১৮৬০ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি (বাংলা ৪ ফাল্গুন, ১২৬৬ সাল), মুন্সিগঞ্জ জেলার ভাগ্যকুল গ্রামে জমিদার ও দানবীর হরেন্দ্রলাল রায়ের জন্ম, মৃত্যু-কলকাতায় ২৮-০৯-১৯৩৭ তারিখ (বাংলা ১৩ আশ্বিন, ১৩৪৪ সাল)। তিনি ১৮৯৭ সালে মুন্সিগঞ্জে কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন এবং চার/পাঁচ বছর চলার পর কলেজটি বন্ধ হয়ে যায়। নিজ জমিদারী মেদিনীপুরে গোমকপোতা গ্রামে স্ত্রীর নামে 'রাধারানী হাই ইংলিশ স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন। তারপর ১৯০০ সালে ভাগ্যকুলে নিজের নামে 'হরেন্দ্রলাল হাই ইংলিশ স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯০৫ সালে মুন্সিগঞ্জে 'হরেন্দ্রলাল পাবলিক লাইব্রেরী' প্রতিষ্ঠা করেন।

১৮৬০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি, মাদারীপুরের হাঁজী খাদেম হোসেন শিকদারের জন্ম, মৃত্যু-২৮-০৩-২০১২ তারিখ। পৃথিবীর সবচেয়ে জীবিত বয়স্ক মানুষ হিসেবে ২৮ মার্চ (মঙ্গলবার) ১৫২ বছর ১ মাস ২১ দিন বয়সে পৃথিবী থেকে চির বিদায় নিলেন। এ তথ্য সঠিক না।

১৮৬০ সালে বরিশালে কবি মোজাম্মেল হকের জন্ম, মৃত্যু-৩০-১১-১৯৩৩ তারিখ।

১৮৬০ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার রতনপুর গ্রামে খান বাহাদুর আবদুর রউফের জন্ম, মৃত্যু-১৯৩২ সালে। উনার নামে সলিমগঞ্জে একটি উচ্চ বিদ্যালয় আছে।

১৮৬১ সালের ১ মার্চ, নওগা জেলার গৌরনাইয়ের বরেন্দ্র বর্মণ পরিবারের সন্তান এবং রাজশাহীর একজন নেতৃস্থানীয় আইনজীবী, সুসাহিত্যিক, নাট্যানুরাগী, সম্পাদক, সমাজকর্মী, খ্যাতনামা ঐতিহাসিক, দেশপ্রেমিক, প্রখ্যাত পন্ডিত ও পুরাতত্ত্ববিদ (নদীয়া জেলার নওয়াপাড়া থানার সিমুলিয়ায় আইনজীবী, সমাজকর্মী, খ্যাতনামা ঐতিহাসিক) অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়র জন্ম, মৃত্যু-১০-০২-১৯৩০ তারিখ। বাংলাদেশে তো বটেই, সারা ভারতেই অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়ের মতো প্রতিভাধর বাঙালি বিরল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় ও অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় তিনজন প্রতিভাবান বাঙালির মধ্যে দু'জনের জন্মই বাংলাদেশে।

১৮৬১ সালে ঢাকা জেলার মহেশ্বরদী পরগনার নরসিংদী গ্রামে কবিগুণাকর হরিচরণ আচার্যেযর জন্ম, মৃত্যু-২৭-০৫-১৯৪১ তারিখ।

১৮৬১ সালের ২ আগষ্ট অথবা বাংলা ১২৬৮ সালের ১৮ শ্রাবণ, খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলি গ্রামে বাঙালীর রসায়নচর্চার পথিকৎ ও বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী (স্যার পিসি রায়) আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের জন্ম, ৮৩ বছর বয়সে মৃত্যু-১৬-০৬-১৯৪৪ তারিখ। ১৮৭৮ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষা প্রথম বিভাবে পাস করেন ও ১৮৮১ সালে এফ. এ. পাস করেন।

