২০১৪ সালের ২১ অক্টোবর, প্রথম আলো : জরিপের তথ্য-দেশে ত্রিশোধ্র্ব সাত লাখ মানুষ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ২৮৬ পৃষ্ঠা পর্যন্ত :

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ, চট্টগ্রাম কালুরঘাটস্থিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস।

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল, মেহেরপুরে (মুজিব নগরে) বাংলাদেশের স্বাধীনতা সনদ ঘোষিত হয়।

১৯৭১ সালের ১৬ এপ্রিল, বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল শহীদ হন।

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়। মুজিবনগরকে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাজধানী করা হয়।

১৯৭১ সলের ১৭ এপ্রিল, কুষ্টিয়া জেলার মুজিবনগরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে প্রথম বিপস্নবী সরকারের মন্ত্রিপরিষদ শপথ গ্রহণ করেন।

।১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনের ১১টি সেক্টর:।

ক্রমিকসেক্টরদায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডারএলাকা
১নং সেক্টরমেজর জিয়াউর রহমান (এপ্রিল-জুন), মেজরচট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং ফেনী নদী পর্যন্ত
রফিক(জুন-ডিসেম্বর)
২নং সেক্টরমেজর খালেদ মোশাররফ (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর),নেয়াখালী, কুমিল্লা, আখাউড়া-ভৈরব এবং ঢাকা
মেজর এটিএম হায়দার (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর)জেলার ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ
৩নং সেক্টরমেজর শফিউল্লা(এপ্রিল-সেপ্টেম্বর, মেজরআখাউড়া-ভৈরব রেললাইন থেকে পূর্ব দিকে কুমিল্লা জেলার
নুরুজ্জামান (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর)অংশ, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ও ঢাকা জেলার অংশবিশেষ
৪নং সেক্টরমেজর সি. আর. দত্তসিলেটের পূর্বঞ্চাল, খোয়াই- সায়েস্তাগঞ্জ, রেললাইন থেকে পূর্ব-উত্তর দিকে
সিলেট-ডাউকি সড়ক
৫নং সেক্টরমেজর মীর শওকত আলীসিলেটের পশ্চিম এলাকা, সিলেট-ডাউকি সড়ক থেকে সুনামগঞ্জ, এবং বৃহত্তর
ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী অঞ্চল
৬নং সেক্টরউইং কমান্ডার আবুলব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী অঞ্চল ব্যতীত সমগ্র রংপুর জেলা ও ঠাকুরগাঁও
বাশার
৭নং সেক্টরমেজর কাজী নুরুজ্জামানসমগ্র রাজশাহী, ঠাকুরগাঁও ছাড়া দিনাজপুরের অবশিষ্ট অংশ এবং ব্রহ্মপুত্র
নদের তীরবর্তী এলাকা ব্যতীত সমগ্র বগুড়া ও পাবনা জেলা
৮নং সেক্টরমেজর আর ওসমান চৌধুরী (এপ্রিল-আগষ্ট)সমগ্র কুষ্টিয়া ও যশোর জেলা, ফরিদপুরের অংশবিশেষ
মেজর এম.এ. মঞ্জুর (আগষ্ট-ডিসেম্বর)এবং দৌলতপুর-সাতক্ষিরা সড়ক পর্যন্ত খুলনা জেলার
এলাকা
৯নং সেক্টরমেজর আব্দুল জলিল (এপ্রিল-ডিসেম্বর) মেজরসাতক্ষীরা-দৌলতপুর সড়কসহ খুলনা জেলার সমগ্র
এম.এ. মঞ্জুর (অতিরিক্ত দায়িত্ব)দক্ষিণাঞ্চল এবং বৃহত্তর বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা
১০নংমুক্তিবাহিনীর ট্রেনিংপ্রাপ্ত নৌ-কমান্ডারগণঅভ্যন্তরীণ নৌপথ ও সমুদ্র উপকুলীয় অঞ্চল-চট্টগ্রাম ও
সেক্টরচালনা বন্দর
১১নংমেজর আবু তাহের (এপ্রিল-৩ নভেম্বর) ফ্লাইটকিশোরগঞ্জ ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ
সেক্টরলে.এম. হামিদুল্লা (৩ নভেম্বর থেকে
ডিসেম্বর পর্যন্ত)

১৯৭১ সালের ৮ এপ্রিল, প্রবাসে প্রথম বাঙালি বিদ্রোহী দল (১) আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী (২) বদিউল আলম (৩) আহসানউল্লাহ (৪) আবদুল রকিব মিয়া (৫) আবিদুর রহমান (৬) মোঃ রহমতউল্লাহ (৭) সৈয়দ মোশাররফ হোসেন ও (৮) আমিনউল্লাহ শেখ। এ আটজন ফরাসি থেকে পাকিস্তানি ডিজেল ইলেকট্রিক চালিত সাবমেরিন ১৯৭১। এ আটজনের বিদ্রোহী দলটি ফরাসি থেকে পালিয়ে বোম্বে আসার বিমানটিতে উঠে বোম্বে বিমানবন্দরের মাটিতে পা রাখে। তাঁদের মধ্যে আবদুল রকিব মিয়া শত্রুর জাহাজে মাইন লাগাতে যেয়ে মারা যান অক্টোবরে। পরবর্তীেত গড়ে উঠেছিল মুক্তিযুদ্ধের নৌকমান্ডোর দল।

১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল, সখীপুর উপজেলার কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন, সা'দত কলেজের তিনজন ও সখীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের চারজন ছাত্র প্রথম মুক্তিবাহিনী গঠন করে যুদ্ধে জাঁপিয়ে পড়েন।

১৯৭১ সালের ২০ মে, পূর্ব-পাকিস্তানের অফিস-আদালতের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে যোগদানের নির্দেশ।

১৯৭১ সালের ২৫ মে, মুজিবনগর থেকে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান সস্প্রচার শুরু।

১৯৭১ সালে পাক বাহিনী মওলানা ভাসানীর সন্তোষের বাড়ি পুড়িয়ে দিলে তিনি একটি নৌকা করে নদীপথে ভারতে চলে গেলেন।

১৯৭১ সালের ১ জুন, প্রবাসী সরকার ও ১৯৭১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর, মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ৮-সদস্যবিশিষ্ট 'সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটি' গঠন করে।

১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই, প্রশাসনের সুবিধার্থে মুজিবনগর সরকার সমগ্র দেশকে ৯টি অঞ্চলে ভাগ করে।

১৯৭১ সালের ১ আগস্ট, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থেন নিউইয়র্ক শহরে 'দি কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৭১ সালের ১৩ আগস্ট, নওগাঁর সীমান্তবর্তী ধামইরহাট উপজেলার কুলফৎপুর গ্রামে পাকিস্তানি হানাদারের তান্ডবে নিরীহ ১৪ কৃষক হত্যা দিবস।

১৯৭১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর, কিশোগঞ্জের নিকলী উপজেলার কেন্দ্রীয় শ্মশানঘাটে পালিত হলো গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ঐদিন ৩৪ জনকে হত্যা করা হয়েছিল। নিকলী শহীদ স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে গতকাল ৪৪ বছর পর ২১-০৯-২০১৫ তারিখ সকাল আটটার দিকে সোইয়জনী নদীর পাড়ে শ্মশানঘাটের শহীদ স্মৃতি নামফলককে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

১৯৭১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর, ভারতের নাগাল্যান্ডের পাহাড়ি এলাকা ডিমাপুর। উঁচু পাহাড়ঘেরা এ জায়গায় দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে ব্যবহৃত একটি রানওয়ে পড়ে ছিল। তিন দিকে পাহাড়ঘেরা দুর্গম এই নির্জন জায়গায় জড়ো হয়েছিলেন বাংলাদেশের কিছু মুক্তিপাগল মানুষ। এ রানওয়েতে দাঁড়িয়ে সেদিন তাঁরা স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি বিমানবাহিনীর। ভারত থেকে উপহার পাওয়া তিনটি বিমান। তিনটি বিমানের একটি ছিল ডাকোটা বিমান (ডিসি-৩)। আরেকটি ছিল অ্যালুয়েট হেলিকপ্টার। ঢাকা-চট্টগ্রামের কয়েকটি ফ্লাইট চালানোর পর একটি ট্রেনিং ফ্লাইটে গিয়ে ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয় ডাকোটা বিমানটি। অটার বিমানটি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। অ্যালুয়েট হেলিকপ্টারটিকে ডাকোটা বিমানেরই পরিনতি বরণ করতে হয়েছিল।

১৯৭১ সালের ২৪ অক্টোবর, বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের স্বীকৃতির জন্য সারা বিশ্বের কাছে আবেদন জানান।

১৯৭১ সালের ২৪ অক্টোবর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হল থেকে রসায়ন বিভাগের ছাত্র বর্তমানে জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক ড. হুমায়ূন আহমেদসহ দু'জন ছাত্রকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ধরে নিয়ে গিয়েছিল।

১৯৭১ সালের ১০ নভেম্বর, বিলোনিয়ায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রথম আত্মসমর্পণ। বিলোনিয়া এলাকাটি ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলায়। ওপারে ভারতের ত্রিপুরা। বর্তমানে এটি একটি স্থলবন্দর। ওপারের জায়গাটির নামও বিলোনিয়া। ৫ নভেম্বর এ যুদ্ধ হওয়া কথা ছিল কিন্তু মুষলধারে বৃষ্টির কারণে ৪ঠা নভেম্বর যুদ্ধ বেধে যায়। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ২০০ জন হতাহত হয়। দুজন অফিসারসহ ৭২ পাকিস্তানি সৈনিক আত্মসমর্পণ করে মুক্তিবাহিনীর কাছে। এ যুদ্ধে যৌথ বাহিনীর ১৩৭ জনশহীদ হন।

১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর, এ দিনকে 'বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী দিবস' পালন করা হয়।

১৯৭১ সালের ২৯ নভেম্বর, মুক্তিযুদ্ধে এদেশের মুক্তিকামী মানুষের চূড়ান্ত বিজয় অর্জেনর মাত্র দু'সপ্তাহ আগে তৎকালীন ঢাকা জেলার নারায়নগঞ্জ মহকুমার বক্তাবলী পরগনায় পাক হানাদার বাহিনীর অতর্কিত আক্রমণে একদিনে প্রায় ১৩৯(একশত উনচল্লিশ) জন নিরস্ত্র মানুষ প্রাণ হারায়। জ্বালিয়ে দেয় ২২টি গ্রাম।

১৯৭১-এর নভেম্বর মাসে ভারত সরকারের কাছ থেকে শরণার্থী সংক্রান্ত সর্বেশষ হিসাবটি থেকে দেখা যায়, শিবিরে আশ্রিত কিংবা বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়স্বজনের কাছে আশ্রয়প্রার্থী হয়েছিল এমন মোট ৯৫,৮৭,৮৯৭ জন শরণার্থী ভারতবর্ষে প্রবেশ করেছিল।

১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তান ভারত আক্রমণ করে।

১৯৭১ সালের ৫ ডিসেম্বর, ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ কমান্ড গঠন করে 'মিত্র বাহিনী' নাম রাখা হয়।

১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর, স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়।

১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৭ম নৌ-বহর পাকিস্তানের পক্ষে বে-অফ-বেঙ্গলে পাঠানোর জন্য তৈরী হয়েছিল।

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আলবদর বাহিনী তাদের নীলনকশা অনুযায়ী অগণিত বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করে। শহীদ হন এ দেশের বুদ্ধিজীবীরা। তাই এদিনটিকে প্রতি বছর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর, সারাদেশে বুদ্ধিজীবী হত্যা করা হয়: (১) শিক্ষক-৯৯১ জন, (২) সাংবাদিক-১৩ জন, (৩) চিকিৎসক-৪৯ জন, (৪) আইনজীবী-৪২ জন এবং (৫) লেখক-১৬ জন। (আমাদের সময় পত্রিকার রিপোর্ট: ১৫-১২-২০১০ তারিখ)।

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর, মহানন্দা নদীর চরে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর শহীদ হন।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যা করার স্থান তথা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ করতে সারা দেশে ১৭৬টি বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মােণর সিদ্ধান্ত (০৮-১০-২০১০ তারিখ)। ২০১৩ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। এ তারিখে জেনারেল নিয়াজি ৯৩ হাজার সৈন্য নিয়ে 'রেসকোর্স ময়দানে' জেনারেল অরোরার কাছে আত্মসমর্পণ করেন। (পরিসংখ্যানে মুক্তিযুদ্ধ: মুক্তিবাহিনীর সদস্য এক লাখ ৭৫ হাজার, ভারতীয় বাহিনীর সদস্য দুই লাখ ৫০ হাজার, পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ৯০ হাজার-পাকিস্তানী আধা-সামরিক বাহিনী-দুই লাখ ৫০ হাজার। মৃত্যু ও ক্ষতি: বাংলাদেশি যোদ্ধা-৩০ হাজার, বাংলাদেশি নিরস্ত্র মানুষ-৩০ লাখ, ভারতীয় সৈনিক-(পত্রিকায় দেয়া আছে ১,৪২৫ জন) হবে ১১ হাজার ৪২৫, পাকিস্তানি সৈনিক-৮ হাজার, যুদ্ধবন্দী-পাকিস্তানি সৈনিক ও নাগরিক মোট ৯১ হাজার। শরণার্তী-ভারতে গমন প্রায় এক কোটি, ফেরত-৯০ লাখ (ভারতের দাবি)। তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও উইকিপিডিয়া।

১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারি, স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সমর্পণ।

১৯৭২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৭২ সালে সরকার মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করে। এ সময় তাদের ২২টি লাভজনক প্রতিষ্ঠান দেয়া হয়েছিল। পরে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২টিতে। ১৯৭২ থেকে ২৮-১২-২০১০ তারিখ পর্যন্ত ৩৯ বছরে ৩২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চালু আছে তিনটি। এর মধ্যে লাভজনক একটি।

১৯৭৬ সালের ২১ জুলাই, মুক্তিযোদ্ধা কর্ণেল আবু তাহেরের ফাঁসি কার্যকর।

২০০৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর, ঠাকুরগাঁও থেকে জেলা সংবাদদাতা: স্বাধীনতার ৩৪-বছর পর শুক্রবার সকালে ১৬ ডিসেম্বর, বিজয় দিবসের দিন ঠাকুরগাঁওয়ের একজন মুক্তিযোদ্ধার শরীরের মেরুদন্ডে পাকসেনার একটি বুলেটের অস্থিত্ব পাওয়া গেছে।

২০০৬ সালের ১৯ এপ্রিল, সংসদ রিপোর্টার: মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বেশষ পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরীতে জাতীয় কমিটি এ পর্যন্ত ১ লাখ ৯৯ হাজার ১৭৯ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম অনুমোদন।

২০০৬ সালের ৮ মে, সংসদ রিপের্টার: দেশে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ৩-লাখ ৮২ হাজার ৭৭০ জন। এমধ্যে ১ লাখ ৯৩ হাজারের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। বাকি ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭৭০ জনের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া চলছে। মোট মুক্তিযোদ্ধারদের মধ্যে ৭০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে ভাতা দেয়া হচ্ছে।

২০০৮ সালের ২৯ মার্চ, সাংবাদিকদের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া ভারতের সেনাবাহিনীর সাবেক লে. জেনারেল জে. এফ. আর. জ্যাকব বলেছেন, জেনারেল নিয়াজির ঘোর আপত্তি সত্ত্বেও ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশ্যে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পেণর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। বাংলাদেশে সফররত জ্যাকব স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেওয়া ভারতের ১০ জেনারেলের একটি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি ১৯৭১ সালে 'আত্মসমর্পেণর দলিল'-এর খসড়া তৈরি করেন এবং বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নামে পরিচিত তৎকালীন 'রেসকোর্স ময়দানে' পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

২০০৯ সালের ১৮ মার্চ, প্রথম আলো: ৪৮ জেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপেস্নক্স হচ্ছে। অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধদের মাসিক ভাতা ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ভাতা মাসে ১৫০০ টাকা করা হচ্ছে। ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা আরও ৫০ হাজার বাড়িয়ে দেড় লাখ করারও পরিকল্পনা করা হয়েছে।

২০০৯ সালের ৪ এপ্রিল, প্রথম আলো: মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এ. বি. তাজুল ইসলাম ০৩-০৪-২০০৯ তারিখ শুক্রবার মেহেরপুরের ঐতিহাসিক মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বাংলাদেশের মানচিত্র ও মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শেনর সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন। মুক্তিযুদ্ধে সব স্থানে রাজাকাররা খারাপ কাজ করেনি। আমার গফরগাঁওয়ে আমি যখন ব্রিজ ভাঙি, তখন রাজাকাররা আমাকে সহযোগিতা করেছে। সে ক্ষেত্রে অনেক স্থানে রাজাকাররা যেমন মুক্তিযুদ্ধে দেশবিরোধী কাজে জড়িত ছিল, তেমনি অনেক রাজাকার মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতাও করেছে। আসলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে।

২০০৯ সালের ৮ এপ্রিল, প্রথম আলো: প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এ. বি. তাজুল ইসলামের নির্দেেশ মেহেরপুরের মুজিবনগরে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘরে নির্মিত প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাস্কর্যিট ভেঙে ফেলা হয়েছে।

২০০৯ সালের ৫ জুলাই, প্রথম আলো: ষষ্ঠবারের মতো মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা হচ্ছে। আগের পাঁচ তালিকায় পাঁচ ধরনের সংখ্যা। জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭২ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো তালিকা করা হয়নি। ১৯৮৬ সালে করা জাতীয় তালিকা অনুসারে দেশে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা এক লাখ দুই হাজার ৪৫৮ জন। ১৯৮৮ সালে মুকিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের করা তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৬৯ হাজার ৮৩৩ জন। বিএনপি সরকারের সময় ১৯৯৪ সালে ভোটারসূচক তালিকা অনুসারে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৮৬ হাজার। ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পাঁচ বছর ধরে প্রণীত তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা হয় এক লাখ ৮৬ হাজার ৭৯০ জন। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার বেড়ে হয় দুই লাখ ১০ হাজার ৫৮১ জন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এ. বি. তাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নিয়ে বিভিন্ন সময় নোংরা দলীয়করণ হয়েছে। অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে একাত্তরে দেশেই ছিলেন না এমন লোককেও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তালিকাভুক্ত, বঙ্গবন্ধুর সই করা সনদ আছে-এমন ব্যক্তিকেও বিএনপি সরকার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। এ কারণেই এবার নতুন করে তালিকা করার উদ্যেগ নেওয়া হয়েছে।

২০০৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর, প্রথম আলো: ক্যাপ্টেন তাজের ওপর সাংসদের বাজ! যেহেতু ওই সময় যুদ্ধটা সামরিক বাহিনীর দ্বারাই পরিচালিত হয়েছে...। 'রাজনৈতিক নেতৃত্বের হুকুমে .... আরও জোরে হইচই। আমাকে শেষ করতে দেন। কিন্তু তিনি আর শেষ করতে পারেননি। বসে পড়তে হলো মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এ. বি. তাজুল ইসলাম (তরু)। প্রতিমন্ত্রী ফ্লোর নিয়ে তাঁর আগের বক্তব্য থেকে সরে এসে বলেন, 'রাজনৈতিক নেতৃত্বই মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছে। এটি ছিল একটি রাজনৈতিক যুদ্ধ।' দেশে ১৬২ জন নারী মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন।