১৭৮১ সালের ২ জুলাই, মহিশূরের বীর হায়দার আলী বৃটিশ বাহিনীর হাতে পরাজিত হন। ১৭৮১ সালের ১২ নভেম্বর, ব্রিটিশ বাহিনী দক্ষিণ ভারতের নাগাপট্টম দখল করে। ১৭৮২ সালের ৭ ডিসেম্বর, মহীশুরের বীর যোদ্ধা হায়দর আলীর মৃত্যুর পর টিপু সুলতান মহিসুরের সিংহাসনে আরোহণ করেন। ১৭৮৩ সালের জানুয়ারি মাসে "রংপুর বিদ্রোহ'' জোতদার ও রায়তেরা বিদ্রোহ ঘোষণা করে। ১৭৮৪ সালের ১১ মার্চ, মহিশুরের টিপু সুলতানের সাথে ইংরেজদের শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর। ১৭৮৫ সাল পর্যন্ত ফকির মজনু শাহ'্র বাহিনী কোম্পানী সৈন্যের সঙ্গে বহুবার সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ১৭৮৭ সালে ফকির মজনু শাহ্'র মৃত্যু হয়। ১৭৮৭ সালে মজনু শাহের মৃত্যুর পরে ফকির বাহিনী ততটা সুবিধা করে উঠতে পারেনি। ১৭৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর, ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর আমলে ভারতে প্রাচীন সৈন্যবাহিনীর রেজিমেন্টের জন্ম। ১৭৯১ সালের ২১ মার্চ, বৃটিশ সৈন্যরা টিপু সুলতানের কাছ থেকে বাঙ্গালোর দখল করে নেয়। ১৭৯১ সালের ডিসেম্বর, বৃটিশ শেষ ইজারাদারদের অত্যাচার হ'তে কৃষকদের রক্ষা করার জন্য বলাকী শাহ্ তাঁর ৫(পাঁচ) হাজার সশস্ত্র শিষ্য নিয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। ১৭৯১-৯২ সালকে বলা হয় বলাকী শাহ্'র বিদ্রোহ। ১৭৯২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি, টিপু সুলতান র্কতৃক বৃটিশ শাসিত হায়দরাবাদের নিজামের নিকট মহীশূরের অর্ধেক হস্তান্তর। ১৭৯৯ সালের ৪ মে, ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধযুদ্ধে মহিশূরের টিপু সুলতান নিহত হন। ১৭৯৯ সালের ১৪ জুলাই, মাহাজেরা ৫(পাঁচ) হাজার সশস্ত্র অনুসারী নিয়ে সিলেট আক্রমণ করেন এবং ত্রিপুরা রাজ্যে পলায়নের পথে মৃত্যুবরণ করেন। ১৮৫৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি, অযোধ্যার নবাব ওয়াজিদ আলী ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। ১৮৫৬ সালের ৪ জুলাই, মৌলভী আহমদ উল্লাহ ও লাখনৌর বেগম হযরত মহলের সাথে যুদ্ধে ইংরেজদের পরাজয়। ১৮৫৭ সালের ২৬ জানুয়ারি, ব্যারাকপুরের সিপাহিরা প্রথম বিদ্রোহ করে। ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ, ভারতের ব্যারাকপুর সেনা ব্যারাকে মঙ্গলপান্ডের গুলী ছোঁড়ার মধ্য দিয়ে সিপাহী বিদ্রোহের সূচনা হয়। ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বভারতীয় প্রথম সংগ্রাম কোনটি ''সিপাহী বিদ্রোহ''। ভারতীয় সৈনিকদ্বারা ইউরোপীয় অফিসারদের ব্যারাকপুরে আক্রমণ করা হয়। ১৮৫৭ সালের ৩ এপ্রিল, রাণী ভিক্টোরিয়াকে 'ভারত সম্রাজ্ঞী' ঘোষণা করা হয়। ১৮৫৭ সালের ৮ এপ্রিল, সিপাহী বিদ্রোহের অগ্রণী সৈনিক মঙ্গল পান্ডের ফাঁসি হয়। ১৮৫৭ সালের ১০ মে, ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাটে সিপাহী বিদ্রোহের সূচনা হয়। ১৮৫৭ সালের ১১ মে, দিল্লীতে প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের ঐতিহাসিক সিপাহী বিদ্রোহ শুরু। ১৮৫৭ সালের ১৭ মে, সিপাহী বিপস্নবের নেত্রী ঝাঁসির রাণী লক্ষীবাই-এর মৃত্যু। ১৮৫৭ সালের ৩০ মে, বিদ্রোহের দাবানল জ্বলে ওঠে লক্ষ্নৌতে, সমগ্র আওয়াধ অঞ্চলে। ১৮৫৭ সালের ৫ জুন, নানা সাহেব ইংরেজদের বিরুদ্ধে অস্র-ধারণ করল এবং দেড় মাস যেতে না যেতেই ১৮ জুলাই, ইংরেজদের কাছে তাকে পরাজয় স্বীকার করতে হল। ১৮৫৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর, সিপাহী বিপস্নবের বীর যোদ্ধা নানা সাহেব নেপালে নির্বাসনকালে মারা যান।
এ অঞ্চলে প্রথম একটি কলকাতা শহরে প্রতিষ্ঠা করেন ১৭৩৪ বা ১৭৪৭ সালে প্রথম স্থাপিত হয় ফ্রি স্কুল ৪র্থ শ্রেণী পর্যন্ত। কলকাতা শহরে ১৭৮৭ সালে একটি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৭৮৯ সালে এ স্কুল থেকে প্রথম এন্ট্রান্স পরীক্ষা দেয়া হয়। বাংলাদেশে প্রথম ১৭৮০ সালে ঢাকায় আলীয়া-ই-মাদ্রাসা এবং তারপর বিক্রমপুরে ১৮০৫ সালে একটি প্রাইমারী স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়, ১৮২৮ সালে রাজশাহী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ভারতবর্ষের প্রথম কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয় কলকাতায় ১৮০০ সালের ৩ মে, ''ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ''। বাংলাদেশের প্রথম কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৪১ সালের ২০ নভেম্বর, ''ঢাকা কলেজ''। ১৮৫২ সালের ৩০ জানুয়ারি, ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর রেলওয়ে উদ্বোধন। ১৮৫৩ সালের পর হ'তে ভারতবর্ষে ইংরেজী শিক্ষা দ্রুত বিস্তার লাভ করতে থাকে। ১৮৫৩ সালের ১৬ এপ্রিল, বোম্বাইয়ে প্রথম ট্রেন চলাচলের মধ্য দিয়ে ভারতবর্ষে রেল যোগাযোগের সূচনা হয় এবং ১৮৫৪ সালে ভারতের বোম্বে হতে কলকাতা শহরে প্রথম রেল চলাচল করে। দর্শনা হতে কুষ্টিয়ার জগতি পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ করা হয় ১৮৬২ সালে। ১৮৬৭ সালে কুষ্টিয়া হতে গোয়ালন্দ রেলপথ নির্মাণ করা হয়। ১৮৮৫ সালের ৪ জানুয়ারি, ঢাকা-নারায়নগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ করা হয়। ঢাকা-নারায়নগঞ্জ রেলপথটি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭ জুলাই, ১৯৯৭ সালে ছেড়ে দেয়।
ভারতবর্ষে একই বছর তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু ১৮৫৭ সালের ২৪ জানুয়ারি, কলকাতা, মুম্বাই ও মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়। ভারতবর্ষের প্রথম দু'জন র্গযাজুয়েটের নাম হলো বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও যদুনাথ বসু। ১৮৫৮ সালে সিন্ডিকেটের সভায় গৃহীত এক প্রস্তাবে-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম র্গযাজুয়েট ও সঙ্গী র্গযাজুয়েট যদুনাথ বসু। উভয়েই পরীক্ষায় ফেল করেছিল এবং দু'জনকেই ''এজ এ স্পেশাল এক্ট অব গ্রেস" দিয়ে পাশ করানো হয়েছিল। তাঁরাই ভারতবর্ষের প্রথম গ্রাজুয়েট। ১৮৬২ সালের ২১ জুন, অবিভক্ত ভারতের প্রথম ব্যারিস্টার জ্ঞানেন্দ্রমোহন ঠাকুর। ১৮৭৭ সালে ১২(বার) জন ভারতীয় এম. এ. পাশ করেন। ১৮৮২ সালে ভারতবর্ষে মেয়েরা প্রথম স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন এবং এদেরই একজন চন্দ্রমুখী বসু ১৮৮৪ সালে বাঙ্গালী মহিলাদের মধ্যে প্রথম মাষ্টার ডিগ্রী লাভের কৃতিত্ব অর্জন করেন। ১৮৫৭ সাল থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাত্র ১৯৮ জন বাঙালি মুসলমান স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। উনিশ শতকে সীমিত পরিসরে সমাজে নারীশিক্ষার প্রয়াস চালানো হয়। উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে মুসলিম নারীসমাজের শিক্ষাবিস্তার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় যে ক'জন মহিলা উদ্যোগ নেন তাঁদের মধ্যে বিবি তাহেরা নেসা, ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী (১৮৩৪-১৯০৩), করিমুন্নেসা খানম (১৮৫৫-১৯২৬) এবং রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন (১৮৮০-১৯৩২) তাহেরা নেসা প্রথম বাঙালি মুসলিম মহিলা লেখক। তিনি ১৮৬৫ সালে বামাবোধিনী পত্রিকায় 'শিক্ষা ও সামাজিকতায় নারীর অধিকার' সম্পর্কে একটি রচনা প্রকাশ করেন। ১৮৭৩ সালে নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। ১৯১৫-১৬ সাল পর্যন্ত কোনো মুসলমান মেয়ে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় পাস করেননি; ১৯১৮-১৯ সালে মাত্র একজন মেয়ে এ পরীক্ষায় পাস করেন। তবে ১৯২১-২২ সালে ১০২ জন মুসলিম ছাত্রী ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় পাশ করেন। বাংলার মুসলিম সমাজে আধুনিক শিক্ষার অগ্রগতি (১৮৮৫-১৯২১)।
১৮৮৫ সালে মুম্বাই শহরে জাতীয় কংগ্রেস পার্টির জন্ম। ১৮৮৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর, বোম্বে শহরে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। ১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম সভাপতি হয়েছিলেন ডবিস্নউ. সি. ই. (ইংরেজ)। বাঙ্গালী ব্যারিস্ট্রার উমেশ চন্দ্র ব্যাণার্জি ভারতীয় কংগ্রেসের প্রথম নির্বািচত সভাপতি। জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন-''অ্যালান অক্টোভিয়ান ইিউম''। ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর, ঢাকার নবাব স্যার সলিমূল্লাহ'র প্রাসাদে মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনে ''নিখিল ভারত মুসলিম লীগ'' প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯২০ সালে এম. এন. রায় ও কমরেড মুজাফ্ফর আহমেদের নেতৃত্বে রাশিয়ার তাসখন্দে বসে ''ভারতীয় কমিউনিষ্ট পার্টি'' প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৪১ সালের ২৬ আগষ্ট, লাহোরে ৭৫ জন লোক নিয়ে 'জামায়াতে ইসলামী' নামে একটি আদর্শবাদী দল গঠন। ১৯৪৪ সালে কলকাতা শহরে ''নেজামে ইসলামী পার্টি'' প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। ১৯৪৮ সালে