বাঞ্ছারামপুর থানার দরিকান্দি গ্রামের অধিবাসী পন্ডিত, ইতিহাসবিদ ও প্রাক্তন সচিব জনাব আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া(আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া বহু গ্রন্থের লেখক, ইতিহাসবিদ, প্রত্নতত্ত্ববিদ ও অনুবাদক-গ্রাম বাংলার হাসির গল্প, কুমিল্লা জেলার ইতিহাস, বাংলাদেশের প্রত্নসম্পদ, তবকাতে নাসিরি, মোজাফর নামা, নওবাহার-ই-মুর্শিদকুলী খান, বি-বাড়িয়া জেলার ইতিহাস, বাঞ্ছারামপুর থানার ইতিহাস, গোপি চন্দ্রের সন্নাস ও নবাব সিরাজ-উদ-দৌল্লা ইত্যাদি আরো অনেক বই। যাকারিয়ার জন্ম-০১-১০-১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে ভেলানগর বড়বাড়িতে, বর্তমান বাসার ঠিকানাঃ-১৬নং লেক সার্কাস, কলাবাগান, উত্তর ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৫)। যাকারিয়া সাহেব হলো আমার ফুফুাত ভাই। উনার নিকট জানতে পারলাম যে, তা'দের পূর্ব-পুরুষদের সাথে পইরাংকুল চৌধুরীবাড়ির আত্মীয়তা আছে। জনাব আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার পূর্ব-পুরুষদের বাড়ী ছিল দিঘিরপাড়, মুরাদনগর। দিঘিরপাড় তাদের জমিদারী ছিল। জনাব আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার পূর্ব-পুরুষরা তুর্কি মুসলমান ছিলেন। জনাব আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া সাহেবের পরিবারটি ৮ম পুরুষ শিক্ষিত। (১) নাসির-উদ-দীন মুনশি-তাঁর ছেলে (২) শমশের-উদ-দীন মুনশি-তাঁর ছেলে (৩) ফসিহ উদ-দীন মিঞা-তাঁর ছেলে (৪) গোলাম রসুল মিঞা-তাঁর ছেলে (৫) এমদাদ আলী মিঞা-তাঁর ছেলে (৬) আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া-তাঁর ছেলে (৭) মাহমুদ-তার ছেলে (৮) অনন্ত। জনাব আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার দাদার নাম গোলাম রসুল মিঞা এবং গোলাম রসুল মিঞার দাদার নাম ছিল শমশের উদ-দীন মুনশি(শমশের উদ-দীন মুনশির জন্ম-১৭৫৫ খ্রিষ্টাবে, মৃত্যু-জানা নাই)। শমশের উদ-দীন মুনশির এক মেয়ে বিয়ে দেন পইরাংকুল চৌধুরীবাড়ির খান মাহমুদ চৌধুরীর ছেলের নিকট। খান মাহমুদ চৌধুরী হলো আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির সালেহ্‌ আহমদ চৌধুরীর বড় ভাই। আহমদপুর মুনশি বাড়ীর লোকজনরা হলো আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া সাহেবদের বংশধর। আলী আজগর মুনশির বোন বিয়ে দেয় আহমদপুর সরকারবাড়ির জনাব সিরাজ মাষ্টারের দাদা(জনাব আমির ব্যাপারীর) নিকট। আলী আজগর মুনশির বোনের কোন ছেলে সন্তান ছিলনা। পরে আবার সিরাজ মাষ্টারের দাদা জনাব আমির ব্যাপারী বিয়ে করে ঐ ঘরে হলো সিরাজ মাষ্টারের বাবা জনাব আক্তার আলী সরকার। বাহরাম মুনশির নাতি-আলী আজগর মুনশি, দিঘিরপাড় তাদের জমিদারী এবং বাড়িঘর খাজনার দায়ে নিলামে উঠলে আলী আজগর মুনশি(-এর ছেলে আশরাফ আলী মুনশি তাঁর ছেলে লিল মিঞা তাঁর ছেলে কর্ণেল মাহবুব), দিঘিরপাড়, মুরাদনগর থেকে আহমদপুর গ্রামে বসতি স্থাপন করে। এ আলী আজগর মুনশির নামেই আহমদপুর মুনশিবাড়ীর নামকরণ করা হয়।

