২০০৪ সালের ৩১ জুলাই, ইনকিলাব পত্রিকা-সাখাওয়াত হোসেন বাদশা: চুক্তি ভঙ্গের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কঠোর অবস্থান নেবে। ভারতের অসহযোগিতায় প্রতি বছর দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা পস্নাবিত হয়। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্যা পূর্বভাস ও সতর্কীকরণ চুক্তি থাকলেও ভারত তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করছে না।
২০০৪ সালের ৩ আগষ্ট, সালাহউদ্দিন বাবলু: এবারের বন্যায় এ পর্যন্ত সারাদেশে কমপক্ষে ৭ লাখ ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্প এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে এফবিসিসিআই নের্তৃবৃন্দ উল্লেখ করেছেন। এরমধ্যে ৫ হাজার শিল্প আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না এবং বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না পেরে রুগ্ন হয়ে পড়বে।
২০০৪ সালের ৪ আগষ্ট, অর্থৈনতিক রিপোর্টার: বন্যায় ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব ৪২ হাজার কোটি টাকা। সরকার-দাতাদের বৈঠক: আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের মাধ্যমে সাহায্যের আবেদন।
২০০৪ সালের ৮ আগষ্ট, ড. আবদুস সাত্তার সাবেক পূর্ব-পাকিস্তান পরিসংখ্যান ব্যুরোর একজন পরিচালক ছিলেন। ১৯৫৬ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বন্যা নিয়ে তিনি একটি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশ করেন। তার নিবন্ধে তিনি প্রমাণ করেন যে, ১৭৭৩ সালের পর থেকেই বর্তমান বাংলাদেশ অঞ্চলে বন্যার ব্যাপকতা বাড়তে থাকে। মেজর রেনেলের ম্যাপ থেকে তিনি সূত্র গ্রহণ করে প্রমাণ করেন যে, উল্লেখিত সময় পর্যন্ত পদ্মা ও যমুনা সম্পূর্ণ পৃথকভাবে প্রবাহিত হতো। আর এ কারণেই বন্যার কোন সুযোগ ছিল না। একটি ভূমিকম্পের কারণে গোয়ালন্দের কাছে পদ্মা ও যমুনা মিলে যাওয়ার ফলেই নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হলে গোটা পরিস্থিতিরও পরিবর্তন হয়ে যায়।
২০০৪ সালের ১৩ আগষ্ট, অর্থৈনতিক রিপোর্টার: ইনকিলাব: সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)'র নির্বাহী পরিচালক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন-সিপিডির রিপোর্ট: বন্যায় ক্ষতি ১১,৪১৮ কোটি টাকা। এনজির কার্যক্রম দেরিতে শুরু: বিপর্যয় কাটানোর মত সম্পদ আমাদের আছে। বাংলাদেশের পক্ষে জাতিসঙ্গের ১,২৬০ কোটি টাকা জরুরী সহায়তার আবেদন-সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া বন্যা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
২০০৬ সালের ২২ জানুয়ারি, ইনকিলাব পত্রিকার অর্থৈনতিক রিপোর্টার: ১৯৮৫ সাল থেকে গত দু'দশকে বন্যা, টর্নেেডা, সাইক্লোন, কালবৈশাখী ঝড়, নদী ভাঙ্গনের মতো আকস্মিক প্রাকৃতিক দুযোের্গ প্রায় ১ কোটি মানুষ গৃহহীন। উজানে ভারতের পানি প্রত্যাহারে নতুন হুমকির মুখে বাংলাদেশ।
