খ্রিষ্টপূর্ব ৪২০০ অব্দে প্রায় যতদূর জানা যায়, বিশ্বের প্রথম নগর পারস্য উপকুলে ইরিডু নামক একটি নগর গড়ে ওঠে। সুমেরিয়ান ভাষায় রচিত ইতিহাসে-এর প্রমাণ পাওয়া যায়। যদিও এর আগে কিছু ছোট শহরের অস্তিত্ব পাওয়া যায়; কিন্তু ইরিডুই সর্বপ্রথম একটি পূর্ণাঙ্গ নগরের মর্যাদা পায়, যেখান থেকে রাষ্ট্রের অর্থনীতি ও শাসননীতি পরিচালিত হতো। খৃষ্টপূর্ব ৪০০০ হাজার সালে বিশ্বের প্রথম উন্মুক্ত খনন ভূগর্ভস্থ মূল্যবান পাথর অনুসন্ধানের জন্য প্রাচীন মিসর ও মেসোপটেমিয়ায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে খনন করা হতো। বেঁচে থাকার জন্য প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ প্রকৃতির বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, প্রকৃতির বিশাল ভান্ডার থেকে খুঁজে নিয়েছে তার প্রয়োজনের জিনিসটি। ৪০০০-৩০০০ খৃষ্টপূর্ব মিশরের সভ্যতার উম্মেষ। মানুষ কিসের জোরে টিকল হাতিয়ারের জোরে পশুকে বশ করল এবং পরে আগুন আবিস্কার করে মানুষ নিজে এ জোর আবিস্কার করেছে। সভ্যতার দিকে এগিয়ে গেল মানুষ। কাঠের চাকা আবিস্কারের ৬২০০ বছর পরে স্টীম ইঞ্জিন ও সংযুক্তিযানের যুগ শুরু হয়। বিশ্বের প্রথম চাকা গুহাবাসী মানুষ চাকা তৈরীর পদ্ধতি জানত না। স্বাভাবিক ধারণার চেয়ে অনেক পরে আবিস্কৃত হয়েছে চাকা। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় সর্বপ্রথম এর অস্তিত্ব পাওয়া যায় মেসোপটেমিয়ায় (আজকের ইরাক)। তার মানে যানবাহনে চাকার ব্যবহার শুরু হয় খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ সহস্রাব্দের মাঝামাঝি। আজও আমরা এর কোনো বিকল্প খুঁজে পাইনি।
৩৫০০ খৃষ্টপূর্বে ইতিহাস ঘাটিলে দেখা যায়, মেসোপটেমিয়ায় লাইব্রেরীর প্রচলন ছিল। ৩৫০০ খৃষ্টপূর্বের কাছাকাছি সময়ে এসে পালতোলা নৌকার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়। ৩০০০ হাজার খৃষ্টপূর্বের অনেক আগেই গাধাকে পোষ মানানো হয়েছিল। খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ হাজার বছরের কাছাকাছি সময়ের যে সুমেরীয় যুদ্ধরথের ছবি পাওয়া যায় তা দেখে মনে হতে পারে যুদ্ধরথটি টানছে ঘোড়া-কিন্তু এ বিষয়ে যাঁরা বিশেষজ্ঞ তাঁদের ধারণা-ঘোড়া নয় গাধা। বিশ্বের প্রথম নীতিগল্প খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ হাজার সালে সুমেরীয় সাহিত্যে ছোটগল্প খুবই জনপ্রিয় ছিল। নৈতিকথার শিক্ষাদানের লক্ষ্যেই প্রধানত ওই সব গল্প লেখা হতো। ঈশপের গল্পে এ ধরনের নীতিকথার সন্ধান মেলে। কুকুর, শেয়াল, বাঁদর, গরু, হাতি, শূকর প্রভৃতি প্রাণী সেসব গল্পের চরিত্র হিসেবে উঠে আসত। বিশ্বের প্রথম কালি মানবসভ্যতার প্রথমদিককার দিনগুলোয় শক্ত তলে দাগ কেটে কিংবা কাদামাটিকে নানা আকার দিয়ে লেখা হতো। মিসরীয়রা প্যাপিরাস কাগজ আবিস্কারের আগেই ৩০০০ খ্রিষ্টপূর্বােব্দ কালি তৈরী করে। পরবর্তী কালে প্যাপিরাস উদ্ভাবনের পর কালিই হয়ে ওঠে লেখার জন্য আদর্শ মাধ্যম। তখনকার দিনে মূলত মৃত মানুষ ও পশুপাখির হাড় শুকিয়ে-পুড়িয়ে তরল কালি তৈরী করা হতো। বিশ্বের প্রথম পস্নাইউড প্রাচীন মিসরে সর্বপ্রথম পস্নাইউড আবিস্কৃত হয়। সঠিক দিনক্ষণ জানা না গেলেও প্রাপ্ত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ধারণা করা হয়, খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ সময়ে পালাইউডের প্রচলন ছিল। তখনকার পস্নাইউড অবশ্য বর্তমান সময়ের পস্নাইউডের মতো মসৃণ ও সুন্দর ছিল না। ভিন্ন ভিন্ন ছয় ধরনের কাঠের সংমিশ্রণে ওই পস্নাইউড তৈরী করা হতো।
খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ হাজার বছর আগে মিসর সরকার বিশেষ ধরনের পুলিশ বাহিনী নিয়োগ দেয়। প্রাচীন মিসরে বিশ্বের প্রথম পুলিশ বাহিনীর প্রচলন ছিল-এমন তথ্য জানা গেছে। সমগ্র মিসরের বিভিন্ন অঞ্চল ছিল তাদের কর্মেক্ষত্র। প্রত্যেক জেলা প্রশাসনে একজন করে পুলিশ কমিশনার নিয়োগপ্রাপ্ত হতেন। বেসামরিক আমলাতন্ত্র এবং কিছু আইনগত দিকও ওই পুলিশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল। ৩০০০ হাজার খৃষ্টপূর্বের অনেক আগেই প্রত্নবিদদের মতে সিরিয়ার বা মেসোপটেমিয়ার রোদে শুকিয়ে নেওয়া মাটির ইটের প্রচলন হয়েছিল। খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ সালে এসে নিশ্চিতভাবে বলা চলে, ভূমধ্যসাগর বা আরবসাগরের ওপর দিয়ে পালতোলা নৌকার রীতিমত যাতায়াত শুরু হয়েছে। ৩০০০ হাজার খৃষ্টপূর্ব প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায় কাদা দিয়ে তৈরি আয়তাকার বস্নকে মানচিত্র আঁকা হতো। খ্রিষ্টের জন্মের তিন হাজার বছর আগেকার এমনই একটি মানচিত্র পাওয়া গেছে ইরাকের কিরকুক শহরে। তাতে ১২৭টি আলাদা ভূখন্ড, কিছু পাহাড় এবং একটি নদীর ছবি আছে। এর চারকোণায় আছে কম্পাসের দিকনির্দেশনা, তবে ওপরের দিকে ধরা হয়েছে পূর্ব। কাছাকাছি সময়ের আরেকটি মানচিত্রে নয়টি গ্রাম ও তার মধ্য দিয়ে বয়ে চলা নদী ও রাস্তার ছবি খুব স্পষ্টভাবেই ধরা পড়ে।
খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০(তিন হাজার) শতকে মানুষ দৈনন্দিন প্রক্ষালন-কর্মে ফ্লাশের ব্যবহার করেছে তা ভাবতেও অবাক লাগে। কী ভাবে এল ফ্লাশ টয়লেট: আজ ফ্লাশের ব্যবস্থা ছাড়া আমরা টয়লেট কল্পনাও করতে পারি না। কিন্তু জানেন কি, পৃথিবীতে প্রথম ফ্লাশ টয়লেট ব্যবহৃত হয়েছিল কবে? সিন্ধু সভ্যতা পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীনতম সভ্যতা। পাকিস্তানের সিন্ধু নদের তীরে গড়ে ওঠা এই সভ্যতা কিন্তু নিজেদের তুলে নিয়েছিল অন্য এক উচ্চতায়। সেই সিন্ধু সভ্যতার নগরী হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোর অধিবাসীরা নিজেদের বাড়িতে ব্যবস্থা করেছিল এই ফ্লাশ টয়লেট।
খৃষ্টপূর্ব ৩০০০ ভারতবর্ষের মানুষ রাস্তা দিয়ে প্রথম চলাচল শুরু করে। বিশ্বের প্রথম চা প্রাচীন চীনের সমাজ-জীবনে চা একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পানীয় হিসেবেই প্রচলিত ছিল। খ্রিষ্টপূর্ব তিন হাজার বছর আগে প্রাচীন চীনের সাহিত্যে-বিশেষ করে কবিতায়-চায়ের গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। টারং রাজবংশের শাসনামলে লু উও 'দ্য টি ক্লাসিক' নামে একটি বই রচনা করেন খ্রিষ্টপূর্ব আট শতাব্দীতে। বইটিতে চা-গাছের উৎপাদন, চা তৈরির পদ্ধতি, নানা ধরনের চায়ের স্বাদ ও গন্ধ ইত্যাদির বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। ২৮০০ খৃষ্টপূর্ব পৃথিবীতে সম্ভবত বাগান করার কাজে প্রথম পথিকৃৎ চীন সম্রাট শেন নুঙ বিভিন্ন যায়গায় লোক পাঠিয়ে নানারকম গাছ সংগ্রহ করতেন। ২৭০০ খ্রিষ্টপূর্ব আকুপাংচার প্রথম আবিস্কার করেন কিংবদন্তির চীনা সম্রাট সেন নাং। গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ ওষধগুলোর প্রথম তালিকাও প্রস্ত্তত করেন তিনি। ২৫০০ খৃষ্টপূর্ব বছর আগে পৃথিবীর আকার গোল, সকলের জানা মাত্র এ কথাটিও নতুন ও অভিনব শোনাত। ২৫০০ খৃষ্টপূর্ব মিশরে কাঠের লাঙ্গল ব্যবহার। খৃষ্টপূর্ব ২৫০০ বছর আগে প্রাচীন গ্রিসে বিশ্বের প্রথম পেশাজীবী নারীদের আয়মূলক বিভিন্ন কর্মকান্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে। তবে সে সময় পুরুষের মতো পেশাজীবী নারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে সব কাজ করার সুযোগ পেতেন না। বিশেষ করে নারীদের বিচারক পদে কাজ করার ব্যাপারে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা ছিল।
বিশ্বের প্রথম সুইমিং পুলের ধারণা সর্বপ্রথম মাথায় এসেছিল সিন্ধু নদীর তীরবর্তী মহেঞ্জোদারো সভ্যতার অধিবাসীদের মধ্যে। প্রকৃত দিন-তারিখ জানা না গেলেও ধারণা করা হয় তা খ্রিষ্টের জন্মেরও আড়াই হাজার বছর আগে তৈরী। ১২ মিটার লম্বা এবং ৭ মিটার চওড়া এ সুইমিংপুলের সর্বোচ্চ গভীরতা ৮ ফুট। আজকের পাকিস্তানে এর ধবংসাবশেষ আজও দর্শনার্থীরা ঘুরে দেখতে পারেন। বিশ্বের প্রথম ভিজিটিং কার্ড হান শাসকদের আলমে (খ্রিষ্টপূর্ব ২০০৬ অব্দ থেকে ২২০ খ্রিষ্টাব্দ) চীনে ভিজিটিং কার্ড নতুন ফ্যাশন হিসেবে প্রচলন লাভ করে। সে সময় কাগজের মান যাচ্ছেতাই ছিল। তাই দুই থেকে তিন ইঞ্চি প্রস্থের ফালি করে কাটা কাঠের টুকরোতেই তৈরী হতো কার্ড। সাদা পটভূমিতে তাতে লেখা থাকত কার্ডধারীর নাম, পদবি আর ঠিকানা। ২০০০ খৃষ্টপূর্বের কাছাকাছি সময় চীনে ধানের চাষ শুরু, তা ভারতবর্ষের কাছ থেকেই শেখা। বিশ্বের প্রথম পরিচয়পত্র নির্বািচত বিশেষ বিশেষ ব্যক্তির জন্য পরিচয়পত্র প্রবর্তন করে অ্যাসেরিয়ান সরকার। সঠিক দিনক্ষণ জানা না থাকলেও ধারণা করা হয়, খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দের গোড়ার দিকে ওই ব্যবস্থা চালু করা হয়। ওই পরিচয়পত্র ছিল মূলত ছোট মাটির ফলকের ওপর কিলকাকার বর্ণ খোদাই করা। বিশ্বের প্রথম জলঘড়ি সময় মাপার জন্য খ্রিষ্টের জন্মের ২০০০ বছরেরও বেশি আগে জলঘড়ির ব্যবহার শুরু হয়। বিরাট এক পাত্রের গায়ে দাগ কাটা থাকত সময়ের হিসাব। আর পানিপূর্ণ সে পাত্রের ছিদ্র দিয়ে পানি বেরিয়ে এসে সময় নির্দেশ করত। মেসোপটেমিয়ায় এ ধরনের জলঘড়ির নির্মাণ পাওয়া গেলেও ঠিক কবে এর ব্যবহার শুরু হয় বা কে আবিস্কার করেন তা জানা যায়নি। ২০০০ খৃষ্টপূর্বের অনেক আগে থেকেই গৃহপালিত পশু হিসেবে ঘোড়ার সাক্ষাৎ পাওয়া যায়। ২০০০ খৃষ্টপূর্ব পর্যন্ত মিশরের প্রায় সমস্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে কবর থেকে। বিশ্বের প্রথম বক্সিং প্রাচীন মিসরে বক্সিং খেলার প্রচলন ছিল বলে জানা গেছে। মিসরীয় ১৮তম রাজবংশের আনুমানিক খৃষ্টপূর্ব ১৩৫০ সালে বিভিন্ন রাজার সমাধিগাত্রে যেসব চিত্র পাওয়া যায় তাতে দেখা যায়, রাজা তৃতীয় এমেনোফিসের সিংহাসনে আরোহণের সময় বক্সিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। ওই সমাধিগাত্রে বক্সিং খেলার বিভিন্ন কৌশলের উল্লেখ রয়েছে।
২০০০ খৃষ্টপূর্বে জুডাইজমের ভিত্তিস্থাপন করা হয়। ১৫০০ খৃষ্টপূর্বে হিন্দুইজমের ভিত্তিস্থাপন করা হয়। ৫২৫ খৃষ্টপূর্বে বুদ্ধইজমের ভিত্তিস্থাপন করা হয়। ১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ ডিসেম্বর, যীশু খৃষ্ট্রের জন্ম, মৃত্যু-৩১ খ্রিষ্টাব্দে। ৬১০ খৃষ্টাব্দে মুহাম্মদ(স.) মুসলিম ধর্মের ভিত্তিস্থাপন করেন। ১৫০০ শতকে গুরু নানক দেব জি, সিকিইজমের ভিত্তিস্থাপন করেন। মিড ১৯ শতকে মির্জা হুসাইন আলী নুরী, বাহা ধর্মের প্রবর্তক। ১৭০০ খ্রিষ্টপূর্ব বিশ্বের প্রথম বর্ণমালা দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া এবং সিনাই অঞ্চলের সেমাইট আদিবাসীরা সর্বপ্রথম বর্ণমালার একটি অখন্ড রূপ দেয়। এতে ছিল মোট ৩০টি বর্ণ। মিসরের খনি অঞ্চলে ব্যবহৃত হিরেটিক লিপি থেকে নেওয়া হয়েছিল এ বর্ণমালার অক্ষরগুলো। মজার ব্যাপার এতে কোনো স্বরবর্ণ ছিল না। পাঠক পড়ার সময় নিজেই সুবিধামতো স্বরবর্ণ যোগ করে নিত। ব্যাপারটা অনেকটা এ রকম-'বলত' শব্দটিতে স্বরবর্ণ যোগে তাঁদের পড়তে হতো 'বালতি'। খ্রিষ্টপূর্ব চৌদ্ধ শতকে বিশ্বের প্রথম কফি ওষুধ হিসেবে কফি ব্যবহৃত হতো। কিন্তু স্বল্প সময়ের মধ্যেই ইয়েমেনবাসী কফিকে কোমল পানীয় হিসেবে পছন্দ করতে শুরু করেন। কফি ফল অনেকটা শিমের মতো। প্রথমদিকে, কফি ফলের খোসা ছাড়িয়ে গরম জলে মিশিয়ে কফি তৈরি করা হতো। পরবর্তী সময়ে পনেরো শতকে কফি ফল তাপে ঝলসিয়ে গরম জলে মিশিয়ে পান করার রীতি চালু হয়। কিন্তু বর্তমান সময়ে প্রচলিত কফি প্রথম তৈরি হয় সিরিয়াতে।
বিশ্বের প্রথম চশমা খ্রিষ্টপূর্ব ১২৮০ সালে ইতালিতে সর্বপ্রথম চশমা আবিস্কৃত হয়। ওই চশমাটি ছিল উত্তল লেন্সের এবং তা দূরের জিনিস দেখতে সাহায্য করত। ফ্লোরেন্সের অ্যালমানডো ডেলা স্পিনাকে এর উদ্ভাবক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও কোনো অপেশাদার ব্যক্তি সেটি তৈরি করেছিলেন-এমন ভিন্ন মতও প্রচলিত রয়েছে। ১৪০০ খৃষ্টপূর্বের আগে পৃথিবীর কোনো অংশেই ব্যাপকভাবে লোহার ব্যবহার শুরু হয়নি। প্রাচীন মিশরে খৃষ্টপূর্ব ১০৫০ অব্দে বেনি হাসানে ১৭নং সমাধিতে একটি ভাস্কর্যে স্টিক হাতে দু'জন খেলোয়াড়ের দাঁড়ানো অবস্থার চিত্র পাওয়া যায়। হকি খেলার ইতিহাস খুব প্রাচীন। খৃষ্টপূর্ব ১০০০ হাজার বছরের আগে এমন কোনো স্পস্ট সাক্ষ্য নেই যা দেখে ঘোড়সওয়ার মানুষের কথা ভাবা যায়। খ্রিষ্টপূর্ব ১০০০ সালে বিশ্বের প্রথম চিনি উত্তর ভারতে আখের ব্যাপক প্রচলন ছিল বলে বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া গেছে। সেই সময়ে আখ-নিস্কাশিত নানা ধরনের মিষ্টিজাত দ্রব্য খুবই জনপ্রিয় ছিল। তখনকার অধিবাসীরা ঘরোয়া পরিবেশে আখ থেকে গুড় তৈরি করতেন। পরবর্তী সময়ে তাঁরা আখ থেকে গুড়ের পাশাপাশি চিনিও তৈরি করেন। তবে বর্তমান সময়ে প্রচলিত দানাদার চিনি যান্ত্রিক সভ্যতার বিকাশের ফল। বিশ্বের প্রথম ক্যালেন্ডার রোমান সম্রাট রোমূলাস খ্রিষ্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দীতে ৩৬০ দিনে এক বছর ধরে ১০ মাসের বর্ষপঞ্জি বা ক্যালেন্ডার চালূ করেন। পরে রাজা নুমা পমপিলিয়াস খ্রিষ্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীতে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি নামে দুটি মাস ক্যালেন্ডারের শুরুতে সংযোজন করেন। শাসক অগাষ্টাস ও জুলিয়াস সিজারের মৃত্যুর পর সেকটিলিস ও কুইনটিলিস মাসের নাম পরিবর্তন করে যথাক্রমে আগষ্ট ও জুলাই করা হয়। বর্তমান যুগের ক্যালেন্ডারে পৌঁছাতে ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যােয় অনেক সংযোজন-বিয়োজন হয়েছে।
৭৭৬ খৃষ্টপূর্ব গ্রীসে অলিম্পিক খেলাধুলার প্রর্বতন। ৩৯৩ খৃষ্টপূর্ব রোমান বর্বতার মুখে বন্ধ হওয়ার পর পিয়ের ডি কুবার্তিেনর প্রচেষ্টায় ১৮৯৬ সালে আবারও সে গ্রীসেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল আধুনিক অলিম্পিকের প্রথম আসর। এ প্রাচীন টুর্নােমন্টের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ইভেন্ট-১০০ মিটার দৌড়। বিশ্বের প্রথম নারীদের খেলাধুলা: প্রাচীন অলিম্পিক আসরে নারীদের কোনো অংশগ্রহণ ছিল না। তবে সে সময় 'হেরিণ গেমস' নামের অন্য একটি খেলায় নারীরা অংশগ্রহণ করতে পারতেন। প্রতি চার বছর পরপর 'হেরিণ গেমসের' আয়োজন করা হতো এবং লোকমুখে তা 'সিক্সটিন ওমেন' নামে পরিচিতি লাভ করে। সঠিক সময় না জানা গেলেও ধারণা করা হয়, প্রথম অলিম্পিকের সময় থেকেই ওই গেমস শুরু হয়। প্রত্যেক অবিবাহিত নারী এতে অংশগ্রহণ করতেন। ৭৫৩ খৃষ্টপূর্ব রোমের প্রতিষ্ঠা। খৃষ্টপূর্ব ৬৯৫ সালে অ্যাসিরিয়া সাম্রাজ্যের নিনেভাতে বিশ্বের প্রথম বোটানিক্যাল গার্ডেন স্থাপিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল অ্যাসিরিয়া সাম্রাজ্যোর সমস্ত প্রজাতির গাছপালা এক আঙ্গিনায় রোপন করা। কিন্তু বাস্তবে তা প্রায় অসম্ভম হলেও জোর চেষ্টা চলেছিল সে সময়। কারণ বর্তমানের জর্ডান, ইসরায়েল, লেবানন, সিরিয়া, ইরাক, আরবের উত্তরাঞ্চল, কুয়েত, তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চল ও ইরানের পশ্চিমাঞ্চল নিয়ে অ্যাসিরিয়া গঠিত ছিল। খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে বিশ্বের প্রথম দেয়াশলাই প্রাচীন চীনে সর্বপ্রথম তৈরী হয়। পাইনগাছের ছোট ছোট কান্ডের ভেতর সালফার ঢুকিয়ে শলাকা বানানো হতো। যা আগুনের সংস্পর্শে এলেই জ্বলে উঠত। ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে নবম শতাব্দী পর্যন্ত অনেক ধরনের দেয়াশলাই তৈরী হয়েছিল কিন্তু কোনোটাই ঘর্ষেণ আগুন উৎপন্ন করতে পারত না। ৬০৬ খৃষ্টপূর্ব মিডিস ও চালডিয়া র্কতৃক নিনেভে শহর জয়।
খৃষ্টপূর্ব ৬০৫-৫৬২ সময়ে বিশ্বের প্রথম ব্যাংক ব্যাবিলনীয় এক সম্রাটের আমলে একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কার্যক্রম চালু ছিল। কিন্তু খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতকে পারস্য শাসকদের শাসনামলে ওই ব্যাংকের বিলুপ্তি ঘটে। ওই ব্যাংকের প্রায় সব নথিপত্র বিলুপ্ত হলেও বেশ কিছু কাগজপত্র উদ্ধার করা গেছে, যা থেকে জানা যায় ওই ব্যাংকে অনেক কেরানি কর্মরত ছিলেন। ৬০০ খৃষ্টপূর্ব বিশ্বের প্রথম ঝুলন্ত উদ্যান রাজা নেবুচাদনেজার দক্ষিণ মেসোপটেমিয়ার ব্যাবিলন নগরে ঝুলন্ত উদ্যান স্থাপন করেন। যা ছিল বিশ্বের বিস্ময়কর স্থাপনার মধ্যে, অন্যতম। রাজা নেবুচাদনেজার ইচ্ছে ছিল উদ্যানটিতে পাহাড়ি অঞ্চলের অবস্থা বিরাজ করবে, যেখানে তাপমাত্রা ও আদ্র্রতা নিয়ন্ত্রণে থাকবে, যাতে করে সহজাতভাবে গাছপালার বৃদ্ধি ঘটে। খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে তবে ধারণা করা হয়, গ্রিক নগরীতে বিশ্বের প্রথম রিলে দৌড় চালু করা হয়: রিলেদৌড় শুরুর সঠিক দিনক্ষণ জানা যায় না। তখনকার রিলেদৌড় বর্তমান রিলেদৌড় থেকে কিছুটা ভিন্নতর ছিল। সে সময়ে দৌড়বিদেরা জ্বলন্ত মশাল বহন করত এবং প্রতিযোগিতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা জ্বালিয়ে রাখত। বিশ্বের প্রথম খাবার মেনু প্রাচীন গ্রিসে খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে বিভিন্ন রাজকীয় অনুষ্ঠানে নৈশভোজের ব্যবস্থা থাকত। নৈশভোজে যোগদানকারী প্রত্যেক সদস্যকে আসন গ্রহণ করার সময় খাবারের মেনু দেওয়া হতো, যেখানে উল্লেখ থাকত কী কী খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। সেখান থেকে যে-কেউ তাঁর পছন্দের খাবারটি বেছে নেওয়ার সুযোগ পেতেন।