আবার পাকিস্তানী সরকার আদেশ জারি করল যে-২০ মে, ১৯৭১ তারিখের মধ্যে কাজে যোগদান করতে হবে-না করলে চাকরি চলে যাবে। দেখি সবাই কাজে যোগদান করে ফেলছে। তখন অফিস-আদালতে ২% মানুষ হবে পাকিস্তানীদের পক্ষে কথা বলে-আর আমরা বাংলাদেশের পক্ষে মানে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ৯৮% মানুষ কথা বলি। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতার পর দেখি যারা পাকিস্তানের আমলে অফিস-আদালতে পাকিস্তান সরকারের পক্ষে বা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে দালালী করত-তারাই আবার স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের পক্ষে দালালী করতে শুরু করল। তারপর আমার ঐ সব লোকদের প্রতি ঘৃণা বাড়তে লাগল। স্বাধীনতার পর দেখি-মুদ্রাক্ষরিকদের পদোন্নতির নিয়ম নাই-তখন ১৯৭২ সালে আমি মোঃ জাকির হুসেন ও জনাব আ. ব. ম. আবুল কাশেম খানকে নিয়ে মুদ্রাক্ষরিক সমিতি নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করি। আমি সভাপতি ও জনাব আবুল কাশেম খান-সাধারণ সম্পাদক। আমরা দু'জনে মিলে আলাপ-আলোচনা করতে করতে আরো কিছু মুদ্রাক্ষরিক আমাদের সাথে পেলাম এবং কর্তৃপক্ষের সাথে দাবি করতে থাকি যে-অন্যান্য পদের পদোন্নতি আছে শুধু মুদ্রাক্ষরিক পদের পদোন্নতি নাই। মানে মুদ্রাক্ষরিক পদে কয়েক বছর চাকরি করার পর আবার নিম্নমান সহকারী পদে রূপান্তরিত হওয়ার পর তাদের পদোন্নতি দেয়া হত। আমরা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটা ফয়সালায় আসি ১৯৭৩ সালের জুন মাসে যে-যাদের চাকরি ৩ বছর পূর্ণ হয়েছে তাদেরকে উচ্চমান সহকারী-কাম-মুদ্রাক্ষরিক পদে পদোন্নতি দেয়া হলো সিন্ডিকেটের আদেশে। ১৯৭৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর পদোন্নতি হল প্রথম ব্যাঁচের-তখন আমার চাকরিকাল ৫ বছরের বেশি। আমার সাথে তিন বছরে অনেকের পদোন্নতি হয়ে গেল। আমরা আবার চেষ্টা করতে লাগলাম যে, পরবর্তী পদোন্নতি কীভাবে হয়। কর্তৃপক্ষ এবং কর্মচারী সমিতি বলতে লাগল যে, আগামীতে সবপদ মিলে একটা পদোন্নতির রুল করা হবে। ১৯৭৮ সালের দিকে একটা পদোন্নতির রুল করা হল। সেখানে নন-র্গযাজুয়েট ও র্গযাজুয়েটকে আলাদা করা হয়েছে যেমন-সিনিয়রিটিকে বাদ দিয়ে-নন-র্গযাজুয়েট একই পদে দশ বছর লাগবে এবং র্গযাজুয়েট হলে ৬ বছর। আমি যখন আমার পদোন্নতির জন্য আবেদন করি তখন আমার চাকরির বয়স সাড়ে দশ বছর-এবং পদোন্নতি পাই-প্রধান সহকারী হিসেবে-০৬-০৫-১৯৮৪ তারিখ এবং ঐ বছরই আমরা আন্দোলন করি যে দশ বছরের পরিবর্তে ৫ বছর করা হোক এবং নন-র্গযাজুয়েটদের জন্য ৫ বছর পদোন্নতির রুলটা পরিবর্তন হয়েছে। আবার প্রধান সহকারী থেকে অফিসার পদে পদোন্নতি পেতে হলে নন-র্গযাজুয়েটদের দশ বছরই রয়ে গেল। আবার অফিসার হতে আমার সময় লেগেছে প্রায় ১২ বছরের মত। আমি প্রায় ১২ বছর পর সেকশন অফিসার হলাম-২৪-০৪-১৯৯৬ তারিখ। ঐ বছরই সবাই আন্দোলন করার পর পদোন্নতির রুলে কিছু পরিবর্তন আসে। তারপর আবার আরো একটা সমস্যা দেখা গেল যে-সেকশন অফিসার ও সমমানের অফিসারদের মধ্যে নন-র্গযাজুয়েটদের ১০ বছর সময় লাগবে সহকারী রেজিস্ট্রার ও সমমানের অফিসার হতে। তারপর সংগ্রাম করার পর, পদোন্নতির রুলে পরিবর্তন আসে ২০০২ সালে যে, পদোন্নতির জন্য নন-র্গযাজুয়েটদের-৫ বছর, র্গযাজুয়েটদের-৪ বছর ও পোষ্ট-র্গযাজুয়েটদের-৩ বছর সময় লাগবে পদোন্নতি পেতে। আমার বেলায় সহকারী রেজিস্ট্রার হতে (১৪-০৬-২০০৯ তারিখ) সময় লেগেছে প্রায় ১৪ বছর।
