১৯১৯ সালে অসহযোগ আন্দোলন (মহাত্মা গান্ধী)।

১৯১৯ সালের ১২ এপ্রিল, রাওলাট আইনের প্রতিবাদে কলকাতা, অমৃতসর, লাহোর ও মুম্বাই-এ বিক্ষোভ শুরু হয়।

১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল, ব্রিটিশশাসিত ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগে এক জনসভায় তৎকালীন ব্রিটিশ সামরিক কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার রেগিনাল্ড ডায়ারের নির্দেেশ নিরস্ত নারী-পুরুষ ও শিশুদের ওপর গুলিচালানো হয়েছিল। কলঙ্কজনক ওই হত্যাকান্ড। জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ডে ৩৭৯ জন নিহত বলে সরকারি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। তবে বেসরকারিভাবে বলা হয়, এতে প্রায় এক হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল জালিয়ানওয়ালাবাগের ঘটনাকে 'নিষ্ঠুর' বলে ১৯২০ সালে মন্তব্য করেন।

১৯১৯ সালের ২৯ এপ্রিল, জালিয়ানওয়ালাবাগের নৃশংস হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রিটিশ প্রদত্ত 'নাইট' উপাধি ত্যাগ করেন।

১৯১৯ সালের পরে বহু আই. সি. এস. সদস্যকে প্রাদেশিক সিভিল সার্ভিেস নিয়োগদান করে।

১৯১৯ সালের ২৩ নভেম্বর, দিল্লীতে প্রথম নিখিল-ভারত খিলাফত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

১৯২০ সালে মানিকগঞ্জে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯২০ সালের ২৩ জানুয়ারি, ভারতীয় উপমহাদেশে বিমানে পণ্য পরিবহন ও ডাক যোগাযোগ শুরু।

১৯২০ সালের ২৯ মার্চ, ভারতবর্ষে ব্রিটিশবিরোধী অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। অসহযোগ আন্দোলন-এর মূল উদ্যোক্তা ছিলেন মহাত্মা গান্ধী।

১৯২০ সালের ১ জুন, এলাহাবাদে খিলাফত কমিটির আহবানে হিন্দু-মুসলিম নেতাদের একটি মিলিত কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।

১৯২০ সালের ১ আগষ্ট, ভারতবর্ষে অসহযোগ আন্দোলন শুরু।

১৯২০ সালে খেলাফত আন্দোলন শুরু।

১৯২০ সালের ৩১ অক্টোবর, ভারতের প্রথম শ্রমিক সংগঠন 'নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস' প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯২০ সালের ১৭ অক্টোবর, এম. এন. রায় ও কমরেড মুজাফফর আহমদের নেতৃতে রাশিয়ার তাসখন্ডে বসে ''ভারতের কমিউনিষ্ট পার্টি'' গঠিত হয়।

১৯২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর, ভারতে বিমান উড্ডয়ন শুরু হয়।

১৯২১সালের ১০ ফেব্রুয়ারি,ভারতের রাজধানী হিসেবে নতুন দিল্লীর আনুষ্ঠানিক উদ্ভোধন হয়।

১৯২১ সালের ২৮ জুলাই, ভারতের জাতীয় কংগ্রেস বিদেশী পণ্য বর্জন আন্দোলন শুরু করে।

১৯২১ সালের সংস্কারের পর ভারতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা গ্রহণের দাবী মেনে নেয়া হয়। এরপূর্বে ইংল্যান্ডে যেয়ে ভারতের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিতে হত।

১৯২১ সালে খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন যৌথ আন্দোলনে রূপ নেয়।

১৯২১ সালে অসহযোগ আন্দোলনে উত্তেজিত জনতা 'চৌরীচৌরা' থানায় আগুন লাগায়।

১৯২২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি, উত্তরপ্রদেশের চৌরিচৌরি নামক একটি গ্রামে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

১৯২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি, অখন্ড ভারতের জাতীয় কংগ্রেস অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে।

১৯২২ সালের ১৮ মার্চ, দক্ষিণ আফ্রিকায় মোহন দাস করম চাঁদ গান্ধীর কারাদন্ড হয়।

১৯২২ সালে কবি গুরু রবিন্দ্র নাথ ঠাকুর নিজ কোষাগার থেকে ১ লাখ ৯৮ আটানব্বই হাজার টাকা কুষ্টিয়াস্থ তার কুটিবাড়ি এলাকার গরীব জনগণের মধ্যে সুদ এবং জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ হিসেবে বিতরণ করেছিলেন। সুতরাং সুদ ও জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণের উদ্ভাবক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ড. মোহাম্মদ ইউনূস নন।

১৯২২ সালে মহাআত্মা গান্ধীকে গ্রেফতার করা হয়।

১৯২২ সাল থেকে ভারতীয় সিভিল সার্ভিস (ভারতীয় পাবলিক সার্ভিস কমিশন) পরীক্ষা ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়া শুরু হয়। ১৯১০ সাল পর্যন্ত উক্ত পরীক্ষা কেবল একচেটিয়া কেমব্রীজ ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীেদর করায়ত্ত্বে ছিল।

১৯২২ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের 'বেঙ্গল প্যাক্ট' করলে মওলানা ভাসানী বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত হন।

১৯২২ সালের ১৫ মে, অবিভক্ত ভারতের কমিউনিষ্ট পার্টির মুখপাত্র দ্য ভ্যানগার্ড অব ইন্ডিয়া ইনডিপেন্ডেন্স প্রকাশিত হয়।

১৯২৩ সালের ৭ মার্চ, ভারতবর্ষে তৃতীয় পেশোয়ার ষড়যন্ত্র মামলা শুরু হয়।

১৯২৩ সালের ৭ জুন, অমৃতসরে দীর্ঘস্থায়ী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু।

১৯২৩ সালের বেঙ্গল প্যাক্ট: বেঙ্গল প্যাক্টের মাধ্যমে সরকারি এবং স্থানীয় প্রশাসনের চাকরির ক্ষেত্রে মুসলমানদের জন্য সংরক্ষণের স্বীকৃত হয়।

১৯২৪ সালের ২ জুন, আমেরিকাতে জন্মগ্রহণকারী ভারতীয়দের নাগরিত্ব প্রদানের সিদ্ধান্ত।

১৯২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর, কানপুরে কমিউনিস্টদের সর্বভারতীয় প্রথম সম্মেলন শেষ হয় এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি, মুসলিম সাহিত্য সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯২৬ সালের ঘটনাবলির মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার ছিল, সে বছরে কলকাতায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। প্রথম বার মে মাসে দাঙ্গা হয়, তারপর ফের জুলাইয়ে। আর্যসমাজের একটি শোভাযাত্রা একটি মসজিদের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় গানবাজনা করে অশান্তির সূত্রপাত হয় এ ঘটনা থেকেই এর থেকে আরম্ভ হয় হিংসা। দু'পক্ষেই অনেক লোক মারা যান।

১৯২৭ সালের ২৩ জুলাই, ইন্ডিয়ান ব্রডকাস্টিং কোম্পানি বোম্বাইয়ে ভারতের প্রথম বেতার সম্প্রচার শুরু করে।

১৯২৭ সালের ডিসেম্বর মাসে, মাদ্রাজে কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনে প্রকাশ্য সংঘাত বাধল গাঁধী এবং তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার জওহরলাল নেহরুর মধ্যে প্রথম। কংগ্রেস কি ডোমিনিয়ন স্টেটাসের লক্ষ্যেই অনড় থাকবে, না পূর্ণ স্বরাজ-কেই নতুন লক্ষ্য হিসাবে বেছে নেবে-এই প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁরা দ্বিমত হলেন। গাঁধী ডোমিনিয়ন স্টেটাসের পক্ষে, নেহরু চান পূর্ণ স্বরাজ। দু'বছর চলল এই টানাপোড়েন। মিটল ১৯২৯ সালে, সে বছর লাহৌর কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনে নেহরু জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি হলেন। সে বছরই কংগ্রেস জাতীয় আন্দোলনের রাজনৈতিক লক্ষ্য হিসাবে পূর্ণ স্বরাজেকেই বেছে নিল।

১৯২৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি, সাইমন কমিশন ভারতে এলে গণবিক্ষোভ ও ধর্মঘট শুরু হয়।

১৯২৯ সালের ২০ মার্চ, মিরাট ষড়যন্ত্র মামলায় কমিউনিস্টদের ধরপাকড় শুরু হয়।

১৯২৯ সালের ১৩ নভেম্বর, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড গঠিত হয়।

১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস পূর্ণ-স্বাধীনতার পক্ষে মত ঘোষণা।

১৯৩০ সালের ৮ মার্চ, মোহন দাস করমচাঁদ গান্ধীর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন শুরু।

১৯৩০ সালের ১২ নভেম্বর, ভারতে ব্রিটিশ বিরোধী আইন অমান্য আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে লন্ডনে প্রথম গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৩০ সালে ভারতবর্ষে প্রথম আইন অমান্য আন্দোলন আরম্ভ।

১৯৩১ সালের ৫ মার্চ, ভারতে গণ-অসহযোগের সমাপ্তি ঘটে।

১৯৩১ সালের ৭ জুলাই, বিশিষ্ট ভূপর্যটক রামনাথ বিশ্বাস সাইকেলে চড়ে বিশ্ব পরিক্রমণ শুরু করেন।

১৯৩১ সালের ৩ আগষ্ট, বাংলায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ সবাক চলচ্চিত্র 'ঋষির প্রেম' মুক্তি লাভ করে।

১৯৩১ সালে নির্মিত নয়াদিল্লীর ইন্ডিয়া গেট প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ভারতীয় সেনারা জীবন দান করার জন্য নয়াদিল্লীতে ইন্ডিয়া গেট প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৩২ সালের ৩১ মে, কোয়েটায় ভূমিকম্পে পঞ্চাশ সহস্রাধিক লোক প্রাণ হারান।

১৯৩২ সালের ২৫ জুন, ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যে সর্বপ্রথম টেস্ট ক্রিকেট খেলা শুরু হয়।

১৯৩২ সালের ৮ অক্টোবর, রয়েল ইন্ডিয়ান এয়ারফোর্স প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৩২ সালে নারায়নগঞ্জে মাত্র ৩০০শ টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে শুরু হয়েছিল পিয়ারলেসের যাত্রা। এখন তারাই কোলকাতায় একটি প্রতিষ্ঠিত অর্থৈনতিক শক্তি। পিয়ারলেস এখন পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম শিল্প গ্রুপ। আমানতকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছে ৮,০০০(আট হাজার) কোটি টাকা এবং এখন পর্যন্ত সুদসহ ফেরত দিয়েছে ২(দুই) হাজার কোটি টাকা। গ্রাহকের সংখ্যা হলো-৪(চার) কোটি।

১৯৩২ সালে গান্ধীজীর অনশন, হরিজনদের আইনসভায় ও ধর্মমন্দিরে প্রবেশাধিকার লাভ।

১৯৩৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর, নিখিলভারত ললিতকলা প্রদর্শনী প্রথম অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৩৪ সালের ১০ মার্চ, ব্রিটিশ শাসকরা বাংলার কমিউনিস্ট পার্টিেক বেআইনী ঘোষণা করে।

১৯৩৪ সালের ২৩ জুলাই, বৃটিশ সরকার ভারতের কমিউনিষ্ট পার্টি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।

১৯৩৪ সালের ২৬ অক্টোবর, মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে গ্রামীণ শিল্প সমিতি গঠিত হয়।

১৯৩৪ সালে মুকুন্দ দাস মারা যান। এর অনেক আগে তিনি রচনা করেছিলেন ''বান এসেছে মরা গাঙে'' এ গানটি।

১৯৩৫ সালে 'ব্রিটিশ পার্লােমন্টে 'ভারত শাসন আইন' পাশ করে।

১৯৩৫ সালের ২ আগষ্ট, গভর্নেমন্ট অব ইন্ডিয়া এ্যাক্ট জারি।

১৯৩৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর, ছাপাখানায় প্রথম বাংলা লাইনো টাইপ ব্যবহার শুরু।

১৯৩৬ সালের ৮ জুন, ইন্ডিয়ান ব্রডকাস্টিং সার্ভিেসর নাম বদলে ''অল ইন্ডিয়া রেডিও'' রাখা।

১৯৩৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি,বাংলার সোয়া ২ লাখ শ্রমিকের লাগাতার ৭৪ দিনের ধর্মঘট শুরু।

১৯৩৭ সালের ৪ এপ্রিল, এম. এন. রায় র্কতৃক ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্ডিয়া প্রত্রিকা প্রকাশিত হয়।

১৯৩৭ সালে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন আইন পাশ হলে লাইন প্রথার ইস্যুটি নতুন শক্তি পায়।

১৯৩৭ সালে ভারত উপমহাদেশে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিম লীগ ৪০টি আসনে জয়ী হয়।

১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে কৃষক প্রজা পার্টি ৩৫টি আসন পায়।

১৯৩৭ সালের নির্বাচনে জেতার পর। পরের বছরেই ইংরেজী ভাষায় ন্যাশনাল হেরাল্ড ও উর্দু ভাষায় কৌমি আজাদ প্রকাশিত হয়। এত দ্রুত কাগজটি জনপ্রিয় হয়ে যায় যে ১৯৪২ সালের 'ভারত ছাড়ো' আন্দোলনের সময় ব্রিটিশ সরকার তা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত সেই নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। উত্তর প্রদেশের লক্ষ্নৗে থেকে যাত্রা শুরু করে ন্যাশনাল হেরাল্ড দিল্লিসহ বিাভিন্ন স্থানে অফিস স্থাপন করে।

