১৭৩০ সালের ২ সেপ্টেম্বর, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের চব্বিশ পরগনা জেলার কচুয়া গ্রামে (বাংলা ১১৩৭ সনের ১৮ ভাদ্র) লোকনাথ ব্রহ্মচারীর জন্ম, নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার বারদী গ্রামে মৃত্যু-০২-০৬-১৮৯০ তারিখ (বাংলা ১৯ জ্যৈষ্ঠ, ১২৯৭ সন)। মারা যান ১৬০ বছর বয়সে। সিদ্ধ মহাপুরুষ লোকনাথ ব্রহ্মচারী জীবনের শেষ দিনগুলো এ গ্রামেই অতিবাহিত করেন। আজকের বারদী লোকনাথ ব্রাহ্মচারীর আশ্রমের কারণেই বিখ্যাত। জ্যোতিবসুর পৈতৃক ভিটা এ গ্রামেই অবস্থিত। ঢাকা থেকে বারদী খুব একটা দূরের পথ নয়। প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরত্ব হবে।

১৭৩০ সালে কাশ্মীরে আবদাল হাকিমের জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। তাঁর ভাই ১৭৩৫ সালে কাশ্মীরে আব্দুল্লাহর জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। তাঁর পুত্র ১৭৭০ সালে সিলেটে খাজা হাফিজুল্লাহর জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। এই পরিবারের আদি পুরুষ আবদাল হাকিম নবাব আলীবর্দী খানের সময়ে প্রথমে বসতি স্থাপন করেছিলেন সিলেটে। পরে তাঁরা ঢাকায় আসেন। লবণ ও চামড়ার কারবারে প্রভূত ধনসম্পদ অর্জন করেন। অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম ঐতিহাসিকের নোটবুক বইয়ে উল্লেখ করেছেন, আবদাল হাকিমের ভাই আব্দুল্লাহ সিলেট থেকে ব্যবসা গুটিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। তাঁর পুত্র হাফিজুল্লাহ আর্মেনীয়দের সঙ্গে যৌথ কারবার করে বিত্তবৈভব বাড়িয়ে তোলেন এবং ১৮১২ সালে বাকেরগঞ্জে জমিদারি ক্রয় করেন। নিঃসন্তান হাফিজুল্লাহর পর উত্তরাধিকারী হন তাঁর ভাই খাজা আলিমুল্লাহ। তাঁর পুত্র নবাব আবদুল গনি। ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে বংশপরস্পরায় নবাব উপাধি লাভ করেন। ঢাকায় যেসব কাশ্মীরি ধনে-মানে খ্যাতি ও প্রতিপত্তি অর্জন করেছিল, তাদের মধ্যে ঢাকার নবাব পরিবার অন্যতম। তাঁর পুত্র নবাব আহসানউল্লাহ এবং তাঁর পুত্র নবাব সলিমুল্লাহ। ১৭৮০ সালে (লবণ, চামড়া ইত্যাদির ব্যবসায় প্রভূত অর্থিবত্ত লাভ করে) ঢাকার নবাব বংশের প্রতিষ্ঠাতা খাজা আলমিুল্লাহর জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। ১৮১৮ সালে ঢাকায় স্যার নবাব খাজা আবদুল গনির জন্ম, মৃত্যু-১৮৭৩। খাজা আবদুল গনি বংশানুক্রমিক নবাব উপাধি লাভ করেন ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে ১৮৬৫ সালে। ১৮৪৬ সালে ঢাকার নবাব স্যার খাজা আহসান-উল্লাহর জন্ম, মৃত্যু-১৬-১২-১৯০১ তারিখ। ১৮৭০ সালের ৭ জুন, সমাজসেবক, রাজনীতিবিদ নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহর জন্ম, মৃত্যু-১৬-০১-১৯১৫ তারিখ। (রাত আড়াই ঘটিকায় কলকাতায় চৌরঙ্গীস্থ বাসভবনে নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ ইন্তেকাল করেন। পরদিন ১৭ জানুয়ারি বিকেলে বিশেষ স্টীমারযোগে নবাবের মরদেহ ঢাকায় আনা হয় এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম বাজারস্থ পারিবারিক গোরস্থানে সমাহিত করা হয়। নবাব স্যার সলিমুল্লাহ'র বাবা ১৯০১ সালের ১৬ ডিসেম্বর, নবাব আহসান-উল্লাহ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। বাবার মৃত্যুর পর পিতার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর ১৯০৩ সালে দিল্লীর দরবারে সপ্তম অ্যাডওয়ার্ডের মুকুট পরিধান উৎসবে সলিমুল্লাহকে নবাব বাহাদুর উপাধি প্রদান করে ইংরেজ সরকার। ১৮৮৫ সালে ঢাকার নবাব খাজা আহসানউল্লাহর কন্যা মেহের বানু খানমের (নবাব সলিমুল্লাহর ছোট বোন এবং মায়ের নাম ছিল কামরুন্নেসা) জন্ম, মৃত্যু-০৩-১০-১৯২৫ তারিখ। মেহের বানু খানম ঢাকার প্রথম মুসলিম নারী চিত্রশিল্পী। সম্ভবত, ১৯১২-১৩ সাল থেকে মেহের বানু ছবি আঁকা শুরু করেন। মেহের বানুর বিয়ে হয় ১৯০২ সালে। বেগম সাহেবার দুটি চিত্র ও নজরুলের কবিতা এবং এমদাদ আলীর চিত্র-পরিচয় নিয়ে ১৯২০ সালের আগষ্টে অর্থাৎ বাংলা ১৩২৭ সালের শ্রাবণ মাসে কলকাতায় মোসলেম ভারতের আলোচিত সংখ্যাটি বের হয়। ঢাকায় বিশুদ্ধ পানি ও বিদ্যুৎব্যবস্থা চালূসহ চিকিৎসা, শিক্ষাবিস্তার, সংস্কৃতির চর্চা ও নগর উন্নয়নে এ পরিবারের অবদান বিপুল। তাদের বংশধরেরা এখনো ঢাকায় বসবাস করছেন।