আমার চাকরি ১১তম উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওসমান গনি ও ৪তম রেজিস্ট্রার জনাব মোহাম্মদ আবদুল হাদী তালুকদার-এর আমলে শুরু করেছিলাম। আর শেষ করছি ২৭তম উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ. আ. ম. স. আরেফিন সিদ্দিক ও ১৩তম রেজিস্ট্রার জনাব সৈয়দ রেজাউর রহমান-এর আমলে। আমার একটি কথা না বললেই নয় যে, গত ১৭-০১-২০০৯ থেকে ৩০-০৬-২০১৫ তারিখ পর্যন্ত নিয়মিত পদোন্নতি দেয়া হয়েছে অফিসার ও কর্মচারীদের। ২৭তম উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ. আ. ম. স. আরেফিন সিদ্দিক-এর আমলে অফিসার ও কর্মচারীরা খুশী আছেন-কারণ উনার আমলে গত ৬ বছর ৫ মাস ১৩ দিনে সাতবার নিয়মিতভাবে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। এর পূর্বে ২৬তম উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. এ. ফায়েজ গত ২৩-০৯-২০০২ থেকে ১৬-০১-২০০৯ তারিখ পর্যন্ত উপাচার্যের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর আমলে ২২-০৪-২০০৪ ও ১৬-০১-২০০৫ তারিখ পদোন্নতি দেয়া হয় যাঁদের-তাঁদের মধ্যে অনেকে পদোন্নতির রুল ফুলফিল করে সিনিয়রিটির পারসেন্টেজে সিলেক্ট হয়েছিল তাঁদেরকে বাদ দিয়ে ১৮ জনকে স্পেশাল পদোন্নতি দিয়েছিল ইন্টারভিউ ছাড়া। সিন্ডিকেট হওয়ার পর অফিসাররা আন্দোলন করার পর ২২-০৪-২০০৪ তারিখের পদোন্নতিগুলো উপাচার্য মহোদয় স্থগিত ঘোষণা করল। তারপর স্পেশাল ১৮ জনকে বাদ দেওয়া হয়। আবার ঐ ১৮ জনকে ইন্টারভিউ ছাড়া এবং আরো কিছু অফিসারের ইন্টারভিউ নিয়ে ১৬-০১-২০০৫ তারিখের সিন্ডিকেট সভায় পদোন্নতি অনুমোদন করে। সেখানেও অনেক সিনিয়র অফিসার বাদ পরে। আমি বলছি সেকশন অফিসার ও সমমান অফিসারদের কথা। যাঁরা সহকারী রেজিস্ট্রার ও সমমান অফিসারে পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্য ছিল। অধ্যাপক ড. এস. এম. এ. ফায়েজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্বে ছিলেন ৬ বছর ৪ মাস ২৩ দিন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৪ বছরের ইতিহাসে আমার জানামতে শিক্ষক-কর্মকর্তার ক্ষেত্রে তিন জেনারেশন কাজ করেছেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ে একই পরিবারের (যেমন পিতা-পুত্র/কন্যা-নাতি/নাতনি, পিতা-শিক্ষক-পুত্র/কন্যা-শিক্ষক-নাতি/নাতনি-শিক্ষক বা পিতা-কর্মকর্তা-পুত্র/কন্যা-কর্মকর্তা-নাতি/নাতনি-কর্মকর্তা) এমন ধরণের পরিবার একটিও পাওয়া যায়নি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তার মাঝে দুই জেনারেশন কাজ করেছেন এমন বেশ কয়েকটি পরিবার পাওয়া গেছে যেমন পিতা-পুত্র/কন্যা, পিতা-শিক্ষক-পুত্র/কন্যা-শিক্ষক বা পিতা-কর্মকর্তা-পুত্র/কন্যা-কর্মকর্তা।
মরহুম অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুল হাই, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং উনার ছেলে অধ্যাপক ড. মনজুর হাসান, অধ্যাপক হিসেবে ভূতত্ত্ব বিভাগে ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর। মরহুম অধ্যাপক ড. তাহেরুল ইসলাম, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং উনার মেয়ে অধ্যাপক ড. খালেদা ইসলাম, পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন।
এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার জানামতে ৯৪ বছরের ইতিহাসে ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারীর মাঝে কয়েকটি পরিবার পাওয়া গেছে তিন জেনারেশন চাকুরীতে। মরহুম মোঃ কালু মিয়া, অফিস সহায়ক পদে, প্রক্টর অফিস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। উনার ছেলে জনাব মোঃ আমির হোসেন, লেডিজ কমনরুম এ্যাটেনডেন্ট, প্রক্টর অফিস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩০ জুন ২০০৮ সালে অবসরগ্রহণ করেছেন। মরহুম মোঃ কালু মিয়ার নাতি জনাব মোঃ ইউসুফ হারুন, অফিস সহায়ক পদে, প্রকটর অফিস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন এখন বদলি হয়ে পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে আছেন। আমার দেখা ও জানামতে এরা তিন জেনারেশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরী করে দাদা মারা গেছেন, পিতা অবসর নিয়েছেন এবং নাতি প্রকটর অফিস থেকে বদলি হয়ে পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চাকুরীতে আছেন। জনাব মোঃ সুলতান মিয়া, পাম্ব মিস্ত্রি, বিদ্যুৎ শাখা, প্রকৌশল দপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় মারা গেছেন এবং তাঁর ছেলে জনাব মোঃ নূরুল ইসলাম(আবু মিয়া), পাম্ব মিস্ত্রি। নুরুল ইসলামও চাকুরীরত অবস্থায় মারা গেছেন। মরহুম মোঃ সুলতান মিয়ার নাতি জনাব মোঃ সহিদুল ইসলাম(স্বপন), প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে, অফিস সহায়ক পদে চাকুরী করছেন। এরা তিন জেনারেশন একই দপ্তরে কাজ করে চাকুরীরত অবস্থায় দাদা এবং বাবা মারা গেছেন। নাতি চাকুরীতে আছেন।
অধ্যাপক মোঃ সফিউল্লাহ ১৯৩৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমার্স বিভাগে লেকচারার হিসাবে যোগদান করেন, ১৯৬৬ সালে ব্যবসা প্রশাসন ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হন, ৩০-০৬-১৯৭৫ তারিখ এল.পি.আর. যান এবং ৩০-০৬-১৯৭৬ তারিখ শেষ করেন তারপর পরিচালক হিসেবে আরো দু'বছর সার্ভিস বদ্র্ধিত করা হয়েছিল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ হিসাবে ০১-১০-১৯৭৭ তারিখ থেকে ৩১-০৭-১৯৮২ তারিখ পর্যন্ত সার্ভিস শেষ করেন। ১৯৯৫ সালের মধ্যে যে সব শিক্ষক অবসরে গেছেন তাঁদের মাঝে আর কেউ দীর্ঘ ৪৫ বছর সার্ভিস করেননি।
শ্রী নারায়ণ চন্দ্র দে, সর্বপ্রথম চাকুরীতে বেয়ারার হিসেবে যোগদান করেন বিজ্ঞান অনুষদের ডীন অফিসে ০৩-০৬-১৯৪২ তারিখ। তিনি পদোন্নতি পেয়ে ফিটার পদে বিজ্ঞান কারখানায় যোগদান করেন ২৫-০৪-১৯৪৭ তারিখ। তারপর তিনি পদোন্নতি পেয়ে সিনিয়র ফিটার গ্রেড-২ হিসাবে যোগদান করেন ০৬-০৫-১৯৮৪ তারিখ। আবার তিনি পদোন্নতি পেয়ে সিনিয়র ফিটার গ্রেড-১ হিসাবে যোগদান করেন ১৭-০৬-১৯৯৩ তারিখ। বিজ্ঞান কারখানা থেকে সিনিয়র ফিটার গ্রেড-১ হিসাবে ৩০-০৬-১৯৯৩ তারিখ এল.পি.আর.-এ যান এবং ৩০-০৬-১৯৯৪ তারিখ অবসর গ্রহণ করেন। তাঁর মোট চাকুরী হয়েছে ৫২ বছর ২৮ দিন। এ তথ্যটি আমি, জনাব মোঃ মোক্তারুজ্জামান খান, নির্বাহী প্রকৌশলী(বিদ্যুৎ)-এর নিকট থেকে পেয়েছি। নিবন্ধকার মোঃ জাকির হুসেনের জানামতে এত দীর্ঘ সময় আর কারো চাকুরী হয়েছে বলে জানা নেই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টির পর শ্রী নারায়ণ চন্দ্র দে-ই প্রথম ব্যক্তি।
