১৯৫৭ সালের ১০ মার্চ, সৌদি আরবের রিয়াদে আল-কায়দা প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনের জন্ম, মৃত্যু-০২-০৫-২০১১ তারিখ পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন বাহিনীর হামলায় নিহত হয়েছেন। তাঁর লাশ সাগরে বাসিয়ে দিয়েছেন। এ অভিযানের আদ্যোপান্ত সরাসরি দেখলেন প্রেসিডেন্ট ওবামা বারাক হোসেন। তাঁর বাবা মুহাম্মদ বিন লাদেন ছিলেন ধনবান ব্যক্তি। তাঁর ৫৪ সন্তানের মধ্যে ওসামা বিন লাদেন ছিলেন ১৭তম। ১৯৬৯ সালে এক বিমান দুঘর্টনায় ওসামার বাবার মৃত্যু হয়। পৈতৃক সম্পত্তি পান আট কোটি ডলার মূল্যের। ওসামা ১৭ বছর বয়সে দূর সম্পর্কের এক সিরীয় বোনকে প্রথম বিয়ে করেন। তারপর আরও অন্তত চার নারীকে বিয়ে করেন। ওসামার ২৬ জন সন্তান রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। বিন লাদেন: আফগানিস্থানে শুরু, পাকিস্তানে শেষ। যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ার বা ওয়াল্র্ড ট্রেড সেন্টারে ১১-০৯-২০০১ তারিখ আল-কায়েদার ভয়াবহ সেই বিমান হামলায় প্রায় তিন হাজারের বেশি লোক মারা যান। ১৯৫৮ সালের ১৬ আগষ্ট, মিশিগানের বে সিটিতে গায়িগা-অভিনেত্রী ও লেখিকা ম্যাডোনা লুইস ভ্যারোনিকা কিকোনির জন্ম। (নারী সংগীতজগতের তারকাদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী। ফোর্বস সাময়িকীর ওয়েবসাইট জরিপে তিনি এক নম্বর আসন দখল করেন। ম্যাডোনা ২০০৬ সালের জুন থেকে ২০০৭ সালের মে পর্যন্ত সাত কোটি ২০ লাখ ডলার আয় করেছেন)। ১৯৫৮ সালের ২৯ আগষ্ট, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ছোট্ট শহর গ্যারিতে পপসম্রাট মাইকেল জোসেফ জ্যাকসন জন্মগ্রহণ করেন, অকালেই প্রস্থান মহাতারকার মৃত্যু-২৫-০৬-২০০৯ তারিখ যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলেসের শহরতলি হোমবাই হিলসের ভাড়াবাড়িতে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাঁকে ইউসিএলএ মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। দুই ঘন্টা পর সেখান থেকে স্থানীয় সময় দুপুর দুইটা ২৬ মিনিটে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