১৭৬১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী গ্রামের বাসিন্দা তুর্কি মুসলমান লাল মাহমুদের জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। তাঁর ছেলে-১৭৮৮ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী গ্রামের বাসিন্দা তুর্কি মুসলমান এবং ঢাকা শহরের বাদামতুলিতে বসবাসকারী দারোগা আমির উদ-দীনের জন্ম, ঢাকার বাদামতুলিতে মৃত্যু-১৮৬২ সালে। উনি বাঞ্ছারামপুর উপজেলার প্রথম দারোগা ও প্রথম জমিদার ছিলেন। তাঁর ছেলে-১৮১৬ সালে ইউসুফ আলীর জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। তাঁর ছেলে-গোলাম মাওলার জন্ম-১৮৪১ সালে, মৃত্যু-জানা নেই। তাঁর একমাত্র কন্যার জন্ম-১৮৬৬ সালে, মৃত্যু-জানা নেই। তাঁর স্বামীর নাম-মোহাম্মদ সোনা মিঞা। সোনা মিঞার-বাড়ি দরিয়াদৌলত গ্রামের খানেপাড়াতে। সোনা মিঞার জন্ম-১৮৬০ সালে, মৃত্যু-১৯৩৩ সালে। সোনা মিঞা সাববাড়ির মালিক হন গোলাম মাওলার একমাত্র কন্যার জামাতা হিসাবে। সোনা মিঞার ছেলে-সন্তান না থাকার কারণে বড় বোনের ছেলে মোগল মিঞাকে সাববাড়ি দান করেন।

১৭৭০ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার চারগাছ গ্রামে আলমের জন্ম, মৃত্যু-মরিচাকান্দি গ্রামে। তাঁর ছেলে ১৭৯৯ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার চারগাছ গ্রামে পান্ডব আলী সরকারের জন্ম, মৃত্যু-মরিচাকান্দি গ্রামে। তাঁর ছেলে ১৮২৭ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার মরিচাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা গোলাম আলী সরকারের জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। তাঁর ভাই ১৮২৯ সালে মোঃ ইউসুফ আলী সরকারের জন্ম, মৃত্যু-১৮৯৯ সালে। ১৮৫৮ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার মরিচাকান্দি গ্রামে মোঃ দেলোয়ার আলী সরকারের জন্ম, মৃত্যু-১৯২৯ সালে। দেলোয়ার আলী সরকারের বড় মেয়ের জন্ম-১৮৮৬ সালে। ১৮৯২ সালে মরিচাকান্দি গ্রামের সরকারবাড়িতে মোঃ বজলুর রহমানের জন্ম, মৃত্যু-১৯৬৫ সালে। ১৯৪০ সালে মরিচাকান্দি গ্রামের সরকারবাড়িতে মোঃ বজলে হাসান জাহেদীর জন্ম। ১৯৬৮ সালে মোঃ রফিকুর হাসান জাহেদীর জন্ম। তাঁর ছেলে মোঃ ইয়াসিন হাসান জাহেদী, অস্ট্রেলিয়ায় ২০০৮ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি জন্ম। তাঁদের ৮(আট) পুরুষের তালিকা দেয়া হলো।

