১৮০৩ সালে মনিরউদ্দিন মোল্লার জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। মোসলেমউদ্দিনের জন্ম-১৮৩২ সালে, মৃত্যু-জানা নেই। (মনিরউদ্দিন মোল্লা তাঁর দুই ছেলে (১) মোসলেমউদ্দিন ও (২) ফসিউদ্দিনকে নিয়ে মুরাদনগর থানার আলীপুর গ্রাম থেকে ভেলানগর গ্রামে আসে প্রায় ১৫০ বছর পূর্বে এসে বসতি স্থাপন করে।) তার ছেলে ১৮৩২ সালে মোসলেমউদ্দিনের জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। তার ছেলে ১৮৬৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার ভেলানগর দক্ষিণপাড়াতে কলিমউদ্দিনের জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। তার ছেলে ১৮৯১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার ভেলানগর দক্ষিণপাড়াতে মৌলভী সাফি উদ্দীনের জন্ম, ঢাকায় মৃত্যু-১৯৬৯ সালে। ১৯২০ সালে ভাষা বিজ্ঞানী ও অধ্যাপক মহি-উদ-দীন আহমদ(জহর মিয়ার) জন্ম, মৃত্যু-১৩-১২-১৯৯৬ তারিখ। অধ্যাপক মহি-উদ-দীন আহমদ ঢাকা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯২৭ সালের ডিসেম্বরে, মুস-লেহ-উদ-দীন আহমদ(মানিক মিয়ার) জন্ম, মৃত্যু-১০-০৯-২০১২ তারিখ। মানিক মিয়া সাবেক সচিব, রাষ্ট্রদূত ও প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৩১ সালে মেসবাহ উদ-দীন আহমদ(মতি মিয়ার) জন্ম, মৃত্যু-২৩-১২-১৯৯৫ তারিখ। মতি মিঞা প্রেসিডেন্সী প্রেসের মালিক ছিলেন। জহর মিয়ার ছেলেদের নামগুলো-(১) শামীম আহমদ (২) ফরহাদ ও (৩) নাফিজ ইমতিয়াজ। শামীমের মেয়েসহ। তাঁদের ৭(সাত) পুরুষের বংশ লতিকা।
১৮১০ সালে মানিকগঞ্জ জেলায় কালু শাহ ফকিরের জন্ম, মৃত্যু-১৯০৬ সালে।
১৮১০ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মায়ারামপুর গ্রামে আওয়ালী হাজীর জন্ম, মৃত্যু-১৮৮০ সালে। উনি ১৮৬০ সালে হজ পালন করেন এবং বাঞ্ছারামপুর থানার প্রথম হাজী। আওয়ালী হাজীর পরিচয় হলো মায়ারামপুর গ্রামের আফতাবউদ্দিন ভাইয়ের দাদার দাদা।
১৮১৫ সালে নবীনগর উজেলার পেয়ারাকান্দি গ্রামের কাজী মোহাম্মদ কাজেম আলীর জন্ম, মৃত্যু-১৮....।(উনি ফরিদপুর জেলা কারাগারের কারাধ্যক্ষ হয়েছিলেন। উনি সাব-রেজিষ্ট্রার আজিজুল ইসলাম, নবাব সিরাজুল ইসলাম ও মওলানা মাজেদুল ইসলাম সাহেবদের বাবা)। ১৮৪২ সালে নবীনগর উপজেলার পেয়ারাকান্দি গ্রামের কাজী বাড়িতে নবাব সিরাজুল ইসলামের জন্ম, মৃত্যু-১৯২৩ সালে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ঢাকা কলেজ হতে নবাব সিরাজুল ইসলাম ১৮৬৮ সালে বি.