৭(সাত) হাজার বছরের ইতিহাস জানি মাত্র আমরা, যখন থেকে মানুষ তার ইতিহাস লেখে। গাছের বয়স ৭(সাত) হাজার বছর। ৫(পাঁচ) হাজার বছর পূর্বে পৃথিবীর সভ্যতা আরম্ভ। মানুষ কিসের জোরে টিকল। হাতিয়ারের জোরে পশুকে বশ করল এবং পরে আগুন আবিস্কার করে মানুষ নিজে এ আবিস্কার করেছে। সভ্যতার দিকে এগিয়ে গেল মানুষ। কাঠের চাকা আবিস্কারের ৬২০০ বছর পরে স্টীম ইঞ্জিন ও সংযুক্তিযানের যুগ শুরু হয়।
১৬৫০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল-৫৫(পঁঞ্চান্ন) কোটি, ১৮০০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল-৯০(নব্বই) কোটি, ১৮৫০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল-১১৭(একশত সতের) কোটি, ১৯০০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল-১৬০ কোটি, ১৯২৭ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল-২০০(দুইশত) কোটি, ১৯৬০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল-৩০০(তিনশত) কোটি, ১৯৭৪ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল-৪০০(চারিশত) কোটি, ১৯৮৭ সালের ১১ জুলাই, পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল-৫০০(পাঁচশত) কোটি, ১৯৯৯ সালের ১২ অক্টোবর, পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল-৬০০(ছয়শত) কোটি, ২০০৫ সালের ১১ জুলাই, পৃথিবীর জনসংখ্যা-৬৫০(ছয়শত পঁঞ্চাশ) কোটি। ২০০৬ সালের ১১ জুলাই, পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল ৬৫৮(ছয়শত আটান্ন) কোটি। ২০০৭ সালের ১১ জুলাই, পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল ৬৬৫.৮০(ছয়শত পঁয়ষট্টি কোটি আশি লক্ষ)। ২০০৮ সালের ১১ জুলাই, পৃথিবীর জনসংখ্যা হলো-৬৭৩.৬০(ছয়শত তেহাত্তর কোটি ষাট লক্ষ)। ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি, পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল-৬৭৫,১৬,৪৩,৬০০(ছয়শত পঁচাত্তার কোটি ষোল লক্ষ তেতাল্লিশ হাজার ছয়শত) জন আর ২০০৯ সালের ১১ জুলাই ছিল পৃথিবীর জনসংখ্যা ৬৮০ (ছয়শত আশি) কোটি। ২০১০ সালের ১১ জুলাই ছিল পৃথিবীর জনসংখ্যা ৬৮৮ (ছয়শত আটআশি) কোটি। ২০১১ সালের ১১ জুলাই ছিল পৃথিবীর লোকসংখ্যা ৬৯৭ কোটি ৩৭ লক্ষ ৬২ হাজার এবং ২০১১ সালের ৩১ অক্টোবর পৃথিবীর লোকসংখ্যা ৭০০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। ২০৫০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা হতে পারে প্রায়-৯৩০ থেকে ১,০০০(এক হাজার) কোটি। বিশ্বে এবার ৮ কোটি লোক বাড়বে। জনসংখ্যা বাড়লে পৃথিবীর কোন প্রকার সমস্যা হচ্ছে না। বাস্তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি বাংলাদেশের মত কিছু কিছু দেশের এক নম্বর সমস্যা। ২১০০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা বেড়ে হবে ১,১০০(এক হাজার একশত) কোটি। বিজ্ঞানীদের ধারণা ২১০০ সালের পর পৃথিবীর জনসংখ্যা আর বাড়বে বলে মনে হয় না।
বিশ্বে ২০০৮ সালে খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়েছে-২১৬.৪০ কোটি টন, খাদ্যশস্য মজুদ থাকবে ৪০(চল্লিশ) কোটি টন। বিজ্ঞানীদের ধারণা, বর্তমান বিশ্বে ১,০০০(এক হাজার) কোটি মানুষের খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়। ২০০৯ সালের ১১ জুলাই, পৃথিবীর জনসংখ্যা হলো-৬৮০(ছয়শত আশি কোটি)। পৃথিবীতে গড়ে প্রতিবর্গ মাইলে বাস করে-১১৯ জন (পৃথিবীর আয়তন ৫,৭০,১৭,০০০ বর্গমাইল) আর বাংলাদেশে গড়ে প্রতিবর্গ মাইলে বাস করে ২,৭৩৯ জন (বাংলাদেশের আয়তন ৫৭,২৯৫ বর্গমাইল) আর প্রতিবর্গ কিলোমিটারে বাস করে ১,০৬৭ জন (১,৪৭,০০০ বর্গিকলোমিটার)। গড়পড়তা একটি মানুষের খাদ্য দৈনিক ৫০০ গ্রাম ধরা যদি হয়, তাহলে বছরে খাদ্যশস্য লাগে ১২৪,১০,০০,০০০(একশত চব্বিশ কোটি দশ লক্ষ) টন আর বছরে খাদ্য জমা থাকার কথা ৯২,৩০,০০,০০০(বিরানব্বই কোটি ত্রিশ লক্ষ) টন। তাহলে মানুষ না খেয়ে থাকার কথা নয় বা খাদ্য ঘাটতি নেই। উন্নত বিশ্বের জীব-জন্তু ও পশু-পাখিদের গড়পড়তা যা খাবার খাওয়ানো হয়-তৃতীয় বিশ্বের মানুষদের গড়পড়তা তা খাওয়ানো হয়নি। পৃথিবীতে খাদ্যশস্যের ঘাটতি নেই। ধনীদেশগুলো বা ধনীরা ইচ্ছাকৃতভাবে খাদ্যোর ঘাটতি সৃষ্টি করছে অতি মুনাফার জন্য। খাদ্যের সুষম বণ্টনব্যবস্থা করলে খাদ্য ঘাটতি থাকবে না বা কেউ না খেয়ে মরবে না। ধনীরা যেভাবে বিশ্ববাসীকে অনাহারের পথে ঠেলছে, খাদ্য থেকে জৈব জ্বালানি তৈরি করে তাদের গাড়ি চালানোর জ্বালানি জোগাবে। জাতিসংঘের খাদ্য অধিকার কর্মকর্তার ভাষায় এটা 'মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ'। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্য, চীন, ব্রাজিল, ইউরোপীয় ইউনিয়ন। যুক্তরাষ্ট্রের সড়কে চলা গাড়িগুলো এভাবে জাতিসংঘের দেওয়া তালিকার মধ্যে সবচেয়ে খাদ্যঘাটতিতে পড়া নিম্ন আয়ের ৮২টি দেশের ঘাটতি মেটানোর পুরো শস্যই গাড়ির তেল হিসেবে পুড়িয়ে ফেলবে। দরিদ্রদের অনাহারে রাখার এর থেকে ভালো উপায় আর হয় না।
২০১১ সালের ১১ জুলাই, বাংলাদেশের জনসংখ্যা-১৬(ষোল কোটি) থেকে বেড়ে ২০৫০ সালে হবে ২৬.৫৪(ছাব্বিশ কোটি চুয়ান্ন লক্ষ)। পৃথিবীর ৪৩ ভাগের ১ ভাগ লোক বাস করে বাংলাদেশে। প্রতি বছর পৃথিবীতে লোক বাড়ে ৭(সাত) কোটি ৮০(আশি) লক্ষ আর বাংলাদেশে বছরে লোক বাড়ে ২৫(পঁচিশ) লক্ষ। পৃথিবীর ৪৩ ভাগের ১ ভাগ লোক বাস করে বাংলাদেশে এবং পৃথিবীর হারে লোক বাড়লে বাংলাদেশে লোক বাড়ত বছরে ১৮,২৫,৪১৫ জন। পৃথিবীর ২৩২টি রাষ্ট্রের মধ্যে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র ১৯৪টি এবং জাতি ২০০টি। জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের ৭ম স্থানে আছে আর অর্থনীতির দিক থেকে ৪৫তম স্থানে আছে। বাংলাদেশ পৃথিবীর কাছ থেকে যায়গা পেয়েছে ৯৯৫ ভাগের ১ ভাগ ৫৭,২৯৫ বর্গমাইল আর জনসংখ্যার অনুপাতে যায়গা পাইত ১৩,২৮,৭৫৮ বর্গমাইল। বুর্জোয়া বিকাশ হলেও আমাদের অর্থনীতি ৭ম স্থানে থাকার কথা ছিল। আমরা বিশ্ব নাগরিক-কথায় বলা হয় কিন্তু বাস্তবে না। বিশ্ব নাগরিক হলে বিশ্বের যা কিছু আছে-তাঁর সবকিছুরই সমান ভাগ পেতাম।
২০১২ সালের ১৬ নভেম্বর, বি-বাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ভেলানগর বড়বাড়ির জনসংখ্যা হলো-১,৩৯৫(এক হাজার তিনশত পঁচানব্বই) জন, এরমধ্যে (তালাকপ্রাপ্ত-৭৪ ও চলে গেছেন-৬ জন স্ত্রী) মোট স্ত্রীর সংখ্যা-৮০ জন এবং বিবাহিতা মেয়েরা স্বামীরবাড়িতে বাস করে-২৬২ জন। ভেলানগর বড়বাড়ির প্রকৃত জনসংখ্যা-১,০৫৩(এক হাজার তিপান্ন) জন। বিদেশ ও শহরে বাস করে ৪৩৬ জন এরমধ্যে বিদেশে বাস করে-১২১ জন এবং গ্রামে বাস করে-৬১৭ জন। ভেলানগর বড়বাড়ির জনসংখ্যা-১,০৫৩(এক হাজার তিপান্ন) জন থেকে বেড়ে ২০৫০ সালে ভেলানগর বড়বাড়ির জনসংখ্যা হবে প্রায়-১,৫০০(্এক হাজার পাঁচশত) জন। ২১০০ সালে ভেলানগর বড়বাড়ির জনসংখ্যা বেড়ে হবে প্রায়-১,৭৫০(এক হাজার সাতশত পঁঞ্চাশ) জন। ভেলানগর গ্রামের মোট জনসংখ্যা হলো-৭,৫৩৬(সাত হাজার পাঁচশত ছয়ত্রিশ) জন এরমধ্যে বিবাহিতা মেয়েরা স্বামীরবাড়িতে বাস করে-১,২৯৫(এক হাজার দুইশত পঁচানব্বই) জন, তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর সংখ্যা-৩২১(তিনশত একুশ) জন। ভেলানগর গ্রামের প্রকৃত জনসংখ্যা-৬,৮৫০(ছয় হাজার আটশত পঁঞ্চাশ) জন এরমধ্যে গ্রামে বাস করে প্রায়-৪,৭০০(চার হাজার সাতশত) জন এবং বিদেশ ও শহরে বাস করে-২,১৫০(দুই হাজার একশত পঁঞ্চাশ) জন এরমধ্যে বিদেশে বাস করে-৫০৬(পাঁচশত ছয়) জন। ভেলানগর গ্রামের জনসংখ্যা ছিল (গ্রাম, শহর এবং বিদেশে বসবাসকারীসহ) প্রায়-৬,৮৫০(ছয় হাজার আটশত পঁঞ্চাশ) জন, তা' থেকে বেড়ে ২০৫০ সালে হবে প্রায়-৯(নয়) হাজার জন এবং ২১০০ সালে ভেলানগর গ্রামের জনসংখ্যা বেড়ে হবে-১০(দশ) হাজার জন। বাঞ্ছারামপুর উপজেলার জনসংখ্যা হলো-প্রায়-৪,৬৯,৯৫০(চার লক্ষ উনসত্তর হাজার নয়শত পঞ্চাশ) জন এরমধ্যে বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় বাস করে প্রায়-৩,০০,৯৩০(তিন লক্ষ নয়শত ত্রিশ) জন এবং শহর ও বিদেশে বাস করে-১,৬৯,০২০(এক লক্ষ উনসত্তর হাজার বিশ) জন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার জনসংখ্যা হলো প্রায়-৩২(বত্রিশ) লক্ষ এরমধ্যে শহর ও বিদেশে বাস করে প্রায়-১১(এগার) লক্ষ। ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশের জনসংখ্যা হলো ১৬.১০(ষোল কোটি দশ লক্ষ) এরমধ্যে শহর ও বিদেশে বাস করে প্রায়-৪.৫৩(চার কোটি তিপান্ন লক্ষ) জন তারমধ্যে (৩১-১২-২০০৯ তারিখ পর্যন্ত) বিদেশে বাস করে-৬৭(সাসট্টি) লক্ষ এবং ২০০৯ সালের ১১ জুলাই, পৃথিবীর জনসংখ্যা হলো-৬৮০(ছয়শত আশি কোটি)। ২০১০ সালের ২৩ মার্চ মাসের হিসেব অনুযায়ী, ভেলানগর বড়বাড়ির জনসংখ্যা হলো-ভেলানগর গ্রামের জনসংখ্যার ৬ ভাগের ১(এক) ভাগ লোক, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার জনসংখ্যার-৪৬৮(চারিশত আসট্টি)) ভাগের ১(এক) ভাগ লোক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার জনসংখ্যার-৩,১৮৭(তিন হাজার একশত সাতআশি) ভাগের ১(এক) ভাগ লোক, বাংলাদেশের জনসংখ্যার-১.৬২(এক লক্ষ বাসট্টি হাজার) ভাগের ১(এক) ভাগ লোক এবং পৃথিবীর জনসংখ্যার-৬৮(আষট্টি লক্ষ) ভাগের ১(এক) ভাগ লোক হলো ভেলানগর বড়বাড়ির।