১৭৭৪ সালের ১৭ অক্টোবর, ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ডু থানার হরিশপুর গ্রামে (কুষ্টিয়া জেলায়) বাউল সম্রাট, মরমী সাধক ও কবি ফকির লালন শাহের জন্ম, মৃত্যু-১৭-১০-১৮৯০

১৭৮১ সালে ফরিদপুর জেলার তৎকালীন মাদারীপুর মহকুমার শামাইল গ্রামে ভূমিষ্ঠ হন বৃটিশ বিরোধী সংগ্রামের বীর সেনানী হাজী শরীয়াত উল্লাহ(রহ.) জন্ম, মৃত্যু-২২-০১-১৮৩৯ তারিখ। ১৭৯৯ সালে মৌলভী বাসারত আলী-হাজী শরীয়াত উল্লাহ(রহ.)কে সঙ্গে নিয়ে মক্কা শরীফ গমন করেন। ১৮২৮ সালে নবাব আব্দুল লতিফ ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন; তিনি ১৮৪৮ সালে কলকাতা মাদ্রাসার ইংরেজী ও আরবী বিষয়ের অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন, ১৮৬২ সালে নওয়াব আব্দুল লতিফ মুসলমানদের মধ্যে প্রথমবঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য মনোনীত হন, ১৮৭৭ সালে নবাব আব্দুল লতিফ কলকাতায় প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট পদে উন্নীত হন এবং ১৮৮৪ সালে নবাব আব্দুল লতিফ চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণ করেন, মৃত্যুঃ ১০-০৭-১৮৯৩ তারিখ। ১৮৩৩ সালে ফরিদপুরের বিখ্যাত কাজী পরিবারে আমলা ও সাহিত্যিক আবু মুহাম্মদ আবদুল গফুর (খান বাহাদুর) খান বাহাদুর আবদুল গফুর নাসসাখের জন্ম, মৃত্যু-১৮৮৯ সালে। তাঁর পিতা ফকির মুহাম্মদ (১৭৭৪-১৮৪৪) কলকাতার দেওয়ানি আদালতে ওকালতি করতেন। ১৮৪৯ সালের ৬ এপ্রিল, উড়িষ্যার কটকে বিচারপতি স্যার সৈয়দ আমীর আলীর জন্ম; মৃত্যু-১৯২৮ সালে (লন্ডন)। ১৮৭০ সালে ড. স্যার আবদুল্লাহ আল-মামুন সোহরাওয়ার্দীর জন্ম, মৃত্যু-১৯৩৫ সালে কলকাতায়। উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে মুসলিম নারীসমাজের শিক্ষাবিস্তার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় যে কজন মহিলা উদ্যোগ নেন তাঁদের মধ্যে বিবি তাহেরা নেসা, ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী (১৮৩৪-১৯০৩), করিরুন্নেসা খানম (১৮৫৫-১৯২৬) এবং রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন (১৮৮০-১৯৩২) তাহেরা নেসা প্রথম বাঙালি মুসলিম মহিলা লেখক। তিনি ১৮৬৫ সালে বামাবোধিনী পত্রিকায় 'শিক্ষা ও সামাজিককতায় নারীর অধিকার' সম্পর্কে একটি রচনা প্রকাশ করেন। ১৭৯০ সালে ইদেল শাহ'র বাবার জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। (ইদেল শাহ তাঁর বাবার সাথে দশদনা গ্রামে আসছে এবং বসতি স্থাপন করেন। তাঁরা কোথা থেকে আসছে শাহ জাহাঙ্গীর আলম বলতে পারেনি) তাঁর ছেলে-১৮১৬ সালে ইদেল শাহ'র জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। তাঁর ছেলে-১৮৪৩ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দশদনা গ্রামে মোঃ মঙ্গল ব্যাপারীর জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। তাঁর চার ছেলে: (১) মুনশি দেলোয়ার আলী (২) মুনশি শাহজাহান মিয়া (৩) মুনশি আবদুস সোবহান ও (৪) আবদুল কাদের ব্যাপারী। এক ভাইয়ের পরিচয়-১৮৭০ সালে মুনশি দেলোয়ার আলীর জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। তাঁর পাঁচ ছেলে: (১) মৌলভী আবদুর রহিম (২) মৌলভী রজ্জব আলী (৩) মৌলভী আবদুল লতিফ (৪) মৌলভী কলিমউল্লাহ (৫) ডাক্টার সলিমউল্লাহ (৬) পুংক্কানি ফুফু ও (৭) মনজুরা বেগম। এক ভাইয়ের পরিচয়-১৮৯৮ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দশদনা গ্রামে মৌলভী আবদুর রহিম দারোগার জন্ম, মৃত্যু-২৪-১০-১৯৬৪ তারিখ দশদনা গ্রামে। তাঁর পাঁচ ছেলে ছয় মেয়ের পরিচয়: (১) খোরশেদা বেগমের জন্ম-১৯২৭ সালে (২) শাহ একলেমুর রেজা (বাচ্চু মিয়া), বি.এ. জন্ম-১৯২৯ সালে-মৃত্যু-১৯৭০ সালে (৩) নাজনিন বেগম (টুনু) জন্ম-১৯৩২ সালে (৪) জাহানারা বেগমের জন্ম-১৯৩৪ (৫) ছোট মনোর জন্ম-১৯৩৬ সালে (৬) শাহ সালাউদ্দিন (সগির) জন্ম-১৯৩৯ সালে (৭) শাহ মহিউদ্দিন আহমেদ (ইলেকট্রিক ডিপেস্নামা) জন্ম-১৯৪২ সালে (৮) পোকরাজ বেগমের জন্ম-১৯৪৪ সালে (৯) শাহ কামালউদ্দিন, বি.কম. জন্ম-১৯৪৬ সালে (১০) শাহ জাহাঙ্গীর আলম, বি.এ. জন্ম-১৯৫০ সালে ও (১১) হাসিনা বেগমের জন্ম-১৯৫২ সালে। এক ভাইয়ের পরিচয়-১৯৫০ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দশদনা গ্রামে শাহ জাহাঙ্গীর আলমের জন্ম। তাঁর এক ছেলে এক মেয়ে: শাহ ওবায়দুর রহিম (সাগর), এম.এ. (রাষ্ট্রবিজ্ঞান)-এর জন্ম-১৯৮৫ সালে ও (২) সাবাহ ফারিহা (নাশা), এম.বি.বি.এস.(-এর জন্ম-১৯৮৯ সালে) তৃতীয় বর্ষে লেখাপড়া করে ময়মনসিংহ কমিউনিটি ব্যজড মেডিকেল কলেজ, বাংলাদেশ। তাদের ৭ম পুরুষের বংশ লতিকা।

