২০০৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর, ইনকিলাব পত্রিকায়-সংসদ রিপোর্টার: ঢাকায় নতুন বিদ্যুৎ লাইনের সংযোগ নেয়ার ক্ষেত্রে ডেসার শতকরা ৪০ ভাগ গ্রাহককে বাধ্যতামূলক ঘুষ দিতে হয়। শতকরা ৬০ ভাগ গ্রাহক বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মচারীদের হাতে নানাভাবে হয়রানির শিকার হন। ডেসার গ্রাহক সেবার মান খুবই নিম্নমানের। শতকরা ৭৪ ভাগ মিটার রিডার কোনরকমে মিটার রিডিং ছাড়াই বিল প্রস্তুত করেন। তাদের এ আন্দাজে বিল তৈরীর কারণেও গ্রাহকরা দুভোের্গর শিকার হন। ১৩-১২-২০০৪ জাতীয় সংসদের সরকারী হিসাব কমিটির বৈঠকে ডেসার দক্ষতা নিরুপন সংক্রান্ত অডিট অধিদপ্তরের পেশকৃত রিপোর্টে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

২০০৫ সালের ৫ মে, ইনকিলাব পত্রিকার অর্থৈনতিক রিপোর্টার: বিদ্যুতের অভাবে দেশে শিল্প ও কৃষিক্ষেত্রে বছরে ১০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি। ডিসিসিআই'র গোলটেবিল বৈঠকে অভিমত।

২০০৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর, আমেরিকান সেন্টার: যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সাড়ে ৩-কোটি মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধা দিচ্ছে।

২০০৫ সালের ২১ এপ্রিল, অর্থৈনতিক রিপোর্টার: বেসরকারী খাতে ৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। জানা গেছে, ভবিষ্যতে ৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে সরকারের কাছ থেকে কোন অনুমতি নিতে হবে না।

২০০৫ সালের ৬ মে, অর্থৈনতিক রিপোর্টার: দেশে বিদ্যুৎ, সার ও গ্যাস এ তিন প্রকল্পে মোট-১৪৭.৫০(একশত সাতচল্লিশ কোটি পঁঞ্চাশ লাখ) মার্কিন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্যে গতকাল(০৫-০৫-২০০৫) সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে। এরমধ্যে ১৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিনিয়োগ করবে মার্কিন কোম্পানী। সমঝোতা স্মারক সই। নিউইয়র্কের বিখ্যাত বেসরকারী প্রতিষ্ঠান গেস্নাবাল ভলকান এনার্জি ইন্টারন্যাশনাল এলএলসি (জিভিইএল), এরজন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ৯০ কোটি ডলার।

২০০৫ সালের ৫ অক্টোবর, ইনকিলাব-এম আবদুল্লাহ: আমলাচক্র ডুবিয়েছে বিদ্যুৎ খাত-সরকারকে ডোবাচ্ছে লোডশেডিং।

২০০৫ সালের ২৫ অক্টোবর, ইনকিলাব-বিশেষ সংবাদদাতা: যুদ্ধকালে ব্যবহৃত ব্যয়বহুল ট্রেইলর মাউন্টেন্ড বিদ্যুৎ কেন্দ্র ভাড়া করা হচ্ছে। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় গৃহীত 'ক্রেডিবল প্রোগ্রামে' সহায়তা প্রস্তুত: বিশ্বব্যাংক।

২০০৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি, সাখাওয়াত হোসেন বাদশা: শুরুতেই বিদ্যুৎ ঘাটতি ৯শ' মেগাওয়াট ভরা মৌসুমে ২ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে কৃষির সঙ্গে শিল্প ও জনজীবনের বিরূপ প্রভাব।

২০০৬ সালের ৩ জুলাই, সংসদ রিপোর্টার: জোট সরকারের আমলে ১২৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে-সংসদে প্রতিমন্ত্রী। ২০০৬-২০০৭ অর্থবছরে দেশে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়নে বর্তমান সরকার ৩,৪০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করছে।

২০০৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর, এম. আবদুল্লাহ: ২ হাজার ৫শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতিতে বিপর্যস্ত সারাদেশ। এমন সংকট দেখেনি কেউ: জীবনযাত্রা অর্থনীতি উৎপাদন যানবাহন অচল।

২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর, সাজ্জাদ আলম খান: গত ৫ বছরে বিদ্যুৎ খাত-এ মোট বরাদ্দ ২৬,৬৬৬ কোটি টাকা: উৎপাদনে-৮,৭৪৯ কোটি টাকা। সঞ্চালন খাতে বিশাল বরাদ্দের পেছনে মহল বিশেষের স্বার্থ ছিল।

ক্রমিক নংঅর্থবছরঅনুমোদিত প্রকল্পপ্রাক্কলিত ব্যয় (কোটি টাকায়)
২০০২-২০০৩০৯৩,৭৩৮
২০০৩-২০০৪১৬৬,৯৬৩
২০০৪-২০০৫১২৫,৭০৭
২০০৫-২০০৬১৩৫,১৯৭
২০০৬-২০০৭১১৫,০৬১
মোট৬১২৬,৬৬৬ কোটি টাকা

২০০৬ সালের ৫ নভেম্বর, ইনকিলাব রিপোর্ট: নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠিই ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিবের হাতে-জোট সরকারের দুর্নীিত বিদ্যুৎ খাতের বিনিয়োগ গ্রাস করেছে। গত ৫ বছরে ২৭ হাজার কোটি টাকা।

২০০৭ সালের ৫ এপ্রিল, স্টাফ রিপোর্টার: জ্বালানি উপদেষ্টাকে বিকেএমইএ নেতৃবৃন্দ-বিদ্যুৎ খাতের লুটপাট করা ২০ হাজার কোটি টাকা উদ্ধার করুন।

২০০৭ সালের ২১ অক্টোবর, বিদ্যুৎ সচিব ড. এম. ফাওজুল কবির খান বলেছেন আগামী ২০১০ সালের মধ্যে ৬০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাবে-প্রথম আলো বিশেষ সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান।

২০০৭ সালের ২০ নভেম্বর, দুর্নীিতর কারণে বিদ্যুৎ খাতে ১০ বছরে ২৩ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি-টিআইবির তথ্যানুসন্ধানী গবেষণা প্রকাশ।

২০০৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি, নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বাণিজ্য মেলায় প্রদর্শন-জ্বালানি ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদক ডায়নামো। আর উদ্ভাবক ঝিনাইদহের গিয়াসউদ্দিন কচি। গিয়াসউদ্দিন জানান, চট্টগ্রামে সাইনবোর্ড ও ব্যানার লিখেই তাঁর সংসার চলে। তবে প্রযুক্তির প্রতি তাঁর আকর্ষণ অনেক বেশি। তিনি অবসর সময়ে কাজ করে ১৮ বছরের চেষ্টায় এটি উদ্ভাবন করেন।

।বিদ্যুৎ খাত মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০০৭ সালে যা হওয়ার কথা এবং ২০০৮ সালের বাস্তবতা:।

খাত২০০৭২০০৮
স্থাপিত উৎপাদনক্ষমতা(মেগাওয়াট)৬,৭১৬৫,২৯৬
সর্বোচ্চ চাহিদা(মেগাওয়াট)৫,৩৬৪৫,৮০০(প্রায়)
মাথাপিছু উৎপাদন(কিলোওয়াট/ঘন্টা)১৯০১৬০
বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় জনসংখ্যা৪৭%৪০%
সঞ্চলন লাইন(কিলোমিটার)৫,৯৬৬৪,০৪৪
বিতরণ লাইন(কিলোওয়াট)২,৬৬,৯৬২২,৬০,০০০(প্রায়)

২০০৮ সালের ২৩ আগষ্ট, বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীিত চিহ্নিত হয়নি। বিগত জোট সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক দুর্নীিত-অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও এখন পর্যন্ত বড় কোনো অনিয়ম-দুর্নীিতর ঘটনা চিহ্নিত করা যায়নি।

২০০৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর, বিদ্যুতের পাইকারি দাম ১৬ শতাংশ বাড়ল, ০১-১০-২০০৮ থেকে কার্যকর। সাধারণ গ্রাহক পর্যােয় আপাতত বাড়ছে না। আমার কথা হল পাইকারি দাম বাড়ার সাথে জনগণের সম্পর্ক আছে কারণ জিনিষপত্রের দাম বাড়বে।

