১৯৫৭ সালের ১০ মার্চ, সৌদি আরবের রিয়াদে আল-কায়দা প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনের জন্ম, মৃত্যু-০২-০৫-২০১১ তারিখ পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন বাহিনীর হামলায় নিহত হয়েছেন। তাঁর লাশ সাগরে বাসিয়ে দিয়েছেন। এ অভিযানের আদ্যোপান্ত সরাসরি দেখলেন প্রেসিডেন্ট ওবামা বারাক হোসেন। তাঁর বাবা মুহাম্মদ বিন লাদেন ছিলেন ধনবান ব্যক্তি। তাঁর ৫৪ সন্তানের মধ্যে ওসামা বিন লাদেন ছিলেন ১৭তম। ১৯৬৯ সালে এক বিমান দুঘর্টনায় ওসামার বাবার মৃত্যু হয়। পৈতৃক সম্পত্তি পান আট কোটি ডলার মূল্যের। ওসামা ১৭ বছর বয়সে দূর সম্পর্কের এক সিরীয় বোনকে প্রথম বিয়ে করেন। তারপর আরও অন্তত চার নারীকে বিয়ে করেন। ওসামার ২৬ জন সন্তান রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। বিন লাদেন: আফগানিস্থানে শুরু, পাকিস্তানে শেষ। যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ার বা ওয়াল্র্ড ট্রেড সেন্টারে ১১-০৯-২০০১ তারিখ আল-কায়েদার ভয়াবহ সেই বিমান হামলায় প্রায় তিন হাজারের বেশি লোক মারা যান। ১৯৫৮ সালের ১৬ আগষ্ট, মিশিগানের বে সিটিতে গায়িগা-অভিনেত্রী ও লেখিকা ম্যাডোনা লুইস ভ্যারোনিকা কিকোনির জন্ম। (নারী সংগীতজগতের তারকাদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী। ফোর্বস সাময়িকীর ওয়েবসাইট জরিপে তিনি এক নম্বর আসন দখল করেন। ম্যাডোনা ২০০৬ সালের জুন থেকে ২০০৭ সালের মে পর্যন্ত সাত কোটি ২০ লাখ ডলার আয় করেছেন)। ১৯৫৮ সালের ২৯ আগষ্ট, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ছোট্ট শহর গ্যারিতে পপসম্রাট মাইকেল জোসেফ জ্যাকসন জন্মগ্রহণ করেন, অকালেই প্রস্থান মহাতারকার মৃত্যু-২৫-০৬-২০০৯ তারিখ যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলেসের শহরতলি হোমবাই হিলসের ভাড়াবাড়িতে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাঁকে ইউসিএলএ মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। দুই ঘন্টা পর সেখান থেকে স্থানীয় সময় দুপুর দুইটা ২৬ মিনিটে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
১৯৬১ সালের ৪ আগষ্ট, হাওয়াইয়ের হনলুলুতে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪তম প্রেসিডেন্ট বারাক হোসেন ওবামার জন্ম। ওবামার পুরো নাম বারাক হোসাইন ওবামা জুনিয়র। ওবামা হচ্ছেন প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান, যিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বড় কোনো দলের মনোনয়ন পেয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বািচত হয়েছেন। ১৯৬১ সালের ৩০ অক্টোবর, আর্জেিন্টনার প্রবাদ প্রতিম ফুটবলার দিয়াগো ম্যারাডোনার জন্ম। সে ১৯৮৬-র সেই মাঠ কাঁপানো তরুণ। ২০০৪ সালের ২০ এপ্রিল, ৪৩-বছর বয়সে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে বর্তমানে ভাল, ফুটবলে যাদু দেখানোর মত মাদক নেয়ার ইতিহাস তাঁর সুদীর্ঘ। ১৯৬২ সালে দুঃসাহসী অস্ট্রেলীয় ন্যাচারলিষ্ট ক্রকোডাইল হান্টার স্টিভ আরউইনের জন্ম, মৃত্যু-০৪-০৯-২০০৬ তারিখ, পোর্ট ডগলাসের কাছে একটি আন্ডারওয়াটার প্রামাণ্য চিত্র চলচ্চিত্রায়নের সময় তিনি নিহত হন। ১৯৬৫ সালের ২ জুন, সিডনিতে ক্রিকেট স্টার স্টিভ ওয়াহ'র জন্ম, (মহানায়কের বিদায়)-২০০৪ সালে। ১৯৭১ সালের ৩ জুলাই, অস্ট্রেলিয়ার টাউনসভিল, কুইনসল্যান্ড-এ সাংবাদিক, প্রোগ্রামার এবং হ্যাকার (লেখাপড়াঃ পদার্থিবদ্যা ও গণিত) ও উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক জুলিয়ান পল অ্যাসাঞ্জের জন্ম। ১৯৭৩ সালের ২১ আগষ্ট, তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মস্কোয় সের্গেই মিখাইলোভিচ ব্রিনের জন্ম। ১৯৭৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে ল্যারি পেইজ বা লরেন্স 'ল্যারি' পেইজের জন্ম। ল্যারি পেইজ ও সের্গেই ব্রিনের প্রথম দেখা হয় ১৯৯৫ সালে, সেখান থেকেই দুজনের বন্ধুত্ব। সের্গেই ব্রিন ও ল্যারি পেইজ এরা দুজনে তথ্যের বাতিঘর। ১৯৮৪ সালের ১৪ মে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক বিপ্লবের রুপকার মার্ক এলিয়ট জাকারবার্গের জন্ম। তিনি ছিলেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করতেন গেম ও যোগাযোগের প্রোগ্রাম নিয়ে। ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ টাইম ম্যাগাজিনের জরিপে এ বছরের সেরা ব্যক্তিত্ব নির্বািচত হয়েছেন। ২০০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি, ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাকাল। ২৬ বছরেই বিশ্বসেরা। ১৯৮৪ সালের ৭ জুলাই, বি-বাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মানিকপুর গ্রামে বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট খেলোয়ার মোহাম্মদ আশরুাফুলের জন্ম। ১৯৮৭ সালের ২৪ জুন, আর্জেিন্টনার রোজারিও শহরের এক নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে ফুটবলার লিওনেল আন্দ্রেস মেসির জন্ম। ফুটবল বিশ্বে তিনি মেসি নামে পরিচিত। ১৯৮৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আলেয়া সবুরের জন্ম। ড. আলেয়া সবুর ১৮ বছর বয়সে বিশ্বের প্রথম অধ্যাপক। ১৯৯৬ সালের ১২ জুলাই, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হিমালয় পর্বতারোহী জর্ডান রোমেরোর জন্ম। ২০১০ সালের ২২ মে, শনিবার সকালে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ এভারেষ্ট জয়ী হিসেবে রেকর্ড গড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ বছর বয়সী কিশোর জর্ডান রোমেরো। সাগরপৃষ্ঠ থেকে ২৯,০৩৫ ফুট (আট হাজার ৮৫০ মিটার) উঁচু বিশ্বের এ সবোচ্চ পর্বতচুড়ায় আরোহণ করে জর্ডান। তার সঙ্গে বাবা পল রোমেরো, বাবার বান্ধবী কারেন ল্যান্ডগ্রেন ও তিনজন শেরপা গাইড এভারেষ্টের চুড়ায় পৌঁছান।