১৮৬২ সালের ৮ অক্টোবর, ব্রাহ্মণবাড়িযা জেলার, নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামে উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ সংগীতগুরুদের অন্যতম ওস্তাদ ও সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ'র জন্ম, মধ্য প্রদেশের মাইহারে মৃত্যু-০৬-০৯-১৯৭২ তারিখ। আদর করে বাবা সাধু খান তাঁকে ডাকতেন 'আলম' নামে। বাবা আর বড় ভাই ফকির আফতাব উদ্দিন খাঁ তাঁকে সুরের প্রতি আকৃষ্ট করেন। সুরপাগল এই ছেলে নাকি একদিন হঠাৎ গ্রাম ছেড়ে কলকাতায় পাড়ি জমান। এর পর কত ঘটনা ঘটেছে তাঁর জীবনে। শিষ্য হিসেবে পেয়েছেন ছেলে আকবর আলী খান, মেয়ে অন্নপূর্ণা দেবী, পন্ডিত তিমিরবরণ, পন্ডিত রবিশঙ্কর, মাইহারের মহারাজা ব্রিজনাথ সিংসহ আরও কত। ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ দীর্ঘ সময় পর গ্রামে ফিরে ১৮৯৮ সালের ৭ মার্চ, একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। বসত ঘরের কাছে পাশাপাশি সমাহিত বাবা সবদর হোসেন খান ও মা সুন্দরী বেগমের কবর পাকা করেন। এবারই শেষবারের মতো গ্রাম ছেড়ে যান তিনি। বাইচ্চা থাকতে খুব বেশিসম্মান দিতে পারি নাই। আলাউদ্দিন খাঁর চার সন্তান-সরিজা খাতুন, জাহানারা বেগম, আলী আকবর খাঁ ও রওশন আরা অন্নপূর্ণা। বড় মেয়ে সরিজা খাতুন বাংলাদেশে জন্মেছেন। আলাউদ্দিন খাঁ সাহেবরা পাঁচ ভাই-বড় ভাই সমির উদ্দিন খাঁ, ফকির আফতাব উদ্দিন খাঁ, ছোট ভাই-আয়েত আলী খাঁ ও মুন্সী নায়েব আলী খাঁর মধ্যে শুধু বড় ভাই সমির উদ্দিনের বংশধরেরা গ্রামের বাড়িতে বাস করছেন। অন্যরা বাহিরে থাকলেও সময় সময় গ্রামে আসেন। ফকির আফতাব উদ্দিনের ভিটেয় তাঁর মেয়ের ঘরের ছেলের বউ কদর চান বসবাস করেন। কদর চানের ঘরে আলাউদ্দিনসহ খাঁ পরিবারের বংশের অন্যদের কিছু দুর্লভ ছবি আছে।

১৮৬৩ সালে ফেনী জেলার শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক খান বাহাদুর আবদুল আজীজের জন্ম, মৃত্যু-১৯২৬ সালে। তাঁর পিতা আমজাদ আলী ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের ব্যক্তিগত সহকারী। আবদুল আজীজ ঢাকা কলেজ থেকে ১৮৮৬ সালে বি. এ. পাস করে। বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার প্রথম র্গযাজুয়েট ছিলেন। পরিচয় হলোঃ কবি হাবিবুল্লাহ বাহার ও কবি শামসুন নাহারের নানা।

১৮৬৩ সালে সিলেট জেলার পাঠানটোলার শিক্ষাবিদ, লেখক ও জাতীয়তাবাদীকর্মী মৌলভী আবদুল করিমের জন্ম, মৃত্যু-কলকাতায় ১৯৪৩ সালে।

১৮৬৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর, ধনবাড়ী, টাঙ্গাইল, নবাব বাহাদুর সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীর জন্ম এবং মৃত্যু-১৭-০৪-১৯২৯ তারিখ। অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুসলিম মন্ত্রী, বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ ছিলেন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।

১৮৬৩ সালে মধুসূদনের ভ্রাতুষপুত্রী কবি মানকুমারী বসুর জন্ম, মৃত্যু-১৯৪৩ সালে।

১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর, বাখেরগঞ্জের বাসন্ডা না ঝালকাঠি জেলার বাসন্ডা গ্রামে কবি কামিনী রায়ের জন্ম, মৃত্যু-২৭-০৯-১৯৩৩ তারিখ। তিনি ১৫ বছর বয়সেই লিখেছেন প্রথম কবিতাগ্রন্থ "আলো ও ছায়া"।

১৮৬৪ সালে মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার শ্যামসিদ্ধি গ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতের প্রধান অধ্যাপক ও বহু মূল্যবান গ্রন্থের রচয়িতা হিসেবে শ্রীশচন্দ্র চক্রবর্তীর জন্ম, মৃত্যু-১৯৪৫ সালে। ভারতীয় উপমহাদেশের বহু মনীষী গুরুত্বপূর্ণ মতামত চেয়ে তাঁর কাছে পত্র লিখতেন।

১৮৬৫ সালের ২২ জুন, চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার উনাইপুরা গ্রামে বৌদ্ধভিক্ষু ও পন্ডিত কৃপাশরন মহাস্থবিরের জন্ম, মৃত্যু-৩০-০৪-১৯২৭ তারিখ।

১৮৬৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাছিরনগর উপজেলার গোকর্ণ গ্রামে বিচারপতি নবাব স্যার সৈয়দ শামসূল হুদার জন্ম, মৃত্যু-০৭-১০-১৯২২ তারিখ। (সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের সভাপতি ছিলেন এবং ব্রিটিশরাজ ১৯১৩ সালে নাইট উপাধিতে ভূষিত করেন)। বিচারপতি নবাব স্যার সৈয়দ শামসূল হুদা ফজলে হাসান আবেদের বাবা মরহুম সিদ্দিক হাসান আবেদের মামা।

১৮৬৬ সালের ৪ নভেম্বর, মানিকগঞ্জের বকজুড়ি গ্রামে প্রাচীন পুঁথি সংগ্রাহক, অবিভক্ত বাংলার প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও গবেষক আচার্য অধ্যাপক ড. দীনেশ চন্দ্র সেনের জন্ম, কলকাতায় মৃত্যু-২০-১১-১৯৩৯ তারিখ। তিনি বাংলা ভাষায় ৩০টি ও ইংরেজী ভাষায় ১০টি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। চার খন্ডে প্রকাশিত ময়মনসিংহ গীতিকা তাঁর অবিস্মরণীয় সৃষ্টি।

১৮৬৭ সালে সিলেট জেলায় গজনফর আলী খানের জন্ম, মৃত্যু-২৬-০৩-১৯৫৯ তারিখ। তিনি ১৮৯৭ সালে অবিভক্ত ভারতের প্রথম বাঙালি মুসলিম আই. সি. এস. অফিসার ছিলেন।

১৮৬৭ সালে মানিকগঞ্জ জেলায় বাংলা চলচ্চিত্রের জনক ও প্রবাল পুরুষ হীরালাল সেনের জন্ম, মৃত্যু-২৯-১০-১৯১৭ সালে। ১৮৯৮ সালের ৪ এপ্রিল, বাংলা চলচ্চিত্রের জনক হীরালাল সেন প্রথম চলচ্চিত্র প্রদর্শন করেন।

১৮৬৭ সালে চট্টগ্রাম জেলার সন্ধীপে লেখক ও ইসলামি পন্ডিত আবদুল আওয়াল জৌনপুরীর জন্ম, মৃত্যু-১৮-০৬-১৯২১ তারিখ কলকাতার মানিকতলায় তাঁকে সমাহিত করা হয়।

১৮৬৮ সালে জন্মগ্রহণকারী বঙ্গশ্বেরী, নাটোরের রানি ভবানীর বংশধর ছিলেন মহারাজা জগদিন্দ্রনাথ রায়, মৃত্যু-জানা নেই। এই রাজা রাজনীতি, সাহিত্য, সংগীতচর্চার পাশাপাশি ছিলেন অসাধারণ ক্রীড়া সংগঠক। ক্রিকেটপ্রেমী মহারাজা। মহারাজা জগদিন্দ্রনাথ ছিলেন একজন বড় মাপের খেলোয়াড়। আজ বাঙালিরা ক্রিকেট খেলায় অনেক দূরে পৌঁছে গেছে। ক্রিকেটের সাফল্যের পেছনে যে কীর্তিমান মহারাজা জগদিন্দ্রনাথ রায়ের নাম রয়েছে, তা আমরা অনেকেই জানি না।

১৮৬৮ সালের ৭ জুন, পশ্চিম বাংলার উত্তর ২৪(চব্বিশ) পরগনা জেলার বশিরহাট মহকুমার হাকিমপুর গ্রামে সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ'র জন্ম, তিনি ঢাকাতে ইন্তেকাল করেন ১৮-০৮-১৯৬৮ তারিখ। ১৯০৩ সালে মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকা সম্পাদনার মাধ্যমে সাংবাদিকতা পেশায় যোগ দেন। ১৯৩৬ সালে তিনি দৈনিক আজাদ পত্রিকা প্রকাশ করেন।

১৮৬৯ সালের ২৯ অক্টোবর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামে মুনশি নায়েব আলী খাঁর জন্ম, মৃত্যু-১৬-১০-১৯৭১ তারিখ।

১৮৬৯ সালে যশোর জেলায় সাহিত্যিক প্রমোথ চৌধুরীর জন্ম, মৃত্যু-১৯৪৬ সালে।

১৮৬৯ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানার চারগাছ গ্রামে অখিলচন্দ্র দত্তের জন্ম, মৃত্যু-১৯৫০ সালে। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।

১৮৭০ সালের এপ্রিল মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার গুনিয়ক গ্রামে ব্যারিস্টার আবদুর রসুল, বি.সি.এল.-এর জন্ম, মৃত্যু-৩১-০৭-১৯১৭ তারিখ লন্ডনে। তিনি ছিলেন এ উপমহাদেশের একজন শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতা।

১৮৭০ সালের ৫ নভেম্বর, মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানার তেলিরবাগ গ্রামে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী ও আইনজীবী দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের জন্ম; মৃত্যু-১৬-০৬-১৯২৫ তারিখ দার্জিিলংয়ে। তিনি ১৮৮৬ সালে প্রবেশিকা পাশ করেন। ১৮৯০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। ১৮৯৪ সালে বিলেত থেকে ব্যারিস্টারী পাশ করেন।

১৮৭০ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার দরিকান্দি গ্রামে কাজী লাল মিঞা মাষ্টারের জন্ম, মৃত্যু-১৯২৭ সালে।

১৮৭১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার দূর্গারামপুর গ্রামে দলিল লেখক মুনশি মোঃ আমিনুদ্দিনের জন্ম, মৃত্যু-১৯...।

১৮৭১ সালের ১১ অক্টোবর, চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার সূচক্রদন্ডী গ্রামের এক মদ্যবিত্ত পরিবারে বিশিষ্ট পুঁথিসংগ্রাহক ও লেখক মুন্সি আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের জন্ম, ঢাকায় মৃত্যু-৩০-০৯-১৯৫৩ তারিখ। তিনি কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীর থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সাবেক চট্টগ্রাম জেলার ১৮৯৩ সালের একমাত্র এন্ট্রান্স পাস মুসলিম এবং ১৮৯৫ সাল অবধি ওই অঞ্চলের একমাত্র এফ. এ. পড়ুয়া ছাত্র ছিলেন।

১৮৭১ সালের ২০ অক্টোবর, ঢাকায় কবি, গীতিকার, গায়ক ও আইনজীবী অতুলপ্রসাদ সেনের জন্ম, লক্ষ্নৌয়ে মৃত্যু-২৬-০৮-১৯৩৪ তারিখ।

