২০০৩ সালের ২৩ ডিসেম্বরের সংবাদ অনুসারে: প্রতি বছর নদীগর্ভে বিলীন হয় ১০ হাজার হেক্টর জমি।। নিঃস্ব ও গৃহহীন হয় ৬০ হাজার মানুষ।
২০০৪ সালের ২৪ মে, চাঁদপুরে ঝড়ের কবলে উল্টে গেছে যাত্রীবাহী লঞ্চ: তলা কেটে ৭ জনকে জীবিত উদ্ধার: ডুবে গেছে আরেক লঞ্চ 'দিগন্ত'। দুই শতাধিক যাত্রীর মৃত্যুর আশঙ্কা।
২০০৪ সালের ২৫ মে, বি.এম. হান্নান, চাঁদপুর থেকে: চাঁদপুরে গত ১০ বছরে লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহত দেড় হাজার এবং নিখোঁজ হয়েছে সহস্রাধিক।
২০০৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর, চট্টগ্রামে বরযাত্রীবাহী মিনিবাস-ট্রাক সংঘর্ষ। নিহত ২৫ জন: আহত ৫০ জন।
২০০৫ সালের ১৫ জানুয়ারি, স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতি বছর ৪(চার) হাজার মানুষ প্রাণ হারায়, ৭.৫(সাড়ে সাত হাজার) মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করে এবং ১৫(পনর) হাজার কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট হয়।
২০০৫ সালের ২৮ এপ্রিল, আবদুল গাফফার মাহমুদ: বাংলাদেশে বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়-১০(দশ) হাজার মানুষের। আর্থিক ক্ষতি হয় ৪(চার) হাজার কোটি টাকা। ২০০০ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ৫-বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৬,১৯৪(ষোল হাজার একশত চুরানব্বই) জনের মৃত্যুর রেকর্ড সংশিস্নষ্ট সরকারী দফতরে রয়েছে। এ সময়ে আহত হয়েছে ১১,৭৫৭ জন।
২০০৫ সালের ১২ মে'র প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট: ঢাকা মহানগরীতে ৪৭টি রুটে ৩,৯৪১টি বাস-মিনিবাস চলাচল করে। এ ছাড়া শহরতলির বাইরের ১৫টি রুটে ৮২৯টি বাস-মিনিবাস চলাচল করে।
২০০৫ সালের ২৩ মে, প্রথম আলোর রিপোর্ট: নৌদুর্ঘটনা রোধ হচ্ছে না লাশ উদ্ধারেও ব্যর্থতা-বাংলাদেশে লঞ্চ দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার যাত্রী নিহত হয়েছেন। বিএনপির নেতৃত্বাধীনে বর্তমান চারদলীয় জোট সরকারের সাড়ে তিন বছরেই ৩ হাজারের বেশি লোক নিহত হয়েছেন।
২০০৬ সালের ২২ জানুয়ারি, উমর ফারুক আলহাদী: সারা দেশে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা গত ৫ বছরে ২০ হাজারের বেশী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৫ হাজার এবং আহত হয়েছেন প্রায় ৩০ হাজারের বেশী। মাত্র সাড়ে ৩-হাজার মামলা হয়েছে। ৮২ ভাগ মামলা আলোর মুখ দেখেনি। দুর্বল ধারার মামলা। অপরাধীদের সাজা হয় না। ভিকটিম ক্ষতি পূরণের কানাকড়িও পায় না।
২০০৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি, সংসদ রিপোর্টার: রাজধানীতে ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৭৮টি গাড়ীর ফিটনেস নেই-যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা।
২০০৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি, এম. আবদুল্লাঃ এক দশকে ২৫টি ভবন দুর্ঘটনায় মারা গেছে দেড় শতাধিক। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন কয়টি তা কেউ জানে না ধসে পড়লেই সাময়িক তোড়জোড়।
