আলমগীর) এ পৃথিবীতে বেঁচে থাকবো না।
১৯-০৩-২০১০ তারিখের প্রথম আলোর রিপোর্ট: আম্বানির টাওয়ার। মুকেশ আম্বানির নয়া ভবন ঘিরে কৌতহল বাড়ছে-২০০৭ সালে শুরু হয়েছিল আর শেষ হয় এ কাজ ২০১০ সালে। ১০০ কোটি ডলার ব্যয়ে এ্যান্টিলিয়া নামের ভবনটি মুকেশ আম্বানি বাড়ি বানাননি, বানিয়েছেন টাওয়ার-আন্তিলা টাওয়ার। ২৭ তলা এই টাওয়ার (প্রচলিত মাপে ৬০ তলা দালানের সমান) তৈরি করা হয়েছে মুম্বাইয়ের আলতামাউন্ট রোডে চার লাখ স্কয়ার ফুটের এই ভবনটি নকশা করার অনুপ্রেরণা ছিল ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান। ভবনের কোনো এক তলার সঙ্গে আরেক তলার নকশায় মিল নেই। অনুমান করা হয়, এই টাওয়ার তৈরিতে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে। সে হিসেবে আন্তিলা টাওয়ারকে পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবাসিক ভবন বলে মানা হয়। এ ১০০ কোটি ডলার দিয়ে বাংলাদেশের মত দেশে ১,১৮,৩৩৪(এক লক্ষ আঠার হাজার তিনশত চৌত্রিশ)টি পরিবারের স্বাস্থসম্মত বাসস্থান করা যেতো। বর্তমানে মুকেশ আম্বানি পৃথিবীর ৪র্থ সম্পদশালী ধনী। এখন বিশ্বের চতুর্থ ধনী ব্যক্তি। আল্টামাউন্ট সড়কে নির্মিত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল এ বাড়িটি। 'অ্যান্টেলিয়া' নামে এ বাড়ি নির্মােণ ব্যয় হয়েছে ৮(আট) হাজার কোটি রুপি। এ বাড়িতে ২৮-১-২০১০ তারিখ নতুন বাড়িতে পা রাখবেন মুকেশ ও তাঁর স্ত্রী নীতা আম্বানি। আর আটলান্টিক মহাসাগরের একটি মনোরম দ্বীপের নামানুসারে মুকেশ তাঁর নতুন বাড়ির নাম অ্যান্টালিয়া রেখেছেন। এর আগে বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল বাড়ির মালিক ছিলেন ভারতের অপর শিল্পপতি লক্ষী মিত্তাল। ইংলান্ডের লন্ডনের কেনসিংটন প্যালেস গার্ডেেনর ওই বাড়িটি তিনি কয়েক বছর আগে ৫৬০ কোটি রুপিতে কিনেছিলেন।
মানুষ রাজনৈতিক জীব। প্রত্যেক মানুষের রাজনীতি করার অধিকার আছে। বর্তমান দুনিয়ায় বিজ্ঞানের আধিপত্য কোথায় নেই। খাদ্য-শস্য, জীবন যাপনের উপকরণ, অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কার, বিশ্বাস সব কিছুতেই বিজ্ঞানের আলোকে ব্যাখ্যা করার প্রবনতা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিজ্ঞানই নির্ধারণ করে কোনটি সত্য আর কোনটি মিথ্যা। বিজ্ঞান হয়ে উঠছে সভ্যতার ধারক-বাহক। অথচ যখন দেখা যায় পৃথিবীর ২০০০ সালের হিসেব অনুসারে ২২৫(দুইশত পঁচিশ) জন ধনীতম ব্যক্তির মোট সম্পদের পরিমাণ হলো আয়ের দিক থেকে নিচের দিকের ৩০০(তিনশত)কোটি মানুষের বাৎসরিক আয়ের সমান, তখন প্রশ্ন জাগে বিজ্ঞানের সর্বজনীনতা কতটুকু? ২০০৬ সালের ১১ জুলাই, বিশ্বে ৬৫৮(ছয়শত আটান্ন) কোটি ও ২০১৬ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা-৭৩৮(সতশত াটত্রিশ) কোটি মানুষ বসবাস করে। ২০০৬ সালের ৭ ডিসেম্বর, পিটিআই: বিশ্বের অর্ধেক সম্পদ দুই শতাংশ সেরা ধনীর কাছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলসিংকি ভিত্তিক বিশ্ব উন্নয়ন অর্থনীতি গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক রিপোর্টে বলা হয়, ২০০০ সালে সেরা ধনীদের এক শতাংশের মালিকানায় বিশ্বের ৪০ শতাংশ সম্পদ ছিল। ব্যক্তিগত সম্পদের উপর ব্যাপক পর্যােলাচনায় দেখা গেছে যে, ১০ শতাংশ সেরা ধনীর হাতে বিশ্বের ৮৫ শতাংশ সম্পদ রয়েছে। তুলনামূলকভাবে বিশ্বের প্রাপ্ত বয়স্ক জনসংখ্যার শেষ অর্ধেেকর কাছে রয়েছে বিশ্বের সম্পদের মাত্র এক শতাংশ। ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটি লোকের কাছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ডলার এবং জাপানে ১ লাখ ৮১ হাজার ডলার ছিল। রিপোর্টে বলা হয়, বিশ্বের সেরা ধনীরা বাস করেন উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং ধনী এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোতে। ২০০৭ সালের ১০ মার্চ, ইনকিলাব ডেস্ক: ভারত ও চীনে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা দ্বিগুণ। ২০১৫ সালের ০৩-০৩-২০১৫ তারিখ প্রথম আলো: বিল গেটস এখনো বিশ্বের সেরা ধনী। সূত্র: ফোর্বস, বিবিসি। সম্পদের মোট মূল্য ১০০(একশত) কোটি মার্কিন ডলার বা তার চেয়ে বেশি, এমন ধনীর সংখ্যা এখন ১ হাজার ৮২৬ জন। গত বছর মানে ২০১৪ সালে ছিল-১ হাজার ৬৪৫ জন। এ নিয়ে এ তালিকায় ২১ বারের মধ্যে ১৭ বারই প্রথম হন বিল গেটস। বিল গেটসই বিশ্বের সেরা ধনী। ২০১৬ সালের ৬ অক্টোবর, প্রথম আলো: বিল গেটস তাঁর নিট সম্পদের পরিমাণ হচ্ছে ৮,১০০(আট হাজার একশত) কোটি মার্কিন ডলার। বিল গেটস-এর দৈনিক আয় হচ্ছে-২(দুই) কোটি ডলার। ১৯৮৭ সালে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ছিল-৯৮ জন, তা থেকে বেড়ে ২০০০ সালে ছিল-২২৩ জন এবং ২০০৭ সালের ১৮ মার্চ-বিশ্বে এখন রেকর্ড সংখ্যক-৯৪৬ জন বিলিয়নিয়ার রয়েছেন। এটা গত বছরের তুলনায় ১৫০ জন বেশী। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাগাজিন ফোর্বস-এর তালিকায় দেখা গেছে ভারত ও চীনে শত কোটিপতি বিলিয়নিয়ারদের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ২০০৮ সালের ৭ মার্চ-বিশ্বে এখন ১,১২৫ জন বিলিয়নিয়ার আছে। গত বছরের তুলনায় ১৫৯ জন বেশী। ২০০৯ সালে বিলিয়নিয়ার ছিলেন ৭৯৩ জন। ২০১০ সালে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা-১,০১১ জন। ২০০৭ সালে আমেরিকায় ধনেকুবেরের সংখ্যা ছিল-৪১৫ জন এবং ২০০৮ সালে তা থেকে হয়েছে-৪৬৯ জন। দ্রব্য উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা আর ডলারের তুলনামূলক দুর্বলতার কারণে বিলিয়নিয়ার-এর সংখ্যায় এ বৃদ্ধি ঘটেছে। ২০০৭ সালে ভারতের ৩৬ জন বিলিয়নিয়ার ছিল, আর ২০০৮-এ ৫৩ জন তালিকাভুক্ত হওয়ায় গত দু'দশকে