বি. জে. পি. প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন, ঢাকার ''রোজ গার্ডেেন'' মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে আওয়ামী মুসলিম লীগ'' প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫৫ সালে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে ''আওয়ামী লীগ'' নাম করণ করা হয়। মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ১৯৫৭ সালের ২৫ জুলাই, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি(ন্যাপ) গঠিত হয়। ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭২ সালের ৩১ অক্টোবর, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রচলিত সকল রাজনৈতিক দল বাতিল ও বেআইনী ঘোষণা করে 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' (বাকশাল) নামে একটি জাতীয় দল গঠন করেন। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টি (বিএনপি) প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি, 'বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি' প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এছাড়াও আরো অনেক পার্টি ও গ্রুপ আছে।
মোঃ জাকির হুসেন ওরফে আলমগীর
ডেপুটি রেজিস্ট্রার(অবসর)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। গ্রাম-ভেলানগর(বড়বাড়ি)।
।কিছু কথা:।
মহাবিশ্বের বয়স ১৩৮০ কোটি বছর। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, মহাবিশ্বের বয়স আগে যা ভাবা হতো তারচেয়ে ১০ কোটি বছর বেশি। ২০০৯ সালে মহাকাশে উৎক্ষেপিত একটি স্পেস টেলিস্কোপ থেকে পাওয়া তথ্য বিশেস্নষণ করে ইউরোপের একদল বিজ্ঞানী বৃহস্পতিবার(২১-০৩-২০১৩ তারিখ) এ তথ্য জানিয়েছেন। নতুন পর্যেবক্ষণে মহাবিশ্বের বয়স ১৩৮০ কোটি বছর বলে জানা গেছে। এই গবেষণার পূর্বে মহাবিশ্বের বয়স ১৩৭০(এক হাজার তিনশত সত্তর) কোটি বছর বয়স ছিল। পৃথিবীর আনুমানিক বয়স কমপক্ষে ৪৬০(চারিশত ষাট) কোটি বছর। সুর্যের আনুমানিক বয়স ৪৬০(চারিশত ষাট) কোটি বছর। পৃথিবীতে প্রাণের সূচনা তিনশত কোটি বছর আগে। বিখ্যাত বিজ্ঞান ম্যাগাজিন নেচার-এ প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে বিজ্ঞানীদের এ ধারণার কথা প্রকাশিত হয়েছে। পৃথিবীতে প্রাণের সৃষ্টি প্রায় ২০০(দুইশত) কোটি বছর আগে। জীবের সৃষ্টি প্রায় ৬০(ষাট) কোটি বছর আগে। ৩৭ কোটি বছর আগে পানিতে মাছের বিচরণ শুরু হয়। ২০(কুড়ি) কোটি বছর আগে থেকে পৃথিবীতে ডাইনোসরদের আধিপত্য চলছিল এবং পৃথিবীর সমস্ত মহাদেশ একসঙ্গে আঁটা ছিল। যাকে বলে প্যানজিয়া কুড়ি কোটি বছর আগে-তার মানে সময়টা ছিল মধ্যজীবীয় অধিযুগের জুরাসিক যুগ। ১৮(আঠারো) কোটি বছর আগে প্যানজিয়ায় ভাঙ্গন ধরে। তারপরে টুকরো টুকরো অংশগুলো আলাদা হয়ে যেতে থাকে। আফ্রিকার একদিক থেকে আলাদা হয়ে যায় দক্ষিণ আমেরিকা, অন্যদিক থেকে কুমেরু। ইউরোপ থেকে আলাদা হয়ে যায় উত্তর আমেরিকা। দুই আমেরিকা আলাদা হয়ে যেতে পিছনে তৈরী হয় আটলান্টিক মহাসাগর। আর ভারতের ভূখন্ড যাত্রা শুরু করে এশিয়ার দিকে-টেথিস মহাসাগর পেরিয়ে। যেতে যেতে সামনের দিকে টেথিস মহাসাগরকে ধ্বংস করে আর পিছনের দিকে তৈরী হয় ভারত মহাসাগর। প্রায় ছয়কোটি বছর আগে ভারতের ভূখন্ড এসে এশিয়ার দক্ষিণ উপকুলে ধাক্কা মারে। তার ফলে প্রচন্ড একটা ঠেলা তৈরী হয়ে যায়। আর তারই ফলে হিমালয় পর্বতমালার সৃষ্টি এবং তার উঁচ্চতা ২৯,০৩৫ ফুট।
