১৯২১ সালের ২৫ আগষ্ট, দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী লোহাগড়া উপজেলার চুনতির অধিবাসী, স্বনামধন্য পীরে কামেল হযরত মাওলানা শাহ হাবিবের জন্ম, মৃত্যু-২১-১১-২০০৬ তারিখ।

১৯২১ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর, পাবনা জেলার চাটমোহরে সাংবাদিক ও সাহিত্যিক কাজী আফসারউদ্দীন আহমদের জন্ম, মৃত্যু-২৬-০৩-১৯৭৫ তারিখ।

১৯২১ সালের ২ ডিসেম্বর, পিতার কর্মস্থলে কলকাতায় খ্যাতিমান শিল্পী পটুয়া কামরুল হাসানের জন্ম, ঢাকায় মৃত্যুঃ ০২-০২-১৯৮৮ তারিখ।

১৯২১ সালে গাজীপুর জেলার বাউপাড়ায় কবি জাহেদা খানমের জন্ম, মৃত্যু-২৭-০৩-২০০৮ তারিখ।

১৯২১ সালে বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার সরাইল গ্রামে আইনজীবী ও রাজনীতিক আবদুর রব সেরনিয়া বাদের জন্ম, মৃত্যু-১৫-০৮-১৯৭৫ তারিখ। ১৯৬৯ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

১৯২১ সালে নেত্রকোনায় বাম গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম নেতা, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন ও আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের পথিকৃৎ সত্য কিরণ আদিত্যের জন্ম, মৃত্যু-০৫-০৯-২০০৯ তারিখ।

১৯২২ সালের ২ জানুয়ারি, নোয়াখালী জেলায় রাজনীতিবিদ কমরেড মোহাম্মদ তোয়াহার জন্ম, মৃত্যু-২৯-১১-১৯৮৭ তারিখ।

১৯২২ সালের ১৫ জানুয়ারি, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়ার হাওরের অথই পানির মধ্যে ছোট্ট একটি দ্বীপসম গ্রাম ভূ-রাখালীতে রাজনীতিবিদ ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদের জন্ম, মৃত্যু-বারডেম হাসপাতালে ২৭-০৪-২০০৫ তারিখ।

১৯২২ সালে মির্জা মেহেদী ইস্পাহানি (সাদরী)র জন্ম, ইন্তেকাল করেণ-২০-০১-২০০৪ তারিখ। দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি এবং ইস্পাহানি শিল্পগোষ্ঠীর চেয়ারম্যান মেহেদী ইস্পাহানি। ১৯৪৯ সাল থেকে তিনি ইস্পাহানি গ্রুপের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯২২ সালের ১৭ জানুয়ারি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামে কিংবদন্তি সরোদশিল্পী (আকবর আলী আকবর খাঁ) ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ'র জন্ম, মৃত্যু-১৯-০৬-২০০৯ তারিখ যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোতে নিজের প্রতিষ্ঠিত সংগীত কেন্দ্রে মারা যান।

১৯২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, সাবেক ত্রিপুরা জেলার এক মুসলিম পরিবারে সাহিত্যিক ও জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরীর জন্ম, রাত্রে ঘুমের মধ্যে মৃত্যু-১৩-১২-২০১১ তারিখ। পিতার নাম-আবদুল হালিম চৌধুরী, মাতা-উম্মে কবীর আফিয়া।

১৯২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামে ওস্তাদ খাদেম হোসেন খানের জন্ম, মৃত্যু-১০-১২-১৯৯০ তারিখ।

১৯২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কিশোরগঞ্জ জেলার যশোদল গ্রামে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের জন্ম এবং মৃত্যু-০৩-১১-১৯৭৫ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে।

১৯২২ সালের ২২ মার্চ, ঢাকা জেলায় অনন্য এক মহামনীষী সৈয়দ আলী আহসানের জন্ম, মৃত্যু-২৫-০৭-২০০২ তারিখ।

১৯২২ সালের ৯ এপ্রিল, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার আয়েশতলা গ্রামে এক সভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে নজরুল সংগীতের কিংবদন্তি সোহরাব হোসেনের জন্ম, মৃত্যু-২৭-১২-২০১২ তারিখ।