এ প্রথম এশিয়ার কোন দেশ জাপানকে টপকে গেল। ফোর্বস বলেন, ''মানব ইতিহাসে এটা সবচেয়ে ধনাঢ্য তালিকা। এদের হাতে পুঞ্জীভূত সম্পদের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলার হয়েছে। ২০০৮ সালের ২৭ জুন, সমকাল পত্রিকার রিপোর্টঃ বিশ্বে ১(এক) কোটি ১০(দশ) লক্ষ কোটিপতি আছে-যার সম্পদের পরিমাণ-১(এক) কোটি ডলারের ওপরে। এরমধ্যে চীনে-৪(চার) লক্ষ ২২(বাইশ) হাজার, ব্রাজিলে-১(এক) লক্ষ ৩০(ত্রিশ) হাজার ও ভারতে-১(এক) লক্ষ ২৭(সাতাশ) হাজার। এ বছর ফোর্বস-এর তালিকায় ৯৭ জন নতুন ধনীর ৬২ জনই এশীয় এবং তাঁরা বেশির ভাগই চীনের নাগরিক। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে এত বেশিসংখ্যক বিলিয়নিয়ারের উত্থান এ বছরই প্রথম। ২০১৩ সালে ফোর্বেসর তালিকা প্রকাশ: এবারও বিশ্বে ১,৪২৬ ব্যক্তি, যাঁদের মোট সম্পদের পরিমাণ ৫.৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২০১৪ সালের ২১ জানুয়ারি, প্রথম আলো: ৩৫০ কোটি মানুষের সমান সম্পদের মালিক ৮৫ ধনী। বিশ্বজুড়ে অসাম্য বাড়ছে। পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ৮৫ ব্যক্তির কাছে বিশ্বের অর্ধেক জনসংখ্যার সম্পদের সমপরিমাণ সম্পদ রয়েছে। অক্সফাম জানায়, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ৮৫ জন মানুষের কাছে ১ দশমিক ৭০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার রয়েছে। বিশ্বজুড়ে অসাম্য বাড়ছে। পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ৮৫ ব্যক্তির কাছে বিশ্বের অর্ধেক জনসংখ্যার সম্পদের সমপরিমাণ সম্পদ রয়েছে। ২০১৪ সালের ১১ মার্চ, প্রথম আলো: বিশ্বে মোট ঋণের পরিমাণ ১০০ ট্রিলিয়ন ডলার। এক লক্ষ কোটিতে এক ট্রিলিয়ন। ২০০৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ৭০ ট্রিলিয়ন ডলার ছিল। অর্থাৎ মাত্র ছয় বছরে সম্মিলিত বৈশ্বিক ঋণ ৩০ ট্রিলিয়ন বা ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।
গেস্নাবাল ওয়েলথ রিপোর্ট-২০১৬ ক্রেডিট সুইসের রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদন বলছে-জাপানের সম্পদ বেড়েছে কপাল পুড়েছে ব্রিটিশদের। গত ১২ মাসে বৈশ্বিক সম্পদের পরিমাণ সাড়ে ৩ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়ে ২৫৬ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। ক্রেডিট সুইসের রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদন বলছে-সবচেয়ে ধনী ১ শতাংশের কম (০.৭%) মানুষের হাতে আছে বিশ্বের ৪৬ শতাংশ সম্পদ। আর ৭৩ শতাংশ দরিদ্র মানুষের কাছে আছে মাত্র ২ দশমিক ৪ শতাংশ সম্পদ। যাদের সম্পদ ১০ লাখ ডলারের বেশি, তাদেরই সবচেয়ে থনী বলা হয়েছে। অন্যদিকে ১০ হাজার ডলারের কম সম্পদ আছে এমন মানুষদের দরিদ্র হিসেবে গন্য করা হয়েছে।
