আমার নানা(মোহাম্মদ রিয়াসত-উল্লাহ চৌধুরীর) দু'জন ফুফু ছিলেন-প্রথমজন বিয়ে দেন গাযীপুর(জাঙ্গাল)-এর পোষ্ট মাষ্টার বাদশা মিঞার বাবার নিকট এবং অপরজনকে বিয়ে দেন হাঁজীপুর গ্রামের মুনশি মোহাম্মদ মনির-উদ-দীন সাহেবের নিকট। মুনশি মোহাম্মদ মনির-উদ-দীন সাহেব মারা যাওয়ার পর উনারই ছোট ভাই মুনশি মোহাম্মদ তমিজ-উদ-দীন সাহেব-এর নিকট-পরে আবার বিধবা ফুফুকে দ্বিতীয়বার বিয়ে দেন। মুনশি মোহাম্মদ তমিজ-উদ-দীন সাহেবের ঘরে জন্ম হয় আমার নানার ফুফাত ভাই মুনশি আবদুল জব্বার সাহেব। গাযীপুর(জাঙ্গাল)-এর পোষ্ট মাষ্টার বাদশা মিঞা এবং হাঁজীপুর গ্রামের মুনশি আবদুল জব্বার-এরা দু'জনে আপন খালাত ভাই ছিলেন। মুনশি আবদুল জব্বার হলো আমার খালাত ভাই বাবুলের দাদা। মুনশি আবদুল জব্বার সাহেব-এর নিকট আমার নানার মেঝো বোনকে বিয়ে দেন। সন্তান হওয়ার সময় আমার নানার মেঝো বোন মারা যান। আমার নানার ফুফাত ভাই মুনশি আবদুল জব্বার সাহেব পরে আবার বিয়ে করেন রূপসদী সরকারবাড়ির জনাব বারেক মুনশির বড় মেয়েকে। আমার নানার ফুফাত ভাই মুনশি আবদুল জব্বার ও আমার নানার মামাত ভাই আবদুল আজীজ ব্যাপারী তাঁরা উভয়েই ভায়রা ভাই। মুনশি আবদুল জব্বার-এর বড় ছেলে-মোহাম্মদ আবদুল জলিল(সুরুজ মিঞা)-এর নিকট আমার মেঝো খালা(মোহাম্মদ রিয়াসত-উল্লাহ চৌধুরীর) মেঝো মেয়ে চৌধুরী মমতাজ বেগম(খিরন) খালাকে বিয়ে দেন। হাঁজীপুর গ্রামের আমার খালাত ভাই বাবুলদের পরিবারের সাথে আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির তিন জেনারেশনের বৈবাহিক সম্পর্ক। আত্মীয়তার সম্পর্ক চারটি-বৈবাহিক সম্পর্ক তিনটি।

আমার নানা জনাব মোহাম্মদ রিয়াসত-উল্লাহ চৌধুরীর পরিবারটি(আহমদপুর চৌধুরীবাড়ীতে) ৮ম পুরুষ শিক্ষিত-(১) জনাব সালেহ্‌ আহমদ চৌধুরীর জন্ম-১৭৬২ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে-তাঁর ছেলে (২) জনাব হাফেজ বখতিয়ার আহমদ চৌধুরীর জন্ম-১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৮৬৩ খ্রিষ্টাব্দে-তাঁর ছেলে (৩) জনাব মোহাম্মদ রহিমোল্লাহ চৌধুরী(রমল্লাহ চৌধুরী)র জন্ম-১৮১৮ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৮৯৪ খ্রিষ্টাব্দে-তাঁর ছেলে (৪) জনাব মোহাম্মদ রেহান-উদ-দীন চৌধুরী(রেনোল্লাহ চৌধুরী)র জন্ম-১৮৪৬ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে-তাঁর ছেলে (৫) জনাব মোহাম্মদ রিয়াসত-উল্লাহ চৌধুরীর জন্ম-১৮৭৫ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দে-তাঁর ছেলে (৬) জনাব মোহাম্মদ শফিউদ্দিন চৌধুরীর(ফেকু চৌধুরী)জন্ম-১৯২৪-খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-০৫-০৫-১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দে-তাঁর ছেলে (৭) জনাব আলহাজ আবদুল মোমেন চৌধুরীর জন্ম-১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে-তার ছেলে-(৮) চৌধুরী ইকতিয়ারউদ্দীন মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজীর জন্ম-২২-০৭-১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে। আহমদপুর চৌধুরীবাড়ীর প্রথম ম্যাট্রিকুলেশন হল আমার বড় মামা জনাব আবদু রৌফ চৌধুরী।

