১৮৩৩ সালের ২০ জুলাই, কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কুন্ডুপাড়ার এক দরিদ্র পরিবারে গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৎ উনিশ শতকের সংবাদপত্র গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক কাঙাল হরিণাথ মজুমদারের জন্ম, মৃত্যুঃ ১৬-০৪-১৮৯৬ তারিখ। ১৮৬৩ সালে কুমারখালী বাংলা পাঠশালার প্রধান শিক্ষক কাঙাল হরিণাথ মজুমদার মাসিক গ্রামবার্তা প্রকাশিকা প্রকাশ করেন।

১৮৩৩ সালের দিকে ইসহাক কোহেন (প্রথম পুরুষ) ইরানের ইস্পাহান প্রদেশ থেকে কলকাতায় আসেন, সেখান থেকে সপরিবারে নদীপথে প্রথমে কুষ্টিয়া, পরে ঢাকা এবং শেষে রাজশাহী এসে থিতু হন। ১৮৭৬ সালে উইলিয়াম হান্টার প্রথম উল্লেখ করেন, রাজশাহীতে চারজন ইহুদি বসবাস করে। রাজশাহীসহ ভারতবর্ষে যেসব ইহুদি বসবাস শুরু করে, তারা মূলত ছিল সেমেটিক গোত্রের এবং তাদের মূল পেশা ছিল ব্যবসা। প্রফেসর গোলাম সামাদের মতে, ভারতবর্ষে আসা ইহুদিরা মূলত ছিল বোহেমিয়ান বা যাযাবর ধরনের, পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও ইহুদিদের মধ্যে এ প্রবণতা দেখা যেত। ইসহাক কোহেন রাজশাহীতে বেশ কিছু সম্পত্তি ক্রয় করেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল গোদাগাড়ীর দিগ্রামে ৫০০ বিঘা কৃষিজমি, বিমানবন্দরের কাছে ২০ বিঘা জমি, কাজিরগঞ্জে দুই বিঘা জমি, মালোপাড়ায় এক বিঘা জমি এবং গণকপাড়ায় তেলকলের কাছে পাঁচ কাঠার ওপর বসতবাড়ি। ইসহাক কোহেনের পর তাঁর ছেলে ১৮৬০ সালে রাজশাহীতে সাসয়ন রাহেমিম কোহেনের জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই (দ্বিতীয় পুরুষ) এসব সম্পত্তি দেখাশোনা করতেন। রাহেমিমের পর তাঁর ছেলে (১৮৮৫ সালে রাজশাহীতে মর্ডিসাই কোহেনের জন্ম, মৃত্যু-০৪-০১-১৯৫৮ তারিখ) এ সম্পত্তির মালিক হন। মর্ডিসাই কোহেন 'মোনা সাহেব' (তৃতীয় পুরুষ) হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মোনা সাহেবের আগে কোহেন পরিবার মূলত কৃষিনির্ভর থাকলেও মোনা সাহেবের সময় থেকে ব্যবসায় মনোযোগী হন এবং উনবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে অথবা বিংশ শতাব্দীর শুরুতে রানীবাজার 'এম কোহেন এন্ড সন্স (জেনারেল মাচেন্টস) নামে মনিহারি ব্যবসা শুরু করেন। মোনা সাহেবের প্রথম ছেলে ১৯১২ সালে পিনহাস হে কোহেন (৪র্থ পুরুষ) জন্ম নেন। তাঁর অপর ছেলে ১৯১৫ সালে সাসনি রাহেমিম (৪র্থ পুরুষ) জন্ম নেন। মোনা সাহেব ১৯৫৮ সালের ৪ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। শেষকৃত্যের জন্য তাঁর মরদেহ কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়। হে এবং সাসনি কোহেন উভয়ে মিলে রানীবাজারে ও গণকপাড়ায় সাইকেল, পেট্টোমেক্স (হ্যাজাক বাতি), কেরোসিন স্টোভ, গ্রামোফোন ইত্যাদির দোকান দেন। তাঁদের দোকানের নাম ছিল 'নর্থ বেঙ্গল সাইকেল স্টোর' এবং 'সাইকেল হসপিটাল'। হে'র মেয়ে ফ্লোরেন্স, ছেলে এজরা কোহেন ও মর্ডি কোহেন বর্তমানে নিউইয়ের্ক বসবাস করছেন। হে ষাটের দশকের প্রথম দিকে কলকাতায় চলে যান এবং সেখানে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁদের তিন ছেলে ছিল-যাঁদের নাম স্যামুয়েল (সামি) কোহেন, আব্রাহাম (অ্যাবি) কোহেন এবং মর্ডিসাই (মর্ডি) কোহেন। সাসনি কোহেন ১৯৬৮ সালের আগেই রাজশাহীর সম্পত্তি বিক্রি করে ঢাকায় ছোট ছেলে মর্ডি কোহেনের কাছে চলে আসেন এবং ১৯৬৮ সালে ঢাকা থেকে কলকাতায় চলে যান। সাসনি কোহেন কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৪৪ সালে রাজশাহীতে শেষ ইহুদি প্রতিনিধি মর্ডিসাই কোহেনের (৫ম পুরুষ) জন্ম। মর্ডি কোহেনের প্রথম ছেলে রাফায়েল কোহেন (রাফি) নিউইয়র্কে এবং দ্বিতীয় ছেলে মিখায়েল কোহেন (ছুটু) ও মেয়ে পেরোনা এমা ইসরায়েলে বসবাস করছেন। কলকাতায় তিনি এলিন (জো) কোহেনকে বিয়ে করেন এবং স্ত্রী ও ছোট মেয়ের সঙ্গে মর্ডিসাই কোহেন ৩০ পার্ক লেনে সস্ত্রীক অবসর জীবন যাপন করছেন। ১৯৬৮ সাল থেকে ০৩-০৬-২০১১ তারিখ পর্যন্ত। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে এখনো কিছু ইহুদি পরিবার অবশিষ্ট আছে। তবে তারা তাদের ধর্মীয় পরিচয় জানাতে আগ্রহী নয়।

১৮৩৩ সালে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামে সিলেটের মরমী বৈঞ্চব সাধক কবি রাধারমণ দত্তের জন্ম, মৃত্যু-১৩-১১-১৯১৫ তারিখ। বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে এই মরমী সাধককে ধামাইল গানের জনক বলা হয়।

১৮৩৩ সালে ফরিদপুরের বিখ্যাত কাজী পরিবারে আমলা ও সাহিত্যিক আবু মুহাম্মদ আবদুল গফুর (খান বাহাদুর) খান বাহাদুর আবদুল গফুর নাসসাখের জন্ম, মৃত্যু-১৮৮৯ সালে। তাঁর পিতা ফকির মুহাম্মদ (১৭৭৪-১৮৪৪) কলকাতার দেওয়ানি আদালতে ওকালতি করতেন। নবাব আবদুল লতিফ ছিলেন তাঁর অগ্রজ। আবদুল গফুর নাসসাখ ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর হিসেবে (১৮৬০-১৮৮৮) ঢাকাসহ বাংলাদেশ ও পশ্চিবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করেন।

১৮৩৪ সালের ১৪ মে, নরসিংদীর সদর উপজেলার মেহেরপাড়ায় কোরআনের প্রথম বাংলা অনুবাদক গিরিশ চন্দ্র সেনের জন্ম, মৃত্যু-১৫-০৮-১৯১০ তারিখ। তাঁর ইচ্ছে অনুযায়ী গ্রামের বাড়িতে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। তিনি ১৮৮০ থেকে ১৮৮৬ সাল পর্যন্ত টানা সাত বছর কাজ করে কোরআন শরিফের বাংলা অনুবাদ সম্পন্ন করেন।

১৮৩৪ সালের ১০ জুন, খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে এক বৈদ্য পরিবারে সাহিত্যিক ও সাংবাদিক কৃঞ্চচন্দ্র মজুমদারের জন্ম, মৃত্যু-১৩-০১-১৯০৭ তারিখ।

১৮৩৪ সালে কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার হোমনাবাদ পরগনার পশ্চিমগাঁও-এ নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানীর জন্ম, মৃত্যু-২৩-০৯-১৯০৩ তারিখ। তার স্বামী মুহাম্মদ গাযী চৌধুরী ত্রিপুরার বিখ্যাত জমিদার ছিলেন। অবশ্য ফয়জুন্নেসার দাম্পত্য-জীবন সুখের হয়নি। তাঁর 'রুপ জালাল' উপন্যাসটি (আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস) ১৮৭৬ সালে প্রকাশিত হয়। নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী কুমিল্লা জেলার প্রথম নবাব।

১৮৩৪ সালে নাটোরের খাজুয়া গ্রামে এক ব্রাহ্মণ পরিবারে কবি, নাট্যকার ও নওগাঁ জেলার বলিহার রাজবংশের একজন কৃতী পুরুষ রাজা কৃঞ্চেন্দ্র রায়ের জন্ম, মৃত্যু-০৩-০৫-১৮৯৮ তারিখ।

১৮৩৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার শ্যামগ্রামে সঙ্গীত অনুরাগী ভূবন রায়ের জন্ম, মৃত্যু-১৮৮৯ সালে।

১৮৩৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি, মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘরের পশ্চিম ঘোষপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন প্রতিথযশা এ আইনবিদ স্যার চন্দ্রমাধব ঘোষ, মৃত্যু-১৯-০১-১৯১৮ তারিখ। ১৯০৬ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হয়েছিলেন।

১৮৩৮ সালে ফরিদপুর নিবাসী কবি গোবিন্দচন্দ্র রায়ের জন্ম, মৃত্যু-১৯১৭ সালে।

১৮৩৯ সালে সাধক আলেফ চাঁন দেওয়ানের জন্ম, মৃত্যু-১৯২৯ সালে (বাংলা-জন্ম-১২৪৬ সালে, মৃত্যু-১৩৩৬ সালে)।

১৮৪০ সালে যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার অমৃতবাজার গ্রামে সংবাদপত্র জগতের কিংবদন্তি শিশির কুমার ঘোষের জন্ম, কলকাতায় মৃত্যু-১০-০১-১৯১১ তারিখ। ১৮৬৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি, প্রকাশ করেন 'সাপ্তাহিক অমৃতবাজার' পত্রিকা। ১৮৭১ সালে সপরিবারে কলকাতায় গিয়ে সেখান থেকেই 'অমৃতবাজার পত্রিকা' বের করতে থাকেন। ১৮৯১ সালে পত্রিকা দৈনিক হিসেবে প্রকাশ হতে থাকে।

১৮৪১ সালে তেলিরবাগ, মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুরে সমাজসেবক ও কলকাতা হাইকোর্টের একজন শীর্ষস্থানীয় উকিল দুর্গােমাহন দাশের জন্ম, কলকাতায় মৃত্যু-১৮৯৭ সালে। বরিশাল আদালতের খ্যাতনামা উকিল কাশীশ্বর তাঁর পিতা।

১৮৪১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার প্রথম পন্ডিত দরিকান্দি গ্রামের মুনশি নৈমদ্দিন পন্ডিতের জন্ম, মৃত্যু-১৯১৫ সালে।

১৮৪১ সালের ১৩ মার্চ, মুন্সিগঞ্জ জেলার বৈরাগাদি গ্রামে ব্যারিস্টার মনমোহন ঘোষের জন্ম, মৃত্যু-১৬-১০-১৮৯৬ তারিখ। তিনি ১৮৫৯ সালে এন্ট্রান্স, ১৮৬১ সালে এফ.এ.। তিনি ১৮৬২ সালে দেবেন্দ্রনাথের সঙ্গে সিভিল সার্ভিেস পড়ার জন্য বিলাত যান, কিন্তু পরীক্ষায় বিফলকাম হয়ে ব্যারিস্টার হয়ে দেশে ফেরেন। জ্ঞানেন্দ্রমোহন ঠাকুর প্রথম ভারতীয় ব্যারিস্টার হলেও তিনি কোনদিন ভারতে না ফেরায় মনমোহনই প্রথম ভারতীয় ব্যারিস্টার হিসেবে ১৮৬৬ সালে কলিকাতা হাইকোর্টে ব্যবসা শুরু করেন।

১৮৪২ সালে বিক্রমপুর(বঙ্গাব্দ-১২৪৮), ভাগ্যকুলে জমিদার শ্রীনাথ রায়ের জন্ম, মৃত্যু-ভাগ্যকুল-০৪-০৬-১৯২৪ তারিখ (বাংলা ২১ জ্যৈষ্ঠ, ১৩৩১)। ১৮৬৩ সালে ঢাকা ইংরেজী স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাস, ১৮৬৫ সালে এফ. এ. পাস এবং ১৮৬৭ সালে বি. এ. পাস এবং প্রেসিডেন্সী কলেজে এম. এ. ভর্তি এবং বাবার কঠিন রোগে আক্রান্ত হলে আর এম.এ. পরীক্ষা দেয়া হয়নি। পূর্ববঙ্গে বহু জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা।

১৮৪৩ সালের ২৩ জুলাই, মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর ভরাকর গ্রামে সাহিত্যিক, সাংবাদিক কালীপ্রসন্ন ঘোষের জন্ম, মৃত্যু-২৯-১০-১৯১০ তারিখ। 'একবার না পারিলে দেখ শতবার' তাঁর একটি বহুল পরিচিত কবিতা।

১৮৪৪ সালে মানিকগঞ্জ জেলার দাদরখি গ্রামে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের মুনশি ও লেখক মুন্সী আদালত খানের জন্ম, মৃত্যু-১৮৯৪ সালে। ১৮৬২ সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে মুনশি পদে যোগদান করেন। পিতা জুলফিকার খান ছিলেন ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রাচ্যশাখার গ্রন্থাগারিক। আদালত খান কলকাতা মাদ্রাসা ও প্রেসিডেন্সি কলেজে শিক্ষালাভ করেন।

১৮৪৫ সালে টাঙ্গাইল জেলার চড়ান গ্রামে সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ আবদুল হামিদ খান ইউসুফজয়ীর জন্ম, মৃত্যু-১৯১৫ সালে।

১৮৪৭ সালে কিশোরগঞ্জ জেলার জয়সিন্ধি গ্রামের এক ভূস্বামী পরিবারে জাতীয়তাবাদী নেতা, সমাজসংস্কারক ও ব্রাহ্ম সমাজের পথপ্রর্দশক আনন্দমোহন বসুর জন্ম, মৃত্যু-২০-০৮-১৯০৬ তারিখ। ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর তিনি বঙ্গভঙ্গ বিরোধী এক সভায় সভাপতিত্ব করেন এবং রোগসয্যা হতে বিশাল জনসমাবেশে ভাষণ দেন।

১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর, কুষ্টিয়া জেলার গৌরী নদীর তীরে লাহিনীপাড়া গ্রামে কালজয়ী উপন্যাস 'বিষাদসিন্ধু'র রচয়িতা-১৮৭৬ সালে ও মুসলিম বাংলা সাহিত্যের অন্যতম দিকপাল, বিশিষ্ট সাহিত্যিক মীর মোশাররফ হোসেনের জন্ম, মৃত্যু-১৯-১২-১৯১২ তারিখ।

১৮৪৯ সালে বিক্রমপুরের গাড়ডুগা গ্রামে প্রখ্যাত গণিতশাস্ত্রবিদ অধ্যাপক রাজকুমার সেনের জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। পদার্থ বিজ্ঞান গ্রন্থ রচনাসহ জ্যোতিষশাস্ত্রের উপর কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেছেন।

১৮৫০ সালে সাবেক ফরিদপুর জেলা বর্তমানে মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার সেনদিয়া গ্রামে রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী অম্বিকাচরণ মজুমদারের জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। ১৮৭৬ সালে এম. এ. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এবং ১৮৭৮ সালে বি. এল. পাস। তিনি ১৯১৮ সালে রাজেন্দ্র কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

১৮৫২ সালে ময়মনসিংহ জেলার বাঘিল গ্রামে এক রক্ষণশীল পরিবারে ব্রাহ্ম সমাজ ও স্বদেশী আন্দোলনের অন্যতম নেতা কৃঞ্চকুমার মিত্রের জন্ম, মৃত্যু-১৯৩৬ সালে।

১৮৫২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার মধ্যনগর গ্রামে মুনশি সোলেমান মিয়ার জন্ম, মৃত্যু-১৯১৩ সালে। তাঁর ছেলে ১৮৭৯ সালে মুনশি সুভেদ আলীর জন্ম, মৃত্যু-১৯৪৪ সালে। তাঁর ছেলে ১৯০৮ সালে মুনশি আবদুল মজিদের জন্ম, মৃত্যু-১৯৮২ সালে। তার ছেলে ১৯৪৭ সালের ৩০ জুলাই, মধ্যনগর মুনশিবাড়িতে ব্যাংকার মোঃ নুরুল ইসলাম (নুরুর) জন্ম, মৃত্যু-১৬-০৬-২০১৫ তারিখ। তাঁর ছেলে ১৯৭৬ সালের ৩০ জুন, নগরিরচর নানাবাড়িতে মোঃ রেজাউল করিমের জন্ম।

১৮৫২ সালের ২৩ জুন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সুলতানপুর গ্রামে ব্রাহ্মসাধক রামকানাই দত্তের জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। তিনি পদ্যে 'মুহাম্মদ' নামে হযরত মু.(স.) জীবনী লিখেছেন।

১৮৫৪ সালের ২১ ডিসেম্বর, সুনামগঞ্জের লক্ষণশ্রী গ্রামের বিখ্যাত জমিদার, বাংলার মরমী কবি ও সাধক হাছন রাজার জন্ম, মৃত্যু-০৭-১২-১৯২২ তারিখ। তাঁর ছেলে ১৮৭৬ সালে গনিউর রাজার জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। মরমী কবি হাছন রাজা হলো দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফের নানা।

১৮৫৫ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ পরগনায় এক অভিযাত সামন্ত পরিবারে একজন প্রখ্যাত মুসলিম মহিলা, কবি ও সমাজকর্মী কুরিমুন্নেসা খানম চৌধুরীর জন্ম, মৃত্যু-২৬-০৯-১৯২৬ তারিখ।

১৮৫৬ সালের ২৫ জানুয়ারি, বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার অন্তর্গত বাটোজোর একটি ছোট গ্রামের সচ্ছল কায়স্থ ভূম্যধিকারী পরিবারে জনহিতৈষী ও জাতীয়তাবাদী নেতা এডভোকেট অশিনীকুমার দত্তের জন্ম, মৃত্যু-০৭-১১-১৯২৩ তারিখ।

১৮৫৬ সালে সাতক্ষীরা জেলার সরুলিয়া গ্রামে পন্ডিত, নৃবিজ্ঞানী ও সংগ্রাহক আব্দুল ওয়ালি খানের জন্ম, মৃত্যু-১৯২৬ সালে।

১৮৫৭ সালের ৮ নভেম্বর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামে গীতিকার, সুরকার, গায়ক ও বংশীবাদক সাদক ফকির(তাপস) আফতাব উদ্দিন খাঁর জন্ম, মৃত্যু-২৫-০১-১৯৩৩ তারিখ।

১৮৫৮ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার বিটঘর গ্রামে মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য জন্মগ্রহণ করেন, মৃত্যু-১৯৪৩ সালে। মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্যের অর্থানুকূলে ২৫টির অধিক উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মক্তব পরিচালিত হয়। বাবার নামে কুমিল্লা ইশ্বর পাঠশালা প্রতিষ্ঠা করেন।

১৮৫৮ সালে উপমহাদেশের নন্দিত গণিতসম্রাট যাদবচন্দ্র চক্রবর্তী সিরাজগঞ্জ জেলার কামারচন্দ্র থানার তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন, মৃত্যু-২৬-১১-১৯২৩ তারিখ। তিনি ১৮৭৬ সালে এন্ট্রান্স পাস করেন, ১৮৭৮ সালে এফ. এ. পাস করেন, ১৮৮০ সালে বি.এ. পাস করেন এবং ১৮৮৬ সালে গণিতে এম. এ. পাস করেন প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে। বি.এ. পাস করার পর ১৮৮১ সাল থেকে ছয় বছর মিশন কলেজ ও সিটি কলেজে অধ্যাপনা করেন। ১৮৮৭ থেকে একাদিক্রমে ২৮ বছর অধ্যাপনা করেন আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯১৫ সালে অবসর নেন আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

১৮৫৮ সালের ৩০ নভেম্বর, বিজ্ঞানী স্যার জগদীস চন্দ্র বসু ময়মনসিংহে জন্মগ্রহন করেন (মুন্সীগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরের রাড়িখাঁল গ্রামে বাবার বাড়ি), ১৯৩৭ সালের ২৩ নভেম্বর গিরিডিতে মৃত্যুবরন করেন। তিনি শিক্ষাজীবন শুরু করেন ফরিদপুরের একটি স্কুলে। তারপর ১১ বছর বয়সে তিনি কলকাতায় চলে যান। সেখানে সেন্ট জিভিয়ার্স স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ১৮৭৫ সালে এন্ট্রান্স পাশ করেন। ১৮৭৯ সালে বিজ্ঞান বিষয়ে বি. এ. পাশ করেন। ১৮৯৬ সালে লন্ডন ভার্সিিট থেকে 'ডক্টর অব সাইন্স' উপাধি পান। (বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসুর বন্ধু ছিলেন, উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, স্বামী বিবেকানন্দ ও বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)। জগদীশচন্দ্র বসু বেতারযন্ত্র বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিস্কার করে বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন উনবিংশ শতাব্দীতেই, এর পরবর্তী সময়ে তাঁর আরও আবিস্কার বিশ্ববিজ্ঞান মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

১৮৫৮ সালে বাঙ্গালী ঐতিহ্য ও হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের ইরানী বংশোদ্ভূত বাংলাকাব্যের মহাকবি কায়কোবাদ ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং মৃত্যুবরণ করেন ১৯৫১ সালের ২১ জুলাই।

১৮৫৮ সালে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুরের আড়িয়াল গ্রামে ব্যায়ামবিদ শ্যামাকান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম, মৃত্যু-০৬-১২-১৯১৮ তারিখ। এ তথ্যটি মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুরের সেকড়ের সন্ধানের লেখক সাইদুল ইসলাম খানের বই থেকে নিয়েছি। ব্যায়ামবিদ শ্যামাকান্ত পাটনার নবাবের চিড়িয়াখানার বাঘিনীর সঙ্গে লড়াই করে জয়ী হলে নবাব র্কতৃক বাঘসমেত এক হাজার টাকা পুরস্কার প্রদান। তাঁর বুকের ওপর ১২/১৩ মণ ওজনের পাথর ভাঙতেন। এভাবে শ্রেষ্ঠ ব্যায়মবিদ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ।

১৮৫৯ সালের ২৩ অক্টোবর, যশোরের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব রায়বাহাদুর যদুনাথ মজুমদারের জন্ম, মৃত্যু-২৪-১০-১৯৩২ তারিখ। ১৮৮১ সালে এম. এ. পরীক্ষায় ইংরেজীতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। দীর্ঘকাল ছিলেন যশোর পৌরসভার নির্বািচত চেয়ারম্যান, যশোর জেলা বোর্ডের প্রথম মনোনীত চেয়ারম্যানও।