ভেলানগর দিওয়ানবাড়ির খোশাল দিওয়ানের বড় মেয়েকে বিয়ে করেন যাকারিয়া সাহেবের দাদার বাবা ফসিহ উদ-দীন মিঞা। ফসিহ উদ-দীন মিঞার জন্ম-১৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দে(দিঘিরপাড়, মুরাদনগর), দ্বিতীয় মেয়েকে বিয়ে দেন রূপসদী গ্রামের দারোগা আমির-উদ-দীন-এর নিকট। দারোগা আমির-উদ-দীন-এর জন্ম-১৭৮৯ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৮৬৯ খ্রিষ্টাব্দে(দারোগা আমির-উদ-দীন-বাঞ্ছারামপুর থানার প্রথম দারোগা ও প্রথম জমিদার ছিলেন এবং দারোগা আমির-উদ-দীন-এর পিতার নাম হলো-মুয়াজ্জেম শরীফ(লাল মাহমুদ-এর জন্ম-১৭৬২ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু- জানা নেই) এরা তুর্কি মুসলমান ছিলেন। দারোগা আমির-উদ-দীন-এর ঢাকার বাদামতুলিতে পাকা মসজিদ, পাকা বাড়ী, পাকা মাদ্রাসা ও তাঁর পাকা কবর আছে। এবং খোশাল দিওয়ানের তৃতীয় মেয়েকে বিয়ে দেন আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির সালেহ্‌ আহমদ চৌধুরীর বড় ছেলে হাফেজ বখতিয়ার আহমদ চৌধুরীর নিকট। হাফেজ বখতিয়ার আহমদ চৌধুরীর জন্ম-১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৮৬৩ খ্রিষ্টাব্দে(আহমদপুর চৌধুরীবাড়ী)। সালেহ্‌ আহমদ চৌধুরীর জন্ম-১৭৬২ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৮৪১ খ্রিষ্টাব্দে। ৪র্থ মেয়েকে বিয়ে দেন হামযা উদ-দীন শিকদার-এর নিকট(এরাও তুর্কি মুসলমান এবং ভেলানগর দিওয়ানবাড়ীর সাথে ঘর-জামাই হিসেবে থাকে), খোশাল দিওয়ানের ২য় ভাই আকিল মাহমুদ-এর ছেলের নিকট(আকিল মাহমুদ-এর ছেলের নাম জানা যায়নি-কিন্তু আকিল মাহমুদ-এর ছেলের ঘরের নাতির নাম হলো কান্দু মিঞা। কান্দু মিঞা বি-বাড়িয়া মহকুমা কোর্টের সেরেস্তাদার ছিলেন, সেরেস্তাদার-এর অর্থ হলো রেকর্ড-কিপার বা হেড ক্লার্ক) খোশাল দিওয়ানের ৫ম মেয়েকে বিয়ে দেন।

জনাব যাকারিয়া সাহেবের বাবার দাদা-ফসিহ উদ-দীন মিঞা(দিঘিরপাড়, মুরাদনগর), দারোগা আমির-উদ-দীন(রূপসদী), আমার নানার দাদার বাবা হাফেজ বখতিয়ার আহমদ চৌধুরী(আহমদপুর চৌধুরীবাড়ী, নবীনগর), হামযা উদ-দীন শিকদার(ভেলানগর শিকদারবাড়ী) এবং আকিল মাহমুদ-এর ছেলেসহ উপরোক্ত ৫(পাঁচ)জন ভায়রা ভাই। আরেকটি পরিচয় হলো-যাকারিয়া সাহেবের দাদা গোলাম রসুল মিঞা, দারোগা আমির উদ-দীনের ছেলে ইউসুফ আলী, নিবন্ধকার মোঃ জাকির হুসেন(আলমগীর)-এর নানা রিয়াসত-উল্লাহ চৌধুরীর দাদা রহিমোল্লাহ চৌধুরী ওরফে রমল্লা চৌধুরী এবং আকিল মাহমুদ-এর নাতি কান্দু মিঞা এরা ৪(চার)জন আপন খালাতো ভাই। ভেলানগর দিওয়ান বাড়িতে(খোশাল দিওয়ানের বাড়িতে) বর্তমানে বাস করে খোশাল দিওয়ানের ছোট ভাই মুন্সেফ হোসাইন-উদ-দীন মুনশির নাতি দিওয়ান মখলুক উল-আহাদ-এর বড় ছেলে দিওয়ান লাল মিঞা সাহেবের ছোট মেয়ে মিসেস খুকী বেগম। খুকী বেগমকে বিয়ে করেছে আমার বাবার চাঁচাত ভাইয়ের ছেলে জনাব মোঃ সিদ্দিকুর রহমান(সিদ্দিক ভাই)। খোশাল দিওয়ানের ১৮-বিঘা বাড়িতে বর্তমানে জনাব মোঃ সিদ্দিকুর রহমান ও মিসেস খুকী বেগম-তার ছেলে-মেয়েসহ বসবাস করে।

হোমনা থানার দৌলতপুর শিকদারবাড়িতে খোশাল দিওয়ানের তৃতীয় ভাই আকরাম উদ-দীন মুনশির মেয়েকে বিয়ে দেন। তাঁর মেয়েরঘরের নাতিন বিয়ে করেন যাকারিয়া সাহেবের দাদা(গোলাম রসুল মিঞা)। যাকারিয়া সাহেবের দাদা(গোলাম রসুল মিঞার জন্ম-১৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে। জনাব আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার বাবা-জনাব ইমদাদ আলী মিঞার জন্ম-১৮৭১ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে(দরিকান্দি)। উনি বিয়ে করেন ভেলানগর বড়বাড়িতে আমার ফুফু-(মিসেস আতিকান্নিসা বেগমকে)। খোশাল দিওয়ানের তৃতীয় ভাই আকরাম উদ-দীন মুনশি-দরিকান্দি কাযী বাড়ীতে বিয়ে করেন বলে খোশাল দিওয়ান ছোট ভাই-এর উপর হুকুম জারি করেন(আকরাম উদ-দীন মুনশির ওপর) যে, ভেলানগর দিওয়ানবাড়ী ছেড়ে দরিকান্দি বসবাস করার জন্য। যাকারিয়া সাহেবের দাদার আমলে জমিদারী লাটে উঠলে তা'দের পরিবারটি দরিকান্দি এসে আশ্রয় নেয় যাকারিয়া সাহেবের দাদীর নানার বাড়ীতে(আকরাম উদ-দীন মুনশি হলো যাকারিয়া সাহেবের দাদীর নানা)।

মোহাম্মদ রিয়াসত-উল্লাহ চৌধুরী ওরফে রেসত আলী চৌধুরীর(জন্ম-১৮৭৫ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দে) আপন খালাত বোনকে(ফতেপুর ব্যাপারীবাড়ীর জনাব মোহাম্মদ মেহেদি আলী ওরফে মেন্দি আলী ব্যাপারীর বোন) রসুল্লাবাদ গ্রামের মোহাম্মদ আবদুল চাপরাস-এর নিকট বিয়ে দেন। এ খালাত বোন আমার নানার বয়সে ছোট ছিল। জনাব মোহাম্মদ রিয়াসত-উল্লাহ চৌধুরীর ছোট এবং ভাই-বোনদের মধ্যে দ্বিতীয় এবং বোনদের মধ্যে মেঝো বোনকে বাঞ্ছারামপুর থানার উলুকান্দি গ্রামের(উলুকান্দি গ্রামটি মেঘনা নদীর পারে অবস্থিত, উলুকান্দি গ্রাম মেঘনা নদীর ভাঙ্গণ থেকে রক্ষা করা হয়নি এখনও এবং উলুকান্দি গ্রাম থেকে নরসিংদী জেলা শহর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত) হাঁজী মোহাম্মদ ইসহাক মৌলভীর নিকট বিয়ে দেন। তখনও বাঞ্ছারামপুর থানার নামকরণ হয়নি-নাম ছিল বাঞ্ছারামপুর পুলিশ ফাঁড়ি। ১৮৭৫ খ্রিষ্টাব্দে গৌরিপুর থানা নাম ছিল এরপর ১৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দে গৌরিপুর থানার পরিবর্তে নবীনগরের নামে থানার নামকরণ করা হয়। নবীনগর থানার অধীনে বাঞ্ছারামপুর পঁলিশ ফাঁড়ি নাম ছিল। বাঞ্ছারামপুর থানা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দে। ঐ বোনের এক ছেলে হওয়ার পর স্বামী মারা যান। ছেলের নাম ছিল মৌলভী মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। উলুকান্দি থেকে বোনকে নিয়ে আসে এবং আবার ঐ বোনকে হাঁজীপুর বিয়ে দেন আমার নানার ফুফাত ভাই মুনশি আবদুল জব্বার-এর নিকট। মুনশি আবদুল জব্বার-এর পরিচয় হলো হাজীপুর-এর আমার খালাত ভাই-বাবুলের দাদা।

মোহাম্মদ রিয়াসত-উল্লাহ চৌধুরী নিজে বিয়ে করেন বাঞ্ছারামপুর থানার মরিচাকান্দি গ্রামের(মরিচাকান্দি গ্রামটিও মেঘনা নদীর পারে অবস্থিত এবং মরিচাকান্দি গ্রামটি নদীর ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পায়নি-মরিচাকান্দি গ্রাম থেকে নরসিংদী শহর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত) মুনশি দিলওয়ার আলী সরকার-এর ছোট মেয়ে আবের মা'কে। মুনশি দিলওয়ার আলী সরকার-এর বড় মেয়েকে বিয়ে দেন দরিকান্দি মুনশিবাড়িতে(বাঞ্ছারামপুর থানার সাবেক এম.পি. মোজাম্মেল হক(অদু মিঞা)-এর বড় চাঁচা মুনশি মোহাম্মদ জুলফিকার আলীর(মুনশি মোহাম্মদ জুলফিকার আলীর বাবার নাম হলো-মোহাম্মদ মুরাদ আলী মুনশি) নিকট। আমার নানা দরিকান্দি আপন ভায়রা ভাইয়ের বাড়িতে বেড়াইতে এসেছিলেন। আমার নানী আবের মা'র ছোট ভাই জনাব মোঃ মিজানুর রহমান(মিজানুর রহমান-এর জন্ম-১৮৯৬ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৫-০৮-১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে)-১৯১৭ খ্রিষ্ট্রাব্দে নবীনগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৭ম স্থান অধিকার করেন এবং তিনি ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ. পাশ করেন। জনাব মোঃ মিজানুর রহমান ১৯২৬ সালে লিখিত প্রথম বি.সি.এস.(বেঙ্গল সিভিল সার্ভিস) প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাঙ্গালী মুসলমানের মধ্যে প্রথম ডিপুটী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেন। উনার পূর্বে আরও যাঁরা ডিপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন তাঁদের মধ্যে ছিলেন জনাব শের এ-বাংলা এ.কে.ফজলুল হক ও ঢাকার নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ প্রমুখ(তাঁরা সবাই ছিলেন নমিনেটেড)। এর পূর্বে যারা ডিপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হয়েছিলেন তারা ছিলেন মূলতঃ সাব-ডিপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। আমার নানীর ছোট ভাই(আমার নানার শ্যালক)জনাব মোঃ মিজানুর রহমান-এর দাদা শ্বশুর নওয়াব সিরাজুল ইসলাম-১৮৬৮ খ্রিষ্টাব্দে কুমিল্লা জেলার প্রথম গ্রাজুয়েট এবং কুমিল্লা জেলার দ্বিতীয় নওয়াব উপাধি পান ১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দে(কুমিল্লা জেলার প্রথম নওয়াব ছিলেন ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী-এর জন্ম-১৮৩৪ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-২৩-০৯-১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে। তিনি হোমনাবাদ পরগনা-পশ্চিমগাঁও, লাকসাম উপজেলা, কুমিল্লার জমিদার ছিলেন)। ১৮৪৫ খ্রিষ্টাব্দে নবীনগর উপজেলার পেয়ারাকান্দি গ্রামের কাজীবাড়িতে নওয়াব সিরাজুল ইসলাম-এর জন্ম, মৃত্যু-১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে। সিরাজুল ইসলাম সাহেব যখন লেখাপড়া করেন সমগ্র ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় কোন ইংরেজী স্কুল ছিল না। উনি ঢাকাতে যেয়ে লেখাপড়া করতে হয়েছে।

জনাব মোহাম্মদ রিয়াসত-উল্লাহ চৌধুরীর(আমার নানার) আপন ফুফাত ভাই হাঁজীপুর গ্রামের মুনশি আবদুল জব্বার বাঞ্ছারামপুর থানার রূপসদী গ্রামের সরকারবাড়ীতে আবদুল বারেক মুনশির বড় মেয়েকে বিয়ে করেন এবং আমার নানার আপন মামাত ভাই(নাছিরাবাদ গ্রামের মুনশি আবদুল আজীজ ব্যাপারী) আবদুল বারেক মুনশির ২য় মেয়েকে বিয়ে করেন এবং ঐ দু'টি বিয়েতে আমার নানা রিয়াসত-উল্লাহ চৌধুরী রূপসদী উপস্থিত ছিলেন। আবদুল বারেক মুনশি রূপসদী সরকারবাড়ীর মাইনর স্কুলের হেড মাষ্টার ছিলেন। রূপসদী এবং ভেলানগর গ্রাম দু'টি উত্তর-দক্ষিণে লাগালাগি। এবং মোহাম্মদ রিয়াসত-উল্লাহ চৌধুরীর আপন মামাত বোনকে(নাছিরাবাদ গ্রামের মুনশি আবদুল আজীজ ব্যাপারীর ছোট বোন) বাঞ্ছারামপুর থানার দরিকান্দি গ্রামের বড়বাড়িতে জনাব মোহাম্মদ ময়জু-দ্দীন হাঁজীর নিকট বিয়ে দেন। এ মামাত বোনের বিয়ের সময়ও আমার নানা নাসিরাবাদ ব্যাপারীবাড়িতে উপস্থিত ছিলেন এবং মামাত বোনকে দেখার জন্য রিয়াসত-উল্লাহ চৌধুরী দরিকান্দি বড়বাড়িতে বেড়াইতে এসেছিলেন। ময়জু-দ্দীন হাঁজী হলো জনাব মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন ওরফে সুরুজ মাষ্টার-এর বাবার চাঁচাত ভাই। দরিকান্দি গ্রাম হলো ভেলানগর গ্রামের লাগ পূর্বের গ্রামটি। জনাব মোহাম্মদ রিয়াসত-উল্লাহ চৌধুরীর আপন ছোট বোন মিসেস আজমুদা বেগমকে বিয়ে দেন বাঞ্ছারামপুর থানার উলুকান্দি গ্রামের মৌলভী আবদুল জব্বার সাহেবের নিকট। জনাব মোহাম্মদ সাদত আলী চৌধুরীর ২য় মেয়ে(আমার নানা রিয়াসত-উল্লাহ চৌধুরীর চাঁচাত ফুফু)কে বাঞ্ছারামপুর থানার রূপসদী গ্রামের সরকারবাড়ীতে বিয়ে দেন জনাব আব্বাস আলী সরকার-এর নিকট। জনাব আব্বাস আলী সরকার হলো জনাব মোহাম্মদ লাল মিঞা মুক্তার-এর বাবা এবং আব্বাস আলী সরকার হলো আমার সহপাঠী জনাব আবদুল মোতালেব সরকার(মিন্টু)-এর দাদা। আবদুল মোতালেব সরকার(মিন্টু) বর্তমানে ইতালি প্রবাসী। সকলের অবগতির জন্য এখানে একটি তথ্য দেয়া হলো যে, রূপসদী সরকারবাড়ীর আবদুল বারেক মুনশির ২য় মেয়ে বিয়ে করেছে আমার নানার আপন মামাত ভাই নাসিরাবাদ ব্যাপারীবাড়ীর মুনশি আবদুল আজীজ ব্যাপারী ও আমার নানার আপন ফুফাত ভাই হাঁজীপুর গ্রামের মুনশি আবদুল জব্বার সাহেব বিয়ে করেছে বারেক মুনশির বড় মেয়েকে এবং আবদুল বারেক মুনশির বড় ভাই-এর বড় ছেলে আব্বাস আলী সরকার-এর নিকট আমার নানার চাঁচাত ফুফুকে বিয়ে দেন। আব্বাস আলী সরকার-এর বাবা এবং আবদুল বারেক মুনশি তাঁরা উভয়ে আপন ভাই। আব্বাস আলী সরকার এবং আবদুল বারেক মুনশির মেয়েরা তাঁরা উভয়ে আপন চাঁচাত ভাই-বোন। অবশ্য মোহাম্মদ রিয়াসত-উল্লাহ চৌধুরীর চাঁচাত ফুফুকে মানে মিসেস মাতাব চাঁন বিবির বোনকে আগে বিয়ে দেন এবং পরে অবশ্য রিয়াসত-উল্লাহ চৌধুরীর আপন ফুফাত ভাই মুনশি আবদুল জব্বার ও আপন মামাত ভাই মুনশি আবদুল আজীজ ব্যাপারী বিয়ে করেন। এ দু'টি বিয়ে আমার নানা রিয়াসত-উল্লাহ চৌধুরীর আপন ফুফাত ভাই ও মামাত ভাইকে(আমার নানা রিয়াসত-উল্লাহ চৌধুরী-আব্বাস আলী সরকার-এর মাধ্যমে আবদুল বারেক মুনশির-২টি মেয়েকে বিয়ে করান)। জনাব মোহাম্মদ সাদত আলী চৌধুরীর চতুর্থ মেয়ে মিসেস মাতাব চাঁন বিবিকে বিয়ে দেন বাঞ্ছারামপুর থানার গকুলনগর গ্রামের মুনশি মোহাম্মদ মাহমুদ আলী ভূইয়ার(জন্ম-১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দে) নিকট। মুনশি মোহাম্মদ মাহমুদ আলী ভূইয়া পরে আহমদপুর চৌধুরীবাড়িতে ঘর-জামাই হিসেবে চলে যান। মিসেস মাতাব চাঁন বিবি ও মুনশি মোহাম্মদ মাহমুদ আলী ভূইয়ার ছেলে-মেয়েরা বা নাতি-নাতনীরা আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির বংশ তালিকায় তাদের নাম আছে। গকুলনগর গ্রামটিও ভেলানগর গ্রাম থেকে লাগ পর্ব-দক্ষিণে অবস্থিত।

নবীনগর থানার ফতেপুর ব্যাপারীবাড়ির মুনশি মোহাম্মদ মেহেদি আলী ওরফে মেন্দি আলীর ছোট বোনকে(আমার নানার খালাত বোনকে)-রসুল্লাবাদ গ্রামে বিয়ে দেন-জনাব মোহাম্মদ আবদুল চাপরাস-এর নিকট। আমার বড় চাঁচা মুনশি মোহাম্মদ জিন্নত আলী(কান্দু মিঞা)-রসুল্লাবাদ বিয়ে করেন-জনাব মোহাম্মদ আবদুল চাপরাস-এর মেয়ে মিসেস আসুভা খাতুনকে। আমার নানার খালাত বোনের মেয়ে মিসেস আসুভা খাতুনকে যখন আমার বড় চাঁচা বিয়ে করেন-১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দে তখন আমার দাদা মুনশি মোঃ হায়দর আলী জীবিত ছিল এবং রসুল্লাবাদ গ্রামে বড় ছেলের বিয়েতে গিয়েছিল। এ বিয়েতে আমার নানার খালাতো ভাই ফতেপুর ব্যাপারীবাড়ির জনাব মোহাম্মদ মেহেদি আলী ওরফে মেন্দি আলী ব্যাপারী এবং আমার নানা জনাব মোহাম্মদ রিয়াসত-উল্লাহ চৌধুরী উপস্থিত ছিল। তখন আমার দাদার সাথে আমার নানার পরিচয় হয় ঐ বিয়েতে। আমার নানার বয়স ছিল তখন ৪৯বছর এবং আমার দাদার বয়স ছিল প্রায় ৬৬বছর। আমার বড় চাঁচার বিয়ের পরের বছর আমার দাদা ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে মারা যান। দেখতে আমার দাদা সু-পুরুষ ছিলেন এবং আমার নানাও সু-পুরুষ ছিলেন। আমার নানার খালাত বোনের মেয়ে মিসেস আসুভা খাতুনকে বিয়ে করার কারণে আমার বড় চাঁচার সাথে আমার নানার চিনা-জানা ছিল এবং মোহাম্মদ রিয়াসত-উল্লাহ চৌধুরীর খালাত বোনের ভাগিনী জামাই লাগত আমার বড় চাঁচা মুনশি মোঃ জিন্নত আলী(কান্দু মিঞা)। আমার নানার খালাত বোনের ভাগিনা জনাব মোহাম্মদ মালু দারোগা(রসুল্লাবাদ)-আমার বাবার নিকট আমার মাকে বিয়ে দেন। আমার মা মালু দারোগার মামাত বোন। আমার মায়ের বয়সের তুলনায় আমার বাবার বয়স ছিল অনেক বেশী। আমার বাবার নাম মৌলভী আবদুস সোবহান(সোন্ধা মাষ্টার)-এর জন্ম-১২ নভেম্বর, ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৫-০৫-১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে মিডফোর্ড হাসপাতালে। আমার মায়ের নাম চৌধুরী শামসুন নাহার বেগম-এর জন্ম ছিল-৩০শে ডিসেম্বর, ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে এবং মৃত্যু-০৫-১১-২০০২ খ্রিষ্টাব্দে রাত ১১-২০ মিনিটের সময় বারডেম হাসপাতালে। ভেলানগর বড়বাড়ির ছেলেদের একটু বেশী বয়স হলে বিয়ে করানো হয়। ভেলানগর বড়বাড়ির ঠিক সোজাসুজি পূর্বিদকে আহমদপুর গ্রাম অবস্থিত। ভেলানগর বড়বাড়ি হতে আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির দূরত্ব প্রায় ১২(বার) মাইল পূর্বিদকে।