আরো অনুসন্ধান করে জানতে পারলাম যে, আমাদের বাড়ীর প্রবীণ লোকদের কাছে, ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে আমার নানা আমাদের বাড়ীতে এসেছিল-উদ্দেশ্য ছিল যে, প্রখ্যাত দিওয়ানবাড়ী দেখার জন্য। তখন আমার বাবা কলকাতা চাকুরী করে। খোশাল দিওয়ান ছিল আমার নানা জনাব মোহাম্মদ রিয়াসত-উল্লাহ চৌধুরীর দাদার নানা। আমার বড় চাঁচা মুনশি মোঃ জিন্নত আলী(কান্দু মিঞা)-দিওয়ানবাড়ীতে বেড়াইতে নিয়ে গিয়েছিল। তখন দিওয়ানবাড়ীতে খোশাল দিওয়ানের ছোট ভাই মুন্সেফ হোসাইন উদ-দ্দীন মুনশির নাতির ছেলেরা বসবাস করে। দিওয়ান লাল মিঞা, দিওয়ান কালা মিঞা, দিওয়ান সুন্দর মিঞা এবং দিওয়ান চাঁন মিঞা। আমার বড় চাঁচার পরিবারটি ৬ষ্ঠ পুরুষ শিক্ষিত যেমন-(১) মুনশি মোহাম্মদ ইউসুফ আলীর জন্ম-১৮২৯ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৯১৮ খ্রিষ্টাব্দে(ইউসুফ আলী হলো আমার বাবার দাদা), আরবী-ফারসী ও বাংলা ভাষায় লেখাপড়া জানতেন। ইউসুফ আলীর ছেলে-(২) মুনশি মোঃ হায়দর আলীর জন্ম-১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে(হায়দর আলী মুনশি আমার দাদা), হায়দর আলী ঢাকার নওয়াববাড়ীতে থেকে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। জনাব মোঃ হায়দর আলী মুনশি বাঞ্ছারামপুর থানারবাসীর মধ্যে প্রথম নায়েব। তাঁর ছেলে-(৩) মুনশি মোহাম্মদ জিন্নত আলী(কান্দু মিঞার) জন্ম-১৮৮৮ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে(কান্দু মিঞা আমার বড় চাঁচা)-উনি নবীনগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দে এন্ট্রান্স(প্রবেশিকা পরীক্ষায় ফেল করেন)। কান্দু মিঞাও নায়েব ছিলেন। তাঁর ছেলে-(৪) মোঃ আজহারুল হক(নসু মিঞার)-জন্ম-১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৩-০৭-১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে। নসু মিয়া আমার চাঁচাত ভাই। প্রথম জীবনে চাকুরী করতেন এবং পরবতী জীবনে আমাদের ইউিনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর ছেলে-(৫) মোঃ জিয়াউদ্দিন আহমদ(বায়েস)-এর জন্ম-২৫-১২-১৯৫১ খ্রিষ্টাবে। সে আমার চাঁচাত ভাইয়ের ছেলে। প্রথম জীবনে সে ষ্টেট ব্যাংব অব ইন্ডিয়াতে চাকুরী করত। পরবর্তীেত ব্যবসা বাণিজ্যের সাথে জড়িত হয়। তার ছেলে-(৬) মোঃ রাকীব আহমদ(রাকু)-এর জন্ম-২৩-১০-১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে। সম্পর্কে আমার নাতি।

আমার মায়ের একটি ইচ্ছা-আমি পূরণ করতে পারি নাই। ১৯৭৭ সালের ৩১শে মার্চ থেকে আমার ব্যক্তিগত জীবনেরও পরিবর্তন ঘটে। আমার জন্ম হয়েছিল আহমদপুর চৌধুরীবাড়িতে ১লা নভেম্বর, ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে। তাই আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির মান-মর্যাদা যেভাবে পারি আমি রক্ষা করব। আমার জন্ম-স্থানের কথা আমার সবসময় মনে পড়ে। চৌধুরীবাড়ির সাথে আমার নাড়ীর টান। আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির সুখ-দুঃখের সাথে আমি জড়িত থাকব। ভারতবর্ষে তখনও ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর শাসন ছিল এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন পাশ হয়েছিল-১৭৯৩ সালের ২২শে মার্চ। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন-এর অর্থ জমিদারী প্রথা চিরস্থায়ী করা এবং জমি-জমা রেজিষ্টি, জমি-জমা ক্রয়-বিক্রয় ও জমি-জমার-দলিলকে বুঝায়। ১৫৮২ খ্রিষ্টাব্দে(মুঘল আমলে বাংলা সুবার মোট ৬৮২টি পরগনা ছিল) বাদশা আকবরের আমলে বাংলায় পরগনার সৃষ্টি হয়। মুঘল শাসনামলে বাংলাসুবা ১৯টি সরকারে বিভক্ত ছিল। ১৯টি সরকারের মধ্যে ঈশা খা' ১টি সরকারের প্রধান ছিলেন। ঈশা খা' ছিলেন ভাটি অঞ্চলের স্বাধীন স্থপতি, তাঁর উপাধি ছিল মসনদ-ই-আলা। সম্রাট আকবরের আধিপত্য তিনি স্বীকার করেন নি। তবে আকবরের সঙ্গে তাঁর সাময়িক আপস হয়েছিল। তাঁর মৃত্যুর(১৫৯৯ খ্রিঃ) পর তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র মুসা খাঁ মসনদ-ই-আলাও স্বাধীন ছিলেন এবং ১৬১০/১৬১১ খ্রিষ্টাব্দে মোঘলদের হাতে পরাজিত হয়ে বশ্যতাস্বীকার করেন। ঈশা খা'র অধীনে(বৃহত্তর ময়মনসিংহ, বৃহত্তর ঢাকা ও বৃহত্তর কৃমিল্লা জেলা) ৬৩টি পরগনা ছিল। বৃহত্তর কুমিল্লা জেলাতে ছিল ২৩টি পরগনা। সারা বি-বাড়িয়া জেলার অধীনে ছিল ৪টি পরগনা-যেমন-সরাইল পরগনা, নুরন্নগর পরগনা, দাউদপুর পরগনা এবং বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর থানার পুরা অংশ বলদাখাল বা বরদাখাত পরগনায় ছিল। বাঞ্ছারামপুর, নবীনগর ও মুরাদনগর থানার পুরা অংশ এবং দেবীদ্বার থানার আংশিক নিয়ে ছিল বলদাখাল বা বরদাখাত পরগনা। বর্তমানে বলদাখাল বা বরদাখাত পরগনার বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর থানার পুরা অংশ বাদে কুমিল্লা জেলার অধীনে। ঈশা খার আমলে এ ৬৩টি পরগনার রাজধানী ছিল সোনারগাঁ।

ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী বাংলায় বাদশা আকবরের আমলের জমিদারী ১৮৩৫ খ্রিষ্টাব্দের ১২ই নভেম্বর নিলামে তোলে। ১৮৩৫ খ্রিষ্টাব্দের পর বাংলায় অনেক নতুন জমিদার সৃষ্টি হয়। ১৮৩৫ খ্রিষ্টাব্দের পর বলদাখাল বা বলদাখাত-এর জমিদারী অনেকের হাতে চলে যায়। ইষ্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর নিকট থেকে সুদখোর মহাজন, সাহা-পোদ্ধার, কিছু কিছু ঘোষখোর আমলা এবং দিওয়ানরা জমিদারীর অংশ কিনে জমিদার হন। পাকিস্তান হওয়ার পর পূর্ব-পাকিস্তানে জমিদারী প্রথা ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে শের-এ. বাংলা এ.কে. ফজলুল হক বাতিল করেন এবং পূর্ব-পাকিস্তানে আর কোন নতুন জমিদার ছিলেন না ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের পর।

ভারতবর্ষের প্রথমদিকের কিছু ইংরেজী-স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময়কালের বর্ণনা দিব এবং এর সাথে নবীনগর থানার, বি-বাড়িয়া জেলার, কুমিল্লা জেলার এবং বাংলাদেশের: প্রথমে ১৭৪৭ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা শহরে ক্লাশ ফোর পর্যন্ত একটি ইংরেজী স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। কলকাতা শহরে কলকাতা ইংরেজী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়-১৭৮৩ খ্রিষ্টাব্দে। ১৭৮৯ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা শহর থেকে প্রথম এন্ট্রান্স বা প্রবেশিকা পরীক্ষা দেয়া শুরু হয়। এর পূর্বে ভারতবর্ষে ইংরেজী লেখাপড়া ছিল না। ভারতবর্ষে ১৭৮৯ খ্রিষ্টাব্দ থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষা শুরু হয়েছিল এবং প্রবেশিকা পরীক্ষা ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ছিল, তারপর প্রবেশিকা পরীক্ষার নাম পরিবর্তন করে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষা শুরু হয়-১৯১২ খ্রিষ্টাব্দ থেকে এবং ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষা ছিল, তারপর ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষার নাম পরিবর্তন করে এস.এস.সি পরীক্ষা শুরু হয়-১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দ থেকে-আজ অবদি। ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম কলকাতা শহরে ফোর্ট ইউলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং কলকাতায় ১৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৪১ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকাতে প্রথম ঢাকা কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৫৭ সালে ভারতবর্ষে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়-(১) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়-১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে (২) মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়-১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে এবং (৩) বোম্বে বিশ্ববিদ্যালয়-১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে। ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে ভারতবর্ষের প্রথম দু'জন গ্রাজুয়েট ব্যক্তির নামঃ-(১) বঙ্কিম চট্রোপাধ্যায়কে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম গ্রাজুয়েট ও সঙ্গী গ্রাজুয়েট যদুনাথ বসু। ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে ফতেপুর ইংরেজী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় শ্যামগ্রাম ইংরেজী উচ্চ বিদ্যালয়। নবীনগর ইংরেজী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়-১৮৯৬ খ্রিষ্টাব্দে। দৌলতপুর-বাঙ্গরা ইংরেজী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়-১৮৯৫ খ্রিষ্টাবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া অন্নদা ইংরেজী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়-১৮৭৫ খ্রিষ্টাব্দে। কুমিল্লা জেলা ইংরেজী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়-১৮৩৭ খ্রিষ্টাব্দে। ঢাকা পগোজ ইংরেজী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়-১৮২৫ খ্রিষ্টাব্দে। চুয়াডাঙ্গা বি.জে. ইংরেজী প্রাইমারী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়-১৮০৫ খ্রিষ্টাবে। ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দের পূর্বে গ্রাম-বাংলায় কোন প্রাইমারী স্কুল ছিল না। ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দের ২৬শে আগষ্ট, শিক্ষামন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিনের প্রস্তাবে বেঙ্গল(রুরাল) প্রাইমারী এডুকেশন বিল পাস হয়। ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দের পূর্বে উচ্চ বিদ্যালয়গুলোতে প্রাইমারীর পাঠসহ পড়ানো হতো। এর পূর্বে যারাই লেখাপড়া করেছে শুনা যায়-তারা লেখাপড়া করেছে পারিবারিক স্কুলে। পারিবারিক স্কুলগুলি ছিল তুর্কি মুসলমানদের বাড়িতে-যেমন বাঞ্ছারামপুর থানার মধ্যে ভেলানগর গ্রামের খোশাল দিওয়ানের বাড়ীতে পারিবারিক স্কুল ছিল। নবীনগর থানার মধ্যে কয়েকটি পারিবারিক স্কুলের সন্ধান পাওয়া যায় যেমন-বাড্ডা(কাজির গাঁও),রতনপুর ইত্যাদি।

১৮০৬ সালের দিকেও আহমদপুর গ্রামের নামকরণ করা হয়নি বলে আমার ধারণা। এর আগে গ্রামের নাম ছিল রণাইয়া। সালেহ আহমদ চৌধুরীর নামে আহমদপুর গ্রামের নামকরণ হয়েছে এবং আহমদপুর চৌধুরীবাড়ীর নামটি সালেহ্‌ আহমদ চৌধুরীর নামেই ''আহমদপুর চৌধুরীবাড়ীর'' নামকরণ করা হয়েছে। আহমদপুর গ্রামের ভূমি চাঁন্দিনা উঁচু ভূমির(চান্দিনা পেস্নটো)র অন্তর্গত। যেমন-সমগ্র বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ভূমি এবং নবীনগর উপজেলার বেশীরভাগ ভূমি মেঘনা পস্নাবন ভূমি নামে পরিচিত। আহমদপুর, হাঁজীপুর, গাঁযীপুর ও ইব্রাহিমপুর গ্রামের সমস্ত ভূমিকে চাঁন্দিনা উঁচু ভূমির(চান্দিনা পেস্নটো)র অন্তর্গত। সালেহ আহমদ চৌধুরীর ১ম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তাঁর একমাত্র ছেলে হাফেজ বখতিয়ার আহমদ চৌধুরীকে সাথে নিয়ে রণাইয়া চলে আসেন এবং রণাইয়া এসে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন সালেহ আহমদ চৌধুরী রণাইয়ার বাসিন্দা সমনের গোষ্ঠীতে। আহমদপুর গ্রামের দ্বিতীয় বিবির ঘরে ৫(পাঁচ) পুত্র সন্তান জন্ম হয়। আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির বংশের জীবিত লোকসংখ্যা হলো-৩২৯ জন। আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির বংশে ২০০ বছরের ইতিহাসে(জীবিত ও মৃতসহ) লোকসংখ্যা ছিল-৫১২জন। সালেহ্‌ আহমদ চৌধুরী এখানে বসতি স্থাপন করে প্রথমেই পুকুরটি খনন করান। আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির এক গম্ভুজ মসজিদটির বয়স হবে-বাংলা ১২৪৬ খ্রিষ্টাব্দ এবং ইংরেজী তারিখ হবে-১৮৩৯ খ্রিষ্টাব্দ। এ মসজিদ তৈরীর সময় বলদাখাল পরগনার প্রধান রাজস্ব কর্মমর্তা খোশাল দিওয়ান নিজে উপস্থিত ছিলেন। খোশাল দিওয়ানের তৃতীয় মেয়ের পতি-জনাব হাফেজ বখতিয়ার আহমদ চৌধুরী এ মসজিদ তৈরী করেন। এ মসজিদটি নবীনগর এবং বাঞ্ছারামপুর থানার মধ্যে খুব সম্ভব প্রথম পাকা মসজিদ। ১৬৫৮ খ্রিষ্টাব্দে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ভাদুঘরে ১(এক) গম্ভুজ মসজিদ তৈরী হয়। ঐতিহাসিকদের মতে ভাদুঘরের ১(এক) গম্ভুজ মসজিদটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রথম মসজিদ। ১৬৭২ খ্রিষ্টাব্দে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার হাটখলা ৩(তিন) গম্ভুজ পুরাণ মসজিদটি তৈরী হয়। ঐতিহাসিকদের মতে সরাইল উপজেলার হাটখলা ৩(তিন) গম্ভুজ পুরাণ মসজিদটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার দ্বিতীয় মসজিদ। অনুসন্ধানে আরো জানা যায় যে, রণাইয়া গ্রামের বয়স প্রায়-৮০০ বছর। রণাইয়ার দিঘিটা হিন্দু-বৌদ্ধযুগের। আহমদপুর গ্রামের নাম পূর্বে ছিল রণাইয়া। আহমদপুর গ্রামের ১ম বাসিন্দা হলো কারা তা আমার জানা নেই। আহমদপুর গ্রামে আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির বংশ ৮ম পুরুষ পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছে।