২০০৯ সালের ৫ জানুয়ারি প্রথম আলোঃ তারিখ বিদ্যুৎ উৎপাদন-৩,৮৬০ মেগাওয়াট, মোজাহু-০৬-০১-২০০৯। ১০-০৭-২০০৯ তারিখ রাত নয়টায় ৪,১৮২ মেগাওয়াট। ১৮-০৯-২০০৯ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছিল ৪,২৯৬ মেগাওয়াট। ১৪-০৪-২০১০ তারিখ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড হয়েছিল ৪,৬০৬ মেগাওয়াট। চাহিদা ধরা হয় ৫,৩০০ মেগাওয়াট।

২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৫২০০ মেগাওয়াট আর সর্বোচ্চ উৎপাদনক্ষমতা ছিল ৩৬০০ মেগাওয়াট।

এই প্রেক্ষাপটে লোডশেডিংমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছে। প্রথমে বলা হয়েছিল, ২০১১ সালের শেষেই লোডশেডিংমুক্ত হবে। এরপর বলা হয় ২০১২ সালের কথা। এখন তা-ও সম্ভব হচ্ছে না। কবে নাগাদ ওই স্বপ্নপূরণ সম্ভব হতে পারে, জানতে চাইলে বিদ্যুৎসচিব বলেন, ২০১৩ সাল লাগবে। আমি বলব ২০১৪ সালেও লোডশেডিংমুক্ত করবেনা।

২০০৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো: সংসদে প্রশ্নোত্তর দেশের ৪৫ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎসুবিধার মধ্যে রয়েছে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী।

২০০৯ সালের ৭ মার্চ, প্রথম আলো: দুর্বিপাকে বিদ্যুৎ খাত। ঘাটতি হবে দুই হাজার মেগাওয়াট, দৈনিক লোডশেডিং ছয়বার।

২০০৯ সালের ১৭ এপ্রিল, প্রথম আলো: লোডশেডিংয়ের সময়সূচিও ভেঙে পড়েছে। ঢাকায় লোডশেডিংয়ের সব নির্ধািরত সময়সূচী এবং ঢাকার বাইরে অনির্ধািরত নিয়মকানুন সব ভেঙে পড়েছে। ঢাকায় যে এলাকায় পাঁচবার লোডশেডিংয়ের সময়সূচি নির্ধারণ করা আছে, সেখানে হচ্ছে আট থেকে দশবার। প্রতিদিন সর্বোচ্চ চাহিদার সময় তো বটেই, মধ্যরাত, শেষরাত, এমনকি ভোরেও লোডশেডিং থেকে রেহাই পাচ্ছে না গ্রাহকেরা। ঢাকার বাহিরে লোডশেডিংয়ের নির্ধািরত সময়সূচি তৈরি করা হয়নি। তাই যেকোনো সময়, যতবার ইচ্ছা বিদ্যুতের আসা-যাওয়া চলে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় শহরে, প্রায় সব জেলা-উপজেলা সদর ও গ্রামাঞ্চলে মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং জনজীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও উৎপাদন কার্যক্রম বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

২০০৯ সালের ৬ মে, আমাদের সময়: ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত-আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিদ্যুতের জন্য মোট বরাদ্দ ছিল-৮,১৫২.২৫ কোটি টাকা এরমধ্যে ব্যয় হয়েছে-৮,০৬৮.৫৩ কোটি টাকা। এ সময় সরকারিভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে-৮৪০ মেগাওয়াট এবং বেসরকারিভাবে ১২৯০ মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়েছে।

২০০৯ সালের ২৩ জুলাই, প্রথম আলো: আগামী সাড়ে চার বছরের মধ্যে (২০১৪ সাল) ৪৩০০ মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত।

২০০৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর, প্রথম আলো: সারা দেশে বিনামূল্যে দুই কোটি ৬৫ লাখ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বাল্ব দেয়া হবে। বিশ্বব্যাংকের ২৬৫ কোটি টাকা অনুদানসহ প্রায় ২৯৬ কোটি টাকা ব্যয়সাপেক্ষ এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ৩৫০ থেকে ৪০০ মেগাওয়াট বিদুৎ সাশ্রয় হবে বলে সরকারি হিসাবে বলা হয়েছে। একটি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করে এই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা দরকার হয় এবং এর জন্য সময়ও লাগে কয়েক বছর।

২০০৯ সালের ২০ অক্টোবর, আমাদের সময়: ২০১১ সালের মধ্যে লোডশেডিং মুক্ত দেশ উপহার দেয়া সম্ভব। আর ২০১৪ সালেই দেশকে বিদ্যুতে উদ্বৃত্ত করার পরিকল্পনা পিডিপির। আমার বক্তব্য হলো এ কথার অর্থও ফাঁকা হবে।

২০১০ সালের ১ জানুয়ারি, প্রথম আলো: সংসদীয় কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের তথ্য। নতুন ৩৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে এক বছরে।

২০১০ সালের ৬ জানুয়ারি, জনকণ্ঠ পত্রিকা: ৬ জানুয়ারি ক্ষমতাগ্রহণের সময় দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৩,৮৬০ মেগাওয়াট। গত ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সাল নাগাদ তা বৃদ্ধি পেয়ে ৪,২৯৬ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। ২০১০ সালে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৫,৫০০ মেগাওয়াট উল্লেখ করেন।

২০১০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো: সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্ভোধন করেন এবং দুর্নীিতর কারণে বিদ্যুৎ খাত পছিয়ে পড়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন যে, আগামী ২০১৩ সালের মধ্যে ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। আমি বলি তাঁর সরকার এ সময়ের মধ্যে ৩২০০(তিন হাজার দুইশত) মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে না।

২০১০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো: খুলনায় বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বিদ্যুৎকেন্দ্র হবে। ভারত থেকে বিদ্যুৎ আসবে ২০১২ সালে। যৌথভাবে একটি পুরোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র সংস্কার করা হবে।

২০১০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো: বিদ্যুৎ খাত উন্নয়নে ভারতের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকসই। দক্ষিণ এশিয়ার যেকোনো স্থানে বিদ্যুৎকেন্দ্র করা যাবে। ২,৬০০ মেগাওয়াট করবে।

২০১০ সালের ২৯ মার্চ, প্রথম আলো: গভীর খাদে বিদ্যুৎ খাত। প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে চাহিদা বাড়ছে। পুরোনো কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা কমছে।

২০১০ সালের ৩০ মার্চ, প্রথম আলো: নতুন বিদ্যুৎ-সংযোগ বন্ধ। সার কারখানার জন্য বরাদ্ধ গ্যাস ব্যবহার করা হতে পারে বিদ্যুৎ উৎপাদনে।

২০১০ সালের ৩১ মার্চ, প্রথম আলো: জ্বালানি ও বিদ্যুৎ-সংকট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বাংলাদেশের এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় বাধা গ্যাস ও বিদ্যুৎ।

২০১০ সালের ২৬ এপ্রিল, প্রথম আলো: চাঁদপুরে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আনা হবে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০১০ সালের ৭ জুলাই, প্রথম আলো: আগামী ১০ বছরে মানে ২০২০ সালের মধ্যে দেশে ২০ হাজার ৪৭৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য পুননির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য সরকার পূরণ করবে না।

২০১০ সালের ১১ আগষ্ট, প্রথম আলো: বিদ্যুৎ নিয়ে কী হচ্ছে। বিদ্যুৎ নিয়ে সারা দেশে এক বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

২০১০ সালের ১১ আগষ্ট, প্রথম আলো: এফবিসিসিআইয়ের নেতাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রাতারাতি গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। এ সরকারও বিদ্যুৎ-গ্যাস সমস্যার সমাধান করবে না।

২০১০ সালের ১২ আগষ্ট, প্রথম আলো: লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ অবরোধ হরতাল। অনেক আবেদন নিবেদনের পরও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় অতিষ্ঠ মানুষ বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছে।

২০১০ সালের ১৩ আগষ্ট, প্রথম আলো: বিদ্যুতের দাবিতে বিক্ষোভ চলছে। হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা।

২০১০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর, প্রথম আলো: চট্টগ্রামে একগুচ্ছ উন্নয়ন প্রকল্প ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। ২০১৫ সালে সারা দেশে ১১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। জনগণের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে না।

২০১০ সালের ৮ নভেম্বর, প্রথম আলো: কুমিল্লায় তিতাস উপজেলার শোলাকান্দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-৫০ মেগাওয়াট দাউদকান্দি পিকিং বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং বিদ্যুতের খাম্বা বসিয়ে যারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে, বিদ্যুৎ সমস্যা নিয়ে তাদের মুখে সমালোচনা মানায় না।

