১৫১০ সালে পর্তুগীজরা গোয়ায় এসে পৌঁছায়। ১৫১১ সালে পৌঁছল মালয় উপদ্বীপের মালাক্কাতে। ১৫১৬ সালে পর্তুগীজরা প্রথম বাংলাদেশে আগমণ করে। ১৫২৫ সালের ১৭ নভেম্বর, পঞ্চম দফা অভিযানের মধ্য দিয়ে মোঘল সম্রাট বাবরের ভারত বিজয়। ১৫২৬ সালের ২০ এপ্রিল, পানিপথের যুদ্ধে মোগলরা আফগানদের পরাজিত করে। ১৫২৬ সালের ২১ এপ্রিল, পানিপথের যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে সম্রাট বাবর ভারতে মোঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। ১৫২৬ সালের ২৭ এপ্রিল, বাবর দিল্লীর সম্রাট হন এবং মোঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। ১৫২৬ সালের ১০ মে, পানিপথের যুদ্ধে বিজীয় হয়ে মোগল সম্রাট বাবর আগ্রায় প্রবেশ করেন। ১৫২৭ সালের ১৬ মার্চ, মেবারের রানা সংগ্রাম সিং(প্রথম)-কে পরাজিত করে মোগল সম্রাট বাবর চিতোর জয় করে। ১৫২৮ সালের ২৯ জানুয়ারি, মোগল সম্রাট বাবর চান্দেরী দুর্গ দখল করেন। ১৫২৯ সালের ২৫ জুন, বঙ্গ বিজয়ের পর মোঘল সম্রাট বাবর আগ্রা প্রত্যাবর্তন করেন এবং তিনি রাজধানী স্থাপন করেন আগ্রায়। ১৫৩৩-১৫৩৮ সাল পর্যন্ত মাহমুদ শাহ বাংলার সুলতান ছিলেন। ১৫৩৮ সালে মুঘল সম্রাট হুমায়ূন প্রথম বাংলা জয় করেন। ১৫৩৮ সালে বাংলা অধিকার করেন শের খান। ১৫৩৮ সালে গৌড় দখল করার পর সম্রাট হুমায়ূন জাহিদ বেগ নামক তাঁর এক আমীরকে বাংলার শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন। ১৫৩৯ সালের ২৬ জুন, বক্সারের কাছে চৌসারের যুদ্ধে শের শাহের কাছে মোগল সম্রাট হুমায়ূনের পরাজয়। ১৫৪০ সালের ১৭ মে, শেরশাহ কনৌজের যুদ্ধে মুঘল সম্রাট হুমায়ূনকে পরাজিত করেন। ষোড়শ শতকে শেরশাহ তাঁর প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে এবং ঘোড়ার ডাকের প্রচলনের সুবাদে দিল্লী (পাঞ্জাবের অধীনে ছিল) থেকে সোনারগাঁও পর্যন্ত প্রায় ১,৭০০(এক হাজার সাতশত) মাইল দীর্ঘ একটি রাজপথ নির্মাণ করেছিলেন। ইতিহাসখ্যাত এ পথের নাম গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড। সোনারগাঁওয়ের আমিনপুর থেকে শুরু হয়ে মেঘনা পাড় হয়ে রাজপথ কামরুপ হয়ে দিল্লী পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। সোনারগাঁওয়ের আমিনপুর হয়ে মোগড়াপাড়ার সামনে দিয়ে উদ্ধবগঞ্জ বাজার থেকে বৈদ্যের বাজার পর্যন্ত কেবল এ রাস্তাটির অস্তিত্ব টিকে আছে। ক্রমাগত নদী ভাঙ্গন এবং ভূমির বিবর্তেনর ফলে গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোডের অস্তিত্ব এখন খুঁজে পাওয়া দুস্কর। কলকাতা থেকে দিল্লী (তখন পাঞ্জাব প্রদেশের অধীনে দিল্লী ছিল) পর্যন্ত এখনও গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড চালু আছে। ১৫৫৪ সালের ২২ মে, দিল্লীর সম্রাট শেরশাহ নিহত হন। ১৫৫৫ সালের ২২ জুন, মোগল সম্রাট হুমায়ূন সিরহিন্দ যুদ্ধে জয়লাভের পর আকবরকে তার উত্তরাধিকারী ঘোষণা করেন। ১৫৫৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, কিশোর জালালুউদ্দিন আকবর ১৪ বছর বয়সে মোগল সম্রাট হিসেবে সিংহাসনে আরোহণ করেন। পিতা হুমায়ূনের স্থলাভিষিক্ত হন। ১৫৫৬ সালের ১৪ এপ্রিল, সম্রাট আকবরের শাসনামল থেকে পহেলা বৈশাখকে বাংলা সালের প্রথম দিন ধরে আনুষ্ঠানিক বাংলা বর্ষ গণনা শুরু হয়। ১৫৫৬ সালের ৫ নভেম্বর, পানিপথের ২য় যুদ্ধে মোগল সম্রাট আকবরের বাহিনীর হাতে হিমু'র পরাজয়। ১৫৬১ সালের ৩১ জানুয়ারি, মোগল সম্রাট আকবরের প্রধানমন্ত্রী বৈরাম খান নিহত হন। ১৫৬২ সালে ভারতে বাবরী মসজিদ তৈরী হয় এবং ১৯৯২ সালের ৫ ডিসেম্বর (কংগ্রেস সরকারের আমলে) উগ্রবাদী হিন্দুরা বাবরী মসজিদ ভেঙ্গে ফেলে। ১৫৬৫ সালের ৭ জুন, দাক্ষিণাত্যের রাজা হুসাইন নিজাম শাহের ইন্তেকাল। ১৫৬৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি, মোগল সম্রাট আকবরের কাছে চিতোরের রানা উদয় সিং-আত্মসমর্পণ করে। ১৫৭০ থেকে ১৫৮৬ সাল পর্যন্ত মোঘল সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল আগ্রা শহর থেকে ৪০ কি. মি. পশ্চিম দিকে অবস্থিত ফতেহপুর সিক্রি। সেই সময় সম্রাট আকবরের কোন ছেলে ছিল না। ১৫৭৬ সালের ১৮ জুন, মহারাজা প্রতাপ সিংহ ও মোগল সম্রাট আকবরের মধ্যে হলদিঘাটে যুদ্ধ শুরু। ১৫৭৬ সালের ১২ জুলাই, দাউদ খান কররানীর পরাজয় ও মৃত্যু। ১৫৭৭ সালের ২৪ অক্টোবর, শিখ সম্প্রদায়ের উদ্যোগে ভারতের অমৃতসর নগরী'র পত্তন হয়। ১৫৮০ সালে পর্তুগীজ র্কতৃক হুগলী শহর প্রতিষ্ঠার ফলে নিকটবতী বিখ্যাত সাতগাঁও বন্দরের পতন। ১৫৮৫ সালের ১০ মার্চ, মোঘল সম্রাট আকবর প্রচলিত বাংলা সন (বঙ্গাব্দ) চালুর ফরমান জারি করেন। ১৫৮৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি, সম্রাট আকবরের সভাকবি বীরবল নিহত হন। ১৫৮৬ সালে কাসিম খান কুচবিহার হ'তে হুগলি যাওয়ার পথে গৌড় অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যান। ১৫৮৬ সালে ইংরেজ পর্যটক র্যালফ ফিচ বাংলা ভ্রমণ করেন। ১৫৮৮ সালের ১৯ এপ্রিল, জাহান্দর শাহ দিল্লীর সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন। ১৫৮৯ সালের ৬ মে, সংগীত জগতের প্রবাদ পুরুষ মিঞা মুহাম্মদ তানসেনের মৃত্যু।
১৫৯৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর, লন্ডনে ফাউন্ডার্স হলে ২৪(চব্বিশ) জন ব্যবসায়ী ভারতে ব্যবসা করার সিদ্ধান্ত নেয়ার মধ্যদিয়ে ''ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি'' গড়ে ওঠে। সাত সমুদ্র তের নদী পার হয়ে ১৬০১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি, ক্যাপ্টেন ল্যাঙ্কেমটরের নেতৃত্বে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর জাহাজ বহর ভারত পৌঁছে। শাহ সুজা ৩,০০০(তিন হাজার) টাকা শুল্ক দেওয়ার শর্তে ইংরেজদেরকে বাংলায় বাণিজ্য করার অনুমতি দেন। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন, বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার শেষ নবাব সিরাজ-উদ-দৌলাকে পরাস্ত করে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী ভারতবর্ষের ক্ষমতা দখল করেন। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন থেকে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী ভারতবর্ষ ১০১(একশত এক) বছর শাসন করে এবং ১৮৫৮ সালের ১ নভেম্বর থেকে বৃটিশ রাজতন্ত্র ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর কাছ থেকে ভারতবর্ষের শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং ১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট পর্যন্ত বৃটিশ রাজতন্ত্র ভারতবর্ষ শাসন করে ৮৯(উনানব্বই) বছর। ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী ও বৃটিশ রাজতন্ত্র ভারতবর্ষ শাসন করে মোট ১৯০(একশত নব্বই) বছর। মানুষই শ্রমের বিনিময়ে বিশ্বের সবকিছু সৃষ্টি করেছে। ব্রিটিশরা ১৯৪৭ সালের ১৫ আগষ্ট, ভারতবর্ষ থেকে চলে যেতে বাধ্য হলে ভারতবর্ষ বিভক্ত হয়ে স্বাধীন ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়। পাকিস্তানের জন্ম হয়েছিল বলে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের আয়ুস্কাল ছিল ২৪ বছর ৪ মাস ৩ দিন) পরবর্তী পর্যােয় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় নয় মাস মুক্তি যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্ম হয়। ভারতবর্ষে তখনও ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর শাসন ছিল, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন পাশ হয়নি।
১৬০৫ সালের ২৪ অক্টোবর, মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীর আগ্রার সিংহাসনে আরোহণ করেন। ১৬০৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর, কুতুবুদ্দিন খান বাংলা ও বিহারের সুবাদার নিযুক্ত হন। ১৬১২ সালে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে ব্রিটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি সুরাটে বাণিজ্য-কুঠি স্থাপন করার অনুমতি লাভ করে। ১৬১৩ সালের ১১ জানুয়ারি, মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীর ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীকে সুরাটে কারখানা স্থাপনের অনুমতি দেন। ১৬১৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর, ভারতবর্ষের প্রথম রাষ্ট্রদূত টমাস রো মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে ভারতে পৌঁছেন এবং ১৬১৬ সালের ১০ জানুয়ারি, বৃটিশ রাজদূত টমাস রো মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে পৌঁছেন। ১৬১৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি, সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে বৃটিশ রাষ্ট্রদূত টমাস রো ভারত ত্যাগ করেন। ১৬২১ সালের ১৫ নভেম্বর, মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীর উত্তর ভারতের কাংড়া দুর্গ অধিকার করেন। ১৬২১ খ্রিস্টাব্দে বৃটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর কুঠিয়ালদের ওপর কাঁচামাল খরিদ করার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। তথাপি ইংরেজরা পরে কাসিমবাজারে একটি বড় কারখানা স্থাপন করে। কলকাতার প্রতিষ্ঠাতা বলে যার নাম বহুদিন যাবৎ প্রচারিত হয়েছে সেই জব চার্নকও এক সময় এ কাসিমবাজার কুঠিতেই একজন অধঃস্তন কর্মচারী ছিলেন। ১৬২৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি, সম্রাট শাহজাহান আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রার সিংহাসনে আরোহণ করেন। দিল্লীকে রাজধানী করার সিদ্ধান্ত নেন সম্রাট শাহজাহান।
১৬৩৩ সালের মে, মহানদীর মুখে হরিহরপুরে ইংলিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী এদেশে প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে; তখন হ'তে রচিত হ'তে থাকে পলাশীর পটভূমি। ১৬৩৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি, মোগল সম্রাট শাহজাহানের পুত্র দারাশিকোহ কান্দাহার বিরোধী তৃতীয় অভিযান পরিচালনা করেন। ১৬৩৭ সালে সম্রাট শাহজাহানের আমলেই তারই তত্ত্বাবধান এবং নির্দেশনায় নির্মাণ করা হয় 'লাহোর শালিমার বাগ'। বাগানটি উন্মোচিত হয় ১৬৪২ সালে। ১৬৩৯ সালের ৮ জানুয়ারি, মোগল সেনা অধিনায়ক হিসেবে দারাশিকোহ পারস্যের বিরুদ্ধে কান্দাহারে প্রথম অভিযান চালান। ১৬৩৯ সালের ১৯ জানুয়ারি, সম্রাট শাহজাহানের পুত্র দারাশিকো'র লেখা 'সাফিনাৎ-উল-আউলিয়া' গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। ১৬৪০ সালের ১ মার্চ, বৃটিশরা মোগলদের কাছ থেকে মাদ্রাজে বাণিজ্য কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি পায়। ১৬৪৮ সালের ১৩ মে, মুঘল সম্রাট শাহজাহান দিল্লীতে লালকেল্লার নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ১৬৫৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর, মোগল সম্রাট শাহজাহান প্রিয়তমা স্ত্রীর নামে ''তাজমহল'' নির্মাণ করেন। ১৬৫৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, মোগল সম্রাট শাহজাহান আকস্মিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে সিংহাসন নিয়ে সন্তানদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ১৬৫৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, মোগল সম্রাট শাহজাহানের পুত্র সুজা বাহাদুরপুরে তাঁর ভাই দারার কাছে পরাজিত হন। ১৬৫৮ সালের ৮ জুন, আওরঙ্গজেব তাঁর পিতা সম্রাট শাহজাহানকে অন্তরীণ রেখে আগ্রার দুর্গ দখল করেন। ১৬৫৮ সালের ৩১ জুলাই, সম্রাট আওরঙ্গজেব আগ্রা থেকে দিল্লীতে রাজধানী স্থানান্তর করেন। ১৬৫৯ সালের ১৪ এপ্রিল, দিল্লীর সিংহাসন নিয়ে সম্রাট শাহজাহানের পুত্রদ্বয় আওরঙ্গজেব ও তার ভাই দারাশিকোহ'র সৈন্যদের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়। ১৬৫৯ সালের ১৫ জুন, আওরঙ্গজেব আনুষ্ঠানিকভাবে দিল্লীর সিংহাসনে আরোহণ করেন। ১৬৫৯ সালের ৩০ আগষ্ট, মোগল সম্রাট শাহজাহানের জ্যেষ্ঠপুত্র যুবরাজ দারাশিকোহ ঘাতকের হাতে নিহত হন। ১৬৬১ সালের ৩ এপ্রিল, ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি যুদ্ধে অংশ নেয়া এবং অস্ত্র নির্মাণ ইত্যাদির অধিকার সংক্রান্ত সনদ লাভ করে। ১৬৬৫ সালের ২৭ জানুয়ারি, শায়েস্তা খানের পুত্র উমেদ খান র্কতৃক চট্টগ্রাম বিজয় ও ২(দুই) হাজার মগসেনা বন্দী। চট্টগ্রাম বঙ্গদেশের চুড়ান্ত অন্তর্ভুিক্ত। ১৬৬৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর, মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব ও মারাঠা নেতা শিবাজির মধ্যে পুরন্দর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ১৬৭০ সালের ৩ অক্টোবর, শিবাজি সুরাট অভিযান শুরু করেন। ১৬৭৬ সালের ১৫ অক্টোবর, ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী ভারতে টাকা মুদ্রনের অনুমতি লাভ করে। ১৬৮৬ সালের ২০ ডিসেম্বর, হুগলি ত্যাগ করে জব চার্নক সুতানুটিতে আশ্রয় নেন। ১৬৮৭ সালের ১৬ জুন, ইংরেজরা মোগল সাম্রাজ্যের সুতানুটিতে অস্ত্রাগার ও পোতাশ্রয় নির্মােণর অনুমতি পায়। ১৬৮৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর, মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব হায়দরাবাদের গোলকুন্ডা দখল করেন। ১৬৮৭ সালের ১১ ডিসেম্বর, ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী সর্বপ্রথম মাদ্রাজে পৌরসভা প্রতিষ্ঠা করেন।
১৬৮৬ সালের ২৩ ডিসেম্বর, জবচার্ণক সুতানটি গ্রামে প্রথম এসেছিলেন। ১৬৯০ সালের ২৪ এপ্রিল, বৃটিশ নাগরিক জব চার্নক ভারতের সুতানুটিতে বৃটেনের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পরবর্তীেত এ স্থানটি কলকাতা হিসেবে পরিচিতি পায়। ১৬৯০ সালের ২৪ আগষ্ট, কলকাতা শহরের জন্ম। ১৬৯৩ সালের ১০ জানুয়ারি, কলকাতা নগরীর পত্তনকারী জব চার্নেকর মৃত্যু। ১৬৯৮ সালের নভেম্বর মাসে ইংরেজরা বাংলার গভর্ণর আজিমউশ্বানের কাছ থেকে এ তিনটি গ্রাম কেনবার অনুমতি পেয়েছিলেন। ১৬৯৮ সালে ইংরেজরা কলকাতা সম্পূর্ণ দখল করে। ১৭০০ সালের ৮ জুন, ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী সুতানুটির নাম পরিবর্তন করে 'ক্যালকাটা' রাখেন। ১৭০৭ সালে প্রথম হাসপাতাল স্থাপিত হয়। ১৭০৯ সালে সাবর্ণ চৌধুরী কালীঘাটের মন্দির নির্মাণ করেছিলেন। ১৭১৭ সালে ডাক্তার হ্যামিলটনের সৌজন্যে, ফারুক সিয়ারের নিকট থেকে ৩৮টি গ্রামের জমিদারী কেনার অনুমতি পায়। ১৭২০ সালে কলকাতার প্রথম জমিদার মি. ফ্রিক। ১৭২৭ সালে কলকাতা পৌরসভা শুরু, ১৭৮৭ সালে নাগরিকদের উপর টেক্ম বা কর বসায়। ১৭৩৪ বা ১৭৪৭ সালে প্রথম স্থাপিত হয় ফ্রি স্কুল ৪র্থ শ্রেণী পর্যন্ত। ১৭৩৬ সালে কলকাতায় প্রথম অল্ডারম্যান ডা. সেফালিয়া হলওয়েল। ১৭৩৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর, প্রচন্ড বেগে ঝড় উঠেছিল ও গঙ্গার জল ৪০ ফিট পর্যন্ত উঠেছিল। ১৭৪২ সালে প্রথম পাকা রাস্তার কাজ আরম্ভ আর শেষ ১৭৮০ সালে (সার্কুলার রোড)। ১৭৪৫ সালে প্রথম নাট্যশালা স্থাপিত হয় লালদীঘির পার্শেব। ১৭৫২ সালে কলকাতায় চালের মণ ১(এক) টাকা ছিল। ১৭৫৬ সালের ১৭ জুন, নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলা ইংরেজদের দখল থেকে কলকাতা পুনরুদ্ধারে অভিযান চালান। ১৭৫৬ সালের ২০ জুন, নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা কলকাতা পুনরুদ্ধার করেন। ১৭৫৬ সালে কলকাতা নবাব সিরাজদৌল্লাহ দখল করে নাম দেন 'আলিনগর'। ১৭৫৬ সালের ১০ অক্টোবর, রবার্ট ক্লাইভ মাদ্রাজ থেকে ৫টি যুদ্ধজাহাজে ৯০০ সৈন্য নিয়ে কোলকাতা দখলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। ১৭৫৭ সালের ২ জানুয়ারি, রবার্ট ক্লাইভ নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলার কাছ থেকে কলকাতা দখল করে। ১৭৫৭ সালের ৯ জানুয়ারি, রবার্ট ক্লাইভের হুগলী দখল। ১৭৫৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি, নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার দ্বিতীয় দফা কলকাতা আক্রমণ এবং ইংরেজদের সাথে আলীনগরের সন্ধি। ১৭৫৭ সালের ২৩ এপ্রিল, কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামের সিলেক্ট কমিটিতে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলাকে সরিয়ে অন্য কাউকে নবাব করার নীতি সরকারীভাবে গৃহীত হয়েছিল। ১৭৫৭ সালের ২৮ এপ্রিল, কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামের সিলেক্ট কমিটি প্রস্তাব নিল যে, ক্লাইভ যেন নবাবের প্রতি দরবারের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মনোভাব কী রকম এবং নবাব সিরাজ-উদ-দৌলাকে সরিয়ে অন্য কাউকে মসনদে বসাবার পরিকল্পনায় তাদের প্রতিক্রিয়া কী তা জানার জন্য উপযুক্ত লোককে নিয়োগ করেন। ১৭৫৭ সালে কলকাতায় প্রথম টাকশাল স্থাপিত হয়। ১৭৫৭ সালে চৌরঙ্গির জঙ্গল পরিস্কার করে প্রথম গড়ের মাঠ তৈরী হয়। ১৭৫৭ সালে ইংল্যান্ডের রাজা উইলিয়ামের নামানুসারে ফোর্ট উইলিয়াম দূর্গ নির্মাণ কাজ শুরু এবং শেষ ১৭৭৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি। ১৭৬২ সালের মহামারীতে মারা যায় ৫০,০০০ বাঙ্গালী এবং ৮শত ইউরোপীয়। ১৭৬২ সালে প্রথম মুদ্রা তৈরী হয়। ১৭৬৫ সালের ৩ মে, বাংলার গভর্নর নিযুক্ত হয়ে লর্ড রবার্ট ক্লাইভ কলকাতায় আসেন। ১৭৭৪ সালের ২৬ মার্চ, সুপ্রীমকোর্ট স্থাপিত হয়।
১৭৭৪ সালের ১ আগষ্ট, কলকাতাকে ভারতবর্ষের রাজধানী ঘোষণা করে। ১৭৭৫ সালের ১৫ জানুয়ারি, রবার্ট নাইটের সম্পাদনায় 'দি ইন্ডিয়ান ষ্টেটসম্যান' পত্রিকার প্রকাশনা। ১৭৭৫ সালের ৫ আগষ্ট, কুলিবাজারে প্রথম ফাঁসির মঞ্চে শহীদ হন মহারাজ নন্দ কুমার। ১৭৮০ সালের ২৯ জানুয়ারি, ১ম বাংলা গেজেট ও মাসিক প্রত্রিকা "দিকদর্শন" প্রকাশনা হয়। ১৭৮০ সালের ২৯ জানুয়ারি, জেমস আগাস্টাস হিকির সম্পাদনায় ভারতের প্রথম ইংরেজী সাপ্তাহিক সংবাদপত্র 'বেঙ্গল গেজেটের' সম্পাদনা শুরু হয়। ১৭৮০ সালের ১৪ নভেম্বর, বেঙ্গল গেজেট প্রকাশের ক্ষেত্রে বৃটিশ সরকার বিধিনিষেধ আরোপ করে। ১৭৮০ সালে রাইটার্স বিল্ডিং তৈরী করা হয়। ১৭৮১ সালের ১৭ এপ্রিল, গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস র্কতৃক কলকাতায় প্রথম আলীয়া মাদ্রাসা স্থাপন করেন। ১৭৮৪ সালে এশিয়াটিক সোসাইটী নামে প্রথম গ্রন্থাগার স্থাপিত হয়। ১৭৮৫ সালে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী কলকাতা থেকে কত টাকা খাজনা পায় বছরে-১,২২,৪১৮ টাকা। ১৭৮৫ সালে প্রথম দাস ব্যবসা শুরু হয়। ১৭৮৫ সালে হিকে সাহেবের আত্মজীবনীতে প্রথম টানা পাখার উল্লেখ পাওয়া যায়; তবে ফরাসী পর্যটক গ্রএে ১৭৮৯ সালে কলকাতায় এসে টানা পাখার হাওয়া খেয়েছেন। ১৭৮৮ সালের ৬ এপ্রিল, শনিবার অমাবস্যার রাতে নরবলি দেওয়া হয়েছিল। ১৭৮৯ সালে প্রথম এন্ট্রান্স পরীক্ষা দেয় কলকাতা শহরে (ভারতবর্ষে প্রথম)। ১৭৯০ সালের ৩ ডিসেম্বর, লর্ড কর্নওয়ালিস কলকাতায় নিজামত আদালত স্থানান্তরিত করেন। ১৭৯১ সালের ৩ অক্টোবর, ভারত উপমহাদেশের প্রথম মাসিক পত্রিকা 'ক্যালকাটা ম্যাগাজিন এন্ড ওরিয়েন্টাল মিউজিয়ামের প্রকাশনা শুরু। ১৭৯৩ সালে প্রথম ওকালতি শুরু হয়। ১৭৯৩ সালে প্রথম ক্রিকেট খেলা শুরু হয়। ১৭৯৩ সালের ১১ নভেম্বর, শিক্ষাব্রতী ধর্মযাজক উইলিয়াম কেরি ইংল্যান্ড থেকে কলকাতায় এসে পৌঁছান। ১৭৯৪ সালের ৯ মার্চ, কলকাতায় প্রথম দলিল রেজিস্ট্রি শুরু হয়। ১৭৯৪ সালে প্রথম ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ১৭৯৫ সালের ২৭ নভেম্বর, প্রথম বাংলা নাটক "কাল্পনিক সংবদন" অভিনীত হয়।