১৭৪৮-৬০ সাল পর্যন্ত বাংলা শমসের গাজী দেশের পূর্বাঞ্চলে ত্রিপুরার রৌশনাবাদ এলাকার স্বাধীন নরপতি ছিলেন।

১৭৫২ সালে আলীবর্দী খাঁন র্কতৃক বাংলার শাসনকার্য চালানোর জন্য সিরাজ-উদ-দৌলাকে উত্তরাধিকারী নিযুক্ত।

১৭৫৬ সালে সিরাজ-উদ-দৌলা ২৯ বছর বয়সে বাংলার মসনদে আরোহণ।

১৭৫৭ সালের ২০ ডিসেম্বর, রবার্ট ক্লাইভ বাংলার গভর্নর নিযুক্ত হন। ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে এ দেশের শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালিত হতো-মক্তব, মাদ্রাসা, টোল ও রাজদরবারকে কেন্দ্র করে। মধ্যযুগে মুসলমানদের প্রাথমিক পর্যােয়র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল ''মক্তব''। আরবি, ফারসি ও ইসলাম ধর্মের উচ্চতর শিক্ষা হতো ''মাদ্রাসায়''। ''মুঘল'' আমলে বাংলা গজল ও সুফি সাহিত্য সৃষ্টি হয়। সরকারি কাজে ফারসি ভাষা চালু করেন ''টোডরমল''।

১৭৫৮ সালে নাটোর: রাণী-ভবানী র্কতৃক নির্মিত সেতু-এখন কালের সাক্ষী-রাণী-ভবানী জনসাধারণের জন্য যাতায়াতের সুবিধার জন্য নাটোর হতে বগুড়া পর্যন্ত ৩০ মাইল রাস্তা নির্মােণর নির্দেশ দেন। আড়াইশত বছরের প্রাচীন সেতু-এখন কালের সাক্ষী হিসাবে আছে।

১৭৬০ সালে চট্টগ্রাম জেলা ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর নিকট হস্তান্তর করা হয়।

১৭৬২ সালে এ এলাকায় প্রথম সংঘটিত সুনামিতে অনেক দ্বীপ বঙ্গোপসাগরে তলিয়ে যায়।

১৭৬৩ কারা বাকেরগঞ্জে কোম্পানির কুঠি লুট করে একদল ফকির।

১৭৬৩ সালে ফকিররা ঢাকায় কোম্পানির ফ্যাক্টরি আক্রমণ করে।

১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর, বাংলা ও বিহারে নবাবী আমলের অবসান হয় এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হয়।

১৭৬৪-৭৬ সালে বাঙলার ভূমি ও নদনদীর নক্‌শা তৃতীয় বলে খ্যাত তৈরী করেন মেজর রেনেল-কৃত। (জাও দ্য ব্যারোস-কৃত-১৫৫০, ফন্‌ ডেন ব্রোক-কৃত-১৬৬০ ও মেজর রেনেল-কৃত-১৭৬৪-৭৬ সাল) এ ৩টি মানচিত্রই বাঙলার কিন্তু ভারতবর্ষের প্রথম মানচিত্র এ ৩টিই।

১৭৬৫ সালে বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা প্রথম ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনাধীনে আসে।

১৭৭২ সালে ঢাকা জেলার কার্যক্রম শুরু। গ্রাম-১৮৬৩টি, ইউনিয়ন-৭৭টি।

১৭৭২ সালে রাজশাহী জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। গ্রাম-১৮৫৮টি, ইউনিয়ন-৭০টি।

১৭৭২ সালের ৩০ জুন, রংপুরে ফকির বিপস্নব শুরু।

১৭৭৩ সালের পর থেকেই বর্তমান বাংলাদেশ অঞ্চলে বন্যার ব্যাপকতা বাড়তে থাকে।

১৭৭৫ সালে সিলেট জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। গ্রাম-৩৪৯৭টি, ইউনিয়ন-১০১টি।