১৮০৩ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার খাল্লা গ্রামে দারোগা নযম-উদ-দীনের জন্ম, কলকাতা যেয়ে দারোগার চাকুরী নেন এবং কতকাতা মেডিকেল হাসপাতালে মারা গেছেন মৃত্যু-১৮৫২ সালে।

১৮১০ সালে মানিকগঞ্জ জেলায় কালু শাহ ফকিরের জন্ম, মৃত্যু-১৯০৬ সালে।

১৮১৫ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উজেলার পেয়ারাকান্দি গ্রামের কাজী মোহাম্মদ কাজেম আলীর জন্ম, মৃত্যু-১৮....।(উনি ফরিদপুর জেলা কারাগারের কারাধ্যক্ষ হয়েছিলেন। উনি সাব-রেজিষ্ট্রার আজিজুল ইসলাম, নবাব সিরাজুল ইসলাম ও মওলানা মাজেদুল ইসলাম সাহেবদের বাবা)। ১৮৪৫ সালে নবীনগর উপজেলার পেয়ারাকান্দি গ্রামের কাজী বাড়িতে নবাব সিরাজুল ইসলামের জন্ম, মৃত্যু-১৯২৩ সালে। আমিনুল ইসলামের জন্ম-১৮৭৩ সালে এবং মৃত্যু-১৯২৮ সালে। নবাব সিরাজুল ইসলামের মেঝো ছেলে মাহমুদুল ইসলাম এন্ট্রান্স পাশ করার পরই কলকাতা করপোরেশনের 'এসেসর'-এর পদ লাভ করেন। পরে তিনি সাব-রেজিস্ট্রার হয়েছিলেন। উনার জন্ম ১৮৭৫ সালে, মৃত্যু-১৯১৫ সালে। নবাব সিরাজুল ইসলামের ছোট ছেলে ১৮৭৮ সালে খান বাহাদুর ওয়ালিউল ইসলামের জন্ম, ঢাকাতে মৃত্যু-১৫-০২-১৯৫৮ তারিখ।