১৪.৭০(চৌদ্ধ কোটি সত্তর লাখ) বছর আগে এ পৃথিবীতে ডাইনোসরের মত অতিকায় প্রাণীর অস্তিত্ব ছিল। ডাইনোসরই ছিল পৃথিবীর প্রথম পাখি। হিমালয় হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে নবীন পর্বত, ৬(ছয়) কোটি বছরও বয়স হয়নি। ১৯৭৪ সালে যে মানুষের জীবাশ্ম আবিস্কৃত হয়েছিল, ৩০(ত্রিশ) লক্ষ বছর আগে মানুষ এসেছে পৃথিবীতে, এতদিন পর্যন্ত সেটিকেই প্রাচীনতম বলে মনে করা হচ্ছিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, তাদের অনুমান সদ্য ২০০৪ সালে আবিস্কৃত এ প্রজাতির মানুষ দু'পায়ে সোজা হাঁটতে সক্ষম ছিল। ৩০(ত্রিশ) লক্ষ বছর আগের সে মানুষ আসলে পৃথিবীতে ৪০(চল্লিশ) লক্ষ বছর আগে এসেছে। বিবিসি। জীবাশ্ম বিজ্ঞানীরা ইথিওপিয়ার মনুষ্য প্রজাতির একটি অংশের কিছু হাড়ের যে অংশ আবিস্কার করেছেন তা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ বছরের পুরানো বলে অনুমান করা হচ্ছে। আজকের মানুষ প্রায় ৭৫(পঁচাত্তর) হাজার বছর আগের।
গত ৭০,০০০(সত্তর হাজার) বছর আগে পৃথিবীর জনসংখ্যা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুযোের্গ দুই হাজারে নেমেছিল এবং মানব প্রজাতির অস্তিত্ব প্রায় ধ্বংস হতে বসেছিল। তবে প্রস্তরযুগের পর তা আবার বাড়তে থাকে। তবে একটি নতুন জেনেটিক গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া গেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জার্নাল অব হিউম্যান জেনেটিকস-এ গবেষণা প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয়। জেনোগ্রাফিক প্রকল্পের পরিচালক স্পেনসার ওয়েলস বলেন, মানব প্রজাতির ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো আবিস্কারে জেনেটিকবিদ্যার অসাধারণ ক্ষমতা নতুন এ গবেষণার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। আবার জনসংখ্যা বাড়তে বাড়তে ১২,০০০(বার হাজার) খৃষ্টপূর্বে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল-১(এক) কোটি। ১০,০০০ হাজার খৃষ্টপূর্বে পৃথিবীতে কৃষি-কাজের প্রচলন শুরু হয় এবং পৃথিবীর কৃষি নিভর্রর আদিম জীবনের যুগ অতিবাহিত হয় ১০(দশ) হাজার বছর ধরে। ১০,০০০(দশ হাজার) বছর পূর্বে সোমালিয়া, বেবীলন, ইরাক সভ্যতা আরম্ভ। ১০,০০০ হাজার বছর আগে নরসিংদী জেলার বেলাবো উপজেলার উয়ারী বটেশ্বর-এ বাংলাদেশে প্রথম মানুষের বসতি গড়ে ওঠে। ২,৫০০ হাজার বছর আগের দুর্গনগরীর সন্ধান মিলেছে উয়ারী বটেশ্বরে। ৩৫০০-৪০০০ খৃষ্টপূর্বে চট্টগ্রাম অঞ্চলে মানব বসতির প্রমাণ পাওয়া গেল। শাহীনূজ্জামানের এ আবিস্কারের ফলে নব্য প্রস্তর যুগে (৩৫০০-৪০০০ বছর আগে)। চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রাগৈতিহাসিক যুগেও মানুষ ছিল। ২৫০০ খৃষ্টপূর্বে জয়পুরহাট জেলার মহাস্থানগড়ে বাংলাদেশের তৃতীয় বসতি গড়ে উঠেছিল।
৭(সাত) হাজার বছরের ইতিহাস জানি মাত্র আমরা, যখন থেকে মানুষ তার ইতিহাস লেখে। গাছের বয়স ৭(সাত) হাজার বছর। ৫(পাঁচ) হাজার বছর পূর্বে পৃথিবীর সভ্যতা আরম্ভ। মানুষ কিসের জোরে টিকল। হাতিয়ারের জোরে পশুকে বশ করল এবং পরে আগুন আবিস্কার করে মানুষ নিজে এ আবিস্কার করেছে। সভ্যতার দিকে এগিয়ে গেল মানুষ। কাঠের চাকা আবিস্কারের ৬২০০ বছর পরে স্টীম ইঞ্জিন ও সংযুক্তিযানের যুগ শুরু হয়।
১৬৫০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল-৫৫(পঁঞ্চান্ন) কোটি, ১৮০০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল-৯০(নব্বই) কোটি, ১৮৫০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল-১১৭(একশত সতের) কোটি, ১৯০০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল-১৬০ কোটি, ১৯২৭ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল-২০০(দুইশত) কোটি, ১৯৬০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল-৩০০(তিনশত) কোটি, ১৯৭৪ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল-৪০০(চারিশত) কোটি, ১৯৮৭ সালের ১১ জুলাই, পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল-৫০০(পাঁচশত) কোটি, ১৯৯৯ সালের ১২ অক্টোবর, পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল-৬০০(ছয়শত) কোটি, ২০০৫ সালের ১১ জুলাই, পৃথিবীর জনসংখ্যা-৬৫০(ছয়শত পঁঞ্চাশ) কোটি। ২০০৬ সালের ১১ জুলাই, পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল ৬৫৮(ছয়শত আটান্ন) কোটি। ২০০৭ সালের ১১ জুলাই, পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল ৬৬৫.৮০(ছয়শত পঁয়ষট্টি কোটি আশি লক্ষ)। ২০০৮ সালের ১১ জুলাই, পৃথিবীর জনসংখ্যা হলো-৬৭৩.৬০(ছয়শত তেহাত্তর কোটি ষাট লক্ষ)। ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি, পৃথিবীর লোকসংখ্যা-৬৭৫,১৬,৪৩,৬০০ (ছয়শত পঁচাত্তর কোটি ষোল লক্ষ তেতাল্লিশ হাজার ছয়শত) এবং ২০০৯ সালের ১১ জুলাই, পৃথিবীর জনসংখ্যা হলো-৬৮০ কোটি। ২০১০ সালের ১১ জুলাই, পৃথিবীর জনসংখ্যা হলো-৬৮৭.৮০ কোটি। ২০১১ সালের ১১ জুলাই, পৃথিবীর জনসংখ্যা হলো-৬৯৭ কোটি, ২০১১ সালের ৩১ অক্টোবর, পৃথিবীর জনসংখ্যা ছাড়িয়ে যাবে-৭০০ কোটি এবং ২০১২ সালে ৭১০ কোটি মানুষ, ২০১৪ সালের ১১ জুলাই, ৭২০ কোটি মানুষ, ২০১৫ সালে ৭২৯ কোটি থেকে বেড়ে ২০৫০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা হতে পারে প্রায়-৯৩০ কোটি। ২০৮৩ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা হতে পারে ১,০০০(এক হাজার) কোটি। এবার বিশ্বে ৮(আট) কোটি লোক বাড়ছে। জনসংখ্যা বাড়লে পৃথিবীর কোন প্রকার সমস্যা হচ্ছে না। বাস্তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি বাংলাদেশের মত কিছু কিছু দেশের এক নম্বর সমস্যা। বিজ্ঞানীদের ধারণা ২১০০ সালের পর পৃথিবীর জনসংখ্যা আর বাড়বে বলে মনে হয় না।