সম্পদ বৃদ্ধির দিক দিয়ে শীর্ষস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনেই ফেলে দিল জাপান। চলতি বছর জাপানের সম্পদ বেড়েছে ৩ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার (১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার)। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি সম্পদ হাড়িয়েছে যুক্তরাজ্য, ১.৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। দেশগুলোর সম্পদ, বৃদ্ধি আর হারানোর এই চিত্রটি গেস্নাবাল ওয়েলথ রিপোর্ট-২০১৬-এ উঠে এসেছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আর্থিক সেবাপ্রতিষ্ঠান ক্রেডিট সুইসের রিসার্চ ইনস্টিটিউট সপ্তমবারের মতো এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে গত ১২ মাসে বৈশ্বিক সম্পদের পরিমাণ সাড়ে ৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার বেড়ে ২৫৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। আর্থিক সম্পদের চেয়ে এবার স্থাবর সম্পদ যেমন, গাড়ি, বাড়ি, জমিজমা ইত্যাদি বেড়েছে।
এদিকে জাপানের সম্পদ সবচেয়ে বেশি বাড়লেও একটি কিন্তু আছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রা ইয়েনঅতিমূল্যায়িত হওয়ার কারণেই দেশটির সম্পদ বেড়েছে। তবে ইয়েনের হিসাবে তাদের সম্পদ খুব একটা বাড়েনি। প্রকৃতপক্ষে জাপানের প্রাপ্তবয়স্ক জনগণের মাখাপিছু সম্পদ বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ। অবশ্য মোট সম্পদের দিকথেকে জাপানের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র অনেক এগিয়ে। জপানের ২৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদের পরিমাণ ৮৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভবিষ্যৎ সুদের হার ও শেয়ারবাজার নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ দেড় ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বেড়েছে। এ ছাড়া ১০ হাজার কোটি ডলার বা তার বেশি সম্পদ বেড়েছে জার্মািন, ফ্রান্স, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও ব্যাজিলে।
আগেই বলা হয়েছে, সম্পদ হারানোর দিক দিয়ে অন্য সবাইকে পরাজিত করেছে যুক্তরাজ্য। সব মিলিয়ে ১০ শতাংশ বা দেড় লাখ কোটি ডলার। মোট সম্পদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫ ট্রিলিয়ন ডলার, দ্বিতীয় অবস্থানে আছে জাপান ২৪ ট্রিলিয়ন নিয়ে ও তৃতীয় অবস্থানে আছে ২৩ ট্রিলিয়ন নিয়ে চীন। এদিকে গত বছর ২৭টি দেশ ১০ হাজার কোটি ডলার বা তার বেশি সম্পদ হারালেও এবার সেটি ৮-এ নেমে এসেছে। এর মধ্যে ২০ হাজার কোটি ডলারের নিচে সম্পদ হারিয়েছে মেক্সিকো, রাশিয়া, আর্জেিটনা, তাইওয়ান, সুজারল্যান্ড ও ইতালি। বেশি সম্পদ হারিয়েছে যুক্তরাজ্য ও চীন।
উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে সারা বিশ্বের প্রাপ্তবয়স্কদের ১৮ শতাংশের বসবাস। তবে এই দুটি অঞ্চলেই রয়ে গেছে বিশ্বের মোট সম্পদের ৬৫ শতাংশ। চীন ও ভারত ছাড়া এশিয়া প্যাসিফিকে বিশ্বের ২৪ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক বাস করলেও তাদের দখলে আছে বৈশ্বিক সম্পদের মাত্র ২১ শতাংশ। চীনে বিশ্বের ২১ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের বাস এবং সম্পদ মাত্র ৯ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে-চলতি বছর ১০ লাখ ডলারের বেশি সম্পদ আছে বা মিলিনিয়ারের সংখ্যা-৩ কোটি ২৯ লাখ ৩১ হাজারে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি, ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫৪ হাজার মিলিনিয়ার আছে যুক্তরাষ্ট্রে। গত এক বছরে মিলিনিয়ার বেড়েছে ২ লাখ ৮৩ হাজার জন। দ্বিতীয় শীর্ষ মিলিনিয়ার আছে-২৮ লাখ ২৬ হাজার জন আছে জাপানে। গতবারের চেয়ে বেড়েছে ৭ লাখ ৩৮ হাজার। যুক্তরাজ্যে যেমন সম্পদ কমেছে তেমন বিলিনিয়ারের সংখ্যাও কমেছে-যুক্তরাজ্যে বর্তমানে আছে ২২ লাখ ২৫ হাজার মিলিনিয়ার। এ ছাড়া সুইজারল্যান্ডে ৫৮ হাজার, চীনে ৪৩ হাজার, তাইওয়ানে ২৭ হাজার মিলিয়নিয়ার কমেছে। ক্রেডিট সুইসের রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদন গেস্নাবাল ওয়েলথ রিপোর্ট-২০০০ সাল থেকে বিশ্বে দেয়া হচ্ছে।
আবার বিগত ১০০(একশত) বছরে উৎপাদন বেড়েছে ১৭ গুণ। আর গত ১০০(একশত) বছরে জনসংখ্যা বেড়েছে ৪ গুণেরও কম। গত ১৯০১ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্তকে বলা হয়েছে। তা'হলে পর্বত চুড়ান্ত উৎপাদন কোথায় যায়? হাতে গোনা কতিপয় মানব সন্তানের কাছেই কি? ওদের দ্বারাই চিরকাল সমস্ত উৎপাদন নিয়ন্ত্রিত হবে? এযাবৎকালের ইতিহাসই শ্রেণী সংগ্রামের ইতিহাস? আদিম সাম্যবাদী সমাজ ছাড়া। আদিম সাম্যবাদী সমাজে শোষণ ছিল না। দুনিয়ার সব মানুষের সমৃদ্ধি আর যৌথ আবেগ/প্রেম/স্নেহ/মায়া মমতার সামাজিক বিকাশ কি কোন দিনই হবেনা?
শ্রমজীবী মানুষ বুর্জোয়া সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন করতে পারলেই হবে।
যে বিজ্ঞানের বদৌলতে এ অসহনীয় বৈষম্য তা কতটা বিজ্ঞানসম্মত আর কতটা আধিপত্যবাদ? এ আধিপত্যবাদ অধিকাংশ রাষ্ট্রকে করেছে গেস্নাবাল নাচের পুতুল। তা'হলে কি রাষ্ট্র নামক এ কাঠামো ভাঙ্গার প্রয়োজন নেই? এ বিদ্যমান রাষ্ট্রটি, আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক পদ্ধতি আধুনিক বিজ্ঞান সম্মত বিকাশের নিশ্চয়তা দেয় কতটুকু?