২০০৬ সালের ২০ জুলাই, নিউইয়র্ক থেকে এনা: নিউইয়র্কে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত-বাংলাদেশী শিশু ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে ৪৬ কোটি টাকা। ভারতীয় এক মহিলা র্কতৃক গাড়ী দুর্ঘটনায় আহত বাংলাদেশী শিশু মোহাম্মদ ইমতিয়াজউদ্দিন(১১)।
২০০৭ সালের ৭ জানুয়ারি, ইনকিলাব ডেস্ক: কুমিল্লায় বাস উল্টে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মহিলা ও শিশুসহ নিহত-৭০ জন।
২০০৭ সালের ৯ জুন, নূরুল ইসলাম: ঝুঁকি নিয়ে চলছে ফিটনেসবিহীন ছয় হাজার যাত্রীবাহী লঞ্চ। যে কোন মুহূর্তে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।
২০০৭ সালের ১২ জুলাই, ময়মনসিংহ আঞ্চলিক অফিস-ময়মনসিংহে ট্রেনের নীচে লাফিয়ে পড়ে একই পরিবারের ১০ জনের গণআত্মহত্যা।
২০০৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি, গতকাল ২৮-০২-২০০৮ তারিখ বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবি। ০২-০৩-২০০৮ তারিখ পর্যন্ত ৪৬ লাশ উদ্ধার।
২০০৮ সালের ২১ এপ্রিল, ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক। ১০ বছরে দুর্ঘটনায় নিহত দেড় হাজার, দুর্ঘটনা রোধে পুলিশের কর্মসূচী শুরু।
২০০৮ সালের ১৪ মে, নিকলীতে দেড়'শ যাত্রী নিয়ে লঞ্চডুবির ঘটনায় লাশ পাওয়া গেল ৪৪টি। নিকলীতে ৩৯ লাশ উদ্ধার, অভিযান পরিত্যক্ত।
২০০৮ সালের ১২ জুলাই, সারা দেশে লঞ্চ রুটের সংখ্যা দুই শতাধিক। সদরঘাট থেকে লঞ্চ ছেড়ে যায় ১০৫টি, আসে ১০৫টি।
২০০৮ সালের ৭ নভেম্বর, সেমিনারে তথ্য প্রকাশ: প্রতিবছর সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়।
২০০৮ সালের ৯ নভেম্বর, পুলিশের আইজি নূর মোহাম্মদ বলেন-গত বছর সড়ক দুঘটনায় মারা গেছে প্রায় ৪ হাজার মানুষ এবং ক্ষতি ৪ হাজার কোটি টাকা।
২০০৯ সালের ২ জানুয়ারি, প্রথম আলো: ২০০৮ সালে ১,৭৯৩ জন শ্রমিক বিভিন্ন দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন এবং ২,৬৮৪ জন আহত হয়েছেন।
২০০৯ সালের ২৬ এপ্রিল, প্রথম আলো: নরসিংদীর শিবপুরের এ মহাসড়ক এখন যেন মৃত্যুফাঁদ। প্রতিনিয়তই এখানে ঘটছে দুর্ঘটনা। নরসিংদীতে এক কিলোমিটার অংশ যেন মৃত্যুফাঁদ। মহাসড়ক পার হতে দেড় বছরে প্রাণ গেছে এক কারখানার ২৭ শ্রমিকের।
২০০৯ সালের ৯ মে, প্রথম আলো: চট্টগ্রাম বন্দরে স্বাধীনতার পর থেকে গতকাল পর্যন্ত ছোট-বড় মোট ৩১টি জাহাজডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ পর্যন্ত ১৩টি জাহাজ কিংবা জাহাজের ধবংশাবশেষ তুলে আনা সম্ভব হয়। বাকি ১৮টি জাহাজ এখনো পানির নিচে।
২০০৯ মালের ১৮ জুন, প্রথম আলো: বিকেল পাঁচটার সময় মগবাজার রেললাইনের ওপর বাসটি আটকে যায় এবং যাত্রীরা তারাতারি করে বাস থেকে নেমে যায়। লাইনে উঠে পড়া বাসকে উড়িয়ে চার গাড়ির ওপর ফেলল ট্রেন বাসটিকে।
২০০৯ সালের ১১ আগষ্ট, প্রথম আলো: সামান্য চেষ্টায় ২৫% সড়ক দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব। বছরে মারা যায় চার হাজার লোক।
২০০৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর, প্রথম আলো: ৪০০ লঞ্চের নকশার ত্রুটি খুঁজতেই লাগবে ১৮ কোটি টাকা।
২০০৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর, প্রথম আলো: দেশে প্রায় ২১ হাজার কিলোমিটার সড়কের মধ্যে চার হাজার সাত কিলোমিটার সড়ককে জাতীয় সড়ক ও মহাসড়ক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এসব সড়কের নিরাপত্তা দেখভালের জন্য চারদলীয় জোট সরকারের আমলে পৃথক হাইওয়ে পুলিশ করা হয়।
২০০৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর, প্রথম আলো: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাব অনুযায়ী, সারা দেশে যানবাহনের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১২ লাখ। বৈধ চালক আট লাখ। শ্রমিক ইউনিয়নের তালিকা ধরে লাইসেন্স দেওয়া হয়।
২০১০ সালের ২ জানুয়ারি, প্রথম আলো: গাছে ধাক্কা খেয়ে কয়েক টুকরো হয়ে গেল বাস, নিহত ১৭ জন।
২০১০ সালের ৩১ মার্চ, প্রথম আলো: কমলাপুর-জয়দেবপুর-নারায়নগঞ্জ। ট্রেনে কাটা পড়ে এক বছরে ৩০০ মৃত্যু।
২০০৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর, ইউরোপে দুই হাজার ১৭২ পুরোনো ও বিষাক্ত জাহাজ। প্রধান ক্রেতা বাংলাদেশ। কার্বন নিঃসরণ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে ২০১২ সালের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো তাদের দুই হাজার ১৭২টি মেয়াদোত্তীর্ণ ও বিষাক্ত জাহাজ বিক্রি করে দেবে। ২০ বছরে ৪০০ শ্রমিকের মৃত্যু। শিপইয়ার্ড বিধিমালা হয়নি।
২০১০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো: সড়ক দুর্ঘটনায় শুধু ঢাকা শহরেই এক বছরে ৩২৪ জনের মৃত্যু। এক বছরে ৬১৭ মামালা, সাজা পায়নি কেউই।
২০১০ সালের ১৬ মে, প্রথম আলো: চালকদের সচেতনতা বাড়াতে সম্মেলন। সারা দেশে দৈনিক গড়ে ১৪ জন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে। বছরে ৫,১১০ জন মারা যান।
২০১০ সালের ৩ জুন, প্রথম আলো: বাসচালক ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ১৬ প্রাণের মৃত্যু।
২০১০ সালের ২০ মে, প্রথম আলো: কিশোরগঞ্জে চলছে ৫০০ নিবন্ধনহীন ট্রলার। গত পাঁচ বছরে হাওরে সতাধিক ট্রলারডুবিতে পাঁচ শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
২০১০ সালের ১৬ জুন, প্রথম আলো: পাহাড়ধসে ৫৪ জনের মৃত্যু। পাঁচ সেনাসদস্যোর লাশ উদ্ধার, নিখোজ ১। ঘটনাস্থল কক্সবাজারের কয়েকটি স্থান ও নাইক্ষ্যংছড়ি।
২০১০ সালের ১৯ জুন, প্রথম আলো: জরিপের তথ্য: শুধু ২০০৯ সালেই ঢাকা শহরে এক হাজার ৩৮৪টি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।
২০১০ সালের ৩ আগষ্ট, প্রথম আলো: সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ৫০ জন মানুষ মারা যায়। সম্পদের ক্ষতি হয় বছরে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা।
২০১০ সালের ২ অক্টোবর, প্রথম আলো: দুর্ঘটনা-সক্রান্ত গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এআরআইয়ের গবেষণা প্রতিবেদন। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবছর ১২,০০০ হাজার মানুষ নিহত হয়। নিহত ৮০ শতাংশের বয়স পাঁচ থেকে ৪৫ বছর। নিহত ব্যক্তিদের ৫৩ শতাংশই পথচারী, যাদের ২১ শতাংশের বয়স ১৬ বছরের নিচে।
২০১০ সালের ৯ ডিসেম্বর, প্রথম আলো: সংকেত অমান্য, দুই ট্রেনের সংঘর্ষ। নরসিংদীতে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় দুই চালকসহ অন্তত ১৩ জন নিহত, আহত কমপক্ষে ১৫০ জন।
২০১০ সালের ১৯ ডিসেম্বর, প্রথম আলো: সুনামগঞ্জে নৌ-দুর্ঘটনায় ৩৭ জনের মৃত্যু।
২০১১ সালের ১৬ জানুয়ারি, প্রথম আলো: নরসিংদীতে মর্মািন্তক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, এক উপপরিদর্শকসহ পুলিশের ১০ জন সদস্য নিহত হয়েছেন।
২০১১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো: ৬১ ভাগ সড়কই নাজুক। মানে ৫৫ হাজার কিলোমিটার সড়ক নষ্ট। আমার এলাকার রাস্তাও খারাপ। আমরা পর্যাপ্ত বরাদ্দ পাইনি। তবে ছয় মাসের মধ্যে সর রাস্তা মেরামত হয়ে যাবে: যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন। সারা দেশে পাকা সড়ক আছে ৯০ হাজার ২১০ কিলোমিটার। এর মধ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) অধীন ১৮ হাজার ২১০ কিলোমিটার এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ৭২ হাজার কিলোমিটার। রাজধানী ঢাকার অবস্থা আরও খারাপ। রাজধানীতে এক হাজার ৮৩৫ কিলোমিটার সড়ক আছে।
২০১১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো: গত দুই বছরে সড়ক উন্নয়নে কোনো কাজ হয়নি। তোফায়েলের বক্তব্যকে সমর্থন জানাল সংসদ।
২০১১ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো: দেশে প্রতিদিন গড়ে ৩০ জন সড়ক দুর্ঘনায় মারা যাচ্ছে। বছরে ক্ষতি হয় সাত হাজার কোটি টাকার মতো। দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব হলে তিন বছরের ক্ষতির টাকা দিয়েই একটি পদ্মা সেতু তৈরি করা সম্ভব।
২০১১ সালের ২২ এপ্রিল, প্রথম আলো: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল মেঘনা নদীর মোহনায় লঞ্চডুবিতে ২৮ জনের মৃত্যু।
২০১১ সালের ১৭ জুলাই, দৈনিক জনকন্ঠ: প্রতিবছর দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে ১২ হাজার মানুষ।
২০১১ সালের ১৯ আগষ্ট, প্রথম আলো: পরীক্ষা ছাড়া লাইসেন্স পেয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার চালক। এবার আরও ২৮ হাজারের জন্য আবেদন করেছেন নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান।
২০১১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর, প্রথম আলো: গত ১০ বছরে ৫৩,০৩৩ সড়ক দুর্ঘটনা। নিহত-২৭,৫৯৫ জন, আহত-২৫,৪৩৮ জন।
২০১১ সালের ৬ নভেম্বর, প্রথম আলো: ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে ৮ জনের মৃত্যু।
২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি, প্রথম আলো: চট্টগ্রামে বিআরটিএর সেমিনার-সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে মারা যায় নয় হাজার মানুষ।
২০১১ সালের ২৯ জুলাই, প্রথম আলো: বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ২৬ জন।
২০১১ সালের ১২ জুলাই, দৈনিক জনকন্ঠ: চট্টগ্রামের মীরেরসরাইতে ট্রাক উল্টে ৪৪ শিশু-কিশোরের মৃত্যু, আহত ২০। ফুটবল খেলাশেষে বাড়ি ফেরার পথে এ ঘটনা। স্মরণকালের ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা।
২০১১ সালের ২৮ নভেম্বর, প্রথম আলো: সংসদে প্রশ্নোত্তরে যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন জানান-সড়ক মুর্ঘটনায় ২০০৯ সাল থেকে ২০১১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে সাত হাজার ৭৪৪ জন নিহত হয়েছে। এ সময়ে সড়ক দুঘটনা হয়েছে প্রায় সাড়ে আট হাজার।
২০১১ সালের ৯ ডিসেম্বর, প্রথম আলো: চট্টগ্রামের মীরেরসরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৪ জন ছাত্রছাত্রী মৃত্যুর ঘটনায় ট্রাকচালক মফিজের পাঁচ বছর কারাদন্ড।
২০১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর, প্রথম আলো:সিলেটে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষ, ঝরে গেল নয়টি প্রাণ। সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে।
২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি, দৈনিক জনকন্ঠ: রাজধানীতে ৫১ মৃত্যু ফাঁদ, দাবঢ়ে বেড়াচ্ছে এক লাখ অবৈধ চালক। সারাদেশে ২০৯টি এসব স্পটেই ঘটছে বেশিরভাগ সড়ক দুর্ঘটনা। মুহূর্তেই নিভে যাচ্ছে মানুষের জীবন প্রদীপ। পুঙ্গুত্ব বরণ করছেন অনেকে।
২০১২ সালের ১৫ জানুয়ারি, প্রথম আলো: রাস্তায় সোয়া লাখ অনুপযুক্ত যান। রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার দুর্ভোগ বাড়ছে। ক্ষতি ৩২০ কোটি টাকা। বছরে চার ধরনের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত সরকার। দুর্ঘটনা, দুর্ভোগ শুধু বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় পাঁচ বছরে ছোট-বড় ১৫৯টি দুর্ঘটনা ঘটে। মারা যায় ৬২৪ জন। বিআরটিএর হিসাব-দেশে বাণিজ্যিক যানের সংখ্যা সাড়ে পাঁচ লাখ। এর এক লাখ অনুপযুক্ত। মোট বাণিজ্যিক যানের ১৮% অনুপযুক্ত। যোগাযোগমন্ত্রী বলেন-১০টি স্থানে উপস্থিত থেকে যানবাহন পরীক্ষা করেছি। এর মধ্যে ৮০% অনুপযুক্ত ও কাগজপত্র ভুয়া।
২০১২ সালের ১৫ জানুয়ারি, প্রথম আলো: পাহাড়ি সড়ক থেকে গভীর খাদে বাস, নিহত ১৭ জন।
২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি, দৈনিক জনকন্ঠ: সেমিনারে বক্তারা: সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবছর আর্থিক ক্ষতি বিশ হাজার কোটি টাকা।
২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো: পরিবহন খাতের ৯৩২ সংগঠনের মধ্যে ৬৮৬টিই অবৈধ।
২০১২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, দৈনিক জনকন্ঠ: সিলেটে অটোরিকস্া-ট্রাক সংঘর্ষে পিতাপুত্রসহ নিহত ৬ জন।
২০১২ সালের ১৪ মার্চ, প্রথম আলো: মেঘনায় লাশের সারি। লঞ্চডুবি, ৩৬ লাশ উদ্ধার, নিখোঁজ দুই শতাধিক। শরীয়তপুর থেকে ঢাকাগামী শরীয়তপুর-১ লঞ্চটি গতকাল মুন্সিগঞ্জের চররমজান বেগ এলাকায় মেঘনা নদীতে মালবাহী জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডুবে যায়।
২০১২ সালের ২ এপ্রিল, প্রথম আলো: ১৯৭৬ সালে অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল অধ্যাদেশ (আইএসও) প্রণীত হয়। দেশে ওই সময় থেকেই নৌ-দুর্ঘটনার বিষয়ে হিসাব রাখার ব্যবস্থা হয়। অধিদপ্তর তখন থেকে মোট ২১টি পরিসংখ্যান পুস্তক বের করেছে। পরিসংখ্যান ও বাস্তবের ফারাক: সরকারি পরিসংখ্যাসংক্রান্ত প্রকাশনা থেকে জানা যায়, ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সাত বছরে লঞ্চ দুর্ঘটনা ঘটে ২৮৫টি। এর মধ্যে ২০০৩ সালে ৩১টি দুর্ঘটনায় মারা যায় ৪৬৪ জন, ২০০৪ সালে ৪১টি দুর্ঘটনায় ২৮৪ জন, ২০০৬ সালে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৫১ জন, ২০০৭ সালে ১১টি দুর্ঘটনায় মারা যায় ২ জন, ২০০৮ সালে ২২টি দুর্ঘটনায় মারা যায় ১২০ জন, ২০০৯ সালে ৩৪টি দুর্ঘটনায় মারা যায় ২৬০ জন, এবং ২০১০ সালে ২৮টি দুর্ঘটনায় মারা যায় ৫৪ জন। মৃতের সংখ্যা এক হাজার ২৩৫ জন। এতে বলা হয়, ওই সব দুর্ঘটনায় আহত ৩৫৫ এবং নিখোঁজ ২৪১ জন। বাস্তবে ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ১১ বছরে লঞ্চ দুর্ঘটনায় মারা গেছে চার হাজার ৩২২ জন যাত্রী। এর মধ্যে ২০০০ সালে প্রাণ হারায় ৪৩৯ জন। ওই বছরের ২৯ ডিসেম্বর ঈদুল আজহার রাতে চাঁদপুরের মতলবে এমভি জলকপোত ও এমভি রাজহংসীর মধ্যে সংঘর্ষে মারা যায় ৩০২ জন যাত্রী। লঞ্চ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হিসাবে বিরাট অসঙ্গতি।
২০১২ সালের ১৬ এপ্রিল, দৈনিক জনকন্ঠ: এগারো জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২১ জন এবং আহত ৭০ জন।
২০১২ সালের ২৭ মে, দৈনিক জনকন্ঠ: নয় লাখ ভুয়া চালকের হাতে স্টিয়ারিং, বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। সারাদেশে ১০ দুর্ঘটনায় নিহত ৫, আহত ১৩ জন।
২০১২ সালের ৩১ মে, প্রথম আলো: বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষ। একই পরিবারের ৯ জন ঝরে গেল ১২ প্রাণ। রাজধানীর অদূরে কেরানীগঞ্জের কদমপুর এলাকায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩০-০৫-২০১২ তারিখ ১২ জন নিহত হয়েছেন।
২০১২ সালের ৬ অক্টোবর, প্রথম আলো: ঢাকা-সিলেট রোডে সকার ৭টার দিকে সিলেটের অংশে বাস ও মাইক্রোবাসের মধ্যে সংঘর্ষে একই পরিবারের ৮ জনসহ ১৩ জন মাইক্রোবাসের যাত্রী মারা যান। বাসের একজনও মারা যাননি। বাস ড্রাইবার রংদিকে বাস চালাইতেছিল। যেমন বাস ড্রাইভার তার বামদিকে আসবে, তা না করে সে তার ডান দিকে বাস চালাইতে ছিল।
২০১৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি, প্রথম আলো: ০২-০২-২০১৩ তারিখ মানিকগঞ্জে বাস-টেম্পোর মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৭ জন।
২০১৩ সালের ১৭ মার্চ, প্রথম আলো: গতকাল দুপুরে ১৬-০৩-২০১৩ তারিখ কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার নাথেরপেটুয়া এলাকায় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট স্কুলভ্যান। আট শিশু হারিয়ে স্তব্ধ হাতিমারা গ্রাম।