৫ম পুরুষ মোহাম্মদ রিয়াসত-উল্লাহ চৌধুরী ওরফে রেসত আলী নানা এ বংশের ৪র্থ পুরুষ ৭ জন বাদে সবাইর চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন। ৬ষ্ঠ পুরুষ মোহাম্মদ নওয়াব চৌধুরী(নওয়াব মামা) এ বংশের দু'জন ৪র্থ পুরুষের স্ত্রীর চেয়ে বয়সে বড় এবং ৫ম পুরুষ ২৭জন বাদে সবাইর চেয়ে বয়সে বড় ছিল। ৭ম পুরুষ মিসেস আরজুমাণ বাণু(পারুল আপা) এ বংশের ৭ম পুরুষ সবার চেয়ে বয়সে বড় এবং ৫ম পুরুষ ১০ জনের চেয়ে বয়সে বড় এবং এ বংশের ৬ষ্ঠ পুরুষ ২২ জন বাদে ১৩২ জনের চেয়ে বয়সে বড়। ৭ম পুরুষ মোহাম্মদ শাহ-আলম চৌধুরী এ বংশের ছেলেদের মধ্যে বয়সে বড়। ৮ম পুরুষ মশিউর আলম চৌধুরী (রণভী) এ বংশের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে সভার বড়।

এ বংশের জীবিত ৫ম পুরূষ ছেলে-মেয়ে ও ৪র্থ পুরুষ(দু'জন স্ত্রীসহ) সবার মধ্যে বয়সে বড় জনাব মোহাম্মদ দলিলউদ্দিন চৌধুরী(দলিলউদ্দিন নানা)। জীবিত ৫ম পুরূষ ছেলে-মেয়েদের মধ্যে বয়সে সবচেয়ে ছোট মিসেস মাকসুরা চৌধুরী এবং তার বয়স প্রায় ৪৫ বছর। এ বংশের ৪র্থ পুরূষ মোহাম্মদ আবুল হোসেন চৌধুরী(দুলু) ও মোহাম্মদ ওয়াজুদ্দিন চৌধুরী। তাঁরা উভয়ে মৃত-কিন্তু তাদের স্ত্রীগণ বেঁচে আছেন(০১-১১-২০০৬)। নিম্নে তাদের নামগুলো দেয়া হলো: (১) মিসেস রহিমা খাতুন(দুলু চৌধুরীর ২য় স্ত্রী) ও (২) মিসেস আমেনা খাতুন(ওয়াজুদ্দিন চৌধুরীর ৩য় স্ত্রী)।

এ বংশ তালিকা তৈরীতে যাঁরা আমাকে সবচেয়ে বেশী সহযোগিতা করেছেন যেমন-নানার বাপের নাম, নানার দাদাদের নাম, নানার দাদাদের বাপের নাম এবং মৌলিক অনেক কিছু সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন তারা হলেন, মিসেস রোকেয়া বেগম (আমার মামী), মিসেস সেলিনা খানম চৌধুরী (আমার মামাত বোন) এবং জনাব মোহাম্মদ শুক্কু চৌধুরী (আমার মামা), সার্বিক সহযোগিতা করছে জনাব মোহাম্মদ এমরান চৌধুরী (আমার মামাত ভাই)। এজন্য আমি তাঁদের নিকট বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ। আরও সহযোগিতা করেছেন যারা তাঁরা হলেন, আমার মায়ের ফুফাত ভাই জনাব এ.কে.এম. আবদুল হক (আবদু মামা) ও আবদু মামার স্ত্রী মিসেস আনোয়ারা বেগম। এছাড়া আরো দু'জন হলো চৌধুরী হালিমা খাতুন ও নাসিমা চৌধুরী (তারা উভয়ে আমার মামাত বোন)। আরও একজন মহিলার নাম উল্লেখ না করলেই নয় তিনি হলেন, মিসেস মাতাব চাঁন বিবির নাতিন মিসেস তাহমিনা বেগম (তফু)। এদেরকে ছাড়া আরও কয়েকজন আমার পরিবারের লোকজন আমাকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন তাদের মধ্যে প্রথমে আমার স্ত্রী সৈয়দা শামসুন নাহার বেগম, আমার মেয়ে তানিয়া ও আমার ছেলে আবির হোসেন(জিয়ান)। এ বংশ তালিকা লিখতে আমার মায়ের বংশের অনেকেই বিভিন্ন তথ্য দিয়ে বিভিন্নভাবে আমাকে সহযেগিতা করেছেন তার জন্য আমি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। জাকির হুসেন আলমগীর আর্থ-সামাজিক গবেষণা কেন্দ্র থেকে গবেষণার পর বড়বাড়ি জিয়ান প্রকাশনী, ঢাকা থেকে আমার সবকিছুই ছাপানো হয়ে থাকে।