১৯৬১ সালের ৪ আগষ্ট, হাওয়াইয়ের হনলুলুতে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪তম প্রেসিডেন্ট বারাক হোসেন ওবামার জন্ম। ওবামার পুরো নাম বারাক হোসাইন ওবামা জুনিয়র। ওবামা হচ্ছেন প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান, যিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বড় কোনো দলের মনোনয়ন পেয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বািচত হয়েছেন। ১৯৬১ সালের ৩০ অক্টোবর, আর্জেিন্টনার প্রবাদ প্রতিম ফুটবলার দিয়াগো ম্যারাডোনার জন্ম। সে ১৯৮৬-র সেই মাঠ কাঁপানো তরুণ। ২০০৪ সালের ২০ এপ্রিল, ৪৩-বছর বয়সে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে বর্তমানে ভাল, ফুটবলে যাদু দেখানোর মত মাদক নেয়ার ইতিহাস তাঁর সুদীর্ঘ। ১৯৬২ সালে দুঃসাহসী অস্ট্রেলীয় ন্যাচারলিষ্ট ক্রকোডাইল হান্টার স্টিভ আরউইনের জন্ম, মৃত্যু-০৪-০৯-২০০৬ তারিখ, পোর্ট ডগলাসের কাছে একটি আন্ডারওয়াটার প্রামাণ্য চিত্র চলচ্চিত্রায়নের সময় তিনি নিহত হন। ১৯৬৫ সালের ২ জুন, সিডনিতে ক্রিকেট স্টার স্টিভ ওয়াহ'র জন্ম, (মহানায়কের বিদায়)-২০০৪ সালে। ১৯৭১ সালের ৩ জুলাই, অস্ট্রেলিয়ার টাউন্সভিল, কুইনসল্যান্ড-এ সাংবাদিক, প্রোগ্রামার এবং হ্যাকার (লেখাপড়াঃ পদার্থিবদ্যা ও গণিত) ও উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক জুলিয়ান পল অ্যাসাঞ্জের জন্ম। ১৯৭৩ সালের ২১ আগষ্ট, তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মস্কোয় সের্গেই মিখাইলোভিচ ব্রিনের জন্ম। ১৯৭৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে ল্যারি পেইজ বা লরেন্স 'ল্যারি' পেইজের জন্ম। ল্যারি পেইজ ও সের্গেই ব্রিনের প্রথম দেখা হয় ১৯৯৫ সালে, সেখান থেকেই দুজনের বন্ধুত্ব। সের্গেই ব্রিন ও ল্যারি পেইজ এরা দুজনে তথ্যের বাতিঘর। ১৯৮৪ সালের ১৪ মে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক বিপস্নবের রুপকার মার্ক এলিয়ট জাকারবার্গের জন্ম। তিনি ছিলেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করতেন গেম ও যোগাযোগের প্রোগ্রাম নিয়ে। ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ টাইম ম্যাগাজিনের জরিপে এ বছরের সেরা ব্যক্তিত্ব নির্বািচত হয়েছেন। ২০০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি, ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাকাল। ২৬ বছরেই বিশ্বসেরা। ১৯৮৪ সালের ৭ জুলাই, বি-বাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মানিকপুর গ্রামে বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট খেলোয়ার মোহাম্মদ আশরাফুলের জন্ম। ১৯৮৭ সালের ২৪ জুন, আর্জেিন্টনার রোজারিও শহরের এক নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে ফুটবলার লিওনেল আন্দ্রেস মেসির জন্ম। ফুটবল বিশ্বে তিনি মেসি নামে পরিচিত। ১৯৮৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আলেয়া সবুরের জন্ম। ড. আলেয়া সবুর ১৮ বছর বয়সে বিশ্বের প্রথম অধ্যাপক। ১৯৯৬ সালের ১২ জুলাই, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হিমালয় পর্বতারোহী জর্ডান রোমেরোর জন্ম। ২০১০ সালের ২২ মে, শনিবার সকালে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ এভারেষ্ট জয়ী হিসেবে রেকর্ড গড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ বছর বয়সী কিশোর জর্ডান রোমেরো। সাগরপৃষ্ঠ থেকে ২৯,০৩৫ ফুট (আট হাজার ৮৫০ মিটার) উঁচু বিশ্বের এ সবোচ্চ পর্বতচুড়ায় আরোহণ করে জর্ডান। তার সঙ্গে বাবা পল রোমেরো, বাবার বান্ধবী কারেন ল্যান্ডগ্রেন ও তিনজন শেরপা গাইড এভারেষ্টের চুড়ায় পৌঁছান।

মোঃ জাকির হুসেন ওরফে আলমগীর

উপ-রেজিস্ট্রার(অবসর)