২০০৭ সালের ২৪ মার্চ, মাসুদুজ্জামান রবিন: ঢাকার চারপাশে ৪ নদী এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডাষ্টবিন। বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যার তলদেশে ৬ ফুট পলিথিন ময়লা আবর্জনা: এ পানিই পরিশোধন করে খাচ্ছে রাজধানীবাসী।
২০০৭ সালের ২৬ জুলাই, ১৭৬২ সালে এ এলাকায় প্রথম সংঘটিত সুনামিতে অনেক দ্বীপ বঙ্গোপসাগরে তলিয়ে যায়। *অশনি সঙ্কেত: উত্তর আন্দামান থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত সিসমিক গ্যাস। *সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের আশপাশে ৫শ'র মতো মৃদু ও মাঝারি ভূমিকম্প হয়েছে।
২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর, ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ উপকুলীয় জেলাগুলো। এতে অনেক মানুষের মৃত্যু হয় এবং বাড়ি-ঘর, জমির ফসল, গবাদিপশু ও চাষের মাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ২২ লাখ মানুষকে টানা তিন মাস ত্রাণ তৎপরতা চালানোর পরামর্শ দিয়েছে জাতিসংঘ।
২০০৭ সালের ২৬ নভেম্বর, আরিফুর রহমান, পটুয়াখালী থেকে-দুর্যোগ-ঝুঁকিতে থাকা ৫০ লাখ মানুষের আশ্রয়কেন্দ্র নেই। প্রয়োজন চার হাজার। আছে দুই হাজার। নতুন ৫০০শত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মােণর পরিকল্পনা বর্তমান সরকারের।
২০০৭ সালের ৩ ডিসেম্বর, নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশালে উপদেষ্টা এম. এ. মতিন: বরিশাল ও খুলনা বিভাগের ৮৫ লাখ মানুষ ঘুর্ণিঝড় সিডরে আক্তান্ত হয়েছে, মারা গেছে ৩,৩০০ জন এবং ঘুর্ণিঝড়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ১৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি।
২০০৭ সালের ৪ ডিসেম্বর, নিজস্ব প্রতিবেদক: উপকুলে দীর্ঘেময়াদি উন্নয়নে লাগবে ৭ হাজার কোটি টাকা। দাতা সংস্থার প্রধান ও কুটনীতিকদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক আন্তর্জািতক সম্প্রদায়ের প্রতি সহযোগিতার আহবান।
২০০৭ সালের ৫ ডিসেম্বর, নিউইয়র্ক প্রতিনিধি: জাতিষংঘের প্রতিবেদন-সিডরের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি প্রাথমিক ধারণাকে ছাড়িয়ে গেছে। জাতিসংঘের তথ্য মতে ৮৫ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ। পাঁচ লাখ ৬৪ হাজার বাড়িঘর সম্পূর্ণ ধবংস হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে আট লাখ ৮৫ হাজার বাড়িঘর। এ ছাড়া ১২ লাখ গবাদিপশু মারা গেছে। বিন্ষ্ট হয়েছে বিশ লাখ একর জমির ফসল।
২০০৮ সালের ১৫ মার্চ, নিজস্ব প্রতিবেদক-আলোচনা সভায় বক্তাদের অভিমত। বুড়িগঙ্গা বাঁচলে ঢাকা শহর বাঁচবে, মানুষ বাঁচবে।
২০০৮ সালের ২৮ অক্টোবর, ঘূর্ণিঝড় 'রেশমির'র আঘাতে বিপর্যস্থ উপকুল। উপকুলের কয়েক হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্থ, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, ঘর ও দেয়ালচাপায় মারা গেছে সাতজন, ভেসে গেছে ঘেরের মাছ।
২০০৯ সালের ২৬ মে, প্রথম আলো: "আইলা" মানে ডলফিন। আইলার ছোবলে বিধ্বস্ত উপকুল। পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার আড়তপট্টি এলাকার লোকজন সরে যাচ্ছে নিরাপদ আশ্রয়ে। লোকালয় লন্ডভন্ড, শতাধিক গ্রাম পস্নাবিত, নিহত-২০, শতাধিক নিখোঁজ।
২০০৯ সালের ২৭ মে, প্রথম আলোঃ আইলার ভয়াবহতা স্পষ্ট হচ্ছে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১৯ জন।
২০১০ সালের ২৭ মে, প্রথম আলো: ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলার মানচিত্র থেকে পদ্মা নদীর ভাঙনের মুখে গত ১৫ বছরে হারিয়ে গেছে ৫৬ গ্রাম। ১৯৮৩ সালের ১ আগষ্ট স্থাপিত এ উপজেলার মোট জমির পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৩২৩ হেক্টর। গত ১৫ বছরে এ উপজেলার চার হাজার ২৫৫ হেক্টর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ৫৬ গ্রামের আট হাজার ২৭২টি পরিবারের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এখন ছিন্নমূল। তারা আশ্রয় নিয়েছে বেড়িবাঁধ ও পাকা সড়কে।
১৫৮৫ সালের ১০ মার্চ, সম্রাট আকবরের ফরমান জারি। আমির ফতেহউল্লাহ সিরাজী উদ্ভাবিত বাংলা ফসলি সন প্রবর্তিত হয়। এই সনই বর্তমানে প্রচলিত বাংলা সন।
১৫৮৫ সালে সামন্ত রাজা নবরঙ্গ রায় এই মন্দিরে প্রথম শুরু করেন রথরাত্রা। কিংবদন্তিতে আছে, উড়িষ্যার জগন্নাথ, বঙ্গের গোপীনাথ। প্রাচীন বাংলার সর্ববৃহৎ রথযাত্রা ছিল গোপীনাথের রথযাত্রা। কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলায় ভোগবেতাল গ্রামে অবস্থিত জেলার অন্যতম প্রত্নসম্পদ ঈশা খাঁ ও রাজা নবরঙ্গের ঐতিহাসিক হিন্দু ধর্মীয় তীর্থস্থান শ্রীশ্রী গোপীনাথ মন্দির। প্রতি বছর ২৪ জুন থেকে প্রথম রথযাত্রা এবং ২ জুলাই উল্টো রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এককালে রথযাত্রা উপলক্ষে বসত ১৫ দিনব্যাপী মেলা। গোপীনাথের রথযাত্রার আদি কথা।
২০০৪ সালের ১৯ জুন, হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক রথযাত্রা শুরু হয় এবং আগামী ২৭ জুন, অনুষ্ঠিত হবে উল্টো রথযাত্রা। প্রতি বছর ১৯ জুন, রথযাত্রা শুরু হয় এবং উল্টো রথযাত্রা শেষ হয় ২৭ জুন।
১৫৯৯ সালে বারো ভূইয়াদের অন্যতম ঈশা খাঁনের ইন্তেকাল। নেতাসহ বারভূঁইয়া সংখ্যায় ছিল ১৩ জন। বাংলার বারো ভূঁইয়াদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল ঈশা খাঁন। দেওয়ান আমিন দাদ খাঁ, মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর ১৪তম প্রজন্ম এখনো বেঁচে আছে কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার জঙ্গলবাড়িতে। দেওয়ান আমিন দাদ খাঁ (৮৫ বছর) এখনো বাস করে জঙ্গলবাড়িতে। তাঁরা যে ঈশা খাঁর বংশধর-যুদ্ধই তো তাদের আমৃত্যু অবলম্বন। জঙ্গলবাড়ি মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর দ্বিতীয় রাজধানী হিসেবে পরিচিত। (প্রথম আলো ১৪-০৬-২০০৯ সালের)।
১৬০১ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতবর্ষে তাদের ব্যবসা চালাতে আসার পর ১৬১৫ সালে কর আদায় ব্যবস্থাপনার গোড়া পত্তন ঘটে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কর আদায় ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম শুরু করে সর্বপ্রথম বোম্বে (বর্তমান মুম্বাই) গোয়া ও চট্টগ্রামে। ১৭৮৭ সালে রেভিনিউ বোর্ড অব ইন্ডিয়ারপ্রথম প্রেসিডেন্ট জন শোয়েবের ছবি। ১৭৮০ সালে তিনি ছিলেন 'ঢাকার রেভিনিউ কমিশনার। পরে তিনি ১৭৯৩ থেকে ১৭৯৭ সাল পর্যন্ত ভারতের গবর্নর জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন। ৪০০শ বছরের কর আদায়ের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তােদর ব্যবহৃত অফিস সামগ্রী। (০৫-০৫-২০১৪ তারিখে দেনিক জনকন্ঠ পত্রিকার রির্পোট-চট্টগ্রামে উপমহাদেশের আর্কাইভের যাত্রা শুরু।)
১৬০১ সালে রাজা আর্যাবরের ছেলে রাজা ভগবান (গাইবান্ধা সদর উপজেলার ঘাগোয়া ইউনিয়নে ঐতিহাসিক মীরের বাগানের স্মৃতি জড়িত ভবনগুলো) যখন বর্ধন কুঠির নিকটবর্তী রামপুরে বাসুদেব মন্দির নির্মাণ করেণ তখন মহারাজা মানসিংহ বাংলার সুবাদার ছিলেন। ১৬০৯ সালে রাজা ভগবানের সময়েই সুবাদার ইসলাম খান মানসিংহের স্থলাভিষিক্ত হন।
১৬০৫-১৬২৭ খ্রিষ্টাব্দ মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে জনৈক নীলাম্বর 'রাজা' উপাধি লাভ করার পর সেটি পুঠিয়া রাজবাড়িরূপে পরিচিতি লাভ করে। ১৭৪৪ সালে জমিদারি ভাগ হয়। ১৮২৩ সালে রানি ভুবন মোহিনী দেবী পুঠিয়া রাজবাড়ি এলাকায় ঢোকার মুখেই একটা দিঘির পাড়ে উঁচু বেদির ওপর শিব মন্দিরটি নির্মাণ করেন। রাজশাহী বিভাগের নাটোর জেলার পুঠিয়া রাজবাড়িটি ১৮৯৫ সালে রানি হেমন্তকুমারী দেবী তাঁর শাশুড়ি মহারানি শরৎসুন্দরী দেবীর সম্মানে নির্মাণ করেন। পুঠিয়া রাজবাড়িটি একটি দোতালা বিল্ডিং। এ দেশে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত জমিদারি প্রথা ছিল।
১৬১০ সালের ৩১ জুলাই, ঢাকার নবনিযুক্ত সুবাদার শেখ আলাউদ্দিন ইসলাম খাঁন চিশতি র্কতৃক সোনারগাঁ থেকে বাংলা সুবার রাজধানী বর্তমান ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়। এখন থেকে এর নাম হবে জাহাঙ্গীরনগর।
১৬১০ সালে ইসলাম খাঁন র্কতৃক রাজমহল থেকে ঢাকায় মোঘল রাজধানী ও বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে যাত্রা শুরু। শাহবাগ এলাকার গোড়াপত্তন হয় মোঘল শাসনামলে। তখন ঢাকা ছিল সুবা বাণিজ্যের কেন্দ্র। শাহবাগের আদি নাম ছিল বাগ-ই-বাদশাহী। এর অর্থ বাংলা রাজার বাগান। এটি ছিল বাগানবাড়ি। এরপর মোগল আমলের অবসানের সঙ্গে সঙ্গে এলাকাটিও পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে নবাব আবদুল গনি আবারও এই এলাকার পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনেন। সেটা ১৮৬৮ সালের কথা। তখন নবাব আবদুল গনি জমিদারি পরিচালনার দায়িত্ব দেন পুত্র খাজা আহসানউল্লাহকে। অন্যদিকে, আবদুল গনি অবসর কাটানোর জন্য একটি বাগানবাড়ি তৈরির পরিকল্পনা করেন। ১৮৭০ সালের দিকে তিনি বর্তমান কলাভবন এলাকাটি কেনেন। পরে ১৮৭৬-৭৭ সালে এর উত্তরাংশও কেনা হয়। ১৮৭৩ সালে শাহবাগ বাগানবাড়ির নির্মাণকাজ শুরু হয়। মোগল নাম বাগ-ই-বাদশাহী নামের সঙ্গে মিলিয়ে এবার নামকরণ করা হয় 'শাহবাগ'। এখানকার 'ইশরাত মঞ্জিল' নামে দ্বিতল ভবনটি ছিল সবচেয়ে আকর্ষণীয়। ইশরাত মঞ্জিল পুননির্মাণ করে পরে হোটেল শাহবাগ করা হয়, যা ঢাকার প্রথম প্রধান আন্তর্জািতক হোটেল। বর্তমানে এটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় দ্বারা অধিগৃহীত। শাহবাগে সে সময় একটি চিড়িয়াখানাও নির্মিত হয়েছিল। উনিশ শতকের শেষ ভাগ থেকে বিশ শতকের প্রথম ভাগজুড়েই শাহবাগ ছিল ঢাকার উচ্চপর্যােয়র সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মকান্ডের উৎসভূমি। এখানে ব্রিটিশ শাসকদের সংবর্ধনা দেওয়া হতো। এরপর ১৯১৫ সালে নবাব সলিমুল্লাহর মৃত্যুর পর শাহবাগের জৌলুস ধীরে ধীরে কমতে থাকে। এই এলাকাকে ঘিরে জাতীয় ইতিহাসের অনেক রাজনৈতিক আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছে। ১৯০৬ সালে এখানে পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রাদেশিক মুসলমান শিক্ষা সমিতি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বছরই নিখিল ভারত মুসলিম শিক্ষা সমিতির অধিবেশনে মুসলিম লিগের জন্ম হয়েছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলনে এই অষ্ণলে আন্দোলন প্রকম্পিত হয়েছিল। শাহবাগের কাছে রমনার ময়দান থেকেই শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বাংলাদেশেকে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতার ডাক দিয়ে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। আর এখানেই পাকিস্তানি সেনবাহিনী বাংলাদেশ স্বাধীনতাযুদ্ধে আত্মসর্মপণ করে। তখন থেকেই এই এলাকা অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি, যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার রায়ের পর এই শাহবাগেই শুরু হয় এক গণজাগরণ। স্স্নোগানে স্স্নোগানে মুখরিত মুখরিত হয় পুরো শাহবাগ এলাকা। আন্দোলনে অংশ নিতে আসা দেশের সব বয়সী জনগণের কন্ঠে একটাই দাবি, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই। প্রতিবাদের মিছিল শাহবাগেই থেমে থাকেনি, এর স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে দেশের সব জনগণের মধ্যে। ১৯০৪ সালের শাহবাগ ছিল হরিনের বাস এবং ফ্রিটজ কাপের তোলা ছবি। ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন এই শাহবাগকে এখন অনেকে ডাকছে 'প্রজন্ম চত্বর' বলে। অন্য আলো প্রতিবেদক।
১৬২০ সালে মগ রাজাদের বন্ধী করা হয়েছিল। এরা আরাকানী, এদেরই নামানুসারে ঢাকার মগবাজারের নামকরণ করা হয়।
১৬২৮ সালে টাঙ্গাইল এলাকার বিবির মসজিদটি নির্মাণ করেন রাজা বলরামের কন্যা।
১৬৫৩ সালে ডাচরা কাশিমবাজারে ব্যবসা শুরু করে এবং কালক্রমে সারা বাংলায় বিস্তার লাভ করে।
১৬৫৮ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ভাদুঘরে ১(এক) গম্ভুজ মসজিদ তৈরী হয়। ঐতিহাসিকদের মতে ভাদুঘরের ১(এক) গম্ভুজ মসজিদটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রথম মসজিদ।
১৬৫৯ সালে শাহ সূজা যখন বাংলার সুবেদার ছিলেন, তিনি মাদারী বোরহানা তরিকার ফকীরদের একটি সনদ প্রদান করেন।
১৬৬০ সালে ব্যবসার প্রসারের জন্য ডাচ গভর্নর ম্যাথু ভ্যান ডেন ব্রুক বাংলা ও তৎসংলগ্ন এলাকার মানচিত্র তৈরি করেন। এটি এখনো এ এলাকার অন্যতম প্রচীন মানচিত্র হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
১৬৬০ সালে বাঙলার ভূমি ও নদনদীর নক্শা দ্বিতীয় বলে খ্যাত তৈরী করেন ফন্ ডেন ব্রোক-কৃত।
১৬৬০ সালে সুবেদার মীর জুমলা ঢাকা নগর রক্ষার জন্য এবং মগ ও পর্তুগীজ জলদস্যুদের দমন করার জন্য মুন্সীগঞ্জের ইদ্রাকপুর কেল্লা নির্মাণ করেন।
১৬৬১-৬৩ সালে মীর জুমলা বাংলার সুবেদার নিযুক্ত।
১৬৬৩ সালে শায়েস্তা খাঁ বাংলার সুবেদার নিযুক্ত।
১৬৬৪ সালে ফরাসী ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী গঠিত হয় এবং বাংলায় আসে ফরাসীরা ১৬৬৮ সালে।
১৬৬৫ সালের ২৭ জানুয়ারি, শায়েস্তা খানের পুত্র উমেদ খান র্কতৃক চট্টগ্রাম বিজয়। ২(দুই) হাজার মগসেনা বন্দী। চট্টগ্রাম বঙ্গদেশের চুড়ান্ত অন্তর্ভুিক্ত।
১৬৬৬ সালে চট্টগ্রাম জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। গ্রাম-১৩১৯টি, ইউনিয়ন-১৯৭টি।
১৬৬৬ সালে শায়েস্তা খান দখল করেন ''চট্টগ্রাম''। সায়েস্তা খানের আমলে এক টাকায় আট মন চাল পাওয়া যেত।
১৬৭২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার হাটখলা ৩(তিন) গম্ভুজ পুরাণ মসজিদ তৈরী করেন। ঐতিহাসিকদের মতে সরাইল উপজেলার হাটখলা ৩(তিন) গম্ভুজ পুরাণ মসজিদটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার দ্বিতীয় মসজিদ।
১৬৭৮ সালে ঐতিহাসিক লালবাগ কেল্লার নির্মাণ কাজ শুরু করেন এবং মাঝে কাজ বন্ধ ছিল আবার ১৬৮০ সালে নির্মাণ কাজ শুরু।
১৬৮৬ সালে ইংরেজদের প্রথমবারের মত বাংলা আক্রমণ।
১৭০২ সালে শাহী (বড়) মসজিদটি বাদশাহ আওরঙ্গজেবের শাসনামলে স্থানীয় প্রশাসক আবদুল্লাহ র্কতৃক চাঁদপুর জেলার আলীপুরের শাহী আলমগীরি মসজিদ বা জুমা মসজিদ নির্মাণ করা হয়।
১৭০৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি, অবিভক্ত বাংলায় পুলিশী ব্যবস্থার প্রচলন হয়।
১৭০৭ সালে মুর্শিদকুলি খান র্কতৃক বাংলাকে স্বাধীন ঘোষণা।
১৭০৭-৮ সালের ১১২২ হিজরী ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চাঁদগাজী ভূঁঞা মসজিদটি ৩০০ বছরের পুরনো।
১৭২৭ সালে মুর্শিদকুলি খানের মৃত্যুর পর তাঁর জামাতা সুজাউদ্দিন খাঁন বাংলার নবাব মনোনীত।
১৭৪০ সালে সরফরাজ খাঁনকে হত্যা করে আলীবর্দী খান বঙ্গ বিহার ও উড়িষ্যার নবাবী লাভ করেন।