মোঃ জাকির হুসেন (আলমগীর)।
। আমার কিছু কথা বলার আছে।
মানুষ রাজনৈতিকজীব। প্রত্যেক মানুষের রাজনীতি করার অধিকার আছে। বর্তমান দুনিয়ায় বিজ্ঞানের আধিপত্য কোথায় নেই। খাদ্য-শস্য, জীবন যাপনের উপকরণ, অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কার, বিশ্বাস সব কিছুতেই বিজ্ঞানের আলোকে ব্যাখ্যা করার প্রবনতা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিজ্ঞানই নির্ধারণ করে কোনটি সত্য আর কোনটি মিথ্যা। বিজ্ঞান হয়ে উঠছে সভ্যতার ধারক-বাহক। অথচ যখন দেখা যায় পৃথিবীর ২০০০ সালের হিসেব অনুসারে ২২৫(দুইশত পঁচিশ) জন ধনীতম ব্যক্তির মোট সম্পদের পরিমাণ হলো আয়ের দিক থেকে নিচের দিকের ৩০০(তিনশত) কোটি মানুষের বাৎসরিক আয়ের সমান, তখন প্রশ্ন জাগে বিজ্ঞানের সর্বজনীনতা কতটুকু? ২০০৬ সালের ১১ জুলাই, বিশ্বে ৬৫৮(ছয়শত আটান্ন) কোটি মানুষ বসবাস করে। ২০০৬ সালের ৭ ডিসেম্বর, পিটিআই: বিশ্বের অর্ধেক সম্পদ দুই শতাংশ সেরা ধনীর কাছে। গতকাল নিউইয়র্কে জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলসিঙ্গি ভিত্তিক বিশ্ব উন্নয়ন অর্থনীতি গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক রিপোর্টে বলা হয়, ২০০০ সালে সেরা ধনীদের এক শতাংশের মালিকানায় বিশ্বের ৪০শতাংশ সম্পদ ছিল। ব্যক্তিগত সম্পদের উপর ব্যাপক পর্যােলাচনায় দেখা গেছে যে, ১০শতাংশ সেরা ধনীর হাতে বিশ্বের ৮৫শতাংশ সম্পদ রয়েছে। তুলনামূলকভাবে বিশ্বের প্রাপ্ত বয়স্ক জনসংখ্যার শেষ অর্ধেেকর কাছে রয়েছে বিশ্বের সম্পদের মাত্র এক শতাংশ। ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটি লোকের কাছে ১লাখ ৪৪হাজার ডলার এবং জাপানে ১লাখ ৮১হাজার ডলার ছিল। রিপোর্টে বলা হয়, বিশ্বের সেরা ধনীরা বাস করেন উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং ধনী এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোতে। ২০০৬ সালের ৭ ডিসেম্বর, পিটিআই: বিশ্বের অর্ধেক সম্পদ দুই শতাংশ সেরা ধনীর কাছে। ২০০৭ সালের ১০ মার্চ, ইনকিলাব ডেস্ক: ভারত ও চীনে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা দ্বিগুণ। বিল গেটস এখনো বিশ্বের সেরা ধনী। সূত্র: এপি, এএফপি, রয়টার্স, বিবিসি। বিল গেটস পর পর ১৩ বছর ধরে ধনীদের মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন। তার সম্পদের পরিমাণ হচ্ছে ৫হাজার ৬শ' কোটি ডলার। ১৯৮৭ সালে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ছিল-৯৮জন, তা থেকে বেড়ে ২০০০ সালে ছিল-২২৩জন এবং ২০০৭ সালের ১৮ মার্চ-বিশ্বে এখন রেকর্ড সংখ্যক-৯৪৬জন বিলিয়নিয়ার রয়েছেন। এটা গত বছরের তুলনায় ১৫০জন বেশী। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাগাজিন ফোরবস-এর তালিকায় দেখা গেছে ভারত ও চীনে শত কোটিপতি বিলিয়নিয়ারদের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ভারতের ৩৬জন বিলিয়নিয়ার তালিকাভুক্ত হওয়ায় গত দু'দশকে এই প্রথম এশিয়ার কোন দেশ জাপানকে টপকে গেল। এশিয়ার শীর্ষ ধনী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন ভারতীয় লক্ষী মিত্তাল। ৪র্থ স্থান দখলকারী মিত্তালের সম্পদের পরিমাণ ৩হাজার ৬শ' কোটি অর্থাৎ ৩৬ বিলিয়ন ডলার। মেক্সিকোর কার্লোস স্লিম হেলুর সম্পদ অর্থাৎ ৫ হাজার ৩শ' ১০-কোটি মার্কিন ডলার হয়ে যাওয়ায় তিনি শ্রেষ্ঠ ধনীদের তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন। তৃতীয় স্থান দখলকারী চীনের কাগজ উৎপাদনকারী ইয়ান চেউং এবং হংকং-এর সম্পদশালী লি কা-শিং-এর সম্পদ মেলালে তা ৪হাজার ১শ' কোটি অর্থাৎ ৪১ বিলিয়ন ডলার। ফোরবস বলেন, ''মানব ইতিহাসে এটা সবচেয়ে ধনাঢ্য তালিকা। এদের হাতে পুঞ্জীভূত সম্পদের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় ৩৫শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলার হয়েছে। আবার বিগত ১০০(একশত) বছরে উৎপাদন বেড়েছে ১৭গুন। আর গত ১০০(একশত) বছরে জনসংখ্যা বেড়েছে ৪গুনেরও কম। গত ১৯০১ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্তকে বলা হয়েছে। তা'হলে পর্বত চুড়ান্ত উৎপাদন কোথায় যায়? হাতে গোনা কতিপয় মানব সন্তানের কাছেই কি? ওদের দ্বারাই চিরকাল সমস্ত উৎপাদন নিয়ন্ত্রিত হবে? এযাবৎকালের ইতিহাসই শ্রেণী সংগ্রামের ইতিহাস? আদিম সাম্যবাদী সমাজ ছাড়া। আদিম সাম্যবাদী সমাজে শোষণ ছিল না। দুনিয়ার সব মানুষের সমৃদ্ধি আর যৌথ আবেগ/প্রেম/স্নেহ/মায়া মমতার সামাজিক বিকাশ কি কোন দিনই হবেনা? শ্রমজীবি মানুষ বুর্জোয়া সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন করতে পারলেই হবে।
যে বিজ্ঞানের বদৌলতে এ অসহনীয় বৈষম্য তা কতটা বিজ্ঞান সম্মত আর কতটা আধিপত্যবাদ? এ আধিপত্যবাদ অধিকাংশ রাষ্ট্রকে করেছে গ্লোবাল নাচের পুতুল। তা'হলে কি রাষ্ট্র নামক এ কাঠামো ভাঙ্গার প্রয়োজন নেই? এ বিদ্যমান রাষ্ট্রটি, আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক পদ্ধতি আধুনিক বিজ্ঞান সম্মত বিকাশের নিশ্চয়তা দেয় কতটুকু?
আবার বলা হচ্ছে বিজ্ঞান হলো বিশেষ জ্ঞান। বিজ্ঞান কাকে বলে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে বিজ্ঞান বলে। আর এ বিশেষ জ্ঞানের অনুশীলন হল সামাজিক গঠনাবলী ও প্রাকৃতিক নিয়মাবলীতে সু-সঙ্গগঠিত যুক্তি আর পর্যেবক্ষণের স্বচ্ছ কর্ম দ্বারা। তা'হলে কি সব জ্ঞানই বিজ্ঞান নয়? আমরা কোনটি জ্ঞান আর কোনটি বিশেষ জ্ঞান হিসেবে গ্রহণ করব? সুতরাং স্পষ্ট বলা যায় বিজ্ঞান আর সমাজের সাধারণ মানুষের মাঝে অবস্থান করে না। পাশাপাশি সমাজ আর প্রকৃতি পর্যেবক্ষণলব্ধ যুক্তি চর্চার অধিকারও চলে যায় ঐ বিশেষ মানুষের নিয়ন্ত্রণে। অথচ মানুষের ইতিহাস পর্যােলাচনা করলে আমরা জানি-সংগ্রহশীল কিংবা শিকার ভিত্তিক সমাজের যৌথ প্রয়াসের মধ্যে দিয়ে তাদের জীবন-যাপন