১৮১৯ সালে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর, ঢাকা কালীচরণ তর্কালঙ্কারের জন্ম, মৃত্যু-ঢাকায়-১৮৯২ সালে। তিনি বিক্রমপুরে ব্যাকরণ, পদার্থ ও স্মৃতি পাঠ।

১৮২০ সালে বরিশাল জেলায় কাজী আকরাম আলীর জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। ১৮৪৩ সালে তাঁর ছেলে কাজী মুহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর, শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক বাকেরগঞ্জের সাতুরিয়া গ্রামে তাঁর মামার বাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন, মৃত্যু-২৭-০৪-১৯৬২ তারিখ।

১৮২৩ সালে বিক্রমপুর, কনকসার গ্রামে সূর্যকুমার গুডিভ চক্রবর্তীর জন্ম, মৃত্যু-লন্ডনে-২৯-০৯-১৮৭৪ তারিখ। তিনি ১৮৪৩ সালে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, অতপর কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি এবং ১৮৪৫ সালে তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নকালে সরকারি বৃত্তি পেয়ে চিকিৎসা শাস্ত্র অধ্যয়নের জন্য বিলেত গমন (১৮৪৫ সালে)। ১৮৫০ সালে এম.ডি. ডিগ্রি লাভ। একই বছর খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ। তাঁর শিক্ষকের নামানুসারে গুডিভ নাম ধারণ ও এক ইংরেজ মহিলার পাণিগ্রহণ। চিকিৎসাশাস্ত্রে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার।

১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি, যশোরের সাগর দাঁড়ির দত্ত পরিবারের একমাত্র পুত্র মহাকবি ও সাহিত্যক মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্ম এবং মৃত্যু-২৯-০৬-১৮৭৩ তারিখ কলকাতার আলীপুর হাসপাতালে।

১৮২৪ সালে মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার মালখানগর গ্রামে লেখক, সাংবাদিক গিরিশচন্দ্র বসুর জন্ম, মৃত্যুর-তারিখ জানা নেই।

১৮২৭ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী গ্রামের বাসিন্দা সরফুউদ্দিনের জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। সরফুউদ্দিন রূপসদী গ্রামে বিয়ে করেন এবং সরফুউদ্দিন তাঁর বাবার সাথে মুরাদনগর উপজেলার থোল্লাকান্দি গ্রাম হতে (সেলিম রেজার ২৫-০২-২০১২ তারিখ কথামতে) রূপসদী গ্রামে বসতি স্থাপন করেন শ্বশুরবাড়িতে। সরফুউদ্দিনের ৪(চার) ছেলের নামগুলোঃ-(১) আমির আলী সরকারের (সরফুউদ্দিনের বড় ছেলে) ছেলের নাম আব্বাস আলী সরকারের বিয়ে ঠিক হয় নবীনগর উপজেলার আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির সাদত আলী চৌধুরীর দ্বিতীয় মেয়ের সাথে। আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির ভদ্রলোকরা যখন জানতে পারে যে-রূপসদী সরকারবাড়িতে পুকুর নেই-তখনই তাঁরা বিয়ে দিতে নারাজ। তখনই আমীর আলী সরকার ৭(সাত) দিনের মধ্যে পুকুর খনন করার পর তাঁর ছেলে আব্বাস আলী সরকারের নিকট বিয়ে দেন। তাঁর ছেলের নাম-জনাব আবদু রৌফ সরকার ওরফে লাল মিঞা মুক্তার।

১৮২৯ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার ভেলানগর গ্রামের সরকার বাড়িতে মুনশি আমির-উদ-দীন সরকারের জন্ম, মৃত্যু-১৯১৪ সালে।

