২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ভেলানগর বড়বাড়ির মোট জনসংখ্যা হলো-২,০৮৪(দুই হাজার চুরাশি) জন, এরমধ্যে মারা গেছেন-৬৭৬ জন আর জীবীত লোকসংখ্যা-১,৪০৮ জন (তালাকপ্রাপ্ত-৭১ ও চলে গেছেন-৮ জন স্ত্রী) মোট স্ত্রীর সংখ্যা-৭৯ জন বিয়োগ করিলে=১,৩২৯ জন এবং বিবাহিতা মেয়েরা স্বামীরবাড়িতে বাস করে-৩১৯ জন বিয়োগ করলে=১,০১০ জন। ভেলানগর বড়বাড়ির প্রকৃত জনসংখ্যা-১,০১০(এক হাজার দশ) জন। বিদেশ ও শহরে বাস করে ৫০০ জন এরমধ্যে বিদেশে বাস করে ১৬৫ জন এবং গ্রামে বাস করে-৫১০ জন। ভেলানগর বড়বাড়ির জনসংখ্যা-১,০১০(এক হাজার দশ) জন থেকে বেড়ে ২০৫০ সালে ভেলানগর বড়বাড়ির জনসংখ্যা হবে প্রায়-১,৩০০(্‌এক হাজার তিনশত) জন। ২১০০ সালে ভেলানগর বড়বাড়ির জনসংখ্যা বেড়ে হবে প্রায়-১,৪০০(এক হাজার চারিশত) জন। ৩১-০৩-২০১৩ তারিখ পর্যন্ত ভেলানগর গ্রামের জীবিত ও মৃতসহ লোকসংখ্যা-১৩,১২৬ জন, মারা গেছেন-৩,৫৮৮ জন, জীবিত লোকসংখ্যা-৯,৫৩৮ জন, জীবিত মেয়েরা স্বামীরবাড়িতে থাকে-১,৯০৮ জন, প্রকৃত জনসংখ্যা-৭,৬৩০(সাত হাজার ছয়শত ত্রিশ) জন এরমধ্যে বিদেশ ও শহরে বাস করে-৩,০৫০ জন। গ্রামে বাস করে প্রায়-৪,৫৮০(চার হাজার পাঁচশত আশি) জন। ভেলানগর গ্রামের জনসংখ্যা ছিল (গ্রাম, শহর এবং বিদেশে বসবাসকারীসহ) প্রায়-৭,৬৩০(সাত হাজার ছয়শত ত্রিশ) জন, তা' থেকে বেড়ে ২০৫০ সালে হবে প্রায়-৯,০৫০ হাজার পঁঞ্চাশ জন এবং ২১০০ সালে ভেলানগর গ্রামের জনসংখ্যা বেড়ে হবে-৯,৫০০(নয় হাজার পাঁচশত) জন। বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় বাস করে প্রায়-৩,০০,৯৩০(তিন লক্ষ নয়শত ত্রিশ) জন এবং শহর ও বিদেশে বাস করে-১,৬৯,০২০(এক লক্ষ উনসত্তর হাজার বিশ) জন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার জনসংখ্যা হলো প্রায়-৩২(বত্রিশ) লক্ষ এরমধ্যে শহর ও বিদেশে বাস করে প্রায়-১১(এগার) লক্ষ জন। ২০১৩ সালের ৩১ মার্চ, বাংলাদেশের জনসংখ্যা হলো ১৬(ষোল) কোটি এরমধ্যে শহর ও বিদেশে বাস করে প্রায়-৪.৫৩(চার কোটি তিপান্ন লক্ষ) জন তারমধ্যে (৩১-০৩-২০১৩ তারিখ পর্যন্ত) বিদেশে বাস করে-৯০ লক্ষ মানুষ এবং ২০১৩ সালের ৩১ মার্চ-এর হিসেব অনুযায়ী, ভেলানগর বড়বাড়ির জনসংখ্যা হলো-ভেলানগর গ্রামের জনসংখ্যা-৭(সাত) ভাগের ১(এক) ভাগ লোক, ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের ২৮ ভাগের ১ ভাগ লোক ভেলানগর বড়বাড়ির, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার জনসংখ্যার-৫৭২(পাঁচশত বাহাত্তর) ভাগের ১(এক) ভাগ লোক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার জনসংখ্যার-৪,৯০০(চার হাজার নয়শত) ভাগের ১(এক) ভাগ লোক, বাংলাদেশের জনসংখ্যার-১,৬০,৩৭৭(এক লক্ষ ৬০ হাজার তিনশত সাতাত্তর) ভাগের ১(এক) ভাগ লোক এবং পৃথিবীর জনসংখ্যার-৬৭.৯২(সাষট্টি লক্ষ বিরানব্বই হাজার) ভাগের ১(এক) ভাগ লোক হলো ভেলানগর বড়বাড়ির।