জনাব মোঃ নওশের আলী তালুকদার-উচ্চমান সহকারী-শহীদুল্লা হল-৩০-০৬-১৯৭৪ সালে অবসরে গেছেন এবং এখনো বেঁচে আছেন। উনার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায় অবস্থিত। উনি পেনশনধারী। উনার জীবিত র্সাটিফিকেট অনুযায়ী ৩০-০৬-২০১৫ তারিখ পর্যন্ত বেঁচে আছে।
জনাব এ. জেড. খান, ১৯৬৩ সাল থেকে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন এবং অবসর গ্রহণ করেন ১৯৯০ সালের ৩০ জুন। তারপর ১৯৯০ সালের ১ জুলাই থেকে পুনঃনিয়োগ পেয়েছিলেন এবং পুনঃনিয়োগ থাকা অবস্থায় ১৯৯০ সালের ১২ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। আমার জানা মতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রায় ২৭ বছর ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন এবং আর কোন ব্যক্তি উনার মত ২৭ বছর হেড অব দি অফিস হিসেবে কাজ করেননি। বর্তমান পরিচালক জনাব মো: আলমগীর হোসেন গত ১৯৯০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে আজ অবদি পরিচালকের দায়িত্বে আছেন। উনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে দ্বিতীয় ব্যক্তি।
জনাব সৈয়দ বদরউদ্দিন হোসাইন ১৯৬৩ সাল থেকে ০১-০৩-১৯৮১ তারিখ পর্যন্ত কলেজ পরিদর্শক ও ০২-০৩-১৯৮১ তারিখ থেকে রেজিস্ট্রার এবং ১৯৮৫ সালের ৩০ জুন থেকে রেজিস্ট্রার হিসেবে এল.পি.আর.-এ যান এবং ১৯৮৬ সালের ৩০ জুন থেকে অবসর গ্রহণ করেন। আমার জানামতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে জনাব সৈয়দ বদরউদ্দিন হোসাইন প্রায় ২২ বছর হেড অব দি অফিস হিসেবে কাজ করে অবসর গ্রহণ করেন। আরেকজন জনাব মোঃ শামসুর রহমান, সিনিয়র একাউন্টস অফিসার হিসেবে যোগদান করেন ১৯৬৬ সালে তারপর ১৯৬৯ সালে হিসাব পরিচালক হন এবং হিসাব পরিচালক হিসেবে মারা গেছেন ১৯৮৭ সালে। উনি প্রায় ২১ বছর হেড অব দি অফিস হিসেবে কাজ করে মারা গেছেন। জনাব আবদুল হাদী তালুকদার ০১-০৪-১৯৪৮ তারিখ থেকে রেজিস্ট্রার হিসেবে কাজে যোগদান করেন এবং ১৯৬৮ সালের ৩০ জুন অবসর গ্রহণ করেন। আমার জানামতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে জনাব আবদুল হাদী তালুকদার। উনি প্রায় ২১ বছর হেড অব দি অফিস হিসেবে কাজ করে অবসর গ্রহণ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টির পর থেকে ৩০-১১-২০০৯ তারিখ পর্যন্ত একটিমাত্র পরিবারের শতভাগ লোক চাকুরীতে ছিলেন। জনাব বদরউদ্দিন আহমেদ, উপ-রেজিস্ট্রার(প্রশাসন-৩)অবসর-তাঁর স্ত্রী-মিসেস লুৎফুন্নেছা, সিনিয়র গ্রন্থাগার সহকারী গ্রেড-১(অবসর) প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। উনাদের ৩(তিন)টি ছেলের পরিচয় দেয়া হলো-জনাব মোঃ বদরুল আহছান, উপ-পরিচালক, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর, জনাব সাইফুল আহসান, সহকারী রেজিস্ট্রার, রেজিস্ট্রারের দপ্তর এবং অধ্যাপক ড. নাজমূল আহসান, জিন প্রকৌশল ও জীব প্রযুক্তি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত।