১৭৭৭ সালে নবাবগঞ্জ উপজেলার কলারোপা-বান্দুরাতে পর্তুগীজরা একটি গির্জা তৈরী করে।

১৭৮১ সালে যশোর জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৭৮১ সালে মধুপুর জঙ্গলে মজনু শাহ আধিপত্য স্থাপন করেন।

১৭৮২ সালে ঐতিহাসিক তথ্যমতে, পলাশী যুদ্ধের ২৫ বছরের মাথায় ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতাসংগ্রামের প্রথম শহীদ হাদি-মাহদির চিহ্নিত কবর সংরক্ষণের উদ্যোগ। সৈয়দ হাদি ও সৈয়দ মাহদি। সিলেটে ব্রিটিশবিরোধী প্রথম যুদ্ধে শহীদ হন দুই ভাই। নগরের শাহি ঈদগাহ এলাকায় হয়েছিল সেই যুদ্ধ। আর তারা সমাহিদ হয়েছিল পাশের নয়া সড়ক এলাকায়। হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী দিনটি ছিল ১০ মহরম। ইতিহাস গবেষকদের মতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতাসংগ্রামের প্রথম শহীদ হিসেবে স্বীকৃত হন সৈয়দ হাদি ও সৈয়দ মাহদি। ওই সময় রবার্ট লিন্ডসে ছিলেন সিলেটের রেসিডেন্ট বা ডিস্ট্রিক কালেক্টর। লিন্ডসের সুসজ্জিত বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন শহরের কুমারপাড়া-সংলগ্ন ঝরনার পারের ঐতিহ্যবাহী সৈয়দ পরিবারের দুই ভাই সৈয়দ হাদি ও সৈয়দ মাহদি। লিন্ডসেকে আশুরা অনুষ্ঠানের সীমানায় প্রবেশে বাধা দেন তাঁরা। আগ্নেয়াস্ত্রের বিরুদ্ধে খোলা তরবারি হাতে অসম এক যুদ্ধ বাধে। ইংরেজ বাহিনী ধরাশায়ী হওয়ার উপক্রম হলে একপর্যােয় তাদের পাল্টা আক্রমণ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এটিই ছিল ভারতবর্ষের স্বাধীনতাসংগ্রামের প্রথম যুদ্ধ।

১৭৮৩ সালের জানুয়ারি মাসে মাটির নবাব নূরুলউদ্দিনের নেতৃত্বে রংপুর বিদ্রোহ প্রকাশ্য রূপ নেয়। যার নায়ক কৃষক নূরুলউদ্দিন।

১৭৮৩ সালের জানুয়ারি মাসে "রংপুর বিদ্রোহ'' জোতদার ও রায়তেরা বিদ্রোহ ঘোষণা করে।

১৭৮৭ সালে ময়মনসিংহ জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। গ্রাম-২৭০৯টি, ইউনিয়ন-১৪৬টি।

১৭৮৭ সালে ফকির মজনু শাহ মৃত্যুবরণ করে।

১৭৮৮ সালে তৈরি হওয়া ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ১৭ একর জমিতে ছিল। এখন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুরে ১৯৪ একরের বেশি জমিতে তৈরি হয়েছে নতুন কারাগার। এর মধ্যে ৩০ একর জমিতে বন্দীদের জন্য ভরনের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ। ধারণ ক্ষমতা ৪০০০ হাজার পুরুষ ও ২০০ নারী। তবে ৮ হাজারেরও বেশি পুরুষ বন্দী থাকতে পারবে এবং ২০০ নারী। ২০১৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর, প্রথম আলো।

১৭৮৯ সালের ৩ জুন, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলায় লবণ উৎপাদন নিষিদ্ধ করে।

১৭৯০ সালে ব্রিটিশ ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে ত্রিপুরা জেলা (হেড কোয়াটারের নাম-কুমিল্লা), নামে যে প্রশাসনিক ইউনিট সৃষ্টি করা হয় বৃহত্তর কুমিল্লা ছিল তারই অংশ। ১৯৬০ সালে কুমিল্লার নামে কুমিল্লা জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। গ্রাম-৩,৬৮৭টি, ইউনিয়ন-১৭৮টি। বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর ও কুমিল্লা জেলার সীমানা নিয়ে এ অংশই কুমিল্লা জেলা নামে আত্মপ্রকাশ করে।