২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর, বাংলাদেশের শতকরা ৩৫ ভাগ লোক শহরে বসবাস করে, আগামী ২০৫০ সালে বালাদেশের শতকরা প্রায় ৫৫ ভাগ লোক শহরে বসবাস করবে। ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর, ভেলানগর বড়বাড়ির জনসংখ্যা বিদেশসহ শহরে বাস করে ৪৮ ভাগ তা' থেকে বেড়ে ২০৫০ সালে হবে প্রায় ৬৫ ভাগ। ২০১৩ সালের ৩১ মার্চ, ভেলানগর গ্রামের জনসংখ্যা বিদেশসহ শহরে বাস করে ৩৫ ভাগ তা' থেকে বেড়ে ২০৫০ সালে হবে প্রায় ৫৫ ভাগ। ১৯০১ সালের দিকে বিশ্বে শহরবাসীর সংখ্যা ছিল শতকরা ৫ ভাগ, আর ১৯৯৯ সালে বিশ্বে শহরবাসীর সংখ্যা শতকরা ৫০ ভাগ। ২০০৮ সালে বিশ্বের ৬৭৫ কোটি লোকের মধ্যে ৪১০ কোটি লোক বা শতকরা ৬১ ভাগ লোক শহরে বাস করে। ২০২৫ সালে (বিশ্বের লোকসংখ্যা হবে-৮০০ কোটি) শহুরে বাসিন্দার সংখ্যা ৫৫০ কোটিতে গিয়ে দাড়াবে বা শতকরা ৬৯ ভাগ লোক শহরে বাস করবে। আগামী ২০৫০ সালের দিকে বিশ্বের লোকসংখ্যার শতকরা ৮০ ভাগ শহরবাসী হবে। তখন আমি মোঃ জাকির হুসেন (আলমগীর) এ পৃথিবীতে বেঁচে থাকবো না।

১৯-০৩-২০১০ তারিখের প্রথম আলোর রিপোর্ট: আম্বানির টাওয়ার। মুকেশ আম্বানির নয়া ভবন ঘিরে কৌতহল বাড়ছে-২০০৭ সালে শুরু হয়েছিল আর শেষ হয় এ কাজ ২০১০ সালে। ১০০ কোটি ডলার ব্যয়ে এ্যান্টিলিয়া নামের ভবনটি মুকেশ আম্বানি বাড়ি বানাননি, বানিয়েছেন টাওয়ার-আন্তিলা টাওয়ার। ২৭ তলা এই টাওয়ার (প্রচলিত মাপে ৬০ তলা দালানের সমান) তৈরি করা হয়েছে মুম্বাইয়ের আলতামাউন্ট রোডে চার লাখ স্কয়ার ফুটের এই ভবনটি নকশা করার অনুপ্রেরণা ছিল ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান। ভবনের কোনো এক তলার সঙ্গে আরেক তলার নকশায় মিল নেই। অনুমান করা হয়, এই টাওয়ার তৈরিতে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে। সে হিসেবে আন্তিলা টাওয়ারকে পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবাসিক ভবন বলে মানা হয়। এ ১০০ কোটি ডলার দিয়ে বাংলাদেশের মত দেশে ১,১৮,৩৩৪(এক লক্ষ আঠার হাজার তিনশত চৌত্রিশ)টি পরিবারের স্বাস্থসম্মত বাসস্থান করা যেতো। বর্তমানে মুকেশ আম্বানি পৃথিবীর ৪র্থ সম্পদশালী ধনী। এখন বিশ্বের চতুর্থ ধনী ব্যক্তি। আল্টামাউন্ট সড়কে নির্মিত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল এ বাড়িটি। 'অ্যান্টেলিয়া' নামে এ বাড়ি নির্মােণ ব্যয় হয়েছে ৮(আট) হাজার কোটি রুপি। এ বাড়িতে ২৮-১-২০১০ তারিখ নতুন বাড়িতে পা রাখবেন মুকেশ ও তাঁর স্ত্রী নীতা আম্বানি। আর আটলান্টিক মহাসাগরের একটি মনোরম দ্বীপের নামানুসারে মুকেশ তাঁর নতুন বাড়ির নাম অ্যান্টালিয়া রেখেছেন। এর আগে বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল বাড়ির মালিক ছিলেন ভারতের অপর শিল্পপতি লক্ষী মিত্তাল। ইংলান্ডের লন্ডনের কেনসিংটন প্যালেস গার্ডেেনর ওই বাড়িটি তিনি কয়েক বছর আগে ৫৬০ কোটি রুপিতে কিনেছিলেন।

মানুষ রাজনৈতিক জীব। প্রত্যেক মানুষের রাজনীতি করার অধিকার আছে। বর্তমান দুনিয়ায় বিজ্ঞানের আধিপত্য কোথায় নেই। খাদ্য-শস্য, জীবন যাপনের উপকরণ, অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কার, বিশ্বাস সব কিছুতেই বিজ্ঞানের আলোকে ব্যাখ্যা করার প্রবনতা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিজ্ঞানই নির্ধারণ করে কোনটি সত্য আর কোনটি মিথ্যা। বিজ্ঞান হয়ে উঠছে সভ্যতার ধারক-বাহক। অথচ যখন দেখা যায় পৃথিবীর ২০০০ সালের হিসেব অনুসারে ২২৫(দুইশত পঁচিশ) জন ধনীতম ব্যক্তির মোট সম্পদের পরিমাণ হলো আয়ের দিক থেকে নিচের দিকের ৩০০(তিনশত)কোটি মানুষের বাৎসরিক আয়ের সমান, তখন প্রশ্ন জাগে বিজ্ঞানের সর্বজনীনতা কতটুকু? ২০০৬ সালের ১১ জুলাই, বিশ্বে ৬৫৮(ছয়শত আটান্ন) কোটি ও ২০১৬ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা-৭৩৮(সতশত াটত্রিশ) কোটি মানুষ বসবাস করে। ২০০৬ সালের ৭ ডিসেম্বর, পিটিআই: বিশ্বের অর্ধেক সম্পদ দুই শতাংশ সেরা ধনীর কাছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলসিংকি ভিত্তিক বিশ্ব উন্নয়ন অর্থনীতি গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক রিপোর্টে বলা হয়, ২০০০ সালে সেরা ধনীদের এক শতাংশের মালিকানায় বিশ্বের ৪০ শতাংশ সম্পদ ছিল। ব্যক্তিগত সম্পদের উপর ব্যাপক পর্যােলাচনায় দেখা গেছে যে, ১০ শতাংশ সেরা ধনীর হাতে বিশ্বের ৮৫ শতাংশ সম্পদ রয়েছে। তুলনামূলকভাবে বিশ্বের প্রাপ্ত বয়স্ক জনসংখ্যার শেষ অর্ধেেকর কাছে রয়েছে বিশ্বের সম্পদের মাত্র এক শতাংশ। ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটি লোকের কাছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ডলার এবং জাপানে ১ লাখ ৮১ হাজার ডলার ছিল। রিপোর্টে বলা হয়, বিশ্বের সেরা ধনীরা বাস করেন উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং ধনী এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোতে। ২০০৭ সালের ১০ মার্চ, ইনকিলাব ডেস্ক: ভারত ও চীনে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা দ্বিগুণ। ২০১৫ সালের ০৩-০৩-২০১৫ তারিখ প্রথম আলো: বিল গেটস এখনো বিশ্বের সেরা ধনী। সূত্র: ফোর্বস, বিবিসি। সম্পদের মোট মূল্য ১০০(একশত) কোটি মার্কিন ডলার বা তার চেয়ে বেশি, এমন ধনীর সংখ্যা এখন ১ হাজার ৮২৬ জন। গত বছর মানে ২০১৪ সালে ছিল-১ হাজার ৬৪৫ জন। এ নিয়ে এ তালিকায় ২১ বারের মধ্যে ১৭ বারই প্রথম হন বিল গেটস। বিল গেটসই বিশ্বের সেরা ধনী। ২০১৬ সালের ৬ অক্টোবর, প্রথম আলো: বিল গেটস তাঁর নিট সম্পদের পরিমাণ হচ্ছে ৮,১০০(আট হাজার একশত) কোটি মার্কিন ডলার। বিল গেটস-এর দৈনিক আয় হচ্ছে-২(দুই) কোটি ডলার। ১৯৮৭ সালে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ছিল-৯৮ জন, তা থেকে বেড়ে ২০০০ সালে ছিল-২২৩ জন এবং ২০০৭ সালের ১৮ মার্চ-বিশ্বে এখন রেকর্ড সংখ্যক-৯৪৬ জন বিলিয়নিয়ার রয়েছেন। এটা গত বছরের তুলনায় ১৫০ জন বেশী। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাগাজিন ফোর্বস-এর তালিকায় দেখা গেছে ভারত ও চীনে শত কোটিপতি বিলিয়নিয়ারদের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ২০০৮ সালের ৭ মার্চ-বিশ্বে এখন ১,১২৫ জন বিলিয়নিয়ার আছে। গত বছরের তুলনায় ১৫৯ জন বেশী। ২০০৯ সালে বিলিয়নিয়ার ছিলেন ৭৯৩ জন। ২০১০ সালে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা-১,০১১ জন। ২০০৭ সালে আমেরিকায় ধনেকুবেরের সংখ্যা ছিল-৪১৫ জন এবং ২০০৮ সালে তা থেকে হয়েছে-৪৬৯ জন। দ্রব্য উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা আর ডলারের তুলনামূলক দুর্বলতার কারণে বিলিয়নিয়ার-এর সংখ্যায় এ বৃদ্ধি ঘটেছে। ২০০৭ সালে ভারতের ৩৬ জন বিলিয়নিয়ার ছিল, আর ২০০৮-এ ৫৩ জন তালিকাভুক্ত হওয়ায় গত দু'দশকে এ প্রথম এশিয়ার কোন দেশ জাপানকে টপকে গেল। ফোর্বস বলেন, ''মানব ইতিহাসে এটা সবচেয়ে ধনাঢ্য তালিকা। এদের হাতে পুঞ্জীভূত সম্পদের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলার হয়েছে। ২০০৮ সালের ২৭ জুন, সমকাল পত্রিকার রিপোর্টঃ বিশ্বে ১(এক) কোটি ১০(দশ) লক্ষ কোটিপতি আছে-যার সম্পদের পরিমাণ-১(এক) কোটি ডলারের ওপরে। এরমধ্যে চীনে-৪(চার) লক্ষ ২২(বাইশ) হাজার, ব্রাজিলে-১(এক) লক্ষ ৩০(ত্রিশ) হাজার ও ভারতে-১(এক) লক্ষ ২৭(সাতাশ) হাজার। এ বছর ফোর্বস-এর তালিকায় ৯৭ জন নতুন ধনীর ৬২ জনই এশীয় এবং তাঁরা বেশির ভাগই চীনের নাগরিক। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে এত বেশিসংখ্যক বিলিয়নিয়ারের উত্থান এ বছরই প্রথম। ২০১৩ সালে ফোর্বেসর তালিকা প্রকাশ: এবারও বিশ্বে ১,৪২৬ ব্যক্তি, যাঁদের মোট সম্পদের পরিমাণ ৫.৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।

২০১৪ সালের ২১ জানুয়ারি, প্রথম আলো: ৩৫০ কোটি মানুষের সমান সম্পদের মালিক ৮৫ ধনী। বিশ্বজুড়ে অসাম্য বাড়ছে। পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ৮৫ ব্যক্তির কাছে বিশ্বের অর্ধেক জনসংখ্যার সম্পদের সমপরিমাণ সম্পদ রয়েছে। অক্সফাম জানায়, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ৮৫ জন মানুষের কাছে ১ দশমিক ৭০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার রয়েছে। বিশ্বজুড়ে অসাম্য বাড়ছে। পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ৮৫ ব্যক্তির কাছে বিশ্বের অর্ধেক জনসংখ্যার সম্পদের সমপরিমাণ সম্পদ রয়েছে। ২০১৪ সালের ১১ মার্চ, প্রথম আলো: বিশ্বে মোট ঋণের পরিমাণ ১০০ ট্রিলিয়ন ডলার। এক লক্ষ কোটিতে এক ট্রিলিয়ন। ২০০৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ৭০ ট্রিলিয়ন ডলার ছিল। অর্থাৎ মাত্র ছয় বছরে সম্মিলিত বৈশ্বিক ঋণ ৩০ ট্রিলিয়ন বা ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।

গেস্নাবাল ওয়েলথ রিপোর্ট-২০১৬ ক্রেডিট সুইসের রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদন বলছে-জাপানের সম্পদ বেড়েছে কপাল পুড়েছে ব্রিটিশদের। গত ১২ মাসে বৈশ্বিক সম্পদের পরিমাণ সাড়ে ৩ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়ে ২৫৬ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। ক্রেডিট সুইসের রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদন বলছে-সবচেয়ে ধনী ১ শতাংশের কম (০.৭%) মানুষের হাতে আছে বিশ্বের ৪৬ শতাংশ সম্পদ। আর ৭৩ শতাংশ দরিদ্র মানুষের কাছে আছে মাত্র ২ দশমিক ৪ শতাংশ সম্পদ। যাদের সম্পদ ১০ লাখ ডলারের বেশি, তাদেরই সবচেয়ে থনী বলা হয়েছে। অন্যদিকে ১০ হাজার ডলারের কম সম্পদ আছে এমন মানুষদের দরিদ্র হিসেবে গন্য করা হয়েছে।

সম্পদ বৃদ্ধির দিক দিয়ে শীর্ষস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনেই ফেলে দিল জাপান। চলতি বছর জাপানের সম্পদ বেড়েছে ৩ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার (১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার)। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি সম্পদ হাড়িয়েছে যুক্তরাজ্য, ১.৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। দেশগুলোর সম্পদ, বৃদ্ধি আর হারানোর এই চিত্রটি গেস্নাবাল ওয়েলথ রিপোর্ট-২০১৬-এ উঠে এসেছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আর্থিক সেবাপ্রতিষ্ঠান ক্রেডিট সুইসের রিসার্চ ইনস্টিটিউট সপ্তমবারের মতো এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে গত ১২ মাসে বৈশ্বিক সম্পদের পরিমাণ সাড়ে ৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার বেড়ে ২৫৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। আর্থিক সম্পদের চেয়ে এবার স্থাবর সম্পদ যেমন, গাড়ি, বাড়ি, জমিজমা ইত্যাদি বেড়েছে।

এদিকে জাপানের সম্পদ সবচেয়ে বেশি বাড়লেও একটি কিন্তু আছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রা ইয়েনঅতিমূল্যায়িত হওয়ার কারণেই দেশটির সম্পদ বেড়েছে। তবে ইয়েনের হিসাবে তাদের সম্পদ খুব একটা বাড়েনি। প্রকৃতপক্ষে জাপানের প্রাপ্তবয়স্ক জনগণের মাখাপিছু সম্পদ বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ। অবশ্য মোট সম্পদের দিকথেকে জাপানের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র অনেক এগিয়ে। জপানের ২৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদের পরিমাণ ৮৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভবিষ্যৎ সুদের হার ও শেয়ারবাজার নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ দেড় ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি বেড়েছে। এ ছাড়া ১০ হাজার কোটি ডলার বা তার বেশি সম্পদ বেড়েছে জার্মািন, ফ্রান্স, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও ব্যাজিলে।

আগেই বলা হয়েছে, সম্পদ হারানোর দিক দিয়ে অন্য সবাইকে পরাজিত করেছে যুক্তরাজ্য। সব মিলিয়ে ১০ শতাংশ বা দেড় লাখ কোটি ডলার। মোট সম্পদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫ ট্রিলিয়ন ডলার, দ্বিতীয় অবস্থানে আছে জাপান ২৪ ট্রিলিয়ন নিয়ে ও তৃতীয় অবস্থানে আছে ২৩ ট্রিলিয়ন নিয়ে চীন। এদিকে গত বছর ২৭টি দেশ ১০ হাজার কোটি ডলার বা তার বেশি সম্পদ হারালেও এবার সেটি ৮-এ নেমে এসেছে। এর মধ্যে ২০ হাজার কোটি ডলারের নিচে সম্পদ হারিয়েছে মেক্সিকো, রাশিয়া, আর্জেিটনা, তাইওয়ান, সুজারল্যান্ড ও ইতালি। বেশি সম্পদ হারিয়েছে যুক্তরাজ্য ও চীন।

উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে সারা বিশ্বের প্রাপ্তবয়স্কদের ১৮ শতাংশের বসবাস। তবে এই দুটি অঞ্চলেই রয়ে গেছে বিশ্বের মোট সম্পদের ৬৫ শতাংশ। চীন ও ভারত ছাড়া এশিয়া প্যাসিফিকে বিশ্বের ২৪ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক বাস করলেও তাদের দখলে আছে বৈশ্বিক সম্পদের মাত্র ২১ শতাংশ। চীনে বিশ্বের ২১ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের বাস এবং সম্পদ মাত্র ৯ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে-চলতি বছর ১০ লাখ ডলারের বেশি সম্পদ আছে বা মিলিনিয়ারের সংখ্যা-৩ কোটি ২৯ লাখ ৩১ হাজারে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি, ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫৪ হাজার মিলিনিয়ার আছে যুক্তরাষ্ট্রে। গত এক বছরে মিলিনিয়ার বেড়েছে ২ লাখ ৮৩ হাজার জন। দ্বিতীয় শীর্ষ মিলিনিয়ার আছে-২৮ লাখ ২৬ হাজার জন আছে জাপানে। গতবারের চেয়ে বেড়েছে ৭ লাখ ৩৮ হাজার। যুক্তরাজ্যে যেমন সম্পদ কমেছে তেমন বিলিনিয়ারের সংখ্যাও কমেছে-যুক্তরাজ্যে বর্তমানে আছে ২২ লাখ ২৫ হাজার মিলিনিয়ার। এ ছাড়া সুইজারল্যান্ডে ৫৮ হাজার, চীনে ৪৩ হাজার, তাইওয়ানে ২৭ হাজার মিলিয়নিয়ার কমেছে। ক্রেডিট সুইসের রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদন গেস্নাবাল ওয়েলথ রিপোর্ট-২০০০ সাল থেকে বিশ্বে দেয়া হচ্ছে।

২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি: সেই আট ধনীর নাম: (১) বিল গেটস সম্পদ ৭ হাজার ৫শত কোটি ডলার। (২) অ্যামানসিও ওর্তেগা-স্পেন সম্পদ ৬ হাজার ৭শত কোটি ডলার। (৩) ওয়ারেন বাপেট-সম্পদ ৬ হাজার ৮০ কোটি ডলার। (৪) কালের্রাস স্স্নিম হেলু-মেক্সিকো-সম্পদ ৫ হাজার কোটি ডলার। (৫) জেব বেজোস-সম্পদ ৪ হাজার ৫শত ২০ কোটি ডলার। (৬) মার্ক জাকারবার্গ-সম্পদ ৪ হাজার ৪শত ৬০ কোটি ডলার। (৭) ল্যারি অ্যালিসন-সম্পদ ৪ হাজার ৩শত ৬০ কোটি ডলার ও (৮) মাইকেল বস্নুমবাগ-সম্পদ ৪ হাজার কোটি ডলার। এ আটজন ধনীর সম্পদের পরিমাণ ৪২,৬২০ কোটি ডলার এবং বিশ্বের নিচের অর্ধেক মানুষের সম্পদের সমান সম্পদ।