২০১৫ সালের ২ অক্টোবর, প্রথম আলো : ১৩ কোটি ছাড়াল মুঠোফোন গ্রাহক। ইন্টারনেট গ্রাহক বেড়েছে ১৫ লাখ। ইনটারনেট গ্রাহকসংখ্যা-৫ কোটি ২২ লাখ ১৯ হাজার। এর মধ্যে মোবাইল ইনটারনেট গ্রাহক সংখ্যা-৫ কোটি ৭ লাখ ৪৩ হাজার।

২০১৫ সালের ৭ অক্টোবর, প্রথম আলো : দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী কত? সরকারি হিসেবে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৩২ শতাংশ বা ৫ কোটি ২২ লাখ মানুষ বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। কিন্তু জাতিসংঘের দুটি সংস্থা বলছে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৯ দশমিক ৬ শতাংশ বা দেড় কোটির কিছু বেশি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। এ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্টারনেট ব্যবহারে বিশ্বের ১৯৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের সার্বিক অবস্থান ১৬২তম।

২০১৫ সালের ১১ অক্টোবর, প্রথম আলো : দেশে ১ কোটি ৭০ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারী। দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি।

২০১৫ সালের ৮ নভেম্বর, প্রথম আলো: এয়ারটেল গ্রাহক এক কোটি ছাড়াল।

২০১৬ সালের ১১ জানুয়ারি, প্রথম আলো: ৮৭ শতাংশ পরিবারেই মুঠোফোন আছে। বিবিএসের জরিপ। মুঠোফোন শহরে-৯৩.১% পরিবারে, গ্রামে আছে ৮৫% পরিবারে। ৩,১৩,৮৫,১৯৬ পরিবারের অন্তত একজন সদস্যের মুঠোফোন আছে। গ্রামে ১৫ বছরের বেশি বয়সী প্রতি চারজন নারীর মধ্যে তিনজনই মুঠোফোন ব্যবহার করেন। ৯১,৫৮,০০০ ব্যক্তি একবার হলেও ইন্টারনেট ব্যবহার করেছেন। ৭৬,৭০,০০০ ব্যক্তি একবার হলেও কম্পিউটার ব্যবহার করেছেন। জরিপ অনুযায়ী দেশে-৩ কোটি ৫৭ লাখ ৮৭ হাজার পরিবার রয়েছে। ৮৭ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবারের মুঠোফোন আছে। আর টেলিভিশন আছে-৪৬ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবারের ও রেডিও আছে ১৪ শতাংশ বা ৫০ লাখ পরিবারের। ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ৫ দশমিক ২ শতাংশ বা ১৭ লাখ। আর ৯১ লাখ ৫৮ হাজার ব্যক্তি একবার হলেও ইন্টারনেট ব্যবহার করেছেন। তবে কমপিউটার ব্যবহারকারী পরিবারের সংখ্যা ২০ লাখের বেশি বা ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। ৭৬ লাখ ৭০ হাজার ব্যক্তি জীবদ্দশায় একবার হলেও কমপিউটার ব্যবহার করেছেন। দেশে প্রায় ১৩ কোটির বেশি সিম বিক্রি হয়েছে।

২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি, প্রথম আলো: দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এক কোটি ২০ লাখ। ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন: বিশ্বে মুঠোফোনে কম খরচে কথা বলায় দ্বিতীয় বাংলাদেশ।

২০১৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো: ডিজিটাল জ্ঞানের অভাব বাংলাদেশে বড় বাধা। বিশ্ব অর্থনীতিতে মুঠোফোনের অবদান। বর্তমান বিশ্বে মুঠোফোন ব্যবহার করেন মোট জনসংখ্যার ৬৪%। বাংলাদেশে মুঠোফোন ব্যবহার করেন মোট জনসংখ্যার ৪৪%। একক মুঠোফোন ব্যবহারকারী-বিশ্বে:৪৭০ কোটি। বাংলাদেশে: ৭ কোটি। বিশ্বে মুঠোফোন ও টেলিযোগাযোগ খাতের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষ। সরকারের আয় বিশ্বে:৪৩০ বিলিয়ন ডলার আর বাংলাদেশে: ১২,০০০ হাজার কোটি টাকা।