এ. পাশ করেন (কুমিল্লা জেলার প্রথম গ্রাজুয়েট) এবং কিছুকাল তিনি পোগোজ হাই স্কুলে প্রধান শিক্ষক পদে নিযুক্ত থাকেন। পরে তিনি ব্রিটিশ সরকারের অধীনে ডিপুটি ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত হন। ডিপুটি ম্যাজিস্ট্রেট-এর চাকুরী চলে যাবার পর কলকাতা আইন কলেজ থেকে আইন পাশ করে কলকাতা হাইকোর্টের ইংরেজী শিক্ষিত প্রথম মুসলমান এডভোকেট ছিলেন। সিরাজুল ইসলাম ১৯০৬ সালে নবাব উপাধি পান। নবাব সিরাজুল ইসলামের বড় ছেলে খান বাহাদুর আমিনুল ইসলামও ডিপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। আমিনুল ইসলামের জন্ম-১৮৭০ সালে এবং মৃত্যু-১৯২৮ সালে। নবাব সিরাজুল ইসলামের মেঝো ছেলে মাহমুদুল ইসলাম এন্ট্রান্স পাশ করার পরই কলকাতা করপোরেশনের 'এসেসর'-এর পদ লাভ করেন। পরে তিনি সাব-রেজিস্ট্রার হয়েছিলেন। উনার জন্ম ১৮৭২ সালে, মৃত্যু-১৯১৫ সালে। মরহুম নবাব সিরাজুল ইসলাম হলো বাঙ্গালী মুসলমানের মধ্যে প্রথম ডিপুটি ম্যাজিস্ট্রেট মরহুম মোঃ মিজানুর রহমান (বাড়ি-বাঞ্ছারামপুর থানার মরিচাকান্দি গ্রামে)-এর দাদা শ্বশুর। নবাব সিরাজুল ইসলামের ছোট ছেলে ১৮৭৫ সালে খান বাহাদুর ওয়ালিউল ইসলামের জন্ম, ঢাকাতে মৃত্যু-১৫-০২-১৯৫৮ তারিখ। মোঃ মিজানুর রহমানের শ্বশুর খান বাহাদুর ওয়ালিউল ইসলামও ডিপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট ছিলেন।
১৮১৭ সালে বরিশাল জেলায় কাজী আকরাম আলীর জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। ১৮৪৩ সালে তাঁর ছেলে কাজী মুহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর, তাঁর ছেলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক(বাকেরগঞ্জের সাতুরিয়া গ্রামে তাঁর মামার বাড়ীতে) জন্মগ্রহণ করেন, মৃত্যু-২৭-০৪-১৯৬২ তারিখ। চাখারে তিনি একটি একতলা ইটের বাংলো বাড়ীতে তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। তিনি ১৯৩৭ সালে বাংলার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।
১৮১৯ সালে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর, ঢাকা কালীচরণ তর্কালঙ্কারের জন্ম, মৃত্যু-ঢাকায়-১৮৯২ সালে। তিনি বিক্রমপুরে ব্যাকরণ, পদার্থ ও স্মৃতি পাঠ। নবদ্বীপে ব্রজনাথ বিদ্যারত্নের শিষ্যত্ব গ্রহণ করে তাঁর কাছে সাত বছর স্মৃতিশাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। অতঃপর 'তর্কালঙ্কার' উপাধি লাভ করেন। ঢাকায় ফিরে চতুস্পঠী স্থাপন করেন। বিক্রমপুরে বহু পন্ডিত তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ।
১৮২৩ সালে বিক্রমপুর, কনকসার গ্রামে সূর্যকুমার গুডিভ চক্রবর্তীর জন্ম, মৃত্যু-লন্ডনে-২৯-০৯-১৮৭৪ তারিখ। তিনি ১৮৪৩ সালে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, অতপর কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি এবং ১৮৪৫ সালে তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নকালে সরকারি বৃত্তি পেয়ে চিকিৎসা শাস্ত্র অধ্যয়নের জন্য বিলেত গমন (১৮৪৫ সালে)। ১৮৫০ সালে এম.ডি. ডিগ্রি লাভ। একই বছর খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ। তাঁর শিক্ষকের নামানুসারে গুডিভ নাম ধারণ ও এক ইংরেজ মহিলার পানিগ্রহণ। চিকিৎসাশাস্ত্রে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার।
১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি, যশোরের সাগর দাঁড়ির দত্ত পরিবারের একমাত্র পুত্র মহাকবি ও সাহিত্যিক মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্ম এবং মৃত্যু-২৯-০৬-১৮৭৩ তারিখ কলকাতার আলীপুর হাসপাতালে। ১৮৪২ সালের ১১ নভেম্বর ছিল মধুর বিয়ের দিন। ১৮৪৮ সালে মাদ্রাজে এসে ৪৬/-টাকা বেতনে ''মাদ্রাজ মেল অর্ফান অ্যসাইলাম'' স্কুলের সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।
১৮২৪ সালে মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার মালখানগর গ্রামে লেখক, সাংবাদিক গিরিশচন্দ্র বসুর জন্ম, মৃত্যুর-তারিখ জানা নেই।
১৮২৫ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী খানেপাড়াতে শ্রী বৃন্দাবন সাহার জন্ম, মৃত্যু-১৯০৯ সালে(বৃন্দাবন সাহার বাবা এবং দাদার নাম পাওয়া যায়নি)। তাঁর বড় ছেলে(১) ১৮৫০ সালে শ্রী রামকুমার সাহার জন্ম-মারা গেছেন ১৯২৭ সালে। তাঁর ছেলে (১) ১৮৭৫ সালে শ্রী হরিমোহন রায়ের জন্ম, মারা গেছেন ১৯৪২ সালে। তাঁর ছেলে (১) ১৯০৩ সালে শ্রী হিরালাল রায়ের জন্ম, মারা গেছেন-১৯৬৭ সালে। তার ছেলে-(১) ১৯৪০ সালে শ্রী শীতারাম লাল রায়ের জন্ম। কলকাতা চলে গেছে। (২) ১৮৫৮ সালে শ্রী তীর্থবাসী সাহার জন্ম, মারা গেছেন ১৯৩০ সালে। তাঁর ছেলে-(১) ১৮৮৬ সালে শ্রী মহিম চন্দ্র রায়ের জন্ম, মারা গেছেন-১৯৩২ সালে। তাঁর ছেলে-(১) ১৯২২ সালে শ্রী চিত্তরঞ্জন রায়ের জন্ম, মারা গেছেন-২৬-০৩-২০০৭ তারিখ। তাঁর ছেলে-(১) ১৯৪৭ সালে শ্রী অরবিন্দু ভূষন রায়ের জন্ম(কলকাতা থাকে)। (২) ১৯৫৩ সালে শ্রী ইন্দু ভূষন রায়ের জন্ম। (৩) শ্রী সিন্দু ভূষন রায়ের জন্ম(কলকাতা থাকে)। তীর্থবাসীর ভাই (৩) ১৮৬৩ সালে শ্রী সর্বানন্দ সাহার জন্ম, মারা গেছেন-১৯৩৩ সালে। (৪) ১৮৬৬ সালে শ্রী নিত্যানন্দ সাহার জন্ম, মারা গেছেন-১৯৩৭ সালে। (৫) ১৮৬৯ সালে শ্রী রামেশ্বর সাহার জন্ম, মারা গেছেন-১৯৪০ সালে।
১৮২৯ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার ভেলানগর গ্রামের সরকার বাড়িতে মুনশি আমির-উদ-দীন সরকারের জন্ম, মৃত্যু-১৯১৪ সালে। আমির-উদ-দীন সরকার শিক্ষিত ছিলেন। যার নামে সরকারবাড়ি প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮২৯ সালে রমজান আলী খাঁ'র জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। হাজী এ. কে. এম. ইউসুফ বলেছে যে, তাঁদের পূর্বপুরুষরা (রমজান আলী খাঁ ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থেকে বাঞ্ছারামপুর থানার বাঞ্ছারামপুর গ্রামে বসতি স্থাপন করেন)। তাঁর ছেলে ১৮৫৫ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার বাঞ্ছারামপুর গ্রামে শুকুর মাহমুদের জন্ম, মৃত্যু-১৯২৯ সালে। শুকুর মাহমুদের ছেলে আবদুল গণি মিঞার জন্ম ১৮৮৫ সালে, মৃত্যু-০৯-০৪-১৯৬৫ তারিখ। আবদুল গণি মিঞার ছেলে মোঃ নূরুল ইসলামের (তারা মিঞার) জন্ম-১৯১৮ সালে, মৃত্যু-০৩-০১-২০০০ তারিখ। তারা মিঞার ছেলে এ. কে. এম. মুসার জন্ম-১৯৬০ সালের ১৫ মার্চ। মুসার ছেলে সোয়েবের জন্ম-১৯৯০ সালের ২১ আগষ্ট।
১৮৩০ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রূপসদী গ্রামের বাসিন্দা সরফুউদ্দিনের জন্ম, মৃত্যু-১৯০১ সালে। সরফুউদ্দিন রূপসদী গ্রামে বিয়ে করেন এবং সরফুউদ্দিন তাঁর বাবার সাথে মুরাদনগর উপজেলার তোল্লাকান্দি গ্রাম হতে (সেলিম রেজার ২৫-০২-২০১২ তারিখ কথামতে) রূপসদী গ্রামে বসতি স্থাপন করেন শ্বশুরবাড়িতে। সরফুউদ্দিনের ৪(চার) ছেলের নামগুলোঃ-(১) আমির আলীর জন্ম-১৮৫৫ সালে (সরফুউদ্দিনের বড় ছেলে) (আমীর আলীর ছেলের নাম আব্বাস আলী। আব্বাস আলীর বিয়ে ঠিক হয় নবীনগর উপজেলার আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির সাদত আলী চৌধুরীর দ্বিতীয় মেয়ের সাথে। আহমদপুর চৌধুরীবাড়ির ভদ্রলোকরা যখন জানতে পারে যে-রূপসদী সরকারবাড়িতে পুকুর নেই-তখনই তাঁরা বিয়ে দিতে নারাজ। তখনই আমীর আলী সরকার ৭(সাত) দিনের মধ্যে পুকুর খনন করার পর তাঁর ছেলে আব্বাস আলীর নিকট বিয়ে দেন। তাঁর ছেলের নাম-আবদু রৌফ ওরফে লাল মিঞা মুক্তার। লাল মিঞা মুক্তারের ছেলের নাম-আবদুল মোতালেব ওরফে মিন্টু।) (২) মুনশি আবদুল কাদির মিয়ার জন্ম-১৮৫৭ সালে (৩) মুনশি আবদুল বারিক মিয়ার জন্ম-১৮৬০ ও (৪) আবদুর রহিমের জন্ম-১৮৬২ সালে। সরফুউদ্দিনের দ্বিতীয় ছেলে-১৮৫৭ সালে মুনশি আবদুল কাদির মিঞার জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। উনি আরবী, ফার্সী ও বাংলা ভাষায় লেখাপড়া জানতেন। তাঁর ছেলে-১৮৮৫ সালে রূপসদী গ্রামের সরকারবাড়িতে মুনশি আবদুর রহমানের জন্ম, মৃত্যু-১৯৫৭ সালে। ঢাকার নবাববাড়িতে থেকে পগোজ স্কুলে লেখাপড়া করতেন এবং এন্ট্রান্স পাস ছিলেন আমাকে বলেছে মো: শফিকুর রহমান। উনি তহশিলদার ছিলেন। তাঁর তৃতীয় ছেলে-১৯১৫ সালে মোঃ মাহবুবুর রহমানের (সুন্দর আলী) জন্ম, মৃত্যু-১৯৮৯ সালে। উনি চাকুরী করতেন নারায়ণগঞ্জ চিত্তরঞ্জন কটন মিলে। তাঁর বড় ছেলে-১৯৪০ সালে (প্রাক্তন উপ-সচিব) মোঃ মজিবুর রহমানের(অরুণ) জন্ম। বর্তমানে তিনি ''মাহবুবুর রহমান মেমোরিয়াল হাসপাতাল''-এর পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান। ১৯৪৯ সালে (বি.এস.টি.আই.)-এর সাবেক পরিচালক জনাব মোঃ শফিকুর রহমানের জন্ম। (মোঃ মজিবুর রহমান ও শফিকুর রহমান তারা উভয়ে আপন ভাই এবং তারা ৬(ছয়) ভাই ছিলেন এবং ছয় ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয় ভাই মো: মফিজুল ইসলাম মারা গেছেন)। শফিকুর রহমানের ছেলে মোঃ মোবাশ্বির রহমানের জন্ম-১৯৮০ সালে। তাঁদের ৬(ছয়) পুরুষের বংশ লতিকা।
১৮৩১ সালে কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার মাশুয়া গ্রামের জমিদার হরিকিশোর রায় চৌধুরীর জন্ম, মৃত্যু-১৮৯৯ সালে। তাঁর পাঁচ ছেলের নাম (১) সারদারঞ্জন রায়চৌধুরী (২) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী (৩) মুক্তিদারঞ্জন রায়চৌধুরী (৪) কুলদারঞ্জন রায়চৌধুরী ও (৫) প্রমাদারঞ্জন রায়চৌধুরী। ১৮৭০ সালে পূর্ববঙ্গে সারদারঞ্জন ও চার ভাইকে সঙ্গে নিয়ে প্রথম ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। তাঁর বয়স তখন আট/নয় বছর পড়েন কিশোরগঞ্জ মাইনর স্কুলে। সেসময় ক্রিকেট খেলত ইংরেজরাই। ক্যালকাটা ক্রিকেট ক্লাব ছিল সবচেয়ে প্রভাবশালী দল। ছাত্র-শিক্ষকরা মিলে গঠন করেন আনুমানিক ১৮৮০-এর দশকে। অখন্ড বঙ্গের প্রথম ক্রিকেট ক্লাব হিসেবে সেটি খ্যাতি অর্জন করে। ১৮৮৪ সালে কলকাতার ইডেন গার্ডেেন ক্যালকাটা প্রেসিডেন্সি ক্লাবের সঙ্গে এক খেলায় ঢাকা কলেজ জয় লাভ করেন। নেতৃত্বে ছিলেন সারদারঞ্জন রায়চৌধুরী। বাংলার ক্রিকেটের পুরোধা বা জনক ছিল, উপমহাদেশেও অগ্রদূত সারদারঞ্জন রায়চৌধুরী। ঢাকার এক স্কুল থেকে প্রবেশিকা পেরিয়ে ঢাকা কলেজ। এখানেই শুরু ক্রিকেট ও ব্যায়ামের নিয়মিত চর্চা। ছাত্র হিসেবেও সারদা ছিলেন তুখোড়। বি.এ. পরীক্ষায় তিনি ঢাকা অঞ্চলে প্রথম হন। কলকাতায় প্রেমচাঁদ বৃত্তি নিয়ে সংস্কৃত পড়তে শুরু করেছিলেন। কিন্তু তা অসমাপ্ত রেখে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। আরও পরে ফের বদলি হয়ে অধ্যাপক হিসেবে ফিরে আসেন নিজের যায়গা ঢাকা কলেজে। তিনি ঢাকা কলেজে গণিত নিয়ে মৌলিক গবেষণা শুরু করেন। কিন্তু অধ্যাপনার পাশাপাশি চলতে থাকে ক্রিকেট-উদ্যেগ। এ সময় প্রেসিডেন্সি কলেজের সঙ্গে খেলতে ঢাকা কলেজের একটি দল কলকাতা যায়। ছাত্র-শিক্ষক মেশানো সেই দলে ছিলেন তিন ভাই সারদা, কুলদা ও প্রমাদা। প্রথম খেলায় প্রেসিডেন্সি হেরে গেলে এর ছাত্ররা দল থেকে শিক্ষকদের বাদ দেওয়ার দাবি তোলেন। সারদা এতে জোরালো আপত্তি করেন। ১৮৯৫ সালে শুরু করেন বাংলার প্রথম ক্রিকেটসামগ্রীর দোকান। সে সময় বিলেতি ব্যাট ও বল পাওয়া যেত কেবল তাঁর দোকানেই। শিয়ালকোট থেকে আনা উইলো কাঠে শিক্ষার্থীেদর জন্য সস্তায় ব্যাট বানানো শুরু হয় তাঁর যশোর রোডের কারখানায়। সত্যজিৎ রায়ের নামে কলকাতায় একটি ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নাম রাখা হয়। ১৮৫৯ সালে কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার মাশুয়া গ্রামের রায় পরিবারে বাংলায় প্রথম ক্রিকেট খেলার জনক ও অধ্যাপক সারদারঞ্জন রায়চৌধুরীর জন্ম, মৃত্যু-জানা নেই। ১৮৬৩ সালের ১০ মে, কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার মাশুয়া গ্রামের রায় পরিবারে শিশু সাহিত্যিক ও চিত্রশিল্পী উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরীর জন্ম, মৃত্যু-২০-১২-১৯১৫ তারিখ। (উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু, স্বামী বিবেকানন্দও বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বন্ধু ছিলেন)। উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী ১৮৯৪ সালের দিকে কলকাতায় বইছাপা কারখানা দেন এবং পরে নিজেই পাবলিসারস হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। উপেন্দ্রকিশোর তাঁর খুবই সাধারণ মানের লেটারপ্রেস ছাপাখানায় বসে রঙিন ছবি মুদ্রণের যুগান্তকারী উন্নতি ঘটিয়ে পাশ্চাত্যজগৎকে তাক লাগিয়ে দেন। ইউরোপের তখনকার মুদ্রণবিষয়ক সব পত্রিকায় তাঁর প্রশংসাসুলভ নিবন্ধ ছাপা হয়ে তাঁকে মুদ্রণজগতে আন্তর্জািতক খ্যাতির অধিকারী করে। উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী বৈচির্তযময় প্রতিভার দূত। তিনি তাঁর পিতা-মাতার আট সন্তানের মধ্যে উপেন্দ্রকিশোর ছিলেন তৃতীয়। তাঁর ছেলের নাম কবি সুকুমার রায়। ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর, কলকাতা শহরে শিশু সাহিত্যিক ও কবি সুকুমার রায়ের জন্ম এবং মৃত্যু-১০-০৯-১৯২৩ তারিখ। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত শিশু সাহিত্যিক ও কবি এবং ছড়াকার, শিশুদের জন্য। তার ছেলের নাম সত্যজিত রায় (মানিক)। সত্যজিত রায়ের মায়ের নাম সুপ্রভা দেবী। বিশ্ববরেণ্য এ পরিচালক ১৯২১ সালের ২ মে, সত্যজিত রায় (মানিক) কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি মৃত্যুবরন করেন ২৩-০৪-১৯৯২ তারিখ। ১৯৫৫ সালে তিনি নির্মাণ করেছিলেন অবিস্মরণীয় চলচ্চিত্র 'পথের পাঁচালি'। ১৯৫৫ সালের ৩ মে, নিউইয়র্কে 'পথের পাঁচালি' প্রথম প্রদর্শিত হয়। ভারতে ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল একই বছরের ২৬ আগস্ট, ১৯৫৫ সালে। ১৯৫৬ সালে সিনেমাটি কান চলচ্চিত্র ঊৎসবে বেস্ট হিউমেন ডকুমেন্টারীর পুরস্কার পায়। এটা বাংলার সমাজ ও গ্রামীণ জীবনকে খুবই হৃদয়গ্রাহীভাবে ফুটিয়ে তোলেন। তার ছেলের নাম সন্দীপ রায়। ১৯৫৭ সালের ২০ ডিসেম্বর, সানফ্রান্সিসকো চলচ্চিত্র উৎসবে সত্যজিৎ রায় পরিচালিত 'পথের পাঁচালী' শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে। ১৯৫০ সালে কলকাতায় সন্দীপ রায়ের জন্ম, তিনিও তার বাবারমত সিনেমা তৈরী করেন। তাঁদের ৫(পাঁচ) পুরুষের বংশ লতিকা দেয়া হলো।
১৮৩৩ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি, শ্রী রামকৃঞ্চ কামারপুকুর গ্রামে জন্মগ্রহণ, মৃত্যু-১৮৮৬ সালে।