২০১৩ সালের ১২ জানুয়ারি, দৈনিক জনকন্ঠ: বিশ্বে উৎপাদিত খাবারের অর্ধেকই নষ্ট করা হয়। ৪০০ কোটি টন খাবার উৎপাদন হয়। জাতিসংঘের রিপোর্ট: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, ইউরোপে এবং অন্যান্য ধনী দেশগুলোতে বিশ্বে উৎপাদিত খাবারের অর্ধেকই নষ্ট করা হয়।

২০১৩ সালের ১৩ জানুয়ারি, বাংলাদেশ প্রতিদিন: যুক্তরাজ্যের একদল জ্যোতিবিজ্ঞানী। মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় আকৃতি আবিস্কার-আবিস্কৃত এই আকৃতিটি একটি কোয়াসার দলের যার এক পাশ থেকে অপর পাশ পর্যন্ত আলোর গতিতি অতিক্রম করতে ৪০০ কোটি বছর লেগে যাবে। এ পর্যন্ত জানা মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় 'আকৃতি' আবিস্কার করেছেন, জ্যোতিবিজ্ঞানীরা।

২০১৩ সালের ১৬ জানুয়ারি, প্রথম আলো: মানবজাতির পথরেখা: সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক। দুই লাখ বছর: প্রায় দুই লাখ বছর আগে আফ্রিকায় মানব প্রজাতির উদ্ভব হয়। আফ্রিকা থেকে ৫০-৭০ হাজার বছর আগ থেকে আদিম মানুষের একটি দল এশিয়ায় আসে। আজ থেকে ১৫ থেকে ২০ হাজার বছর আগে মানুষ প্রথম আমেরিকায় আসে। মানে উত্তর আমেরিকায়। নতুন গবেষণা বলছে, ভারত থেকে চার হাজার বছর আগে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছায় মানুষ। আগে ধারণা করা হত, প্রায় ৫০ হাজার বছর আগে মানুষ অস্ট্রেলিয়ায় আসে।

২০১৩ সালের ২৩ জানুয়ারি, প্রথম আলো: বিশ্বে বেকারের সংখ্যা এ বছর ২০ কোটি ২০ লাখে উন্নীত হবে: আইএলও। ২০১২ সালে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা ছিল ১৯ কোটি ৭০ লাখ। ২০১৪ সালে আরও ৩০ লাখ লোক কর্মহীন হবে। আর ২০১৭ সালে বিশ্বে বেকার মানুষের সংখ্যা ২১ কোটি ছয় লাখে উন্নীত হতে পারে।

২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি, বাংলাদেশ প্রতিদিন: বিশ্বের ব্যয়বহুল রেস্টুরেন্ট-এক কাপ চা পান করতে গুনতে হয় বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার টাকা। অ্যাটমোস্ফেয়ার (দুবাই) শুধু বৈকালিক চা পানের বিল লাগবে প্রায় ১২০ ডলার পূরণ ৭৮ টাকা=৯,৩৬০/- টাকা।

২০১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো: মাটির 'সুস্বাদু' স্যুপ ও শরবত। জাপানে পেশাদত মুষ্টিযোদ্ধা থেকে ২০ বছর বয়সে বাবুর্চির কাজে মনোনিবেশ করেছিলেন তোশিও তানাবে। সে সময় টোকিওতে খুলে বসেন ফরাসি রেস্তোরাঁ।

২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো: দুই বছরের জন্য বন্ধ হয়ে গেল এলএইচসি। ইউরোপভিত্তিক পারমাণবিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউরোপিয়ান অর্গানাইজেশন ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ (সার্ন) ফ্রান্স-সুইজারল্যান্ড সীমান্ত এলাকায় ২৭ কিলোমিটারের বৃত্তাকৃতির এলএইচসি মেশিনটি স্থাপন করে। ২০১৪ সালের শেষে এটি আবার চালু করা হবে। বিবিসি ও এএফপি।

২০১৩ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশ প্রতিদিন: পাকিস্তানের পরমাণু বোমার সংখ্যা-১১০টি এবং ভারতের ৮০টি।

২০১৩ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি, দৈনিক জনকন্ঠ: বর্তমান বিশ্ব প্রতিবছর উৎপাদিত ৪০০ কোটি টন খাদ্যের মধ্যে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ ১০০ থেকে ২০০ কোটি টন খাদ্যদ্রব্য ফেলে দেয়া হচ্ছে জঞ্জালে। যে পরিমাণ খাদ্য প্রতিবছর অপচয় হয় তা দিয়ে বিশ্বের কোটি কোটি ক্ষুধার্ত মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করা সম্ভব। উৎপাদিত খাদ্যের অর্ধেকই অপচয়-২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে সাড়ে ৯০০ কোটিতে। তখন বাড়তি মানুষের খাদ্যের যোগান দেয়া কঠিন হয়ে পড়বে। এ কারণে খাদ্যের অপচয় রোধে জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানিয়েছে-আইএমই।

২০১৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশ প্রতিদিন: পাকিস্তানে হবে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন। সাড়ে চার হাজার কোটি মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন পাকিস্তানী আবাসন ধনকুবের মালিক রিয়াজ। করাচির বন্দর নগরীর উপকুল থেকে ৩ বা ৪ কিলোমিটার দূরে আরব সাগরে একটি দ্বীপের ওপর এ ভবন নির্মােণর পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভবনটির নির্মাণকাজে অন্তত ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং এতে পাকিস্তানের শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগ বাড়বে বলে আশা করেন রিয়াজ। বিশাল এ প্রকল্পের জন্য ১৬ হাজার একরের একটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে মানে ২৫ বর্গমাইল এলাকা। উচ্চতম ভবনটি ছাড়াও এখানে আরও এক লাখ ২৫ হাজার বাড়ি তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

২০১৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো: নিজেকে বিশ্বের বৃহত্তম কারবারি দেশ হিসেবে মানতে রাজি নয় চীন। গত বছর দেশটির মোট আমদানি ও রপ্তানির পরিমাণ ছিল তিন লাখ ৮৬ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। আর একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের অর্থমূল্য ছিল তিন লাখ ৮২ হাজার ২০০ কোটি ডলার। চীন দাবি করেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে তাদের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের পরিমাণ ১৫ হাজার ৬০০ কোটি ডলার কম।

২০১৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো: বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন হচ্ছে সৌদি আরবের জেদ্দায়। কিংডম টাওয়ারের মডেল। কিংডম টাওয়ারের সর্বেমাট উচ্চতা হবে তিন হাজার ২৮০ ফুট বা এক কিলোমিটার, যা লন্ডনের বিখ্যাত শার্ড টাওয়ারের চেয়ে তিনগুণ উঁচু। বর্তমানে বিশ্বেও সর্বোচ্চ ভবন দুবাইয়ের বুর্জ খলিফার (উচ্চতা দুই হাজার ৭১৭ ফুট) চেয়ে এটি প্রায় ৫৫৮ ফুট বেশি উঁচু হবে। কিংডম টাওয়ার নির্মােণ মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭৮ কোটি পাউন্ড।

২০১৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি, দৈনিক সমকাল: প্রথম মানব আফ্রিকায়। দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপে পাওয়া মানব জীবাশ্মসহ আরও কিছু জীবাশ্ম নিয়ে গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্তে পৌছেছেন-পুর্ণাঙ্গ মানবের উৎসভূমি আফ্রিকা। ব্রিটিশ গবেষকদের সাম্প্রতিক গবেষণায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। বিভিন্ন মহাদেশের মানবগোষ্ঠীর দেহিক ও নৃতাত্ত্বিক ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করে দেখেছেন সবাই একই পূর্বপুরুষের বংশধর। আর এই পূর্বপুরুষের দৈহিক গঠনের সঙ্গে প্রাপ্ত জীবাশ্মের অনেক মিল রয়েছে। কেমব্রিজের অ্যাংলিয়া রাসকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিও জেনেটিকসের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ড. পিটার ফরস্টার বলেন, পূর্ব আফ্রিকায় এক লাখ ৯৫ হাজার বছর আগে হোমোস্যাপিয়েন্স বা আধুনিক মানবের উদ্ভব ঘটে। আর যায়গাটি ছিল সম্ভবত বর্তমান উথিওপিয়ার ওমো নদীর তীরবর্তী কোনো অঞ্চল।

২০১৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশ প্রতিদিন: বিশ্বে এখনো মোতায়েন ১৪ লাখ মার্কিন সেনা এর মধ্যে ১৫০টি দেশে মোতায়েন রয়েছে প্রায় দুই লাখ সেনা। ২০১২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে সংগ্রহ করা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ কথা জানানো হয়েছে।

২০১৩ সালের ১৬ মার্চ, প্রথম আলো: প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় এশিয়া ছাড়িয়েছে ইউরোপকে। দ্য মিলিটারী ব্যালান্স-২০১৩' শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে আইআইএসএস জানায়, প্রকৃত অর্থে চীনের সামরিক খাতে ব্যয় ২০১১ ও ২০১২ সালের মধ্যে ৮ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। গত বছর সামরিক খাতে বৈশ্বিক মোট ব্যয়ের ৪৫ দশমিক ৩ শতাংশই করেছে যুক্তরাষ্ট্র। চীন এখন স্পষ্টতই বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক ব্যয়কারী দেশ। দেশটি অর্থৈনতিক প্রবৃদ্ধি বজায় থাকলে তারা ২০২৫ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যেই সামরিক ব্যয়ের দিক দিয়ে প্রথমে থাকা যুক্তরাষ্ট্রকে ধরে ফেলবে বলে মন্তব্য করা হয়েছে আইআইএসএসের ওই প্রতিবেদনে। ২০১২ সালে বিশ্বে সামরিক ব্যয় হয়েছে ১.৮০ (এক লক্ষ আশি হাজার কোটি ডলার)।

২০১৩ সালের ২ এপ্রিল, বাংলাদেশ প্রতিদিন: ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রনেতাদের গৌরবময় প্রয়াণ-১৭৪৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে প্রয়াত ক্ষমতাসীন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সংখ্যা দুই শতাধিক। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি ১১৬ জন, প্রধানমন্ত্রী ৮৪ জন এবং চেয়ারম্যান ১৭ জন।

২০১৩ সালের ৩ এপ্রিল, বাংলাদেশ প্রতিদিন: জলে ভাসা গ্রাম। পৃথিবীর বিখ্যাত জলে ভাসা শহর হচ্ছে ভেনিস। ইতালির ভেনিস শহরটি প্রাচীনকাল থেকেই জলে ভাসা শহর হিসেবে সুবিখ্যাত। এটিকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে অবাস্তাব শহর, সেই সঙ্গে সবচেয়ে রোমান্টিকও। ভেনিসের মোট আয়তন মাত্র আট বর্গিকলোমিটার, কিন্তু প্রায় ৪০০ সেতুর মাধ্যমে সংযুক্ত ১১৭টি খুদে দ্বীপের এই শহরে একবার প্রবেশ করলেই একে মনে হয় সীমাহীন, চারদিকে কেবল জলেরই রাজত্ব। কিন্তু এ ভেনিস শহরের বাইরেও পৃথিবীতে অনেক জলে ভাসা গ্রাম-শহরতলি বা সম্প্রদায় রয়েছে। এসব এলাকাকে বলে ওয়াটার ভিলেজ। ওয়াটার ভিলেজ মূলত পানির ওপরে বসবাস করা মানুষের বাড়িঘর। যা সচরাচর পানির ওপরেই তৈরি হয়। বাড়িগুলো পানিতে ভাসে। আবার কখনো স্থির দাঁড়িয়ে থাকে। এ যেন এক ভাসমান আবাস। আবার পৃথিবীর কোনো কোনো জায়গায় এ ভাসমান শহরগুলোই বর্তমানে পর্যটকদের বিরাট আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০১৩ সালের ৬ মে, প্রথম আলো: জিনগত পরিবর্তেনর মাধ্যমে 'স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ' গরুর প্রজনন-প্রক্রিয়ার উদ্যেগ নিয়েছেন যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা। শিংবিহীন গরু কাউকে আঘাত করতে পারবে না। ফলে কৃষক বা পথচারী ও অন্যান্য প্রাণীর বিপদের ঝুঁকি কমবে।

২০১৩ সালের ১২ মে, বাংলাদেশ প্রতিদিন: (১) পাকিস্তানে-দুর্ঘটনা: ভূমিকম্প-খাবার-পচা খাবার, পানি খেয়ে নাকশা বিবি-বেঁচেছিলেন ৬৩ দিন। (২) হাইতি-দুর্ঘটনা: ভূমিকম্প, খাবার: মলমূত্র-মিশ্রিত পানি পান করে ইভানস মোনসিগনাক ২৭ দিন বেঁচেছিলেন। (৩) বাংলাদেশ-দুর্ঘটনা: সাভারে ভবনধস-২৪-০৫-২০১৩ তারিখ এবং জীবিত উদ্ধার ১০-০৫-২০১৩ তারিখ বিকেল সাড়ে চারটায়। রেশমা বেগম-খাবার: পানি খেয়ে বেঁচেছিলেন ১৭ দিন। (৪) দক্ষিণ কোরিয়া দুর্ঘটনা ভবনধস-খাবার: বৃষ্টির পানি খেয়ে পার্ক সিউইং হিউন-বেঁচেছিলেন ১৬ দিন। (৫) পেড্রিটো ডি-১৪ দিন বেঁচেছিলেন-ফিলিপাইন, দুর্ঘটনা: ভূমিকম্প-খাবার: পানি ও নিজেরখেয়ে প্রসাব ও (৬) ইরানের শাহার বানু-দুর্ঘটনা: ভূমিকম্প, খাবার: পানি খেয়ে ৯ দিন বেঁচেছিলেন।

২০১৩ সালের ২১ মে, প্রথম আলো: বিশ্বের শীর্ষ ধনী দেশ সিঙ্গাপুর। শীর্ষ পাঁচ দেশের মাথাপিছু জিডিপি (মার্কিন ডলারে):

ক্রমিকদেশ(২০১৩ সালে)২০১৮
সিঙ্গাপুর৬১,৫৬৭৭৭,০০০
নরওয়ে৫৬,৬৬৩৬৬,০০০
যুক্তরাষ্ট্র৫১,২৪৮৬৩,০০০
সংযুক্ত আরব আমিরাত৪৯,৮৮৩৫৭,০০০
সুইজারল্যান্ড৪৬,৪৭৪৫৪,০০০

আইএমএফ সম্প্রতি বিশ্বের শীর্ষ ৫০ ধনী দেশের মধ্যে পাঁচটির এই তালিকা প্রকাশ করেছে।

বিশের প্রধান অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা এখনো (২০১৩ সালেও) শক্তিশালী।

২০১৩ সালের ২১ মে, দৈনিক জনকন্ঠ: ইসরাইল বিশ্বে শীর্ষ ড্রোন রফতানিকারক।। ৮ বছরে আয় ৪৬০ কোটি ডলার।

২০১৩ সালের ৪ জুন, প্রথম আলো: পারমাণবিক অস্ত্র বাড়িয়েছে তিন দেশ:

ক্রমিকদেশআগের সংখ্যাবর্তমান সংখ্যা
রাশিয়া১০,০০০৮,৫০০
যুক্তরাষ্ট৮,০০০৭,৭০০
ফ্রান্স৩০০৩০০
যুক্তরাজ্য২২৫২২৫
চীন২৪০২৫০
ভারত৯০-১০০৯০-১১০
পাকিস্তান১০০-১১০১০০-১২০
ইসরায়েল৮০৮০

। সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ:।

সবচেয়ে ব্যাপক যুদ্ধ: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধই একমাত্র যুদ্ধ যা বিশ্বের জলে, স্থলে অন্তরীক্ষে সর্বত্র ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। পৃথিবীর প্রায় ৮০ ভাগ লোক জুড়ে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। বিশ্বে ৭২টি দেশ এ যুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহন করে এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে ১৭০ কোটি লোক। যা ছিল পৃথিবীর তৎকালীন জনসংখ্যার তিন-চতুর্থাংশ। আর প্রথম মহাযুদ্ধে ৩৩টি দেশ অংশ নিয়েছিল এবং যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল ১০০ কোটি লোক।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ইতিহাসের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হিসেবে কুখ্যাত। প্রথম মহাযুদ্ধের তুলনায় এ যুদ্ধে ৫(পাঁচ) গুণ বেশী লোক নিহত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ৫.৫ সাড়ে পাঁচ কোটি লোকের প্রাণহানি ঘটে। প্রথম মহাযুদ্ধে এ সংখ্যা ছিল ১(এক) কোটি।

ইতিহাসের বৃহত্তম আক্রমণ: ১৯৪১ সালের ২২ জুন, ভোররাতে জার্মান বাহিনী রাশিয়ার ওপর অতর্কিত যে হামলা চালায়, তা-ই ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত। এ বৃহত্তর অভিযানের আওতা ছিল মেরু সাগর থেকে কৃঞ্চ সাগর পর্যন্ত প্রায় ২০০০ হাজার মাইল বিস্তৃত এলাকা। ৩,৫৮০টি ট্যাঙ্ক, ৭,১৮৪টি কামান এবং ১,৮৩০টি যুদ্ধ বিমানের অংশগ্রহণে সংঘটিত এ হামলার নাম ছিল 'অপারেশন বার্বােরাখা'।

স্থল পথে প্রচন্ডতম যুদ্ধ: স্থল পথে ইতিহাসের প্রচন্ডতম যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে রাশিয়ার 'তুরস্ক' নামক স্থানে জার্মান ও রাশিয়ার সৈন্যবাহিনীর সঙ্গে। এ যুদ্ধ শুরু হয় ১৯৪৩ সালের ৫ জুলাই, শেষ হয় ২৪ জুলাই। ইতিহাসের ভয়াবহতম এ স্থল যুদ্ধে রুশ পক্ষে ছিল ৩,৬০০ ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া যান, ৩,১৩০টি বিমান, ২০,০০০ হাজার কামান ও ১৩ লক্ষ সৈন্য। অন্যদিকে জার্মান বাহিনীতে ছিল ১০ লাখ সৈন্য, ২,৭২০টি ট্যাঙ্ক এবং অসংখ্য যুদ্ধ বিমান, যার মাধ্যমে দৈনিক অন্তত ৩,০০০ হাজার বার হানা দেয়া যেত।

বৃহত্তর নৌ অভিযান: সমুদ্র পথে ইতিহাসের বৃহত্তম অভিযানের শুরু করেছিল মিত্রবাহিনী ১৯৪৪ সালের ৬ই জুন। অপারেশন ডি-ডে নামের এ অভিযানে ৫,০৪৯টি জঙ্গী বিমান, ১,৪৬৭টি ভারী বোমারু বিমান, ১,৪৬৫টি মাঝারি ও হালকা বোমারু বিমান, ২,৩১৬টি পরিবহন বিমান অংশ নেয়। ৬টি বড় আকারের জাহাজ ও ২৫টি ক্রুজারসহ যুদ্ধ জাহাজ ও পরিবহন যানের সংখ্যা ছিল ৬,৪৮৩টি। ব্রিটিশ, মার্কিন, কানাডীয়, ফরাসী, ডাচ, পোল, নরওয়েজিয়ান ও গ্রিক সৈন্যের এক বিশাল সম্মিলিত বাহিনী এ নৌ অভিযানে অংশ নেয়। মিত্র বাহিনী এ অভিযানের মাধ্যমে ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করে জার্মানী অধিকৃত ফ্রান্সের নরম্যান্ডি বন্দর আক্রমণ করে।

আকাশ পথে বৃহত্তর অভিযান: আকাশ পথে ইতিহাসের বৃহত্তম অভিযান পরিচালিত হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে। ১৯৪৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর, ইঙ্গ-মার্কিন বিমান বাহিনী জার্মান অধিকৃত হল্যান্ডে এ অভিযান চালায়। 'অপারেশন মার্কেট গার্ডেন' সাংকতিক নামের এ আকাশ যুদ্ধে অংশ নেয় ১,৫০০ পরিবহন বিমান, ৪২৫টি গ্লাইডার, শত শত জঙ্গী বিমান এবং ২০,০০০ হাজার বিমান সেনা।

সবচেয়ে ব্যয়বহুল যুদ্ধ: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ হল ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল যুদ্ধ। এ যুদ্ধে লিপ্ত দেশগুলোর মোট আনুমাণিক সামরিক ব্যয় ১.৫(এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) কোটি ডলার। এরমধ্যে আমিরিকার খরচ-৩১,৮০০ কোটি ডলার, বৃটেনের-৩১ হাজার কোটি ডলার, রাশিয়ার-২৮ হাজার কোটি ডলার, অক্ষশক্তির খরচ-৪২ হাজার কোটি ডলার।

।মহাকাশ জয়ের সময়পঞ্জি:।

৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৪: মহাকাশ গবেষণার জন্য নয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে শক্তিমত্তা বৃদ্ধির জন্য ভি-২ নামের রকেট মহাকাশে পাঠায় জার্মািন। প্রথমবারের মতো উপকক্ষপথে মহাকাশ ভ্রমণের ইতিহাস তৈরি করে ভি-২।

৪ অক্টোবর, ১৯৫৭: পৃথিবীর কক্ষপথে মহাকাশ ভ্রমণের জন্য প্রথমবারের মতো কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেন সোভিয়েত বিজ্ঞানীরা। স্পুটনিক-১ নামে এই উপগ্রহ সূচনা করে সোভিয়েত বনাম মার্কিন মহাকাশ লড়াইয়ের।

৩ নভেম্বর, ১৯৫৭: মাসখানেকের মধ্যেই স্পুটনিক-২ মহাকাশে পাঠায় সোভিয়েত ইউনিয়ন। এবার আর শুধু উপগ্রহ নয়, তবে আরোহী 'লাইকা' নামের একটি কুকুর। এই প্রথম কোনো প্রাণী মহাকাশ ভ্রমণে গেল, যদিও লাইকা ভ্রমণ শেষ করে বেঁচে ফেরেনি পৃথিবীতে।

৪ জানুয়ারি, ১৯৫৯: মুনষ্যবিহীন সোভিয়েত মহাকাশযান লুনা-১ প্রথম মহাকাশযান হিসেবে চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছায়।

১২ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৯: প্রথমবারের মতো চাঁদের মাটিতে নেমে পড়ে লুনা-২। সোভিয়েত এই যানটি অবশ্য চাঁদেই ধ্বংশ হয়ে গিয়েছিল।

১২ এপ্রিল, ১৯৬১: এবার মহাশূন্যে জীবন্ত মানুষ পাঠিয়ে ছিলেন সোভিয়েত বিজ্ঞানীরা। ভাস্তক-১ নামে মহাকাশযানে চড়ে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করে ফিরলেন ইউরি গ্যাগারিন।

৫ মে, ১৯৬১: গ্যাগারিনের ২৩ দিন পরই ফ্রিডম-৭ মহাকাশযানে চেপে প্রথম মার্কিন হিসেবে মহাশূন্যে ভ্রমণ করেন অ্যালান শেপার্ড।