২০১১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের শতকরা ২৮ ভাগ লোক শহরে বসবাস করে, আগামী ২০৫০ সালে বালাদেশের শতকরা প্রায় ৫৫ ভাগ লোক শহরে বসবাস করবে। ২০১১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর, ভেলানগর বড়বাড়ির জনসংখ্যা বিদেশসহ শহরে বাস করে ৪০ ভাগ তা' থেকে বেড়ে ২০৫০ সালে হবে প্রায় ৭০ ভাগ। ২০১০ সালের ৩ আগষ্ট, ভেলানগর গ্রামের জনসংখ্যা বিদেশসহ শহরে বাস করে ৩২ ভাগ তা' থেকে বেড়ে ২০৫০ সালে হবে প্রায় ৬৫ ভাগ। ১৯০১ সালের দিকে বিশ্বে শহরবাসীর সংখ্যা ছিল শতকরা ৫ ভাগ, আর ২০১০ সালে বিশ্বে শহরবাসীর সংখ্যা শতকরা ৫০ ভাগ। আগামী ২০৪৫ সালের দিকে বিশ্বের লোকসংখ্যার প্রতি তিনজনের ২ জন লোক শহরবাসী হবে। তখন আমি মোঃ জাকির হুসেন (আলমগীর) এ পৃথিবীতে বেঁচে থাকবো না।
১৯-০৩-২০১০ তারিখের প্রথম আলোর রিপোর্ট: আম্বানির টাওয়ার। মুকেশ আম্বানি বাড়ি বানাননি, বানিয়েছেন টাওয়ার-আন্তিলা টাওয়ার। ২৭ তলা এই টাওয়ার (প্রচলিত মাপে ৬০ তলা দালানের সমান) তৈরি করা হয়েছে মুম্বাইয়ের আলতামাউন্ট রোডে চার লাখ স্কয়ার ফুটের এই ভবনটি নকশা করার অনুপ্রেরণা ছিল ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান। ভবনের কোনো এক তলার সঙ্গে আরেক তলার নকশায় মিল নেই। অনুমান করা হয়, এই টাওয়ার তৈরিতে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে। সে হিসেবে আন্তিলা টাওয়ারকে পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবাসিক ভবন বলে মানা হয়। এ ১০০ কোটি ডলারের সমান বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৭,০০০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে বাংলাদেশের মত দেশে ২,৩৩,৬৬৭(দুই লক্ষ তেতত্রিশ হাজার ছয়শত সাসট্টি)টি পরিবারের স্বাস্থসম্মত বাসস্থান করা যেতো। বর্তমানে মুকেশ আম্বানি পৃথিবীর ৪র্থ সম্পদশালী ধনী।
মানুষ রাজনৈতিক জীব। প্রত্যেক মানুষের রাজনীতি করার অধিকার আছে। বর্তমান দুনিয়ায় বিজ্ঞানের আধিপত্য কোথায় নেই। খাদ্য-শস্য, জীবন যাপনের উপকরণ, অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কার, বিশ্বাস সব কিছুতেই বিজ্ঞানের আলোকে ব্যাখ্যা করার প্রবনতা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিজ্ঞানই নির্ধারণ করে কোনটি সত্য আর কোনটি মিথ্যা। বিজ্ঞান হয়ে উঠছে সভ্যতার ধারক-বাহক। অথচ যখন দেখা যায় পৃথিবীর ২০০০ সালের হিসেব অনুসারে ২২৫(দুইশত পঁচিশ) জন ধনীতম ব্যক্তির মোট সম্পদের পরিমাণ হলো আয়ের দিক থেকে নিচের দিকের ৩০০(তিনশত) কোটি মানুষের বাৎসরিক আয়ের সমান, তখন প্রশ্ন জাগে বিজ্ঞানের সর্বজনীনতা কতটুকু? ২০০৬ সালের ১১ জুলাই, বিশ্বে ৬৫৮(ছয়শত আটান্ন) কোটি মানুষ বসবাস করে। ২০০৬ সালের ৭ ডিসেম্বর, পিটিআই: বিশ্বের অর্ধেক সম্পদ দুই শতাংশ সেরা ধনীর কাছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলসিংকি ভিত্তিক বিশ্ব উন্নয়ন অর্থনীতি গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক রিপোর্টে বলা হয়, ২০০০ সালে সেরা ধনীদের এক শতাংশের মালিকানায় বিশ্বের ৪০ শতাংশ সম্পদ ছিল। ব্যক্তিগত সম্পদের উপর ব্যাপক পর্যােলাচনায় দেখা গেছে যে, ১০ শতাংশ সেরা ধনীর হাতে বিশ্বের ৮৫ শতাংশ সম্পদ রয়েছে। তুলনামূলকভাবে বিশ্বের প্রাপ্ত বয়স্ক জনসংখ্যার শেষ অর্ধেেকর কাছে রয়েছে বিশ্বের সম্পদের মাত্র এক শতাংশ। ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটি লোকের কাছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ডলার এবং জাপানে ১ লাখ ৮১ হাজার ডলার ছিল। রিপোর্টে বলা হয়, বিশ্বের সেরা ধনীরা বাস করেন উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং ধনী এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোতে। ২০০৭ সালের ১০ মার্চ, ইনকিলাব ডেস্ক: ভারত ও চীনে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা দ্বিগুণ। বিল গেটস এখনো বিশ্বের সেরা ধনী। সূত্র: এপি, এএফপি, রয়টার্স, বিবিসি। বিল গেটস পর পর ১৩ বছর ধরে ধনীদের মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে ছিলেন। তার সম্পদের পরিমাণ হচ্ছে ৫ হাজার ৯শ' কোটি ডলার। বিল গেটস-এর দৈনিক আয় হচ্ছে-১(এক) কোটি ৯২(বিরানব্বই) লক্ষ ডলার। ২০০৭ সালের ৪ জুলাই, ফরবস ম্যাগাজিনের তালিকায় এবার মাইক্রোসফটের কর্ণধার বিল গেটসকে টপকিয়ে লেবানিজ বংশদ্বূত মেক্সিকোর অভিবাসী কার্লোস স্লিম হেলুর সম্পদের পরিমান ৬০.৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ধনীদের মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন। তারপর লেবানিজ বংশদ্ভূত মেক্সিকোর অভিবাসী কার্লোস স্লিম হেলুকে টপকিয়ে মাইক্রোসফটের কর্ণধার বিল গেটস আবার সেরা ধনীর তালিকায়। ১৯৮৭ সালে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ছিল-৯৮ জন, তা থেকে বেড়ে ২০০০ সালে ছিল-২২৩ জন এবং ২০০৭ সালের ১৮ মার্চ-বিশ্বে এখন রেকর্ড সংখ্যক-৯৪৬ জন বিলিয়নিয়ার রয়েছেন। এটা গত বছরের তুলনায় ১৫০ জন বেশী। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাগাজিন ফোরবস-এর তালিকায় দেখা গেছে ভারত ও চীনে শত কোটিপতি বিলিয়নিয়ারদের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ৪র্থ স্থান দখলকারী মিত্তালের সম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার ৬শ' কোটি অর্থাৎ ৩৬ বিলিয়ন ডলার। তৃতীয় স্থান দখলকারী চীনের কাগজ উৎপাদনকারী ইয়ান চেউং এবং হংকং-এর সম্পদশালী লি কা-শিং-এর সম্পদ মেলালে তা ৪ হাজার ১শ' কোটি অর্থাৎ ৪১ বিলিয়ন ডলার। ২০০৮ সালের ৭ মার্চ-বিশ্বে এখন ১,১২৫ জন বিলিয়নিয়ার আছে। গত বছরের তুলনায় ১৫৯ জন বেশী। ২০০৮ সালে বিল গেটসকে টপকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পল ওয়ারেন বাফেট বিশ্বের সেরা ধনী এবং তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৬২০০ কোটি ডলার। লেবানিজ বংশদ্বূত মেস্কিকোর অভিবাসী কার্লোস স্লিম হেলু (২য় স্থান) এবং তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৬,০০০ কোটি ডলার, বিল গেটস(৩য় স্থান) এবং তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৫,৮০০ কোটি ডলার, ৪র্থ স্থান দখলকারী ভারতীয় বংশদ্ভূত লক্ষ্ণী মিত্তালের সম্পদের পরিমাণ ৪,৫০০ কোটি ডলার, ভারতের মুকেশ আম্বানি(৫ম স্থান) তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৪,৩০০ কোটি ডলার। ২০০৭ সালে আমেরিকায় ধনেকুবেরের সংখ্যা ছিল-৪১৫ জন এবং ২০০৮ সালে তা থেকে হয়েছে-৪৬৯ জন। দ্রব্য উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা আর ডলারের তুলনামূলক দুর্বলতার কারণে বিলিয়নিয়ার-এর সংখ্যায় এ বৃদ্ধি ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাগাজিন ফোরবস-এর তালিকায় দেখা গেছে ভারত ও চীনে শত কোটিপতি বিলিয়নিয়ারদের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ২০০৭ সালে ভারতের ৩৬ জন বিলিয়নিয়ার ছিল, আর ২০০৮-এ ৫৩ জন তালিকাভুক্ত হওয়ায় গত দু'দশকে এ প্রথম এশিয়ার কোন দেশ জাপানকে টপকে গেল। এশিয়ার শীর্ষ ধনী ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন ভারতীয় লক্ষ্ণী মিত্তাল। ফোরবস বলেন, ''মানব ইতিহাসে এটা সবচেয়ে ধনাঢ্য তালিকা। এদের হাতে পুঞ্জীভূত সম্পদের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলার হয়েছে। ২০০৮ সালের ২৭ জুন, সমকাল পত্রিকার রিপোর্টঃ বিশ্বে ১(এক) কোটি ১০(দশ) লক্ষ কোটিপতি আছে-যার সম্পদের পরিমাণ-১(এক) কোটি ডলারের উপরে। এরমধ্যে চীনে-৪(চার) লক্ষ ২২(বাইশ) হাজার, ব্রাজিলে-১(এক) লক্ষ ৩০(ত্রিশ) হাজার ও ভারতে-১(এক) লক্ষ ২৭(সাতাশ) হাজার। ২০১০ সালে বিল গেটসকে টপকে বিশ্বের শীর্ষ ধনী কার্লোস স্লিম-এর সম্পদের পরিমাণ ৫,৩৫০ কোটি ডলার। বিল গেটস দ্বিতীয় তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৫,৩০০ কোটি ডলার, তৃতীয় যুক্তরাষ্ট্রের পল ওয়ারেন বাফেটের সম্পদের পরিমাণ ৪,৭০০ কোটি ডলার, ভারতের খনিজ তেল-গ্যাস কোম্পানি ও রিলায়েন্স গ্রুপের মুকেশ আম্বানি (৪র্থ স্থান) তাঁর সম্পদের পরিমাণ ২,৯০০ কোটি ডলার ও বিশ্বের সবচেয়ে লৌহশিল্পের প্রতিষ্ঠান (৫ম স্থান) দখলকারী ভারতীয় বংশদ্ভূত লক্ষ্ণীনিবাস মিত্তালের সম্পদের পরিমাণ ২,৮৫০ কোটি ডলার। এ বছর ফোর্বস-এর তালিকায় ৯৭ জন নতুন ধনীর ৬২ জনই এশীয় এবং তাঁরা বেশির ভাগই চীনের নাগরিক। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে এত বেশিসংখ্যক বিলিয়নিয়ারের উত্থান এ বছরই প্রথম।