২০০৪ সালের ১০ মার্চ, ইনকিলাব পত্রিকার রিপোর্ট অনুসারে: আকাশে শ্বাসরুদ্ধকর ২৭ মিনিট-জংলী বিড়ালের আক্রমণে পাইলট আহত=ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা। বাংলাদেশ বিমানের ইতিহাসে তো নয়ই, বিশ্বের কোথাও এ ধরনের ঘটনা নজিরবিহীন। গতকাল ০৯-০৩-২০০৪ তারিখ(মঙ্গলবার) সকাল ৯টা ২৪-মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে সিলেট ওসমানী আন্তর্জািতক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে ৮৫ জন যাত্রী নিয়ে।
২০০৪ সালের ৯ অক্টোবর, এ.টি.এম. হায়দার/সিরাজুল ইসলাম: সিলেটে এফ-২৮ বিমান রানওয়ে থেকে ছিটকে খালে-৮২ জন যাত্রীর সবাই কম-বেশী আহত।
২০০৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি, উমর ফারুক আলহাদী: ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বিমানের জন্য ১৩টি উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব চূড়ান্ত-কোটি কোটি টাকা লুটপাটের আয়োজন।
২০০৬ সালের ১৪ অক্টোবর, উমর ফারুক আলহাদী: জোট সরকারের ৫ বছর। বিমানে লুটপাট: লোকসান আড়াই হাজার কোটি টাকা। মন্ত্রী-এমপিসহ সরকারী কর্মকর্তােদর কাছে পাওনা ৫৪ কোটি টাকা।
২০০৮ সালের ১৬ মার্চ, নিজস্ব প্রতিবেদক-বিমানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ক্রয়। আটটি নতুন উড়োজাহাজ কিনতে বোয়িংয়ের সঙ্গে সমঝোতা সই। আটটি উড়োজাহাজের মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইধার এবং চারটি বোয়িং ৭৮৭-৮ সিরিজের। এর চারটি ২০১৩ সালে এবং চারটি ২০১৭ সালে বিমানবহরে যুক্ত হবে। মূল্য ৮,৮৫৫ কোটি টাকায় এ উড়োজাহাজ কেনা হবে।
২০০৯ সালের ২০ এপ্রিল, প্রথম আলো: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিমানে ১২৮ কোটি টাকার অনিয়ম।
২০০৯ সালের ৭ মে, প্রথম আলো: সংসদীয় কমিটির সভার তথ্য-৩৮ বছরে বিমানের লোকসান ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা।
২০০৯ সালের ৯ অক্টোবর, সংসদীয় উপকমিটির সভায় তথ্য: উড়োজাহাজ কেনা ও মেরামতের নামে ১৭ বছরে ৭০০ কোটি টাকা অপচয় হয়।
২০১০ সালের ১৭ জুলাই, প্রথম আলো: বোয়িংয়ের তথ্য: ২০২৯ সালের মধ্যে বিশ্বে ৪০ হাজার বিমান দরকার হবে।
২০১২ সালের ২৬ জুন, প্রথম আলো: হাবিবুর মোল্লার জবাবে বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী ফারুক খান বলেন, বিগত ৪০ বছরের মধ্যে বিমান ১৭ বছর লাভ করেছে, লোকসান দিয়েছে ২৩ বছর।
পুলিশের আইজিবৃন্দের নাম ও কার্যকাল:
| এম. এ. খালেক | ১৬.১২.১৯৭১-২৩.,০৪.১৯৭৩ |
| এ. রহিম | ২৩.০৪.১৯৭৩-৩১.১২.১৯৭৩ |
| এ. এইচ. নুরুল ইসলাম | ৩১.১২.১৯৭৩-২১.১১.১৯৭৫ |
| হুসাইন আহমেদ | ২১.১২.১৯৭৫-২৬.০৮.১৯৭৮ |
| এ.বি.এম.জি. কিবরিয়া | ২৬.০৮.১৯৭৮-০৭.০২.১৯৮২ |
| এম.এম. আর. খান | ০৮.০২.১৯৮২-৩১.০১.১৯৮৪ |
| ই.এ. চৌধুরী | ০১০.০২.১৯৮২-৩০.১২.১৯৮৫ |
| মোঃ হাবিবুর রহমান | ৩০.১২.১৯৮৫-০৯.০১.১৯৮৬ |
| এ. আর. খন্দকার | ০৯.০১.১৯৮৬-২৮.০২.১৯৯০ |
| তৈয়ব উদ্দিন আহমদ | ২৮.০২.১৯৯০-২৮.০২.১৯৯১ |
| এ. এম. চৌধুরী | ২৮.০২.১৯৯১-২০.০৭.১৯৯১ |
| তৈয়ব উদ্দিন আহমদ | ২০.০৭.১৯৯১-১৬.১০.১৯৯১ |
| এম. এনামুল হক | ১৬.১০.১৯৯১-০৮.০৭.১৯৯২ |
| এ.এস.এম. শাহজাহান | ০৮.০৭.১৯৯২-২২.০৪.১৯৯৬ |
| মোঃ আজিজুর রহমান | ২২.০৪.১৯৯৬-১২.১১.১৯৯৭ |
| ইসমাইল হোসেন | ১৩.১১.১৯৯৭-২৭.০১.১৯৯৮ |
| এ. ওয়াই. বি. আই. সিদ্দিকী | ২৭.০১.১৯৯৮-০৬.০৬.২০০০ |
| মুহাম্মদ নুরুল হুদা | ০৭.০৬.২০০০-০৫.১১.২০০১ |
| মোদাব্বির হোসেন চৌধুরী | ০৫.১১.২০০১-২২.০৪.২০০৪ |
| শহুদুল হক | ২২.০৪.২০০৪-১৫.১২.২০০৪ |
| মোঃ আশরাফুল হুদা | ১৫.১২.২০০৪-০৭.০৪.২০০৫ |
| মোঃ হাদিস যউদ্দিন | ০৭.০৪.২০০৫-০৭.০৫.২০০৫ |
| আবদুল কাইয়ুম | ০৭.০৫.২০০৫-০৫.০৭.২০০৫ |
| আনোয়ারুল ইকবাল | ০৬.০৭.২০০৫-০২.১১.২০০৬ |
| মোহাম্মদ খোদা বকস চৌধুরী | ০২.১১.২০০৬-৩০.০১.২০০৭ |
| নূর মোহাম্মদ | ৩০.০১.২০০৭-০১.১০.২০১০ |
| হাসান মাহমুদ খন্দকার | ০১.১০.২০১০-৩১-১২-২০১৪ |
| এ. কে. এম. শহীদুল হক | ৩১-১২-২০১৫-বর্তমান |
।বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসমুহের নাম:।
| আ. ন. ম. হামিদুল্লাহ | ১৮.০১.১৯৭২-১৭.১১.১৯৭৪ |
| এ. কে. এম. আহমেদ | ১৮.১১.১৯৭৪-১৩.০৭.১৯৭৬ |
| এম. নুরুল ইসলাম | ১৪.০৭.১৯৭৬-১২.০৪.১৯৮৭ |
| শেগুফতা বখত চৌধুরী | ১৩.০৪.১৯৮৭-১৯.১২.১৯৯২ |
| মোঃ খোরশেদ আলম | ২০.১২.১৯৯২-২০.১১.১৯৯৬ |
| লুৎফর রহমান সরকার | ২১.১১.১৯৯৬-০৯.১১.১৯৯৮ |
| ড. ফরাসউদ্দীন | ২২.১১.১৯৯৮-নভেম্বর, ২০০১ |
| ড. ফখরুদ্দিন আহম্মেদ | নভেম্বর, ২০০১-৩০.০৪.২০০৫ |
| ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ | ০২.০৫.২০০৫-৩০.০৪.২০০৯ |
| ড. আতিউর রহমান | ০১.০৫.২০০৯-১৫-০৩-২০১৬ |
| মোঃ ফজলে কবির(সাবেক সচিব) | ২০-০৩-২০১৬ তারিখ থেকে |
।বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতিগণ: ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে--।
| আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম | ১২.০১.১৯৭২-০৬.১১.১৯৭৫ |
| সৈয়দ এ.বি. মাহমুদ হোসেন | ০৭.১১.১৯৭৫-০১.০২.১৯৭৮ |
| কামালউদ্দিন হোসেন | ০২.০২.১৯৭৮-১২.০৪.১৯৮২ |
| এফ. কে. এম. আব্দুল মুনীব | ১৩.০৪.১৯৮২-৩০.১১.১৯৮৯ |
| বদরুল হায়দার চৌধুরী | ০১.১২.১৯৮৯-৩১.১২.১৯৮৯ |
| শাহাবুদ্দিন আহমদ | ১৪.০১.১৯৯০-০১.০২.১৯৯৫ |
| মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান | ০১.০২.১৯৯৫-৩০.০৪.১৯৯৫ |
| এ. টি. এম. আফজাল | ০১.০৫.১৯৯৫-০১.০৬.১৯৯৯ |
| মুস্তফা কামাল | ০১.০৬.১৯৯৯-৩১.১২.১৯৯৯ |
| লতিফুর রহমান | ০১.০১.২০০০-২৮.০২.২০০১ |
| মাহমুদুল আমিন চৌধুরী | ২৮.০২.২০০১-১৮.০৬.২০০২ |
| মাইনুর রেজা চৌধুরী | ১৯.০৬.২০০২-২২.০৬.২০০৩ |
| খন্দকার মাহমুদুর হাসান | ২৩.০৬.২০০৩-২৬.০১.২০০৪ |
| সৈয়দ জে. আর. মোদাচ্ছির হোসেন | ২৭.০১.২০০৪-২৮.০২.২০০৭ |
| মোঃ রুহুল আমিন | ০১.০৩.২০০৭-৩১.০৫.২০০৮ |
| এম.এম. রুহুল আমিন | ০১.০৬.২০০৮-২২.১২.২০০৯ |
| মোঃ তাফাজ্জাল ইসলাম | ২৩.১২.২০০৯-০৭.০২.২০১০ |
| মোঃ ফজলুল করিম | ০৮.০২.২০১০-১৮.০৫.২০১০ |
| এ. বি. এম. খায়রুল হক | ১৮.০৫.২০১০-১৮-০৫-২০১১ |
| মোঃ মোজাম্মেল হোসেন | ১৮.০৫.২০১১-১৭.০১.২০১৫ |
| সুরেন্দ্র কুমার সিনহা | ১৭-০১-২০১৫-৩১-০১-২০১৮ |
।বাংলাদেশের নৌবাহিনীর প্রধানগণ:।
| ক্যাপ্টেন নুরুল হক | ৬ নভেম্বর, ১৯৭৩ |
| রিয়ার এ্যাডসিরাল মোশাররফ হোসেন খান | ৭ নভেমম্বর,১৯৭৩-৩ নভেম্বর, ১৯৭৯ |
| রিয়ার এ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান | ৪ নভেম্বর, ১৯৭৯-৬ আগস্ট, ১৯৮৪ |
| রিয়ার এ্যাডমিরাল সুলতান আহমেদ | ৬ আগস্ট, ১৯৮৪-১৪ আগস্ট, ১৯৯০ |
| রিয়ার এ্যাডমিরাল আমির আহমেদ মোস্তফা | ১৫ আগস্ট, ১৯৯০-২ মে, ১৯৯১ |
| রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ মোহাইমিনুল ইসলাম | ৪ জুন, ১৯৯১-৩ জুন, ১৯৯৫ |
| রিয়ার এ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম | ৪ জুন, ১৯৯৫-৩ জুন, ১৯৯৯ |
| রিয়ার এ্যাডমিরাল আবু তাহের | ৪ জুন, ১৯৯৯-৩ জুন, ২০০২ |
| রিয়ার এ্যাডমিরাল শাহ ইকবাল মুজতবা | ৪ জুন, ২০০২-৯ জানুয়ারি, ২০০৫ |
| রিয়ার এ্যাডমিরাল এম.হাসান আলী খান | ১০ জানু., ২০০৫-৯ ফেব্রু.,২০০৭ |
| রিয়ার এ্যাডমিরাল সারওয়ার জাহান নিজাম | ১০ ফেব্রু.,২০০৭-২৮ জানু.,২০০৯ |
| ভাইস এ্যাডমিরাল জহির উদ্দিন আহমেদ | ২৯ জানু.,২০০৯-২৮ জানু.,২০১৩ |
| এ্যাডমিরাল মুহাম্মদ ফরিদ হাবিব | ২৮ জানু.,২০১৩-২৭ জানু.,২০১৬ |
| এ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন আহমেদ | ২৭ জানু.,২০১৬-২৬ জানু., ২০১৯ |
১৯৭২ সালের মার্চ মাসে, পিলখানায় বিডিআর জওয়ানরা বিদ্রোহ করে।
২০০৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো: ২৫-০২-২০০৯ তারিখ রাজধানীর পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে বিডিআর জওয়ানদের বিদ্রোহ। ক্ষুব্ধ জরয়ানদের দাবি ও নানা অভিযোগ। সেনা কর্তৃেত্বর অবসান, রেশন ও বেতনবৈষম্য দূর করাসহ ২২-দফা দাবিতে বিডিআর জরয়াননেরা সশস্ত্র বিদ্রোহ করেছেন। ২৫-০২-২০০৯ তারিখ দুপুরে বিডিআর জওয়াননেরা বিদ্রোহের সময় এক সেনা কর্মকর্তার নিহতের তথ্য জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, বিডিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ প্রায় দেড় শতাধিক সেনা কর্মকর্তােক তাঁরা আটকে রেখেছেন। তাঁদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্যই তাঁদের বন্দী করা হয়েছে। তাঁদের ২২-দফা দাবীর মধ্যে প্রথম দাবী হলো সেনা কর্তৃেত্বর অবসান।
২০০৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো: তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া-এ বিদ্রোহ পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, তবে কাম্য নয়। বিডিআরের সাবেক মহাপরিচালক (১৯৯৬-১৯৯৯) মেজর জেনারেল (অব.) আজিজুর রহমান, বীর উত্তম।
২০০৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো: সংসদকে বিডিআরের ঘটনা না জানানোর সমালোচনা। তবে রাত নয়টায় কোনো বিবৃতি ছাড়াই সংসদের অধিবেশন মূলতবি হয়ে যায়।
২০০৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো: অবশেষে আত্মসমর্পণ। আলোচনার মাধ্যমে বিডিআরের ৩৩ ঘন্টার শ্বাসরুদ্ধকর বিদ্রোহের অবসান। ২৬-০২-২০০৯ তারিখ বিকেল থেকে বিডিআরের বিদ্রোহীরা অস্ত্র জমা দিতে শুরু করে এবং অস্ত্র সমর্পণ প্রক্রিয়া শেষ হতে রাত সাড়ে নয়টা বেজে যায়।
২০০৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো: ঘটনা সম্পর্কে মুক্তি পাওয়া মেজর জায়েদি-ডাল-ভাত কর্মসূচী নিয়ে ডিজিকে কৈফিয়ত তলব বাইরে থেকে গুলি শুরু।
২০০৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো: এ পর্যন্ত বিডিআরের ডি. জি. মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদসহ ৬০ জনের লাশ উদ্ধার।
২০০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি, টেলিভিশনের খবরে: আরো ১০টি লাশ গণকবর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
২০০৯ সালের ১ মার্চ, প্রথম আলো: আরো এক সেনা কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার, ৭১ জন সেনা কর্মকর্তা এখনো নিখোজ এবং ৩১ সেনা কর্মকর্তা আত্মরক্ষা করতে পেরেছেন।
২০০৯ সালের ১ মার্চ, প্রথম আলো: হানাহানি নয়, শান্তিতে থাকতে চাই-অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ ১৯৪৮ সালে পুলিশ, ১৯৭২ সালে বিডিআর, ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমানের সময় বিমান বাহিনী এবং এরপর আনাসার বিদ্রোহ ঘটেছে। আর ২৫-০২-২০০৯ ও ২৬-০২-২০০৯ তারিখের বিডিআর বিদ্রোহের মত এতবড় বিদ্রোহ আর হয়নি।
২০০৯ সালের ১ মার্চ, প্রথম আলো: ড. আকবর আলি খান-পঞ্চদশ শতকে হাবসি বিদ্রোহের পর বাংলাদেশের গত ৬০০ বছরের ইতিহাসে এমন বিদ্রোহ হয়নি।
২০০৯ সালের ২ মার্চ, প্রথম আলো: ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি, বিডিআরে হত্যা-লুন্ঠনের ঘটনায় মামলা। বিচারে আইনের নানা দিক খতিয়ে দেখছে সরকার।
২০০৯ সালের ৩ মার্চ, প্রথম আলো: ৫৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ সাত, ৭২ নয়।
সেনা সদরের ব্রিফিং: আজ থেকে সেনাবাহিনীর নিজস্ব তদন্ত শুরু, গুজবে কান না দেওয়ার আহবান। ৫৬টি মৃতদেহের মধ্যে তিনটি শনাক্ত করা যায়নি।
২০০৯ সালের ৩ মার্চ, প্রথম আলো: বিডিআর বিদ্রোহ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাদ দিয়ে ১১ সদস্যের তদন্ত কমিটি।
২০০৯ সালের ৩ মার্চ, প্রথম আলো: গোয়েন্দাদের বাসভবন এলাকা থেকে অস্ত্র উদ্ধার। বিডিআর সদর দপ্তরে 'অচেনা' বেল্ট, দুরবিন।
২০০৯ সালের ৪ মার্চ, প্রথম আলো: সেনাসদরের ব্রিফিং-বিদ্রোহীদের আটক করা হবে, নিরপরাধ জওয়ানদের নয়।
২০০৯ সালের ৪ মার্চ, প্রথম আলো: বিডিআরে বিদ্রোহের মামলা-প্রধান আসামি ডিএডি তৌহিদসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার, সেনা তদন্ত শুরু।
২০০৯ সালের ৫ মার্চ, প্রথম আলো: আরও একজন সেনা কর্মকর্তার লাশ শনাক্ত। মোট নিহতের সংখ্যা ৭৩ জন। ০৪-০৩-২০০৯ তারিখ পর্যন্ত মোট ৫৮ জন সেনা কর্মকর্তা, একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, দুই সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী, দুই গৃহকর্মী ও ছয়জন বিডিআর জরয়ানের লাশ শনাক্ত হলো এবং ওই দিনের ঘটনায় তিন পথচারী ও এক সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।
২০০৯ সালের ৬ মার্চ, প্রথম আলো: বিডিআর সদর দপ্তরে হত্যাকান্ড-প্রাথমিকভাবে ১০০ জন জড়িত বলে শনাক্ত।
২০০৯ সালের ১২ মার্চ, প্রথম আলো: বিডিআর হত্যাকান্ড 'কোর্ট মার্শাল করে বিচারের সিদ্ধান্ত। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা এবং ১০ জন বিডিআর জওয়ান ও ৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।
২০০৯ সালের ১৮ মার্চ, প্রথম আলো: বাণিজ্যমন্ত্রী লে. কর্ণেল (অব.) ফারুক খান এবার বললেন-হত্যাযজ্ঞ ঘটাতে জঙ্গিরা বিডিআরকে ব্যবহার করেছে।
২০০৯ সালের ২০ মার্চ, প্রথম আলো: বিডিআরে বিদ্রোহীদের সেনা আইনে বিচার না করার আহবান। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সংবাদ সম্মেলন।
২০০৯ সালের ২০ মার্চ, প্রথম আলো: বিডিআরে হত্যাকান্ড-জড়িতদের সেনা আইনে বিচারের প্রস্তাব অনুমোদন।
২০০৯ সালের ২৫ মার্চ, প্রথম আলো: ভিডিও দেখে ও অডিও শুনে কয়েকজন জওয়ানকে গ্রেপ্তার। এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার ৬৯৪ বিডিআর সদস্য, রিমান্ডে ২৩ জন। ২৫ ফেব্রুয়ারি সদর দপ্তরে সাত হাজারের বেশি বিডিআর সদস্য ছিলেন। তাঁদের মধ্যে এক হাজার ৮০০ জন এখনো বাহিনীতে যোগ দেননি। বিডিআর কর্মকর্তারা জানান, সদর দপ্তরে ছোট-বড় ২৪টি অস্ত্রাগার রয়েছে। বিডিআর সদর দপ্তরের ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা, একজন সেনাসদস্য, সাতজন বিডিআর সদস্যসহ ৭৫ জন নিহত হন।
২০০৯ সালের ৩ এপ্রিল, প্রথম আলো: আদালতে একসঙ্গে হাজির করা হলো ৭৯৬ জন বিডিআর জওয়ানকে।
২০০৯ সালের ৬ এপ্রিল, প্রথম আলো: পলাতক জোয়ানদের ধরতে সব থানায় তালিকা যাচ্ছে। আরও পাঁচজনের জবানবন্দি ২৫ রিমান্ডে। মন্ত্রী বলেন, পিলখানার ঘটনায় এ পর্যন্ত ৮৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
২০০৯ সালের ৯ এপ্রিল, প্রথম আলো: পলাতক বিডিআর জওয়ানের সংখ্যা এখন ২০২।
২০০৯ সালের ১৯ এপ্রিল, প্রথম আলো: বিবিসির সংলাপে আলোচকদের মত বিডিআর সদস্যদের মৃত্যু নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার। বিডিআর সদস্যদের আত্মহত্যা বা হার্টঅ্যাটাক-জনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা ১২-এর বেশি।
২০০৯ সালের ১৯ এপ্রিল, প্রথম আলো: বিডিআর নাম-পোশাক পরিবর্তেনর বিরোধিতায় বিএনপি-জামায়াত নেতারা। তাঁরা বলেছেন, বিডিআরের হত্যাযজ্ঞ ১৮ এপ্রিল, ২০০১ সালে বড়াইবাড়ীতে বিডিআরের কাছে বিএসএফের পরাজয়ের প্রতিশোধ। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে '১৮ এপ্রিল সীমান্ত প্রতিরক্ষা দিবস' হিসেবে পালনের দাবি জানান। গোলটেবিলে বিএনপির নেতা মওদুদ আহমদ বলেন, বিডিআরের নাম কিংবা পোশাক পরিবর্তন করতে হবে কেন? প্রতিষ্ঠান তো কোনো দোষ করেনি। দোষী বিডিআর সদস্যদের শাস্তি হোক। বিডিআর বিলুপ্ত করে নতুন করে ৩৫ হাজার সদস্য নিয়োগ দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে।
২০০৯ সালের ২২ এপ্রিল, প্রথম আলো: বিদ্রোহের আগে চার দফা বৈঠক করে জওয়ানেরা। প্রথম বৈঠক করেন ১৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায়। এ বৈঠক হয় পিলখানার ভেতরে সদর রাইফেল ব্যাটালিয়নের বাস্কেট বল মাঠে। আড্ডার ছলে তাঁরা এ বৈঠক করেন।
২০০৯ সালের ৩০ এপ্রিল, প্রথম আলো: পিলখানা থেকে ২০৯ গ্রেনেড, ৪১ হাজার গুলি খোয়া গেছে।
২০০৯ সালের ১৩ মে, প্রথম আলো: দুই হাজার ৮৮৮ বিডিআর জওয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদে এখন পর্যন্ত ৪৭৭ জওয়ান নির্দোষ বলে চিহ্নিত।
২০০৯ সালের ১৪ মে, প্রথম আলো: বিডিআর বিদ্রোহের পেছনে 'ডাল-ভাত'সহ সাত কারণ। অপারেশন ডাল-ভাতই বিডিআর বিদ্রোহের অন্যতম প্রধান কারণ। সেনাবাহিনীর তদন্ত আদালতের ২০০ পাতার প্রতিবেদনে বিডিআর কর্তৃপক্ষ ও গোয়েন্দা সংস্থার ব্যর্থতাকেও দায়ী করা হয়েছে। ওই ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা, দুজন সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী, একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, একজন সেনা সদস্য, নয়জন বিডিআর সদস্যসহ ৭৪ জন নিহত হন। রাজনৈতিক সংশিস্নষ্টতা-বিডিআর সদস্যরা আইন ভঙ্গ করে দলীয় নেতাদের সঙ্গে দেখা করে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেন। এতে বলা হয়, সুবেদার তোরাব আলী(আওয়ামী লীগ নেতা), তাঁর ছেলে লেদার লিটন ও জওয়ান কাঞ্চনের ছেলে জাকির জরয়ানদের সঙ্গে বৈঠক করে বিদ্রোহে ইন্ধন দিয়েছে। তোরাব আলীর ফোন পরীক্ষা করে দেখা যায়, বিদ্রোহের সময় তিনি অনেকবার বিদেশে কথা বলেছেন। বিডিআরের অস্ত্র পাওয়ার জন্য লেদার লিটন বিদ্রোহে জড়িত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছে।
২০০৯ সালের ২২ মে, প্রথম আলো: বিডিআর বিদ্রোহে বাইরের কারও সম্পৃক্ততা পায়নি তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদন জমা দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি। বিডিআর হত্যাকান্ড-বাস্তবের ওপর ভিত্তি করে আমরা এই প্রতিবেদন তৈরি করেছি। আমরা যা দেখেছি, আমরা যা শুনেছি, আমরা যা অনুধাবন করেছি, তথ্য-উপাত্ত যেগুলো আমরা বিশ্বাস করেছি, তারই ভিত্তিতে আমরা প্রতিবেদন দিয়েছি।-আনিস উজ জামান খান। ডাল-ভাত কর্মসূচিসহ বিডিআর সদস্যদের নিজস্ব দাবি-দাওয়া নিয়ে দীর্ঘিদনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ বিদ্রোহের প্রাথমিক কারণ মনে করা হলেও এর সুনির্দিষ্ট কারণ বের করতে পারেনি। এ জন্য আলাদা একটি বিশেযজ্ঞ কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সেনা আইনে দ্রুত বিচারসহ ১২ দফা সুপারিশ করা হয়। কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনটি ৩০৯ পৃষ্ঠার। এরমধ্যে ৫৭ পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদন। বাকি বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংযোজন করা হয়েছে। বিদ্রোহের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হত্যাকান্ডে জড়িত ৪০ জন ঘাতকের অর্ধেক এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। গত ১৯-০৫-২০০৯ তারিখ পর্যন্ত ঢাকায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১,৩৯৪ জন আর ঢাকার বাইরে ২৯টি জেলায় বিদ্রোহের ঘটনায় আরও ১,৫৮১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।