মো: শফিকুল ইসলাম ওরফে মানিক মাষ্টার, গ্রাম-জাফরপুর, উপজেলা-নবীনগর, মোবাইল-০১৮১৮১২৩৫০৩।

চৌধুরী বংশের ইতিকথা:

পশ্চিম দেশ থেকে বিভিন্ন সময়ে মানুষ এসেছিল ভারতবর্ষে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে-পরবর্তীেত তাঁদের মধ্যে অনেকই আদিপত্য বিস্তার করে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। যার ফলে এ ভারতবর্ষে সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন বর্ণের মানুষ। ভারতবর্ষ বিভক্ত হয়ে দুটি স্বাধীন রাষ্টের সৃষ্টি হয়। এরমধ্যে ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগষ্ট পাকিস্তান নামে একটি রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। পাকিস্তানের সৃষ্টি হয়েছিল দু'টি অংশ নিয়ে-যেমন পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মাঝে ছিল স্বাধীন ভারত। তারপর দীর্ঘ সংগ্রামের পর ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম। ফলে বাংলাদেশেও বিভিন্ন বর্ণের মানুষের বসবাস। তাই বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক ধরণের বংশ আছে। তারমধ্যে অন্যতম একটি বংশ হল চৌধুরী বংশ।

চৌধুরী শব্দটি সৃষ্টি হয়েছে চৌথ শব্দ থেকে। যার অর্থ হল এক চতুর্থাংশ আর্থাৎ জমিদারদের যুগে খাজনা আদায় করে দেয়া বাবদ সর্বেমাট খাজনার চার ভাগের এক যারা পেত তাদেরকে চৌথ বলা হত। চৌথ শব্দের আধুণিক সংস্করণই চৌধুরী।

সাধারণতঃ বংশ সম্বন্ধে কেউই বই প্রকাশ করেনা। বংশ কি ব্যবহারেই পরিচয়। আমরা শুধু আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির বংশের পূর্ব ইতিহাস, অতীত-বর্তমান অবস্থান নিয়ে পর্যেলাচনা করেছি মাত্র। তবে আমি মনে করি যে, আমাদের প্রত্যেকেরই জানা উচিত নিজস্ব বংশের পূর্ব ইতিহাস ও সৃষ্টি সম্পর্কে। আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির প্রথম পুরুষ জনাব সালেহ্‌ আহমদ চৌধুরী প্রায় ১৮০৬ খ্রিষ্টাব্দে বর্তমান দেবীদ্বার থানাধীন পইরাংকুল গ্রামের চৌধুরীবাড়ি থেকে এসেছিলেন এ গ্রামে। তিনি আসার পর তাঁর নাম অনুসারে এ গ্রামের নামকরণ করা হয় ''আহমদপুর''। বর্তমানে আহমদপুর চৌধুরীবাড়িতে অষ্টম পুরুষের বসবাস। জনাব সালেহ আহমদ চৌধুরী থেকে শুরু করে প্রায় ৫ম পুরুষ পর্যন্ত এ বংশের অর্থ-সম্পদ, প্রভাব-পতিপত্তি অনেক ছিল। কিন্তু যুগের পরিবর্তেনর সাথে সাথে এ অবস্থানেরও পরিবর্তন হয়। বর্তমানে সে অবস্থানে নেই। বর্তমান যুগ বিজ্ঞানের যুগ। এ যুগে অর্থ-সম্পদ, প্রভাব-পতিপত্তি ও আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির বংশের উন্নতির বিকাশ করতে হলে বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা-দীক্ষা ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী হতে হবে। যেটা আমাদের খুবই কম। আমি মনে করি-আমাদের চৌধুরী বংশের বর্তমান প্রজন্ম তার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবে। ইতি-মোহাম্মদ এমরান চৌধুরী(ইমন)।