১৯২২ সালের ১১ এপ্রিল, কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার চাপিতলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আবুল হাশেম। আবুল হাশেমের শুরুটা হয়েছিল ১৯৫৬ সালে কোম্পানীগঞ্জ বদিউল আলম হাইস্কুল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। তারপর ১৯৬৪ সালে বাখরনগর হাশেমিয়া ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা, ১৯৭০ সালে কোম্পানীগঞ্জ বদিউল আলম ডিগ্রি কলেজ, চাপিতলা অজিফা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয় ও মুরাদনগর নূরুন্নাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ১৯৭১ সালে হোমনায় কাশীপুর হাশেমিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও মুরাদনগরে নূরুন্নাহার গার্লস হাইস্কুল, ১৯৭২ সালে হোমনার রামকৃঞ্চপুরে কামাল স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়, ফেনীর পরশুরামে দক্ষিণ রাজেশপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং দক্ষিণ রাজেশপুর করিমিয়া মাদ্রাসা ও মসজিদ, ১৯৮৬ সালে হোমনায় রামকৃঞ্চপুর কলেজ ও সলপা প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৯৯৩ সালে মুরাদনগরের কচুয়ারপাড় প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ২০০৩ সালে অজিফা খাতুন উচ্চবিদ্যালয় স্থাপন করেন আবুল হাশেম।

১৯২২ সালের ১৪ এপ্রিল, কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার উপজেলার বর্ধিঞ্চু গ্রাম এলাহাবাদে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের জন্ম। ১৯৬৭ সালে তিনি ন্যাপ সভাপতি হন।

১৯২২ সালের ১২ মে, হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ থানার জলমুখা গ্রামে এক কৃষক পরিবারে ডা. টি. আলীর জন্ম।

১৯২২ সালের ১৫ জুন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার নাসিরাবাদ গ্রামের 'খাঁ বাড়িতে' বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও অধ্যাপক খান সারওয়ার মুরশিদের জন্ম, মৃত্যু-০৮-১২-২০১২ তারিখ। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জর্জ হাইস্কুল থেকে ১৯৩৯ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন এবং ফেনী কলেজ ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ পার হয়ে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগে। ১৯৪৮ সালে যোগদেন প্রভাষক হিসাবে ইংরেজী বিভাগে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের অধ্যাপক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন। পরে উচ্চতর গবেষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। উনার পিতা আলী আহমদ খাঁন ছিলেন বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর থানার ১৯৪৬ সালে নির্বািচত এম.এন.এ.।

১৯২২ সালের ১৫ জুন, চট্টগ্রাম শহরের ষোলশহরে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে কথাশিল্পী সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর জন্ম, মৃত্যু-১০-১০-১৯৭১ তারিখ।

১৯২২ সালের ২৩ জুন, ভারতের কলকাতায় দেশের প্রবীণ, প্রথিতযশা, শিল্পগুরু ও চিত্রশিল্পী সফিউদ্দিন আহমদের জন্ম, মৃত্যু-রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ১৯-০৫-২০১২ তারিখ (১৯-০৫-২০১২ রাত ১২-২০ মিনিটে) শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ১৯৪২ সালে স্নাতক ডিগ্রি নেন, ১৯৪৫ সালে একাডেমি অব ফাইন আর্টেসর প্রেসিডেন্ট স্বর্ণপদক লাভ, ১৯৪৬ সাল থেকে এক বছর চারুকলা বিদ্যালয়ে লিথোগ্রাফিতে শিক্ষকতা করেন। ১৯৪৮ সালে ঢাকা এসে জয়নুল আবেদিনের সঙ্গে মিলে চারুকলা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। ১৯৭৮ সালে একুশে পদক এবং ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার লাভ করেন।

১৯২২ সালে কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলায় শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী অধ্যাপক আবদুল করিমের জন্ম, মৃত্যু-২২-১২-১৯৭৩ তারিখ।

১৯২২ সালে মুন্সীগঞ্জ জেলার মালখানগর পূর্বের বাড়ির ব্রজেন্দ্রনাথ বসু ঠাকুরের কন্যা চামেলীর (সাবিত্রী) জন্ম। ১০ বছর বয়সে আকাশবাণী কোলকাতায় গান করেন। ঢাকা বেতারে যোগদেন ১৯৪০ সালে। ১৯৪৭ সালের পর ভারতে চলে যান।

