আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির
বংশ পরিচিতি
ও
চৌধুরী শামসুন নাহার বেগমের আত্মীয়-স্বজন
(১৮০৬-২০০৬)
রচনা, সংগ্রহ ও সম্পাদনা:
মোঃ জাকির হুসেন(আলমগীর)
মোবাইল: ০১৭১৬৬৫৪৮৪৪
সহযোগিতায়:
মোহাম্মদ এমরান চৌধুরী(ইমন)
ও
আবির হোসেন(জিয়ান)।
জিয়ান বড়বাড়ি প্রকাশনী, ঢাকা।
আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির বংশ পরিচিতি ও চৌধুরী শামসুন নাহার বেগমের আত্মীয়-স্বজন
(১৮০৬-২০০৬)
রচনা, সংগ্রহ ও সম্পাদনা: মোঃ জাকির হুসেন(আলমগীর)
সহযোগিতায়: মোহাম্মদ এমরান চৌধুরী(ইমন)
ও
আবির হোসেন(জিয়ান)।
১ম প্রকাশকাল: ভাদ্র: ১৪১৩ বাংলা সন, ডিসেম্বর-২০০৬ সাল।
প্রকাশক: মোঃ জাকির হুসেন(আলমগীর)।
স্বত্ত্ব: লেখক র্কতৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত।
কমপিউটার কম্পোজ: মোঃ জাকির হুসেন(আলমগীর) ও
আবির হোসেন(জিয়ান)।
প্রাপ্তিস্থান: ৪২/জি, আজিমপুরস্থ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকা, বটতলা, আজিমপুর।
প্রচ্ছদ: মোঃ জাকির হুসেন(আলমগীর)
মুদ্রণে: কনফিডেন্স প্রিন্টার্স,৭০, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মার্কেট, কাটাবন, ঢাকা। মোবাইলঃ০১৭১৫-৮৯১৮৪৮।
মূল্য: ১৫০.০০(একশত পঁঞ্চাশ) টাকা মাত্র।
সূলভ মূল্য: ১০০.০০(একশত) টাকা।
..................................................................................
অযধসধফঢ়ঁৎ ঈযড়ফিযঁৎু ইধৎর ইধহমংযধি চধৎরপযরঃর ধহফ ঈযড়ফিযঁৎু ঝযধসংঁহ ঘধযধৎ ইবমঁস ্ ঐবৎ জবষধঃরাবং
চঁনষরংযবফ নু গফ. তধশরৎ ঐড়ংংধরহ(অষধসমরৎ), চৎরহঃবফ নু:, ২৬:য উবপবসনবৎ, ২০০৬. চৎরপব ঞধশধ:১০০.০০(ঙহব ঐঁহফৎবফ), টঝ উড়ষষধৎ:২(ঞড়ি).
ঊৎসর্গ
নানা মরহুম মোহাম্মদ রিয়াসত-উল্লাহ চৌধুরী(রেসত আলী),
নানী মরহুমা আবের মা
ও
নানার ছোট ভাই মরহুম মোহাম্মদ হাফিজ-উদ-দীন চৌধুরী
স্মরণে।
| আমার কিছু কথা বলার আছে: | ১৯-২৫ |
| আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া সাহেবের কিছু কথা: | ২৬-৩২ |
| বিশ্ব ও ভারতীয় উপমহাদেশের কিছু স্মরণীয় ঘটনা এবং কিছু মহান ব্যক্তিদের জন্ম-মৃত্যুর |
| ''আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির বংশ পরিচিতি ও চৌধুরী শামসুন নাহার বেগমের | ৩৩-১৪০ |
| আত্মীয়-স্বজন'' এর কাজ প্রথম ২০-০৪-২০০৬ তারিখ ঢাকাতে আমার মামাত বোন সেলিনার, |
| ৯২/কে.বি রোড, সুত্রাপুর চৌরঙ্গীর বাসা থেকে শুরু করি(আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির ১ম |
| পুরুষ সালেহ আহমদ চৌধুরী থেকে শুরু হয়ে শেষ হয়েছে ৮ম পুরুষ চৌধুরী ইকতিয়ারউদ্দিন |
| মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজী পর্যন্ত): |
| আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির শিক্ষিত কিছু ব্যক্তির নাম: | ২৮-২৯ |
| এ বংশের প্রথম র্সাটিফিকেটধারী ও শিক্ষিত মেয়েদের নাম: | ২৯-৩০ |
| এ বংশের ১১জন পুরুষ(১ম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর) একাধিক বিয়ে করেছেন এবং ০৭জনের অধিক | ৩০-৩১ |
| দু'জন ৪র্থ পুরুষের স্ত্রী বেঁচে আছে, এ বংশের যারা শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন, এ | ৩২-৩৩ |
| বংশের যে-সব মেয়েরা শহরে চাকুরীতে যোগদান করেন তাদের নাম ও এ বংশে একজনও ১ম |
| এক নজরে আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির আমার জানা কিছু তথ্য: | ৩৩-৩৫ |
| আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির লোকসংখ্যা-০১-১১-২০০৬ সালে ছিল ৩২৯জন তা' থেকে বেড়ে | ৩৫-৩৬ |
| আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির ১৮০৬ থেকে ২০০৬ সালে কত লোকজন হযেছে তা' পুরুষ হিসেবে | ৩৭-৩৯ |
| দেখানো হলো-১ম পুরুষ থেকে ৮ম পুরুষ এর কিছু তথ্য: |
| ১ম পুরুষ সালেহ আহমদ চৌধুরী ও তার ছেলে ২য় পুরুষ হাফেজ বখতিয়ার আহমদ চৌধুরীর | ৩৯-৮০ |
| ১ম পুরুষ সালেহ আহমদ চৌধুরী ও তার ছেলে ২য় পুরুষ মোহাম্মদ জমিরউদ্দিন | ৮০-৯৩ |
| চৌধুরী(পাসু)র বংশ পরিচিতি: |
| ১ম পুরুষ সালেহ আহমদ চৌধুরী ও তার ছেলে ২য় পুরুষ মোহাম্মদ ফয়েজউদ্দিন | ৯৩-৯৮ |
| চৌধুরী(মাসু)'র বংশ পরিচিতি: |
| ১ম পুরুষ সালেহ আহমদ চৌধুরী ও তার ছেলে ২য় পুরুষ মোহাম্মদ নওয়াব আলী চৌধুরীর | ৯৮-১০৬ |
| ১ম পুরুষ সালেহ আহমদ চৌধুরী ও তার ছেলে ২য় পুরুষ মোহাম্মদ বাহের আলী চৌধুরীর | ১০৬-১০৬ |
| বংশ পরিচিতি-তিনি ইব্রাহিমপুর বিয়ে করে চলে গেছে: |
| ১ম পুরুষ সালেহ আহমদ চৌধুরী ও তার ছেলে ২য় পুরুষ মোহাম্মদ হাবিব আলী চৌধুরীর | ১০৬-১০৬ |
| বংশ পরিচিতি-তাঁর কোন পুত্র সন্তান জন্ম না হওয়ার কারণে তার বংশ বৃদ্ধি পায়নি |
| গত ১৯-০৫-২০০৬ তারিখ আহামদপুর যেয়ে সাক্ষাতকার নেই: | ১০৬-১০৭ |
| গত ১৭-০৬-২০০৬ তারিখে সেলিনার বাসায় সভা করা হয়: | ১০৭-১০৮ |
| আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির বংশের(১৮০৬-২০০৬) পর্যন্ত ৫১২ জনের জন্ম-মৃত্যুর হিসেব চার্ট | ১০৮-১০৮ |
| আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির ১ম পুরুষ থেকে ৮ম পুরুষ পর্যন্ত বংশ বিস্তার লাভ করেছে নিম্নে | ১০৮-১০৯ |
| তাদের চার্ট-এ দেখানো হলো: |
| আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির ১ম পুরুষ ০৩ জনের জন্ম-মৃত্যু দেয়া হল | ১০৯-১০৯ |
| আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির ২য় পুরুষ ১২ জনের জন্ম-মৃত্যু দেয়া হল | ১০৯-১০৯ |
| আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির ৩য় পুরুষ ১৭ জনের জন্ম-মৃত্যু দেয়া হল | ১০৯-১১০ |
| আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির ৪র্থ পুরুষ ৫৭জনের জন্ম-মৃত্যু দেয়া হল | ১১০-১১২ |
| আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির ৫ম পুরুষ ১১২জনের জন্ম-মৃত্যু দেয়া হল | ১১২-১১৫ |
| আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির ৬ষ্ঠ পুরুষ ১৫৮জনের জন্ম-মৃত্যু দেয়া হল: | ১১৬-১২০ |
| আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির ৭ম পুরুষ ১৪১জনের জন্ম-মৃত্যু দেয়া হলঃ | ১২০-১২৪ |
| আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির ৮ম পুরুষ ১২জনের জন্ম-মৃত্যু দেয়া হলঃ | ১২৪-১২৪ |
| ১৭-০৬-২০০৬ তারিখ আমার অফিসে বসে ইমন চৌধুরীর সাথে আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির বংশ | ১২৫-১২৬ |
| পরিচিতি সম্বন্ধে আলোচনা করছি: |
| আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির ১৯৬১ সালের ৩১শে জানুয়ারীর পুর্বের কিছু স্মৃতি কিছু ঘটনা | ১২৬-১৩০ |
| কয়েকটি তুর্কি পরিবারের বংশ তালিকা নিম্নে দেয়া গেল: | ১৩০-১৩৫ |
| ২০০৬ সালের ২২শে আগষ্ট, সন্ধ্যা ৭-ঘটিকার সময় বাহির থেকে আমি আমার বাসায় এসে দেখি | ১৩৫-১৩৫ |
| রুক্কু মামার বড় মেয়ে চৌধুরী মাহমুদা বেগম আসছে(চৌধুরী হালিমা খাতুনকে সাথে |
| নিয়ে) তার একমাত্র মেয়ের বিয়েতে দাওয়াত করতে: |
| প্রথম ২০-০৪-২০০৬ তারিখ ঢাকাতে আমার মামাত বোন সেলিনার, সুত্রাপুর চৌরঙ্গীর বাসা | ১৩৬-১৩৬ |
| থেকে ''আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির বংশ পরিচিতি ও চৌধুরী শামসুন নাহার বেগমের |
| আত্মীয়-স্বজন'' এর কাজ শুরু করি এবং গত ২৭-১০-২০০৬ তারিখ বিকেল ১-৩০ মিনিট থেকে |
| ২৮-১০-২০০৬ তারিখ বেলা ১১-৩০ মিনিটের সময় পর্যন্ত এর কাজ শেষ করি- মরহুম মোহাম্মদ |
| রিয়াসত-উল্লাহ চৌধুরীর ছোট ছেলের স্ত্রী মিসেস রোকেয়া বেগম(আমার মামী)র বাড়ীতে: |
| শেষ সাক্ষাতকারের তালিকা: ২৭-১০-২০০৬ ও ২৮-১০-২০০৬ তারিখ আহমদপুর চৌধুরীবাড়িতে | ১৩৬-১৩৭ |
| নিম্নোক্তদের উপস্থিতিতে আমি মোঃ জাকির হুসেন(আলমগীর) ও আমার সহযোগী মোহাম্মদ |
| এমরান চৌধুরী(ইমন) এবং জাকির হুসেন আলমগীর আর্থ-সামাজিক গবেষণা কেন্দ্রের সদস্য |
| জনাব মোঃ আবুল কালাম আজাদ এর উপস্থিতিতে: |
| ইমন চৌধুরী ও মিসেস হালিমা চৌধুরীর কিছু কথা: | ১৩৮-১৩৮ |
| ইংরেজী নববর্ষ, ৩৫তম স্বাধীনতা দিবস, ১৯৪৫ সালঃ | ১৩৯-১৪৩ |
।।
।।
।।
।।
।।
।।
।।
।।
।।
।।
।।
।।
।।
।।
।ভূমিকা:।
১৫৯৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর, লন্ডনে ফাউন্ডার্স হলে ২৪(চব্বিশ) জন ব্যবসায়ী ভারতে ব্যবসা করার সিদ্ধান্ত নেয়ার মধ্যদিয়ে ''ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি'' গড়ে ওঠে। সাত সমুদ্র তের নদী পার হয়ে ১৬০১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি, ক্যাপ্টেন ল্যাঙ্কেমটরের নেতৃত্বে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর জাহাজ বহর ভারত পৌঁছে। শাহ সুজা ৩০০০(তিন হাজার) টাকা শুল্ক দেওয়ার শর্তে ইংরেজদেরকে বাংলায় বাণিজ্য করার অনুমতি দেন। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন, বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার শেষ নবাব সিরাজ-উদ-দৌলাকে পরাস্ত করে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী ভারতবর্ষের ক্ষমতা দখল করেন। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন থেকে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী ভারতবর্ষ ১০১(একশত এক) বছর শাসন করে এবং ১৮৫৮ সালের ১ নভেম্বর থেকে বৃটিশ রাজতন্ত্র ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর কাছ থেকে ভারতবর্ষের শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং ১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট পর্যন্ত বৃটিশ রাজতন্ত্র ভারতবর্ষ শাসন করে ৮৯(উনানব্বই) বছর। ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী ও বৃটিশ রাজতন্ত্র ভারতবর্ষ শাসন করে মোট ১৯০(একশত নব্বই) বছর। মানুষই শ্রমের বিনিময়ে বিশ্বের সবকিছু সৃষ্টি করেছে। ব্রিটিশরা ১৯৪৭ সালের ১৫ আগষ্ট, ভারতবর্ষ থেকে চলে যেতে বাধ্য হলে ভারতবর্ষ বিভক্ত হয়ে স্বাধীন ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়। পাকিস্তানের জন্ম হয়েছিল বলে(তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের আয়ুস্কাল ছিল ২৪ বছর ৪ মাস ৩ দিন) পরবর্তী পর্যােয় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় নয় মাস মুক্তি যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্ম হয়। ভারতবর্ষে তখনও ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর শাসন ছিল, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন পাশ হয়নি। ১৭৯৩ সালের ২২শে মার্চ-এ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইনটি পাশ হয়েছিল। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন-এর অর্থ জমি-জমা, ক্রয়-বিক্রয় ও জমিদারী প্রথা চিরস্থায়ী করাকে বুঝায়।
২০০৮ সালে বাংলাদেশে বিভাগ-৭টি, জেলা-৬৪টি, থানা-১১২টি এবং উপজেলা-৪৮৪টি এরমধ্যে বি-বাড়িয়া জেলার নবীনগরও একটি উপজেলা। এ উপজেলার ১৯টি ইউনিয়ন ও ২০০টি গ্রামের মধ্যে আহমদপুরও একটি গ্রাম। আহমদপুর গ্রামের মোট জনসংখ্যা ৮,০৫০জন। এরমধ্যে গ্রামে বাস করে ৬,৫৫০(ছয় হাজার পাঁচশত পঁঞ্চাশ) জন। শহর এবং বিদেশসহ বাস করে ১,৫০০জন। এ গ্রামেরও একটি ইতিহাস রয়েছে। সালেহ্ আহমদ চৌধুরীর বড় ছেলে হাফেজ বখতিয়ার আহমদ চৌধুরীর শ্বশুর ছিলেন-তুর্কি মুসলমান। খোশাল দিওয়ান(৩৮৬ বর্গমাইল এলাকার মধ্যে ছিল-বাঞ্ছারামপুর উপজেলা, নবীনগর উপজেলা, মুরাদনগর উপজেলা এবং দেবিদ্বার উপজেলার আংশিক নিয়ে) বলদাখাল বা বরদাখাত পরগনার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ছিলেন। এ পরগনার ৩৮৬ বর্গমাইলের মধ্যে ৫৯টি তালুক বা চৌথদারী ছিল-তারমধ্যে আহমদপুর চৌধুরীবাড়িও ১টি তালুক বা চৌথদার এর ৪(চার) আনীর মালিক ছিল। আহমদপুর গ্রামে ১,৬১০টি পরিবার আছে(গ্রাম, শহর ও বিদেশসহ)। আহমদপুর গ্রামে বাস করে ১,৩১০টি পরিবার আর বাকী ৩০০টি পরিবার গ্রামের বাহিরে যেমন-শহর ও প্রবাসে বাস করে। আর বংশ, ছোট-বড় মিলে প্রায় ২৫টি। ২৫টির মধ্যে আহমদপুর চৌধুরীবাড়িও একটি বংশ।
''ভেলানগর বড়বাড়ির বংশ পরিচিতি ও দেশ-বিদেশের তথ্য'' এ বইয়ের কাজ ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে শুরু করেছিলাম এবং শেষ করেছি ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ সেপ্টেম্বর। ভেলানগর-এ আমরা আসছি-১৭৮০খ্রিষ্টাব্দে, নবীনগর থানার ইব্রাহিমপুর গ্রাম থেকে। নবীনগর থানার ইব্রাহিমপুর গ্রামে আমাদের পূর্ব-পুরুষরা আসছে কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার জঙ্গলবাড়ি(ঈসা খা'র দ্বিতীয় রাজধানী হিসেবে পরিচিতি ছিল করিমগঞ্জ উপজেলার জঙ্গলবাড়ি) থেকে। কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার জঙ্গলবাড়ীতে আমাদের পূর্ব-পুরুষরা আসছে ভারতের উত্তর-প্রদেশ থেকে। ভারতের উত্তর-প্রদেশে আসছে আমাদের পূর্ব-পুরুষরা মঙ্গোলিয়া ও আফগানিস্তান থেকে। আমাদের পূর্ব-পুরুষরা মঙ্গোলিয়া ও আফগানিস্তান থেকে ভারতের উত্তর-প্রদেশে এসে মিলিত হয়েছে। এর বেশী কিছু আর জানার চেষ্টা করিনি। ভেলানগর বড়বাড়িতে আমাদের বংশ ৯ম পুরুষের বাসস্থান। নবীনগর-ইব্রাহিমপুর থেকে ১২ মাইল পশ্চিমে ভেলানগরে আসে ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দে। আমাদের ১ম পুরুষ (১) মুনশি মোহাম্মদ বদু মিঞা তাঁর দুই ছেলেকে সাথে নিয়ে আসে। বদু মিঞার জন্ম-১৭৩৭ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৮১৬ খ্রিষ্টাব্দে। বদু মিঞার বড় ছেলে(২য় পুরুষ) নাম-(২) মুনশি মোহাম্মদ হদু মিঞার জন্ম-১৭৬৭ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৮৪৪ খ্রিষ্টাব্দে। তাঁর ছেলে ৩য় পুরুষ (৩) মুনশি মোহাম্মদ জহির-উদ-দীন ব্যাপারীর জন্ম-১৭৯৭ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দে। তাঁর ছেলে ৪র্থ পুরুষ (৪) মুনশি মোহাম্মদ ইউসুফ আলী ব্যাপারীর জন্ম-১৮২৯ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে। তাঁর ছেলে ৫ম পুরুষ (৫) মুনশি মোঃ হায়দর আলী-এর জন্ম-১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে। তাঁর ছেলে ৬ষ্ঠ পুরুষ (৬) মুনশি মোঃ জিন্নত আলী(কান্দু মিঞার) জন্ম-১৮৮৮ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে। তাঁর ছেলে ৭ম পুরুষ (৭) মুনশি মোঃ আজহারুল হক(নসু মিঞার) জন্ম-১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৩-০৭-১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে। তাঁর ছেলে ৮ম পুরুষ (৮) মোঃ জিয়াউদ্দিন আহমদ(বায়েস)-এর জন্ম-২৫-১২-১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে। তাঁর ছেলে ৯ম পুরুষ (৯) মোঃ রাকীব আহমদ(রাকু)-এর জন্ম-২৩-১০-১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে। ভেলানগর বড়বাড়ির বংশে-২২৬ বছরে(ছেলে-মেয়ে ও বউসহ) জন্মগ্রহণ করেছে(১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ২৭-১০-২০০৮ তারিখ পর্যন্ত)-১,৯০৯ জন। এরমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছে(২৭-১০-২০০৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত)-৫৯৯ জন। জীবিত আছে(২৭-১০-২০০৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত)-১,৩১০ জন এরমধ্যে ২৪৫ মেয়ে স্বামীর বাড়িতে এবং ৬৭ স্ত্রী তালাকপ্রাপ্ত। নিবন্ধকার মোঃ জাকির হুসেন(আলমগীর)-এর জানা মতে বাঞ্ছারামপুর থানার ১২৫টি গ্রামের মধ্যে ভেলানগর বড়বাড়ির মত এত বড় বংশ আর দ্বিতীয়টি নেই এবং নবীনগর থানার ২০০টি গ্রামের মধ্যেও এত বড় বংশ দ্বিতীয়টি আছে বলে নিবন্ধকার মোঃ জাকির হুসেন(আলমগীর)-এর জানা নেই।
২০০২ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই মে, আমাকে আমার মা বলে যে, তুমি আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির বংশ পরিচিতি লিখবে এবং আমি আমার মাকে কথা দেই যে-যত কষ্ট হোক না কেন আমি ''আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির বংশ পরিচিতির'' কাজটি করবো। আমার আম্মা ০৫-১১-২০০২ তারিখ রাত ১১-২০ মিনিটের সময় বারডেম হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেণ। আমার মা আমার বইটির(ভেলানগর বড়বাড়ির বংশ পরিচিতি ও দেশ-বিদেশের তথ্য) পূর্ণাঙ্গ রুপ দেখে যেতে পারেননি। আমার মায়ের অনুপ্রেরণা থেকেই আমি এ কাজ করতে সম্মত হই। এ ''আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির বংশ পরিচিতি ও চৌধুরী শাসমুন নাহার বেগমের আত্মীয়-স্বজন''- এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরার চেষ্ট করছি।
এ আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির বংশের জীবিত পরিবারের সংখ্যা হলো-৬৯টি। এ বংশের প্রথম পুরুষ সালেহ্ আহমদ চৌধুরী প্রায় ২০০ বছর পূর্বে তাঁর পুত্র হাফেজ বখতিয়ার আহমদ চৌধুরীসহ দেবীদ্বার উপজেলার পইরাংকুল চৌধুরীবাড়ি(পইরাংকুল চৌধুরীবাড়ি গঙ্গামন্ডল পরগনার অধীনে ছিল) থেকে প্রায় ১২(বার) মাইল উত্তরে নবীনগর উপজেলার আহমদপুর গ্রামে বসতি স্থাপন করেন-তখন নবীনগর থানা প্রতিষ্ঠিত হয়নি, বি-বাড়িয়া মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হয়নি-তখন একমাত্র ত্রিপুরা জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল-১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে। কুমিল্লা জেলার নামকরণ হয়-১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে। দেবীদ্বার উপজেলার পইরাংকুল চৌধুরীবাড়ি গঙ্গামন্ডল পরগনার মধ্যে নামী-দামী বাড়ী ছিল। পইরাংকুল চৌধুরীরাও তুর্কি মুসলমান ছিলেন। আকা বাকের(জ্যেষ্ঠ)-এর জন্ম-১৬২০ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-জানা নেই। আকা বাকের তুর্কি মুসলমান ছিলেন-এ আকা বাকের ঢাকার বিখ্যাত বাখরখানি রুটির প্রবর্তক ছিলেন তিনি নিজেই। আকা বাকের-এর নাতি আহসান উল্লাহ খান-এর জন্ম-১৬৭৫ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-জানা নেই। আহসান উল্লাহ খান মুর্শিদকুলিখানের সময়ে হুগলীর ফৌজদার ছিলেন। আহসান উল্লাহ খান-এর ছেলে আকা সাদেক-এর জন্ম-১৭০৩ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-জানা নেই। আকা সাদেক ৩৮৬ বর্গমাইল এলাকার জমিদার ছিলেন। আকা সাদেক-এর নামে বাঞ্ছারামপুর থানার প্রথম গ্রাম আগানগর গ্রামের নামকরণ করা হয়। আকা সাদেক-এর বড় ছেলে মির্যা ইব্রাহিম বেগ ওরফে মির্যা ভেলার জন্ম-১৭৩২ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-জানা নেই। মির্যা ভেলাও ৩৮৬ বর্গমাইল এলাকার জমিদার ছিলেন। মির্যা ভেলার নামে বাঞ্ছারামপুর থানার দ্বিতীয় গ্রাম ভেলানগর গ্রামের নামকরণ করা হয়। মির্যা ভেলার তিন কন্যা ছিল-(১) আযি-উন-নিসা খানম-এর জন্ম-১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-জানা নেই-পতি মীর আশরাফ আলী খান(এর জন্ম-১৭৫৫ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৮২৯ খ্রিষ্টাব্দে)-এর বাড়ী ছিল ইরানের সিরাজনগর। (২) রওশন আরা খানম-এর জন্ম-১৭৬৪ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-জানা নেই-পতি মির্যা মোহাম্মদ বাকের(পাটনা) ও (৩) তৃতীয় মেয়ের নাম জানা যায়নি-পতি মির্যা হোসেন আলী(নিঃসন্ত্রান)। মির্যা ভেলা তাঁর তিন মেয়েকে জমিদারী ভাগ করে দিয়ে দেন। তখন বলদাখাল বা বরদাখাত পরগনার জমিদার ছিলেন-মির্যা ইব্রাহিম বেগ ওরফে মির্যা ভেলার মেয়ে আযি-উন-নিসা খানম-এর পতি মীর আশরাফ আলী খান। তখন বলদাখাল বা বরদাখাত পরগনার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ছিলেন-খোশাল দিওয়ান এর জন্ম-১৭৬৫ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৮৪৪ খ্রিষ্টাব্দে। তখন বলদাখাল বা বরদাখাত পরগনার প্রশাসনিক হেডকোর্টার ছিল বর্তমান মুরাদনগর উপজেলার থোল্লা-বাখরনগর। ঐখান থেকে ৩৮৬ বর্গমাইল এলাকার জমিদারী পরিচালনা করা হত। তখন জমিদারগুলি বসবাস করত ঢাকাতে। জমিদাররা তা'দের কর্মকর্তা ও কর্মচারী দিয়ে জমিদারী পরিচালনা করতেন। মাঝেমধ্যে জমিদাররা জমিদারী এলাকা পরিদর্শণ করতেন বা বেশীরভাগ জমিদার যেত তাদের জমিদারীতে আমোদ-ফুর্তি করার জন্য।