২০১৫ সালের ৩০ জুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩(তের)টি অনুষদ, ১১(এগার)টি ইনস্টিটিউট, ৮০(আশি)টি বিভাগ, ৪৮(আটচল্লিশ)টি রিসার্চ ব্যুরো ও গবেষণা কেন্দ্র এবং ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ২৩টি আবাসিক হল হোস্টেল আছে এর মধ্যে ৩(তিন)টি হোস্টেল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাদানকল্প কলেজ ও ইনস্টিটিউটসমূহ-১০০টি আর অধিভুক্ত কলেজের সংখ্যা ৫টি রয়েছে এবং উপাদানকল্প প্রতিষ্ঠানসমূহ-৮৭টি। ট্রাস্ট ফান্ড রয়েছে-২৯৬টি। জমির পরিমাণ ৩২০.৮২ একর। কনস্টিটুয়েন্ট কলেজ এবং ইনস্টিটিউটের ছাত্রছাত্রীরসংখ্যা-৩৬,৪১০(ছয়ত্রিশ হাজার চারিশত দশ) জন এবং শিক্ষকসংখ্যা-৭,৩০৮ জন। ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক সম্মান প্রথম বর্ষে ভর্তির আসন সংখ্যা-৬,৭০২টি। ২০১৫ সালের ৪৯তম সমাবর্তন সুভেনিয়ার অনুযায়ী, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৩৭,০৬৪(সাইত্রিশ হাজার চৌষট্টি) জন এর মধ্যে ১৩(তের হাজার) ছাত্রীর সংখ্যা। ৩৭,০৬৪(সাইত্রিশ হাজার চৌষট্টি) জন ছাত্র-ছাত্রীর জন্য হলসমূহে আসন সংখ্যা মাত্র ১৫,৬৫০টি আছে, পাঠদান ও গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন ৩০-০৬-২০১৫ তারিখ পর্যন্ত প্রায় ১,৯০০(এক হাজার নয়শত) জন শিক্ষক এবং এরমধ্যে ৫৭০ জন নারী ও পুরুষ শিক্ষক-১,৩৩০ জন। ১,৯০০ জন শিক্ষক এর মধ্যে কর্মরত অধ্যাপকের সংখ্যা ইমিরিটাস, সংখ্যাতিরিক্ত, অনারারি অধ্যাপক এল.পি.আর ও শিক্ষা ছূটিসহ প্রায় ৭৪০ জন। এ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছেন-১,৩০০ জন এবং এমফিল করেছেন-১,২৫০ জন। অফিসারের অনুমোদিত পদেরসংখ্যা-১,০২৫(এক হাজার পঁচিশ) জন ৩০-০৬-২০১৫ তারিখ এল.পি.আর. ও ছূটিসহ। (পুরুষ-৮৭৬ ও মহিলা-১৪৯ জন) মোট=১,০২৫ জন এরমধ্যে ১৪ জন ডক্টরেট ডিগ্রীধারী, ১৪ জন হেড অব দি অফিস, ২৪৫ জন উপ-রেজিস্ট্রার ও সামনানের অফিসার, ৩৫৪ জন সহকারী রেজিস্ট্রার ও সমমানের অফিসার, ৪১২ জন সেকশন অফিসার ও সমমানের অফিসার। ৩০-০৬-২০১৫ তারিখ এল.পি.আর. ও ছূটিসহ তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারীর অনুমোদিত পদেরসংখ্যা-১,০৪৫(এক হাজার চল্লিশ) জন(পুরুষ ও মহিলাসহ)। ৩০-০৬-২০১৫ তারিখ এল.পি.আর. ও ছূটিসহ ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারীর অনুমোদিত পদেরসংখ্যা-২,১৭৫(দুই হাজার একশত পঁচাত্তর) জন(পুরুষ-মহিলাসহ)। (টেকনিকেল ও নন-টেকনিকেল এবং পুরুষ+মহিলাসহ-২,১৭৫)জন মোট=২,১৭৫ জন। কর্মরত, ছুটিজনিতসহ, শিক্ষক-অফিসার ও কর্মচারীর সংখ্যা-৬,১৪৫(ছয় হাজার একশত পাঁচচল্লিশ) জন ৩০-০৬-২০১৫ তারিখ পর্যন্ত। আমার চাকরি জীবনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৬৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ৩০-০৬-২০১৫ তারিখে প্রায় পৌঁনে পাঁচগুণ জনবল বেড়েছে আর বাজেট বেড়েছে প্রায় ৪৯০(চারিশত নব্বই) গুণ। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পেনশন শুরু হয় ১৪তম উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল মতিন চৌধুরীর সময় থেকে-৩০-০৬-২০১৫ তারিখ ২৭তম উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ. আ. ম. স. আরেফিন সিদ্দিক পর্যন্ত ৩,৩৪৬ জন অবসরে গেছেন। ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেট বি.ম.ক. অনুদান=৩২৩.৫০ কোটি টাকা বা ৮৬.৫৩% এবং ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেট-৩৯৬(তিনশত ছিয়ানব্বই) কোটি ৬২(বাষট্টি) লক্ষ টাকা (২) বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব আয়=৩৮.৫০ কোটি পঁঞ্চাশ লাখ টাকা। মোট আয়=৩৮২.৬০ কোটি টাকা। মোট রাজস্ব ব্যয়=৩৯৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা। ঘাটতি বাজেট=১৩.৪০ কোটি টাকা। প্রায় বাজেট বেড়েছে-৪৯০(চারিশত নব্বই) গুণ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মূল বরাদ্দ-৪২৫ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা এরমধ্যে নিজস্ব আয়-৩৯ কোটি টাকা এবং ১৫.৩৫ কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেট-৫৫৫ কোটি ১১ লাখ টাকার। ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি ছাত্রের প্রতি খরচ হয়-১,০৭,০০৯(এক লাখ সাত হাজার নয় পঁয়সা)। বাংলাদেশে ২০১৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়(৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের-২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের বাজেট-২,১৭৮(দুই হাজার একশত আটাত্তর কোটি টাকা) ও ৮৩টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় আছে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় এক লাখ আসন আছে। ১৯৯২ সালে প্রথম প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ''নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়''। শোনাকথা ৩০-০৬-২০১৫ তারিখ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যত কলেজ ছিল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি. এ., বি. কম., বি.এস-সি., বি.এস-সি. (ইঞ্জিনিয়ার), এম.বি.বি.এস., এলএলবি ও এম.এ., এম.কম, এম.এস-সি, এলএলএম পাস কোর্স এবং সম্মান ও মাস্টার্স-এর সম্মানসহ ডিগ্রী প্রাপ্ত লোকের সংখ্যা প্রায়-১৭(সতের) লাখ। ১৯২১ সালে গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার পর ১৮ হাজার বই নিয়ে কার্জন হলে লাইব্রেরী চালু হয়। ২০-০৪-২০০৯ তারিখে ছয় লাখ ২১ হাজার বই এবং ৩০ হাজার পান্ডুলিপি আছে। ৩০-০৬-২০১৫ তারিখ ছয় লাখ ৭৩ হাজার বই। ১৯২৫ সালে পান্ডুলিপি শাখা প্রতিষ্ঠার পর থেকে সাতটি সংস্কৃত, চারটি বাংলা, তিনটি আরবি-ফার্সি-উর্দু পান্ডুলিপির সূচী বের করতে পেরেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত পান্ডুলিপির বেশির ভাগ সংস্কৃত ভাষায় লেখা। প্রাচীন বাংলা, ফার্সি, উর্দু, আরবি ও মৈথিলী ভাষায় লেখা অনেক পান্ডুলিপি আছে। সংগ্রহে কলাপাতা, তালপাতা, ভূর্জপত্র, তোলট কাগজ, গাছের বাকলের ওপরে লেখা যেসব পান্ডুলিপি রয়েছে, তাতে তৎকালীন সমাজচিত্র, রাষ্ট্রদর্শন, ভাষা ও সংস্কৃতি, ধর্ম-ইতিহাস সস্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। এ পান্ডুলিপির মধ্যে কিছু পান্ডুলিপি আছে প্রায় ৫ থেকে ৬শ বছর আগের পান্ডুলিপি। একটি পান্ডুলিপি ৫৬৯ বছর আগের।