বিশ্বে ২০০৮ সালে খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছে-২১৬.৪০ কোটি টন, খাদ্যশস্য মজুদ থাকবে ৪০(চল্লিশ) কোটি টন। ২০১১ সালে বিশ্বে খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছে-২৩২ কোটি টন। বিজ্ঞানীদের ধারণা, বর্তমান বিশ্বে ১,০০০(এক হাজার) কোটি মানুষের খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়। ২০০৯ সালের ১১ জুলাই, পৃথিবীর জনসংখ্যা হলো-৬৮০(ছয়শত আশি কোটি)। ২০১০ সালের ১১ জুলাই, পৃথিবীর জনসংখ্যা হলো-৬৮৭.৮০ (ছয়শত সাতাশি কোটি আশি লাখ)। ২০১৪ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা-৭২০(সাতশত বিশ) কোটি। বিশ্বের ৯০টি দেশে প্রায় ৩৭ কোটি আদিবাসী রয়েছে। বিশ্বের জনসংখ্যার এ হার সাড়ে পাঁচ শতাংশ। গ্রামে বাস করা অতিদরিদ্র ৯০ কোটি মানুষের মধ্যে আদিবাসীদের সংখ্যা এক তৃতীয়াংশের বেশি। পৃথিবীতে গড়ে প্রতিবর্গ মাইলে বাস করে-১২৬ জন (পৃথিবীর আয়তন ৫,৭০,১৭,০০০ বর্গমাইল) আর বাংলাদেশে গড়ে প্রতিবর্গ মাইলে বাস করে ২,৯৬৭ জন (বাংলাদেশের আয়তন ৫৭,২৯৫ বর্গমাইল) আর প্রতিবর্গ কিলোমিটারে বাস করে ১,১৫৬ জন (১,৪৭,০০০ বর্গিকলোমিটার)। গড়পড়তা একটি মানুষের খাদ্য দৈনিক ৫০০ গ্রাম ধরা যদি হয়, তাহলে বছরে খাদ্যশস্য লাগে ১৩১,৪০,০০,০০০ (একশত একত্রিশ কোটি চল্লিশ লক্ষ) টন আর বছরে খাদ্য জমা থাকার কথা ৯০,৩০,০০,০০০(নব্বই কোটি ত্রিশ লক্ষ) টন। তাহলে মানুষ না খেয়ে থাকার কথা নয় বা খাদ্য ঘাটতি নেই। উন্নত বিশ্বের জীব-জন্তু ও পশু-পাখিদের গড়পড়তা যা খাবার খাওয়ানো হয়-তৃতীয় বিশ্বের মানুষদের গড়পড়তা তা খাওয়ানো হয়নি। পৃথিবীতে খাদ্যশস্যের ঘাটতি নেই। ধনীদেশগুলো বা ধনীরা ইচ্ছাকৃতভাবে খাদ্যোর ঘাটতি সৃষ্টি করছে অতি মুনাফার জন্য। খাদ্যের সুষম বণ্টনব্যবস্থা করলে খাদ্য ঘাটতি থাকবে না বা কেউ না খেয়ে মরবে না। ধনীরা যেভাবে বিশ্ববাসীকে অনাহারের পথে ঠেলছে, খাদ্য থেকে জৈব জ্বালানি তৈরি করে তাদের গাড়ি চালানোর জ্বালানি জোগাবে। জাতিসংঘের খাদ্য অধিকার কর্মকর্তার ভাষায় এটা 'মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ'। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্য, চীন, ব্রাজিল, ইউরোপীয় ইউনিয়ন। যুক্তরাষ্ট্রের সড়কে চলা গাড়িগুলো এভাবে জাতিসংঘের দেওয়া তালিকার মধ্যে সবচেয়ে খাদ্যঘাটতিতে পড়া নিম্ন আয়ের ৮২টি দেশের ঘাটতি মেটানোর পুরো শস্যই গাড়ির তেল হিসেবে পুড়িয়ে ফেলবে। দরিদ্রদের অনাহারে রাখার এর থেকে ভালো উপায় আর হয় না।

২০০৮ সালের ৪ জুলাই, বিশ্বব্যাংকের গোপন প্রতিবেদনঃ বিশ্বে খাদ্যোর মূল্যবৃদ্ধির জন্য দায়ী জৈব জ্বালানি। জৈব জ্বালানির কারণেই বিশ্বে খাদ্যদ্রব্যের মূল্য ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বব্যাংকের একটি গোপন প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধির এ হার আগে প্রচারিত হারের চেয়ে অনেক বেশি। লন্ডনের বিখ্যাত দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান গতকাল শুক্রবার প্রতিবেদনটি ফাঁস করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে ২০০২ সাল থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে খাদ্যের দাম ১৪০ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিবেদনে হিসাব করে দেখানো হয়েছে, খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির জন্য জ্বালানি ও সারের মূল্যবৃদ্ধি দায়ী মাত্র ১৫ ভাগ, যেখানে জৈব জ্বালানি দায়ী ৭৫ ভাগ। খাদ্য দিয়ে জৈব জ্বালানি তৈরী বন্ধ না করলে খাদ্যের মূল্য আরো বাড়তে থাকবে।

৩১-১০-২০১৩ তারিখ জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) 'বিশ্ব জনসংখ্যা প্রতিবেদন-২০১৩' প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই তথ্য দেওয়া হয়। ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর, বাংলাদেশের জনসংখ্যা-১৬(ষোল) কোটি। ২০১৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো প্রবাসীসহ বাংলাদেশের জনসংখ্যা-১৬.৯৩(ষোল কোটি তিরানব্বই লক্ষ) মানুষ জন্মনিবন্ধনের আওতায় এসেছে। ২০৫০ সালে বেড়ে বাংলাদেশে জনসংখ্যা হবে ২০(বিশ) কোটি। তখন বছরে জন্ম ও মৃত্যুর সংখ্যা সমান হবে। বাংলাদেশে ৩০ লক্ষ শিশু বছরে জন্ম হয় এবং শিশুসহ বছরে মারা যান ১০ লক্ষ মানুষ। বাংলাদেশে বছরে ২০(বিশ) লক্ষ মানুষ বাড়ে। ২০৫০ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা স্থিতিশীল হবে। পৃথিবীর ৪৪ ভাগের ১ ভাগ লোক বাস করে বাংলাদেশে। প্রতি বছর পৃথিবীতে লোক বাড়ে ৮(আট) কোটি আর বাংলাদেশে বছরে লোক বাড়ে ২০(বিশ) লক্ষ। পৃথিবীর ৪৪ ভাগের ১ ভাগ লোক বাস করে বাংলাদেশে এবং পৃথিবীর হারে লোক বাড়লে বাংলাদেশে লোক বাড়ত বছরে ১৮(আঠার লক্ষ)। পৃথিবীর ২৩৩টি রাষ্ট্রের মধ্যে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র ১৯৪টি এবং জাতি ২০০টি। জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের ৮ম স্থানে আছে আর অর্থনীতির দিক থেকে ৩২তম স্থানে আছে। বাংলাদেশ পৃথিবীর কাছ থেকে জায়গা পেয়েছে ৯৯৫ ভাগের ১ ভাগ ৫৭,২৯৫ বর্গমাইল আর জনসংখ্যার অনুপাতে জায়গা পাইত ১৩,০০,০০০ লক্ষ বর্গমাইল। বুর্জোয়া বিকাশ হলেও আমাদের অর্থনীতি ৮ম স্থানে থাকার কথা ছিল। আমরা বিশ্ব নাগরিক-কথায় বলা হয় কিন্তু বাস্তবে না। বিশ্ব নাগরিক হলে বিশ্বের যা কিছু আছে-তাঁর সবকিছুরই সমান ভাগ পাওয়া যেত।

২০১৬ সালের ০৭ মে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ভেলানগর বড়বাড়ির মোট জনসংখ্যা হলো-২,০৯৫(দুই হাজার পঁচানব্বই) জন, এরমধ্যে মারা গেছেন-৬৭৬ জন আর জীবীত লোকসংখ্যা-১,৪১৯ জন (তালাকপ্রাপ্ত-৮১ ও চলে গেছেন-৮ জন স্ত্রী) মোট স্ত্রীর সংখ্যা-৮৯ জন বিয়োগ করিলে=১,৩৩০ জন এবং বিবাহিতা মেয়েরা স্বামীরবাড়িতে বাস করে-২৭৫ জন আবার বিয়োগ করলে=১,০৫৫ জন। ভেলানগর বড়বাড়ির প্রকৃত জনসংখ্যা-১,০৫৫(এক হাজার পঁঞ্চান্ন) জন। বিদেশ ও শহরে বাস করে ৪৭০ জন এরমধ্যে বিদেশে বাস করে ১৩৫ জন এবং গ্রামে বাস করে-৫৮৫ জন। ভেলানগর বড়বাড়ির জনসংখ্যা-১,০৫৫(এক হাজার পঁঞ্চান্ন) জন থেকে বেড়ে ২০৫০ সালে ভেলানগর বড়বাড়ির জনসংখ্যা হবে প্রায়-১,৩৫০(্‌এক হাজার তিনশত পঁঞ্চাশ) জন। ২১০০ সালে ভেলানগর বড়বাড়ির জনসংখ্যা বেড়ে হবে প্রায়-১,৪০০(এক হাজার চারিশত) জন। ৩১-০৩-২০১৩ তারিখ পর্যন্ত ভেলানগর গ্রামের জীবিত ও মৃতসহ লোকসংখ্যা-১২,৯৬৩ জন, মারা গেছেন-৩,৫০৩ জন, জীবিত লোকসংখ্যা-৯,৪৬০ জন, জীবিত মেয়েরা স্বামীরবাড়িতে থাকে-১,৮৯৮ জন, প্রকৃত জনসংখ্যা-৭,৫৬২(সাত হাজার পাঁশত বাসট্টি) জন এরমধ্যে বিদেশ ও শহরে বাস করে-৩,০৫০ জন। গ্রামে বাস করে প্রায়-৪,৫১২(চার হাজার পাঁচশত বার) জন। ভেলানগর গ্রামের জনসংখ্যা ছিল (গ্রাম, শহর এবং বিদেশে বসবাসকারীসহ) প্রায়-৭,৫৬২(সাত হাজার পাঁচশত বাসট্টি) জন, তা' থেকে বেড়ে ২০৫০ সালে হবে প্রায়-৮,৫০০ হাজার পঁঞ্চাশ জন এবং ২১০০ সালে ভেলানগর গ্রামের জনসংখ্যা বেড়ে হবে-৯,০০০(নয় হাজার) জন। বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় বাস করে প্রায়-৩,০০,৯৩০(তিন লক্ষ নয়শত ত্রিশ) জন এবং শহর ও বিদেশে বাস করে-১,৬৯,০২০(এক লক্ষ উনসত্তর হাজার বিশ) জন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার জনসংখ্যা হলো প্রায়-৩২(বত্রিশ) লক্ষ এরমধ্যে শহর ও বিদেশে বাস করে প্রায়-১১(এগার) লক্ষ জন। ২০১৩ সালের ৩১ মার্চ, বাংলাদেশের জনসংখ্যা হলো ১৬(ষোল) কোটি এরমধ্যে শহর ও বিদেশে বাস করে প্রায়-৪.৫৩(চার কোটি তিপান্ন লক্ষ) জন তারমধ্যে (৩১-০৩-২০১৩ তারিখ পর্যন্ত) বিদেশে বাস করে-৯০ লক্ষ মানুষ এবং ২০১৩ সালের ৩১ মার্চ-এর হিসেব অনুযায়ী, ভেলানগর বড়বাড়ির জনসংখ্যা হলো-ভেলানগর গ্রামের জনসংখ্যা-৭(সাত) ভাগের ১(এক) ভাগ লোক, ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের ২৮ ভাগের ১ ভাগ লোক ভেলানগর বড়বাড়ির, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার জনসংখ্যার-৫৭২(পাঁচশত বাহাত্তর) ভাগের ১(এক) ভাগ লোক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার জনসংখ্যার-৪,৯০০(চার হাজার নয়শত) ভাগের ১(এক) ভাগ লোক, বাংলাদেশের জনসংখ্যার-১,৬০,৩৭৭(এক লক্ষ ৬০ হাজার তিনশত সাতাত্তর) ভাগের ১(এক) ভাগ লোক এবং পৃথিবীর জনসংখ্যার-৬৭.৯২(সাষট্টি লক্ষ বিরানব্বই হাজার) ভাগের ১(এক) ভাগ লোক হলো ভেলানগর বড়বাড়ির।

২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর, বাংলাদেশের শতকরা ৩০ ভাগ লোক শহরে বসবাস করে, আগামী ২০৫০ সালে বালাদেশের শতকরা প্রায় ৬৫ ভাগ লোক শহরে বসবাস করবে। ২০১৪ সালের ৩১ মার্চ, ভেলানগর বড়বাড়ির জনসংখ্যা বিদেশসহ শহরে বাস করে ৪০ ভাগ তা' থেকে বেড়ে ২০৫০ সালে হবে প্রায় ৭০ ভাগ। ২০১৩ সালের ৩১ মার্চ, ভেলানগর গ্রামের জনসংখ্যা বিদেশসহ শহরে বাস করে ৩৫ ভাগ তা' থেকে বেড়ে ২০৫০ সালে হবে প্রায় ৬৫ ভাগ। ১৯০১ সালের দিকে বিশ্বে শহরবাসীর সংখ্যা ছিল শতকরা ৫ ভাগ, আর ১৯৯৯ সালে বিশ্বে শহরবাসীর সংখ্যা শতকরা ৫০ ভাগ। ২০০৮ সালে বিশ্বের ৬৭৫ কোটি লোকের মধ্যে ৪১০ কোটি লোক বা শতকরা ৬১ ভাগ লোক শহরে বাস করে। ২০২৫ সালে (বিশ্বের লোকসংখ্যা হবে-৮০০ কোটি) শহুরে বাসিন্দার সংখ্যা ৫৫০ কোটিতে গিয়ে দাড়াবে বা শতকরা ৬৯ ভাগ লোক শহরে বাস করবে। আগামী ২০৫০ সালের দিকে বিশ্বের লোকসংখ্যার শতকরা ৮০ ভাগ শহরবাসী হবে। তখন আমি মোঃ জাকির হুসেন (আলমগীর) এ পৃথিবীতে বেঁচে থাকবো না।

১৯-০৩-২০১০ তারিখের প্রথম আলোর রিপোর্ট: আম্বানির টাওয়ার। মুকেশ আম্বানির নয়া ভবন ঘিরে কৌতহল বাড়ছে-২০০৭ সালে শুরু হয়েছিল আর শেষ হয় এ কাজ ২০১০ সালে। ১০০ কোটি ডলার ব্যয়ে এ্যান্টিলিয়া নামের ভবনটি মুকেশ আম্বানি বাড়ি বানাননি, বানিয়েছেন টাওয়ার-আন্তিলা টাওয়ার। ২৭ তলা এই টাওয়ার (প্রচলিত মাপে ৬০ তলা দালানের সমান) তৈরি করা হয়েছে মুম্বাইয়ের আলতামাউন্ট রোডে চার লাখ স্কয়ার ফুটের এই ভবনটি নকশা করার অনুপ্রেরণা ছিল ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান। ভবনের কোনো এক তলার সঙ্গে আরেক তলার নকশায় মিল নেই। অনুমান করা হয়, এই টাওয়ার তৈরিতে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে। সে হিসেবে আন্তিলা টাওয়ারকে পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবাসিক ভবন বলে মানা হয়। এ ১০০ কোটি ডলার দিয়ে বাংলাদেশের মত দেশে ১,১৮,৩৩৩(এক লক্ষ আঠার হাজার তিনশত তেত্রিশ)টি পরিবারের স্বাস্থসম্মত বাসস্থান করা যেতো। বর্তমানে মুকেশ আম্বানি পৃথিবীর ১৬৪৫ জন সম্পদশালী ধনীর মধ্যে ৪০তম ধনী। আল্টামাউন্ট সড়কে নির্মিত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল এ বাড়িটি। 'অ্যান্টেলিয়া' নামে এ বাড়ি নির্মােণ ব্যয় হয়েছে ৫(পাঁচ) হাজার কোটি রুপি। এ বাড়িতে ২৮-১-২০১০ তারিখ নতুন বাড়িতে পা রাখবেন মুকেশ ও তাঁর স্ত্রী নীতা আম্বানি। আর আটলান্টিক মহাসাগরের একটি মনোরম দ্বীপের নামানুসারে মুকেশ তাঁর নতুন বাড়ির নাম অ্যান্টালিয়া রেখেছেন। এর আগে বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল বাড়ির মালিক ছিলেন ভারতের অপর শিল্পপতি লক্ষী মিত্তাল। ইংলান্ডের লন্ডনের কেনসিংটন প্যালেস গার্ডেেনর ওই বাড়িটি তিনি কয়েক বছর আগে ৫৬০ কোটি রুপিতে কিনেছিলেন।

মানুষ রাজনৈতিক জীব। প্রত্যেক মানুষের রাজনীতি করার অধিকার আছে। বর্তমান দুনিয়ায় বিজ্ঞানের আধিপত্য কোথায় নেই। খাদ্য-শস্য, জীবন যাপনের উপকরণ, অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কার, বিশ্বাস সব কিছুতেই বিজ্ঞানের আলোকে ব্যাখ্যা করার প্রবনতা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিজ্ঞানই নির্ধারণ করে কোনটি সত্য আর কোনটি মিথ্যা। বিজ্ঞান হয়ে উঠছে সভ্যতার ধারক-বাহক। অথচ যখন দেখা যায় পৃথিবীর ২০০০ সালের হিসেব অনুসারে ২২৫(দুইশত পঁচিশ) জন ধনীতম ব্যক্তির মোট সম্পদের পরিমাণ হলো আয়ের দিক থেকে নিচের দিকের ৩০০(তিনশত)কোটি মানুষের বাৎসরিক আয়ের সমান, তখন প্রশ্ন জাগে বিজ্ঞানের সর্বজনীনতা কতটুকু? ২০০৬ সালের ১১ জুলাই, বিশ্বে ৬৫৮(ছয়শত আটান্ন) কোটি মানুষ বসবাস করে। ২০০৬ সালের ৭ ডিসেম্বর, পিটিআই: বিশ্বের অর্ধেক সম্পদ দুই শতাংশ সেরা ধনীর কাছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলসিংকি ভিত্তিক বিশ্ব উন্নয়ন অর্থনীতি গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক রিপোর্টে বলা হয়, ২০০০ সালে সেরা ধনীদের এক শতাংশের মালিকানায় বিশ্বের ৪০ শতাংশ সম্পদ ছিল। ব্যক্তিগত সম্পদের উপর ব্যাপক পর্যােলাচনায় দেখা গেছে যে, ১০ শতাংশ সেরা ধনীর হাতে বিশ্বের ৮৫ শতাংশ সম্পদ রয়েছে। তুলনামূলকভাবে বিশ্বের প্রাপ্ত বয়স্ক জনসংখ্যার শেষ অর্ধেেকর কাছে রয়েছে বিশ্বের সম্পদের মাত্র এক শতাংশ। ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটি লোকের কাছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ডলার এবং জাপানে ১ লাখ ৮১ হাজার ডলার ছিল। রিপোর্টে বলা হয়, বিশ্বের সেরা ধনীরা বাস করেন উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং ধনী এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোতে। ২০০৭ সালের ১০ মার্চ, ইনকিলাব ডেস্ক: ভারত ও চীনে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা দ্বিগুণ। বিল গেটস এখনো বিশ্বের সেরা ধনী। সূত্র: এপি, এএফপি, রয়টার্স, বিবিসি। বিল গেটস পর পর ১৩ বছর ধরে ধনীদের মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে ছিলেন। তার সম্পদের পরিমাণ হচ্ছে ৫ হাজার ৯শ' কোটি ডলার। বিল গেটস-এর দৈনিক আয় হচ্ছে-১(এক) কোটি ৯২(বিরানব্বই) লক্ষ ডলার। ২০০৭ সালের ৪ জুলাই, ফরবস ম্যাগাজিনের তালিকায় এবার মাইক্রোসফটের কর্ণধার বিল গেটসকে টপকিয়ে লেবানিজ বংশদ্বূত মেক্সিকোর অভিবাসী কার্লোস স্স্নিম হেলুর সম্পদের পরিমান ৬০.৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ধনীদের মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন। তারপর লেবানিজ বংশদ্ভূত মেক্সিকোর অভিবাসী কার্লোস স্স্নিম হেলুকে টপকিয়ে মাইক্রোসফটের কর্ণধার বিল গেটস আবার সেরা ধনীর তালিকায়। ১৯৮৭ সালে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ছিল-৯৮ জন, তা থেকে বেড়ে ২০০০ সালে ছিল-২২৩ জন এবং ২০০৭ সালের ১৮ মার্চ-বিশ্বে এখন রেকর্ড সংখ্যক-৯৪৬ জন বিলিয়নিয়ার রয়েছেন। এটা গত বছরের তুলনায় ১৫০ জন বেশী। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাগাজিন ফোরবস-এর তালিকায় দেখা গেছে ভারত ও চীনে শত কোটিপতি বিলিয়নিয়ারদের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ৪র্থ স্থান দখলকারী মিত্তালের সম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার ৬শ' কোটি অর্থাৎ ৩৬ বিলিয়ন ডলার। তৃতীয় স্থান দখলকারী চীনের কাগজ উৎপাদনকারী ইয়ান চেউং এবং হংকং-এর সম্পদশালী লি কা-শিং-এর সম্পদ মেলালে তা ৪ হাজার ১শ' কোটি অর্থাৎ ৪১ বিলিয়ন ডলার। ২০০৮ সালের ৭ মার্চ-বিশ্বে এখন ১,১২৫ জন বিলিয়নিয়ার আছে। গত বছরের তুলনায় ১৫৯ জন বেশী। ২০০৯ সালে বিলিয়নিয়ার ছিলেন ৭৯৩ জন। ২০১০ সালে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা-১০১১ জন। ২০০৮ সালে বিল গেটসকে টপকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পল ওয়ারেন বাফেট বিশ্বের সেরা ধনী এবং তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৬২০০ কোটি ডলার। লেবানিজ বংশদ্বূত মেস্কিকোর অভিবাসী কার্লোস স্স্নিম হেলু (২য় স্থান) এবং তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৬,০০০ কোটি ডলার, বিল গেটস (৩য় স্থান) এবং তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৫,৮০০ কোটি ডলার, ৪র্থ স্থান দখলকারী ভারতীয় বংশদ্ভূত লক্ষ্ণীনিবাস মিত্তালের সম্পদের পরিমাণ ৪,৫০০ কোটি ডলার, ভারতের মুকেশ আম্বানি(৫ম স্থান) তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৪,৩০০ কোটি ডলার। ২০০৭ সালে আমেরিকায় ধনেকুবেরের সংখ্যা ছিল-৪১৫ জন এবং ২০০৮ সালে তা থেকে হয়েছে-৪৬৯ জন। দ্রব্য উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা আর ডলারের তুলনামূলক দুর্বলতার কারণে বিলিয়নিয়ার-এর সংখ্যায় এ বৃদ্ধি ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাগাজিন ফোরবস-এর তালিকায় দেখা গেছে ভারত ও চীনে শত কোটিপতি বিলিয়নিয়ারদের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ২০০৭ সালে ভারতের ৩৬ জন বিলিয়নিয়ার ছিল, আর ২০০৮-এ ৫৩ জন তালিকাভুক্ত হওয়ায় গত দু'দশকে এ প্রথম এশিয়ার কোন দেশ জাপানকে টপকে গেল। এশিয়ার শীর্ষ ধনী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন ভারতীয় লক্ষ্ণী মিত্তাল। ফোরবস বলেন, ''মানব ইতিহাসে এটা সবচেয়ে ধনাঢ্য তালিকা। এদের হাতে পুঞ্জীভূত সম্পদের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলার হয়েছে। ২০০৮ সালের ২৭ জুন, সমকাল পত্রিকার রিপোর্টঃ বিশ্বে ১(এক) কোটি ১০(দশ) লক্ষ কোটিপতি আছে-যার সম্পদের পরিমাণ-১(এক) কোটি ডলারের উপরে। এরমধ্যে চীনে-৪(চার) লক্ষ ২২(বাইশ) হাজার, ব্রাজিলে-১(এক) লক্ষ ৩০(ত্রিশ) হাজার ও ভারতে-১(এক) লক্ষ ২৭(সাতাশ) হাজার। ২০১০ সালে বিল গেটসকে টপকে বিশ্বের শীর্ষ ধনী কার্লোস স্স্নিম-এর সম্পদের পরিমাণ ৫,৩৫০ কোটি ডলার। বিল গেটস দ্বিতীয় তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৫,৩০০ কোটি ডলার, তৃতীয় যুক্তরাষ্ট্রের পল ওয়ারেন বাফেটের সম্পদের পরিমাণ ৪,৭০০ কোটি ডলার, ভারতের খনিজ তেল-গ্যাস কোম্পানি ও রিলায়েন্স গ্রুপের মুকেশ আম্বানি (৪র্থ স্থান) তাঁর সম্পদের পরিমাণ ২,৯০০ কোটি ডলার ও বিশ্বের সবচেয়ে লৌহশিল্পের প্রতিষ্ঠান (৫ম স্থান) দখলকারী ভারতীয় বংশদ্ভূত লক্ষ্ণীনিবাস মিত্তালের সম্পদের পরিমাণ ২,৮৫০ কোটি ডলার। এ বছর ফোর্বস-এর তালিকায় ৯৭ জন নতুন ধনীর ৬২ জনই এশীয় এবং তাঁরা বেশির ভাগই চীনের নাগরিক। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে এত বেশিসংখ্যক বিলিয়নিয়ারের উত্থান এ বছরই প্রথম। ২০১৩ সালে ফোর্বেসর তালিকা প্রকাশ: এবারও বিশ্বের শীর্ষ ধনী (১) মেক্সিকোর কার্লোস স্স্নিম। তাঁর সম্পদের পরিমাণ-৭৩০০ কোটি ডলার, (২) বিল গেঁটস-তাঁর সম্পদের পরিমাণ-৬৭০০ কোটি ডলার (৩) আমানিকা-তাঁর সম্পদের পরিমাণ-৫৭০০ কোটি ডলার ও (৪) ওয়ারেন বাফেট-তাঁর সম্পদের পরিমাণ-৫৩৫০ কোটি ডলারের মালিক। এবার ১,৪২৬ ব্যক্তি, যাঁদের মোট সম্পদের পরিমাণ ৫.৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।