১৮৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর, কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার কয়া গ্রামে ব্রিটিশবিরোধী বিল্পবী বাঘা যতীনের (যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের) জন্ম, মৃত্যু-১৯১৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর। ইংরেজ বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন বিপস্নবী বাঘা যতীন। বাঘা যতীনের শততম বার্ষিকী পালনে প্রধান অথিতী ছিলেন বাঘা যতীনের পৌত্র ইন্দুজ্যেতি মুখোপাধ্যায়-বলেন 'বাঘা যতীনের মতো বীর সেনারা স্বাধীনতাসংগ্রামে জীবন দিয়েছেন তাঁদের আত্মত্যাগের কথা আমাদের প্রতিনিয়ত স্মরণ করা উচিত। আমি তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে গর্বেবাধ করছি। মনে হচ্ছে আমি কুষ্টিয়ার কয়ার সন্তান।

১৮৭১ সালে টাঙ্গাইল জেলার করটিয়া গ্রামে ওয়াজেদ আলী খাঁন পন্নীর জন্ম, মৃত্যু-১৮৩৬।

১৮৭২ সালে টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার এস্টেটের জমিদার, সমাজকর্মী ও রাজনীতিবিদ আবদুল করিম গজনবীর জন্ম, মৃত্যু-১৯৩৯ সালে।

১৮৭২ সালে খুলনা জেলার ফুলতলার পাইগ্রাম কসবায় কাজি সৈয়দ আজিজুল হকের জন্ম, মৃত্যু-বিহারে ১৯৩৫ সালে। তাঁকে ''খান বাহাদুর উপাধি'' দেন এবং পাঁচ হাজার টাকা এবং ছোটখাটো একটা যায়গির। শেষ খবর-ফিঙ্গারপ্রিন্টের এই পদ্ধতিকে 'হেনরি-হক-বোস সিস্টেম' বলে অভিহিত করছেন। বাঙালির চুরি হয়ে যাওয়া কৃতিত্ব। অপরাধী শনাক্তকরণে ফিঙ্গারপ্রিন্ট তথা আঙুলের ছাপের আবিস্কারক একজন বাঙালি, কিন্তু সেই আবিস্কার চুরি করে নেয় তাঁরই ইংরেজ উধ্র্বতন কর্মকর্তা। কিন্তু সেই চুরির ঘটনা গোপন থাকেনি। ১০০ বছর পর মুখ খুলেছে ইতিহাস; আঙুলের ছাপের আবিস্কারক আসলে খুলনার একজন বাঙালি; নাম কাজি আজিজুল হক। এটা সেই বিস্মৃত মুসলমান বাঙালিরই বিরল আখ্যান।

১৮৭২ সালে চাঁদপুর জেলার রুপসার জমিদার পরিবারে আবিদুর রেজা চৌধুরীর জন্ম, মৃত্যু-১৬-০১-১৯৬১ তারিখ। তিনি ১৯৩০ সালে কুমিল্লা (তৎকালীন ত্রিপুরা) জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান নির্বািচত হন এবং অবিচ্ছিন্নভাবে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত অত্যন্ত দক্ষতা ও যোগ্যতার সাথে এ দায়িত্ব পালন করেন।

১৮৭৩ সালের ১৫ আগষ্ট, বিক্রমপুরের শ্রীধরখোলা গ্রামে ঐতিহাতিক ও পুরাতত্ত্ববিদ রমাপ্রসাদ চন্দের জন্ম, মৃত্যু-এলাহাবাদ-২৮-০৫-১৯৪২ তারিখ। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নব গঠিত নৃতত্ত্ব বিভাগের অধ্যক্ষ নিযুক্ত। প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার প্রদত্ত রায়বাহাদুর উপাধি লাভ ১৯২৪ সালে।

১৮৭৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর, মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুরের দামপাড়া গ্রামে এক নিম্নবিত্তের সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে সাহিত্যিক, কবি ও লেখক সৈয়দ এমদাদ আলীর জন্ম, মৃত্যু-৩১-১২-১৯৫৬ তারিখ। এন্ট্রান্স ও এফ.এ. পাস করার পর নেত্রকোণা দত্ত হাই স্কুলে শিক্ষকতা।

১৮৭৫ সালের আগষ্ট মাসে চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া থানাধীন আড়ালিয়া গ্রামে ইসলামী চিন্তাবিদ, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী, সাংবাদিক ও মাওলানা মুনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর জন্ম, মৃত্যু-২৪-১০-১৯৫০ তারিখ।

১৮৭৫ সালে ফরিদপুর জেলার ইদিলপুর পরগনার মূলগাঁও গ্রামে সংস্কৃত পন্ডিত ও নৈয়ায়িক অন্নদাচরণ তর্কবাগীশের জন্ম, মৃত্যু-১৯-১০-১৯৪৩ তারিখ।

১৮৭৫ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার ভেলানগর গ্রামে মোঃ ইব্রাহিম মাষ্টারের জন্ম, মৃত্যু-১৯৪৩ বা বাংলা ১৩৫০ সালে। উনি ভেলানগর গ্রামের প্রথম মাস্টার ছিলেন।

১৮৭৫ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী খানেপাড়াতে বাবু হরিমোহন রায়ের জন্ম, পরলোগমন-১৯৪৬ সালে। উনি রূপসদী বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

১৮৭৫ সালে জৌনপুরের মোল্লাটোলা মহল্লায় আবদুর রব জৌনপুরীর জন্ম, মৃত্যু-১৯৩৫ সালে। তিনি ছিলেন মওলানা কেরামত আলী জৌনপুরীর পৌত্র। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে আবদুর রব জৌনপুরীর পিতা মারা যান। বাংলাদেশে মানব কল্যাণে তিনি কাজ করে যান।

১৮৭৬ সালে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলাধীন বলিয়াদি গ্রামের এক সুপ্রাচীন সাম্ভান্ত ও শিক্ষিত মুসলমান জমিদার পরিবারে বাংলার একজন বিশিষ্ট জমিদার, সমাজকর্মী এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কাজেমউদ্দীন আহমেদ সিদ্দিকীর জন্ম, মৃত্যু-১৯৩৩ সালে।

১৮৭৬ সালের ২৫ ডিসেম্বর, সাতক্ষিরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার নলতা গ্রামে শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক খান বাহাদুর আহ্‌ছান উল্লাহ'র জন্ম, মৃত্যু-০৯-০২-১৯৬৫ তারিখ। ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় রোল নং প্রথা চালু করেন তিনি।

১৮৭৬ সালে কবি সৈয়দ এমদাদ আলীর জন্ম, মৃত্যু-১৯৫৬ সালে।

১৮৭৬ সালে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া গ্রামে বাংলাদেশের শিক্ষা প্রসারে অসাধারণ ও চিরস্থায়ী অবদান রেখেছেন নবাব কাজী মোশাররফ হোসেনের জন্ম, মৃত্যু-১৯৬৬ সালে।

১৮৭৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার মধ্যনগর গ্রামে সাধক পুরুষ হযরত রাহাত আলী শাহ(রহ.)'র জন্ম, মাসিমনগর গ্রামে মৃত্যু-০২-০৮-১৯৪৬ তারিখ। প্রতি বছর ১৮ শ্রাবণ/বা ২ আগষ্ট থেকে সপ্তাহব্যাপি ওরস অনুষ্ঠিত হয় এবং দেশ-বিদেশের বহু মানুষের সমাগম হয় ও মাসব্যাপি মেলা চলতে থাকে। ১৯৪৬ সালে মাসিমনগর বাজারের প্রতিষ্ঠা।

১৮৭৭ সালের ৯ মে (বাংলা ১২৮৪ সালের ২৫ বৈশাখ) চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানার গোমদন্ডী গ্রামে বঙ্গের শ্রেষ্ঠ কবিয়াল রমেশ চন্দ্র শীলের জন্ম, মৃত্যু-০৬-০৪-১৯৬৭ তারিখ। ১৯৪৮ সালে কলকাতায় শ্রদ্ধানন্দ পার্কে কবিগানের আসরে রমেশ চন্দ্র শীলকে 'বঙ্গের শ্রেষ্ঠ কবিয়াল' উপাধি দেন উদ্যোক্তারা।