২০১১ সালের ৪ আগষ্ট, প্রথম আলো: বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড চাহিদা সম্পর্কে বিভ্রান্তি। চাহিদা ও উৎপাদন সম্পর্কে যে তথ্য সরবরাহ করে, তা বিভ্রান্তিকর। গত ১৮-০৭-২০১১ তারিখ সর্বোচ্চ উৎপাদনের রেকর্ড ছিল চার হাজার ৯৩৬ মেগাওয়াট। এর আগে ১২-০৬-২০১১ তারিখ রেকর্ড ছিল চার হাজার ৮৯০ মেগাওয়াট। গত মঙ্গলবার (০২-০৮-২০১১ তারিখ) দিবাগত রাত চারটায় বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে পাঁচ হাজার ২৫ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ এমন একটি শক্তি, যা চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদন করা যায় না। চাহিদার চেয়ে কম উৎপাদিত হলে লোডশেডিং করা হয়। কিন্তু চাহিদার বেশি উৎপাদন করে সেটা কোথাও রাখা যায় না। বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা সাত হাজার ৫০ মেগাওয়াট আর উৎপাদন করা যায় পাঁচ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি থাকে দুই হাজার মেগাওয়াট।

২০১১ সালের ৬ অক্টোবর, প্রথম আলো: বর্তমান সরকারের আমলে ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাস থেকে আজ পর্যন্ত ৪৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য ৪৩টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো। চুক্তিগুলোর মাধ্যমে মোট প্রায় সাড়ে চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। এরই মধ্যে এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে এসেছে।

২০১১ সালের ১ নভেম্বর, দৈনিক জনকন্ঠ: দেশে বিদ্যুত কেন্দ্র ৭০টি, যান্ত্রিক ত্রুটিতে কম উৎপাদন ছাব্বিশটিতে আবার কোন কোনটি একেবারেই বন্ধ।। দৈনিক উৎপাদন কম ২৭শ মেগাওয়াট।। সরকার উদ্বিগ্ন।

২০১১ সালের ৮ ডিসেম্বর, দৈনিক জনকন্ঠ: ২০১১ সালের মধ্যেই ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে।। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা-তৌফিক ই ইলাহী।

২০১১ সালের ৯ ডিসেম্বর, প্রথম আলো: বড় কেন্দ্র চালু হচ্ছে না। তিন বছরে বিদ্যুৎ খাত। প্রথম বছরে পরিকল্পনা। বিদ্যুৎ-সংকট নিরসন সরকারের অগ্রাধিকার হলেও পরিকল্পনা করতেই প্রথম বছর কেটে গেছে। দ্বিতীয় বছরে চুক্তি। ৪৮টি কেন্দ্রের জন্য ৪৬টি চুক্তি। কিছু উৎপাদন বৃদ্ধি। তৃতীয় বছরে উৎপাদন-উৎপাদন বাড়লেও বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ঘাটতি কমেনি। ২০০৯ সাল-সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল-৫২০০ মেগাওয়াট আর সর্বোচ্চ উৎপাদন ছিল ৩৬০০ মেগাওয়াট, ঘাটতি ছিল ১৬০০ মেগাওয়াট। ২০১১ সাল সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ৭৫০০ মেগাওয়াট আর সর্বোচ্চ উৎপাদন ছিল ৫৩০০ মেগাওয়াট, ঘাটতি ছিল ১৭০০ মেগাওয়াট। বড় কেন্দ্রগুলোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনীয় দক্ষতার পরিচয় দিতে পারেনি। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, সিপিডির বিশেষ ফেলো।

২০১২ সালের ৩০ জানুয়ারি, দৈনিক সমকাল: সাড়ে ৪৭ হাজার কি. মি. বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ করবে সরকার এবং ১৮ লাখ গ্রাহককে সংযোগ দিতে-(৩১-০১-২০১২ তারিখ) একনেকে উঠছে প্রকল্প প্রস্তাব।

২০১২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো: গ্রীষ্মে বিদ্যুতের চাহিদা সাড়ে ৬ হাজার মেগাওয়াট ছাড়াবে।