১৯২২ সালের ২৭ জুন, সাংবাদিক জহুর হোসেন চৌধুরীর জন্ম, মৃত্যু-১১-১২-১৯৮০ তারিখ।

১৯২২ সালের ১ জুলাই, কবি, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক হাবীবুর রহমানের জন্ম, ইন্তেকাল ১৯৭৬ সালের ১৭ জুন।

১৯২২ সালের ১ আগস্ট, ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার চুনকুটিয়া গ্রামে এক শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ভাষাসৈনিক কর্ণেল(অব.) ডা. শরফুদ্দিন আহমদের জন্ম।

১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট, বাগেরহাটের ফকিরহাট থানার আড়ুয়াভাঙ্গা গ্রামে নানাবাড়িতে কবি আবুল হোসেনের জন্ম, স্কোয়ার হাসপাতালে মারা গেছেন ২৯-০৬-২০১৪ তারিখ।

১৯২২ সালের ১৭ আগস্ট, ফরিদপুরের ঈশানগোপালপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে আসমানীর জন্ম, মৃত্যু-১৮-০৮-২০১২ তারিখ। পল্লিকবি জসীমউদদেিনর 'আসমানী' কবিতাটি কবি ১৯৪৬ সালে আসমানীর নিজ গ্রাম রসুলপুরে বসে রচনা করেন। এই কবিতাটি কবির এক পয়সা বাঁশী কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত হয় ১৯৪৯ সালে। পরবর্তী সময়ে কবিতাটি স্কুল শ্রেণীর পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়।

১৯২২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পল্লী সঙ্গীত শিল্পী (কলকাতা বেতার কেন্দ্র) অমর পালের জন্ম।

১৯২২ সালের ২৪ আগষ্ট, চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানার নওয়াজিশপুর গ্রামে ডিগ্রিহীন ইতিহাসবিদ আবদুল হক চৌধুরীর জন্ম, মৃত্যু-২৬-১০-১৯৯৪ তারিখ।

১৯২২ সালের ৭ নভেম্বর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার বীরগাঁও গ্রামে গোলাম আযমের জন্ম, মৃত্যু-২৩-১০-২০১৪ তারিখ পৌনে ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়া হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার প্রতীক গোলাম আযম।

১৯২২ সালের ১০ নভেম্বর, সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী গ্রামের এক জমিদার পরিবারে প্রবীণ রাজনীতিবিদ, ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনের বিপস্নবী, বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির (সিপিপি) নেতা, ১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রসূন কান্তি রায়ের (কমরেড বরুণ রায়) জন্ম, মৃত্যু-০৮-১২-২০০৯ তারিখ।

১৯২২ সালে টাঙ্গাইল জেলায় শিক্ষাবিদ-সাহিত্যিক-কবি ও প্রাবন্ধিক এস. শহীদের জন্ম, মৃত্যু-০১-১২-২০০৬ তারিখ। তিনি প্রথম জীবনে টাঙ্গাইল বিন্দুবাসিনী হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেন-পরে চাকুরী করতেন এবং তাঁর প্রথম বই 'কাব্যরেখা' ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত হয়।

১৯২২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বড়কান্দি গ্রামে জনাব আবদুল খালেকের জন্ম, মৃত্যু-১৪-১২-১৯৭১ তারিখ। উনাকে বাঙ্গালী দরদী অফিসার বলা হত।

১৯২২ সালে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা গ্রামে সাবেক মন্ত্রী সুনীল কুমার গুপ্তের জন্ম, মৃত্যু-৩০-০৪-২০০৯ তারিখ বারডেম হাসপাতালে।

১৯২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর, নোয়াখালীতে বেগম মেহেরুন্নেসা খাতুনের জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। মরণোত্তর বেগম রোকেয়া পদক-২০১১ প্রদান করেন।

১৯২৩ সালের ১ জানুয়ারি, নরসিংদী জেলার করিমপুর গ্রামে ভাষাবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আফিয়া খাতুনের জন্ম, মৃত্যু-১৯-০৪-২০১৬ তারিখ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়াগোর নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেন। বাবার নাম সেকান্দর আলী-যিনি গ্রামের লোকের কাছে 'সেকান্দর মাস্টার' নামে পরিচিত ছিলেন। আফিয়া খাতুনকে ১৯৩৪ সালে ঢাকায় মুসলিম গার্লস স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। তারপর ১৯৩৬ সালে আসেন ইডেন স্কুলে এবং সেখান থেকে ১৯৪০ সালে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় আফিয়া মুসলিম মেয়েদের মধ্যে প্রথম স্থান লাভ করেন। ইন্টারমিডিয়েটেও একই ফল। ফলে আফিয়ার ভাগ্যে জুটে যায় সরকারি বৃত্তি, যার কারণে মেয়েকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার অনুমতি না দিয়ে আর কোনো উপায় থাকেনি। আফিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, যিনি ইংরেজীতে অনার্সসহ স্নাতকোত্তর পড়াশোন সম্পন্ন করেন, ১৯৪৬ সালে। আফিয়া প্রভাষক হিসেবে যোগদেন ইডেন কলেজে। ১৯৫২ ভাষা আন্দোলন শুরু হয়ে যায় এবং আফিয়া তখন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হকের স্ত্রী, স্বভাবতই তিনিও ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। শামসুল হক ও আফিয়া খাতুন দম্পতির দুই সন্তান উম্মে বতুল ফাতেমা জোহরা এবং উম্মে বতুল তাজমে তাহেরা। তিনি ১৯৫৩ সালে নিউজিল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি লাভ করেন। ১৯৫৬ সালে লিডারশিপ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের আওতায় পূর্ব পাকিস্তান থেকে আফিয়াই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সুযোগ পান। আফিয়া খাতুনের বর্তমান স্বামী-অমৃতসরে জন্ম হলেও আনোয়ার দিল বেড়ে ওঠেন পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের পেশোয়ারে। পড়াশোনায় তুখোর আনোয়ার দিলও বৃত্তি নিয়ে রিসার্চ স্টুডেন্ট হিসেবে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রে। এটা ষাটের দশকের কথা। এখানেই আরেক রিসার্চ স্টুডেন্ট আফিয়া খাতুনের সঙ্গে তাঁর পরিচয়; এবং এই পরিচয়-বন্ধুত্ব একসময় বিয়ের মধ্য দিয়ে স্থায়ী রুপ নেয়। কেনই বা সেই স্বপ্নের পাকিস্তান ভেঙে একাত্তর সালে তাঁদের লড়তে হলো বাংলাদেশের জন্য? প্রথিতযশা এ দুই সমাজবিজ্ঞানী-ভাষাতত্ত্ববিদ মনে করেন, এই আন্দোলনের বীজ প্রকৃত অর্থে রচিত হয়েছিল সেই ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময়েই। এরই ধারাবাহিকতায় হয়েছে দেশ ভাগ, তারপর ভাষা আন্দোলন এবং সবশেষে বাংলাদেশের জন্ম। বর্তমান নাম-আফিয়া দিল ২০০৩ সাল থেকে ইমিরিটাস প্রফেসর হিসেবে কর্মরত আছেন ক্যালিফোর্নিয়ার স্যানডিয়াগোয় অবস্থিত অ্যালিয়েন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং তাঁর স্বামী-আনোয়ার দিল ১৯৭৩ সাল থেকে ভাষাবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে কাজ শুরু করেন, একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ইমিরিটাস প্রফেসর হিসেবে কর্মরত আছেন।

১৯২৩ সালের ২ জানুয়ারি, রাজশাহীতে ঢাকা গার্হস্থ্য অর্থনীতি মহাবদ্যিালয়ের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক হামিদা খানমের জন্ম, মৃত্যু-১৮-০৩-২০১১ তারিখ হাসপাতালে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইডেন কলেজেও শিক্ষকতা করেছেন। মরণোত্তর বেগম রোকেয়া পদক-২০১১ প্রদান করেন।

১৯২৩ সালে পশ্চিমবাংলায় মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংস্কারমুক্ত, শিক্ষিত, উদার ও সংস্কৃতিমনস্ক এক সচ্ছল পরিবারে সাবেক মন্ত্রী বেগম নুরজাহান মুরশিদের জন্ম, মৃত্যু-০১-০৯-২০০৩ তারিখ। তিনি প্রথম জীবনে কলকাতা বেতারে প্রথম মুসলিম মেয়ে হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর ঢাকাতে চলে আসেন। তিনি ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বািচত হন এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন।

১৯২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশের কুটনীতিক হোসেন আলী জন্মগ্রহণ করেন, মৃত্যু-জানা নেই।

১৯২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি, কুমিল্লা জেলার বুড়িচঙ্গ উপজেলার চান্দলা গ্রামে সরকারি কর্মকর্তা ও সমাজসেবী এ. কে. এম. আজিজুল হকের জন্ম, মৃত্যু-০৩-০৯-২০০২ তারিখ।

১৯২৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি, নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালের জমিদার পরিবারের মিয়া বাড়িতে সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ আহমদুল কবির (মনু মিয়া) জন্মগ্রহন করেন, কলকাতায় ২৪-১১-২০০৩ তারিখে সংবাদের প্রধান সম্পাদক আহমদুল কবিরের ইন্তেকাল।

১৯২৩ সালের ১১ মার্চ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সাহিত্যিক ও চলচ্চিত্রকার ফতেহ লোহানীর জন্ম, মৃত্যু-১৯৭৫ সালের ১২ এপ্রিল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ১৯৪৭ সালে ১৪ আগস্ট রেডিওতে প্রথম পূর্ব পাকিস্তানের বাংলা খবর পড়েন। ১৯৫৯ সাল থেকে সিনেমাতে অভিনয় শুরু করেন। ফতেহ লোহানী ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ৪৪টি ছবিতে অভিনয় করেন।

১৯২৩ সালের ১৬ মার্চ, রাজনীতিক সৈয়দ আলতাফ হোসেনের জন্ম।

১৯২৩ সালের ১৪ মে, বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলা শহরে বাংলা চলচ্চিত্রজগতের জীবন্ত কিংবদন্তি প্রখ্যাত ও প্রথিতযশা চলচ্চিত্রকার মৃণাল সেনের জন্ম। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে ফরিদপুরেই। তিনি ১৯৪৩ সালে চলে যান কলকাতায়। ভারতের চলচ্চিত্র জগতের সর্বেশ্রষ্ঠ সম্মান দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কার, ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ দেশ-বিদেশের বহু সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি।

১৯২৩ সালের ২৩ মে, বরিশাল জেলার সিদ্ধকাঠি গ্রামে আজকের দুনিয়ায় ইতিহাস সুষ্টিকারী ইতিহাসবিদ, ইতিহাসের দার্শিনক রণজিৎ গুহের জন্ম। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের কারণে তিনি ভারতে চলে যায়। রণজিৎ গুহকে মার্কসবাদী ধারা ইতিহাসবিদ ধরা হয়। অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা শহরে ফুসফুসে ক্যান্সার নিয়ে হয়তোবা মৃত্যুর দিকেই যাচ্ছেন বাংলার এ কৃতী সন্তান। মরার আগে আরও পাঁচ বছর বাঁচতে চান, যাতে বাংলায় আরও লিখতে পারেন, যাতে একবারের জন্য হলেও তাঁর জন্মভূমি বরিশালের নদীতে কয়েক মাস ঘুরে বেড়াতে পারেন। রণজিৎ গুহকে প্রাচ্যের তত্ত্ববিদ বললে বাড়িয়ে বলা হয় না। তিনি ভারতবর্ষের ইতিহাসকে, ভারতবর্ষ তথা বংলার কৃষককে নূতন আলোয় দেখাতে পেরেছেন। তাঁকে তাঁর অনুপস্থিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যায় ২০০৯ সালের ১২ ডিসেম্বর, ৪৫তম কনভোকেশনে এ ক্ষণজন্মা পন্ডিতকে 'ডক্টর অব লিটারেচার' উপাধি দিয়ে সম্মানিত করেছে।

১৯২৩ সালের ১০ আগষ্ট, নড়াইল জেলার মাছিমদিয়া গ্রামে শিল্পী শেখ মোহাম্মদ সুলতান ওরফে এস. এম. সুলতানের (ডাকনাম লাল মিয়া) জন্ম, ১৯৪৬ সালে ভারতের সিমলায় প্রথম একক চিত্র প্রদর্শনী হয় তাঁর। ১৯৫০ সালে লন্ডনের ভিক্টোরিয়া এমব্যাংকমেন্টে আয়োজিত দলগত প্রদর্শনীতে পাবলো পিকাসো, সালভাদর দালি প্রমুখ শিল্পীর সঙ্গে সুলতানের ছবিও প্রদর্শিত হয়। বরেণ্য শিল্পী মৃত্যুবরণ করেন-১০-১০-১৯৯৪ তারিখ যশোরের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে।