১৮৭৫ সালে লন্ডনে প্রথম হকি অ্যাসোসিয়েশন স্থাপিত হয়। ১৮৭৬ সালের ১৫ মার্চ, সিডনিতে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মধ্যে ১১ জন করে খেলোয়ার নিয়ে প্রথম টেষ্ট ক্রিকেট ম্যাচ শুরু হয়। প্রতিদ্বন্দ্বী দল দুটি ছিল ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। ওই খেলায় অস্ট্রেলিয়া ৪৫ রানে হারায় ইংল্যান্ডকে। অস্ট্রেলিয়া দলের ব্যাটসম্যান চার্লস ১৬৫ রান করেন; এটাই টেস্ট ক্রিকেটের প্রথম শত রান। ১৮৭৬ সালে ইংল্যান্ডে স্থাপিত সবচেয়ে প্রাচীন হকি ক্লাবের নাম টেডিংটন হকি ক্লাব। ১৮৯৫ সালের ২৬ জানুয়ারি, ইংল্যান্ডে পুরুষদের প্রথম আন্তর্জািতক হকি ম্যাচঃ ওয়েলস এবং আয়ারল্যান্ড দলের মধ্যে। ১৮৭৭ সালের ৯ জুলাই, প্রথম উইম্বলডন টেনিস প্রতিযোগিতায় সোলার গোর বিজয়ী হন। ১৮৭৮ সালে ব্রিটেনের অধ্যাপক ডেভিড হিউজ বিশ্বের সর্বপ্রথম ''মাইক্রোফোন'' আবিস্কার করেন। তিনি শব্দগ্রাহকযন্ত্রের সঙ্গে কার্বেনর তার সংযুক্ত করে তাতে ব্যাটারি থেকে প্রবাহিত বিদ্যুৎ চালনা করেন। তিনি অতি উত্তম পারদের সঙ্গে উইলো কাঠের টুকরো মিশিয়ে একটি পরিবাহক তার তৈরি করেছিলেন, যা ছিল এ আবিস্কারের মূল চালিকাশক্তি। ১৮৭৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, ইংল্যান্ডের লন্ডন শহরে প্রথম টেলিফোন এক্সচেঞ্জ স্থাপিত হয়। ১৮৮১ সালের ১৬ মে, বার্লিেন বিশ্বের প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রাম সার্ভিস চালু হয়। ১৮৮২ সালে লন্ডনে প্রথম ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৮৪ সালে ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ার্সের (আইইই) প্রতিষ্ঠিত হয়-তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশলীদের আন্তর্জািতক সংগঠনের ২০০৯ সালে ১২৫ বছর পূর্তিেত আইইইর আন্তর্জািতক প্রতিযোগিতা। ১৯৯৪ সাল থেকে বাংলাদেশে আইইই বাংলাদেশ শাখা কাজ করে যাচ্ছে।
১৮৮৫ সালের ২০ ডিসেম্বর, রাস্তায় প্রথম মোটরগাড়ী চলাচল শুরু করে এবং গত ২০ ডিসেম্বর, ১৯৮৫ সালে ১০০(একশত) বছর পালিত হয়। বিশ্বের প্রথম এ্যাসপিরিন জার্মান রসায়নবিদ ফেলিক্স হফম্যানের বাবা ১৮৯০ সাল থেকে বাতজ্বরে ভুগছিলেন। বাবার কষ্ট দেখে বিজ্ঞানী পুত্র পাশ্র্বপ্রতিক্রিয়াবিহীন একটি ব্যাথানাশক ওষুধ তৈরীর চেষ্টা চালান। অবশেষে ১৮৯৭ সালে উইলো গাছের বাকল থেকে নিস্কাশিত স্যালিসাইলিক এসিড থেকে তৈরী করেন অ্যাসপিরিন নামের ব্যাথানাশক। অবশ্য দুই হাজার বছর ধরে ব্যথা নিবারণের জন্য উইলো আর বার্চ গাছের বাকলের সুনাম ছিল। তবে প্রথম বিশুদ্ধ স্যালিসাইলিক এসিড নিস্কাশন করেন ইতালির বিজ্ঞানি পিরিয়া, ১৮৩৮ সালে। ১৮৮৬ সালের ২৮ অক্টোবর, নিউইয়র্ক সিটির লিবার্টি দ্বীপে স্ট্যাচু অব লিবার্টি স্থাপন করা হয়। প্রকৌশলী: ফ্রেডেরিক অগাষ্ট বাথোির্ন্ড। কাঠামো প্রকৌশলী: গুস্তাভ আইফেল। পাদমূলের প্রকৌশলী: রিচার্ড মরিচ হান্ট। অবস্থান: লিবার্টি দ্বীপ, নিউইয়র্ক সিটি। বিস্তৃতি: ১২ একর। তদারককারী প্রতিষ্ঠান: যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্ক সার্ভিস। ফ্রান্সে নির্মাণ শুরু: ১৮৭৫। নির্মাণ শেষ: জুন, ১৮৮৪। পরিবহন সম্পন্ন: ১৮৮৫। পরিবহনকারী জাহাজ: ফরাসি ফ্রিগেট ইসেরে। পরিবহনের সময়ে টুকরোর সংখ্যা: ৩৫০। স্থাপন: ২৮ অক্টোবর, ১৮৮৬। জাতীয় সৌধ হিসেবে স্বীকৃতি: ১৫ অক্টোবর, ১৯২৪। পাদমূলের উচ্চতা: ৮৯ ফুট। পাদমূল থেকে টর্চের উচ্চতা: ১৫১ ফুট ১ ইঞ্চি। ভিত্তি: ৬৫ ফুট। মাটি থেকে টর্চের উচ্চতা: ৩০৫ ফুট ৬ ইঞ্চি। গোড়ালি থেকে মাথার উচ্চতা: ১১১ ফুট ৬ ইঞ্চি। হাতের দৈর্ঘয: ১৬ ফুট ৫ ইঞ্চি। তর্জনী: ৮ফুট ১ ইঞ্চি। এক কান থেকে আরেক কান: ১০ ফুট। দুই চোখের দূরত্ব: ২ ফুট ৬ ইঞ্চি। নাক: ৪ ফুট ৬ ইঞ্চি। কোমর: ৩৫ ফুট। মুখ: ৩ ফুট। মুর্তিেত ব্যবহৃত তামা: ২৭.২২ মেট্রিক টন। ব্যবহৃত স্টিল: ১১৩.৪ মেট্রিক টন। মোট ওজন: ২০৪.১ মেট্রিক টন। হাতে ধরা বই: দৈর্ঘয ২৩ ফুট ৭ ইঞ্চি, চওড়া ১৩ ফুট ৭ ইঞ্চি, পুরুত্ব ২ ফুট। বইয়ে লেখা: ৪ জুলাই, ১৭৭৬। মুকুটে জানালার সংখ্যা: ২৫। মুকুটে কাঁটার সংখ্যা: ৭। সাত কাঁটার অর্থ: সাত মহাদেশ (মতান্তরে সাত সাগর)।
১৮৮৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর, আমেরিকায় জার্মান অভিবাসী এমিল বার্লিনার গ্রামোফোন আবিস্কার করেন। ১৮৯৪ সালের ২৩ জুন, আন্তর্জািতক অলিম্পিক কমিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৯৪ সালে ইংল্যান্ডের রানি মেরি এক পুত্রসন্তানের জন্ম দিলেন। বাবা রাজা পঞ্চম জর্জ। শিশুটির নাম রাখা হলো এডওয়ার্ড। ইংল্যান্ডের ভবিষ্যৎ রাজা। সেভাবেই বড় হচ্ছিলেন তিনি। সব ওলট-পালট হয়ে গেল ১৯৩০ সালে দুইবারের বিবাহিত মার্কিন মহিলা মিসেস সিম্পসনের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর। তাঁর মধ্যেই এডওয়ার্ড আবিস্কার করেন নিজের চূড়ান্ত গন্তব্য। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে এ মহিলাকেই তিনি বিয়ে করবেন। বাধা হয়ে দাঁড়ান গির্জা। বলা হলো, বিবাহিত মিসেস সিম্পসনকে বিয়ে করতে হলে এডওয়ার্ডেক সিংহাসনের মায়া ছাড়তে হবে। এডওয়ার্ড জানালা দিয়ে বাইরে তাকালেন। দেখলেন, একদিকে সূর্য অস্ত যায় না এমন সাম্রাজ্য, আর অন্যদিকে সাধারণ এক নারী তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে। তাঁকে একটি বেছে নিতে হবে। তিনি সাধারণ নারীটিকেই বেছে নিলেন এবং ১৯৩৬ সালে লেডি সিম্পসনের হাত ধরে বাকিংহাম প্রাসাদ ছেড়ে সাধারণ মানুষের মতো রাস্তায় নেমে এলেন। ১৮৯৫ সালের ৮ নভেম্বর, দর্শেন ডক্টরেট ডিগ্রিধারী এবং গণিত আর পদার্থিবদ্যার অধ্যাপক উইলিয়াম রন্টজেন ক্যাথড রশ্মি নিয়ে পরীক্ষা চালানোর সময় এক্স-রে মেশিন আবিস্কার করেন। তিনি এর নাম দেন এক্স-রে বা এক্স-রশ্মি দেন। ১৮৯৬ সালের ৫ জানুয়ারি, সর্বপ্রথম এক্সরে মেশিন প্রদর্শণ করেন।
১৮৯৫ সালের ২৭ নভেম্বর, বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেল তার সকল সম্পত্তি উইলের মাধ্যমে 'নোবেলম্ব' পুরস্কারের জন্য দান করে যান। ১৯০১ সালের ১০ ডিসেম্বর, আলফ্রেড নোবেলের অন্তিম ইচ্ছে অনুযায়ী নোবেল পুরস্কার প্রদান শুরু হয়। ১৮৯৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর, ফ্রান্সের দুইভাই সিনেমা আবিস্কার করে। ১৮৯৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর, প্যারিসে বিশ্বের প্রথম চলচ্চিত্র জনসম্মুখে প্রদর্শিত হয়। ১৯০৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর, বিশ্বের প্রথম পূর্ণৈদঘ্র্য ছায়াছবি 'দি স্টোরি অব দি কেলিং গ্যাং' সর্বপ্রথম অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে প্রদর্শিত হয়। ১৮৯৬ সালে গ্রীসে প্রথম বিশ্ব অলিম্িপক শুরু হয়। ১ম অলিম্পিক: ১৮৯৬ (এথেন্স, ৬ এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত)। ১৮৯৬ সালে ১৩টি দেশের ৩০০ অ্যাথলিট অংশ নিয়েছিলেন ৯টি ইভেন্টে। ২০০৪ সালের ১৩ আগষ্ট, আবার ১০৮ বছর পর এথেন্সে ২৮তম অলিম্পিকের আসর শুরু হচ্ছে। এখন দেশের সংখ্যা বেড়ে ২০২টি, ৩৭টি ইভেন্টে-এ ৩০১টি স্বর্ণ পদকের জন্য লড়াইয়ের সংখ্যা ১২(বার) হাজারেরও বেশি অ্যাথলেট। ম্যারাথন দৌঁড়ের অর্থ ৪২.১৯৫ কিলোমিটার দূরত্বকে বুঝায়। ৪২.১৯৫ কিলোমিটার সমান ২৬.৩৭ মাইল। ১৮৯৭ সালের ৮ জুলাই, আঙ্গুলের ছাপের সাহায্যে প্রথমবারের মতো অপরাধী শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১৮৯৭ সালের ২২ মে, টেমস নদীর তলদেশে বস্ন্যাকওয়াল টানেল আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেয়া হয়। ১৮৯৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর, পিয়েরে কুরি ও মেরি কুরি রেডিয়াম আবিস্কার করেন। বিশ্বের প্রথম তেজস্ক্রিয় পদার্থ বা প্রথম তেজস্ক্রিয় মৌল পোলোনিয়ামের আবিস্কারক মেরি কুরি (১৮৬৭-১৯৩৪)। তাঁর দেশ পোল্যান্ডের নাম অনুসারেই এ মৌলটির নামকরণ করা হয়েছে। তিনি এবং তাঁর ফরাসি স্বামী পিয়েরে কুরি ১৮৯৮ সালে প্যারিসে খনিজ পিচবেস্নন্ড থেকে পোলোনিয়াম নিস্কাশন করেন। পরে, একই বছর, তিনি রেডিয়াম নামের আরেকটি তেজস্ক্রিয় মৌল আবিস্কার করেন। ১৮৯৯ সালের ৯ অক্টোবর, লন্ডনে প্রথম পেট্রোলচালিত মোটর যান চলাচল শুরু।
১৯০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লিভারমুরে একটি ফায়ার হাউসে (দমকলবাহিনীর কার্যালয়) গেলে এ বাল্বের দেখা মিলবে। ওই ফায়ার হাউসের ইঞ্জিনঘরে প্রায় ১৮ ফুট উঁচুতে ১৯০১ সাল থেকে জ্বলছে এ বাল্ব। শতবর্ষী মানুষ. শতবর্ষী গাছ, শতবর্ষী ভবনের কথা শোনা যায়। কিন্তু শতবর্ষী বৈদ্যুতিক বাল্ব আছে কি, যা দিনের পর দিন জ্বলছে? আছে। শতবর্ষী এক বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বলছে তো জ্বলছেই। এ বাল্বটি ১৯৭৬ সালে মাত্র ১০ মিনিটের জন্য বন্ধ করা হয়েছিল। ২২-০৬-২০১১ তারিখও বাল্বটি জ্বলছে। ১৯০২ সালে বিশ্বের প্রথম ফ্যাক্স জার্মািনর আর্থার কর্ন এক ধরনের ফটোটাইপ পদ্ধতির আবিস্কার করেন এবং দুই বছরের চেষ্টার পর ১৯০৪ সালে মিউনিখ থেকে নুরেমবার্গে ছবি পাঠাতে সফল হন। এর মাধ্যমে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তের গ্রাহক যন্ত্রে বর্ণ কিংবা ছবি পাঠানো যেত। আন্তর্জািতকভাবে সর্বপ্রথম ফ্যাক্স ব্যবহার করে লন্ডনের দৈনিক মিরর পত্রিকা। পত্রিকাটি প্যারিস থেকে ফ্যাক্সযোগে প্রাপ্ত ছবি ছাপে ১৯০৭ সালে। ১৯০৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর, রাইট ভ্রাতৃদ্বয় তাঁদের নির্মিত উড়োজাহাজের সফল উড্ডয়ন ঘটান। এরা দুই-ভাই বিমান উৎপাদন ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। ১৯০৪ সালের ২২ জুন, আন্তর্জািতক ফুটবল ফেডারেশনের (ফিফা) জন্ম। ১৯০৭ সালের আগষ্ট মাসে, স্কাউট আন্দোলন প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৭ সালের আগষ্ট মাসে স্কাউটের শতবর্ষ পূর্তি পালিত হয়। ১৯০৯ সালের ১১ আগষ্ট, বেতারে বিপদ বার্তা এসওএস-এর ব্যবহার শুরু। ১৯১১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি, ফরাসী বৈমানিকের পরিচালনায় বিশ্বে প্রথম বিমানে ডাক পরিবহন শুরু। ১৯১১ সালে রোয়াল্ড আমাগুসেন র্কতৃক দক্ষিণ মেরু আবিস্কার। ১৯১২ সালের ২৯ মার্চ, সুমেরু অভিযাত্রী রবার্ট স্কটের মৃত্যু।
১৯১২ সালের ১০ এপ্রিল, সাউদাম্পটন থেকে নিউইয়র্কে যাওয়ার সময় সবচেয়ে বড় 'টাইটানিক' জাহাজটি ১৫ এপ্রিল, মধ্যরাতে ২,২০০ জন যাত্রী নিয়ে আটলান্টিক মহাসাগরে একটি হিমশৈলে ধাক্কা লাগার পর 'টাইটানিক' ডুবে যায়। সে সময় বিলাশবহুল এ ব্রিটিশ জাহাজটির ২২শ' যাত্রীর মধ্যে ৭শ' ১১ জনের প্রাণরক্ষা পায়। ১৫০ জন যাত্রীকে স্কয়াড্রন সমুদ্র সৈকতে সমাধী করা হয়। নির্মাতা বিখ্যাত স্টার লাইন কোম্পানী দাম্ভিকতার সাথে বলেছিল-এ জাহাজ কোনদিন ডুববে না এবং এর কোন পরীক্ষামূলক কাজ সম্পন্ন করারও প্রয়োজন নেই। চলে গেলেন টাইটানিকের শেষ সাক্ষী মিলভিনা ডিন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর। ৩১-০৫-২০০৯ তারিখ মিলভিনা ডিন ইংল্যান্ডের হ্যাম্পশায়ারে একটি বৃদ্ধাশ্রমে ঘুমের মধ্যে তিনি মারা গেছেন। ১৯১২ সালের ১৫ এপ্রিল, মিলভিনা ডিনের বয়স ছিল ৬৩ দিন। নাবিকদের ভুলেই টাইটানিক ডুবেছে। ১৯১৪ সালের ২৮ জুলাই, সার্বিয়ার বিরুদ্ধে অস্ট্রিয়া ও হাঙ্গেরীর যুদ্ধ ঘোষণা। ১৯১৪ সালের ৩০ জুলাই, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু, শেষ হয় ১৯১৮ সালের ১১ নভেম্বর। ১৯১৪ সালে প্রথমবারের মত পাসপোর্টে ছবির ব্যবহার শুরু হয়। ১৯১৪ সালে স্বাধীন দেশের সংখ্যা ছিল ৫২টি; ১৯৪৬ সালে এ সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৭৪টি; ২০১১ সালে ১৯৩টি। পৃথিবীর দেশের সংখ্যা ২৩৩টি। আর জাতির সংখ্যা হলো ২০০টি। ১৯১৪ সালের ২৭ নভেম্বর, বৃটেনে প্রথম বারের মতো মহিলা পুলিশ নিয়োগ।
১৯১৬ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে প্রথম ট্যাংক এবং বিমানও ব্যবহার করা হয়। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় কোনো ক্যামেরা না থাকায় সেনারা নিজ হাতেই যুদ্ধক্ষেত্রের ছবি আঁকত-কীভাবে কোন পথে তারা সেখানে জড়ো হবে সেটা ঠিক করার জন্য। ১৯১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি, লীগ অব নেশনসের প্রথম অধিবেশন শুরু। ১৯১৯ সালের মার্চ মাসে ফরাসি উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফারমান বিশ্বের প্রথম বিমান যাত্রীসেবা উড়োজাহাজে করে সর্বপ্রথম আকাশ পথে যাত্রী পরিবহণ করে। কিন্তু এর আগে আকাশপথে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো পরিবহণ ব্যবস্থা ছিল না। কিন্তু জীবিকার তাগিদে ভ্রমণ কিংবা বাণিজ্যের প্রয়োজনে মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই এক দেশ থেকে অন্য দেশে পাড়ি দিয়েছেন। ১৯১৯ সালের ২২ মার্চ, প্যারিস ও ব্রাসেলসে সাপ্তাহিক বিমান সার্ভিস উদ্ধোধনের মধ্য দিয়ে বিশ্বে প্রথম আন্তজার্তিক বিমান সার্ভিস চালু হয়। ১৯১৯ সালের ৬ জুলাই, বিশ্বের প্রথম বিমান-ব্রিটিশ আর-৩৪ এর আটলান্টিক অতিক্রম। ১৯১৯ সালে জন এলকক ও আর্থার ব্রাউন প্রথম বিরতিহীন বিমান চালিয়ে আটলান্টিক অতিক্রম করেন। এতে তাঁদের সময় লেগেছিল প্রায় সাড়ে ১৬ ঘন্টা। ১৯১৯ সালের ২৫ আগষ্ট, লন্ডন ও প্যারির মধ্যে প্রথম বিমান চলাচল শুরু হয়। ১৯১৯ সালের ১৯ এপ্রিল, আন্তর্জািতক শ্রম সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯১৯ সালের ২৮ এপ্রিল, লীগ অফ নেশনস প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯১৯ সালের ২৮ জুন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে মিত্রশক্তি ও অক্ষশক্তির মধ্যে ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
১৯২০ সালে পিটার্সবার্গ শহরে পৃথিবীর প্রথম নিয়মিত বেতার কেন্দ্র চালু হয়। ১৯২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, ইংল্যান্ডে মার্কিনর নিয়মিত বেতার সম্প্রচার শুরু। ১৯২৬ সালে বিশ্বের প্রথম হৃদযন্ত্রের পেসমেকার স্থাপন করা হয়েছিল। এর আবিস্কারক ছিলেন ক্রাউন স্ট্রিট ওমেনস হসপিটালের এক নাম না জানা ডাক্তার। মূলত এর প্রশ্নবিদ্ধ নৈতিকতা ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার ভয়ে নাম প্রকাশ করেননি। আজও আমরা তাঁর আবিস্কারের সুফল ভোগ করছি। কিন্তু মূল আবিস্কারক তাঁর নাম প্রকাশ না করায় তিনি যন্ত্রটি আবিস্কারের স্বীকৃতিও পাননি। ১৯২৬ সালে বিশ্বের প্রথম টেলিভিশন আবিস্কার করেন স্কটিশ বিজ্ঞানী জন লুগি বেয়ার্ড ও তার দল সর্বপ্রথম লন্ডনে জনসমক্ষে টেলিভিশন সম্প্রচারে সফল হন। তখনকার ছবি ছিল সাদাকালো। তবে একই বছর তারা রঙিন ফিল্টার ব্যবহার করে টেলিভিশন রঙ্গিন ছবি সম্প্রচারেও সক্ষম হন। রাশিয়া, পশ্চিম ইউরোপ, ব্রিটেন ও আমেরিকার বেশ কিছু বিজ্ঞানী একই সময় টেলিভিশন তৈরীর জন্য কাজ করছিলেন। তবে সর্বপ্রথম স্কটিশ উদ্ভাবক জন লুগি বেয়ার্ড ও তাঁর দল ১৯২৬ সালে টেলিভিশন আবিস্কার করেন। ১৯২৯ সালে বিবিসি'র প্রথম পরীক্ষামূলক টেলিভিশন সম্প্রচার শুরু। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্ব কাপ ফুটবল খেলা শুরু হয়। ১৯৩৫ সালের ৩০ জুলাই, বিশ্বখ্যাত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান 'পেঙ্গুইন' প্রথম বইয়ের প্রকাশনা উৎসব পালন করে। ১৯৩৬ সালের ২৫ মে, নিগ্রো ক্রীড়াবিদ জেসি ওয়েনস বার্লিন অলিম্পিকের ৫টি বিশ্ব রেকর্ড ভঙ্গ করেন। ১৯৩৬ সালে বার্লিেন টেলিভিশনে একটি ফুটবল ম্যাচ প্রথমবারের মত দেখায়।
১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আরম্ব হয় জার্মানীর পোলান্ড আক্রমণের মধ্য দিয়ে; শেষ হয়-১৯৪৫ সালের ৯ মে, জার্মানীর বিরুদ্ধে বিজয় অর্জেনর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের অবসানে বিশ্বব্যাপী বিজয় উৎসব পালিত হয় এবং ১৯৪৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর, জাপানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পেনর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর ৭০তম বার্ষিকীতে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল জার্মান টেলিভিশনে বলেন, 'জার্মািন পোলান্ডে হামলা চালিয়েছে, জার্মািন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা করেছে। আমরা বিশ্বের অন্তহীন দুভোের্গর কারণ ছিলাম। যার ফলাফল ছিল ছয় কোটি মানুষের মৃত্যু।' বিবিসি ও এএফপি। ১৯৩৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু, শেষ হয় ০৯-০৮-১৯৪৫ তারিখ। ১৯৪১ সালের ১ জুলাই, সর্বপ্রথম টেলিভিশনে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন প্রচারিত হয় ২০ সেকেন্ডে নয় ডলার দরে। ১৯৪৪ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে বিশেষত যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউরোপের পুনর্গঠনকে সামনে রেখেই জাতিসংঘের প্রস্তাবে বিশ্বব্যাংক বা ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংক ফর রিকনস্ট্রাকশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথমে এশিয়া এবং আফ্রিকান দেশগুলো বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন সহায়তা না পেলেও ১৯৬০-এর দশক থেকে এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতি বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন ঋণ সহায়তা সম্প্রসারিত হয় এবং আশির দশক থেকে বিশ্বব্যাংক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নের কথা বলে সুনির্দিষ্ট প্রকল্পসমূহে অর্থৈনতিক ঋণ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। ১৯৪৪ সাল থেকে বিবিসির খবর সারা পৃথিবীব্যাপী প্রচার করা হয়।