১৯৩৭ সালের ৭ অক্টোবর, বেঙ্গল চটকল মজদুর ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৩৭ সালে ভারতবর্ষে প্রথম প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৪৬ সালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তারপর ১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট ভারবর্ষ ভাগ হয়ে পাকিস্তান নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হয়। ১৯৫১ সালের ২৫ অক্টোবর, স্বাধীন ভারতে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, ১৯৫৭ সালে-২য়, ১৯৬২ সালে-৩য়, ১৯৬৭ সালে-৪র্থ, ১৯৭১ সালে-৫ম, ১৯৭৭ সালে-৬ষ্ঠ, ১৯৮০ সালে-৭ম, ১৯৮৪ সালে-৮ম, ১৯৮৯ সালে-৯ম, ১৯৯১ সালের ২১ মে-১০ম, ১৯৯৬ সালে-১১তম, ১৯৯৮ সালে-১২তম, ১৯৯৯ সালে-১৩তম, ২০০৪ সালের ২০, ২২, ২৬ এপ্রিল ও ৫ এবং ১০ মে, ১৪তম এবং ১৬ এপ্রিল, ২০০৯ সালে ভারতের ১৫তম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং শেষ হয় ১৩ মে, ২০০৯ সালে। ভোটার সংখ্যা ৭১ কোটি ৪০ লাখ। ২০১৪ সালের ৭ এপ্রিল থেকে ১২ মে, ১৬তম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে-এতে ভোটার সংখ্যা-৮৩ কোটি ৪০ লাখ, আসন সংখ্যা-৫৪৫টি-আর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ৫৪৩টিতে। আর দেশটির জনসংখ্যা প্রায়-১২৭ কোটি। এবার ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৯ লাখ ৩০ হাজার। ৫০০টির বেশি রাজনৈতিক দলের প্রায় ১৫ হাজার প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এবার নির্বাচনী ব্যয় হবে ৫০০(পাঁচশত) কোটি ডলার বা ভারতীয় ৩০ হাজার কোটি রুপী। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ৭০০(সাতশত) কোটি ডলার খরচ হয়েছে এবং তারপরই ভারতের নির্বাচনী ব্যয়। মোদি-ঝড়ের বলি নিতীশ। বিজেপি-২৮৩টি আসন, কংগ্রেস-৪৪, এআইএডিএমকে-৩৭টি আসন, তৃণমুল কংগ্রেস-৩৪টি আসন, অন্যান্য-১৪৫টি আসন। জোটগত অবস্থান, এনডিএ-(বিজেপি)--৩৩৬টি আসন, ইউপিএ-৫৯(কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন)। ভারতে রাজনৈতিক দল আছে প্রায়-১৬০০শত। ভারতের সংবিধানের ১১৯তম সংবিধান সংশোধন বিলটি দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে সংসদের দুই কক্ষেই পাস করতে হবে। ২০১৫ সালের ১৩ জুন, প্রথম আলো : ১২৭,৪২,৩৯,৭৬৯(একশত সাতাশ কোটি বিয়াল্লিশ লাখ উনচল্লিশ হাজার সাতশত উনসত্তর) জন মানুষ। আর বছরে ১ দশমিক ৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বছরে বৃদ্ধি পাচ্ছে-২,০৩,৮৭,৮৩৬ জন। এ হার অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল-১৭০(একশত সত্তর) কোটি দেশে পরিণত হতে পারে।

২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল, প্রথম আলো: তিন বছর আগে এ দেশের সরকারি সূত্র অনুযায়ী মোট কালোটাকার পরিমাণের যে আন্দাজটুকু করা হয়েছিল, তা ছিল দেশের মোট জাতীয় আয়ের ৭০ শতাংশ। সেই হিসাবের এক বছর পর ভোট হয় ২০১৪ সালে। ভোটের প্রচারে নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী হলে ওই টাকা তিনি দেশে ফেরত নিয়ে আসবেন। প্রতিটি মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ টাকা জমা পড়বে। ভোট বাজারে এটা একটা ফাটাফাটি স্ক্রিপ্ট। দুই বছর কেটে গেছে, সেই টাকাআসছে তো আসছেই। প্রধানমন্ত্রী এখনও ভুলেও ওসব কথা মুখে আনেন না। পানামা পেপারস ও শিবঠাকুরের আপন দেশ।

১৯৩৭-১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ভারতীয় উপ-মহাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তেনর ইতিহাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

১৯৩৮ সালে 'বঙ্গীয় কৃষি খাতক আইন' প্রণীত হয়।

১৯৩৮ সালের ২১ মে, বেঙ্গল মোশন পিকচার এ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৩৯ সালের ২৩ মার্চ, বাংলার গভর্নর লর্ড ব্রাবোর্নের মৃত্যু।

১৯৩৯ সালের ৩ মে, সুভানচন্দ্র বসু কংগ্রেস ত্যাগ করে ফরওয়ার্ড বস্নক গঠন করেন।

১৯৩৯ সালের ১৬ মে, ক্যাবিনেট মিশন তার পরিকল্পনাটি প্রকাশ করে। আমার ১৫ এপ্রিলের বিবৃতিতে প্রদত্ত্ব ছকের সঙ্গে মূলত তা অভিন্ন ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনায় বলা হয়, মাত্র তিনটি বিষয় বাধ্যতামূলকভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে থাকবে। তিনটি বিষয় বলতে-প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্রীয় ব্যাপার আর যোগাযোগ-যা আমার পরিকল্পনায় বাতলানো হয়েছিল। মিশন অবশ্য পরিকল্পনায় একটি নতুন জিনিস যোগ করে। এতে গোটা দেশকে 'ক', 'খ' ও 'গ' তিনটি মন্ডলে ভাগ করা হয় এই কারণে যে, মিশনের সদস্যেরা মনে করেছিলেন তাতে সংখ্যালগুদের মধ্যে ঢের বেশি ভরসার ভাব আসবে। 'খ'-অংশের মধ্যে পড়বে পাঞ্জাব, সিন্ধুপ্রদেশ, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ আর ব্রিটিশ বালুচিস্তান। এটা হবে মুসলিমপ্রধান অঞ্চল। 'গ'-অংশে, যার মধ্যে পড়বে বাংলা আর আসাম, বাকি সকলের চেয়ে মুসলমানদের সংখ্যা হবে সামান্য বেশি। ক্যাবিনেট মিশন ভেবেছিল, এই ব্যবস্থায় মুসলিম সংখ্যালঘুরা পুরোপুরি ভরসা লাভ করবে এবং লীগের যেসব ন্যায্য ভয়ভীতি তা দূর হবে।

অধিকাংশ বিষয়ের ব্যবস্থা হবে প্রাদেশিক স্তরে-মিশন আমার এই মতটি গ্রহণ করে। এইভাবে মুসলমানেরা তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশে প্রায় ষোলআনা স্বায়ত্তশাসন ভোগ করবে। কেবল কয়েকটি স্বীকৃত বিষয়ের কার্যিনর্বাহ হবে আংশিক স্তরে। এখনও 'খ' ও 'গ' অংশে মুসলমানদের গরিষ্ঠতার নিশ্চয়তা মেলে এবং তারা তাদের সমস্ত ন্যায়সঙ্গত আশা পূরণ করতে পারে। কেন্দ্রের কথা ধরলে, কেবল তিনটি মাত্র বিষয় স্বাভাবিক কারণেই প্রাদেশিকভাবে চালনা করা যাবে না। ক্যাবিনেট মিশন পরিকল্পনার সঙ্গে আমার প্রস্থাবের আত্মিক মিল ছিল এবং তাতে একমাত্র সংযোজন ছিল তিনটি অংশের প্রবর্তন-সেই কারণে আমি মনে করেছিলাম যে প্রস্তাবটি আমাদের গ্রহণ করা উচিত। (ভারত স্বাধীন হল-মৌলানা আজাদের বই পৃষ্ঠা-১১২)

১৯৪০ সালের মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনের সিদ্ধান্তে (রেজুলেশন) ভারতবিভক্তির কথা ছিল না। এই রেজুলেশনে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিমপ্রধান এলাকা নিয়ে মুসলমানদের স্বাধীন বাসভূমি অখন্ড ভারতের মাঝে হওয়ার কথা বলা হয়েছে।' ১৯৪০ প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলেছিলেন, 'টাইম অ্যান্ড টাইড' পত্রিকায় ১৯ জানুয়ারি, ১৯৪৬ সালে এই সাক্ষাৎকারটি ছাপে। কনফেডারেশন নিয়ে পুরনো কাসুন্দি : পাক-বাংলা-ভারত উপমহাদেশের 'কনফেডারেশন' বিষয়টি এমন একটি ঢেঁকুর। অবশ্য এ আলোচনা গত ৬৮ বছর ধরেই চলছে। শ্রী কুলকার্নি প্রশ্ন করেছেন, 'কেন ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান হলো? পরবর্তীকালে বাংলাদেশ কেন পাকিস্তান ছাড়ল? এমন বহু প্রশ্ন আর এর জবাব ও দিয়েছেন তিনি।