১৯০১ সালে আহসান মঞ্জিলে জেনারেটর দ্বারা প্রথম বিদ্যুতের বাতি জ্বালানো হয়। ১৯০২ সালে ইংরেজরা ঢাকায় প্রথম জগন্নাথ কলেজে সিনেমা দেখায়। ১৯০৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি, ভারতবর্ষের গভর্নর জেনারেল লর্ড কার্জন ঢাকায় 'কার্জন হলের' ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জেনর নামে কার্জন হল তৈরী করা হয়। ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর, প্রথম বঙ্গ-ভঙ্গের সময় ঢাকাকে 'আসাম ও পূর্ববাংলার' রাজধানী করা হয়। ১৯০৫ সালে ঢাকায় প্রভিন্সিয়াল মোহামেডান এসোসিয়েশন গঠিত হয়। ১৯০৯ সালে ঢাকায় টিচার্স ট্রেনিং কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯০৯ সালে ঢাকায় সলিমুল্লাহ এতিমখানা প্রতিষ্ঠিত করা হয়। ১৯১১ সালের ১৮ আগষ্ট, ঢাকা ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর, বঙ্গ-ভঙ্গ রথ করা হয় এবং ঢাকা থেকে রাজধানী বাতিল করা হয়। ১৯১৩ সালে ঢাকা যাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯১৬ সালে ঢাকার সদরঘাটের নিকট প্রতিষ্ঠিত হয় ইস্ট বেঙ্গল ইনস্টিটিউট। ১৯২১ সালের সি. এস. রেকর্ড অনুযায়ী ২০০৬-এর রাজধানী শহরের যেসব খালের ৩৫টি উল্লেখ রয়েছে তা খুঁজে বের করতে হলে এখন সেটা দস্তুরমতো গবেষণা করেই দেখতে হবে। ১৯২৫ সালে ঢাকা ন্যাশনাল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়। লায়ন থিয়েটার হলে ১৯২৭ সালে নির্বাক সিনেমা প্রর্দশন করা হতো। ১৯৩০ সালে ঢাকায় ঘোড়ার গাড়ী ছিল; রিক্সা ছিল না। গলির শেষ মাথায় লাগানো ছিল কেরোসিন বাতির ল্যাম্প পোষ্ট। ১৯৩৩ সাল থেকে সবাক চলচ্চিত্র প্রর্দশন শুরু হয়। ১৯৩৩ সালে প্রথম ঢাকায় সিনেমা হল তৈরী করা হয়। ১৯৩৫ সালে প্রথম মুড়াপাড়ার জমিদার ঢাকায় মটরগাড়ী আনে। ১৯৩৯ সালে কলকাতা থেকে ঢাকা শহরে প্রথম রিক্সা আনা হয়। ১৯৩৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর "ঢাকা বেতার কেন্দ্র" প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৪৬ সালের ১০ জুলাই, ঢাকা ম্যাডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৪৬ সালে ঢাকায় ইডেন মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৪৭ সালের পূর্ব পর্যন্ত ঢাকা ছিল একটি জেলা শহরই মাত্র।

১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট, পূর্ব-পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় স্থাপিত হয়। ১৯৪৭ সালে ঢাকা শহরে ৩'শত টেলিফোন ছিল। ১৯৪৭ সালে ঢাকায় লোকসংখ্যা ছিল ২ লাখ ৯৫ হাজার। ১৯৪৮ সালে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবীতে প্রথম হরতাল। হরতাল গুজরাতী শব্দ। ১৯৪৮ সালে প্রথম মুড়ির টিনমার্কা বাস চলাচল করে সদরঘাট থেকে চকবাজার হয়ে ফুলবাড়িয়া পর্যন্ত। ১৯৪৮ সালে ঢাকায় প্রথম ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থা করা হয়। ১৯৪৯ সালের মার্চে, ঢাকার পল্টন ময়দানে পূর্ব-পাকিস্তান রেলওয়ে এমপ্লয়িজ লীগের এক অধিবেশন বসে। ১৯৪৯ সালের জুলাই, ঢাকা বারলাইব্রেরীতে এক ঘরোয়া সভায় ইত্তেফাক নামে সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশের কথা ঘোষণা দেন এবং ওই সভাতে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে চারশত টাকার একটি তহবিল গঠন করেন। তা দিয়ে ১৫ আগষ্ট, ইত্তেফাকের প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়। প্রথম অফিস ছিল ৭৭, মালিটোলায় এবং পরে ৯৪, নবাবপুর রোডের আওয়ামী মুসলিম লীগ কার্যালয়ে। ১৯৫০ সালে ঢাকায় প্রথম সরকারীভাবে সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আজিমপুরে 'আজিমপুর সরকারী কোয়ার্টার' নির্মাণ করা হয়। ১৯৫২ সালের ২৮ জানুয়ারি, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন। ১৯৫২ সালের ৩০ জানুয়ারি, খাজা নাজিমউদ্দিন পূর্ব-পাকিস্তানের মূখ্যমন্ত্রী থেকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ঢাকার এক জনসভায় বলেন-"উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা''। ১৯৫২ সালের ৩০ জানুয়ারি, পূর্ব-বাংলায় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ গঠন করা হয়। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি, বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষারদাবীতে আন্দোলণরত জনতার উপর পুলিশের গুলিতে কয়েকজন শহীদ হয়। এদের মধ্যে ৫(পাঁচ) জনের নাম জানা আছেঃ বরকত, সালাম, জব্বার, রফিক ও অহিউল্লাহ। বরকত ছিলেন ছাত্র, সালাম ছিলেন সচিবালয়ের পিয়ন, জব্বার ছিলেন ছোট চাকুরে, রফিক ছিলেন প্রেসের কর্মচারী আর অহিউল্লাহ ছিলেন কিশোর বালক। পাঁচ জনের মধ্যে চার জনই ছিলেন সাধারণ মানুষ, দরিদ্র কর্মচারী বা ছোট ব্যবসায়ী। বাংলা ভাষার জন্য তাঁরা প্রাণ দিলেন, তাঁদের রক্তের ওপর দিয়ে দেশ স্বাধীন হল; কত লোকের ভাগ্য খুলে গেল, কিন্তু বাংলা ভাষার মধ্যে পরিবর্তন এলনা। বাংলা ভাষায় বড়লোক-ছোটলোকের তারতম্য রয়ে গেল। ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি, ঢাকায় ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত শোক মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষণ। ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি, ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয়। ১৯৫২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি, ভাষা আন্দোলনকারী জনতার উপর গুলীর প্রতিবাদে ''দৈনিক আজাদ' সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিনের প্রাদেশিক পরিষদ থেকে পদত্যাগ। ১৯৫২ সালের ২৯ মার্চ, ঢাকা বার এসাসিয়েশনে সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৫৪ সালের ২৮ জুন, ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৫৪ সালে ঢাকায় প্রথম নিউমার্কেট তৈরী করা হয়। ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর, বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৫৮ সালে ঢাকায় প্রথম চিড়িয়াখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৫৮ সালের ৮ মার্চ, ঢাকা মুসলিম চেম্বার এবং ইউনাইটেড চেম্বার একত্রকরণের মাধ্যমে ''ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির'' আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ১৯৬১ সালের ৮ মার্চ, মতিঝিল বাস ডিপো হতে মাত্র ৪টি বাস নিয়ে তৎকালীন ইপিআরটিসি যাত্রা শুরু করে। ১৯৬২ সালে ঢাকা শহরে প্রথম ফুটপাত তৈরী হয়।

১৯৬৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর, সাবেক পূর্ব-পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় টেলিভিশন দেখা শুরু। ১৯৬৬ সালে প্রথম ঢাকায় ফাইভ স্টার "শেরাটন হোটেল" প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ, পল্টন ময়দানের এক বিশাল জনসভায় বিভিন্ন নেতা অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। সারা দেশে অর্ধিদবস হরতাল পালিত হয়। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ, রমনা রেস কোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক ঐতিহাসিক ভাসন দেন। ১৯৭১ সালের ১৫ মার্চ, শেষবারের মতো ঢাকা সফরে এসেছিলেন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান। ১৯৭১ সালের ১৬ মার্চ, পাকিস্তানের সামরিক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে জাতীয় পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের আলোচনা বৈঠক শুরু হয়েছিল। ১৯৭১ সালের ১৭ মার্চ, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ, পাকিস্তানের সামরিক প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আলোচনা। ১৯৭১ সালের ২০ মার্চ, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ও শেখ মুজিবুর রহমানের মধ্যে প্রায় সোয়া দু'ঘন্টাব্যাপী আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৭১ সালের ২২ মার্চ, ছিল এক বিভ্রান্তিপূর্ণ দিন। প্রেসিডেন্ট হাউজে ভুট্টোর সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সাক্ষাৎকার ছিল ২২ মার্চের এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ, পূর্ব-পাকিস্তানে গণহত্যর নির্দেশ দিয়ে আকস্মিকভাবে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান করাচির পথে ঢাকা ত্যাগ করেন। পাক-বাহিনী রাতে ঢাকায় শুরু করে ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বেরাচিত হত্যাকান্ড 'অপারেশন সার্চলাইট' নিরস্ত্র জনগণের উপর অমানসিক নির্যাতন শুরু।

১৯৭১ সলের ১৭ এপ্রিল, কুষ্টিয়া জেলার মুজিবনগরের বৈদ্যনাথতলা আম্রকাননে প্রথম বিপ্লবী সরকারের মন্ত্রিপরিষদ শপথ গ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর, শহীদ হন এ দেশের বুদ্ধিজীবীরা। তাই এদিনটিকে প্রতি বছর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ১৯৭১ সালে ঢাকা শহরে লোকসংখ্যা ছিল প্রায় ১৪(চৌদ্ধ) লক্ষ। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর, ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাক-বাহিনী আত্মসমর্পণ করেন। ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি, পাকিস্তানের কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি এবং স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় প্রত্যাবর্তন ১০ জানুয়ারি। তিনি ১২ জানুয়ারি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠান। ২০১২ সালে ঢাকা শহরে লোকসংখ্যা হলো প্রায় ১.৫০ (এক কোটি পঁঞ্চাশ লক্ষ)।

মানুষই শ্রমের বিনিময়ে বিশ্বের সবকিছু সৃষ্টি করেছে। পাকিস্তানের জন্ম হয়েছিল বলে (তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের আয়ুস্কাল ছিল ২৪ বছর ৪ মাস ৩ দিন) পরবর্তী পর্যােয় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় নয় মাস মুক্তি যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্ম হয়। ২০১৩ সালে বাংলাদেশে বিভাগ-৭টি, জিলা-৬৪টি, থানা-১৪৪টির মধ্যে (রাজধানী ঢাকায় থানার সংখ্যা-৪৮টি) এবং উপজেলা-৪৮৬টি। থানা-১৪৪টি ও উপজেলা-৪৮৬টি মোট ৬৩০টি। ৬৩০টির মধ্যে বাঞ্ছারামপুরও একটি উপজেলা। এ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও ১২৪টি গ্রামের মধ্যে ভেলানগরও একটি গ্রাম। ভেলানগর গ্রামের মোট জনসংখ্যা মরা-জেতাসহ=১২,৮০৫ জন(৩১-০৩-২০১২ তারিখ পর্যন্ত)। এর মধ্যে মরার গেছেন=৩,৪৫০ জন। জীবিত=৯,৩৫৫ জন, এর মধ্যে ১,৮৭৮ জন বিাবিত মেয়ে স্বামীর বাড়িতে থাকে=৭,৪৭৭ জন, এর মধ্যে শহর ও বিদেশ থাকে ২,২৫০ জন=৫,২২৭ জন, আবার ৩২১ জন বউ তালাক হয়েছে=৪,৯০৬ জন মানুষ গ্রামে বসবাস করে। এ গ্রামেরও একটি ইতিহাস রয়েছে। মির্যা ভেলার নামে ভেলানগর গ্রামের নামকরণ করা হয়। মির্যা ভেলা তুর্কি মুসলমান ছিলেন। গ্রাম এবং শহর মিলে ভেলানগরে ১,৪৩১টি পরিবার আছে। ভেলানগর গ্রামে বাস করে ৯৯১টি আর বিদেশ ও শহরে বাস করে ৪৪০টি পরিবার। আর বংশ, ছোট-বড় মিলে প্রায় ২৯টি। ২৯টির মধ্যে বড়বাড়িও একটি বংশ। এ গ্রামেরও একটি ইতিহাস রয়েছে। মির্যা ভেলার নামে ভেলানগর গ্রামের নামকরণ করা হয়। মির্যা ভেলা তুর্কি মুসলমান ও বলদাখাল পরগনার জমিদার ছিলেন(বলদাখাল বা বরদাখাত পরগনার পরিচয় কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলা, দেবিদ্বার উপজেলার আংশিক এবং বি-বাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলা ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলা)। আকা বাকের(জ্যেষ্ঠ)'র আনুমানিক জন্ম-১৬১৫ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-জানা নেই। আকা বাকের তুর্কি মুসলমান ছিলেন, ঢাকার বিখ্যাত বাখরখানি রুটির প্রবর্তক ছিলেন তিনি নিজেই। আকা বাকেরের পুত্রের নাম পাওয়া যায়নি-আকা বাকেরের নাতি আহসান উল্লাহ খানের আনুমানিক জন্ম-১৬৭১ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-জানা নেই। আহসান উল্লাহ খান মুর্শিদকুলিখানের সময়ে হুগলীর ফৌজদার ছিলেন। আহসান উল্লাহ খানের পুত্র আকা সাদেকের আনুমানিক জন্ম-১৭০০ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-জানা নেই। (৩৮৬ বর্গমাইল এলাকা) বলদাখাল বা বরদাখাত পরগনার জমিদার ছিলেন। আকা সাদেকের পুত্র মির্যা ইব্রাহিম বেগ ওরফে মির্যা ভেলার আনুমানিক জন্ম-১৭২৯খ্রি., মৃত্যু-জানা নাই। তিনিও ৩৮৬ বর্গমাইল এলাকার জমিদার ছিলেন। মির্যা ইব্রাহিম বেগ ওরফে মির্যা ভেলার তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের পরিচয় আযি-উন-নিসা খানমের জন্ম-১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-জানা নেই। পতি মীর আশরাফ আলী খানের বাড়ি-ইরানের সিরাজনগর, জন্ম-১৭৫৫ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৮২৯ খ্রিষ্টাব্দে। মীর আশরাফ আলী খানের ঢাকার বাদামতলিতে বিরাট অট্টালিকা ছিল। তিনিও বলদাখাল বা বরদাখাত পরগনার জমিদার ছিলেন। আযি-উন-নিসা খানমের দুই ছেলের মধ্যে এক ছেলের পরিচয় খান বাহাদুর সৈয়দ আলী মেহেদি খান (বড়ে খান)-জন্ম-১৭৮১ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-জানা নেই। বড়ে খান সাহেবের এক ছেলে সৈয়দ আসাদ-উদ-দীন হায়দর ওরফে আসাদ উল্লাহ খান (জন্ম-১৮০৬ খ্রিষ্টাব্দে, মৃত্যু-১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দে)। আসাদ উল্লাহ খান সাহেবের তিন ছেলের মধ্যে ছোট ছেলের পরিচয় নবাব সৈয়দ মোহাম্মদ খান (নান্না সৈয়দ)-এর জন্ম-১৮৩৫ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যু-১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে। নান্না সৈয়দের পাঁচ ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে এক ছেলে ও দুই মেয়ের পরিচয় (১) কন্যা-পতি-শের-এ-বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের জন্ম-২৬-১০-১৮৭৩ খ্রি., মৃত্যুঃ২৭-০৪-১৯৬২ খ্রি., (২) কন্যা-পতি-স্যার হাসান সোহরাওয়ার্দি (জাতীয় নেতা স্যার হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর জ্যেষ্ঠ ভাই) এবং (৩) বিখ্যাত সাংবাদিক ড. সৈয়দ হোসেনের জন্ম-১৮৮৮ খ্রি., মৃত্যু-১৯৬২ খ্রি.(কায়রোতে)। সৈয়দ হোসেনের পত্নী-বিজয় লক্ষী পন্ডিত হলো ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী পন্ডিত জওহরলাল নেহেরুর ছোট বোন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধীর একমাত্র ফুফু। ১৭৮০ সালের দিকেও ভেলানগর গ্রামের নামকরণ করা হয়নি। ভারতবর্ষে তখনও ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর শাসন ছিল, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন পাশ হয়নি। ১৭৯৩ সালের ২২ মার্চে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইনটি পাশ হয়েছিল। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইনের অর্থ জমি-জমা, ক্রয়-বিক্রয় ও জমিদারী প্রথা চিরস্থায়ী করাকে বুঝায়।

১২০৩ সালে ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ-বিন-বখতিয়ার খিলজী র্কতৃক বঙ্গ বিজয় ও মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার পূর্বেই তৎকালীন বাংলায় অনেকগুলি মুসলিম জনপদ গড়ে ওঠে এবং এ অঞ্চলে ফার্সী ভাষা চর্চার এক নতুন অধ্যায় সূচিত হয়। দীর্ঘ সাড়ে ছয়শত বছর (১২০৩ থেকে ১৭৫৭ সাল পর্যন্ত মুসলিম শাসনামলে মুসলিম জনসংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায়। ১২০৩ সাল থেকে ১৮৩৮ সাল পর্যন্ত ফার্সী ভাষা এতদঞ্চলের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিল)। বঙ্গদেশে প্রথম মুসলমান হন দিনাজপুর অঞ্চলের বাসিন্দা জাতিতে মঙ্গোলিয়ান কোচ নামে পরিচিতি। বখতিয়ার খিলজী র্কতৃক বঙ্গ বিজয় ও মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার পূর্বেই কোচ নেতাকে ইসলাম ধর্মে রুপান্তরিত করে নাম রাখা হয় মোহাম্মদ আলী কোচ। সে-ই বঙ্গদেশের প্রথম মুসলমান বলে প্রমাণিত হয়। ১২০৬ সালের ৯ জুন, কুতুবউদ্দিন আইবেক দিল্লীর স্বাধীন সুলতান পদে আসীন হন। ১২৩৫ সালের ১ মে, দিল্লীর সুলতান শামসউদ্দীন আলতামাসের ইন্তেকাল। ১২৬০ সালে দিল্লীর তৎকালীন প্রধান কাজী এবং প্রখ্যাত পন্ডিত মীনহাজ-ই-সিরাজ রচনা করেন তবকাত-ই-নাসিরী। উপমহাদেশে মুসলিম শাসনের প্রথমদিকের প্রামান্য ইতিহাস গ্রন্থসমূহের অন্যতম এ গ্রন্থটি ২৩ খন্ডে বিভক্ত। লেখক এই বিশাল গ্রন্থে প্রাচীনকাল থেকে শুরু ইসলামের উন্মেষ এবং হিজরি ৭ম শতক পর্যন্ত মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন রাজবংশের বর্ণনা লিখে গেছেন। বাংলার ইতিহাস রয়েছে ২০, ২১ ও ২২ তবকাতে। তবকাত-এর অর্থ কাহিনী। প্রত্নতত্ত্ব গবেষক ও ইতিহাসবিদ আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া তবকাত-ই-নাসিরী ফার্সী ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেছেন। উল্লেখিত ৩টি তবকাত বা অধ্যায়। ১২৬০ সালে তবকাত-ই-নাসিরী ভারতবর্ষের প্রথম বই ফার্সী ভাষায় লেখা। এর পূর্বে ভারতবর্ষে আর কোন ভাষায় বই লেখা হয়নি। ১২৬৬ সালের ১৬ জুলাই, ভারতবর্ষের সাধক সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদের ইন্তেকাল। ১১'শ শতকে শুরু হয় ভারতে মুসলিম ধর্ম প্রচারের সময় এবং ১২'শ শতকে কেরলাতে ভারতের প্রথম মসজিদ তৈরী হয়। ১২৯৬ সালের ২১ অক্টোবর, আলাউদ্দিন খিলজী দিল্লীর সিংহাসনে আরোহণ করেন। ১৩০৩ সালের ২৬ আগষ্ট, আলাউদ্দিন খিলজী 'চিতোর গড়' দখল করেন। ১৩০৭ সালের ২৪ মার্চ, আলাউদ্দিন খিলজির সেনাপতি মালিক কাফুর দেবগিরি দূর্গ দখল করেন। ১৩২৬ সালের ৫ জানুয়ারি, দিল্লীর সুলতান আলাউদ্দিন খিলজীর ইন্তেকাল। ১৩৩৮ সালে ফখরউদ্দিন মুবারক শাহ বাংলায় স্বাধীন সুলতানি আমলের সূচনা করেন। ১৩৩৮ সাল থেকে ১৫৩৮ সাল পর্যন্ত বাংলায় স্বাধীন সুলতানি আমল অব্যাহত ছিল। ২০০ বছর পর্যন্ত সুলতানি আমল অব্যাহত ছিল। ১৩৫১ সালের ২৩ মার্চ, ফিরোজ শাহ তুঘলক দিল্লীর সিংহাসনে আরোহণ করেন। ১৩৮৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর, দিল্লীর সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলকের ইন্তেকাল। ১৩৮৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি, সুলতান গিয়াস উদ্দিন তুঘলক (দ্বিতীয়) দিল্লীতে নিহত হন। ১৩৯৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর, পানিপথের যুদ্ধে তৈমুর লং দিল্লীর এক লক্ষ লোক হত্যা করেন এবং দিল্লীর সুলতান মুহম্মদ তুঘলকের কাছ থেকে দিল্লী দখল করে নেন। ১৩৯৯ সালের ১ জানুয়ারি, তৈমুর লং দিল্লী দখল করে নিজেকে ভারত সম্রাট ঘোষণা করেন। ১৪০০ খ্রিষ্টাব্দের শেষার্ধে, অর্থাৎ মুসলমান শাসনামলে। অনেকেই এটিকে পূর্ণাঙ্গ বাংলা অক্ষরে রচিত সর্বপুরাতন' গ্রন্থ বলে দাবী করেন। বলা বাহুল্য, 'চর্যাচর্য বিনিশ্চয়' সার্বজনীনভাবে বাংলা ভাষার আদিতম পান্ডুলিপি বলে স্বীকৃত হয়। বাংলা ভাষার জন্ম মুসলিম শাসনামলে। ১৪০১ সালের ২৪ মার্চ, তৈমুর লং দামেস্ক অধিকার করেন। ১৫৫০ সালে বাঙলার ভূমি ও নদনদীর নক্‌শা প্রথম তৈরী করে জাও দ্য ব্যারোস-কৃত। ১৬৬০ সালে বাঙলার ভূমি ও নদনদীর নক্‌শা দ্বিতীয় বলে খ্যাত তৈরী করেন ফন্‌ ডেন ব্রোক-একজন ডাচ বনিক। ১৭৬৪-৮১ সালে বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে প্রস্ত্তত মেজর রেনেলের বাঙলার মানচিত্র।