২০১৬ সালের ২০ এপ্রিল, প্রথম আলো: আঙুলের ছাপ ও তথ্য না মেলায় নিবন্ধিত হয়নি ১ কোটি সিম। বিটিআরসির অগ্রগতি প্রতিবেদন। ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত আঙুলের ছাপ পদ্ধতিট ৩৪ লাখ ৬০ হাজার সিম সফলভাবে নিবন্ধিত হয়েছে, যা বর্তমানে চালু থাকা মোট ১৩ কোটি ৮ লাখ সিমের ৪৮ শতাংশ।

২০১৬ সালের ১৭ মে, প্রথম আলো: বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন-বাংলাদেশে ইন্টারনেট পায় না প্রায় ১৫ কোটি মানুষ। বাংলাদেশে প্রায় ১৪ কোটি ৮০ লাখ লোক ইন্টারনেট সুবিধা পান না। ইন্টারনেট সুবিধাবঞ্চিত জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। বিশ্বব্যাংকের ভাষায় এ বিপুলসংখ্যক মানুষকে 'অফলাইন' জনগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ''ওয়াল্র্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট-২০১৬: ডিজিটাল ডিভিডেন্ডস' শীর্ষক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

২০১৬ সালের ১ জুন, প্রথম আলো: চালু থাকা সিম-১৩ কোটি ১৯ লাখ সিমের ৮৬ শতাংশ পুনর্নিববন্ধিত। ৩১-০৫-২০১৬ তারিখ ১১ কোটির ওপরে সিম পুনর্নিববন্ধিত হয়েছে। ২,১৯,০০০০০ সিম নিবন্ধিত হয়নি। (১) গ্রামীণফোনের-৫ কোটি (২) বাংলালিংকের-২ কোটি ৭২ লাখ (৩) রবি আজিয়াটার-২ কোটি ১০ লাখ (৪) এয়ারটেলের-৭২ লাখ (৫) টেলিটকের-২৩ লাখ ও (৬) সিটিসেলের-২ লাক ৫ হাজার।

১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট থেকে ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তান আমল ছিল (২৪ বছর ৪ মাস ৩ তিন) পূর্ব-পাকিস্তানে ছিল পাকিস্তানী শাসন-শোষণ। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং ১৬-১২-১৯৭১ তারিখ বিজয় অর্জন করেন।

১৯৪৭ সালে ২০ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে করাচীতে প্রথম পাকিস্তানের রাজধানী স্থাপিত হয়। পরে ২০০ কোটি টাকা উন্নয়ন খরচ নির্ধারণ করে আইয়ূব খান রাওয়ালপিন্ডিতে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন। পুণরায় ইসলামাবাদে রাজধানী স্থানান্তরিত করে উন্নয়ন খরচ নির্ধারণ করা হয় ১০০ কোটি টাকা। পক্ষান্তরে পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাজধানী বলে খ্যাত ঢাকার উন্নয়নের জন্য খরচ করে মাত্র ২ কোটি টাকা। ১৯৬৮ সালে এহেন বৈষম্যমূলক আচরণে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ঘোষণা করেন-প্রয়োজনে খাজনা, ট্যাক্স প্রদান বন্ধ করা হবে। সভাশেষে তাঁর নেতৃত্ত্বে বিক্ষোভ মিছিল এবং গভর্ণর হাউস ঘেরাও। পুলিশের বাঁধা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে মওলানা ভাসানী র্কতৃক পরদিন ঢাকায় হরতাল।

১৯৪৭ সালে বাংলাদেশে ৫টি চিনির কল ছিল, ২০০৭ সালের মধ্যে ১৭টি চিনির কল আছে।

।শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক কারাবরণ:।

১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর, পাকিস্তান তমুদ্দিন মজলিস গঠিত হয় যার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেম এবং নুরুল হক ভূঁইয়া। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার জন্য যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সে সময় শেখ মুজিব ছিলেন ঢাকার বাহিরে গোপালগঞ্জ শহরে।