১৮৩০ সালে রমজান আলী খাঁ'র জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। হাজী এ. কে. এম. ইউসুফ বলেছে যে, তাঁদের পূর্বপুরুষরা (রমজান আলী খাঁ ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থেকে বাঞ্ছারামপুর থানার বাঞ্ছারামপুর গ্রামে বসতি স্থাপন করেন)। তাঁর ছেলে ১৮৫৭ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার বাঞ্ছারামপুর গ্রামে শুকুর মাহমুদের জন্ম, মৃত্যু-১৯২৯ সালে। শুকুর মাহমুদের ছেলে আবদুল গণি মিঞার জন্ম ১৮৮৫ সালে, মৃত্যু-০৯-০৪-১৯৬৫ তারিখ। আবদুল গণি মিঞার ছেলে মোঃ নূরুল ইসলামের (তারা মিঞার) জন্ম-১৯১৮ সালে, মৃত্যু-০৩-০১-২০০০ তারিখ। তারা মিঞার ছেলে এ. কে. এম. মুসার জন্ম-১৯৬০ সালের ১৫ মার্চ। মুসার ছেলে সোয়েবের জন্ম-১৯৯০ সালের ২১ আগষ্ট। ১৯১২ সালে শুকুর মাহমুদ বাঞ্ছারামপুর থানার মুসলমানের মধ্যে প্রথম বিল্ডিং নিজ বাড়িতে তৈরী করেন। তাঁদের ছয় পুরুষের বংশ লতিকা দেয়া হলো।