১৭৯৩ সালের ২২ মার্চ, বাংলা ও বিহারে লর্ড কর্নওয়ালিস চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করেন।

১৭৯৫ সালের ৩ মার্চ, মাত্র ৪৮৬ জন সৈন্য নিয়ে "রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন'' পার্বত্য এলাকায় গোড়াপত্তন হয় বর্তমান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর। সপ্তদশ শতকের শেষভাগে পার্বত্য এলাকা জুড়ে লুসাই বিদ্রোহ দেখা দিলে তাদের দমন করতে ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি এ বাহিনী গঠন করে। নাম পরিবর্তন করে "ফরেন্টিয়ার গার্ডস'' ১৮৭৯ সালে। ১৮৯১ সালে সর্বপ্রথম ঢাকায় ঘাঁটি স্থাপন করে আবার-এর নামকরণ করা হয় "স্পেশাল রিজার্ভ' বাহিনী। ১৯০৫ সালে বাংলা বিভক্ত হওয়ার সাথে সাথে এ বাহিনীর পুনঃরায় নামকরণ করা হয় "ঢাকা মিলিটারী পুলিশ বেটেলিয়ান''। ১৮৯৭ সালে মিল ব্রাক ক্ষতিগ্রস্থ হ'লে কথিত গেরিশনটি পিলখানায় স্থানান্তরিত করা হয়। এটাই রাইফেলস বাহিনীর বর্তমান নিবাস। ১৯১২ সালে এ বাহিনীর নতুন নামকরণ হয় "বেঙ্গল মিলিটারী পুলিশ বেটালিয়ান''। ১৯২০ সালে 'ঢাকা মিলিটারী পুলিশ'। আবার ১৯২০ সালে নামকরণ করা হয় "বেঙ্গল বেটালিয়ন অব ইস্টার্ণ ফরেনটিয়ার রাইফেলস''। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর এ বাহিনীর নামকরণ করা হয় "ই. পি. আর'' (ইস্টার্ণ পাকিস্তান রাইফেলস)। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পুণরায় নামকরণ করা হয় ১৯৭২ সালের ৩ মার্চ, এ বাহিনীর সর্বেশষ নামকরণ "বাংলাদেশ রাইফেলস'' বা বিডিআর-এর উৎপত্তিস্থল রামগড়। ২১০-বছরে 'রাইফেলস স্মৃতিস্তম্ভ' স্থাপিত হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধে ৮(আট) হাজার সৈনিকের মধ্যে ৮১৭(আটশত সতের) জন সৈনিক শহীদ হন। ২০১০ সালের ৯ ডিসেম্বর, প্রথম আলো: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিল, ২০১০ পাস। এখন থেকে বিডিআর (বাংলাদেশ রাইফেলস)-এর নাম থাকবে না। মূলমন্ত্র 'সীমান্তে নির্ভীক প্রহরা'। দাপ্তরিক কাজ ও সীমান্তে থাকা সদস্যদের জন্য আলাদা পোশাক।

১৭৯৭ সালে বরিশাল জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। গ্রাম-১১৭৫টি, ইউনিয়ন-৮৬টি।

১৮০০ সালে ফকিররা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে।

১৮০০ সালে বাংলাদেশে সর্বপ্রথম প্রোটেস্টান্ট মিশন প্রতিষ্ঠিত হয়, এর আগে পর্তুগীজ মিশনারীরা বাংলাদেশের নানাস্থানে গির্জা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

১৮১৬ সালে উপমহাদেশের প্রথম ভুমি জরিপ বিদ্যাপিঠ কুমিল্লার ময়নামতি ক্যান্টেনমেন্ট-এর নিকট ময়নামতি সার্ভে স্কুল নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯১৪ সালের দিকে স্কুলটি ময়নামতি থেকে সরিয়ে রামমালা প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠা হয়। এখন এটি একটি পুর্ণাঙ্গ জরিপ ইনস্টিটিউটে পরিনত হয়।

১৮২১ সালে নোয়াখালী জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। গ্রাম-৯৭৮টি, ইউনিয়ন-৮৩টি।

১৮২৭ সালে পাবনা জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। গ্রাম-১৫৪০টি, ইউনিয়ন-৭২টি।

১৮২৯ সালে 'ঢাকা বিভাগ' প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৮৩৩ সালে ৩,০০০(তিন হাজার) সশস্ত্র পাগলপন্থী ও প্রজা শেরপুর শহর আক্রমণ করে।

১৮৪০ সাল পর্যন্ত পাহাড়টি ছিলো টি গার্ডেন। স্থানীয় জমিদার রায় নিতাইনন্দ বাহাদুরের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে লিজ নিয়ে এখানে গড়ে তোলা হয় ক্লাব ভবন। ১৮৭৮ সালের ২৩ আগষ্ট বৃটিশ টি পস্ন্যান্টার ক্যাম্পবল চিটাগং ক্লাব লিঃ প্রতিষ্ঠিত করে। ১৯০১ সালের ২৭ মার্চ চিটাগং ক্লাব রেজিস্টার্ড ক্লাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯০৮ সালে এ ক্লাব কোম্পানী হিসেবে রেজিস্টার্ড হয়। ১৯৪৭-৪৮ সালে ক্লাবের প্রথম চেয়ারম্যান নির্বািচত হয়েছিলেন বৃটিশ সদস্য মিস্টার এইচ. কলেয়ার।

১৮৪০ সালে চট্টগ্রামেই সর্বপ্রথম পরীক্ষামূলকভাবে চা-বাগান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন ঔপনিবেশিক শাসকেরা। ১৮৫৬ সালে সিলেটে তাঁরা আবিস্কার করেন চা-গাছ। ১৮৫৮ সালে সিলেটের মালনীছড়ায় প্রথম-বাগান প্রতিষ্ঠা করেন ইংরেজ সাহেব হার্ডসন।

১৮৪২ সালের ২ নভেম্বর, মৌলভীবাজারের মাধবপুরেই প্রথম শুরু হয়েছিল রাসমেলা। জানা গেছে, জগৎপতি কৃঞ্চের ১২ ধরনের রস থেকেই এ রাস শব্দের উৎপত্তি। আর এ রাসের সঙ্গে মেলা যুক্ত হয়ে 'রাসমেলা'। রাসমেলায় গোপিনী সাজের তরুণী ও গোষ্ঠলীলার সাজ।

১৮৪৭ সালে ১ম গণ-লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠিত হয় নওগাঁ জেলায় রাজা রামমোহনের নামে।

১৮৫০ সালে বগুড়া জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। গ্রাম-২৭০৬টি, ইউনিয়ন-১০৯টি।

১৮৫১ সালে যশোর জেলা পাবলিক লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৮৫৩ সালের ডিসেম্বর মাসে মুন্সীগঞ্জ মহকুমার সৃষ্টি হয়। ১৮৪৫ সালে মুন্সীগঞ্জ থানা প্রতিষ্ঠত হয়।

১৮৫৪ সালে মি. লয়েল বগুড়ার উডবার্ন পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৭৫ সালে ডাবলু. ডাবলু. হানটার প্রকাশিত বেঙ্গল পরিসংখ্যান থেকে যশোর গণগন্থাগার সম্পর্কে মোটামোটি ধারণা পাওয়া যায়।

১৮৫৪ সালে বরিশালে পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৮৫৪ সালে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৮৫৪ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে স্থাপিত হয়েছিল 'দরিদ্রবান্ধাব লাইব্রেরী'।

১৮৫৫ সালের ৩০ জুন, (তারা সংগঠিত হতে থাকে এবং ১৮১১, ১৮২০ ও ১৮৩১ সালে সাঁওতালদের অভ্যুত্থান ঘটে। কিন্তু সবচেয়ে ভয়াবহ, সুসংগঠিত ও ব্যাপক বিদ্রোহটি সংঘটিত হয় ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন এবং তা দমন করতে সরকার কয়েক দফা সামরিক অভিযান পরিচালনা করে।) দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও জেলায় ঐতিহাসিক সাঁওতাল-কৃষক বিদ্রোহ হয় সিধ মারমা, কানু, চাঁদ এবং ভৈরবের নেতেৃত্বে আদিবাসী জনপদগুলিতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের সৃষ্ট জমিদার, দালাল, মহাজন গোষ্ঠির অত্যাচার-নির্যাতন-নিপীড়ন-মিথ্যা মামলার হয়রানীতে অতিষ্ট হয়ে কৃষকদের অস্তিত্ব রক্ষার্থে এ দিনে ১০ হাজার লোকের সমাবেশ বিদ্রোহ ঘোষণা করা হয় এবং আপোষহীনভাবে ২(দুই) বছর লড়াইয়ে ২৫ হাজার নেতাকর্মী অশাতরে জীবন দান করেছিল। বাংলাদেশে আজও শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি।

১৮৫৫ সালের ৭ জুলাই, ব্রিটিশবিরোধী সাঁওতাল বিদ্রোহ ব্যাপকতা ও বিস্তার লাভ করে।

১৮৫৫ সালে দই ও মিষ্টিকে কেন্দ্র করে বগুড়ার শেরপুরে দুধের বাজার গড়ে উঠেছিল।

১৮৫৬ সালে সিলেটে প্রথম চা-গাছ আবিস্কৃত হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে ১৫৮টি চা-বাগান আছে এরমধ্যে সিলেটে ১৩৪টি, বাকী ৩৪টি চট্টগ্রাম ও কুমিল্লাতে। ২০০৮ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি, দেশে সর্বেমাট ১৫৮টি চা বাগান আছে এরমধ্যে ১৩০টি সিলেটে।

১৮৫৭ সালের ১৮ নভেম্বর, হাবিলদার রজব আলীর নেতৃত্বে চট্টগ্রামে ৩৪-দেশীয় পদাতিক বাহিনীর বিদ্রোহ।

১৮৫৮ সালে চট্টগ্রামে সিপাহীরা বিদ্রোহ ঘোষণা করে।

১৮৫৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর, মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রথম নাটক 'শমিষ্ঠা' প্রথম অভিনত হয়।

১৮৫৯ সালে জমিদার তারাপ্রসাদ রায় মৃত্যুবরণ করলে তাঁর চিতাস্থলে প্রায় ১৫০ বছর আগে ১২০ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট বিক্রমপুরের মাইজপাড়ার মঠটি তৈরি করা হয়।

১৮৬০ সালের আইন দিয়ে সমাজসেভার নামে ব্যবসা বন্ধের উদ্যোগ গ্রহণ। ১৫০ বছরের পুরোনো সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট, ১৮৬০ যুগোপযোগী ও সংশোধন হয়ে নতুন আইন হবে সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড কন্ট্রোল অ্যাক্ট, ২০১০।

১৮৬০ সালে নীল বিদ্রোহের অবসান ঘটে।

১৮৬১ সালে উপমহাদেশে লর্ড ক্যানিং র্কতৃক পুলিশ ব্যবস্থা চালু হয়।

১৮৬১ সালের ব্রিটিশ শাসক র্কতৃক প্রণীত পুলিশ আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ পুলিশ পরিচালিত হচ্ছে।

১৮৬৩ সালে কুস্টিয়া জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। গ্রাম-৯৭৮টি, ইউনিয়ন-৬৬টি।

১৮৬৪ সালে বাকল্যান্ড বাঁধ দেয়া হয় বুড়িগঙ্গা নদীর ওপর।

১৮৬৫ সালে রাজশাহী কালেকটোরেট প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তাতে অনেক বড় সংগ্রহশালা ছিল।

১৮৭০ সালে তৎকালীন আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের বৃহত্তম কারখানাটি সৈয়দপুরে গড়ে ওঠে।

১৮৭১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকার নারিন্দাস্থ মশুরীখোলার শাহ সাহেব শাহ আহসান উল্লাহ (র.)'র ওরশ শরীফ শুরু হয়েছিল (১৬-০২-২০০৬ তারিখ ১৩৬তম ওরশ শরীফ)।

১৮৭১-৭২ সালে বঙ্গদেশে প্রথম লোকগণনা হয় এবং এই লোকগণনার ফলে দেখা যায় বঙ্গদেশের পাঁচটি বিভাগের মধ্যে রাজশাহি, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে মুসলমানরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। বর্ধমান ও পেসিডেন্সি বিভাগে হিন্দুদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্ত্বেও বঙ্গদেশের অধিবাসীদের ৪৮% মুসলমান।

১৮৭২ সালের ১৮ জানুয়ারি, বেঙ্গল লেজিসলেটিভ কাউন্সিল গঠিত হয়।

১৮৭২ সালে চট্টগ্রামে নির্মিত বেঙ্গল রেলওয়ের কার্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।ারতের ভারতের পূর্ব-দক্ষিণ অভ

১৮৭২ সালে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলো জরিপ করা শুরু করে ব্রিটিশ সরকার। সোনারগাঁয়েও চালানো হয় এ জরিপ। এ সময় সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের আলোকচিত্রও তোলা হয়। পরে এটি আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া কালেকশন: ইন্ডিয়া অফিস সিরিজ নামে প্রকাশিত হয়। সোনারগাঁয়ের এ ছবিগুলো বেশির ভাগই তুলেছেন আলোকচিত্রী ডবিস্নউ ব্রেন্যান্ড।

১৮৭৪ সালে আসামকে বাংলা প্রেসিডেন্সি থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়।

১৮৭৬ সালের ১ অক্টোবর, পাবনা পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৮৭৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর, অভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন অবশেষে বাতিল ও রহিতকরণ বিল জাতীয় সংসদের ৩১-০১-২০০১ তারিখের সভায় উত্থাপিত হ'লে উহা কন্ঠভোটে পাশ হয়। অর্থাৎ বাতিল করা হয়।

১৮৭৭ সালে রংপুর জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। গ্রাম-১৪৩১টি, ইউনিয়ন-৮৩টি।

১৮৮১ সালে বাংলাদেশে চালু হয় ভুমি হস্তান্তর ও রেজিষ্ট্রেশন প্রথা।

১৮৮১ সালের পূর্বে বঙ্গ-ভারত উপমহাদেশে কোন আইনই ছিল না-সংগঠিত শিল্প আইন।

১৮৮২ সালে খুলনা জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। গ্রাম-১১০৬টি, ইউনিয়ন-৬৮টি।

১৮৮২ সালে বরিশালে বানারিপাড়া পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে মৃণালিনী দেবীর বিয়ে হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুর বেণীমাধব রায়চৌধুরী দেশভাগের বহু আগে থেকে কলকাতায় বসবাস করতেন। তাঁর একমাত্র ছেলে নগেন্দ্রনাথ রায়চৌধুরী ওরফে ফেলুবাবু জমিদারি দেখার জন্য মাঝেমধ্যে দক্ষিণডিহিতে আসতেন। ফেলুবাবুর ছেলেরা কেউ দক্ষিণডিহি আবার কেউ কলকাতায় বসবাস করতেন। ১৯৪০ সালে এ পরিবারের সবাই কলকাতা চলে যান। এর আগে ফেলুবাবু ও তাঁর স্ত্রী বাড়িসহ আশপাশের ৭ দশমিক ৮ একর জমি বাদে সমুদয় সম্পত্তি দক্ষিণডিহির আরেক জমিদার বিজনকৃঞ্চ দাসকে বন্তোবস্ত দেন। ১৯৬৫ সালে বিজনকৃঞ্চ দাস দেশত্যাগ করেন। বাড়িটি বেদখল হয়ে যায়। প্রশাসন ১৯৯৫ সালে বাড়িটি উদ্ধার করে। খুলনার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহি গ্রামে রবীন্দ্রনাথের শ্বশুরবাড়ি। রবীন্দ্র-মৃণালিনীর স্মৃতিধন্য ভবন। (২৭-০১-২০১৫ তারিখ)।