আবার বলা হচ্ছে বিজ্ঞান হলো বিশেষ জ্ঞান। বিজ্ঞান কাকে বলে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে বিজ্ঞান বলে। আর এ বিশেষ জ্ঞানের অনুশীলন হল সামাজিক গঠনাবলী ও প্রাকৃতিক নিয়মাবলীতে সু-সংগঠিত যুক্তি আর পর্যেবক্ষণের স্বচ্ছ কর্ম দ্বারা। তা'হলে কি সব জ্ঞানই বিজ্ঞান নয়? আমরা কোনটি জ্ঞান আর কোনটি বিশেষ জ্ঞান হিসেবে গ্রহণ করব? সুতরাং স্পষ্ট বলা যায় বিজ্ঞান আর সমাজের সাধারণ মানুষের মাঝে অবস্থান করে না। পাশাপাশি সমাজ আর প্রকৃতি পর্যেবক্ষণলব্ধ যুক্তি চর্চার অধিকারও চলে যায় ঐ বিশেষ মানুষের নিয়ন্ত্রণে। অথচ মানুষের ইতিহাস পর্যােলাচনা করলে আমরা জানি-সংগ্রহশীল কিংবা শিকার ভিত্তিক সমাজের যৌথ প্রয়াসের মধ্যে দিয়ে তাদের জীবন-যাপন অগ্রসরতা পেয়েছিল। সম্পূর্ণ বৈষয়িক ও প্রাকৃতিক ব্যবস্থাবলীর উপর গড়ে উঠছে তাদের শ্রমক্ষেত্র ও চিন্তার পদ্ধতি। অরণ্যচারী গুহাবাসী মানুষ তার অর্জিত অভিজ্ঞতাকে ক্রমান্বয়ে সঞ্চারিত করেছে নিরন্তন গোষ্ঠীলব্ধ প্রতিরোধী শক্তির অনন্যতায়। তা'হলে মানব-সমাজ বিকাশের কোন পর্যােয় অর্জিত সেই গোষ্ঠীবদ্ধ সার্বজনিন জ্ঞান খন্ড খন্ড বিশেষ জ্ঞানে রূপ নিল? ইতিহাসের গতি পথে কখন তা মানুষের চিন্তা জগতে এসেছে? কিংবা মানুষ অর্থৈনতিকভাবে খন্ড খন্ড শ্রেণীতে ভাগ হয়ে যাওয়ার কারণেই কি বিশেষ জ্ঞান হিসেবে বিজ্ঞান বিশেষ শ্রেণীর ক্ষমতার কৌশল উপকরণে পরিণত হয়নি? আজকের পাশ্চাত্য দর্শন কিভাবে কখন আধিপত্যবাদী চরিত্রের হয়ে উঠল? আমাদের বাংলা অঞ্চলে কি কোন বিজ্ঞান দর্শন, জিজ্ঞাসা ছিল না? আমাদের বিজ্ঞান দর্শন আজ কোথায়? জিজ্ঞাসাগুলো কেন হারিয়ে গেল? আসলে আমাদের জিজ্ঞাসাগুলোই বা নিয়ন্ত্রণ করে কারা? আমাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থায় বিজ্ঞান ছিল না? বিজ্ঞান কি শুধু গবেষণাগারের ব্যাপার? এটা কি কেবল ধনীদের বিলাসের বস্তু বা অস্তিত্ব? শ্রমজীবী মানুষের কি কোন উপকারে আসে? মানবতার বিকাশে এ বিজ্ঞান কতটুকু সহায়ক?
আসুন এ প্রশ্ন উত্থাপন করি আমাদের শ্রমের মধ্যে, আমাদের চিন্তার মধ্যে। আমাদের যৌথ আর সামাজিক বিশেস্নষণে সমৃদ্ধ হউক আমার/আপনার বিজ্ঞান চিন্তা। বিকশিত হউক মানবিক সাম্যের এসব দ্বান্দ্বিক প্রশ্নোত্তরের রূপায়ন আমাদের মাঝে বিজ্ঞান চেতনা বাড়িয়ে তোলে। বস্তুর প্রতিনিয়ত বিকাশ হচ্ছে। সমাজের নিয়ম হলো উৎপাদন এবং পুনঃউৎপাদন। চিরন্তন বলে কিছুই নেই। সব কিছুই পরিবর্তনশীল। আমাদের দেশের সম্পদের অপচয়, সমাজের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, দুর্নীিত, স্বজনপ্রীতি, অব্যবস্থা এবং অনৈতিক কাজ বন্ধ করতে হবে নতুবা ততদিন বাংলাদেশের বেকারত্ব ও দারিদ্র দূর হবে না। বেকারত্ব ও দারিদ্র দূর করতে হলে-সম্পদের অপচয় রোধ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, দুর্নীিত, স্বজনপ্রীতি, অব্যবস্থা ও অনৈতিক কাজ বন্ধ করতে হবে নতুবা বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। প্রকৃত উন্নয়ন মানে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার গ্যারান্টি সবার জন্য করতে হবে। তখনই বাংলাদেশ হবে প্রকৃতপক্ষে ''সোনার বাংলা''। নতুবা সবই কথার কথা ও ফাঁকাবুলি ছাড়া আর কিছু নয়।