১৮৩১ সালে কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার মাশুয়া গ্রামের জমিদার হরিকিশোর রায় চৌধুরীর জন্ম, মৃত্যু-১৮৯৯ সালে। তাঁর পাঁচ ছেলের নাম (১) সারদারঞ্জন রায়চৌধুরী (২) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী (৩) মুক্তিদারঞ্জন রায়চৌধুরী (৪) কুলদারঞ্জন রায়চৌধুরী ও (৫) প্রমাদারঞ্জন রায়চৌধুরী। ১৮৭০ সালে পূর্ববঙ্গে সারদারঞ্জন ও চার ভাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রথম ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। তাঁর বয়স তখন আট/নয় বছর পড়েন কিশোরগঞ্জ মাইনর স্কুলে। সেসময় ক্রিকেট খেলত ইংরেজরাই। ক্যালকাটা ক্রিকেট ক্লাব ছিল সবচেয়ে প্রভাবশালী দল। ছাত্র-শিক্ষকরা মিলে গঠন করেন আনুমানিক ১৮৮০-এর দশকে। অখন্ড বঙ্গের প্রথম ক্রিকেট ক্লাব হিসেবে সেটি খ্যাতি অর্জন করে। ১৮৮৪ সালে কলকাতার ইডেন গার্ডেেন ক্যালকাটা প্রেসিডেন্সি ক্লাবের সঙ্গে এক খেলায় ঢাকা কলেজ জয় লাভ করেন। নেতৃত্বে ছিলেন সারদারঞ্জন রায়চৌধুরী। বাংলার ক্রিকেটের পুরোধা বা জনক ছিল, উপমহাদেশেও অগ্রদূত সারদারঞ্জন রায়চৌধুরী। ঢাকা এক স্কুল থেকে প্রবেশিকা পেরিয়ে ঢাকা কলেজ। এখানেই শুরু ক্রিকেট ও ব্যায়ামের নিয়মিত চর্চা। ছাত্র হিসেবেও সারদা ছিলেন তুখোড়। বি.এ. পরীক্ষায় তিনি ঢাকা অঞ্চলে প্রথম হন। কলকাতায় প্রেমচাঁদ বৃত্তি নিয়ে সংস্কৃত পড়তে শুরু করেছিলেন। কিন্তু তা অসমাপ্ত রেখে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। আরও পরে ফের বদলি হয়ে অধ্যাপক হিসেবে ফিরে আসেন নিজের যায়গা ঢাকা কলেজে। তিনি ঢাকা কলেজে গণিত নিয়ে মৌলিক গবেষণা শুরু করেন। কিন্তু অধ্যাপনার পাশাপাশি চলতে থাকে ক্রিকেট-উদ্যেগ। এ সময় প্রেসিডেন্সি কলেজের সঙ্গে খেলতে ঢাকা কলেজের একটি দল কলকাতা যায়। ছাত্র-শিক্ষক মেশানো সেই দলে ছিলেন তিন ভাই সারদা, কুলদা ও প্রমাদা। প্রথম খেলায় প্রেসিডেন্সি হেরে গেলে এর ছাত্ররা দল থেকে শিক্ষকদের বাদ দেওয়ার দাবি তোলেন। সারদা এতে জোরালো আপত্তি করেন। ১৮৯৫ সালে শুরু করেন বাংলার প্রথম ক্রিকেটসামগ্রীর দোকান। সে সময় বিলেতি ব্যাট ও বল পাওয়া যেত কেবল তাঁর দোকানেই। শিয়ালকোট থেকে আনা উইলো কাঠে শিক্ষার্থীেদর জন্য সস্তায় ব্যাট বানানো শুরু হয় তাঁর যশোর রোডের কারখানায়। সত্যজিৎ রায়ের নামে কলকাতায় একটি ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নাম রাখা হয়। ১৮৫৯ সালে কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার মাশুয়া গ্রামের রায় পরিবারে বাংলায় প্রথম ক্রিকেট খেলার জনক ও অধ্যাপক সারদারঞ্জন রায়চৌধুরীর জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। ১৮৬৩ সালের ১০ মে, কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার মাশুয়া গ্রামের রায় পরিবারে শিশু সাহিত্যিক ও চিত্রশিল্পী উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরীর জন্ম, মৃত্যু-২০-১২-১৯১৫ তারিখ। (উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু, স্বামী বিবেকানন্দও বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বন্ধু ছিলেন)। উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী ১৮৯৪ সালের দিকে কলকাতায় বইছাপা কারখানা দেন এবং পরে নিজেই পাবলিসারস হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। উপেন্দ্রকিশোর তাঁর খুবই সাধারণ মানের লেটারপ্রেস ছাপাখানায় বসে রঙিন ছবি মুদ্রণের যুগান্তকারী উন্নতি ঘটিয়ে পাশ্চাত্যজগৎকে তাক লাগিয়ে দেন। ইউরোপের তখনকার মুদ্রণবিষয়ক সব পত্রিকায় তাঁর প্রশংসাসুলভ নিবন্ধ ছাপা হয়ে তাঁকে মুদ্রণজগতে আন্তর্জািতক খ্যাতির অধিকারী করে। উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী বৈচির্তযময় প্রতিভার দূত। তিনি তাঁর পিতা-মাতার আট সন্তানের মধ্যে উপেন্দ্রকিশোর ছিলেন তৃতীয়। তাঁর ছেলের নাম কবি সুকুমার রায়। ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর, কলকাতা শহরে শিশু সাহিত্যিক ও কবি সুকুমার রায়ের জন্ম এবং মৃত্যু-১০-০৯-১৯২৩ তারিখ। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত শিশু সাহিত্যিক ও কবি এবং ছড়াকার, শিশুদের জন্য। তার ছেলের নাম সত্যজিত রায় (মানিক)। সত্যজিত রায়ের মায়ের নাম সুপ্রভা দেবী। বিশ্ববরেণ্য এ পরিচালক ১৯২১ সালের ২ মে, সত্যজিত রায় (মানিক) কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি মৃত্যুবরন করেন ২৩-০৪-১৯৯২ তারিখ। ১৯৫৫ সালে তিনি নির্মাণ করেছিলেন অবিস্মরণীয় চলচ্চিত্র 'পথের পাঁচালি'। ১৯৫৫ সালে নিউইয়র্কে 'পথের পাঁচালি' প্রথম প্রদর্শিত হয়। এর কয়েক মাস পর এটি কলকাতায় মুক্তি পায়। ১৯৫৬ সালে সিনেমাটি কান চলচ্চিত্র ঊৎসবে বেস্ট হিউমেন ডকুমেন্টারীর পুরস্কার পায়। এটা বাংলার সমাজ ও গ্রামীণ জীবনকে খুবই হৃদয়গ্রাহীভাবে ফুটিয়ে তোলেন। তার ছেলের নাম সন্দীপ রায়। ১৯৫৭ সালের ২০ ডিসেম্বর, সানফ্রান্সিসকো চলচ্চিত্র উৎসবে সত্যজিৎ রায় পরিচালিত 'পথের পাঁচালী' শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে। ১৯৫০ সালে কলকাতায় সন্দীপ রায়ের জন্ম, তিনিও তার বাবারমত সিনেমা তৈরী করেন। তাঁদের ৫(পাঁচ) পুরুষের বংশ লতিকা দেয়া হলো।