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। গ্রাম-ভেলানগর(বড়বাড়ি)।

।কিছু কথা।

মহাবিশ্বের বয়স ১৩৮০ কোটি বছর। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, মহাবিশ্বের বয়স আগে যা ভাবা হতো তারচেয়ে ১০ কোটি বছর বেশি। ২০০৯ সালে মহাকাশে উৎক্ষেপিত একটি স্পেস টেলিস্কোপ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে ইউরোপের একদল বিজ্ঞানী বৃহস্পতিবার(২১-০৩-২০১৩ তারিখ) এ তথ্য জানিয়েছেন। নতুন পর্যেবক্ষণে মহাবিশ্বের বয়স ১৩৮০ কোটি বছর বলে জানা গেছে। এই গবেষণার পূর্বে মহাবিশ্বের বয়স ১৩৭০(এক হাজার তিনশত সত্তর) কোটি বছর বয়স ছিল। পৃথিবীর আনুমানিক বয়স কমপক্ষে ৪৬০(চারিশত ষাট) কোটি বছর। সুর্যের আনুমানিক বয়স ৪৬০(চারিশত ষাট) কোটি বছর। পৃথিবীতে প্রাণের সূচনা তিনশত কোটি বছর আগে। বিখ্যাত বিজ্ঞান ম্যাগাজিন নেচার-এ প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে বিজ্ঞানীদের এ ধারণার কথা প্রকাশিত হয়েছে। পৃথিবীতে প্রাণের সৃষ্টি প্রায় ২০০(দুইশত) কোটি বছর আগে। জীবের সৃষ্টি প্রায় ৬০(ষাট) কোটি বছর আগে। ৩৭ কোটি বছর আগে পানিতে মাছের বিচরণ শুরু হয়। ২০(কুড়ি) কোটি বছর আগে থেকে পৃথিবীতে ডাইনোসরদের আধিপত্য চলছিল এবং পৃথিবীর সমস্ত মহাদেশ একসঙ্গে আঁটা ছিল। যাকে বলে প্যানজিয়া কুড়ি কোটি বছর আগে-তার মানে সময়টা ছিল মধ্যজীবীয় অধিযুগের জুরাসিক যুগ। ১৮(আঠারো) কোটি বছর আগে প্যানজিয়ায় ভাঙ্গন ধরে। তারপরে টুকরো টুকরো অংশগুলো আলাদা হয়ে যেতে থাকে। আফ্রিকার একদিক থেকে আলাদা হয়ে যায় দক্ষিণ আমেরিকা, অন্যদিক থেকে কুমেরু। ইউরোপ থেকে আলাদা হয়ে যায় উত্তর আমেরিকা। দুই আমেরিকা আলাদা হয়ে যেতে পিছনে তৈরী হয় আটলান্টিক মহাসাগর। আর ভারতের ভূখন্ড যাত্রা শুরু করে এশিয়ার দিকে-টেথিস মহাসাগর পেরিয়ে। যেতে যেতে সামনের দিকে টেথিস মহাসাগরকে ধ্বংস করে আর পিছনের দিকে তৈরী হয় ভারত মহাসাগর। প্রায় ছয়কোটি বছর আগে ভারতের ভূখন্ড এসে এশিয়ার দক্ষিণ উপকুলে ধাক্কা মারে। তার ফলে প্রচন্ড একটা ঠেলা তৈরী হয়ে যায়। আর তারই ফলে হিমালয় পর্বতমালার সৃষ্টি এবং তার উঁচ্চতা ২৯,০৩৫ ফুট।

১৪.৭০(চৌদ্ধ কোটি সত্তর লাখ) বছর আগে এ পৃথিবীতে ডাইনোসরের মত অতিকায় প্রাণীর অস্তিত্ব ছিল। ডাইনোসরই ছিল পৃথিবীর প্রথম পাখি। হিমালয় হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে নবীন পর্বত, ৬(ছয়) কোটি বছরও বয়স হয়নি। ১৯৭৪ সালে যে মানুষের জীবাশ্ম আবিস্কৃত হয়েছিল, ৩০(ত্রিশ) লক্ষ বছর আগে মানুষ এসেছে পৃথিবীতে, এতদিন পর্যন্ত সেটিকেই প্রাচীনতম বলে মনে করা হচ্ছিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, তাদের অনুমান সদ্য ২০০৪ সালে আবিস্কৃত এ প্রজাতির মানুষ দু'পায়ে সোজা হাঁটতে সক্ষম ছিল। ৩০(ত্রিশ) লক্ষ বছর আগের সে মানুষ আসলে পৃথিবীতে ৪০(চল্লিশ) লক্ষ বছর আগে এসেছে। বিবিসি। জীবাশ্ম বিজ্ঞানীরা ইথিওপিয়ার মনুষ্য প্রজাতির একটি অংশের কিছু হাড়ের যে অংশ আবিস্কার করেছেন তা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ বছরের পুরানো বলে অনুমান করা হচ্ছে। আজকের মানুষ প্রায় ৭৫(পঁচাত্তর) হাজার বছর আগের।

গত ৭০,০০০(সত্তর হাজার) বছর আগে পৃথিবীর জনসংখ্যা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুযোের্গ দুই হাজারে নেমেছিল এবং মানব প্রজাতির অস্তিত্ব প্রায় ধ্বংস হতে বসেছিল। তবে প্রস্তরযুগের পর তা আবার বাড়তে থাকে। তবে একটি নতুন জেনেটিক গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জার্নাল অব হিউম্যান জেনেটিকস-এ গবেষণা প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয়। জেনোগ্রাফিক প্রকল্পের পরিচালক স্পেনসার ওয়েলস বলেন, মানব প্রজাতির ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো আবিস্কারে জেনেটিকবিদ্যার অসাধারণ ক্ষমতা নতুন এ গবেষণার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। আবার জনসংখ্যা বাড়তে বাড়তে ১২,০০০(বার হাজার) খৃষ্টপূর্বে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল-১(এক) কোটি। ১০,০০০ হাজার খৃষ্টপূর্বে পৃথিবীতে কৃষি-কাজের প্রচলন শুরু হয় এবং পৃথিবীর কৃষি নিভর্রর আদিম জীবনের যুগ অতিবাহিত হয় ১০(দশ) হাজার বছর ধরে। ১০,০০০(দশ হাজার) বছর পূর্বে সোমালিয়া, বেবীলন, ইরাক সভ্যতা আরম্ভ। ১০,০০০ হাজার বছর আগে নরসিংদী জেলার বেলাবো উপজেলার উয়ারী বটেশ্বর-এ বাংলাদেশে প্রথম মানুষের বসতি গড়ে ওঠে। ২,৫০০ হাজার বছর আগের দুর্গনগরীর সন্ধান মিলেছে উয়ারী বটেশ্বরে। ৩৫০০-৪০০০ খৃষ্টপূর্বে চট্টগ্রাম অঞ্চলে মানব বসতির প্রমাণ পাওয়া গেল। শাহীনূজ্জামানের এ আবিস্কারের ফলে নব্য প্রস্তর যুগে (৩৫০০-৪০০০ বছর আগে)। চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রাগৈতিহাসিক যুগেও মানুষ ছিল। ২৫০০ খৃষ্টপূর্বে জয়পুরহাট জেলার মহাস্থানগড়ে বাংলাদেশের তৃতীয় বসতি গড়ে উঠেছিল।

৭(সাত) হাজার বছরের ইতিহাস জানি মাত্র আমরা, যখন থেকে মানুষ তার ইতিহাস লেখে। গাছের বয়স ৭(সাত) হাজার বছর। ৫(পাঁচ) হাজার বছর পূর্বে পৃথিবীর সভ্যতা আরম্ভ। মানুষ কিসের জোরে টিকল। হাতিয়ারের জোরে পশুকে বশ করল এবং পরে আগুণ আবিস্কার করে মানুষ নিজে এ আবিস্কার করেছে। সভ্যতার দিকে এগিয়ে গেল মানুষ। কাঠের চাকা আবিস্কারের ৬২০০ বছর পরে স্টীম ইঞ্জিন ও সংযুক্তিযানের যুগ শুরু হয়।

১৬৫০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল-৫৫(পঁঞ্চান্ন) কোটি, ১৮০০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল-৯০(নব্বই) কোটি, ১৮৫০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল-১১৭(একশত সতের) কোটি, ১৯০০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল-১৬০ কোটি, ১৯২৭ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল-২০০(দুইশত) কোটি, ১৯৬০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল-৩০০(তিনশত) কোটি, ১৯৭৪ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল-৪০০(চারিশত) কোটি, ১৯৮৭ সালের ১১ জুলাই, পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল-৫০০(পাঁচশত) কোটি, ১৯৯৯ সালের ১২ অক্টোবর, পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল-৬০০(ছয়শত) কোটি, ২০০৫ সালের ১১ জুলাই, পৃথিবীর জনসংখ্যা-৬৫০(ছয়শত পঁঞ্চাশ) কোটি। ২০০৬ সালের ১১ জুলাই, পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল ৬৫৮(ছয়শত আটান্ন) কোটি। ২০০৭ সালের ১১ জুলাই, পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল ৬৬৫.৮০(ছয়শত পঁয়ষট্টি কোটি আশি লক্ষ)। ২০০৮ সালের ১১ জুলাই, পৃথিবীর জনসংখ্যা হলো-৬৭৩.৬০(ছয়শত তেহাত্তর কোটি ষাট লক্ষ)। ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি, পৃথিবীর লোকসংখ্যা-৬৭৫,১৬,৪৩,৬০০ (ছয়শত পঁচাত্তর কোটি ষোল লক্ষ তেতাল্লিশ হাজার ছয়শত) এবং ২০০৯ সালের ১১ জুলাই, পৃথিবীর জনসংখ্যা হলো-৬৮০ কোটি। ২০১০ সালের ১১ জুলাই, পৃথিবীর জনসংখ্যা হলো-৬৮৭.৮০ কোটি। ২০১১ সালের ১১ জুলাই, পৃথিবীর জনসংখ্যা হলো-৬৯৯ কোটি, ২০১১ সালের ৩১ অক্টোবর, পৃথিবীর জনসংখ্যা ছাড়িয়ে যাবে-৭০৭ কোটি, ২০১২ সালে ৭১৫ কোটি, ২০১৩ সালে ৭২৩ কোটি, ২০১৪ সালে ৭৩১ কোটি এবং ২০১৫ সালে ৭৩৯ কোটি মানুষ থেকে বেড়ে ২০৫০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা হতে পারে প্রায়-৯৩০ কোটি। ২০৮৩ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা হতে পারে ১,০০০(এক হাজার) কোটি। এবার বিশ্বে ৮(আট) কোটি লোক বাড়ছে। জনসংখ্যা বাড়লে পৃথিবীর কোন প্রকার সমস্যা হচ্ছে না। বাস্তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি বাংলাদেশের মত কিছু কিছু দেশের এক নম্বর সমস্যা। বিজ্ঞানীদের ধারণা ২১০০ সালের পর পৃথিবীর জনসংখ্যা আর বাড়বে বলে মনে হয় না।

বিশ্বে ২০০৮ সালে খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছে-২১৬.৪০ কোটি টন, খাদ্যশস্য মজুদ থাকবে ৪০(চল্লিশ) কোটি টন। ২০১১ সালে বিশ্বে খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছে-২৩২ কোটি টন। বিজ্ঞানীদের ধারণা, বর্তমান বিশ্বে ১,০০০(এক হাজার) কোটি মানুষের খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়। ২০০৯ সালের ১১ জুলাই, পৃথিবীর জনসংখ্যা হলো-৬৮০(ছয়শত আশি কোটি)। ২০১০ সালের ১১ জুলাই, পৃথিবীর জনসংখ্যা হলো-৬৮৭.৮০ (ছয়শত সাতাশি কোটি আশি লাখ)। ২০১৪ সালের ১১ অক্টোবর, বিশ্বের জনসংখ্যা-৭২৫(সাতশত পঁচিশ) কোটি। বিশ্বের ৯০টি দেশে প্রায় ৩৭ কোটি আদিবাসী রয়েছে। বিশ্বের জনসংখ্যার এ হার সাড়ে পাঁচ শতাংশ। গ্রামে বাস করা অতিদরিদ্র ৯০ কোটি মানুষের মধ্যে আদিবাসীদের সংখ্যা এক তৃতীয়াংশের বেশি। পৃথিবীতে গড়ে প্রতিবর্গ মাইলে বাস করে-১২৬ জন (পৃথিবীর আয়তন ৫,৭০,১৭,০০০ বর্গমাইল) আর বাংলাদেশে গড়ে প্রতিবর্গ মাইলে বাস করে ২,৯৬৭ জন (বাংলাদেশের আয়তন ৫৭,২৯৫ বর্গমাইল) আর প্রতিবর্গ কিলোমিটারে বাস করে ১,১৫৬ জন (১,৪৭,০০০ বর্গিকলোমিটার)। গড়পড়তা একটি মানুষের খাদ্য দৈনিক ৫০০ গ্রাম ধরা যদি হয়, তাহলে বছরে খাদ্যশস্য লাগে ১৩১,৪০,০০,০০০ (একশত একত্রিশ কোটি চল্লিশ লক্ষ) টন আর বছরে খাদ্য জমা থাকার কথা ৯০,৩০,০০,০০০(নব্বই কোটি ত্রিশ লক্ষ) টন। তাহলে মানুষ না খেয়ে থাকার কথা নয় বা খাদ্য ঘাটতি নেই। উন্নত বিশ্বের জীব-জন্তু ও পশু-পাখিদের গড়পড়তা যা খাবার খাওয়ানো হয়-তৃতীয় বিশ্বের মানুষদের গড়পড়তা তা খাওয়ানো হয়নি। পৃথিবীতে খাদ্যশস্যের ঘাটতি নেই। ধনীদেশগুলো বা ধনীরা ইচ্ছাকৃতভাবে খাদ্যোর ঘাটতি সৃষ্টি করছে অতি মুনাফার জন্য। খাদ্যের সুষম বণ্টনব্যবস্থা করলে খাদ্য ঘাটতি থাকবে না বা কেউ না খেয়ে মরবে না। ধনীরা যেভাবে বিশ্ববাসীকে অনাহারের পথে ঠেলছে, খাদ্য থেকে জৈব জ্বালানি তৈরি করে তাদের গাড়ি চালানোর জ্বালানি জোগাবে। জাতিসংঘের খাদ্য অধিকার কর্মকর্তার ভাষায় এটা 'মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ'। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্য, চীন, ব্রাজিল, ইউরোপীয় ইউনিয়ন। যুক্তরাষ্ট্রের সড়কে চলা গাড়িগুলো এভাবে জাতিসংঘের দেওয়া তালিকার মধ্যে সবচেয়ে খাদ্যঘাটতিতে পড়া নিম্ন আয়ের ৮২টি দেশের ঘাটতি মেটানোর পুরো শস্যই গাড়ির তেল হিসেবে পুড়িয়ে ফেলবে। দরিদ্রদের অনাহারে রাখার এর থেকে ভালো উপায় আর হয় না।

২০০৮ সালের ৪ জুলাই, বিশ্বব্যাংকের গোপন প্রতিবেদনঃ বিশ্বে খাদ্যোর মূল্যবৃদ্ধির জন্য দায়ী জৈব জ্বালানি। জৈব জ্বালানির কারণেই বিশ্বে খাদ্যদ্রব্যের মূল্য ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বব্যাংকের একটি গোপন প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির এ হার আগে প্রচারিত হারের চেয়ে অনেক বেশি। লন্ডনের বিখ্যাত দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান গতকাল শুক্রবার প্রতিবেদনটি ফাঁস করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে ২০০২ সাল থেকে চলতি বছরের ফেব্রচ্য়ারির মধ্যে খাদ্যের দাম ১৪০ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিবেদনে হিসাব করে দেখানো হয়েছে, খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির জন্য জ্বালানি ও সারের মূল্যবৃদ্ধি দায়ী মাত্র ১৫ ভাগ, যেখানে জৈব জ্বালানি দায়ী ৭৫ ভাগ। খাদ্য দিয়ে জৈব জ্বালানি তৈরী বন্ধ না করলে খাদ্যের মূল্য আরো বাড়তে থাকবে।

৩১-১০-২০১৩ তারিখ জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) 'বিশ্ব জনসংখ্যা প্রতিবেদন-২০১৩' প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই তথ্য দেওয়া হয়। ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর, বাংলাদেশের জনসংখ্যা-১৬(ষোল) কোটি। ২০১৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো প্রবাসীসহ বাংলাদেশের জনসংখ্যা-১৬.৮৯(ষোল কোটি তিরানব্বই লক্ষ) মানুষ জন্মনিবন্ধনের আওতায় এসেছে। ২০১৬ সালে মানে বছরে জন্ম হয় ৩০ লক্ষ ৪৩ হাজার ৮০০শত। আর বর্তমানে মারা যায় ৮ লক্ষ ২২ হাজার লোক। বছরে জনসংখ্যা বাড়ে বাংলাদেশে ২২ লক্ষ ২১ হাজার ৮০০শত লোক। বিবিএস বলছে ২০৫০ সালে আমাদের জনসংখ্যা হবে-২২ কোটি। মার্কিন জনসংখ্যা স্টাডিস বিভাগ বলছে ২০৫০ সালে বেড়ে বাংলাদেশের জনসংখ্যা হবে ২৩.৩৫(তেইশ কোটি পঁয়ত্রিশ লক্ষ) কোটি। কিন্তু আমার মনে ২০৫০ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা হবে প্রায়-২৪(চব্বিশ) কোটি। পৃথিবীর ৪৩.৫২ ভাগের ১ ভাগ লোক বাস করে বাংলাদেশে। প্রতি বছর পৃথিবীতে লোক বাড়ে ৮(আট) কোটি আর বাংলাদেশে বছরে লোক বাড়ে ২০(বিশ) লক্ষ। পৃথিবীর ৪৪ ভাগের ১ ভাগ লোক বাস করে বাংলাদেশে এবং পৃথিবীর হারে লোক বাড়লে বাংলাদেশে লোক বাড়ত বছরে ১৭/১৮(সতের/আঠার লক্ষ)। পৃথিবীর ২৩৩টি রাষ্ট্রের মধ্যে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র ১৯৪টি এবং জাতি ২০০টি। জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের ৮ম স্থানে আছে আর অর্থনীতির দিক থেকে ৩২তম স্থানে আছে। বাংলাদেশ পৃথিবীর কাছ থেকে জায়গা পেয়েছে ৯৯৫ ভাগের ১ ভাগ ৫৭,২৯৫ বর্গমাইল আর জনসংখ্যার অনুপাতে জায়গা পাইত ১৩,০০,০০০ লক্ষ বর্গমাইল। বুর্জোয়া বিকাশ হলেও আমাদের অর্থনীতি ৭ম স্থানে থাকার কথা ছিল। আমরা বিশ্ব নাগরিক-কথায় বলা হয় কিন্তু বাস্তবে না। বিশ্ব নাগরিক হলে বিশ্বের যা কিছু আছে-তাঁর সবকিছুরই সমান ভাগ পাওয়া যেত।