অগ্রসরতা পেয়েছিল। সম্পূর্ণ বৈষয়িক ও প্রাকৃতিক ব্যবস্থাবলীর উপর গড়ে উঠছে তাদের শ্রমক্ষেত্র ও চিন্তার পদ্ধতি। অরণ্যেচারী গুহাবাসী মানুষ তার অর্জিত অভিজ্ঞতাকে ক্রমান্নয়ে সঞ্চারিত করেছে নিরন্তন গোষ্ঠীলব্ধ প্রতিরোধী শক্তির অনন্যতায়। তা'হলে মানব-সমাজ বিকাশের কোন পর্যােয় অর্জিত সেই গোষ্ঠীবদ্ধ সার্বজনিন জ্ঞান খন্ড খন্ড বিশেষ জ্ঞানে রূপ নিল? ইতিহাসের গতি পথে কখন তা মানুষের চিন্তা জগতে এসেছে? কিংবা মানুষ অর্থৈনতিকভাবে খন্ড খন্ড শ্রেণীতে ভাগ হয়ে যাওয়ার কারণেই কি বিশেষ জ্ঞান হিসেবে বিজ্ঞান বিশেষ শ্রেণীর ক্ষমতার কৌশল উপকরণে পরিণত হয়নি? আজকের পাশ্চাত্য দর্শন কিভাবে কখন আধিপত্যবাদী চরিত্রের হয়ে উঠল? অঅমাদের বাংলা অঞ্চলে কি কোন বিজ্ঞান দর্শন, জিজ্ঞাসা ছিল না? আমাদের বিজ্ঞান দর্শন আজ কোথায়? জিজ্ঞাসাগুলো কেন হারিয়ে গেল? আসলে আমাদের জিজ্ঞাসাগুলোই বা নিয়ন্ত্রণ করে কারা? আমাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থায় বিজ্ঞান ছিল না? বিজ্ঞান কি শুধু গবেষণাগারের ব্যাপার? এটা কি কেবল ধনীদের বিলাসের বস্তু বা অস্তিত্ব? শ্রমজীবি মানুষের কি কোন উপকারে আসে? মানবতার বিকাশে এ বিজ্ঞান কতটুকু সহায়ক?
আসুন এ প্রশ্ন উত্থাপন করি আমাদের শ্রমের মধ্যে, আমাদের চিন্তার মধ্যে। আমাদের যৌথ আর সামাজিক বিশ্লেষণে সমৃদ্ধ হউক আমার/আপনার বিজ্ঞান। বিকশিত হউক মানবিক সাম্যের এসব দ্বান্দিক প্রশ্নোত্তরের রুপায়ন আমাদের মাঝে বিজ্ঞান চেতনা বাড়িয়ে তোলে। বস্তুর প্রতিনিয়ত বিকাশ হচ্ছে। সমাজের নিয়ম হলো উৎপাদন এবং পুনঃউৎপাদন। চিরন্তন বলে কিছুই নেই। সব কিছুই পরিবর্তনশীল। আমাদের দেশের সম্পদের অপচয়, সমাজের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, দুর্নীিত, স্বজনপ্রীতি, অব্যবস্থা এবং অনৈতিক কাজ বন্ধ করতে হবে নতুবা ততদিন বাংলাদেশের বেকারত্ব ও দারিদ্র দূর হবে না। বেকারত্ব ও দারিদ্র দূর করতে হলে-সম্পদের অপচয় রোধ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, দুর্নীিত, স্বজনপ্রীতি, অব্যবস্থা ও অনৈতিক কাজ বন্ধ করতে হবে নতুবা বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। প্রকৃত উন্নয়ন মানে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার গ্যারান্টি সবার জন্য করতে হবে। তখনই বাংলাদেশ হবে প্রকৃতপক্ষে ''সোনারবাংলা''। নতুবা সবই কথার কথা ও ফাঁকাবুলি ছাড়া আর কিছু নয়।
মোঃ জাকির হুসেন(আলমগীর)।
খেয়া পত্রিকার কিছু লেখার সংকলন:
১৯৯৫ সালের মে: মে দিবসের ডাক
এবারও মে দিবস পালিত হয়েছে। শ্রমিকেরা মে দিবস উপলক্ষে সভা সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করেছে। শ্রমিক নেতাদের মে দিবসের বক্তৃতা শুনলে বুঝা যায় যে মে দিবসের ইতিহাস সম্পর্কে তাদের জানার আর বাকী নেই। ১৮৮৬ সালে আমেরিকা, শিকাগো শহরের হে মার্কেেট শ্রমিকদের উপর পুলিশের গুলিবর্ষণ, শ্রমিকের মৃত্যু, সবই বক্তারা জানেন। এবারও বক্তারা এআ ইতিহাস তুলে শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরেছেন। এসব কথা বলার জন্যই কি মে দিবস? বক্ততা দেওয়ার জন্য মে দিবস পালন করার কোন স্বার্থকতা নেই। মে দিবসে শ্রমিকেরা নেচেগেয়ে আনন্দ উৎসব করেছে কিন্তুু মে দিবস উৎসব পালনের দিবস নয়। মে দিবস সংগ্রামের দিবস। পৃথিবীর অনেক দেশের শ্রমিকেরা মে দিবসকে সংগ্রামের দিবস হিসেবে পালন করে। মে দিবসে শ্রমিকেরা সংগ্রামের ডাক দেয়। সংগ্রামের কর্মসূচী তুলে ধরে। আমাদেরদেশের শ্রমিকেরা সংগ্রামের ডাক দেয় না।
মে দিবস অনুষ্ঠানের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। তাই দেখা যায় সরকারী দল ও শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী রাজনৈতিক দলের অন্তর্ভূক্ত শ্রমিক সংগঠনগুলিও বেশ জাঁকজমকের সাথে মে দিবস পালন করে। যাদের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের সংগ্রাম পরিচালিত হওয়ার কথা তারাই এদেশে মে দিবস পালন করে। অতএব, এদেশে মে দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য শ্রমিকেরা উপলব্ধি করেছে বলে মনে হয় না। অথচ, আমাদের দেশের শ্রমিকেরা অমানবিক পরিবেশে কাজ করছে। অধিকাংশ ব্যক্তিমালিকানাধীন কারখানা ও প্রতিষ্ঠানে (হোটেল) কাজের কোন সময় সীমা নেই। ৮/১০ ঘন্টা এবং কোন কোন কারখানা ও প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকেরা একনাগাড়ে ২৪ ঘন্টা কাজ করে। এসব কারখানা ও প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা শ্রম আইনের তোয়াক্কা করে না। এসব ব্যক্তিমালিকানাধীন কারখানা ও প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের সরকার নির্ধািরত মজুরি দেওয়া হয় না। এদেশে বিখ্যাত বহুজাতিক কোম্পানী লিভার ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের অভিযোগ লিভার ব্রাদার্স কর্তৃপক্ষ বছরের পর বছর শ্রমিকদের স্থায়ী পদে নিয়োগ করেও স্থায়ী শ্রমিকদের সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে না। শ্রমিকদের এই অভিযোগের কথা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ছাপা হয়েছে। তারপরও সরকার নীরব। যেসব কারখানা মালিক শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত রেখেছে, শ্রম আইন লংঘন করে শ্রমিকদের প্রাপ্য সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে না সেসব কারখানা মালিকেরাই এদেশের বড় বড় রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রী। তারাই এদেশে পার্টিও মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হয়। এসব দলের সমাবেশেই শ্রমিকেরা দলে দলে হাজির হয়ে'দুনিয়ার মজদুর এক হও', 'মে দিবস জিন্দাবাদ' ইত্যাদি স্লোগানে সভাস্থল গরম করে তুলে। এভাবে এদেশে মে দিবসকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে।