১৭৯৫ সালে ভারতবর্ষের প্রথম ব্যাংকের নাম ক্যালকাটা ব্যাংক। ১৮০০ সালের ৩ মে, কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮১৫ সালে শহীদ মিনার নির্মাণ হয় এবং উচ্চতা ১৫২ ফুট, ২২৩টি সি'ড়ি। ১৮১৬ সালে কলকাতা শহরে ২৫০ জন ইউরোপিয় মহিলা ছিলেন। ১৮১৬ অথবা ১৮১৭ সালে কলকাতা হিন্দু কলেজ স্থাপনে রাজা রামমোহনের অবদান। ১৮১৮ সালের ১৫ মে, বাংলা ভাষায় প্রথম সংবাদপত্র 'বেঙ্গল গেজেটের' প্রকাশনা শুরু। ১৮১৯ সালে কলকাতা রেসকোর্স মাঠ তৈরী হয়। ১৮২৪ সালের ৩১ মার্চ, প্রথমবারের মত ভারতীয় টাকশালের কার্যক্রম শুরু। ১৮২৭ সালের ১২ মে, কলকাতার ময়দানে সমবেত হয়ে সরকারের জারি করা নির্দেেশর বিরুদ্ধে পাল্কি বেহারারা সর্বাত্বক আন্দোলন গড়ে তোলার যে সংকল্প ঘোষণা। ১৮২৯ সালে লর্ড রেন্টিং র্কতৃক সতীদাহ প্রথা রহিত হয়। ১৮২৯ সালে প্রথম কালিঘাটের টালী নালার উপর লোহার সেতু নির্মান করা হয়। ১৮৩০ সালে ডালহাউসীতে প্রথম ''স্পেনসেস হোটেল" নির্মাণ হয়। ১৮৩০ সালে হিন্দু কলেজের জনপ্রিয় শিক্ষক ডিরোজিওর বাড়িতে তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় এ দেশের প্রথম ছাত্র সংগঠন 'একাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন'। বাঙালির প্রথম রাজনৈতিক সংগঠন। এরপর ১৮৩৮ সালের ১২ মার্চ, গঠিত হয় আরেকটি ছাত্র সংগঠন। যার নাম ছিল 'সাধারণ জ্ঞানোপার্জিকা সভা'। এ সংগঠনের সদস্যরা নিয়মিতভাবে আলোচনায় বসতেন। তাঁরা দেশের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতেন এবং সমস্যা ও সংকট থেকে উত্তরণের পথ সন্ধান করতেন। এ সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন রামতনু লাহিড়ী, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্যারীচাঁদ মিত্র প্রমুখ। সাধারণ জ্ঞানোপার্জিকা সভার পর ১৮৪১ সালে কলকাতায় গঠিত হয় আধা রাজনৈতিক সংগঠন 'দেশহিতৈষণী সভা'। এ সংগঠনের সদস্যরাও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলাপ-আলোচনা করতেন এবং সমস্যা-সমাধানের উপায়ও সন্ধান করতেন। কিন্তু ১৮৪৩ সালের ২৫ এপ্রিল, জন্ম নেওয়া 'বেঙ্গল ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি' সর্বপ্রথম বাঙালির সংগঠন, যারা সরাসরি রাজনৈতিক দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছিল। তাদের প্রধান দাবি ছিল ভারতীয়দের জন্য ব্রিটিশের সমমর্যাদা দান। এ দাবির পক্ষে সংগঠনের সদস্যরা জনমত গঠন করেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, রাজনৈতিক দল হলো একটি সংঘবদ্ধ সংস্থা, যা দেশের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যাবলিকে তার কর্মসূচীতে সন্নিবিষ্ট করে জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ করতে বদ্ধপরিকর হয়। ১৮৩৪ সালে ক্যালকাটা চেম্বারস অব কমার্স প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তারপর ২০-বছর পর-এর নামকরণ করা হয় ১৮৫৪ সালের ১৫ জুলাই, বেঙ্গল চেম্বারস অব কমার্স এন্ড ইন্ডাজট্রিজ। এ প্রতিষ্ঠান সারা ভারতবর্ষে শিল্প প্রতিষ্ঠা করেছে। ১৮৩৫ সালে প্রথম ম্যাডিক্যাল কলেজ স্থাপিত হয়। ১৮৩৬ সালের ২১ মার্চ, কলকাতায় প্রথম গণগ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৩৮ সালে কলকাতায় দিয়াশলাই তৈরী হয়। ১৮৪৪ সালে প্রথম ডাক্তারী শিক্ষার জন্য গোপালচন্দ্র শীল, ভোলানাথ বসু, সুর্য কুমার চক্রবর্তী ও দ্বারকানাথ বসু এঁরা বিলেতে যান। ১৮৫০ সালে কলকাতা থেকে কানপুর ঘোড়ার গাড়ীতে ডাক যেত। ১৮৫৪ সালে প্রথম ডাকটিকিট বিক্রি শুরু হয়।

১৮৫৫ সালের ৩০ জুন, প্রথম সাওতাল বিদ্রোহ শুরু হয়। এ বিদ্রোহ ভারতবর্ষে প্রথম ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। ১৮৫৫ সালের ৪ অক্টোবর, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় ভারতবর্ষে হিন্দু সমাজের বিধবাবিবাহ আইন প্রবর্তন হয়। ১৮৫৬ সালের ২৬ জুলাই, কলকাতায় বিধবা-বিবাহ আইন পাশ হয়। ১৮৫৬ সালের ৭ ডিসেম্বর, হিন্দু সমাজে আনুষ্ঠানিকভাবে বিধবা বিয়ের প্রচলন শুরু হয়। ১৮৫৭ সালে কলকাতায় পথের আলো জ্বলেছিল ঠিকই, তা ছিল গ্যাসের আলো। ১৮৬২ সালের মে মাসে, কলকাতা শহরে হাওড়ার রেলের ১২(বারো) শ্রমিক আট ঘন্টা কাজের দাবিতে ধর্মঘট করেন। ১৮৬২ সালে কলকাতায় প্রথম ''ফুটপাত'' ওল্ডকোর্ট হাউস স্ট্রীটে তৈরী হয়। ১৮৬২ সালে কলকাতায় হাইকোর্ট প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৭০ সালের ২৭ আগষ্ট, ভারতের প্রথম শ্রমিক সংগঠন "শ্রমজীবী সংঘ'' গঠিত হয়। ১৮৭৩ সালে প্রথম কলকাতায় রঙ্গ-মঞ্চে মেয়েরা এসেছেন। ১৮৭৪ সালে কলকাতা নিউমার্কেট। ১৮৭৬ সালে প্রথম চিড়িয়াখানা স্থাপিত হয় ৪৮-একর জমিতে। ১৮৭৭ সালের ১২ মে, কলকাতায় কেন্দ্রীয় ন্যাশনাল মোহামেডান এসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৭৮ সালের ১ এপ্রিল, কলকাতা জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৭৯ সালের ৪ মার্চ, ব্রিটেনের বাইরে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে মেয়েদের উচ্চ শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে প্রথম মহিলা কলেজ কলকাতার বেথুন কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৮০ সালের ১ নভেম্বর, কলকাতায় প্রথম ঘোড়ায় টানা ট্রাম সার্ভিস চালু হয়। ১৮৮১ সালে প্রথম টেলিফোন চালু হয়। ১৮৮১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, অবিভক্ত ভারতে কলকাতায় প্রথম হোমিওপ্যাথিক কলেজ স্থাপিত হয়। ১৮৮২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি, প্রথমবারের মতো কলকাতায় পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৮৮৩ সালে নবীন চন্দ্র দাস প্রথম রসগোল্লা আবিস্কার করেন কলকাতা শহরে।

১৮৯৯ সালের ৩০ মে, কলকাতার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ শুরু। ১৮৯৯ সালে ভারতবর্ষের কলকাতা শহরে প্রথম ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রম চালু হয়। ১৯০২ সালে এইচ. এম. ভি. কোম্পানি কলকাতা শহরে প্রথম গানের রেকর্ড করা শুরু করে শিল্পী গহরজানকে দিয়ে। ১৯০৫ সালে কলকাতা শহরে প্রথম টেক্সি চলে। ১৯০৫ সালের ৫ মার্চ, কলকাতা শহরে প্রথম আঞ্জুমান মফিজুল ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯১৩/১৪ সালে চায়নাবাসী প্রথম রিক্মা চালায়, ১৮৭০ সালে জাপান প্রথম রিক্মা তৈরী করে। ১৯১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় কলকাতা শহরে ইংরেজরা রাস্তার মোরে মোরে ফ্রি চা পান করায়। ১৯২০ সালে দমদম বিমান বন্দর তৈরী হয়। ১৯২২ সালে কলকাতা শহরে প্রথম বিমান উড়ে। ১৯২৪ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ সর্বপ্রথম কলকাতা কপোের্রশনের মেয়র ছিলেন। ১৯২৭ সালের ২৬ আগষ্ট, কলকাতায় প্রথম বেতার কেন্দ্র 'ইন্ডিয়ান ব্রডকাষ্টিং সার্ভিস' চালু হয়। ১৯৪৬ সালের আগষ্ট মাসে কলকাতায় প্রথম হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা শুরু হয়। এ দাঙ্গা এক বছর চলে এবং হিন্দু-শিখ সন্ত্রাসীদের হাতে ৫০ হাজার মুসলমান মারা যায়। হিন্দু সাংবাদিকদের হিসাবে ৫ হাজার লোক নিহত হয়েছিল ও ১৫ হাজার আহত হয়। স্টেটসম্যান পত্রিকার হিসাব অনুযায়ী, ২০ হাজার লোক হতাহত হয়। (বাংলার মুসলমানদের ইতিহাস: ড. মুহম্মদ আবদুর রহিম)। ১৯৫৮ সালের ৩ মার্চ, প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেন চলে হাওড়া থেকে ব্যান্ডেল পর্যন্ত। ১৯৫৯ সালের ৩১ আগষ্ট, কলকাতায় খাদ্যের দাবীতে কৃষকদের মিছিলে পুলিশের গুলীতে ৮০-ব্যক্তি নিহত হন। ১৯৭৫ সালের ৯ আগষ্ট, কলকাতায় দুরদর্শন কেন্দ্র চালু হয়। ১৯৮৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর, কলকাতায় পাতাল রেল চালূ। ১৯৮৮ সালের হিসাব অনুসারে, খোদ কলকাতা শহরে রয়েছে ২,২২০টি নোটিফায়েড বস্তি যাতে ১৭,০০,০০০ লাখ লোকের বাস। পুর এলাকার ১৪১টি ওয়ার্ডের মাত্র ২টি ছাড়া সব ওয়ার্ডেই বস্তি আছে। ২০০২ সালে কলকাতা শহরে প্রায় ৪,০০০ হাজার রাস্তা বেয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করে ১ কোটিরও বেশী মানুষ। ২০১১ সালে কলকাতা শহরে ১.৬৫ কোটি লোক বাস করে।

১৬৯১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি, মোঘল সাম্রাজ্যে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যের অনুমতি দিয়ে সম্রাট আওরঙ্গজেবের ফরমান জারি। ১৬৯৮ সালের ১০ নভেম্বর, ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী কলকাতা, সুতানটি ও গোবিন্দপুর এ তিনটি গ্রামের জমিদারি সনদ লাভ করেন। ১৭১২ সালের ১৯ এপ্রিল, জাহান্দার শাহ দিল্লীর সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন এবং ১৭১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি, মোগল সম্রাট জাহান্দার শাহ নিহত হন। ১৭১৭ সালে ইংরেজরা মুঘল সম্রাট ফারুখ শিয়ারের কাছ থেকে শুল্কবিহীন বাণিজ্যের ছাড়পত্র দত্ত্বক পেয়েছিল। ১৭৫৭ সালের ৪ জানুয়ারি, নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানিকে তাঁদের বিশেষ অধিকার ফিরিয়ে দেন। ১৭৫৭ সালের ১৩ জুন, রবার্ট ক্লাইভ নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে মুর্শিদাবাদ অভিমুখে যুদ্ধ অভিযান শুরু করেন। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন, প্রথম পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয়। নবাব সিরাজ দৌল্লাহ ৫০,০০০(পঞ্চাশ হাজার) সৈন্য নিয়ে মুর্শিদাবাদ হ'তে যাত্রা শুরু করেন এবং মীরজাফর, খাদিম হোসেন ও রায়দুর্লভ তাঁরা সৈন্যদের নিয়ে দূরে দাঁড়িয়ে নিস্ক্রীয় দর্শেকর ভূমিকা পালন করেন। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন, পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজ উদ্দৌলার পরাজয়ের পর বাংলায় ইংরেজ শাসনের সূত্রপাত হয়। ১৭৫৭ সালের ২৯ জুন, মীর জাফর আলী খাঁ বাংলার নবাব হিসেবে সিংহাসনে আরোহণ। ১৭৫৭ সালের ৩ জুলাই, মীরজাফর তনয় মীরনের নির্দেেশ নবাব সিরাজ-উদ-দৌল্লাকে হত্যা করা হয়। ১৭৫৭ থেকে ১৭৬০ সাল পর্যন্ত (পলাশীর যুদ্ধের পর) মীর জাফর নামেমাত্র নবাব ছিলেন। ১৭৫৭ সালের ২০ ডিসেম্বর, রবার্ট ক্লাইভ বাংলার গভর্নর নিযুক্ত হন। ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে এ দেশের শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালিত হতো-মক্তব, মাদ্রাসা, টোল ও রাজদরবারকে কেন্দ্র করে। মধ্যযুগে মুসলমানদের প্রাথমিক পর্যােয়র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল ''মক্তব''। আরবি, ফারসি ও ইসলাম ধর্মের উচ্চতর শিক্ষা হতো ''মাদ্রাসায়''। ''মুঘল'' আমলে বাংলা গজল ও সুফি সাহিত্য সৃষ্টি হয়। সরকারি কাজে ফারসি ভাষা চালু করেন ''টোডরমল''।

১৭৫৮ সালের ১২ ডিসেম্বর, ফরাসি জেনারেল ল্যালি ইংরেজ অধিকৃত মাদ্রাজ দুর্গ দখল করেন। ১৭৫৮ সাল থেকেই ফকির বিদ্রোহের নেতা মজনু শাহ প্রথমদিকে বাস করতেন ভারতের কানপুর থেকে চল্লিশ মাইল দূরে মকানপুর নামক শাহ মাদারের দরগায়। ১৭৫৮ সাল থেকে শুরু হয়ে আঠার শতকের পর উনিশ শতকের প্রথম দিক পর্যন্ত ফকির অভিযান অব্যাহত ছিল। ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম সংঘটিত সংঘবদ্ধ আন্দোলন ছিল-ফকির আন্দোলন। ১৭৫৯ সালের ৩০ নভেম্বর, মোগল সম্রাট দ্বিতীয় আলমগীর নিজ মন্ত্রীর হাতে নিহত হন। ১৭৬০ সালের ১১ জুন, মহীশুরের নবাব হায়দার আলীর সাথে বৃটিশ সেনাবাহিনীর যুদ্ধ হয়। ১৭৬০ সালে বর্ধমাণ জেলায় সন্ন্যাসীরা বৃটিশদের বিরুদ্ধে ১ম সংগ্রাম শুরু করে। ১৭৬০ সালে চট্টগ্রাম জেলা ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর নিকট হস্তান্তর করা হয়। ১৭৬০ সাল থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস হিসেবে অভিহিত। ১৭৬১ সালের ৬ জানুয়ারি, পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ। পেশোয়া বালাজি বাজিরাও, গোয়ালিওর রাজসিন্ধিয়াসহ পাঠান সর্দারদের সম্মিলিত বাহিনী আহমদ শাহ আবদালীর নিকট পরাজয়বরণ করে। একদিনের যুদ্ধে ২-লক্ষাধিক মারাঠা সৈন্য নিহত। ১৭৬১ সালের ১৪ জানুয়ারি, মারাঠা বাহিনী ও আহমদ শাহ দুররাণীর মধ্যে তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়। ১৭৬১ সাল হ'তে নুতন কোম্পানী সরকার বার বার রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে থাকে। ১৭৬১ সালে ফকিররা ইংরেজদের ঢাকা কুঠির আক্রমণ ও লুটপাট করেন। ১৭৬৩ সালের ২৪ জুন, বৃটিশ সৈন্যদের মুর্শিদাবাদ দখল এবং মীর জাফর আলী খাঁকে বাংলার নবাবী প্রদান। ১৭৬৩ সালের ২ আগষ্ট, মুর্শিদাবাদ দখলের পর বৃটিশ সৈন্য গিরিয়াতে মীর কাশিমের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। এ যুদ্ধে মীর কাশিম পরাজিত হয়। ১৭৬৩ সালের ৬ নভেম্বর, নবাব মীর কাশিমের কাছ থেকে ব্রিটিশের পাটনা দখল।

১৭৬৩ সালে ইংরেজ শাসকদের বিরুদ্ধে এদেশে যে ফকির আন্দোলন বা সন্ন্যাস আন্দোলন শুরু হয়েছিল সেই আন্দোলনের নেতা ছিল ফকির মজনু শাহ। ফকির মজনু শাহ ছাড়া আর কে ছিল-ভবানী পাঠক। ১৭৬৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর, বৃটিশ বাহিনী রাজমহলের কাছাকাছি উদয়নালায় মীর কাশিমকে পরাজিত করে। ১৭৬৩ সালে বরিশালে ফকিররা প্রথম ইংরেজদের ওপর হামলা করে। ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর, মীর কাসিম এবং ইংরেজদের মধ্যে 'বক্সার' নামক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর, ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর শাসন শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলা ও বিহারে নবাবী আমলের অবসান। ১৭৬৪ সালের ২৩ অক্টোবর, বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজ সেনাবাহিনীর কাছে মীর কাসিমের পরাজয়। ১৭৬৫ সালের ১২ আগস্ট, মোগল সম্রাট বৃটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর হাতে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানী তুলে দেন। ১৭৬৫ সালে মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের সঙ্গে কোম্পানির এলাহাবাদ-চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ১৭৬৫ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস ফকির-সন্ন্যাসীকে দমন করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ১৭৬৫ সালে রবার্ট ক্লাইভ সমগ্র বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানী সনদ লাভ করে দক্ষিণ এশিয়ার বৃটিশ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করেন। ১৭৬৫ সালে বৃহত্তর কুমিল্লা জেলা প্রথম ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনাধীনে আসে। ১৭৬৭ সালের জানুয়ারি, ক্লাইভ স্বদেশে প্রত্যার্তন করলে তার ব্যবস্থায় ফাটল ধরে। ১৭৬৭ সাল থেকে ১৭৬৯ সালের মধ্যে ইংরেজদের সঙ্গে ফকিরদের সংঘর্ষে সেনাপতি মার্টল ও লেফটেন্যান্ট কিথ নিহত হন। ১৭৬৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি, কর্ণেল স্পিথ হায়দরাবাদের নিজামের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটিশ আধিপত্য বিস্তার করেন। ১৭৬৮ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস গর্ভনর জেনারেল হয়ে ভারতে আসেন। ১৭৬৯ সালের ১৭ মার্চ, তাঁত ও মসলিন শিল্প ধ্বংসের উদ্দেশ্যে বৃটিশ সরকারের নির্দেেশ বাংলার তাঁতিদের বৃদ্ধাঙ্গুলি কেটে দেয়া শুরু হয়। ১৭৬৯-৭০ সালে ভারতবর্ষের বাঙলা আর বিহার জুড়ে দুর্ভিেক্ষর কথা বলছি। এ দুর্ভিেক্ষ এদের মোট প্রজার এক-তৃতীয়াংশ মারা গেল। (বাংলা ১১৭৬ সালে বাংলায় যে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল তাকে বলা হয় ছিয়াত্তরের মন্বন্তর)। ১৭৭০ সালের ২৫ জুন, মুর্শিদাবাদ হ'তে কোম্পানীর আবাসিক প্রতিনিধি রিচার্ড বেচারের রিপোর্টঃ "এ এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য। ইহার বর্ণনা অসম্ভব। দেশের কয়েক অংশে যে জীবিত মানুষ মৃত মানুষকে ভক্ষণ করিতেছে তাহা গুজব নয়, অতি সত্য''। ১৭৭০-৭১ সালে ভারতবর্ষের বঙ্গদেশে রেশম উৎপাদন হ্রাস পায় শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ। ১৭৭১ সালে দুর্ভিেক্ষর পর (সেখানে দুর্ভিেক্ষ এক তৃতীয়াংশ লোক মারা যাওয়ার পরও) তাদের রাজস্ব আদায় হল ১৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা। ১৭৭১ সালের ২৫ ডিসেম্বর, দ্বিতীয় শাহ আলম মোঘল সম্রাট হিসেবে দিল্লীর সিংহাসনে বসেন। ১৭৭২ সালের ১৫ আগষ্ট, ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী জেলা পর্যােয় ফৌজদারী ও দেওয়ানি আদালত পৃথক করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৭৭২ সালে দ্বৈত শাসনের অবসান করা হয় এবং ১৭৭২ সালেই কোম্পানি বাংলার দেওয়ানি শাসন সরাসরি নিজেদের হাতে তুলে নেন। ১৭৭২ সালে সর্বপ্রথম ফরাসী বণিক জঁলিয়ে লুই বোনার্দ হুগলী জেলার তালডাঙ্গায় নীলের বাগান করেন। তা দেখে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানী অনুপ্রাণিত হয় এবং ১৭৮৮ সালে বাংলায় নীল চাষ শুরু করে।

১৭৮১ সালের ২ জুলাই, মহিশূরের বীর হায়দার আলী বৃটিশ বাহিনীর হাতে পরাজিত হন। ১৭৮১ সালের ১২ নভেম্বর, ব্রিটিশ বাহিনী দক্ষিণ ভারতের নাগাপট্টম দখল করে। ১৭৮২ সালের ৭ ডিসেম্বর, মহীশুরের বীর যোদ্ধা হায়দর আলীর মৃত্যুর পর টিপু সুলতান মহিসুরের সিংহাসনে আরোহণ করেন। ১৭৮৩ সালের জানুয়ারি মাসে "রংপুর বিদ্রোহ'' জোতদার ও রায়তেরা বিদ্রোহ ঘোষণা করে। ১৭৮৪ সালের ১১ মার্চ, মহিশুরের টিপু সুলতানের সাথে ইংরেজদের শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর। ১৭৮৫ সাল পর্যন্ত ফকির মজনু শাহ'্‌র বাহিনী কোম্পানী সৈন্যের সঙ্গে বহুবার সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ১৭৮৭ সালে ফকির মজনু শাহ্‌'র মৃত্যু হয়। ১৭৮৭ সালে মজনু শাহের মৃত্যুর পরে ফকির বাহিনী ততটা সুবিধা করে উঠতে পারেনি। ১৭৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর, ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর আমলে ভারতে প্রাচীন সৈন্যবাহিনীর রেজিমেন্টের জন্ম। ১৭৯১ সালের ২১ মার্চ, বৃটিশ সৈন্যরা টিপু সুলতানের কাছ থেকে বাঙ্গালোর দখল করে নেয়। ১৭৯১ সালের ডিসেম্বর, বৃটিশ শেষ ইজারাদারদের অত্যাচার হ'তে কৃষকদের রক্ষা করার জন্য বলাকী শাহ্‌ তাঁর ৫(পাঁচ) হাজার সশস্ত্র শিষ্য নিয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। ১৭৯১-৯২ সালকে বলা হয় বলাকী শাহ্‌'র বিদ্রোহ। ১৭৯২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি, টিপু সুলতান র্কতৃক বৃটিশ শাসিত হায়দরাবাদের নিজামের নিকট মহীশূরের অর্ধেক হস্তান্তর। ১৭৯৯ সালের ৪ মে, ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধযুদ্ধে মহিশূরের টিপু সুলতান নিহত হন। ১৭৯৯ সালের ১৪ জুলাই, মাহাজেরা ৫(পাঁচ) হাজার সশস্ত্র অনুসারী নিয়ে সিলেট আক্রমণ করেন এবং ত্রিপুরা রাজ্যে পলায়নের পথে মৃত্যুবরণ করেন। ১৮৫৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি, অযোধ্যার নবাব ওয়াজিদ আলী ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। ১৮৫৬ সালের ৪ জুলাই, মৌলভী আহমদ উল্লাহ ও লাখনৌর বেগম হযরত মহলের সাথে যুদ্ধে ইংরেজদের পরাজয়। ১৮৫৭ সালের ২৬ জানুয়ারি, ব্যারাকপুরের সিপাহিরা প্রথম বিদ্রোহ করে। ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ, ভারতের ব্যারাকপুর সেনা ব্যারাকে মঙ্গলপান্ডের গুলী ছোঁড়ার মধ্য দিয়ে সিপাহী বিদ্রোহের সূচনা হয়। ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বভারতীয় প্রথম সংগ্রাম কোনটি ''সিপাহী বিদ্রোহ''। ভারতীয় সৈনিকদ্বারা ইউরোপীয় অফিসারদের ব্যারাকপুরে আক্রমণ করা হয়। ১৮৫৭ সালের ৩ এপ্রিল, রাণী ভিক্টোরিয়াকে 'ভারত সম্রাজ্ঞী' ঘোষণা করা হয়। ১৮৫৭ সালের ৮ এপ্রিল, সিপাহী বিদ্রোহের অগ্রণী সৈনিক মঙ্গল পান্ডের ফাঁসি হয়। ১৮৫৭ সালের ১০ মে, ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাটে সিপাহী বিদ্রোহের সূচনা হয়। ১৮৫৭ সালের ১১ মে, দিল্লীতে প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের ঐতিহাসিক সিপাহী বিদ্রোহ শুরু। ১৮৫৭ সালের ১৭ মে, সিপাহী বিপ্লবের নেত্রী ঝাঁসির রাণী লক্ষীবাই-এর মৃত্যু। ১৮৫৭ সালের ৩০ মে, বিদ্রোহের দাবানল জ্বলে ওঠে লক্ষ্নৌতে, সমগ্র আওয়াধ অঞ্চলে। ১৮৫৭ সালের ৫ জুন, নানা সাহেব ইংরেজদের বিরুদ্ধে অস্র-ধারণ করল এবং দেড় মাস যেতে না যেতেই ১৮ জুলাই, ইংরেজদের কাছে তাকে পরাজয় স্বীকার করতে হল। ১৮৫৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর, সিপাহী বিপ্লবের বীর যোদ্ধা নানা সাহেব নেপালে নির্বাসনকালে মারা যান।