১৮৯৫ সালের ২৭ নভেম্বর, বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেল তার সকল সম্পত্তি উইলের মাধ্যমে 'নোবেলম্ব' পুরস্কারের জন্য দান করে যান।

১৮৯৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর, ফ্রান্সের দুইভাই সিনেমা আবিস্কার করে।

১৮৯৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর, প্যারিসে বিশ্বের প্রথম চলচ্চিত্র জনসম্মুখে প্রদর্শিত হয়।

১৮৯৬ সালে গ্রীসে প্রথম বিশ্ব অলিম্িপক শুরু হয়। ১ম অলিম্পিক: ১৮৯৬ (এথেন্স, ৬ এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত)। ১৮৯৬ সালে ১৩টি দেশের ৩০০ অ্যাথলিট অংশ নিয়েছিলেন ৯টি ইভেন্টে। ২০০৪ সালের ১৩ আগষ্ট, আবার ১০৮ বছর পর আবার এথেন্সে ২৮তম অলিম্পিকের আসর শুরু হচ্ছে। এখন দেশের সংখ্যা বেড়ে ২০২টি, ৩৭টি ইভেন্টে-এ ৩০১টি স্বর্ণ পদকের জন্য লড়াই-এর সংখ্যা ১২(বার) হাজারেরও বেশি অ্যাথলেট। ম্যারাথন দৌঁড়-এর অর্থ ৪২.১৯৫ কিলোমিটার দূরত্বকে বুঝায়। ৪২.১৯৫ কিলোমিটার সমান ২৬.৩৭ মাইল। ১৮৯৬ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত যারা অলিম্পিক খেলায় প্রথম স্থান লাভ করেছেন তাঁদেরনামগুলো এখানে দেয়া হলো:

।কোন আসরে কে সেরা ১৮৯৬ সাল থেকে অলিম্পিক খেলার ফলাফল:।

ক্রমিককত সালেকোন দেশেকোন দেশসোনারূপাব্রোঞ্জ
১৮৯৬এথেন্সযুক্তরাষ্ট্র১১০৭০২
১৯০০প্যারিসফ্রান্স২৬৪১৩৪
১৯০৪সেন্ট লুইসযুক্তরাষ্ট্র৭৮৮২৭৯
১৯০৮লন্ডনব্রিটেন৫৬৫১৩৮
১৯১২স্টকহোমযুক্তরাষ্ট্র২৫১৯১৯
১৯১৬১ম বিশ্বযুদ্ধেরকারণেখেলাহয়নি
১৯২০অ্যান্টোয়ার্পযুক্তরাষ্ট্র৪১২৭২৭
১৯২৪প্যারিসযুক্তরাষ্ট্র৪৫২৭২৭
১৯২৮আমস্টারডামযুক্তরাষ্ট্র২২১৮১৬
১৯৩২লস অ্যাজেলেসযুক্তরাষ্ট্র৪১৩২৩০
১৯৩৬বার্লিনজার্মািন৩৩২৬৩০
১৯৪০২য় বিশ্বযুদ্ধেরকারণেখেলাহয়নি
১৯৪৪২য় বিশ্বযুদ্ধেরকারণেখেলাহয়নি
১৯৪৮লন্ডনযুক্তরাষ্ট্র৩৮২৭১৯
১৯৫২হেলসিঙ্কিযুক্তরাষ্ট্র৪০১৯১৭
১৯৫৬মেলবোর্নসোভিয়েত ইউনিয়ন৩৭২৯৩২
১৯৬০রোমসোভিয়েত ইউনিয়ন৪৩২৯৩১
১৯৬৪টোকিওযুক্তরাষ্ট্র৩৬২৬২৮
১৯৬৮মেক্সিকোযুক্তরাষ্ট্র৪৫২৮৩৪
১৯৭২মিউনিকসোভিয়েত ইউনিয়ন৫০২৭২২
১৯৭৬মন্ট্রিলসোভিয়েত ইউনিয়ন৪৯৪১৩৫
১৯৮০মস্কোসোভিয়েত ইউনিয়ন৮০৬৯৪৬
১৯৮৪লস অ্যাজেলেসযুক্তরাষ্ট্র৮৩৬১৩০
১৯৮৮সিউলসোভিয়েত ইউনিয়ন৫৫৩১৪৬
১৯৯২বার্সেেলানাসিআইএস৪৫৩৮২৯
১৯৯৬আটলান্টাযুক্তরাষ্ট্র৪৪৩২২৫
২০০০সিডনিযুক্তরাষ্ট্র৩৭২৪৩৩
২০০৪এথেন্সযুক্তরাষ্ট্র৩৫৩৯২৭
২০০৮বেইজিংচীন৫১২১২৮
২০১২লন্ডনযুক্তরাষ্ট্র৪৬২৯২৯
২০১৬রিওডি জেনেরো

(১) ১৯০৮ সালে লন্ডন অলিম্পিক: রাজা সপ্তম এডওয়ার্ড ২৭ এপ্রিল উদ্ভোধন করেন। অংশগ্রহণ করে ২২টি দেশ। অংগ্রহণকারী ক্রীড়াবিদ ২০০৮ জন; এর মধ্যে নারী ৩৭ জন। ২২টি বিভাগে ১১০টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা হয়।

(২) ১৯৪৮ সালে লন্ডন অলিম্পিক: ২৯ জুলাই অলিম্পিক উদ্ভোধন করেন রাজা পঞ্চম জর্জ। অংশ নেয় ৫৯টি দেশ। ৪০ বছরে অলিম্পিকে মহিলা ক্রীড়াবিদের সংখ্যা ১০ গুণেরও বেশি বেড়ে যায়। ৩৯০ জন মহিলা খেলোয়াড়সহ চার হাজার ১০৪ জন ১৭টি খেলায় ১৩৬ ইভেন্টে অংশ নেন। সে বছর নতুন কোনো অলিম্পিক স্টেঠিয়াম কিংবা অলিম্পিক গ্রাম তৈরি করা হয়নি।দুই মহাযুদ্ধে টিকে থাকা ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামকে প্রধান ভেন্যু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।

(৩) ২০১২ সালের ২৭ জুলাই, অলিম্পিক উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানের নাম 'আইলা অব ওয়ান্ডার'। আড়াই বর্গ কিলোমিটার অলিম্পিক পার্ক তৈরি করতে নির্ধািরত স্থানের ২০০-র বেশি ভবন ধূলিস্যাৎ করতে হয়েছে। অ্যাথলেট ও কর্মকর্তােদর জন্য নির্মিত প্রায় পাঁচ হাজার বাড়ি অলিম্পিক শেষ হলে জনগণের কাছে বিক্রি করা হবে। লন্ডন অলিম্পিকের নিরাপত্তা বাজেট ৫৫৩ মিলিয়ন পাউন্ড স্টালিং। অলিম্পিক পার্ক তৈরি করতে গিয়ে নির্ধািরত স্থানে ২৪ প্রজাতির প্রাণীর দেখা মিলেছে। এখান থেকে যা উদ্ধার করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে তিন হাজার বছর আগে মৃত একজন মানুষের দেহাবশেষ। অলিম্পিক সাইটে ৫২৫টি পাখির ঘর এবং ১৫০টি বাদুড়ের ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। লন্ডন ফিলহারমেনিক অলিম্পিকের জন্য ২০৫টি দেশের জাতীয় সংগীত রেকর্ড করেছে। উরুগুয়ের জাতীয় সংগীত সবচেয়ে বেশি সময় নিয়েছে-সাড়ে ছয় মিনিট। কিন্তু কোনো দেশের জাতীয় সংগীতই এক মিনিটের বেশি সময় বাজানো হবে না খেলোয়াড়েরা মোট ২৫ হাজার পাউরুটি খাবেন। আলু খাবেন ২৩২ টন এবং সামুদ্রিক মাছ ৬৮২ টন। তাঁদের জন্য সবজি বরাদ্দ হয়েছে ৩৫০ টন আর মাংস ১০০ টন। তাঁরা ৭৫ হাজার লিটার দুধ খাবেন। অলিম্পিক স্টেডিয়াম তৈরিতে ১০ হাজার টন স্টিল লেগেছে। খেলা পরিচালনা করতে লাগছে মোট নয় লাখ ক্রীড়াসামগ্রী। এর মধ্যে থাকছে ২৬ হাজার ৪০০ টেনিস বল এবং দুই হাজার ৭০০ ফুটবল।

(৪) বিশ্বের সর্ববৃহৎ এ ক্রীড়া আসরের আণুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ ২৭-০৭-২০১২ তারিখ। বিশ্বের ২০৪টি দেশের সাড়ে দশ হাজার এ্যাথলেট। এ সময়ে লড়াই হয় ৯০৬টি পদক জয়ের জন্য। ২৬টি ক্রীড়ার ৩০২টি ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বিশ্বের নানা প্রান্তের নামী-দামী অখ্যাত ও বিখ্যাত এ্যাথলেটরা।

(৫) ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকে জ্যামাইকার গতিসম্রাট ইতিহাসের সাক্ষী হলেন উসাইন বোল্ট দেখিয়েছেন কৃতিত্বঃ ১০০ ও ২০০ মিটার স্পিন্টে স্বর্ণ জয়ের অসাধারণ নায়ক।

(৬) ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকে সর্বািদক পদকজয়ী যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত সাঁতারু মাইকেল ফ্রেড ফেলপস। ২০০৪ থেকে ২০১২ পর্যন্ত ৩টি অলিম্পিকে ১৮টি স্বর্ণপদকসহ ২২টি অলিম্পিক পদক জয় করে সর্বকালের রেকর্ড গড়েছেন।

১৮৯৬ সালের ৫ জানুয়ারি, সর্বপ্রথম এক্সরে মেশিন প্রদর্শণ করেন।

১৮৯৭ সালের ৮ জুলাই, আঙ্গুলের ছাপের সাহায্যে প্রথমবারের মতো অপরাধী শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়।

১৮৯৭ সালের ২২ মে,টেমস নদীর তলদেশে বস্ন্যাকওয়াল টানেল আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেয়।

১৮৯৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর, পিয়েরে কুরি ও মেরি কুরি রেডিয়াম আবিস্কার করেন। বিশ্বের প্রথম তেজস্ক্রিয় পদার্থ বা প্রথম তেজস্ক্রিয় মৌল পোলোনিয়ামের আবিস্কারক মেরি কুরি (১৮৬৭-১৯৩৪)। তাঁর দেশ পোল্যান্ডের নাম অনুসারেই এ মৌলটির নামকরণ করা হয়েছে। তিনি এবং তাঁর ফরাসি স্বামী পিয়েরে কুরি ১৮৯৮ সালে প্যারিসে খনিজ পিচবেস্নন্ড থেকে পোলোনিয়াম নিস্কাশন করেন। পরে, একই বছর, তিনি রেডিয়াম নামের আরেকটি তেজস্ক্রিয় মৌল আবিস্কার করেন।

১৮৯৯ সালের ৯ অক্টোবর, লন্ডনে প্রথম পেট্রোলচালিত মোটর যান চলাচল শুরু।

১৯০১ সালের ১০ ডিসেম্বর, আলফ্রেড নোবেলের অন্তিম ইচ্ছে অনুযায়ী নোবেল পুরস্কার প্রদান শুরু হয়।

১৯০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লিভারমুরে একটি ফায়ার হাউসে (দমকলবাহিনীর কার্যালয়) গেলে এ বাল্বের দেখা মিলবে। ওই ফায়ার হাউসের ইঞ্জিনঘরে প্রায় ১৮ ফুট উঁচুতে ১৯০১ সাল থেকে জ্বলছে এ বাল্ব। শতবর্ষী মানুষ. শতবর্ষী গাছ, শতবর্ষী ভবনের কথা শোনা যায়। কিন্তু শতবর্ষী বৈদ্যুতিক বাল্ব আছে কি, যা দিনের পর দিন জ্বলছে? আছে। শতবর্ষী এক বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বলছে তো জ্বলছেই। এ বাল্বটি ১৯৭৬ সালে মাত্র ১০ মিনিটের জন্য বন্ধ করা হয়েছিল।

১৯০২ সালের ৮ এপ্রিল, চীন ও রাশিয়ার মধ্যে মাঞ্চুরিয়া সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর।

১৯০২ সালে বিশ্বের প্রথম ফ্যাক্স জার্মািনর আর্থার কর্ন এক ধরনের ফটোটাইপ পদ্ধতির আবিস্কার করেন এবং দুই বছরের চেষ্টার পর ১৯০৪ সালে মিউনিখ থেকে নুরেমবার্গে ছবি পাঠাতে সফল হন। এর মাধ্যমে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তের গ্রাহক যন্ত্রে বর্ণ কিংবা ছবি পাঠানো যেত। আন্তর্জািতকভাবে সর্বপ্রথম ফ্যাক্স ব্যবহার করে লন্ডনের দৈনিক মিরর পত্রিকা। পত্রিকাটি প্যারিস থেকে ফ্যাক্সযোগে প্রাপ্ত ছবি ছাপে ১৯০৭ সালে।

১৯০৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর, রাইট ভ্রাতৃদ্বয় প্রথম বিমান উড্ডয়ন করেন।

২০১৬ সালের ১৭ মে, প্রথম আলো: একই দিনে অর্থাৎ রোববারে আকাশে ডানা মেলেছে বিশ্বের বৃহত্তম উড়োজাহাজটিও। ৮৪ মিটার দীর্ঘ এই উড়োজাহাজ নির্মিত হয়েছে ইউক্রেনে। ধরণক্ষমতা ৬০০ টন। আস্তোনভ আন-২২৫ ম্রিয়া নামের উড়োজাহাজটি প্যারাগুয়ে থেকে ১১৭ টন ওজনের জেনারেটর নিয়ে প্রায় অর্ধেক পৃথিবী ভ্রমণ করে অষ্ট্রেলিয়ার পার্থে অবতরণ করে।এএফপি।

১৯০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি, পোর্ট আর্থাের রুশ-জাপানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়।

১৯০৪ সালের ফেব্রুয়ারি, রাশিয়াকে পরাভূত করে জাপান নিজেকে বৃহৎ শক্তিসমূহের পর্যায়ভূক্ত করে।

১৯০৪ সালের ২২ জুন, আন্তর্জািতক ফুটবল ফেডারেশন (ফিফা) প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯০৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি, সুইজারল্যান্ড ও ইতালীর মধ্যে টানেল নির্মাণ শেষ হয়।

১৯০৫ সালের ৫ অক্টোবর, পোর্টমাউথের সন্ধির ফলে রুশ-জাপান যুদ্ধের অবসান।

১৯০৭ সালের আগষ্ট মাসে, স্কাউট আন্দোলন প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৭ সালের আগষ্ট মাসে স্কাউটের শতবর্ষ পূর্তি পালিত হয়।

১৯০৯ সালের ১১ আগষ্ট, বেতারে বিপদ বার্তা এসওএস-এর ব্যবহার শুরু।

১৯১১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি, ফরাসী বৈমানিকের পরিচালনায় বিশ্বে প্রথম বিমানে ডাক পরিবহন শুরু।

১৯১১ সালে রোয়াল্ড আমাগুসেন র্কতৃক দক্ষিণ মেরু আবিস্কার।

১৯১৩ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি, নভো নরডিস্কের প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিস রোগের সেবাদানকারী সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান নভো নরডিস্কের ১৭-০২-২০১৩ তারিখ ১০০ বছর পূর্তি পালন করেছেন।

১৯১৩ সালের ২৯ জুন, নরওয়েতে মহিলাদের ভোটাধিকার পান।

১৯১৩ সালের ২১ ডিসেম্বর, সংবাদপত্র নিউইয়র্ক ওয়াল্র্ড সর্ব প্রথম শব্দ ধাঁধা প্রকাশ করে।

১৯১৪ সালের ২৮ জুলাই, সার্বিয়ার বিরুদ্ধে অস্ট্রিয়া ও হাঙ্গেরীর যুদ্ধ ঘোষণা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু।

১৯১৪ সালের ৩০ জুলাই, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু, শেষ হয় ১৯১৮ সালের ১১ নভেম্বর। ১৩ লাখ ভারতীয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, এ যুদ্ধে ৭৪ হাজার ১৮৭ জন ভারতীয় সেনা মারা যান এবং ৬৭ হাজার সেনা আহত হন। যুদ্ধের জনপ্রিয় ইতিহাসে তাঁদের স্থান হয়নি, হলেও তাঁদের পাদটিকায় ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ১৯৬৪ সালের এই যুদ্ধ শুরুর ৫০ বছর পূর্তিেত দুনিয়া এই যুদ্ধের যে স্তৃতিচারণা করে, তাতে ভারতীয় সেনাদের কথা কেউ বলেনি। এমনকি নিজ দেশেই এই সেনারা সবচেয়ে উপেক্ষিত হয়েছেন। ১৯৩১ সালে নির্মিত নয়াদিল্লীর ইন্ডিয়া গেটে দৈনিক বহু দর্শনার্থীই ভিড় করে, কিন্তু তারা কেউই জানে না যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যে ভারতীয় সেনারা জীবন দান করেছিলেন, তাঁদের স্মরণে এটা নির্মিত হয়েছে। ভারতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্মৃতিবিভ্রম সর্বভারতীয় রূপ লাভ করেছে।

১৯১৪ সালে প্রথমবারের মত পাসপোর্টে ছবির ব্যবহার শুরু হয়।

১৯১৪ সালে স্বাধীন দেশের সংখ্যা ছিল ৫২টি; ১৯৪৬ সালে এ সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৭৪টি; ২০১১ সালের ৯ জুলাই, জাতিসংগের দেশের ১৯৩টি। পৃথিবীর দেশের সংখ্যা ২৩৩টি। আর জাতির সংখ্যা হলো ২০০টি।

১৯১৪ সালের ২৭ নভেম্বর, বৃটেনে প্রথম বারের মতো মহিলা পুলিশ নিয়োগ।

১৯১৫ সালের ২৫ নভেম্বর, আপেক্ষিকতার তত্ত্বটি তিনি প্রুশিয়ান একাডেমি অব সায়েন্সে উপস্থাপন করেন। পদার্থিবজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনষ্টাইনের বিখ্যাত আপেক্ষিকতা তত্ত্বের ১০০ বছর পূর্ণ হয়েছে ২০১৫ সালের ২৫ নভেম্বর। পরের বছরই এটি একটি বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। আইনস্টাইনের তত্ত্ব শতবর্ষে। তবে অত্যন্ত কঠিন একটা কাজ এখনো বাকি-সেটা হলো আপেক্ষিকতার সারাধণ তত্ত্বের সঙ্গে কোয়ান্টাম পদার্থিবদ্যার সামঞ্জস্য করা। সূত্র: এএফপি। ২০১৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি, আইনষ্টাইনের কথাই সত্যি। মহাকর্ষীয় তরঙ্গ শনাক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ১৪০০ কোটি বছর আগে মহাবিস্ফোরণ বা 'বিগ ব্যাং' এর পর যে উত্তাল ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়েছিল, সেটাই মহাকর্ষীয় তরঙ্গ। পুকুরে ঢিল ফেললে যেমন ঢেউ ছড়াতে ছড়াতে সেটি পাড়ে পৌঁছে যায়, তেমনই এই বিশ্বব্রহ্মান্ডে এখনো ওই মহাকর্ষীয় তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়ছে। আর চারপাশে অসম্ভব দ্রুতগতিতে মহাবিশ্ব এখনো প্রসারিত হয়ে চলেছে। তাই সেই তরঙ্গের পরিধিও উত্তরোত্তর বাড়ছে, কিন্তু তার হদিস পাচ্ছিলেন না মহাকাশবিজ্ঞানীরা। সে কারণে ভাবনা শুরু হয়েছিল আইনষ্টাইনের তত্ত্বের পরিবর্ধন-পরিমার্জেনরও। অবশেষে ১০০ বছর পর তাঁর তত্ত্বই সঠিক প্রমাণিত হলো। আইনষ্টাইনের তত্ত্ব: গবেষক দলে দীপঙ্কর। যুক্তরাষ্ট্রের লিভিংক্টরের সামনে ড. দীপঙ্কর দালুকদার। ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর। ৯টা ৫০ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডে লাইগোর শনাক্তকারক যন্ত্রে একটা সংকেত আসে। তিন মিনিটের মধ্যে বিজ্ঞানীরা তা জানতে পারেন। সঙ্গে সঙ্গে হয় ই-মেইল চালাচালি। ঘন্টা কয়েকের মধ্যেই বিজ্ঞানীরা প্রায় নিশ্চিত হন, এটা পৃথিবীর নিজস্ব কোনো তরঙ্গসংকেত নয়, ১৩০ কোটি আলোকবর্ষ দূরের দুটি বস্ন্যাকহোলের মিলনের ফলে সৃষ্ট মহাকর্ষ তরঙ্গেরই সংকেত। গতকাল শনিবার (যুক্তরাষ্ট্রে শুক্রবার) দীপঙ্কর তালুকদারের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয় ই-মেইলে। তিনি জানান তাঁদের গবেষণার সেই দারুণ কাহিনী। দীপঙ্করের জন্ম ১৯৭৭ সালে বরগুনায়। বরগুনা সরকারি কলেজ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। পদার্থিবজ্ঞানে মাস্টার্স শেষে(২০০২)।

১৯৬৪ সালে পাবনা উপজেলার বেড়ায় অধ্যাপক সেলিম শাহরিয়ারের জন্ম। বেড়ার গ্রামের সবুজ ধানক্ষেতের পাশ দিয়ে মেঠো পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে তাঁর শিক্ষক পিতা ঠিক এ কথাটাই বলেছিলেন। 'আব্বা বলেছিলেন তুমিও পারবে'। আইনষ্টাইনের তত্ত্ব: গবেষক দলে আরেক বাংলাদেশি। যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে নর্থওয়েষ্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে সেলিম শাহরিয়ার। বিশ্ববিদ্যালয়ের বুলেটিনে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে আইনষ্টাইনের ১৯১৫ সালের আপেক্ষিকতা তত্ত্বের সূত্র টেনে সেলিম বলেছিলেন, 'আইনষ্টাইন যখন এই ধারণা দেন, তখন এটা ছিল কল্পনারও অতীত যে আমরা এত সূক্ষ্ণ পরিমাপ করতে পারব। এটা এতই সূক্ষ্ণ যে এটা মাপার কথা কল্পনা করাও কঠিন ব্যাপার। ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁদের লাইগোর যন্ত্রে অ্যানটেনা এক সেকেন্ডের পাঁচ ভাগের এক ভাগ সময়ের জন্য একটা প্রোটনের এক হাজার ভাগের এক ভাগ পরিসরে নড়ে উঠেছিল। অধ্যাপক সেলিম ও তাঁর দলের সদস্যরা এবার কাজ করছেন এই শনাক্তকারক যন্ত্রের আরও উন্নতির জন্য। তিনি ফোনে বলেন, 'আমরা যন্তের সংবেদনশীলতা ২০ গুণ বাড়াব, যার ফলে মহাকাশের ৮ হাজার গুণ বড় পরিসর অবলোকন করতে পারব।' এ ব্যাপারে তাঁরা অনেক দূর এগিয়ে গেছেন। স্বীকৃতি পেলেন দুই বাংলাদেশি বিজ্ঞানী। মহাকর্ষীয় তরঙ্গ সনাক্ত করার মাত্র তিন মাসের মাথায় মৌলিক পদার্থিবজ্ঞানে বিশেষ কৃতিত্বের জন্য পুরস্কার 'স্পেশাল ব্রেকথ্রু প্রাইজ ইন ফান্ডামেন্টাল ফিজিকস' জিতে নিয়েছে মহাকর্ষ শনাক্তকারী দল। এ পুরস্কার পাবেন মোট ১ হাজার ১৫ জন বিজ্ঞানী। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের দুই বিজ্ঞানী সেলিম শাহরিয়ার ও দীপঙ্কর তালুকদার। পুরস্কারের অর্থমূল্য মোট ৩০ লাখ মার্কিন ডলার।(০৫-০৫-২০১৬ তারিখ)।

১৯২৯ সালে জার্মান বিজ্ঞানী হারমান ভাইল প্রথম ফার্মিয়ন কণার অস্তিত্বের কথা বলেছিলেন। তবে তাঁর এই আবিস্কার ছিল তত্ত্বীয়। ৮৫ বছর পর মানে ২০১৪ সালে জাহিদ হাসান আর তাঁর গবেষকদল পরিক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে অধরা কণাটির অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন। এই আবিস্কার নিঃসন্দেহে আরও বড় বড় আবিস্কারের ক্ষেত্র তৈরি করে দেবে। আর সত্যেন সেন ঢাকায় বসে যে কণা আবিস্কার করেছিলেন, তা পরে ''হিগস বোসন কণা'' বা 'হিগস কণা' নামে বিখ্যাত হয়। হিগস কণা আবিস্কারের পর ২০১৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি, এই মহাকর্ষীয় তরঙ্গ শনাক্ত করার বিষয়টিই বিজ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।' মহকর্ষীয় তরঙ্গ শনাক্ত করার এ ঘটনা বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি বিশেষ মুহূর্ত মনে করেন ষ্টিফেন হকিং। (১) ধানমন্ডির বয়েজ হাইস্কুলের ছাত্র জাহিদ হাসান প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে বসে আবিস্কার করে ফেললেন ভাইল ফারমিয়ন কণা, ১৯২৯ সালে বা ৮৫ বছর ধরে যা খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা। (২) বুয়েটের প্রাক্তন ছাত্র ড. তাহের সাইফ মানুষের রক্তনালিতে ভাসালেন বায়োবট, যা কিনা নিইউর্যক টাইমস-এর মতে এই বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক আবিস্কার হিসেবে গণ্য হওয়ার যোগ্য। (৩) বরগুনার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র দীপঙ্কর তালুকদার। অবশেষে ১০০ বছর পর তাঁর তত্ত্বই সঠিক প্রমাণিত হলো। আইনষ্টাইনের তত্ত্ব: গবেষক দলে দীপঙ্কর। যুক্তরাষ্ট্রের লিভিংক্টরের সামনে ড. দীপঙ্কর দালুকদার। ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর। ৯টা ৫০ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডে লাইগোর শনাক্তকারক যন্ত্রে একটা সংকেত আসে। তিন মিনিটের মধ্যে বিজ্ঞানীরা তা জানতে পারেন। ও (৪) পাবনার বিপিনবিহারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র সেলিম শাহরিয়ার। এরা যুক্ত থাকলেন সেই বিজ্ঞানী দলে যাঁরা তাঁদের যন্ত্রে ধরে ফেললেন অভিকর্ষ তরঙ্গ ১৩০ কোটি বছর আগে দুই বস্ন্যাকহোলের মিলনে যা উৎপন্ন হয়েছিল।