১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিম্ন বেতনভুক্ত কর্মচারীদের ধর্মঘটে সমর্থন দেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২৪ এপ্রিল কিছু ছাত্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ছাত্ররা আন্দোলন গড়ে তোলে। ২৫ এপ্রিল, ১৯৪৮ দেশব্যাপী হরতাল আহবান করা হয় ঠিক তার পূর্বে ১৯ এপ্রিল গ্রেফতার হয়ে কারাগারে নীত হন শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন, মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা। এ পার্টি গঠনকালেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না। তাঁকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ১৯৪৯ সালের অক্টোবর মাসে ঢাকা এলে আওয়ামী মুসলিম লীগ জনসভা ও বিক্ষোভ মিছিল বের করে ও গভর্নর হাউসের দিকে মিছিল পরিচালনা করা হয়। উক্ত ঘটনার রেশ ধরে ১৯৫০ সালের ১ জানুয়ারী শেখ মুজিব গ্রেফতার হন।

১৯৪৯ সালের শেষের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারীদের দাবী ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনের সূচনা হয়। সে সময় কেবল ১/-টাকা বেতন বৃদ্ধি ও সংগঠন করার দাবীতে আন্দোলনরত প্রায় ৫০ জন চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারীকে তদানীন্তন মুসলিম লীগ সরকারের নির্দেেশ একতরফা চাকুরীচ্যুত করা হয়। ১৯৪৯ সালে চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারীদের এই দাবীকে সমর্থন ও সাহায্য করার অভিযোগে তৎকালীন ছাত্র নেতা শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ জন ছাত্র নেতাকে বহিস্কার করা হয়। যতদূর শুনা যায় শেখ মুজিবের প্রথম কারাবরণের শুরু হয়। ১৯৪৯ সালের পরেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারীগণ সমিতি গঠনের জন্য উদ্যোগ নিলেও সফল হয়নি। ১৯৬৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী ইউনিয়ন গঠন করা হয়।

১৯৫৪ সালের ১৫ মে আদমজীতে বাঙ্গালী-বিহারী পরিকল্পিত দাঙ্গায় সৃষ্ট ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকার ৩০ মে ৯২(ক) ধারাজারী করে পূর্ব পাকিস্তানে শেরে-বাংলা মন্ত্রিসভা ভেঙ্গে দিয়ে কেন্দ্রীয় শাসন জারী করে। সে সময় আন্দোলনের স্বার্থে আত্মগোপন করার জন্য অন্যান্য নেতারা পরামর্শ দিলেও তিনি শেখ মুজিবুর রহমান বাসায় বসে গ্রেফতার হন।

১৯৫৬ সালে চীন ভ্রমণ করেন শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৫৬ সালে মাও সেতুংয়ের সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমান বঙ্গবন্ধুর বাংলাপ্রীতি-এ. এফ. জি. মহিউদ্দিন(প্রথম আলো-১৩-১১-২০১২ তারিখ)। গণচীনে ৩য় স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের পাশাপাশি আয়োজিত শান্তি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু বাংলায় বক্তৃতা দিয়েছিলেন। এই বক্তৃতা শুনে ভারতবর্ষের বাঙালী ডেলিগেটরা কি খুশি। ভারত থেকে মনোজ বসু বাংলায় বক্তৃতা করেছেন। পূর্ব বাংলার ছাত্ররা জীবন দিয়েছে মাতৃভাষার জন্য-১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। বাংলা পাকিস্তানের সংখ্যাগুরু লোকের ভাষা। আমার বক্তৃতার পরে মনোজ বসু ছুটে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন-''ভাই মুজিব, আজ আমরা দুই দেশের লোক, কিন্তু আমাদের ভাষাকে ভাগ করতে পারেনি। আর পারবেও না। তোমরা বাংলা ভাষাকে জাতীয় মর্যাদা দিতে যে ত্যাগ স্বীকার করেছ-আমরা বাংলা ভাষা ভারতবর্ষের লোকেরাও তার জন্য গর্ব অনুভব করি। বক্তৃতার পর খন্দকার ইলিয়াস তো আমার গলাই 'ছাড়ে না।

১৯৫৮ সালে সামরিক আইন জারী হলে শেখ মুজিব আন্দোলনের ঝামেলা এড়াবার লক্ষ্যে ১২ অক্টোবর ১৯৫৮ সালে গ্রেফতার বরণ করেন। আউয়ুব খান ১৯৬২ সালের ৩০ জানুয়ারি, শহীদ সোহরাওয়ার্দীেক গ্রেফতার করে। উক্ত গ্রেফতার-এর প্রতিবাদে ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ধর্মঘট ও ছাত্রসভা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু আন্দোলন এগিয়ে নেয়ার প্রচেষ্ট না করে শেখ মুজিব ৭ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার বরণ করেন।

১৯৬৫ সালে দেশের পাটকল শ্রমিকসহ সকল শ্রমিক সমাজ আপোষহীন আন্দোলনের সূচনা করে। এমন সময়ে শেখ মুজিব ৮ মে, স্বীয় বাসভবনে গ্রেফতার বরণ করেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালোরাত্রেতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হানাদার পাক বাহিনীর হামলার খবর পূর্বােহ্ন জ্ঞাত হয়েও নিজ বাসভবনে অবস্থান করে স্বেচ্ছায় গ্রেফতার বরণ করেন। ২৫ মার্চ রাতে হামলার খবর বঙ্গবুন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান পূর্বেই অবগত হয়ে তার বাড়ীর দুধের গাভীটি পর্যন্ত অন্যত্র সরিয়ে দেন। তার পরিবার পরিজন (স্ত্রী, কন্যা শেখ হাসিনাসহ) যাতে কোন সমস্যায় না পড়েন পাকিস্তানী শিল্পপতি ইউসুফ হারুন-এর মাধ্যমে সেই ব্যবস্থা করে যান। ফলশ্রুতিতে বেগম মুজিব পুরো সংগ্রামের সময় ১,৫০০/-টাকা হারে মাসিক ভাতা গ্রহণ করেন ও পাক বাহিনীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে জীবনযাপন করেছেন। এমনকি ওই সময় শেখ হাসিনার প্রথম সন্তান নির্বিেঘ্ন ভূমিষ্ট হয়।(ইনকিলাব পত্রিকা থেকে-১০-০৭-২০০৪ সালে)।

২০১০ সালের ১৫ আগষ্ট, প্রথম আলো: ১৯৪৯ সালে ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে আরও কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে ছাত্রত্ব হারিয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। তখন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকেসহ পাঁচজনকে শর্তসাপেক্ষে ছাত্রত্ব রাখার সুযোগ দিয়েছিল। তবে অনমনীয় তরুণ শেখ মুজিবুর রহমান ওই শর্ত মানেননি। জরুরী সিন্ডিকিট সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ. আ. ম. স. আরেফিন সিদ্দিক বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এক ঘন্টা ১০ মিনিট আলোচনার পর কর্তৃপক্ষ বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। সভার সিদ্ধান্তে বলা হয়, আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য শেখ মুজিবুর রহমানের ছাত্রত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তকে আজকের সিন্ডিকেট অগণতান্তিক ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হিসেবে গণ্য করে। সভা মনে করে, কর্মচারীদের আন্দোলনে সমর্থন ও নেত্রত্বদান ছিল শেখ মুজিবুর রহমানের অসাধারণ দূরদর্শী ও জ্ঞানদীপ্ত গণতান্তিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ। এ সভা মনে করে, এ বহিস্কারাদেশ বহু আগেই প্রত্যাহার করা উচিত ছিল। কেটে গেছে ৬১টি বছর। বঙ্গবন্ধু উপাদি পাওয়ার ৪১ বছর পর আর ৩৫তম মৃত্যুবার্ষিকীর একদিন আগে ১৪-০৮-২০১০ তারিখ বঙ্গবন্ধুর বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

২০১৪ সালের ১০ জানুয়ারি, প্রথম আলো: ১৯৩৮ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সতেরো বার জেলে যেতে হয়েছে।

১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি, ফজলুল হক মুসলিম হলে পূর্ববাংলা মুসলিম ছাত্রলীগ গঠিত হয়।

১৯৪৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশ আনসার বাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি, পাকিস্তানের গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার দাবী উত্থাপন ধীরেন্দ্র নাথ দত্তের।

১৯৪৮ সালের ২ মার্চ, রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।

১৯৪৮ সালের ৬ মার্চ, পূর্ববঙ্গ কমিউনিষ্ট পার্টি'র জন্ম।

১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ থেকে প্রতিদিন রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে ঢাকায় বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মিছিল হতে থাকে।

১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ, পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলাভাষাকে সরকারী ভাষার মর্যাদা না দেয়ায় পূর্ব পাকিস্তানে ভাষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকে সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়।

১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ, বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে সারা পূর্ববাংলায় ছাত্র ধর্মঘট ও প্রচন্ড বিক্ষোভ হয়। সমগ্র পূর্ববাংলায় সর্বপ্রথম সফল সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়।

১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ, দেশভাগের পর পূর্ববঙ্গে প্রথম হরতাল। ১১ মার্চের এ ধর্মঘট ভাষা আন্দোলনকে সংহত করেছিল।

১৯৪৮ সালের ১৪ মার্চ, মূলত ভাষা আন্দোলন শুরু হয়েছিল।

১৯৪৮ সালের ১৫ মার্চ, রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে প্রাদেশিক প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন সকল দাবীদাওয়া মেনে নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

১৯৪৮ সালের ১৯ মার্চ, কায়েদে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ'র পূর্ববঙ্গ সফর।

১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ, রমনার রেসকোর্স ময়দানে কায়েদে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্‌ রাষ্ট্রভাষা প্রসঙ্গে বলেছিলেন "উর্দু, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা'' শ্রোতাদের লক্ষ কন্ঠে সাথে সাথে ধ্বনিত হ'ল 'না- না- না'।

১৯৪৮ সালের মার্চে জিন্নাহ ঢাকা সফরে এসে ২১ মার্চ, জনসভায় এবং ২৪ মার্চ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন উৎসবে প্রদত্ত ভাষণে উর্দুেক পাকিস্তানের এক মাত্র রাষ্ট্রভাষা বলে ঘোষণা করেন।

১৯৪৮ সালের এপ্রিল, পূর্ববাংলা ব্যবস্থাপক সভায় প্রাদেশিক সরকারের কাজে বাংলাভাষা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

১৯৪৮ সালের ৭ মে, গঠন করা হয় ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স পাকিস্তান পরে নাম বদলে রাখা হয় ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মাসের পর "ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ''।

১৯৪৮ সালে কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ হয়। দ্বিতীয়বার ১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হয়। তৃতীয়বার ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর, আবার বাংলাদেশের স্বাধীনতা নিয়ে যুদ্ধ হয় ভারত-পাকিস্তানের এবং ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর, বাংলাদেশের বিজয় অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৪৯ সালের ১১ মার্চ, বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে পূর্ববাংলায় রাষ্ট্রভাষা দিবস পালিত হয়।

১৯৪৯ সালের ১১ মার্চ, নোয়াখালীর হামিদুল হক চৌধুরী ''পাকিস্তান অবজারভার'' (পরে বাংলাদেশ অবজারভার) ইংরেজী পত্রিকা প্রকাশিত হয়।

১৯৪৯ সালের ১৬ মার্চ, বিচারপতি এ. এস. এম. আকরাম পূর্ব বাংলার ভারপ্রাপ্ত গভর্নর নিযুক্ত হন।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন, আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৪৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোয়িশনের প্রতিষ্ঠাকাল।

১৯৪৯ সালের ১৩ অক্টোবর, মওলানা ভাসানী জননিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার হলেন।

১৯৪৯ সালে মওলানা ভাসানী পূর্ব-বাংলা রেলওয়ে এমপস্নয়িজ লীগের (ইপরেল) সভাপতি।

১৯৫০ সালের ৫ জানুয়ারি, ইলা মিত্রের নেতৃত্বে নাচোল কৃষক বিদ্রোহের সূচনা হয়।

১৯৫০ সালের ২৪ এপ্রিল, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের খাপড়া ওয়ার্ডের ভয়াবহ হত্যাকান্ডে ৭ জন রাজবন্দী শহীদ হলেন এবং ৪০ জন রাজবন্দী আহত হলেন। (ভূমিহীন কৃষকদের ভূমির দাবিতে 'লাঙল যার, জমি তার' আন্দোলন, তেভাগা আন্দোলন, বিপস্নবী কৃষক নেত্রী ইলা মিত্রের নেতৃত্বে নাচোল কৃষক বিদ্রোহ, শ্রমিক আন্দোলন ইত্যাদি সমগ্র দেশে ব্যাপকভাবে বিস্তৃতি লাভ করতে থাকে।)