।ইংরেজী নববর্ষের উৎসব:।

ইংরেজী নতুন বছর শুরু হয়েছে। সব পত্রিকার মতই আমরাও আমাদের পাঠকদের শুভেচ্ছা জানাতে চাই। একই সাথে এও বলতে চাই যে, এ শুভেচ্ছা কামনা ফাঁকা। কারণ, আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের জীবনে একটা বছরের সাথে আর একটা বছরের কোন পার্থক্য নেই। অন্য সব দিনের মতই ইংরেজী ১লা জানুয়ারী আর একটা দিন। মনে হয় দেশের অধিকাংশ মানুষ এভাবেই ইংরেজী ১লা জানুয়ারীকে দেখে। তবে ঢাকার কিছু মানুষের কথা আলাদা। তারা ১লা জানুয়ারীকে ভিন্ন চোখে দেখে। ওই দিন তারা রাস্তায় হৈ হুল্লুড় করেছে, প্রচুর মদ খেয়েছে, ঢাকার অভিজাত হোটেলে ও ক্লাবে নাচ গান করেছে, ডিনার খেয়েছে। এজন্য তারা হাজার হাজার বা লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করেছে। যারা এভাবে নববর্ষ পালন করেছে তারা সবাই ধনী ব্যক্তি। এদের কাছে হাজার হাজার বা লক্ষ লক্ষ টাকার দাম নেই। এদের জীবনে ফুর্তিটাই বড়। এসব ধনী পরিবারের ছেলেমেয়েরা পশ্চিমের পুঁজিবাদী দেশের তরুণ-তরুণীদের মত অশ্লীল নাচ-গান এবং নারী পুরুষের অবাধ ও উৎকট মেলামেশার মধ্য দিয়ে নতুন বছরের রাতে উৎসব করেছে। ঢাকার এ তরুণরা রাস্তায় মদের বোতল ছূড়ে, মেয়েদের বিবস্ত্র করে এবং গাড়ি ভাংচুর করে নববর্ষ "উৎযাপন" করে। এটা পাশ্চাত্যের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরই প্রতিফলন। এদেশের ধনী পরিবারের ও তাদের উচশৃঙ্খল ছেলেমেয়েদের মধ্যেই পাশ্চাত্যের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়। দেশের ব্যাপক জনগণের উপর পাশ্চাত্যের সংস্কৃতির কোনরকম প্রতিফলনই লক্ষ্য করা যায় না। পাশ্চাত্যের গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে এদেশের জনগণের কোন সম্পর্ক নেই। পাশ্চাত্যের গণতন্ত্র গণবিচিছন্ন। কারণ, এ গণতন্ত্র এখানকার একটা গোষ্ঠির স্বার্থের সেবা করে। যেসব রাজনৈতিক দল এবং শ্রেণী বর্তমান অর্থৈনতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা থেকে প্রচুর সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে তাদের নিয়ে গড়ে উঠেছে এ গোষ্ঠী। এরাই ইংরেজী নববর্ষে উৎসবমুখর হয়ে উঠে। পাশ্চাত্যের গণতন্ত্র থেকে এ গোষ্ঠী যতবেশী লাভবান হয়েছে ততই দেশের জনগণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এ গোষ্ঠীর সুখ সমৃদ্ধির বিনিময়ে এদেশের জনগণ দরিদ্র হয়েছে। তাই এদের উৎসবে জনগণ যোগ দেয় না।

ঢাকার অনেক অধিবাসী নববর্ষের "উৎসবকে" নিন্দা করেছে, নববর্ষে ধনী পরিবারের ছেলেমেয়েদের যৌন উম্মাদনা ও মাতলামিকে নিন্দা করেছে। এখানকার শিক্ষিত মধ্যবিত্তদের অনেকই পাশ্চাত্যের এ সংস্কৃতির বিরোধী। কিন্তু, তারা পাশ্চাত্যের গণতন্ত্রের দৃঢ় সমর্থক। পাশ্চাত্যের গণতন্ত্র থেকে এখানকার মধ্যবিত্তরাও কমবেশি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে। তাই দেশের মধ্যবিত্তরা উভয় সংকটে পড়েছে। তারা পশ্চিমের গণতন্ত্র থেকে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে রাজী কিন্তু তারা পাশ্চাত্যের সংস্কৃতির বিরোধী। এটা হয় না। পাশ্চাত্যের হ্যাংলামি পছন্দ না হলে পাশ্চাত্য গণতন্ত্র ছাড়তে হবে। পাশ্চাত্য গণতন্ত্র ছাড়লে দেশ বিপর্যেয় পড়বে না। তবে যারা এতদিন প্রচুর সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে সেইসব সুবিধাভোগীদের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠবে। তার বিনিময়ে দেশের ব্যাপক জনগণের জীবন সুখের হবে। জাকির হুসেন আলমগীর আর্থ-সামাজিক গবেষণা কেন্দ্রের মাধ্যমে লেখাটি তৈরী করা হয়েছে। একজন ব্যক্তিকে পরিচিতি করার জন্য আমরা লেখালেখি করিনি। আমরা এ সমাজব্যবস্থার আমূল পরিবর্তেনর জন্য কাজ করছি। আমরা এ দেশের ৯০ভাগ মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে কাজ করে যাব। এ হল জাকির হুসেন আলমগীর আর্থ-সামাজিক গবেষণা কেন্দ্রের অঙ্গীকার।

।স্বাধীনতার ৩৫তম বার্ষিকী:।

২০০৬ সালের ২৬শে মার্চ আমাদের স্বাধীনতার ৩৫তম বছর গেল। এসব দিবস পালন পশ্চিমের মানুষদের থেকে শেখা। আমাদের দেশের মানুষের জীবনে ৩৫তম বছর পার হওয়াটা কোন বিশেষ ব্যাপার নয়। আর ক'দিন পরে স্বাধীনতা দিবসের ৩৬তম বছর পার হয়ে যাবে। স্বাধীনতার ৩৫তম বছর পরেও এদেশের জনগণের জীবনে বলার মত কোন পরির্তন আসেনি। বরং দারিদ্র, বেকার সমস্যা ও জনসংখ্যার চাপ আরও বেড়েছে। তাই এসব দিবস পালন করা নিয়ে জনগণের মধ্যে কোন উৎসাহ আগ্রহ লক্ষ্য করা যায় না। গ্রামে এসব দিবসের কিছুই টের পাওয়া যায় না। শুধু শহরে এসব দিবস নিয়ে হইচই হয়। ঐসব হইচই শহরের মানুষকে কিছুটা নাড়া দেয়। শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা(প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী প্রমুখ) এসব দিবস উপলক্ষে বাণী দেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে বক্তৃতা দেন। দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তিরাই এসব দিবসকে বিশেষ দিবস হিসাবে গনায় ধরেন। সাধারণ মানুষের কাছে এসব দিবসের তাৎপর্য স্পষ্ট নয়। যেমন, ২৬শে মার্চ আমাদের দেশে স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়। (অনেকে এই খবরও রাখে না।) ২৬শে মার্চ কেন স্বাধীনতা দিবস পালিত হয় সেটাও অনেকের কাছে বোধগম্য নয়। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চেক স্বাধীনতা দিবস বলা হলেও ওই দিন আমাদের দেশ পাকিস্তানের অংশ হিসাবে পাকিস্তানিদের কবলেই ছিল। পাকিস্তানিরা বা পাকিস্তান পন্হীরাই শাসন ক্ষমতায় ছিল। এর কিছুদিন পর অবশ্য সৈয়দ নজরুল, তাজউদ্দিন, প্রমুখরা একটা সরকার গঠন করেছিলেন। কিন্তু, সেই সরকারের কোন কর্তৃত্ব ছিল না। কর্তৃত্ব না থাকলে কোন সরকার প্রকৃত অর্থে সরকার নয়। তাহলে ২৬শে মার্চ কেন স্বাধীনতা দিবস? অনেকে বলেন ২৬শে মার্চ শেখ মুজিব স্বাধীনতা ঘোষণা দেন। শেখ মুজিবের সেই ঘোষণা কোন মানুষ শুনেনি। তবে মেজর জিয়ার ঘোষণা শুনা গিয়েছিল। তিনি অবশ্য শেখ মুজিবের পক্ষ থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা দিচ্ছেন বলে তাঁর বেতার ভাষণে উল্লেখ করেন। সেটা একটা কথার কথা। শেখ মুজিবের নামে ঘোষণা দিলে মানুষ তাঁর ঘোষণাকে গুরুত্বের সাথে নেবে মনে করেই তিনি শেখ মুজিবের নামে ঘোষণা দেন। তাছাড়া মনে হয় না শেখ মুজিব জিয়াকে এই ঘোষণার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এত লোক থাকতে এক অজ্ঞতনামারের উপর স্বাধীনতা ঘোষণার মত অতি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেওয়ার দায়িত্ব অর্পণ করা হবে এটা কিছুতেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। তবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়াতে তখনকার মেজর জিয়ার নাম ঘরে ঘরে জানাজানি হয়ে গেল। বাংলাদেশের মানুষের তখন একেবারেই দিশেহারা অবস্থা। শেখ মুজিবকে নিয়ে প্রচন্ড গুজব। কেউ বলে তিনি পাকিস্তানিদের কাছে ধরা দিয়েছেন। কেউ বলে তিনি ভারতে পালিয়ে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। (মিরপুরের এক মাঝি দাবি করেছিল যে, সে নিজে শেখ সাহেবকে নৌকা দিয়ে নদী পার করে দিয়েছে।) আওয়ামী লীগের প্রথম সারির নেতাদের মধ্যে থেকে কোন হদিস পাওয়া যায়নি। তারা সবাই মেজর জিয়ার ঘোষণা যে জনগণের মধ্যে একটা আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল সেটা অস্বীকার করা যাবে না।

২৫শে মার্চ রাতে বাঙ্গালী সৈনিকরা ব্যাপক ফ্রন্টে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণ প্রতিরোধ করে। শুরু হয় স্বাধীনতা যুদ্ধ। প্রায় ৯মাস পর ১৬ই ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। অর্থাৎ পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। তাও ভারতের বাহিনীর কাছে। এ দিনটাতেও বাংলাদেশের তথাকথিত সরকার দেশে ছিল না। সে সরকারের কাছে পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ না করাতে আমরা বিজয় দিবসের সবটুকু গৌরবের অধিকারী হতে পারিনি। শেখ মুজিব আরও পরে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফিরে আসেন। কিন্তু এসব অর্থহীন বিষয়। এদেশের জনগণের দৃষ্টিতে যে বিষয়টা আসলেই গুরুত্বপূর্ণ সেটা হলো স্বাধীনতার সুখ-শান্তি। স্বাধীনতার পর সুখের মুখ দেখার সৌভাগ্য আজও এদেশের মানুষের হয়নি। কারো হয়নি সেটা বলা যাবে না। বেশ কিছু মানুষের হয়েছে রাস্তায় বিদেশী মোটর গাড়ির লাইন, আবাসিক এলাকায় কোটি কোটি টাকা দামের বাসাবাড়ি, এয়ার কন্ডিশনারের ছড়াছড়ি, আনন্দ-উৎসব, বিদেশ ভ্রমণ ইত্যাদি দেখলেই বুঝা যায় এদেশে কিছু মানুষ এখন পাঁচ আঙ্গুলে ঘি খাচেছ। কিন্তু, ব্যাপক জনগণ আজও দরিদ্র। বেকারত্বের অভিশাপে জর্জিরত। এসব মানুষের কাছে স্বাধীনতা অথবা বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান উপলক্ষে আনন্দ-উৎসব একান্তই অর্থহীন লোক দেখানো কর্মকান্ড। একদিনের উৎসব আনন্দ আর স্বাধীনতার সুখ এক জিনিস নয়। যেমন বাসর ঘরের ফুলশয্যা অথবা হানিমুন আর বিবাহিত জীবনের সুখ এক নয়। স্বাধীনতা নিয়ে এদেশের মানুষ অনেক স্বপ্ন দেখেছিল। তাদেরকে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল। ৮ আনা সের চাল, ৬ আনা দিস্তা কাগজ আর সোনার বাংলার স্বপ্ন। সবই মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। কেন মিথ্যা প্রমাণিত হলো, সেই প্রশ্নের সঠিক উত্তর পাওয়া দরকার। আওয়ামী লীগের মতে বিগত ২১বছর(মানে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট থেকে ১৯৯৬ সালের ২২শে জুন পর্যন্ত সময়কে বুঝানো হয়েছে) + বর্তমান ৫বছর মানে ২০০১ সালের ১০ই অক্টোবর থেকে ২০০৬ সালের ২৮শে অক্টোবরকে বুঝানো হয়েছে) মোট ২৬বছর শেখ মুজিব এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার স্বপ্ন এভাবে ভেঙ্গে যেত না। এধরণের একটা চিন্তার আভাস সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন বক্তব্য থেকেও পাওয়া যায়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায়ই বলেন-২৬টি বছরের দুঃশাসন দেশের বর্তমান দুরবস্থার জন্য দায়ী। ২৬টি বছর জাতির জীবন থেকে হারিয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের শাসন ব্যতীত অন্য কোন দলের শাসন ক্ষমতাকেই যদি দুঃশাসন বা হারিয়ে যাওয়া বলে মনে করা হয় তাহলে ত গণতন্ত্র চলে না। বাকশাল কায়েম করতে হয়। বাকশাল কায়েম করার যুক্তিটা ছিল তাই। কিন্তু এ ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বাকশালের পতন তার প্রমাণ। তাছাড়া বাকশাল পুনঃপ্রতিষ্ঠার কোন উদ্যোগও এখন আর লক্ষ্য করা যায় না। অতএব, বাকশালের পতন এবং পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগের অভাব প্রমাণ করে যে, আওয়ামী লীগের সাড়ে আট বছরের শাসনামলও স্বর্ণযুগ ছিল না। গত ২১বছর বর্তমান ৫বছর মোট ২৬বছরত নয়ই। বরং আওয়ামী লীগের ১৯৯৬ সালের ২৩শে জুন থেকে ২০০১ সালের ১৩ই জুলাই এবং ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর থেকে ১৯৭৫ সালের ১৪ই আগষ্ট পর্যন্ত সর্বেমাট সাড়ে আট বছরের শাসনামলও স্বর্ণযুগ নয়। এরপর যে প্রশ্নটা থাকে সেটা হলো কেন স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তব হলো না?

আমাদের সমাজের বর্তমান বৈষম্যই এজন্য দায়ী। আওয়ামী লীগ সরকার থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পর এযাবৎ যত সরকার ক্ষমতায় এসেছে তারা কেউই সমাজের বৈষম্য দূর করতে পারেনি। অথচ, (তখনকার পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে) বৈষম্যই স্বাধীনতা সংগ্রামের কারণ ছিল। এ কথাটা দেশের রাজনৈতিক দল ও দলের নেত্রী-নেতারাই ভুলে গেছে। এ ভুলে যাওয়ার পিছনে নেতানেত্রীদের উদ্দেশ্য অবশ্যই আছে। বৈষম্য থেকে ফায়দা লুটাই উদ্দেশ্য। মনে হয় দেশের মানুষও ভুলে গেছে। এখন আর বৈষম্য নিয়ে কোন কথাই শুনা যায় না। অথচ, পাকিস্তান আমলের চেয়েও এখন অনেক বেশি বৈষম্য চোখে পড়ে অন্ততঃ তখনকার পূর্ব পাকিস্তানের মানুষে মানুষে আজকের মত বৈষম্য ছিল না। এখন কিছু মানুষ ধারণার বাইরে ধনী। তাদের জীবনে ভোগবিলাসের সীমা পরিসীমা নেই। এক শ্রেণীর মানুষের ধন-সম্পদ এবং ভোগবিলাসে সম্পদের অপচয় আমাদের দেশকে অর্থৈনতিকভাবে পশ্চাৎপদ এবং দেশের বাদবাকী মানুষকে চরম দরিদ্র করেছে। কিভাবে এক শ্রেণীর মানুষ বিশাল ধন-সম্পদের অধিকারী হল সেটা দেশবাসীর জানা দরকার। বিগত ৩৫বছর এদেশের কৃষক-শ্রমিক-মজুর তাদের শ্রম দিয়ে যে সম্পদ উৎপাদন করেছে তার মালিক হয়েছে মুষ্টিমেয় লোক। এভাবে তারা বিশাল ধন-সম্পদের অধিকারী হয়েছে। এথেকে এটা স্পষ্ট যে এদেশে বিগত ৩৫বছর যে অর্থৈনতিক প্রবৃদ্ধি বা সম্পদ উৎপাদন হয়েছে সেটা ভোগ করা থেকে জনগণ বঞ্চিত থেকেছে। এখানকার জনগণের ধারণা, বৈষম্য আল্লাহ্‌র বিধান। সব মানুষ কখনও এক সমান হয় না। এ ধারণা একেবারে ভুল বলা যাবে না। তার অর্থ এ নয় যে মানুষে মানুষে পর্বতপ্রমাণ বৈষম্য আল্লাহ্‌র বিধান। পাঁচ আঙ্গুলের বৈষম্য আল্লাহ্‌র বিধান। সে বৈষম্য দূর করা কখনও সম্ভব নয়। দূর করার প্রচেষ্টা অর্থনীতিতে বিপর্যয় ডেকে নিয়ে আসে। কিন্তু, আজকে দেশের মানুষের মধ্যে যে বৈষম্য লক্ষ্য করা যায় সে বৈষম্য অন্যায়। মানুষের সৃষ্টি। শোষণের ফল। এ বৈষম্য যতদিন দূর না হবে ততদিন স্বাধীনতার সুফল জনগণ ভোগ করতে পারবে না। স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং শহীদদের আত্মদান অহেতুক বলে প্রমাণিত হবে। আজকে যখন স্বাধীনতার ৩৫তম বার্ষিকী পালিত হয়েছে তখনও এ বৈষাম্যের বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ শুনা যায় নি। প্রশ্ন হলো, মানুষ আর কতকাল এ বৈষম্য মেনে নেবে? বর্তমান সরকার অতিতের সব সরকাররের মতই অর্থৈনতিক উন্নয়ন, দারিদ্র মোচন এবং সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার "দৃঢ় সংকল্পের" কথা বলে। কিন্তু, মানুষে মানুষে বৈষম্য দূর না করে এসব কথার অর্থ একটাই দাঁড়ায়। ফাঁকিবাজী।

।১৯৪৫ সাল:।

মাসিক খেয়া পত্রিকা থেকে এ লেখাটি তুলে ধরলাম কারণ আমি লেখাটার সাথে একমত। এ লেখাটি ১৯৯৫ সালের নভেম্বর মাসে লেখা এবং তখনকার দ্রব্য মূল্যের পরিবর্তে ২০০৬ সালের দ্রব্য মূল্যের সাথে পার্থক্য দেখানো হয়েছে: